Jump to ratings and reviews
Rate this book

দুর্জয় #2

মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স

Rate this book
প্রথমে মানুষটার দেহ থেকে মাথাটা আলাদা করা হলো, এরপর মুখের চামড়াটা ছিলে নেওয়া হলো। তারপর আস্তে আস্তে কাটা হলো হাত, পা, গলা থেকে বুক। বুক থেকে কোমর।
কাটাকুটি শেষ হওয়ার পর এক ভাই আরেক ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, 'নাম দেওয়া দরকার না একটা?’
‘দ্যা-ও!'
‘মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স, সুন্দর না?’
‘হু। মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স। যেখানে মানুষ মা রা হয়।’
দুই ভাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে খিকখিক করে হাসে, ছোটজন অবশ্য বড়জনকে প্রস্তাব দেয়-
‘নামটা ঠিক কইরা বাই বাই করলে কেমুন হয়?'
‘না, থাউক। এডাই ভালা।’

240 pages, Hardcover

First published February 10, 2023

2 people are currently reading
108 people want to read

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
27 (27%)
4 stars
46 (46%)
3 stars
18 (18%)
2 stars
4 (4%)
1 star
4 (4%)
Displaying 1 - 30 of 33 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,106 reviews1,084 followers
March 2, 2023
মনোয়ারুল ভাইয়ের থ্রিলার মানেই অদ্ভুত একটা নাম। গত বছর নালন্দা থেকে কিনেছিলাম 'অতঃপর কবি মঞ্চে উঠলেন'। লেখাটা প্রচন্ড রকম মনে ধরেছিল। এবার তাই একদম দেরি করি নাই, মেলার শুরুতেই সংগ্রহ করে ফেললাম। অতঃপর আমি আবার ডুবে গেলাম দুই মলাটের মাঝখানে।

আপাতত কোন অভিযোগ নেই। মারাত্মক রকম মন ভালো করা লেখা।সিকুয়েল যে আসবে এ ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত। অন্তত আমি তার জন্য অপেক্ষা করে থাকবো।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : ১৬৪ পৃষ্ঠাতে দুইবার সবুজ সুজন হয়ে গেছে।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
526 reviews197 followers
February 21, 2023
এই বই সম্পূর্ণ শেষ না করে উঠা কঠিন। রাতে শুরু করে ১২টার সময় কতো কষ্ট করে আমি ঘুমুতে গেছি বই ফেলে,সে আমি জানি। টানটান উত্তেজনা বলে না-ঠিক তেমন।

মার্ডার মিস্ট্রিগুলোর রহস্য যতোক্ষণ না উন্মোচন হচ্ছে, ততক্ষণ ধরে রাখা হচ্ছে লেখকের কৃতিত্ব৷ আর এই কাজটাই বইয়ের লেখক খুব ভালো মতোন করেছেন। আর চরিত্রগুলোকে সাজিয়ে ঠিকমতোন কাহিনির এগিয়েছে। এখন আমার লেখকের অন্যান্য থ্রিলারগুলো এখনই পড়তে ইচ্ছে করছে। বিশেষ করে এই বইয়ের শুরুতে যে বইটার কথা বলেছেন। বইয়ে মাঝেমাঝে লেখার মধ্যে এমন কিছু আছে যে ভয় পাইয়ে দেয়,ওইযে মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে যে শূন্য শূন্য ধরনের ভয় জাগে-ঠিক তেমন।এই ভয় ভূত কিংবা অতিপ্রাকৃতিক কিছুর ভয় না। কুরিয়ান একটা সিরিজ দেখেছিলাম-"মাউস",এমন ভয় তখন পেয়েছিলাম।ঘিনঘিনে ধরনের ভয়। শেষে লেখক কী বুঝালেন?মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্স-এর দ্বিতীয় বই আসবে? তা না হলে এই শেষ মানিনা। গল্প উপন্যাসের রীতি মতো খারাপ মানুষের সাথে খারাপ হোক।
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews21 followers
Read
May 3, 2023
❛টাটা বাই বাই,
সুন্দরীরা চলো মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে খু ন হতে যাই!❜

গরু চু রি করে রোজগার করা মতি মিয়ার সাধ জাগে মেম্বারের বাড়ির সিধ কাটবে। একটু বড়ো দান দিতে পারলে লাভ-ই হয়। চেয়ারম্যান বাড়ির সিধ কেটে মাথা গলিয়ে দেখে মেম্বারের মাথা কেঁ টে দিল গামছা প্যাঁচানো খু নি। খু নি হিসেবে তাকেই সন্দেহ করা হবে। প্রমাণ তার বিরুদ্ধেই। তাই উপায়ান্তর না দেখে বউ কুলসুমের কথা মতো পালিয়ে যায় সে। ঢাকায় এসে মতি মিয়া থেকে জিতু মিয়া হয়। আশ্রয় পায় জুলহাস-জুলেখার সংসারে। এখানে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চায়। কিন্তু ভাগ্য যেন মতি কিংবা জিতু মিয়ার সাথে উপহাস-ই করে যায়। মিথ্যে খু নের দায় থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসেও মুখোমুখী হয় এক খু নের। হাত-পা কা টা বস্তাবন্দী লা শ ফেলে যায় কেউ তার সামনে দিয়ে। এখানেও বেচারা নির্দোষ। কিন্তু এ কথা বোঝাবে কাকে? অগত্যা ভয় আর শঙ্কা নিয়ে দিনযাপন করতে থাকে।

ঢাকা শহরে মিলছে হাত পা কা টা মাথাবিহীন বস্তাবন্দী লা শ। খু নের ধরন খুবই ভয়াবহ, নির্দয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যন্ত খেই হারিয়ে ফেলছেন মৃ ত দেহ বলাই বাহুল্য দেহের টুকরা দেখে। সবুজবাগ থানার ওসি মোয়াজ্জেম জোয়ার্দারের মাথায় হাত। খু নি হুশিয়ার। সামান্যতম ক্লু রেখে যায়নি। মাথাবিহীন লা শ বিধায় পরিচয় নিয়েও ঝামেলায় আছে তারা। এরইমাঝে মোয়াজ্জেমের সহকারী আসাদ কোন কারণে বন্ধ এক কমপ্লেক্সের কাছে গিয়ে খু নির হদিস পেয়ে যায়। কিন্তু এতো দ্রুত ধরা পড়ে গেলে পুলিশ আর প্রশাসনকে নাকানি চুবানি কীভাবে খাওয়াবে? কাজেই জান দিতে হলো আসাদকে। খু নি আবারও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

❛আলেমের ঘরে জা লেম❜ এই বাক্যের দারুণ প্রকাশ মাহতাব সাহেব আর তার একমাত্র পুত্র মারুফ। মাহতাব সাহেব পরহেজগার মানুষ। আর তার পুত্র একেবারে বিপরীত। লেখাপড়া ছেড়ে নেশায় মেতেছে। যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে পিতামাতার সাথে। পছন্দ করে জিনিয়া নামের ছোটোকালের এক বান্ধবীকে। কিন্তু ওদিক থেকে সাড়া পায়না। মাঝেমাঝে খুব রাগ হয় মারুফের। সুন্দরী বলে এতো দেমাগ! খু ন করে ফেলতে ইচ্ছা হয় একেবারে। কিন্তু যাকে ভালোবাসা যায় তাকে কি মে রে ফেলা যায়?

দিনে দুপুরে খেলার মাঠে গু লি করে হ ত্যা করা হয় কয়েকটা কুকুরকে। মার্ডার উইপন আসাদের সেই সার্ভিস রিভ লবার, যেটা আসাদের হ ত্যাস্থল থেকে খু নি নিয়ে গেছিল। মানুষ হ ত্যারই হদিস করতে পারছে না, এদিকে গোঁদের ওপর বি ষ ফোঁড়ার মতো এসে দাড়িয়েছে কুকুর হ ত্যা! সবুজবাগ, খিলগাঁও থানা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে মানুষ আর কুকুরের অভিন্ন এই খু নির খোঁজ পেতে।

এদিকে একের পর এক মহিলা নিখোঁজ হচ্ছে আর টুকরো মাথাবিহীন লাশ হয়ে খোঁজ মিলছে। কেসের বেহাল দশায় এগিয়ে এলো পিবিআই। দৃশ্যপটে হাজির পূর্বের ক্রমিক খু নি কেসের আসিফ আলী আর দুর্জয় শাকিল। সন্দেহভাজন দেখে তুলছে, পি টাচ্ছে, আই ডিটেক্টর প্লাস দিয়ে টেস্ট করছে, নিরাশ হয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। ব্রেক থ্রু পেয়েও আবার সব হারিয়ে যাচ্ছে।

ওদিকে মতি ওরফে জিতু মিয়ার কলিজায় পানি নাই। ভয়ে আছে সে না আবার ফেঁসে যায়। পুলিশ দেখলেই দোয়া ইউনূস পড়তে থাকে। এভাবে কতদিন?

সব আলামত বলছে কাজটা কোন মাথা খা রাপ ব্যক্তির কাজ এবং সিরিয়াল কি লিং। কিন্তু কাজটা করছে কে? পর্দার আড়ালের মানুষ মা রার এই কাটার মাস্টারটা কে?


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❛মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স❜ শুধুই কি সিরিয়াল কি লিং উপজীব্য বই? না আরো বেশিকিছু?
আমার মতে, আরো বেশিকিছু। শুরুটা এক গরু চো রের সন্দেহভাজন খু নের আসামী হয়ে পালানো থেকে। এরপর গল্প মোড় নিতে থাকে ভয়ানক সব খু নের দিকে। যার কুলকিনারা করতে গিয়ে কাহিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
খু নের তদন্তের পাশাপাশি গল্প এগিয়েছে মতি ওরফে জিতু মিয়ার জীবন নিয়ে, তাহের-মদীনার সম্পর্ক, জুলেখা-জুলহাস দম্পতির গল্পও এসেছে। এসেছে অচেনা অজানা মতি ওরফে জিতু মিয়াকে জুলহাসের ভাই মনে করার গল্প। দুমদাম খু ন হয়ে যাওয়া মানুষগুলোরও একটা ব্যক্তিগত জীবন ছিল, সেই জীবনের গল্প ছিল। লেখক পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি এই সকল চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রাধান্য দিয়েছেন। যা এই উপন্যাসকে অনন্য প্রাণ দিয়েছে।
উপন্যাসে লেখকের লেখার গতি ছিল অনেক বেশি। তবে প্রতি পেইজে টুইস্ট অ্যান্ড টার্ন ছিল এমন না। লেখার গতিই ছিল দ্রুত। মূলত সুন্দর করে গল্প বলে যাওয়া, এক ঘটনা থেকে আরেক ঘটনায় প্রবেশ ছিল দারুণ। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও এর ফলাফলগুলো দেখিয়েছেন দারুণভাবে।
গত বইমেলায় লেখকের ❛অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন❜ ছিল একই ঘরনার বই। সেটাও আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। ভালো লেগেছে অকমউ এর কিছু চরিত্রকে লেখক মেভাভাট্রে এনেছেন। অকমউতে খু নি আর তদন্তকারীর গল্প এগিয়েছিল সমান্তরালে। তবে এই বইতে লেখক পাঠকের চিন্তা নিয়ে খেলেছেন। কয়েক অধ্যায় পরপরই মনে হচ্ছিল ❛এই ব্যাটাই মনে হয় খু নি। আরেকটু পরেই এর সব সামনে আসবে।❜ কিন্তু হায়! আরেক অধ্যায় পড়ে মতামত বদলে যায়। পাঠককে বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রে লেখক সার্থক।
লেখা দ্রুতগতির বিধায় পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি এবং বলতেই হয় পুরোটা সময় উপভোগ করেছি। শেষটা খুব দ্রুত মনে হলেও শেষটা আমার ভালো লেগেছে। উপন্যাসের প্লট, কাহিনিবিন্যাস, চরিত্র রূপায়ন সবকিছুই ভালো লেগেছে। তবে আছেনা, কিছু বিষয় না থাকলে কিংবা থাকলে মনে হয় আরেকটু বেশি ভালো লাগতো। তেমনই কিছু ব্যাপার পড়ার সম��় আমার চোখে লেগেছে।

