সত্যিই পরম করুণাময়ের অসামান্য এক সৃষ্টি আমাদের এই মানবদেহ। কত কী যে এই দেহ নামক যন্ত্রটি ধারণ করে তা বলার বাইরে। অথচ চিকিৎসকদের প্রায়শই হারিয়ে যেতে হয় কাদামাটির এই গোলকধাঁধায়। অদ্ভুত সব সমস্যা, আর ততধিক অদ্ভুত সমাধানের নজির মিলবে চিকিৎসা-শাস্ত্রের পাতায় পাতায়।
তেমন কিছু রহস্য নিয়ে আমাদের এই নিবেদন...কাদামাটির গোলকধাঁধায়। স্বল্প পরিসরে বেশ কিছু অদ্ভুত রোগ, সেই রোগে আক্রান্ত মানুষদের গল্প, কিছু আবিষ্কার, কয়েকজন মহান ব্যক্তিত্বের কথা থাকছে দুই মলাটের মাঝে।
জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৮৮ সালে। এসএসসি. পাশ করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, এইচএসসি-রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বর্তমানে কর্মরত আছেন কক্সবাজার জেলায়।
লেখালেখি শখের বসে, অনুবাদ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম প্রকাশিত বই আদী প্রকাশন থেকে-ট্রল মাউন্টেন। সেই সাথে রহস্য পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।
অনেকদিন পর নন-ফিকশন পড়া হল৷ আশা করি বইটা লেখকের জন্য মাইলফলক হিসেবে থাকবে। চিকিৎসাক্ষেত্রের বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং রোগ নিয়ে এই বইটি এবং সেগুলোর সাথে রিলেটেড মেডিকেল হিস্ট্রি এবং চিকিৎসার পদ্ধতিও দেয়া আছে। ডাক্তার কিংবা সাধারণ পাঠক সবার বুঝতে পারবে সহজে। মানুষের অদ্ভুত সব সমস্যা যেগুলো আমরা সাধারণ মানুষজন রোগ হিসেবে বিবেচনা করতাম না সেগুলো মেডিকেলের ভাষায় কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তার কিছু প্রতিফলন এই বইয়ে দেখেছি। বইটি তিন ভাগে বিভক্ত, প্রথম ভাগে বেশ কিছু রোগ নিয়ে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভাগে মেডিকেল ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত বিখ্যাত কিছু মানুষকে নিয়ে এবং মেডিকেল ইতিহাসের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে বলা হয়েছে, তৃতীয় ভাগে বলা হয়েছে বেশ কিছু উপাদান বা পদার্থ নিয়ে যেগুলো মেডিকেল ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। বইটা বেশ গুছানো, সাধারণ মানুষও সহজে বইটা বুঝতে এবং পড়তে পারবে। আশা করি এই রিলেটেড বই সামনে আরো আসবে এবং কিছুটা বড় পরিসরে, আরেকটু বিস্তারিত।
নন ফিকশনে জনরার বই, বিভিন্ন রেয়ার মেডিকেল কেস নিয়ে। কিন্তু বর্ণনার গুণে আর বিষয় বস্তু বাছাইয়ের মুন্সীয়ানায় ফিকশন বইয়ের মতই পাঠে আরাম পাওয়া যায়। এছাড়াও আছে পুরাণের আলোয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত কিছু ইন্টারেস্টিং গল্প। আর বইয়ের নামের ব্যপারে বলতেই, বইটা পড়ে শেষ করার পর বইয়ের নামটাকে অনেক বেশী রিলেটেবল আর সার্থক মনে হবে যে নন ফিকশন বইয়েরও এমন সুন্দর অর্থবোধক কাব্যিক নাম দেয়া যায়।
