Jump to ratings and reviews
Rate this book

বুনো #2

নিনাদ

Rate this book
ক্যাপ্টেন কায়সার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেল বন রক্ষক দলে। শান্ত সুন্দরবনে কোনো ঝামেলা নেই, নেই বিশৃঙ্খল বা অনৈতিক কাজ। পশু-পাখির দল দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে চারপাশে। আসলেই কি তাই?
ডিপ ইকোলজির সদস্যরা ভাওয়াল গড়ে আক্রমনের শিকার, প্রাক্তন শিকারি সরওয়ার পাঠানের মনে শঙ্কা জাগে।
অতর্কিত হামলা-বোট বিস্ফোরণে হারিয়ে গেল কায়সার। প্রানী বিশারদ আদনান প্রেক্ষাপট হাজির, সঙ্গে রহস্যময় এক সঙ্গী, মনি মিয়া; বিচিত্র তার পেশা ও নেশা।
সিলেটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাটির নিচে গোপন সুরঙ্গ। কী খেলা শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়ে?
রাঙামাটির দূর্গম অঞ্চলে ছুটল সবাই। আদিবাসী সর্দারের ছেলের ক্ষত-বিক্ষত দেহের কারণটা অদ্ভুত; এক শ্বেত-শুভ্র মায়াবী প্রানী! গর্জনে তার বজ্র নিনাদ! ভেসে আসছে শ্বাপদের হুংকার। পাহাড় থেকে নামছে বৃষ্টির ঢল। বিপর্যয় আঘাত হানল বলে.,,
এ অসম যুদ্ধে জেতা অসম্ভব।
... কখনও কখনও পুরনো শত্রুরাও যে বন্ধুরূপে ফিরে আসতে পারে।
বন্যপ্রানীদের বোবা জগতে কিছু মানুষরূপী জানোয়ারের হিংস্র ও নির্মম রূপ দেখতে পাবেন নিনাদ এ।

352 pages, Hardcover

Published February 2, 2023

4 people are currently reading
39 people want to read

About the author

Bappy Khan

25 books233 followers
An Author, Musician & Media Worker.

Facebook:

Profile: https://www.facebook.com/BPBappykhanbp/

Page:
https://www.facebook.com/worksbybappy...

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (23%)
4 stars
18 (46%)
3 stars
11 (28%)
2 stars
1 (2%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Rakib Hasan.
462 reviews80 followers
February 9, 2023
সম্প্রতি পড়া হল বাপ্পী খানের লেখা 'নিনাদ', যারা লেখকের অন্ধকার সিরিজ কিংবা হিমঘুম পড়েছেন তারা লেখকের লেখনী সম্পর্কে ইতোমধ্যে জানেন। বাপ্পী ভাইয়ের আগের লেখাগুলোর কারনে এই বইটি নিয়ে যে এক্সপেকটেশন ছিল তা পুরোপুরি পূরণ হয়েছে। যদিও হিমঘুম সিরিজের বই এটি কিন্তু জনরা কিংবা কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা। বইটি পড়ার জন্য আগের বইটি পড়া জরুরি নয়। হিমঘুম মার্ডার মিস্ট্রি হলেও এই বইটা অ্যাডভেঞ্চার এবং ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে বিবেচনা করা যায়। টুইস্ট নির্ভর বই না হলেও সুন্দর বর্ণনার কারনেই বইটা বেশি ভালো লেগেছে। বাস্তব জীবনের কিছু চরিত্র এবং ঘটনা দিয়ে লেখক বইটি লিখেছেন যার কারনে অনেকগুলো তথ্যও জানা যায়। বইয়ের মূল চরিত্রগুলো বাস্তব জীবনে আছে এবং অনেকের কাছে পরিচিতও। বাস্তব জীবনেই অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় কিছু মানুষদের দূর্লভ প্রাণী পাচার রোধের প্রচেষ্টার প্রয়াস এই বইটি। বইয়ের শেষে এই সিরিজের পরের বইয়ের ব্যাপারে হিন্টস দেয়া আছে। সুন্দরবন এবং পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চার ভালোই কেটেছে বইয়ের সাথে, অনেকগুলো চরিত্রের সমাহার ছিল বইটিতে কিন্তু কাহিনীর প্রয়োজনে দরকার ছিল সবাইকেই। আমার কাছে সবমিলিয়ে বইটা বেশ ভালো লেগেছে, শিকার কাহিনী নিয়ে আগে থেকেই ইন্টারেস্ট ছিল, বইটা ভালো লাগার পিছনে আরেকটা কারন সেটাও। সেবা প্রকাশনীর শিকার কাহিনী যারা পড়েছেন সারোয়ার পাঠানের নাম কারও অজানা থাকার কথা নয়, এই বইটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে এবং আমার কাছে এই ব্যাপারটাও ভালো লেগেছে। কারো অ্যাডভেঞ্চার ভালো লাগলে এই বইটা ভালো লাগবে আশা করি।