যেমন:
** দিনে দুপুরে কুকুর হ ত্যার ব্যাপারটা আমার কাছে অহেতুক লেগেছে। এটার সঠিক কোন ব্যাখ্যা পাইনি। এই একই জাতীয় ঘটনা অকমউ বইতেও ছিল। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত কেউ কুকুরকে পিটি য়ে মে রে ফেলে। সেখানেও যথোপযুক্ত কোন কারণ ছিল না।
** শুরুতেই পরিচয় করানো হয়েছিল পিবিআইয়ের তুখোড় অফিসার দুর্জয় শাকিল (কিছু জায়গায় আবার সাকিল হয়ে গেছিল টাইপোতে)। কিন্তু মেভাভাট্রে উপন্যাস জুড়ে তার তুখোড় তকমার কোন পরিচয় মেলেনি। দুর্জয়ের কিছু কাজকারবার ব ল দা জাতীয় লেগেছে। এর থেকে মোয়াজ্জেম, শিহাব কিংবা আসাদের দক্ষতা ভালো লেগেছে।
** কিছু চরিত্রের খুব একটা দরকার ছিল বলে মনে হয় না। গল্পের খাতিরে কিংবা ঐযে কয়েক অধ্যায় বাদে বাদেই যে কে খু নি সেই মত বদলাচ্ছিল সেই অনুভূতি আনতেই হয়তো তাদের অবতারণা করেছেন।
** উপন্যাসের কিছু রগরগে বর্ণনা না থাকলেও মনে হয় ক্ষতি হতো না। অতিমাত্রায় এর ব্যবহার পড়তে গিয়ে খুব একটা ভালো লাগছিল না। পড়ে শুধু এটাই মনে হচ্ছিল ব্যাটা মাইনষের খাইসলত এক্কেবারেই ভালো না!
** মারুফের বন্ধু নূরের ফোন বন্ধ থাকা আর মিসড কল উঠে থাকার ব্যাপারটা মিলেনি। হতে পারে মিসডকল অ্যালার্ট চালু ছিল।
** মতি মিয়ার গল্পটা আরেকটু এগোতে পারতো (একান্ত ব্যক্তিগত মত)।
** পুলিশের ফরেনসিক সরফদারের কাজ ভালো লাগছিল। পিবিআইয়ের হস্তক্ষেপের পর ফরেনসিক হিসেবে মিঞা জুলমতের ক্যালমাই প্রাধান্য পেয়েছে। সরফদারের চরিত্র চাপা পরে গেছে। ব্যক্তিগতভাবে এর থেকে আরো কিছু দেখতে চেয়েছিলাম (এইটাও একান্ত ব্যক্তিগত মত)।


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

অন্যধারা প্রকাশনীর বইয়ের প্রোডাকশন আমার ভালোই লাগে। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই। তবে সম্পাদনার (বানান, টাইপো) অভাব ছিল বেশ। এক জায়গায় সবুজ আর সুজন নামের গড়মিল লেগে গেছিল। লেখার ফন্ট তুলনামূলক ছোটো ছিল। পড়তে একটু কষ্ট হয়েছে।
প্রচ্ছদ মোটামুটি লেগেছে। অকমউ এর প্রচ্ছদের সাথে জানিনা কেন তুলনা করে ফেলেছি নিজে থেকেই। বইমেলা, ২০২২ এর সেরা প্রচ্ছদ লেগেছিল আমার কাছে অকমউ বইয়ের। একই ঘরনার বই হিসেবে এই বইয়ের প্রচ্ছদও এরকম আশা করেছিলাম। সেরকম চোখ ধাঁধানো লাগেনি আরকি।

ভূমিকায় লেখক বলেছেন, প্রাপ্তমনষ্কদেরকেই বইটা পড়তে। আমি লেখকের কথার সাথে সহমত ভাই একেবারে! খু নের বর্ণনাগুলো পড়তে গিয়ে সত্যিই গায়ে কাঁ টা দেওয়া অনুভূতি হয়েছিল। লা শের পঁচা গন্ধ যেন আমিও নাকে পাচ্ছিলাম! বর্ণনাগুলো এতো জীবন্ত লেগেছে। আর, ক্রা ইম সিনগুলোর বর্ণনা আমার খুব পরিচিত এবং আশা যাওয়ার পথ হওয়ায় ভয়টা সত্যিই বেশি লেগেছে। পরবর্তীতে এই জায়গাগুলোয় গেলে আমার এই বইয়ের কথা মনে পড়বেই!


বই: মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী: অন্যধারা
Profile Image for সালমান হক.
Author 66 books1,972 followers
October 22, 2023
বেশ ভালো লাগলো মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স। বিশেষ করে অতঃপর কবি মঞ্চে উঠলেন- বইটার তুলনায় উন্নতি চোখে পড়ার মতন। কালক্ষেপণ না করে একদম শুরু থেকেই মূল কাহিনীর ভেতরে ঢুকে গেছেন লেখক, তাই পাঠকেরা মনোযোগ দিতে বাধ্য হবেন একদম প্রথম পাতা থেকেই। আমার ক্ষেত্রে অন্তত এমনটাই হয়েছে।

ঢাকার সবুজবাগ, বনশ্রী, নন্দীপাড়া এলাকায় হঠাৎ করেই একটা মস্তকবিহীন লাশ পাওয়া যায়। কিছু সময় যেতে না যেতেই একজন পুলিশ অফিসারও খুন হন ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে। সহকর্মীকে হারিয়ে জোর তদন্তে নামে মোয়াজ্জেম জোয়ার্দার। কিন্তু সমাধান তো মেলেই না, সবকিছু বরং ঘোলাটে হয়ে উঠতে থাকে ক্রমশ। তদন্তে নাক গলায় পিবিআই। পুরো দল নিয়ে কেসের সমাধানে নামে আসিফ আলী। এছাড়া গল্পের শুরুতেই পাঠকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এক গরু চোর, মতি মিয়াকে। ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থেকে ফেঁসে যায় সে। বাধ্য হয়ে পালায় গ্রাম থেকে। কিন্তু ঢাকায় সবুজবাগ বস্তিতে এসেও প্রায় একই দশা হয় তার। এই খুনের সাথে তারও কি কোন সম্পর্ক আছে? পাঠকদের সেই উত্তর খুঁজে নিতে হবে বইয়ের পাতায়।

চরিত্রায়ন নিয়ে প্রথমে বলি। ২৪০ পাতার বই, খুব বেশি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের সুযোগ ছিল না। তবুও এটুকুর মধ্যেই প্রয়োজনীয় চরিত্রগুলোকে বিকশিত করে নিয়েছেন লেখক। তবে কিছু ক্যারেক্টার একদমই অযথা মনে হয়েছে, তাদের আরেকটু অন্য ভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া যেতে পারত বা সম্পাদনায় ছেটে ফেলা যেত। গল্পের গতি নিয়ে কোন অভিযোগের অবকাশ নেই, বরং আমার মনে হয়েছে পুরো বইয়ে ব্রিদিং স্পেস একদম ছিল। টানা তদন্ত এবং খুনের বর্ণনায় এক পর্যায়ে একঘেয়ে লাগতে পারে তাই। লেখক পরবর্তী বইয়ে এদিকে খেয়াল রাখতে পারেন। সেই সাথে কিছু কিছু সংলাপ বর্ণনাত্মক হয়ে গেছে, এদিকে যত্নবান হওয়া যায় আরেকটু। ঝরঝরে, সাবলীল লেখা। পড়ে আরাম।

একটু অনুযোগ আছে পুরো উপন্যাসে যৌনতার ব্যবহার নিয়ে। যেহেতু মূল প্লটের সাথে একদমই যোগাযোগ নেই, তাই কিছু ক্ষেত্রে এই উপাদানটা কম ব্যবহার করা যেতে পারত(জুলহাস এবং তার স্ত্রী'র ঘটনা দ্রষ্টব্য।)

সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটি রহস্যোপন্যাস। সাড়ে তিন তারা।
Profile Image for Parvez Alam.
307 reviews13 followers
May 26, 2023
২০২৩ সালে এখন পর্যন্ত বেস্ট থ্রিলার বই "মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স" । শুরু থেকে শেষ টানটান যেটা বলে। থ্রিলার বইয়ের মজা আসে তখন যখন লেখক পাঠিক কে নিয়ে খেলবে, লেখক পাঠাক কে ভাবতে বাধ্য করবে এই অপরাধী কিন্তু পরে দেখা যাবে আরে নাহ, আবার পাঠাককে ভাবতে বাধ্য করবে আরে না এইটাই আসল অপারাধী কিন্তু আদতে সেও না। এমন ভাবে ভাবতে ভাবতে আপনার বই শেষ করে মনে হবে খাইছে এই নাকি অবস্থা। অসাধারণ লেগেছে বইটা। আমার ব্যাক্তিগত মতামত থাকবে এই বইটা শুরু করার আগে লেখকের "অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন" এই বইটা পড়া, কারন এইখানে এই বইয়ের কিছু জিনিস ২-৩বার এসেছে। বইয়ের সব কিছু ঠিক ৯৯.৯৯% কিন্তু একটা জিনিস গল্পে যখন জুলহাস কে পরিচয় করা দিচ্ছি লেখক তখন শুরুতেই জুলহাসের নামটা ভুল ছাপা হয়েছে। আশা করবো পরের সংস্করণে ঠিক হয়ে যাবে।
Profile Image for Sakib A. Jami.
337 reviews38 followers
May 1, 2023
"মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স"
এখানে মানুষ মা রা হয়।"

একটি জীবন! কত রং ছড়ায় এ জীবন। যে জীবনের গল্প বলে শেষ করা যায় না। কিছু না করেও কখনো কখনো দায় নিতে হয়। কিংবা দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। হয়তো ফাঁসিয়ে দেওয়া একেই বলে। তখন? পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া কি আর উপায় থাকে? যে জীবন একবার পালিয়ে বেড়ানোর স্বাদ পেয়েছে, সেই জীবন কোথাও থিতু হতে পারে না। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, ছুটে বেড়ানো জীবন নিয়ে এক সময় ক্লান্ত লাগে। সেই ক্লান্তির বিশ্রাম অবশেষে শেষ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

তেমনই এক জীবন যেন অতিবাহিত করছে মতি মিয়া। খুনের দায় মাথায় নিয়ে ঘুরছে, যেই খুন নিজে করেনি। নিজ চোখে দেখা সেই খু নের দায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো জীবন শুরু। গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসা। জুলহাস নামের এক রিকশাচালকের আশ্রয়ে যেন নতুন জীবন পাওয়া। মতি মিয়া হয়ে ওঠে জিতু মিয়া। কিন্তু, এখানেও যেন সেই অতীত তারা করে বেড়ায়। আরও একটি খুন। এবার বস্তাবন্দী লাশ ফেলে দেওয়া হয় মতি মিয়ার সামনে। ভয়, শঙ্কা, পুরনো অতীত... মিতু মিয়া কী করবে এখন? আবারও কি ছুটবে নতুন জীবনের খোঁজে? তাতেও কি শেষ রক্ষা হবে?