এই বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে প্রথম পড়া বই। লেখকের নাম দেখেই অনেকে চিনতে পারবেন। ভদ্রলোক মোটামুটি কিংবদন্তিতে পরিণত হইছেন। মেলায় তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে দাঁড়াইলে দেখা যায় গুণমুগ্ধ ভক্তরা তাকে সালাম দেন। আমি নিজেও তার গুণমুগ্ধ। প্রথমত তার সাবলীল অনুবাদের। ড্যান ব্রাউনের অরিজিন আমি পড়ছিলাম বা পড়ব সিদ্ধান্ত নিছিলাম যখন দেখলাম ফুয়াদ আল ফিদাহ অনুবাদ করবেন।
সে যা-ই হোক। এই বইয়ের নামটা দেখে ভাবছিলাম সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে হয়ত আলাপ করছেন। উল্টানোর সময় দেখলাম শুরুর লেখাটার নাম 'জেরুজালেম সিনড্রোম'। তো ভাবলাম সেমেটিক বিশ্বাস থেকেই আলাপ শুরু করছেন মনে হয়। পরে ভূমিকা পড়ে দেখা গেল বইটা মোটেও অমন কিছু না। মূলত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছু বিষয় নিয়ে লেখা। তিন ভাগে মোট ১৮টা নিবন্ধ আছে। প্রথম পর্বেরগুলো রোগ নিয়ে। দ্বিদীয় পর্বের ছয়টা লেখা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে। তৃতীয় পর্বকে 'বিবিধ' বলা যায়।
বইটার প্রথম ইতিবাচক দিক এর বর্ণনার ধরন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানা বিষয় যেখানে আছে, আম পাঠকের জন্য সেটা কঠিন হবার কথা। কিন্তু লেখক যখন ফুয়াদ, পাঠক তো ফিদা হবেই। খুব সহজ আর আলাপী ভাষায় লেখার কারণে বুঝতে সমস্যা হয় না। তাছাড়া গল্পের মতো করে তীর্থে গিয়ে মানুষের হারিয়ে যাওয়া, অদ্ভুত হাসির রোগের সঙ্গে নরমাংস ভক্ষণের সংযোগ, নিউটনের পাগলামি, কুইনিন আবিষ্কারের আগেও তার ব্যবহার, 'নকল ওষুধ' খেয়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয় পাঠককে আমোদিত করার পাশাপাশি তথ্যও দেয়। বিশেষত মানিসক রোগ আর শারীরিক রোগের মধ্যে সংযোগ বা কখনো যে রোগ নির্ণয়ে ডাক্তারের ভুল হতে পারে সেটাও এ বই পড়ে হয়ত কোনো হবু ডাক্তার উপলব্ধি করে সতর্ক হতে পারবেন।
কাদামাটির গোলকধাঁধায় এক বসায় পড়ার মতো বই। তবে এ বই রেখে দেয়ার মতোও। কেননা এর অনেক তথ্য পরে নানা কাজে লাগতে পারে। সাধারণত নন ফিকশন যারা পছন্দ করেন, বিচিত্র বিষয়ে যাদের আগ্রহ, তাদের জন্য বইটা উপভোগ্য ও প্রয়োজনীয় হতে পারে।
অদ্ভুত সুন্দর একটা নন ফিকশন বই।গল্পে গল্পে যেভাবে মেডিকেলের অদ্ভুত রোগগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে তা লেখকের জন্য প্রশংসা প্রাপ্য।মেডিকেলের দিকে হওয়ায় বেশি করে উপভোগ করেছি ঘটনাগুলো।কিছু জিনিসে আনন্দ পেয়েছি আবার কিছু জিনিস পড়ে শিহরিত হয়েছি।
কাঁদামাটির গোলকধাঁধা ২ এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি।