এক নজরে,
নিনাদ- বাপ্পী খান
বাতীঘর প্রকাশনী
মূল্যঃ ৫৮০

'ক্যাপ্টেন কায়সার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেল বন রক্ষক দলে।
শান্ত সুন্দরবনে কোনো ঝামেলা নেই, নেই বিশৃঙ্খল বা অনৈতিক কাজ। পশু-পাখির দল দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে চারপাশে। আসলেই কি তাই?

ডিপ ইকোলজির সদস্যরা ভাওয়াল গড়ে আক্রমনের শিকার, প্রাক্তন শিকারি সরওয়ার পাঠানের মনে শঙ্কা জাগে।

অতর্কিত হামলা-বোট বিস্ফোরণে হারিয়ে গেল কায়সার। প্রানী বিশারদ আদনান প্রেক্ষাপট হাজির, সঙ্গে রহস্যময় এক সঙ্গী, মনি মিয়া; বিচিত্র তার পেশা ও নেশা।

সিলেটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাটির নিচে গোপন সুরঙ্গ। কী খেলা শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়ে?
রাঙামাটির দূর্গম অঞ্চলে ছুটল সবাই। আদিবাসী সর্দারের ছেলের ক্ষত-বিক্ষত দেহের কারণটা অদ্ভুত; এক শ্বেত-শুভ্র মায়াবী প্রানী! গর্জনে তার বজ্র নিনাদ! ভেসে আসছে শ্বাপদের হুংকার। পাহাড় থেকে নামছে বৃষ্টির ঢল। বিপর্যয় আঘাত হানল বলে.

এ অসম যুদ্ধে জেতা অসম্ভব।

... কখনও কখনও পুরনো শত্রুরাও যে বন্ধুরূপে ফিরে আসতে পারে।

বন্যপ্রানীদের বোবা জগতে কিছু মানুষরূপী জানোয়ারের হিংস্র ও নির্মম রূপ দেখতে পাবেন নিনাদ এ।'
Profile Image for Sazid Shahriar.
16 reviews4 followers
February 26, 2023
অনেক বেশি কিছু হয়ে গেছে এই এক বইয়ে যেটা মাঝেমধ্যেই বিরক্তিকর লেগেছে :৩
ব্যক্তিগত মত যে এটাকে আর "মিল্কিং" না করলেই ভালো হবে!
Profile Image for Md Abdul Kayem.
186 reviews3 followers
March 15, 2023
কক্সবাজারের হারবাং এক বুনো এলাকা। যেখানে বৃষ্টি হলেই নেমে আসে বুনো শূয়োর, হরিণ, বানর, অজগর-গুইসাপসহ নানান সব সরীসৃপ পানির তৃষ্ণা মেটাতে। আর আসে হাতির পাল। তেমনি বিশদিন আগে নেমে আসা এক হাতি মারা গেলো ক্ষেতের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। শুধু কি তাই! গত পনেরোদিন আগেও পিটিয়ে মারা হলো আরো একটি। কেন? তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে গেলেন চট্টগ্রামের স্থানীয় এক সাংবাদিক নাদিম।

বিস্তীর্ণ জলরাশি,  তার কুল ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে এক মনোরম প্রাকৃতিক বন। তেমনিই এক মনোরম পরিবেশে এক লোকের হাতদুটো পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থাতেই গুলি করে দিলো কিছু লোক, তারপর ফেলে গেলো লবণাক্ত পানি ঘেষে, গুলিবিদ্ধ আধমরা সেই লোকটির দিকে ধেয়ে আসছে দুটো কুমির, মৃত্যু খুব বেশি আর দূরে নেই। কেন এভাবে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে গেলো তাকে দূর্বৃত্তরা!