বাবার প্রচুর অর্থ থাকলে সন্তানে��� বখে যাওয়া অসম্ভব কিছু না। আর একমাত্র সন্তান হলে তো কথা-ই নেই। সব কিছুর উত্তরসূরি যখন নিজে, তখন পড়াশোনা করে আর কী হবে? মারুফ তাই পড়াশোনা ছেড়ে বখে গিয়েছে। সারাদিন মদ, গাঁজা নিয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু তার মনের কথা কেউ জানে না। ভালোবাসা এমনই এক জিনিস যার জন্য মানুষ বদলে যায়। কেউ ভালো পথে ছুটে, আবার কেউ অমানুষ হয়ে যায়। জিনিয়াকে ভালোবাসা কি মারুফের দোষ? বান্ধবীকে কি ভালোবাসা যায় না? ত���হলে কেন এত দূরে চলে যাওয়া? জিনিয়া কি বোঝে না, তার জন্যই মারুফের এই অবস্থা? মারুফ চায় জিনিয়াকে, একই সাথে চায় নিজেকে বদলে দিতে। কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। মারুফ কি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে? আর জিনিয়া?

সবুজবাগ বস্তির পাশে বস্তাবন্দী লাশ মিলেছে। এভাবে মানুষ মা রা যায়? কী বিভৎস! পুরো শরীর কে টে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। কেন? কোন প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছে খু নি? মাথাটাও উধাও। এমন অবস্থায় সবুজবাগ থানার ওসি মোয়াজ্জেম জোয়ার্দারের ঘুম উধাও। কোনো সূত্র নেই, কিছু নেই। কীভাবে এ সমাধান হবে?

রহস্য সমাধান করতে গিয়ে সহকারী পুলিশ অফিসার আসাদ পৌঁছে গেল এক নির্জন নির্মাণাধীন কমপ্লেক্সে। কে জানত, নিজের মৃত্যুকে এভাবে ডেকে আনছে নিজে। সহকর্মী হারিয়ে মোয়াজ্জেম জোয়ার্দার যেন আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে। কিন্তু সামান্যতম সূত্র নেই। একের পর এক সন্দেহভাজনদের তুলে আনা হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন যেই তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই আছে।

বাধ্য হয়েই যেন নাক গলানো শুরু করল পিবিআই। আসিফ আলী ও তার দল এবার সর্বক্ষেত্রে। কিন্তু সেখানেও কোনো সূত্র নেই। লাশের দেখা মিলল আরেকটা। এরপর আরেকটা। কিন্তু খুনি? এতটা নির্ভুলভাবে, পরিকল্পিতভাবে কেউ খুন করতে পারে? দিশেহারা ভাব সবার মাঝে! আর কতটা মৃত্যুর কারণ হওয়ার পর থামবে খুনি? সূত্রবিহীন এই রহস্যের সমাধান হবে কীভাবে?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

"মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স" বইটিকে কোন জনরায় ফেলা যায়? সিরিয়াল কিলিং? না পুলিশ প্রসিডিউয়াল? প্রথাগত সিরিয়াল কিলিংয়ের তুলনায় ভিন্ন লেগেছে আমার কাছে। লেখক মনোয়ারুল ইসলাম অতিপ্রাকৃত জনরায় জনপ্রিয় হলেও, থ্রিলার সাহিত্যে দারুণ কাজ করছেন। "অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন" বইটির পর আরো একটি দারুণ বই। আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।

লেখকের লেখায় একটা ফ্লো আছে। সেই ফ্লো-এর কারণে খুব সাধারণ লেখাও দারুণ গতি পায়। যেমন, এই বইটির শুরু হয়েছিল সাদামাটাভাবে। মতি মিয়ার জীবন দিয়ে শুরু। ধীরগতির কাহিনি। তারপরও খুব দ্রুত পড়া গেছে লেখকের লেখার কারণে। এরপরই ধীরে ধীরে লেখক সুতো ছাড়তে শুরু করেন। গল্প একটু একটু করে এগোতে থাকে আর রহস্য যেন ঘনীভূত হতে থাকে। এগিয়ে যেতে থাকে কাহিনি।

লেখক মাথা নষ্ট করার মতো চমক দেননি। তারপরও যেন বইটি ছেড়ে ওঠার উপায় নেই। এর কারণ ধারাবাহিকতা আর লেখনশৈলী। সেই সাথে গল্প বলার ধরন ভালো লেগেছে। একটি পুলিশি তদন্ত কেমন হতে পারে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বইটি। সেই সাথে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ভালো লেগেছে। রহস্য সমাধানে পলিগ্রাফ টেস্টসহ অন্যান্য প্রযুক্তির মধ্যে সমন্বয় সাধন ভালো ছিল।

খুন, খুনি, তদন্ত... বইটি কেবল এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এখানে জীবনের গল্পও উঠে এসেছে। বাস্তবতা মিশে ছিল। যেমন মতি মিয়ার জীবন। মূল গল্পের এগিয়ে যাওয়ার সাথে লেখক আশেপাশের অনেক চিত্র তুলে ধরেছেন। যেগুলোর কিছু প্রয়োজন ছিল। আবার কিছুটা না এলেও ক্ষতি ছিল না। তবে পড়তে খারাপ লাগেনি। গল্পে প্রেম ছিল, ভালোবাসা ছিল, আবেগ-অনুভূতি ছিল। পুরো এক কমপ্লিট প্যাকেজ।

একজন লেখকের সবচেয়ে বড়ো গুন, তিনি যখন পাঠকের অনুভূতিতে জায়গা করে নিতে পারেন। মনোয়ারুল ইসলামের সেই গুন খুব ভালো মতোই আছে। খুন হওয়ার সময় যখন পাঠক প্রার্থনা করে, এমন যেন না হয়। কিছু একটা হবে জানার পরও, যে এই চিন্তা; এখানেই লেখকের স্বার্থকতা। শেষ খুনের সময় আমি নিজেও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কেন এমন হলো? এমন না হলেও তো পারত।

আমার শেষটা ভালো লেগেছে। যদিও কিছু জায়গায় তাড়াহুড়ো ছিল। যেন খুব দ্রুত শেষ করার তাড়না। তারপরও খারাপ লাগেনি। কিছু অসমাপ্ত গল্পের রেশ থেকে যায় বহুক্ষণ। সে কারণে সমাপ্তি নিয়ে আমি তৃপ্ত।

তবে বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে আমার মনে খটকা রয়েছে। সেগুলো একে একে তুলে ধরছি।

০ গল্পের শুরুতে মারুফকে নিয়ে বলা হয়েছিল, সে কবিতা পছন্দ করে। তার উপন্যাস ভালো লাগে না। তার ঘর জুড়ে শুধু কবিতার বই। কিন্তু গল্পের এক পর্যায়ে মারুফকে "তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে" বইটা পড়তে দেখা যায়।

০ মারুফ যখন নূরকে কল দেয়, তখন ফোন বারবার বন্ধ বলে। কিন্তু নূরকে যখন দেখানো হয় তখন সে ফোন রিং পাচ্ছিল কিন্তু রিসিভ করছিল না। পরে সাতাশবার মিসড কল দেখায়।

০ আমার মনে হয়েছে লেখক কিছু গল্পের অবতারণা করেছেন পাঠককে চমক দেওয়ার জন্য। তার আসলে কোনো প্রয়োজন ছিল না। যেমন, সুবলের যে চারিত্রিক গুণাবলী (বা দোষ) লেখক ব্যাখ্যা করেছেন। অথবা সুজনের ব্যাগে করে কা টা মাথা নিয়ে যাওয়া ও শাকিলের সাথে ওভাবে দেখা হওয়া।

০ রাস্তার মাঝে তিনটি কুকুরকে গুলি করে মেরে ফেলার কারণ বোধগম্য হলো না। এই কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। শুধু কি পুলিশদের ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এমন কান্ড?