বাঙালি পরিবারের শখ নাকি মধ্যবিত্ত নাকি পৃথিবীর বহু মানুষের ইচ্ছা বলবো বুঝছি না আর সেটা হলো সন্তানকে ডাক্তার হিসেবে দেখা। অনেকে তো সন্তান জন্মের আগেই ঠিক করে ফেলে যে ছেলে হোক বা মেয়ে হবে তো ডাক্তারই। বইয়ে লেখকের "ভূমিকা" অংশ পড়ে নিজের অতীতে ফিরে গেছিলাম। মনে পড়ে গেছিল এইচএসসি পরীক্ষার আগে ও এডমিশনের আগে-পরের সময়কার কথা। লেখক সাহেব সাদা কোটের বাঁধায় পড়ে গেছেন। তবে আমি নিজেকে এই সময় কীভাবে বাঁচিয়েছিলাম মনে পড়লে এখনও হাসি পায়। যাইহোক, রোগশোক বা হাসপাতাল বা ঔষধ এসব ভালো না লাগলেও বিভিন্ন রোগ, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রতিষেধক ও ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা পড়তে ভালো লাগে। আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি রহস্যময় বস্তু হলো মানব শরীর ও মনস্তত্ব। ডা. শাহাদুজ্জামানের লেখা "একটি হাসপাতাল একজন নৃবিজ্ঞানী কয়েকটি ভাঙ্গা হাড়" পড়ে আগ্রহ আরও বেড়ে গেছিল। মাশুদুল হকের "অসচরাচর" সিরিজ পড়ে বেশ মজা পেয়েছি। তাই যখন "কাদামাটির গোলকধাঁধায়" বইয়ের প্লট ও জনরা সম্পর্কে জেনেছি টুক করে উইশলিস্টে টুকে রেখেছিলাম। অবশেষে পড়েও ফেললাম। তো কেমন অভিজ্ঞতা হলো এবার বলি।
১২৮ পৃষ্ঠার পিচ্চি একটা বই পড়তে কতোই বা সময় লাগবে ভেবে শুরু করেছিলাম। কিন্তু না বাবা, ডকুমেন্টারি আমার পক্ষে দ্রুত পড়া সম্ভব না। রয়েসয়ে চিন্তাভাবনা করে পড়ার মতো একটা বই। বইয়ে উল্লেখিত অধিকাংশ রোগ পরিচিত হলেও নাম অজানা ছিল। কিছু নাম তো ব্যাপক জটিল। যত জটিল নাম ততই জটিল রোগ। বইকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১ম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে জেরুজালেম সিন্ড্রোম, কনজেনিটাল অ্যানালজেসিয়া, মরজেলনস ডিজিজ, অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিকারিয়া, মধুমেহ, কুরু ও প্লাসিবো ইফেক্ট রোগের সিম্পটম, কেস হিস্ট্রি, উৎপত্তি ও ইতিহাস। সারা পৃথিবীতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মধুমেহ বা ডায়াবেটিস। অসচেতনতা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য যে কতোটা ভয়াবহ আগে জানা ছিল না। কুরু নিয়ে সম্ভবত একটা মুভি দেখেছিলাম কয়েকবছর আগে তবে রোগের নামটা জানা ছিল না। প্লাসিবো ইফেক্ট আমার মনে হয় কমবেশি আমাদের সবার জীবনেই কখনো না কখনো হয়েছে।
২য় পর্বে আছে দণ্ডটা কিন্তু অসক্লেপিয়াসের, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক, হ��তে নিয়ে আলোকবর্তিতা, টাইফয়েড মেরি, চিকিৎসাশাস্ত্রে ইসলামি সভ্যতার অবদান ও নিউটনের পাগলামি। যে সকল ব্যক্তিবর্গ চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান রেখেছেন, বিভিন্ন সভ্যতার চিকিৎসা ও মিথের সাথে বিজ্ঞানের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
৩য় পর্বে লেখক বলেছেন ম্যালেরিয়া এবং কুইনিন, ইনসুলিনের ইতিবৃত্ত, রঙিন মৃত্যু, সর্বরোগের মহৌষোধ ও হাজার শিশুর জীবন বাঁচায় শিরোনামে এমন কিছু আবিষ্কারের কথা যা মানবজাতির ইতিহাস পালটে দিয়েছেন। স্যালাইনের গুরুত্ব ও এর পিছনে কাজ করা ব্যক্তি-সংস্থার কাজ পড়ে অবাক হয়েছি। মহামারীকালে কেউ কি ভাবতে পেরেছিল একদিন স্যালাইন কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর কারণ হবে?!