ক্যাপ্টেন কায়সার, হিমঘুমের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এখন কাজ করছে বন রক্ষকের সাথে। শান্ত সুন্দরবনে সুন্দরদিনগুলোর মাঝেই হঠাৎ করে কায়সার আবিষ্কার করলো বাঘ পাচার হচ্ছে বন থেকে, যা জেনে ফেলার কারণে কারা যেনো বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা চালালো তাকে।

ভাওয়ালের শীতলক্ষ্যা নদী ঘেঁষা বনে এবার এসেছে ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ ফাউন্ডেশন, সাথে আছেন বিখ্যাত বেশ দাপুটে শিকারী সরওয়ার পাঠান। ভাওয়ালের বনে তাদের চোখে ধরা পরে এক অদ্ভুত চিত্র। কিছু লোক ফাঁদ পেতে ধরেছে এক মেছোবিড়াল পরিবারকে। বাঁধা দিতেই গুলি করে দিলো বাপ্পিকে। সাথে হত্যা করে গেলো মেছোবিড়াল পরিবারকে। কারা এরা!
শুধু কি তাই! রাঙামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দরবন, সিলেটসহ দেশের প্রতিটি জায়গা থেকেই প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে বন্যপশু, সাথে শুরু হয়েছে  মানব পাচারও। অথচ ক্ষমতার দাপটে যখন রক্ষক হয়ে দাঁড়ায় ভক্ষক,  তবে বাঁধা দিবে কে?

'হিমঘুম' থেকে জেগে উঠেছে পুরোনো শত্রুরা, এসেছে নতুন শত্রু। সময়ই বলে দিবে আসলেই কে বন্ধু কিংবা কে শত্রু।


বাপ্পী খানের হিমঘুম বইটা পড়ে আমার দারুণ ভালো লেগেছিলো। 'নিনাদ' সেই হিমঘুমেরই পরের অংশ। যেখানে লেখক গল্পের ছলে তুলে এনেছেন ভয়ংকর এক সত্যকে। সারা দেশের বনাঞ্চল, বন্যপশুর একাল সেকাল, বন্যপশুর প্রতি মানুষের মনোভাব। আর সেই মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী লোকের বনাঞ্চল উজাড় করে দিয়ে আমাদের যে ক্ষতি করে দিচ্ছে তাই তুলে এনেছেন লেখক। এবং কি গল্পের এই মূল বিষয়টিকে সামনে রেখেই লেখক নামকরণ করেছেন 'নিনাদ' যা সার্থক নাম বলা যায়।

গল্পের ছলে চেষ্টা করেছেন মানুষকে বন্যপ্রাণী নিয়ে সচেতন করতে। সেই সাথে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া বন্যপ্রাণীদের নিয়ে নানান সব বিচ্ছিন্ন মর্মান্তিক সত্য ঘটনাকে গল্পে এনে তার সাথে প্রতিটি ঘটনার একটা যোগসূত্র তৈরি করেছেন লেখক, যা আমার খুব ভালো লেগেছে। সেই সাথে বন্যপ্রাণী, বনাঞ্চল নিয়ে জেনেছি অনেক নির্মম কিছু সত্যের।

বইটির সম্পূর্ণ কাহিনিই এগিয়েছে একই ছন্দে, তবে সেই ছন্দ আমার কাছে অনেকটাই ধীর গতির লেগেছে। লেখক তার গল্প উপস্থাপনে, গল্পের মঞ্চায়ন বেশ বড়োসড়ো ভাবেই তৈরি করেছেন, ফলে বারংবার দৃশ্যপট বদলে যাওয়া এবং প্রয়োজনে অনেক চরিত্র ব্যবহারের ফলে মাঝে মাঝে হাবুডুবুও  খেতে হয়েছে অনেক।

বইয়ের সব ষড়যন্ত্রের মূলহোতা হলো জাহিদ হাসান, নামটা উচ্চারণ করে দেওয়ায় কিছু মনে  হওয়ার দরকার নেই, কেননা বইটি পড়া শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা আপনি নিজেই জেনে যাবেন, বরং গল্পটা পাঠককে টেনে নিয়ে যাবে তার সাথে অন্যদের ইদুর বিড়াল প্রতিযোগিতায়। রিভিউতে এই নামটা উচ্চারণ করে ফেলার কারণ হলো, বইয়ে লেখক এই চরিত্রকে ঠিক যেভাবে প্রভাবশালী ভাবে তুলে আনতে চেয়েছেন তা জুতসই লাগেনি আমার কাছে । কাউকে সন্দেহ হওয়া মাত্রই তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা, সবসময় সবখানেই তার দেখা যাওয়া এবং কি একজন মধ্যবয়স্ক প্রভাবশালী লোক অনায়সে পাহাড়ি বনে পাহাড়ি দলের সাথে দৌড়ে বেড়াচ্ছে বিষয়টা আমার অনেক বেশি দৃষ্ট��কটু লেগেছে।