০ আসাদকে মারার যে অস্ত্র, সেই চুরিটা কীভাবে হয়েছে সেটাও ব্যাখ্যা করা হয়নি।

০ বেশ কিছু রগরগে বর্ণনা ছিল, যা আমার পছন্দ হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে বইয়ে এগুলো আমার পছন্দ হয় না। না থাকলেও ক্ষতি হতো না।

ছোটখাটো ভূলত্রুটি বাদ দিলে বইটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য।

▪️চরিত্রায়ন :

লেখক মনোয়ারুল ইসলামের বইয়ে সবচেয়ে দিক ভালো লাগে, তা হচ্ছে চরিত্র গঠন। এই দিকে তিনি কার্পণ্য করেন না। ছোটো, বড়ো সকল মিল চরিত্র তার লেখনীর মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যেমন এই গল্পে মতি মিয়া, জুলহাস, জুলেখা, মদিনা, তাহেরদের মতো চরিত্র যেমন ফুটে উঠেছে, একইভাবে ফুটে উঠেছে মারুফ, জিনিয়ারাও।

সবচেয়ে বেশি যে দিক ভালো লেগেছে, সবাইকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়াস। পুলিশি তদন্তের অনেক বইয়ে দেখা যায়, মূল চরিত্রকে অতিমানবীয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এখানে সেই চেষ্টা করা হয়নি। তারাও মানুষ, তাদেরও আবেগ অনুভূতি আছে। লাশ দেখায় ভয়ভীতি আছে।

আরেকটি জিনিস ভালো লেগেছে, কেউ একা মহামানব হওয়ার চেষ্টা করেনি। সবুজবাগ বা খিলগাঁও থাকার পুলিশেরা বা পিবিআই অফিসাররা, সবাই একযোগে রহস্য সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। উল্লেখ না থাকলে বোঝার উপায় নেই, কে প্রধান আর কে সহকারী। সবাই যেন সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবার কাজ ভিন্ন, যে যার কাজে দায়িত্ববান।

উপন্যাসে খুনির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু দেখানো হয়নি। লেখক তাকে আড়াল করেছিলেন হয়তো শেষ চমক দেওয়ার জন্য। তবে এত ভয়ংকরভাবে যে খুন করতে পারে, তার মনস্তত্ত্ব ফুটে ওঠেনি। এই জায়গাটায় একটু কমতি লেগেছে আমার। এছাড়া মতি মিয়া আর মারুফকে শুরুতে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, শেষে এসে তারা কোথায় যেন হারিয়ে গেল। যদিও মতি মিয়া একটি জায়গায় এসে থেমেছে।

▪️বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য :

লেখকের শব্দচয়ন চমৎকার। তারপরও হুটহাট করে কিছু ইংরেজী শব্দের ব্যবহার যেন বিরিয়ানিতে এলাচির মতো অনুভূতি দিয়ে যায়। যেখানে বাংলা পরিভাষা আছে, কেন ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে হবে? এমন না যে লেখক নিয়মিত লেখায় ইংরেজি ব্যবহার করছেন।

কয়েকটি বানান ভুল বেশ পীড়া দিয়েছে। বিভৎস শব্দকে প্রতিটি জায়গায় ভীবৎস লেখা ছিল। প্রথমে ছাপার ভুল মনে হলেও পরে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি বারবার দেখা গেছে। একইভাবে ঘুটঘুটে হয়ে গিয়েছিল গুটগুটে, দুরুদুরু ছিল ধুরুধুর... এমন বেশ কয়েকটা বানান ভুল লক্ষ্য করেছি। যার কারণ আমার জানা নেই। বেশ কিছু ছাপার ভুল থাকলেও তা আমলে না নিলেও চলে।

প্রচ্ছদ পছন্দ হয়নি। কেমন যেন! গল্পটাও ঠিক ফুটে হয়নি। অনেকে হয়তো আমার সাথে দ্বিমত হবেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগেনি। আরেকটু বেটার হ���ে পারত। যেমনটা "অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন" বইয়ের ছিল। এছাড়া বাঁধাই ভীষণ শক্ত লেগেছে। খুলে পড়তে অসুবিধা হয়েছে। ফন্টও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোটো। হয়তো পৃষ্ঠা কমানোর প্রয়াস। একদিক দিয়ে ভালো। তবে চোখের উপর চাপ গিয়েছে কিছুটা।

▪️পরিশেষে, এই বইটির সিকুয়্যাল আসা সম্ভব? হয়তো সম্ভব। লেখক একটি ধারণা দিয়ে রেখেছেন। যদিও আমি চাই, এখানেই গল্পের শেষ হোক। তারপরও লেখক চাইলে সির��জ করতে পারেন, সবার নাও করতে পারেন। আমি এভাবে সমাপ্তিতে তৃপ্ত

▪️বই : মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪০
▪️ মুদ্রিত মূল্য : ৫৪০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫
Profile Image for  Sikey.
35 reviews4 followers
February 4, 2024
বই: মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
পৃষ্ঠা:২৪০
মুদ্রিত মুল্য :৫৪০
অন্যধারা প্রকাশনী

♣️কাহিনী সংক্ষেপ
◼️গ্রামের গরু চোর মতি মিয়া। কপাল দোষে একটি খুনের দায়ে ফেঁসে যায় সে। বাধ্য হয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে সে জিতু মিয়া নামে আশ্রয় নেয় ঢাকা শহরে। পুরো সত্যি এবং পরিচয় গোপন করে সবুজবাগ বস্তিতে জুলহাস ও জুলেখার পরিবারে আশ্রয় নেয় মতি মিয়া।
কিন্তু অতীত পিছু ছাড়ে না তার। তারই সামনে সবুজবাগ বস্তির খালে বস্তাবন্দী একটি লাশ ফেলে যায় খুনি। কিন্তু নিজেই খুনের পলাতক আসামি হয়ে এই তথ্য কারো সামনে প্রকাশের সাহস পায় না মতিমিয়া।
কিছুদিন পর বস্তা বন্দি পচা লাশ উদ্ধার হয়। কেটে টুকরো টুকরো করা লাশ, শরীরের চামড়া নেই। নানা অংশ পোড়া। সর্বোপরি মাথাবিহীন লাশ।
এমন নিশংস খুনের কারণ কি? কেনই বা খুনি লুকোতে চাচ্ছে লাশের মাথা?
◼️ধর্মপরায়ণ মাহাতাব হোসেনের বখাটে ছেলে মারুফ। পড়ালেখায় তার অনীহা। নেশা করে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায় সে। ছোটবেলা থেকে পছন্দ করে জিনিয়াকে। কিন্তু এমন একজন বখে যাওয়া ছেলেকে ভালোবাসেনা জিনিয়া।জিনিয়াকে ভালোবাসা কি তার অন্যায়?
কেন জিনিয়ার পরিবার মানতে পারে না তাকে?
জিনিয়াকে ভুলে ভালো হতে চায় সে। বদলাতে চায় নিজেকে।সমাজ কি তাকে দেবে সেই সুযোগ?
◼️এ সকল খুনের তদন্ত করতে গিয়ে নির্মানাধীন কমপ্লেক্সে হাজির হয় পুলিশ অফিসার আসাদ। এভাবেই সে ডেকে আনে নিজের মৃত্যুকে।
আসাদের মৃত্যুর পর মোয়াজ্জেম জোয়ার্দার আরো জোরদার ভাবে নামে তদন্তে। পিবিআই ও ঢুকে পড়ে এই তদন্তে।
শহরের নানা স্থানে ঘটতে থাকে একের পর এক নারীর খুন?
কিছুদিন পর তাদের গলিত, পচা, মাথাবিহীন লাশ পাওয়া যায়। এসকল খুনের পিছেনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে?

♣️পাঠপ্রতিক্রিয়া:
নির্মমতা, নৃশংশতা সহ্য করতে পারলে বইটি অবশ্যই পড়ে দেখতে পারেন।খুনের বর্ননা গুলো বেশ নির্মমতার ছাপ ফেলে। পুরো তদন্তেত বিষয়টাতে একঘেয়ে লাগার সুযোগ নেই। তবে কিছু কিছু বিষয় অস্পষ্ট থেকে গেছে।
▪️খুনি কিভাবে এবং কেন সুবলের অস্রটা চুরি করল? তার তো আসাদ কে মারার কোন পরিকল্পনাই ছিল না। তাহলে?
▪️মতি মিয়া যে খুনের দায়ে গ্রাম ছাড়ল তার কোন সমাধান নেই।
▪️পুলিশ অফিসার আসাদের বন্ধুক দিয়ে কুকুরগুলোকে হত্যার কারন কি?
▪️খুনের পরে মাথা কেন সংগ্রহ করে খুনি?

তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ এর প্রত্যেক সদস্যকে সমান ভাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাউকে মুল তদন্তকারী হিসেবে বর্ননায় বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়নি। তবে কিছু কিছু জায়গায় যৌনতার ব্যাপারটা খুব বেশি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে জলহাস আর জুলেখার ব্যাপারটা। এটার এত বেশি প্রয়োজন ছিল না।
টেইলর সবুজের মেয়েদের জামা বানানোর সময় যে কুভাবনা মনে জেগে ওঠে, জামার মাপ নেয়ার সময়ে যে কুনুজর এর বিষয় লেখক দেখিয়েছেন এটা মেয়েদের জন্য আসোলেই একটি ভালো মেসেজ বলে আমার মনে হয়। সত্যিই এ বিষয়ে মেয়েদের সতর্ক থাকাটা দরকার।
খুনি ধরা পড়লেও খুনে এত নির্মমতা যে ঘটালো তার শাস্তি দেখানো হয়নি। সে এখনো হাতের বাহিরে।এই শেষ কাম্য নয়। খারাপের সাথে খারাপ কিছু হবে এটাই কাম্য।
Profile Image for タイリン.
22 reviews
June 26, 2023
একটানা পড়ে যাওয়ার মতো বই। লেখক শেষ পর্যন্ত সাসপেন্স রেখে যেতে পেরেছে। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দারুণ। অনেকগুলো ক্যারেক্টার। তবে গল্পের টাইমলাইন বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছে। মতি মিয়ার কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে গেলো। মতি মিয়ার শেষ পর্যন্ত কি হলো তা ইনক্লুড করলে ভালো হতো।

যাই হোক, ৪.৫ তারকা দেয়া যায়!
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Jahangir Alam.
115 reviews8 followers
March 16, 2024
সুহান রিজওয়ান এর নতুন উপন্যাস "মুখোশের দিন বৃষ্টির রাত" কিছুদিন আগে পড়া হয়েছিল। বাংলাদেশের হাল আমলের ডিটেকটিভ থ্রিলার ঘরানার উপন্যাসগুলোর কিছু ঘাটতি আগে থেকেই বুঝতে পারতাম, কিন্ত লেখক খুবই সুন্দরভাবে সবকিছুকে ব্যাখা করেন।

যেকোন ঘটনা একটা ক্লোজড সিস্টেমে ঘটা, মার্ডারার ও ডিটেকটিভের চরিত্র বিশ্লেষণ না থাকা, উপস্থিত চরিত্রগুলোর ভাসাভাসা বিশ্লেষণ, এমন ঘটনা থাকা যা শুরু থেকে কেবল লেখকই জানে এবং উপন্যাসের শেষভাগে তা 'রিভিল' করা, সাস্পেক্টদের দুর্বল চরিত্র বিশ্লেষণ ও একাধিক/সব সাস্পেক্টকে কখনোই একত্রে নিয়ে না বসা - যা অনেকক্ষেত্রেই কনফিউশন বা কারো মিথ্যা বলা সহজে বুঝা সম্ভব, কিংবা একজন ডিটেকটিভের কোনো সামাজিক ও পারিবারিক জীবন না থাকা এবং সবশেষে সর্বদাই ডিটেকটিভের জয় : এই দুর্বল দিকগুলো বহু আগে থেকেই বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলারের ভেতরে ঢুকে বসে আছে। মূলত বাংলাদেশে যা লেখা হয় তা পশ্চিমা অনুকরণে, নিজেদের একটা নতুনত্ব লেখক ও আমি দুজনের মতেই 'বোমকেশ বক্সী' ছাড়া কেউ আনতে পারেন নি। তার মধ্যে কিছুটা হলেও পরিবার ও বাঙ্গালিয়ানার ছাপ পাওয়া যায়।