বইয়ে বিভিন্ন সময়কাল, মিথ, কেস, ব্যক্তি ও বিষয়বস্তুর সাদাকালো ছবি আছে। বুঝতে সুবিধা হয়েছে। শেষে সোর্স ও জার্নালের রেফারেন্সও আছে। কুসংস্কারের জন্য প্রতিবছর বহু জীবন চলে যায়। মেডিকেল ডকুমেন্টারি ও রিলেটেড বইগুলো এই অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ-প্রতিরোধ হতে পারে। গল্পচ্ছলে লেখার দরুন পড়তে পেরেছি আরামসে। সিরিজের বাকি বইগুলোর পড়ার ইচ্ছে আরও বেড়ে গেলো।
নিক পিরোগের লেখা থ্রি এ এম সিরিজ পড়েছেন? পড়লে নিশ্চয়ই হেনরি বিনসের কথা মনে আছে? যে ২৪ঘন্টায় মাত্র এক ঘন্টা জেগে থাকতে পারতো। বলুন তো সেই সিরিজের সবথেকে বেশি থ্রিল দেয় কোনটা? আমার মতে গল্পের পাশাপাশি তার ১ঘন্টা জেগে থাকার অদ্ভুত রোগই আমাদের বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে সিরিজটির প্রতি। তার সেই এক ঘন্টা জেগে থাকার সেই অদ্ভুত রোগের লেখক নাম দিয়েছেন হেনরি বিনস।
এমন রোগ কী আদৌ আছে বাস্তবে! সেই খবর আমার জানা না থাকলেও তেমনই আকর্ষণীয় আর অদ্ভুত সব রোগ নিয়ে যদি পড়তে চান, জানতে চান তবে ডা. ফুয়াদ আল ফিদাহ লেখা 'কাদামাটির গোলকধাঁধায়' চমৎকার একটা বই হবে। লেখক এখানে এমনই সব অদ্ভুত রোগের আলোচনা করেছেন যার পৃথিবীতে অস্তিত্ব আছে।
মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এই রহস্যময় মানবদেহ, যা তৈরি কাঁদামাটি থেকে। কত কী যে এই দেহ নামক যন্ত্রটি ধারণ করে আছে তা বলার বাইরে। অথচ চিকিৎসকদের প্রায়শই হারিয়ে যেতে হয় কাদাঁমাটির গোলকধাঁধায়। সেই গোলকধাঁধার অসংখ্য রহস্যময় বাসিন্দা থেকে লেখক তুলে এনেছেন কিছু গল্প, রোগের, সেই রোগে আক্রান্ত মানুষদের, কিছু আবিষ্কারের, কয়েকজন মহান ব্যক্তিত্বের।
রোগবালাই এর আলোচনা আসলেই আমার মতো আমজনতার প্রথমেই চোখে ভেসে উঠে কঠিন কঠিন সব নাম, বর্ণনা আর সেখানে বইয়ের কথা বললে ভাষা নিয়ে তো সন্দিহান হতেই হয়। বইটা পড়া শুরুর আগ পর্যন্ত আমার মাঝেও তার ব্যতিক্রম ছিলো না, কিন্তু পড়া শুরু করার পর দেখলাম, না লেখক জটিল জটিল থিওরি তো কপচাইনি, উপরন্তু আলোচনা করেছেন একেবারে সহজ সাবলীল ভাবে, কিছুটা গল্পের ছলে। অনেক রোগির কেস স্টাডি গুলোও তুলে ধরেছেন ফিকশনের আদলে।
সম্পূর্ণ বইটি তিন ভাগে বিভক্ত। যেখানে প্রথম ভাগে স্থান পেয়েছে জেরুজালেম সিন্ড্রোম, কনজেনিটাল অ্যানালজেসিয়া, মরজেলনস ডিজিজ, অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিকারিয়া, কুরুর মতো আমার মতো আমজনতার না জানা রহস্যময় আকর্ষণীয় রোগের বর্ণনা, উৎপত্তি, কেসস্টাডি, ইতিহাস। তেমনই আছে আমাদের পরিচিত ডায়বেটিস নিয়ে নানান জানা অজানা তথ্য, কিংবা প্লাসিবো ইফেক্টের মতো অদ্ভুত চমকে দেওয়ার মতো চিকিৎসা পদ্ধতির বর্ণনা।