তবে হ্যাঁ, সবকিছু বাদ দিয়ে যদি বনাঞ্চল, বন্যপশু হত্যা-পাচার এবং আদিবাসীদের নিয়ে যে রাজনীতির বিষয় যেভাবে লেখক অনায়েসে নিরদ্বিধায় তুলে এনেছেন, তা প্রশংসা করতেই হয়। তাছাড়া বইটি যারা পড়বেন তাদের মাথায় রাখা উচিত যে বইটি টুইস্ট  নির্ভর নয়, বরং ওয়েল্ডলাইফ, অ্যাডভেঞ্চার মার্ডার মিস্ট্রি বলা যায়।

বইটি হিমঘুমের পরবর্তী খন্ড হওয়াতে বইয়ে হিমঘুমের স্পয়লার আছে, অবশ্য যে অধ্যায়ে আছে তাতে লেখক আগেই ওয়ার্নিং দিয়ে দিয়েছেন, এবং সেই অংশটি এড়িয়ে গেলেও ক্ষতি নেই। আর যদি  হিমঘুম এবং নিনাদকে পাশাপাশি দাঁড় করান তবে আমি হিমঘুমকেই এগিয়ে রাখবো।
Profile Image for Sakib A. Jami.
345 reviews41 followers
November 15, 2025
সুন্দরবন! যেখানে প্রতিনিয়ত বিপদের ওঁৎ পেতে থাকে। গভীর এই বনের বিপদসংকুল পথ পাড়ি দেওয়া খুব একটা সহজ নয়। এর ভিতরের পথ যেমন দুর্গম, তেমনি এর প্রাণীরাও হিংস্র। মানুষের তাই এমন গহীন অরণ্যে বিচরণ অসম্ভব সমতুল্য। কিন্তু এত হিংস্র প্রাণী কথা বলা হয়, তারাই কি সবচেয়ে হিংস্র? না-কি জন্তু জানোয়ারের চেয়ে সবচেয়ে বেশি হিংস্র মনুষ্য জাতি। নিজেদের লোভ চরিতার্থ করার জন্য নিজেদের আবাসের ঠিক রাখে না। এখন চোখ পড়েছে প্রাণীদের আবাসের দিকে। নিজেরা নিজেরা হানাহানি করে, নিজেদের জীবনের কোনো মূল্য নেই নিজেদের কাছে। জন্তু জানোয়ারের জীবনের মূল্য তারা কী করে দিতে পারবে? ফলে এই বনে জঙ্গলে চোরাশিকারীদের ভিড়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে অনেক প্রাণী। আর এই প্রাণ বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের।

“হিমঘুম”-এর দায়িত্ব শেষে বন ও চোরাশিকারীদের কথা জানা কায়সার সেই দিকে মনোনিবেশ করতে চায়। ধরতে চায়, যারা প্রাণীদের স্বাধীন বিচরণে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু সব তো আর নিজের ইচ্ছেতে হয় না। বন রক্ষক দলে শিক্ষানবীশ হিসেবে যুক্ত হয়ে বেশকিছু রহস্যময় বিষয় প্রত্যক্ষ করে। নীরব, নিস্তব্ধ চরে খুন করে রেখে যায় কে যেন! জেলে পরিচয় কারা যেন বাঘের বাচ্চাদের বন্দী করে নিয়ে যায়। কায়সারের হোমিসাইড মন জেগে ওঠে তখনই। কিন্তু পথে পথে বাধা। যারা এই চোরাশিকারীর সাথে যুক্ত, তারা ঠিকভাবে কাজ করতে দিবে না কিছুতেই। এই এর পেছনে আছে ক্ষমতাধর কেউ।

পশুপাখি সংরক্ষণ ও তাদের জন্য কাজ করে এমন এক সংস্থা সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে বিস্ময়কর কিছু প্রত্যক্ষ করছে। এক হাতি কেন যেন মানুষের গ্রামে আক্রমণ চালাচ্ছে, সব ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর ভয়ে আতঙ্কে গ্রামের মানুষ যে সেই হাতিকে মেরে ফেলবে না, তার নিশ্চয়তা কী? এমন অহরহ ঘটছে। কিন্তু খুঁজতে গেলে জানা যায়, কেউ একজন তার সন্তানকে বন্দী করে রাখছে। তাই এমন আগ্রাসী হয়ে উঠছে হাতি। এমন ঘটনা আরো ঘটেছে। মানুষের আক্রমণে হাতির মা রা যাওয়া, তারপর দ্রুত কবর দেওয়া, সেই কবর থেকে হাতির অবশিষ্ট হাড়গোড় তুলে পাচার করার ঘটনা কম নয়।