যাইহোক, এরপরেও মাঝেমধ্যে যখন ডিটেকটিভ থ্রিলার / যেকোন থ্রিলার হাতে নিয়ে বসি - সব এক্সপেকটেশন একেবারে শুণ্য করে তারপরেই পড়তে বসি। কাহিনী বিশ্লেষণ না করার চাইতে কতটুক একটানা পড়ে যাওয়া যাচ্ছে, ফ্লুয়েন্সি ও ফান আছে কিনা সেটা বিবেচনায় এনে পড়তে বসি। সময়ে সময়ে ভাল্লাগে,সময়ে সময়ে হতাশ হই।

মনোয়ারুল ইসলামের "মেমার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স" কে আমি অনেক অপটিমিস্টিক পজিশন থেকে রেটিং দিতে চাইলেও, ২ এর বেশি রে্টিং দিতে পারব না। হঠাৎ করে বইটা হাতে এসে পড়ে, আরেকজন ভাইয়ের পার্সেল, হাতে নিয়ে পড়ে ফেলি। ঘটনার শুরু থেকেই সবকিছু কেমন জানি 'অটো' হয়ে যাচ্ছে : ঢাকা শহরে একজন রিকশাওয়ালার বস্তি ঘরে র‍্যান্ডম এক পরিচয়হীন লোক কিছুক্ষণ কথা বলেই আস্তানা গেঁড়ে ফেলবে এবং তার ভাই হয়ে যাবে - এ বড় অবিশ্বাস্য ব্যাপার। জটিল বিশ্লেষণে আমি না-ই গেলাম, বইয়ের ৬০ ভাগ পার হয়ে যাওয়ার পরে প্রথম খুনি কে হতে পারে তার একটা ধারণা আসে, তাও তখন সেটা খারিজ করে দেয়া হয়।Using “Lie Detector Machine” in the thriller is another way of potraying writer’s pre judgment and making the equation easier. ডিটেক্টর যেহেতু বলসে তারমানে সে অপরাধী না।

এরপরে শেষভাগে এসে, আগে থেকেই জিনিয়া ও সিমির বর্ণণা থাকলেও, কেন পেনড্রাইভ দিতে আসা লোককে ধরা হবে না, বা কেন মুন্সী আর সবুজ তার দোকানে ঘটা কোন অদ্ভুত ঘটনা (এক লোক নিজের সাইজের ব্লাউজ আর পেটিকোট বানায়ে নিয়ে যায় সে পড়বে বলে) পিবিআইকে আগেই জানাবে না সেটা আমার মাথায় ঢুকে না। লেখক লেখা শেষ করে পান্ডুলিপিটা একজন ডিবি অফিসারকে পড়াতে দিলেই ত এসব সমস্যা দূর হয়ে যাইতো।

আমি কিন্ত এখনো বিশ্লেষণ শুরুই করি নাই, সাদা চোখেই এত এরর আমি দেখতে পাইতেসি। এর বেশি বিশ্লেষণে না যাই, লেখকের প্রতি রেস্পেক্ট রেখেই। এভাবে হুট হাট এন্ডিং দেওয়াটা ব্যবসায়িক কারণ কি, যে এত পৃষ্ঠার আশেপাশেই উপন্যাসটা রাখতে হবে? এবং এতগুলো মাথাকাটা খু-ন যেভাবে ঘনঘন হয়েছে, যদিও সেটা বাস্তবসম্মত না, লেখক লিখলেন - এতে করে যে ঢাকা শহরে চরম মানবিক বিপর্যয় হবার কথা, সেটা নিয়ে কিছু উপন্যাসে দেখতে পাইনি। উপন্যাসের শুরুতে থাকা মারুফ শেষে কিভাবে নিমেষে প্লট থেকেই উধাও হয়ে যায়?

মেমার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স || মনোয়ারুল ইসলাম
অন্যধারা || ২৪০ পৃষ্ঠা || ৫৪০ টাকা
2/5 (In an Optimistic way, It should be less)
Profile Image for Masudur Tipu.
127 reviews2 followers
June 16, 2025
পুরো বইটা খুব উপভোগ করেছি, কারন অতিমানবিক কিছু নাই। রিয়েলিজম ছিল খুনির কাজে, পাশাপাশি গল্প গুলোও ভাল লাগার।মতির কাহিনী সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি। তবে শেষে সিকুয়েল বানানোর জন্য কাহিনী একটু ঝুলিয়ে রাখলো 😒

ভাল না লাগা দিক!
স্পয়লার -
ভিক্টিম দের ক্যারেক্টর বিল্ড আপ দরকার ছিল।তাহলে খারাপ লাগা বেশি কাজ করতো।
খুনী নিজে এসে এভিডেন্স দিয়ে গেলো পুলিশকে, খুনি কে অন্য লোক ও চিনে যার সাথে দোকানে বসে আড্ডা দেয় এমন একজন লোককে পুলিশ ধরতে পারলো না! বিরাট প্লটহোল। কারন গল্পে এর আগে শুধু মুখের কথায় স্কেচ আঁকিয়ে অন্য সন্দেহভাজন দের গ্রেপ্তার করলো আর এখানে পুলিশ নিজের চোখে দেখে, তার ভিডিও সব থানায় ডিস্ট্রিবিউট করে খুনী কে ধরতে পারবে না!
Profile Image for Farah Tabira.
51 reviews18 followers
April 3, 2025
বই: মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
জোনরা: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, মার্ডার মিস্ট্রি

ঈদের ছুটিতে মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স বইটি পড়ে শেষ করলাম। আমি বাংলায় রিভিউ লিখি না কিন্তু এই বইটি নিয়ে রিভিউ লিখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। একেবারে দুর্দান্ত একটা সাইকোলজিকাল থ্রিলার ও মার্ডার মিস্ট্রি। এই বছর অনেকগুলো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়েছি। এর মাঝে আছে ফ্রিডা মাকফাডেনের অনেকগুলো বই। অরিজিনাল ইংলিশ এডিশন গুলো পড়েছিলাম আর তখন থেকেই এই জনরার প্রতি আমার আলাদা ঝোঁক তৈরি হয়েছে। তাছাড়া মার্ডার মিস্ট্রি আমার সবসময়ই ভালো লাগে।

মনোয়ারুল ইসলাম এর দূর্জয় শাকিল সিরিজ নিয়েছিলাম ঈদ এর জন্য। সিরিজ এর প্রথম বই অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন পড়েছি ঈদের আগে। তবে সিরিজের দ্বিতীয় বইটি আমার বেশী ভালো লেগেছে।

মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স বইতে মতি মিয়া একজন গরু চোর। কিন্তু একদিন তার সামনে একটা খুন ঘটে গেলে সে পালিয়ে যায় ঢাকায় আর আশ্রয় পায় রিকশা চালক জুলহাসের কাছে। কিন্তু একদিন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে একটি কাটা লাশ ভরা বস্তা দেখতে পায় এবং সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়ে। কিন্তু জুলহাসকে ছেড়ে যেতে পারে না মতি মিয়া। কারণ রিকশা চালক জুলহাস মতিকে ভাইয়ের মত দেখে এবং তাকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।

এই গল্পে আরো অনেক চরিত্র আছে। যেমন মারুফ যে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে নেশা করে। মা বাবার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। জিনিয়া নামের এক মেয়ে ছাড়া সে কিছু বোঝে না। এছাড়া আছে আরো অনেক ছোট বড় চরিত্র।

এর মধ্যে চলতে থাকে একের পর এক খুন। মেয়েদেরকে কেটে কেটে টুকরো করে বস্তায় ভরে নির্জন জায়গায় ফেলে যায় খুনি। কিন্তু মাথাটা তার কাছে রেখে দেয়। পুরো বইতে তিনটি মেয়েকে খুন করা হয়। কিন্তু তাদের খুনের বর্ণনা গুলো ছিল খুবই ডিস্টার্বিং। এগুলো সবার পক্ষে পড়া সম্ভব না। বিশেষ করে যাদের মন দুর্বল। এছাড়া ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে খুন হয় আসাদ নামের এক পুলিশ।

খিলগাঁও ও সবুজবাগ এর লোকাল পুলিশ ছাড়াও তদন্তে যোগ দেয় পিবিআই। যার ফুল ফর্ম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। তারাও হিমশিম খায় খুনীকে খুঁজে পেতে। পিবিআইর একজন কর্মকর্তা হচ্ছেন সাব ইন্সপেক্টর দূর্জয় শাকিল। এত নৃশংস ও গভীরভাবে পরিকল্পিত খুন তিনি তার ক্যারিয়ারে কখনো দেখেননি।

এই বইয়ে অনেক রহস্য আছে কিন্তু অতিরিক্ত টুইস্ট নেই। তারপরও আমি পড়া থামাতে পারছিলাম না যেহেতু লেখকের লেখনশৈলী খুব সাসপেন্সফুল, সাবলীল ও সহজ ছিল। এই বই পড়ার আগে পুলিশ প্রসেডিউরাল জোনরা আমি তেমন পড়িনি। এম জে বাবুর আনার্কিস্ট সিরিজ এর প্রথম দুইটি বই পড়েছিলাম। ওই সিরিজে পুলিশ প্রসেডিউরাল, সিরিয়াল কিলিং ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জোনরা ছিল। আর মনোয়ারুল ইসলাম এর দূর্জয় শাকিল সিরিজ ও সেই সব জনরাতেই পরে। পুলিশি তদন্ত কি ভাবে হয় এই বইতে খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এতগুলো চরিত্র থাকতে এদের কারো মধ্যেই খুনি না থাকায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম শেষ দিকে।

আই ডিটেক্টর টেস্ট নামে একটি নতুন প্রযুক্তি ইন্ট্রোডিউস করেছেন লেখক। এছাড়া তদন্তের পুরো প্রক্রিয়াটা আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে।

প্রথম দিকে বইটি একটু স্লো ছিল কিন্তু কয়েকটা চ্যাপ্টার পড়ার পর প্লটের গতি আমাকে চুম্বকের মত টেনে রেখেছে বইয়ের পাতায়। খুব ফাস্ট পেসড ছিল প্লট। আর সাসপেন্স এর মাত্রা ছিল চমৎকার। আর তাছাড়া লেখক গল্পের মত করে লিখেছেন যা এই বইয়ের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণ।

কিন্তু একটা জিনিস আমার ভালো লাগেনি। খুনির পার্সপেক্টিভ থেকে কোনো কিছু গল্পে পাওয়া যায়নি। এত গুলো চরিত্রের মাঝে কেউই খুনি ছিল না। যা আমার পছন্দ হয় নি। খুনী যদি গল্পের অংশ হতো তাহলে একটা গেস করার সুযোগ থাকতো। কিন্তু যেহেতু খুনীকে দেখাই যায় নি পুরো প্লটে তাই প্লটটা কেমন যেনো লেগেছে।

