"Why do you want to climb Mount Everest?"
"Because it's there."
পর্বত সুন্দর, একই সাথে রোমাঞ্চকর ও প্রাণ*সং*হারী। পর্বত নিয়ে আমার একটু ভ*য়ই কাজ করে। ম্যালরি বা এভারেস্ট নিয়ে তাই আমার মাথাব্যথা ছিল না, তাও বইটা কিনে নেওয়ার কারণ এক বন্ধুর সাজেশন।
কনরাড এংকার ও ডেভিড রবার্টস এর "The Lost Explorer" বাবর আলী ও সুদীপ্ত দত্তের কলমে প্রতিবর্ণায়ন হয়েছে "ম্যালরি ও এভারেস্ট" নামে। ৭৫ বছরের ব্যবধান হওয়া দুটো ভিন্ন এভারেস্ট অভিযান নিয়ে এই বই। মানুষের এভারেস্ট জয়ের তোড়জোড় শুরু ১৯২১ সালে। সেবার অবশ্য রংবুক গ্ল্যাসিয়ার থেকে আরো উপরে ওঠার সম্ভাব্য রুট খুঁজে পাওয়ার সফলতার সুরে শেষ হয় অভিযান। সেবারই এভারেস্টের সাথে জুড়ে যায় ম্যালরির নাম। ১৯২২ সালে আরো দুইবার এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা চালান ম্যালরি। ওই বছরের ২১ মে নরটন, সামারভেল ও ম্যালরির কল্যানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬০০০ ফুট উচ্চতায় মানুষের পদচিহ্ন পড়ে। এর দুইদিন পর অবশ্য তার দলের জিওফ্রে বুশ ও জন ফিঞ্চ কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্যে উঠেন ২৬৫০০ ফুট। জুন মাসের বর্ষায় আরেকবার সামিট পুশের চেষ্টা করলেও অ্যাভালঞ্চের মুখে সাতজনকে এভারেস্টের কাছে ব*লি দিয়ে শেষ হয় সেই অভিযান।
"মাউন্ট এভারেস্টের পুরো সামিট রিজ আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম-সেই সাথে পর্বতের চূড়াও। চূড়া থেকে খানিকটা নিচে একটা বরফঢাকা ঢাল চোখে পড়ল যেটা পিরামিডের দিকে এগিয়েছে। সেই ঢালের উপরে একটা ছোট্ট বিন্দু যেন পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের পাথুরে ফলকের দিকে। এরপর সেই বিন্দুকে অনুসরণ করে এগিয়ে গেল আরেকটি বিন্দু।"
৮ই জুন, ১৯২৪ সালে ১২:৫০ নাগাদ ২৬০০০ ফুট উচ্চতা থেকে শেষবার ম্যালরি আর আরভিনকে দেখেছিলেন নোয়েল ওডেল। এরপর তাঁরা হারিয়ে যান চির তুষারের দেশে। আর জন্ম দিয়ে যেন এক অমীমাংসিত রহস্যের-হারিয়ে যাওয়ার আগে কি এভারেস্টের চূড়া ছুঁয়েছিলেন এই জুটি?? ১৯৩৩ সালে চুড়ার ২৫০ গজ নিচে পাওয়া একটি আইস এক্স বা ১৯৭৫ সালে এক এভারেস্ট অভিযানে ওয়াং হংবাও এর দাবী করা পুরানো ইংরেজ ক্লাইম্বারের মৃ*ত*দেহ রহস্যে জ্বালানি দেয় আরো। ১৯৮৬ সালে টম হোলজেল চেষ্টা করেছিলেন এই রহস্যের কিনারা করতে। তবে প্রকৃতি তাতে বাঁধ সাধে। তারপর ইয়োখেন হেমলবের ইচ্ছেতে ১৯৯৯ সালে তৈরি হয় আরেকটি অভিযান দল।
বইটি দুইজনের লেখা, অনুবাদও দুইজনের। কনরাড লিখেছেন উত্তম পুরুষে আর রবার্টসের নাম পুরুষে। দুইজনের লেখনীর পার্থক্য বইয়ে স্পষ্ট। কনরাড যেহেতু নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তাই তার অংশটা বেশ প্রাণবন্ত। ম্যালরির ১৯২৪ এর অভিযানের সময় ছিল না কোন কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা। সেই সামিট টিমের অন্যদের অভিজ্ঞতাকে টুকরো টুকরো ম্যালরির অভিযানকে বর্ণনা করেছেন রবার্টস। তাই, কনরাডের তুলনায় তাঁর লেখা একটু নীরস। এই ধরণের বইয়ে মানচিত্র না থাকাটা একটা ক্রাইম৷ অনুবাদকদ্বয় চাইলেই বইয়ে মাউন্ট এভারেস্টের উত্তরদিকের রুটের একটা মানচিত্র জুড়ে দিতে বইটাকে আরো সহজবোধ্য করতে পারতেন।
কনরাড ১৯৯৯ এ এভারেস্ট সামিট করেন। এভারেস্টের দ্বিতীয় স্টেপ ফ্রি ক্লাইম্বিং এর চেষ্টা করে অনুমান করতে চেয়েছিলেন ম্যালরি-আরভিনের সামিটের সাফল্যের সম্ভাবনা। তারা খুঁজে পেয়েছিলেন ম্যালরির দেহাব*শেষও। দুই সময়ের প্রযুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কনরাড দাবি করেন ম্যালরিদের অভিযান শেষ হয়েছিল ফার্স্ট স্টেপেই। অবশ্য এই ধাঁধার মীমাংসা তাতেও হয় নি। কারণ, অকাট্য প্রমাণ ম্যালরির কোডাকের ভেস্টপকেট ক্যামেরা এখনো চাপা পড়ে আছে এভারেস্টের তুষারের তলে।
(সংযোজন: গতবছর বুটসহ আরভিনের পায়ের একটি অংশ পাওয়া গিয়েছিল)