একদিন জানা গেল সাফারি পার্কে অজানা কোনো এক সংক্রামক রোগে অসংখ্য প্রাণী মা রা গেছে। কিন্তু কী সেই রোগ, খোলাসা করা হচ্ছে না। মাহফুজদের দল সেখানে গেলেও প্রবেশের অনুমতি মেলে না। এমনকি বন, জঙ্গলকে নিজের একান্ত আপন মনে করা শিকারী সরওয়ার পাঠানও সেখানে প্রবেশের অনুমতি পায় না। কোনো এক রহস্যের আভাস সেখানে পাওয়া যায়। কিন্তু এর সমাধান করা যাবে কীভাবে?

মাহফুজদের দলকে বন রক্ষক দলের প্রধান তার বাসায় আমন্ত্রণ জানায়, তারপর থেকেই ওরা লাপাত্তা। কোথায় হারালো জলজ্যান্ত নয়জন। অতীতের কোনো এক আক্রোশ এর পেছনে দায়ী। প্রতিশোধ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। আর এই অন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিজের আক্রোশ মেটাতেও ভুল করে না।

সুন্দরবন থেকে রাঙামাটি, বাংলার বন-জঙ্গল ঘুরে খুঁজে বের করতে হবে ধলাকে। এক প্রাকৃতিক বিস্ময়। সাদা বাঘ। সেই সাদা বাঘের বিশ্বজুড়ে চাহিদা অনেক। এই কারণেই যারা চোরাশিকারী, তাদের নজরে পড়েছে দ্রুতই। এ গল্পটা বাংলার জীবজন্তুর। এই গল্পটা তাদের সংগ্রামের ইতিহাসের। আর কিছু সাধারণ মানুষের, যারা তাদের মানবিকতায় অসাধারণ হয়ে উঠেছে। পশুপাখিদের প্রতি ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা কী করে হেরে যাবে একদল চোরাই দলের কাছে? মনোবল যখন শক্ত, তখন বিজয় আসন্ন। কিন্তু এর জন্য কতটা মূল্য চুকাতে হবে, জানা নেই।

তবে রাঙামাটির জঙ্গল কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলে মুখোমুখি এই খেলায় যুদ্ধটা হবে দুরন্ত। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে ধলা কি বাঁচবে? ফিরে পাবে তার আবাসস্থল?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

লেখক বাপ্পী খানের “হিমঘুম” বইয়ের পরবর্তী কিস্তি “নিনাদ” যেন বনের গহীনে থাকা প্রাণীকুলের আর্তনাদকে প্রতিফলিত করে। এই সিরিজ পশুপ্রেমের অনন্য নিদর্শন উপস্থাপন করেছে। বর্তমানে অর্থলোভী মানুষের কাছে নিজ স্বজাতির জীবনের মূল্য নেই। এখানে কী করে অবলা প্রাণীদের মূল্য থাকবে? অর্থের জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে মানুষদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লড়াই করা কঠিনই বটে।

“হিমঘুম” যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই “নিনাদ”-এর সূত্রপাত। তবে এই গল্পটা ছুটে চলে সুন্দরবনের গহীনে। সুন্দরবন এমন এক বিস্ময়, যার গভীরে প্রবেশ করলে অবাক হতে হয়। এখানে মানুষ ও প্রাণী একসাথে পথ চলা দৃশ্যমান হয়। জীবন এখানে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে চলে। হিংস্রতায় ভরপুর প্রাণীদের থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে প্রতিনিয়ত টিকে থাকতে হয়। এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, এসব হিংস্র প্রাণীগুলো কি মানুষদের চেয়েও হিংস্র হতে পারে?

“নিনাদ”-এর তুলনায় “হিমঘুম” বেটার ছিল। “নিনাদ”-এর সবরকম সুযোগ ছিল, দারুণ কিছু হওয়ার। কিন্তু কেন যেন ঠিক জমল না। তথ্যের আধিক্য গল্পটা আমার কাছে ফিকে মনে হয়েছে।