#bookrecommendations #bookshopping #BookLovers #bookishcontent #BookHaul #bookphotography #Bookstagram #bookstagrammer #bookholic #Bookworm #BookLover #MustRead #booknerd #mustread #book #bookreviewer #ReadMore #BookLover #BestBooksToRead
Profile Image for Noyon.
53 reviews8 followers
March 1, 2023
অসাধারণ।
এক বসায় না শেষ করে উঠতে চাইবেন না।মনে হবে এর পর কি হবে,যা ভাববেন তাই ভুল প্রমান হবে,
লেখনী বেশ ভালো। গল্পে গতি আছে বোরিং ফিল হওয়ার চান্স নাই। গল্প শেষ প্রর্যন্ত আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।কখন শেষ হলো টের ও পাবেন না।
Profile Image for Rahitul.
8 reviews
February 21, 2023
আবারো ভয়ঙ্কর সাইকোপ্যাথের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন লেখক। যার সামনে পড়লে যে কোনো মানুষের বুক কেঁপে যাবে। অত:পর কবি মঞ্চে উঠিলেন পড়ে লেখকের ফ্যান হয়ে গেছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে সব পড়া। মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স বইটা পড়তে গিয়ে বারংবার মনে হয়েছে খুনি কে বুঝে ফেলেছি কিন্তু লেখক আমার ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত করতে সফল হয়েছেন। এই বইয়ের সবচেয়ে সেরা ডায়লগ----- ইচ্ছে মিচ্ছে বুঝি না। পাইলেই জবাই। পৃথিবীতে কত ধরণের যে মানুষ আছে তার ইয়ত্তা নেই। আশেপাশে হয়তো কতই নাম না জানা মুখোশধারী মৃত্যু দূত ওঁত পেতে আছে-----
Profile Image for নূর.
67 reviews
February 19, 2023
হাত পা কাঁপছিল বইটা পড়ার সময়।
অত:পর কবি মঞ্চে উঠিলেনের পর লেখকের কাছ থেকে এমনই একটি থ্রিলার বই আশা করেছিলাম এই বছর।
টানা দুটো বই পড়লাম লেখকের। সামনে আরো ভালো ভালো বই আশা করি পাব মনোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে। জানিনা লেখক এইলেখা পড়বেন কিনা। একটা আর্জি জানাই, বইয়ে যৌনতা একটু কম রাখা যায় না?
Profile Image for শুভাগত দীপ.
276 reviews43 followers
March 29, 2025
মিথ্যা খুনের দায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মতি মিয়া। নিজের গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকার নন্দীপাড়া বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে সে। এক রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো মতি মিয়া। আর এটাও বুঝলো, এই ব্যাপারটা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই মঙ্গল।


ঢাকার বুকে শুরু হয়েছে সিরিয়াল কিলিং। একের পর এক মস্তকবিহীন লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ভিক্টিমদের সবাই নারী। একে তো লাশগুলোর মাথা নেই, তার ওপর খুনী একদম টুকরো টুকরো করে কেটে দেহগুলোকে ফেলে যাচ্ছে। ওসি মোয়াজ্জেম ও এসআই শিহাবের ঘাম ছুটে যাচ্ছে খুনগুলোর তদন্ত করতে গিয়ে।


এই সিরিয়াল কিলার এতোটাই বেপরোয়া যে কাউকেই মানছে না। তার হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলো পুলিশের এক তরুণ এসআই। এবার যেন পুরো সিস্টেম নড়েচড়ে বসলো। অধিকতর তদন্তের জন্য সিরিয়াল কিলিংয়ের কেসগুলো দেয়া হলো পিবিআই-এর হাতে। আর ঠিক এখান থেকেই যেন খুনীর সাথে পুলিশের ইঁদুর-বিড়াল খেলা আরো একটু বেশিই জমে উঠলো।


দ্য নিউ টেইলার্সের মালিক মুন্সির মাথায় একদিন হঠাৎ শয়তান ভর করলো। সে খারাপভাবে টাচ করে বসলো তার এক নারী কাস্টমারকে। মুন্সির সহকারী সবুজও যে খুব একটা সুবিধার লোক তা না। সারাক্ষণ অল্পবয়সী মিনিয়াকে নিয়ে যা-তা ভেবে চলেছে সে। ওদিকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি মাহতাব হোসেন আছেন আরেক জ্বালায়। তাঁর একমাত্র ছেলে মারুফ দিনে দিনে হয়ে উঠছে হিংস্র আর মাতাল। জিনিয়াকে না পেলে তাকে খুন করতেও হাত কাঁপবে না ছেলেটার। পিবিআই আর পুলিশ একদিকে নাকানিচোবানি খাচ্ছে সিরিয়াল কিলিংয়ের কেসটা নিয়ে, অন্যদিকে তাদের আশেপাশেই নিত্য ঘটে চলেছে এসব নাটক। এসবের কি আসলেই কোন মানে আছে?


'মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স' বইটা কিনেছিলাম ২০২৩ সালে, প্রকাশিত হওয়ার পরপরই। এতোদিন বাদে এসে পড়তে পারলাম। লেখক মনোয়ারুল ইসলামের কোন বই এর আগে আমি পড়িনি। এটাই প্রথম। সিরিয়াল কিলিংকে উপজীব্য করে লেখা 'মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স'-এর কাহিনি বেশ গতিশীল। একটানে অনেকখানি করে পড়তে পেরেছি। আর এটার মূল কারণ মনোয়ারুল ইসলামের লেখার ধরণ। সাবলীলভাবে পুরো গল্পটা বলে গেছেন তিনি। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে।


এই উপন্যাসের কাহিনির ভেতর যে গাদাখানেক খুন হয়ে আছে বিষয়টা এমন না। বরং একটা নির্দিষ্ট গ্যাপ দিয়ে কয়েকটা মাত্র খুনের কথাই এখানে বলা আছে। আর এই কয়েকটা খুন আর চতুর সিরিয়াল কিলারের পেছনে পুলিশের লেগে থাকাকে 'মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স'-এ দেখানো হয়েছে বিশদভাবে। কাহিনি ভালো লাগলেও পুরো পুলিশ প্রোসিডিউরালটা আমার কাছে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে সময়ক্ষেপণ একটু বেশিই হচ্ছে কাহিনির মধ্যে। আর শেষদিকে এসে মনোয়ারুল ইসলাম এমন এক ক্লিফহ্যাঙ্গারের অবতারণা করেছেন, যেটার আশা আমি একেবারেই করিনি। যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে বইটার সিকুয়েল কখনো না কখনো লেখক আনবেন।


বেশ কিছু ভুল বানান চোখে পড়েছে। রিপিটেডলি চোখে পড়েছে 'বীভৎস' বানানের ভুলটা। লেখক লিখেছেন 'ভীবৎস'৷ এছাড়া ছোটখাটো কিছু টাইপিং মিসটেক আছে বইটাতে। একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে ভুলে গেছি। 'মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স' পড়ার সময় যতোবারই আমি সিরিয়াল কিলারের পরিচয় আন্দাজ করার চেষ্টা করেছি, ততোবারই ব্যর্থ হয়েছি। আর এই ব্যাপারটাই বোধহয় আমাকে বেশি আনন্দ দিয়েছে।


ফুয়াদ শেখের করা প্রচ্ছদটা মোটামুটি টাইপ লেগেছে আমার কাছে। কেন যেন মনে হয়েছে এটা আরো ভালো হতে পারতো। বইটার প্রোডাকশন চমৎকার। আগ্রহীরা পড়ে ফেলতে পারেন।


ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৫/৫


বইঃ মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স

লেখকঃ মনোয়ারুল ইসলাম 

প্রকাশকঃ অন্যধারা

প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ঘরানাঃ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার/পুলিশ প্রোসিডিউরাল

প্রচ্ছদঃ ফুয়াদ শেখ

পৃষ্ঠাঃ ২৪০

মুদ্রিত মূল্যঃ ৫৪০ টাকা

ফরম্যাটঃ হার্ডকভার 


(২৯ মার্চ, ২০২৫; নাটোর)
4 reviews
February 29, 2024
বই : মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
জনরা : সিরিয়াল কিলিং
প্রকাশনী : অন্যধারা


শুরুটা একজন পলাতক আসামীকে দিয়ে। মতি মিয়া।
পরিচয় পাল্টে ঢাকা শহরে বাস করছে। ভেবেছিলো পালিয়ে বেড়াতে পারবে। কিন্তু আতঙ্কগ্রস্থ মতি মিয়া আবারও আতঙ্কিত হতে বাধ্য হলো। আবারও মনের মধ্যে এক রাশ ভয় নিয়ে দিনের পর দিন স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকা।
গল্পটা সিরিয়াল কি/লার ঘরানার। মেয়েদের লা//শ পাওয়া যাচ্ছে। সেটাও বেশ অদ্ভুত! মাথা বিহীন টুকরো করা লা//শ, আগুণে কিছুটা পোড়ানো। খু//নী খুব সাবধানী। নিজের কোনো ছাপ ফেলে যাচ্ছে না। নিজের এবং ভিক্টিমের পরিচয় লুকিয়ে সবাইকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে প্রতিনিয়ত। পুলিশ তার কোনো ধরনের ট্রেস করতে পারছে না। এদিকে একটার পর একটা খু//ন ঘটে চলেছে। সবাই মেয়ে! এলাকাও সিরিয়ালি যাচ্ছে। সবুজ বাগ, বাসাবো, খিলগাও....
কেন্দ্রীয় চরিত্র গুলোর মধ্যে মারুফ আর জিনিয়া দুটি চরিত্র৷
মারুফ একজন প্রেমিক, কিন্তু ব্যর্থ! সন্তান হিসেবে ব্যর্থ, প্রেমিক হিসেবে ব্যর্থ, একজন মানুষ হিসেবেও ব্যর্থ।
তার পরিণতি কেমন হবে? অন্যদিকে জিনিয়া ভীষণ রূপবতী, মেধাবী এবং রূচিশীল একটি মেয়ে। রূপ যেন তার ওপর অভিশাপের মত। তার পরিণতিই বা কেমন হবে?
পুলিশের ভূমিকা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তাদের জীবন ও কাজ সম্পর্কেও গুছিয়ে লেখা হয়েছে। তাছাড়াও বেশ কয়েকটা অংশে পুলিশের চরিত্রগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এই উপন্যাসের চরিত্ররা সবাই পূর্ণতা পেয়েছে। লেখক প্রতিটি চরিত্রকে স্বাধীন করেছেন। বেশ সাবলীলভাবে লেখা হয়েছে বইটি। টান টান উত্তেজনাময় থৃলারের ভিড়ে কিছু সামাজিক সত্য উঠে এসেছে। খুনা//খু/নীর মাঝে অল্প করে প্রেমময় কিছু অংশ যেন বৃষ্টির পরের হালকা মিষ্টি বাতাসের মত লাগছিলো।
বারবার করে একেক চরিত্রকে কালপ্রিট বলে মনে হয়েছে, তারপর আবার মনে হচ্ছিলো এ নয়, অন্য কেউ।
লেখক উপন্যাসে পাঠককে মনোযোগী করায় সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। এই বই ছেড়ে ওঠা কঠিন। এবং শেষ করার পর স্যাটিসফাইড আমি।
বই এর প্রচ্ছদ, নাম, বাইন্ডিং সবই ভাল। শুধু অল্প কিছু টাইপিং মিসটেক ছিল।
যারা পড়েননি, তারা পড়ে দেখতে পারেন। ইন-শা-আল্লাহ ভালো লাগবে।
রেটিং : ৪.৫/৫
Profile Image for Maruf.
21 reviews
February 17, 2023
মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স বইটি সাইকোপ্যাথের গল্প,
পালিয়ে বেড়ানো এক নিরপরাধ মানুষের গল্প, ঢাকা শহরের ব্যস্ততার গল্প। খুনের গল্প। প্রেমের গল্প। যৌনতার গল্প।
বইটা শেষ করে হাতে নিয়া বসে ছিলাম অনেকক্ষণ। তারপর ভাবলাম লেখক কী লেখক এইটা। অত:পর কবি মঞ্চে উঠিলেনের কিছু ক্যারেক্টার এই বইয়ের থ্রিল কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
Profile Image for Bhomika Islam.
16 reviews3 followers
June 23, 2023
প্রথমে ভেবেছিলাম ৩, পরে ভাবলাম না ৪, কিন্তু ১৯৩ পৃষ্ঠার পর থেকে আর ৫ না দিয়ে পারলাম না..। টেস্ট পরীক্ষার জন্য এতদিন লে��েছে পড়তে। নাহলে কি আর এতদিন লাগে?!
2 reviews
February 19, 2023
নামের মতই অদ্ভুত সুন্দর বই!
লোহা লক্কড় বা ওয়ার্কসপের নামে বইয়ের নাম হতে পারে তা চিন্তাই করতে পারি নাই। বইটা ভালো লাগছে ভিষণ।
Profile Image for Akash Rahman.
47 reviews7 followers
April 18, 2025
একটি পুরনো বাগধারা আছে, মন না মতি? যার অর্থ অস্থির মানবমন।
মানুষের মন বড় বিচিত্র। পরিস্থিতির কারনে সে হয়ে ওঠে সাবধানী, সতর্ক, হিংস্র, কুটিল, ধ্বংসাত্নক কিংবা খুনী। আবার এই মনই মমতার আধার, ভালবাসার আঁতুড়ঘর, শিল্পের সমঝদার, কবিতাপ্রেমি। মানবমন বাস্তবিকই বড্ড অস্থির। যে হাত দিয়ে মানুষ নিজের ভাই কিংবা প্রিয় কোন আপনজনকে আদর করে, বুকে টেনে নেয়, সেই হাতই আবার সংহারক হয়ে উঠতে পারে অন্য কারও জন্য।