দ্বিতীয় পর্বে লেখক আলোচনা করেছেন চিকিৎসা শাস্ত্রের সাথে জড়িত মিথের চরিত্র, আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক, চিকিৎসা শাস্ত্রে ইসলামি সভ্যতার অবদান, টাইফয়েড মেরির রোগ ছড়ানোর গল্প আর নিউটনের বিষণ্ণতার বর্ণনা। এই অংশের চিকিৎসা শাস্ত্রে ইসলামি সভ্যতার অবদান শিরোনামে লেখাটা আরো বিস্তারিত তথ্য সংবলিত হলে ভালো হতো।
আর শেষ পর্বে লেখক আলোচনা করেছেন কিছু আমাদেরই পরিচিত রোগ আর তার চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে, কিছু আবিষ্কারও যে রোগের সৃষ্টি করে তার বর্ণনা, আর সর্বশেষ আমাদের দেশেরই আবিষ্কার ওরস্যালাইনের গল্প, যে ওরস্যালাইন ৫ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।
কাদামাটির গোলকধাঁধায় বইটি নন-ফিকশনের আদলে সর্বশ্রেণীর পাঠক যাতে বুঝতে পারে সেই ভাবেই চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের এক অন্যন্য সংযোজন, যা পড়তে গিয়ে সময় কোনদিক দিয়ে পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। বইটার জুলিয়ানের প্রচ্ছদটা দৃষ্টিনন্দন, আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। প্রোডাকশন ভালো হলেও খুলে পড়তে বেশ অসুবিধাই হচ্ছিল।
অনেক গল্পের ভিড়ে এই একটা non-fiction পড়ার সুযোগ হল। ৩ পর্বে ভাগ করা বইটাই প্রথম পর্বে আছে বিভিন্ন উদ্ভট রোগের কথা। প্রথম পর্বটাই সবচেয়ে মজার ছিল। বিভিন্ন উদ্ভট উদ্ভট রোগের নাম, উৎপত্তি, চিকিৎসা সম্পর্কে লিখা। এগুলোর বেশির ভাগই আমরা tv series বা movie থেকে জানলেও, এখানে Hisotry টা সহ দেওয়ায় বেশি ভালো লেগেছে।
পর্ব ২ আর ৩ এর মধ্যে ২ টা better ছিল কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখাটা একটু challenging ছিল। এটাই non-fiction এর সমস্যা। এত facts and information এর জন্য concentration ধরে রাখাটা কঠিন হয়।
মানবদেহ যেন গোলকধাঁধার চেয়ে কম কিছু নয়। বিজ্ঞানের ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধনের পরেও চিকিৎসকদের প্রতিনিয়তই অদ্ভুত সব সমস্যা ও সমাধানের মুখোমুখি হতে হয়। একেকটি রোগ কিংবা একেকজন রোগীর থাকে নিজস্ব কিছু গল্প, যা যথেষ্ট চমকপ্রদ ও রোমাঞ্চকর। চিকিৎসাবিজ্ঞান তাই অনেকাংশেই চিকিৎসক কিংবা গবেষকদের এই অদ্ভুত গোলকধাঁধায় প্রতিনিয়ত নাজেহাল হওয়ার গল্প। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অদ্ভুত কিছু রোগ, কয়েকজন মহান ব্যক্তিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবিষ্কার- মোটাদাগে এই তিন ভাগে সাজানো হয়েছে ‘কাদামাটির গোলকধাঁধায়’ বইটি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দারুণ এসব আবিষ্কারের সহজ-সরল বর্ণনা একদিকে সাধারণ পাঠকদের যেমন চিকিৎসাবিদ্যা সম্পর্কে কৌতূহলী করে তুলবে, তেমনি চিকিৎসা পেশা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দারুণ প্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।