আমি “হিমঘুম”-এর রিভিউতে বলেছিলাম, লেখকের লেখাতে ভিজ্যুইলাজেশন একটু কম থাকে। তিনি বর্ণনা করেন ঠিকই, কিন্তু দৃশ্যগুলো যেভাবে চোখের সামনে ফুটে ওঠা প্রয়োজন ছিল তেমন হয় না। ফলে যে সংযোগ বই আর পাঠকের স্থাপিত হয়, আমার কাছে তেমনটা মনে হয় না। তাই আক্রমণ দৃশ্যগুলো তেমন ফুটে ওঠে না। এছাড়া এই আক্রমণ দৃশ্যগুলো খুব দ্রুততার সাথে ঘটে। লেখক গল্প বলার ক্ষেত্রে যতটা সময় দেন, এই বিষয়ে কেন জানি একটু তাড়াহুড়ো করেন। কিছু আক্রমণ, মৃত্যুর ঘটনা তার বর্ণনার কারণে আবেগতাড়িত হতে পারে না। অথচ সেই জায়গায় সময় নিয়ে, আবেগ নিয়ে বর্ণনা করলে পাঠকের সাথে সংযোগ স্থাপিত হয়।

এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো যে দিক, তা হলো সুন্দরবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। এর প্রাণী, এর ইতিহাস সম্পর্কে লেখক যতটা সম্ভব ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তা করতে গিয়ে তথ্যের আধিক্য বেড়েছে। যা “হিমঘুম” বইতে ছিল না। ফলে পড়ার ক্ষেত্রে একটি বিরক্তি চলে আসছিল।

আগের বইতে জন্ম নেওয়া কিছু প্রশ্নের উত্তর এখানে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই পরামর্শ থাকবে সিরিয়াল মেনে পড়ার। তাহলে উপভোগ করতে পারবেন। কেননা শত্রুপক্ষের সংযোগ এখানে আগের বইয়ের সাথে জুড়ে আছে।

এখানে কিছু বিষয় আমার অতিরঞ্জিত হয়েছে। আক্রমণগুলো যেমন দ্রুত ঘটেছে, কিছু কাকতালীয় বিষয়ও ছিল। তাছাড়া প্রতিপক্ষকে রকেট লঞ্চার দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া তামিল সিনেমায় শোভা পায়, বইয়ের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত মনে হয়। গোলাগুলি, বোমা হামলা, রকেট লঞ্চার দিয়ে আক্রমণ করার পরও পুলিশের ভূমিকা ছিল ক্ষীণ। এই জায়গায় আরো দারুণভাবে রহস্য এগিয়ে নেওয়া যেত।

শেষের দিকে অবশ্য ভালো লেগেছে। সাদা বাঘের যে বর্ণনা এই জায়গায় লেখক নিজের সেরাটা দেওয়া চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আক্রমণ-প্���তি আক্রমণের ঘটনাগুলো আরেকটু বেটার হতে পারত।

▪️চরিত্র :

এই পুরো সিরিজের চরিত্রের বিল্ডআপ নিয়ে আমার আক্ষেপ আছে। এই যেমন এই গল্পের প্রধান চরিত্র, কায়সার। তার মতো শক্তিশালী চরিত্রকে ঠিকঠাক বিল্ডআপ করা হয়নি। গল্পের প্রয়োজনে যতটুকু, ঠিক ততটুকুই এসেছে। তার অতীত, ব্যক্তিগত জীবন আগের বইতেও ছিল না। এখানেও ছিল না। ফলে মূল চরিত্রের প্রতি যে সফট কর্ণার তৈরি হয়, সেটা কেন যেন পূর্ণতা পেল না।

এই বইতে অসংখ্য চরিত্র লেখক এনেছেন। সবগুলো চরিত্র নিয়ে কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে লেখক যে এতজনের নাম মনে রেখে উল্লেখ করতে পেরেছেন, এর জন্য লেখকের একটা প্রশংসা প্রাপ্য। তবে আমার মনে হয়, এত জনের নাম না নিলেও হতো। একটা সংস্থা নিয়ে কাজ করছেন সেখানে মূল কয়েকজন থাকলেই যথেষ্ট ছিল হয়তো।

তাছাড়া লেখক নিজেকেই এই বইতে স্থান দিয়েছেন। একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর কেন যেন তিনি নিজেকেও হারিয়ে ফেললেন। মানে তাকে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আর পাওয়া যায় না। যদি গুরুত্বই না দেওয়া হবে, তবে শুরুতে এভাবে বিল্ডআপ হওয়ার কারণ বোধগম্য হয়নি। এছাড়া সরওয়ান পাঠান নামের একজন স্বনামধন্য শিকারীকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি চরিত্র ঠিক রেখে রূপক নাম ব্যবহার করলে ভালো হয়। সেখানে বাস্তব চরিত্র, তাদের নাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না জানা নেই। হতে পারে কোনো সম্মাননার জন্য লেখক এই কাজ করেছেন।