এক বছর আগে ঘটে যাওয়া কবি কেসের মতই ঢাকা শহরে আবারও মিলছে তরুণীদের লা শ। কবি কেসের সেই খুনীর চেয়ে শতগুণ ভয়ানক ও বীভৎস সাইকোপ্যাথ জড়িত রয়েছে এবারে। কিন্তু এর মোটিফ কী? আর এসবের শেষ কোথায়?

ব্রাক্ষ্ণণবাড়িয়ার এক গ্রাম মনিপুর। এই গ্রামের এক গরুচোর মতি মিয়া। চুরি ব্যতীত আর কোন অপরাধ না করলেও মতি মিয়ার চোখ বহু অপরাধের সাক্ষী। আর এটিই কাল হয়ে দাঁড়াল বেচারা গো তস্করের জন্য। খুনের অপবাদে তাকে ছাড়তে হল গ্রাম। মতি মিয়া জানেনা সামনে কেমন জীবন অপেক্ষা করছে তার জন্য।

দি নিউ টেইলার্সের এক শিক্ষানবীস দর্জি সবুজ। আধপাগলা বড় ভাই আর অসুস্থ মাকে নিয়ে বসবাস তার। টেইলরিং শপে কাজ করা এক সামান্য দর্জির জীবন যেরকমটা হবার কথা সবুজের জীবন তারচেয়ে আলাদা কিছু না। কিন্তু এই নিস্তরঙ্গ জীবনে যে কী ঘটতে চলেছে সবুজ তা জানেনা, জানেনা কেউই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জিনিয়া। বাবা হায়দার আলী, মা ফাতেমা বেগম আর ছোটবোন মিনিয়ার সঙ্গে বসবাস তার। মিষ্টভাষী এবং পরমাসুন্দরী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত সে। ফেসবুকেও তার ফলোয়ারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। কিন্তু এই পরিচিতির ফলে তার পিছনে লেগে থাকা মজনুদের সংখ্যাও কম না একেবারে।

তিনজন মানুষ, আপাতদৃষ্টিতে যাদের জীবনের মধ্যে কোন সংযোগ নেই, থাকার কথাও না। কিন্তু তকদীর এদেরকে যুক্ত করেছে এমন একজন মানুষের সাথে, যার কারণে এদের সবার জীবন ভীষনভাবে ওলটপালট হয়ে পড়বে। পাঠক, দুর্জয় শাকিলের ২য় অভিযানে আপনাদের স্বাগতম।

পাঠপ্রতিক্রিয়া
আমরা সচারাচর যেসব সিরিয়াল কিলিংয়ের গল্প পড়তে অভ্যস্ত; প্রত্যন্ত অঞ্চল (মফস্বল শহর বা রীতিমত অজপাড়াগাঁ), পুলিশ ফোর্সের হাতে খুব বেশি সুযোগ-সুবিধা নেই, খুনী শুধু ভয়ানকই না, বলা চলে জীবন্ত কিংবদন্তী, মূর্তিমান আতঙ্ক অথবা পুরনো লেজেন্ড, কাহিনীতে পুলিশি এক্টিভিটির উপর খুব বেশি ফোকাস, হলিউডি কায়দার কিছু মারপিটদৃশ্য ইত্যাদি।
বইপাড়ার স্বনামধন্য লেখক মনোয়ারুল ইসলাম বরাবরের মতই গতানুগতিক সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রথা ভেঙ্গেছেন এ বইতেও। সিরিয়াল কিলিং হোক কিংবা যেকোন ক্রাইম, সাধারণ মানুষদেরকেই তা সবচেয়ে বেশি এফেক্ট করে, তারাই মূলত ক্রিমিনালদের লক্ষ্যবস্তু। তাই লেখক পুলিশের অবিরাম অভিযানের পাশাপাশি ফোকাস দিয়েছেন সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রার দিকেও। প্রাঞ্জল লেখনীর জন্যই লেখক সাহেব বিখ্যাত, সেই প্রাঞ্জলতার ধারা তিনি চমৎকারভাবে কন্টিনিউ করেছেন এ কিস্তিতেও। বলতে গেলে পুরো গল্প এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায়, একাধারে বস্তির হতদরিদ্র মানুষদের জীবনের বর্ণনা, অন্যদিকে অপরাধের তদন্ত, দু’টোই এত সুন্দরভাবে এগিয়েছে।
পুরো গল্পে একটাই অভিযোগ, গল্পের কলেবর আরও বড় হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে সবুজবাগ থানার ওসি মোয়াজ্জেম জোয়ার্দারের চরিত্রটা বেশ মনে ধরেছিল, গল্পজুড়ে তার তৎপরতা আরও বেশি হলে ভাল লাগত। আর শেষভাগে বেশ তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে মনে হয়েছে।

পার্সোনাল রেটিং ৩.৯/৫
Profile Image for Harun Ahmed .
36 reviews1 follower
May 16, 2025
" মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স "
মানুষ মা'রার কারখানা

মিথ্যা খু'নের দায় মাথায় নিয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসে গরুচোর মতি মিয়া। জুলহাস নামে এক রিকশাচালকের আশ্রয়ে মতি মিয়ার নতুন জীবনের শুরু হয় জিতু মিয়ার নামে। কিন্তু, এখানেও যেন সেই অতীত তারা করে বেড়ায়। আরও একটি খু'ন। এবার বস্তাবন্দী লা শ ফেলে দেওয়া হয় মতি মিয়ার সামনে। ভয়, শঙ্কা, পুরনো অতীত... মতি মিয়া কী করবে এখন? আবারও কি ছুটবে নতুন জীবনের খোঁজে?

আলেমের ঘরে জালেম" এই কথার উদাহরণ বড়লোক মাহতাব হোসনের বখে যাওয়া একমাত্র সন্তান মারুফ। পড়াশোনা ছেড়ে সারাদিন ম'দ গাঁজা নেশায় পড়ে থাকে। এবং একতরফা ভালোবাসে জিনিয়া নামে ছোটবেলার এক বান্ধবীকে।অপরদিকে জিনিয়া মারুফকে ভালোবাসে না বলে খু'ন করতে মন চায় মারুফের।তবে কি ভালোবাসার মানুষকে খু'ন করা যায়? মারুফ চায় জিনিয়াকে, একই সাথে চায় নিজেকে বদলে দিতে। কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। মারুফ কি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে?

মস্তকহীন, পুরো শরীর টুকরো টুকরো করা একটি লা'শের বস্তা পা-ওয়া যায় সবুজবাগ বস্তির পাশে। মাথাহীন শরীর, আগুনে পুড়ানো লাশে'র খু'নিকে ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয় সবুজবাগ থানার ওসি মোয়াজ্জেম জোয়ার্দারের উপর।মোয়াজ্জেম জোয়ার্দার কি পারবেন এই খু'নের রহস্য বের করতে।

রহস্য সমাধান করতে গিয়ে সহকারী পুলিশ অফিসার আসাদ পৌঁছে গেল এক নির্জন নির্মাণাধীন কমপ্লেক্সে। কে জানত, নিজের মৃ ত্যুকে এভাবে ডেকে আনছে নিজে।খু'নি রডের আঘাতে হত্যা করে আসাদকে।

মোয়াজ্জেম জোয়ার্দার আর তার ডিপার্টমেন্ট যখন এই খু'নগুলোর রহস্য বের করতে ব্যর্থ হয় তখন নাক গলাতে শুরু হয় পিবিআই। আসিফ আলী ও তার দল এবার সর্বক্ষেত্রে। কিন্তু সেখানেও কোনো সূত্র নেই।খু'নি একের পর এক খু'ন করে যাচ্ছে কিন্তু কোনো রহস্য বের করতে পারছে না পুলিশ কিংবা পিবিআই।

কে এই বিভৎস খু'নি। যে খু'ন করে যাচ্ছে সুন্দরী নারীদের। কি তার উদ্দেশ্য?মোয়াজ্জেম জোয়ার্দার বা পিবিআই কি পারবে এই হত্যা রহস্য বের করতে?