তবে লেখক তার তুরুপের তাস ব্যবহার করেন খল চরিত্রের জন্য। আগের বইতেও দেখেছি, এই বইতেও একই। খল চরিত্র এখানে যথাযথ স্থান পেয়েছে। তাকে ঘৃণা করার সবরকম উপাদান বইতে আছে। সবগুলো খল চরিত্রও সমানভাবে জায়গা পায় মূল চরিত্রের তুলনায়।

▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :

বইঘর ইবুক অ্যাপের ক্ষেত্রে এই বইটা পড়তে তেমন অসুবিধা হয়নি। ফন্ট ঠিকঠাক ছিল। কিছু বানান ভুল ছিল, ছাপার ভুল ছিল। তবে খুব একটা ক্ষতি হয়নি অবশ্য। ইবুকের প্রচ্ছদটা মূল প্রচ্ছদের চেয়ে আমার বেটার লাগে।

▪️পরিশেষে, এই সমাজে মানুষের যেমন বাঁচার অধিকার আছে, তেমনি সব পশুপাখির বাঁচার অধিকার আছে। কিন্তু কিছু অসাধু, লোভী ব্যক্তিদের কারণে সেই বাসযোগ্য বন, ভূমি বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে। তাদের নির্মূল করতে পারলে প্রকৃতি সুন্দর হয়ে উঠবে। কিন্তু এই লড়াইয়ে সত্যের পথে, ভালোবাসার পথে থাকা মানুষগুলোর সংখ্যা সীমিত। তাই অসম সে লড়াই জিততে কষ্ট হয়। সবসময় জেতাও যায় না। কিন্তু তবুও কি হাল ছেড়ে দেওয়া যায়?

▪️বই : নিনাদ
▪️লেখক : বাপ্পী খান
▪️ইবুক : বইঘর
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews22 followers
August 21, 2024
বন্যপ্রাণী নিয়ে লেখা চমৎকার এই কন্সপিরেসি থ্রিলার উপভোগ করলাম। কায়ছার কবিরের এবার লড়াই করতে হবে বন্য প্রাণী থেকেও ভয়ংকর একদল পোচারদের বিরুদ্ধে। অরণ্যের গহীন কোণে ঘাপটি মেরে থাকে ওরা মরণকামড় বসানোর জন্য।

বইটিতে অনেক অজানা তথ্য ছিল যেগুলো না পড়লে জানা যেত না। মানুষে মানুষে যে আক্রোশ, দাঙ্গা লেগে থাকে সেটার আড়ালে আমরা বন্য প্রাণী নিয়ে চিন্তাই করি না। স্কুলে থাকতে আমি পড়েছিলাম দেশে ২৫% বনাঞ্চল থাকার কথা সেখানে আছে ১৭% কিন্তু এখন দেখি সেটা ১৩% এ চলে এসেছে। এতো এতো ঘূর্ণিঝড় আটকায় সুন্দরবন।

ফলাও করে ফেসবুকে লিখেন 'আমাদের আছে সুন্দরবন রুখবে ঘূর্ণিঝড়' কিন্তু সেই সুন্দরবন কী ভালো আছে না নেই তার খবর কেউ নিবে না। সুন্দরবনের কাছে আমরা 'দুধের মাছির' মতই আছি।

লেখক বন্যপ্রাণী পাচার নিয়ে অনেক সাহসী লেখা লিখেছেন। সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে যে কিভাবে পাচার হয় তার অনেক বর্ণনা পেয়েছি। এতো এতো তথ্যে হলেও কোনো জায়গাতেও গল্প ঝুলে যায় নি। টান টান উত্তেজনা ছিল। শেষের পঞ্চাশ পৃষ্ঠা তো আপনাকে হাত থেকে বইটা রাখতেই দিবে না।

কায়ছার কবির ছাড়াও মনি মিয়া ও আদনান আজাদের চরিত্র অনেক দারুণ লেগেছে। অনেক বাস্তব চরিত্রের আনাগোনাও আছে এই বইয়ে। বইয়ে প্রথম বই 'হিমঘুম' নিয়েও অনেক কথা আছে। তাই আমার মনে হয় হিমঘুম আগে পড়ে এটা পড়া দরকার যদিও একটা অধ্যায়ে লেখক উল্লেখ করেছেন ওটা স্কিপ করলে সমস্যা হবে না কিন্তু অনেকে ভুলবশত স্পয়লার পেয়েও যেতে পারেন হিমঘুম নিয়ে।