মনোয়ারুল ইসলাম এর লেখা বকুল ফুল বই শেষ করেই শুরু করসিলাম এই অদ্ভুত নামের বইটি।লেখকের শব্দচয়ন কিংবা চরিত্র এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে পুরো বই শেষ না করে উঠতে মন চাইবে না।

লেখক মনোয়ারুল ইসলামের বইয়ে সবচেয়ে দিক ভালো লাগে, তা হচ্ছে চরিত্র গঠন। এই দিকে তিনি কার্পণ্য করেন না। ছোটো, বড়ো সকল মিল চরিত্র তার লেখনীর মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যেমন এই গল্পে মতি মিয়া, জুলহাস, জুলেখা, মদিনা, তাহেরদের মতো চরিত্র যেমন ফুটে উঠেছে, একইভাবে ফুটে উঠেছে মারুফ, জিনিয়ারাও।

খারাপ দিক দিয়ে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে গল্পের জন্য অনেক অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া সবকিছু ভালোই ছিল। তাই বইটা পড়ে আশা করি পাঠকের ও ভালো লাগবে
▪️বই : মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪০
▪️ মুদ্রিত মূল্য : ৫৪০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
Profile Image for Nusrat Ahmed Asha.
8 reviews
August 14, 2025

বই এর পসিটিভ দিকঃ সিরিয়াল কিলিং, পুলিশি তদন্ত আর মানসিক জটিলতার মিশেলে গড়া এই বই নিঃসন্দেহে সাসপেন্স ও থ্রিলারে ভরপুর। লেখকের লেখনশৈলী সাবলীল এবং প্লটের গতি ঠিক ছিল। আমি বাচ্চা নিয়ে এক বসায় শেষ করতে পারি নাই কিন্তু রাতে ওরা ঘুমালে টানা পড়েছি। একটু পড়ে ফেলে রাখার মতন বই এটা না।
আর যেহেতু লেখক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, তাই লেখায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু জায়গার নাম পেয়ে পড়তে দারুণ লেগেছে। আমি হোমসিক মানুষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কিত কিছু দেখলেই ভালো লাগে।
ওহ, আরেকটা প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে , আপনারা হয়তো সবাই মিষ্টি ভাপা পিঠা খান, কিন্তু শোল মাছ দিয়ে রান্না করা লাউয়ের তরকারির সাথে ঝাল ভাপা পিঠা (কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজের টুসি দিয়ে বানানো ভাপা পিঠা) কি কখনও খেয়েছেন ? এটা আমার সকালের সবচেয়ে প্রিয় নাস্তা। অনেক বছর খাই না। বই পড়ার সময় ইচ্ছে হচ্ছিল বানিয়ে খাই, কিন্তু অলস মানুষ আমি—এত ধৈর্য কোথায় !

নেগেটিভঃ বইতে অনেকগুলো পুলিশ পদ (OC, Inspector, Sub Inspector ইত্যাদি) এবং ২-৩টি থানার বিভিন্ন অফিসারের নাম ও পদমর্যাদা, তার উপর পিবিআই-এর লোকজনের নাম ও পদ—সব একসাথে মনে রাখা আমার জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। হয়তো পুলিশ বিভাগের পদমর্যাদা সম্পর্কে আমার ধারণা কম থাকায় শুরুতে এমন লেগেছিল। তবে নামগুলো ভুলে গিয়েও গল্প বুঝতে তেমন অসুবিধা হয়নি।
ব্যক্তিগতভাবে আমার একটি বড় আপত্তি হচ্ছে — বইটিতে যৌন প্রসঙ্গ নিয়ে অনেক গভীর ও খোলামেলা বর্ণনা আছে। সাহিত্যিক প্রেক্ষাপটে কিছু পরিমাণ যৌন ইঙ্গিত বা আলোচনা সহনীয় হতে পারে, কিন্তু এখানে অনেক জায়গায় সেটি মূল প্লট থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছে। বার বার জুলহাস এবং তার বউ জুলেখার প্রতি রাতের ঘটনা বর্ণনা করার দরকার ছিল বলে মনে করি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে সাহিত্যে অতিরিক্ত যৌন আলাপ-আলোচনা পছন্দ করি না, তাই সেই অংশগুলো পড়তে গিয়ে কিছুটা অস্বস্তি লেগেছে।

যাদের গ্রাফিক সহিংসতা ও খোলামেলা যৌন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু পড়তে সঙ্কোচবোধ হয় না, তাদের জন্য এটি হয়তো একটা চমৎকার থ্রিলার অভিজ্ঞতা হবে বইটা পড়ার সময় । কিন্তু যাদের এই ধরনের কন্টেন্টে অস্বস্তি হয়, তারা বিষয়টি মাথায় রেখে এই বইটা পড়তে পারেন।
Profile Image for Sajol Ahmed.
56 reviews2 followers
June 18, 2023
মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স
মনোয়ারুল ইসলাম

মূল রেটিং- ৪.৫/৫


পুলিশ প্রসিডিওরাল জনরায় বাংলাদেশি লেখকদের কাজ খুব বেশি দেখা যায় না। লেখক মনোয়ারুল ইসলামের এবারের বইমেলায় প্রকাশিত এই বইটি শুরু থেকে সিরিয়াল কি লিং উপজীব্য ফিকশন হিসেবে প্রচারণা করা হলেও, পড়ার পর দেখলাম সিরিয়াল কি লিং-এর পাশাপাশি দারুণ একটা পুলিশ প্রসিডিওরাল ফিকশনও বটে। এজন্য লেখক বাড়তি প্রশংসার দাবিদার।

সুন্দর, ছিমছাম, প্রায় বাস্তবিক বর্ণনায় সাজানো পুরো গল্পটা। লেখকের লেখনশৈলীর সাথে পরিচয় অনেক আগে থেকেই। বর্ণনা ভঙ্গি আগের থেকে অনেক পরিণত।
রহস্য, থ্রিল, সাসপেন্সে ভরপুর গল্পের প্রতি অধ্যায়ে রয়েছে টুইস্ট। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো এই ধরে ফেলেছি! কিন্তু একটু পরেই দেখা যাচ্ছে না এই লোক না!!
সবমিলিয়ে বইটা বেশ ভালো লেগেছে। ১৮+ বয়সীরা নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন। ১৮+ বললাম কারণ গল্পে ভায়লেন্স দেখানো হয়েছে অনেকটা।
আর হ্যাঁ, বই শেষ হলেও গল্প কিন্তু হয়নি। আরো পার্ট আসবে। সেই অপেক্ষায় রইলাম।

প্রোডাকশন ত্রুটি-
বইয়ের পেইজ, বাঁধাই সবই ভালো। কিন্তু সম্পাদনায় বিশাল সমস্যা রয়ে গেছে। বানান ভুল/টাইপোর পরিমাণ বেশিই বলতে হবে। ৫৪০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের একটা বইতে এরকম প্রুফিং বা সম্পাদনা আশা করা যায় না। প্রকাশনীর কাছে অনুরোধ থাকবে এদিকটায় আরেকটু যত্নবান হতে।
Profile Image for Ismail Hossain.
20 reviews
January 1, 2024
পড়ে ফেললাম মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।
এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হল, বইটার গতি। গল্পের একদম শুরুতে লেখক গল্পে ঢুকে পড়েছেন এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন কোন ব্রিদিং স্পেস না দিয়েই।
যারা নতুন পাঠক কিংবা অনেকদিন ধরে বই পড়া হয়না তারা চোখ বন্ধ করে বইটি হাতে নিতে পারেন, বইটি টনিক হিসেবে কাজ করবে।

একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, বইটার শেষ বড্ড তাড়াহুড়োয় হয়েছে। মাইকেল কনেলির কিছু পুলিশ প্রসিডিউরাল পড়েছি এমন যে, লেখক গল্পের খুনিকে রিভিল করেছেন একদম শেষভাগে। এই বইটাতেও তেমন মজা পেয়েছি কিন্তু আমার মনে হয় খুনি রিভিল করার পরে খুনিকে নিয়ে আরেকটু লেখা যেত। খুনির মনস্তত্ত্বকে লেখক চাইলে দারুণ ভাবে প্রেজেন্ট করতে পারতেন। এছাড়াও মাঠের মধ্যে কুকুর গুলি করে মারার ঘটনা, জিতু মিয়ার গ্রামের মেম্বার খুন হবার ঘটনা, জুলহাস-জুলেখার অপ্রয়োজনীয় রগরগে বর্ণণা এই লুজ এন্ডগুলো লেখক চাইলে আরেকটু যত্ন নিতে পারতেন। এগুলো একান্তই আমার ব্যাক্তিগত মতামত।
আশা করি সিক্যুয়েল আসবে৷ আসলে দেরি করবোনা।
Profile Image for Kabir.
4 reviews
February 21, 2023
জোশ বই। থৃলার উপন্যাসে অনেক সময় দেখা যায় গল্প ঝুলে যায়। ভাই ভাই ট্রেডার্সে গল্প কোথাও একটুকু ঝুলে নাই।
লেখকের আগের বইগুলো পড়াতে ভালো রকমের এক্সপেকটেশন তৈরি হয়েছিল এই বইটা নিয়ে। লেখক সেটা পূরণ করেছেন। তাকে ধন্যবাদ।
এমন বই আরো চাই। এই বইয়ের শেষে সিকুয়েলের ইঙ্গিত আছে। যদি সিকুয়েল আসে আরো জোশ হবে।
Profile Image for Sazzad Naim.
28 reviews
April 5, 2025
Really enjoyed the whole book, but expected something better for the ending. I just had too high of an expectation for the ending i guess because i enjoyed the read so much. If there's going to be a sequel to this book then THAT WOULD MAKE PERFECT SENSE, AND I'M DYING FOR IT.
Profile Image for Shihabul Bashar  Robi.
52 reviews2 followers
July 11, 2025
পুরা বইটা বেশ গ্রিপিং, লেখনী বেশ ভালো লাগসে, প্রসিডিউরালের জায়গাগুলাও বেশ।
কিছু জায়গা খুব একটা জমে নাই।
আর ক্লাইম্যাক্স এ তো.....
মনে হইসে লেখকের একটু তাড়া ছিলো ক্লাইম্যাক্স এ এসে, তাই এমন ক্লাইম্যাক্স দেওয়া।
যাইহোক, উপভোগ্য বটে।
Profile Image for Maruful Haque.
3 reviews
February 29, 2024
মনের মতো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। বইটার নাম এমন যথার্ত হবে তা বইটি পড়ার আগে বুঝিনি। শুধু নামটা ভালো লাগছিল। কৌতূহলবশত কিনেছিলাম বইটা। আর পড়ে মুগ্ধ। লেখকের বাকিসব পড়ব।
Profile Image for Masfia Karim.
34 reviews
December 17, 2024
৩ তারা এর বেশি দিতে পারছি না।কাহিনিটা আরো একটু ভালো হতে পারতো। হতাশ।
Profile Image for Sumaiya.
290 reviews4 followers
April 9, 2025
৪/৫ ⭐️
অনেক দিন পর এতো ডার্ক কিছু পেলাম।
ভালো লাগলো।
Displaying 1 - 30 of 33 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.