এবার সিরিজের শেষ বই 'ক্রান্তি' পড়ার অপেক্ষায়।
Profile Image for Paromita Ghosh.
33 reviews23 followers
June 19, 2023
মনুষ্যত্বের উপস্থিতির কারনেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।কিন্তু এই মানুষই যখন দিকবিদিকশুন্য হয়ে পড়ে আর নিজের বিবেক হারায় তখন সেটা না ভাল হয় মানবকূলের জন্য না প্রাণী কূলের জন্য।

বুনো সিরিজের দ্বিতীয় সিরিজ এই নিনাদ। নিনাদ অর্থ গর্জন। এই গর্জন দ্বারা এখানে মেঘের নিনাদ না বরং প্রানি কুলের রক্ষার্থে মনুষ্যত্ব যে বনের রাজার মত গর্জে উঠতে পারে সেটাই বোঝানো হয়েছে।

পশু পাচার চক্রের সাথে গভীরভাবে জড়িত জাহিদ হোসেন বন রক্ষা বিভাগের প্রধান।শুধু প্রানীই নয়,তিনি মানব পাচারের সাথেও যুক্ত আছেন।তার পথে যখনই কেউ বাধা হতে এসেছেন তাকেই বিনা দ্বিধায় সরিয়ে দিয়েছেন।সুন্দরবনে যারাই এই গাছ কাটা ও পশু চালানের সাথে যুক্ত তারা সবাই এমন বেপরোয়া।একে একে প্রাণ যায় অনেক সাংবাদিক ও হোমিসাইডের সদস্যদের। জাহিদ হোসেনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল একটা সাদা বাঘ নাম 'ধলা'।এই ধলা কে মিয়ানমারে পৌছে দেয়ার বিনিময়ে কোটি টাকা আর অবাধে পশু পাচার চক্রের আবর্তনের অনুমতি পেত সে। হোমিসাইডের দক্ষ্য কর্মী যিনি বন রক্ষা দলের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হসেবে সুন্দরবন এসেছিলেন, তাকেও আক্রমণ করা হয়।পরবর্তীতে তিনি, আদনান, মনি ময়া, হোমিসাইডের তৎপর সদস্য মাহফুজরা মিলে এই সংগ্রামে টিকে থাকতে সক্ষম হয় এবং ধলাকেও নরপশুদের কাল হাত থেকেও রক্ষা করেন।

এই পুরো জার্নিতে আমার মনি মিয়া ক্যারেক্টর টাকে সেই লেগেছে। বাঘকে আদর করা যে সে ব্যাপার নাকি!! নিনাদ এক কথায় অসাধারণ একটা জার্নি ছিল। একদম ছক্কা।
Profile Image for Arfaz Uddin.
92 reviews7 followers
August 28, 2023
"A grove of giant redwoods or sequoias should be kept just as we keep a great or beautiful cathedral.”
- Theodore Roosevelt

মানুষ প্রকৃতির অংশ, কিন্তু প্রকৃতি শুধু বিবেক আর শব্দ তাকেই দিয়েছে আর আজ, তার দৌরাত্ম্য রক্ষকের স্থান থেকে ভক্ষকের স্থানে গিয়েছে। যে প্রকৃতির আলো বাতাসে মানুষ জীবন ধারন করছে সে প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের মধ্যে নিজের ধ্বংসাত্ত্বক কর্মকান্ড চালাতে দ্বিধা করেনি। আজ সেই প্রকৃতি ই শঙ্কটাপন্ন। কিন্তু, আমরা কতটাই জানি এই বন, এই শ্বাপদকে? নাকি শুধু তীব্র নিনাদে কাপুরুষের মত তাদের হত্যাকান্ডেই বীরত্ব প্রকাশে আমরা নিজেদের বুক ফুলিয়ে হাটি। কতটা ঋন রয়েছে তা শোধের সময় আসবে, যেদিন মাদার ন্যাচার তার বিধ্বংসী রূপ ধারন করে গ্রাস করবে সেই মানবজাতিকে যারা তার গায়ে লেপেছিলো বিবেকহীন হত্যাকান্ডের লীলাখেলা।

শেষ করেছি বাপ্পী খান রচিত " নিনাদ"। বরাবরের মতই লেখক সাহেব নিজের ছাপ পাঠকের মনে ফেলে যেতে সক্ষম হলেন কিন্তু নিনাদ যেনো তার থেকেও আরো অনেকটা ব্যাতিক্রম। কেননা গল্পচ্ছলে উঠে এসেছে বর্তমান বনাঞ্চলের প্রানীদের করুন দশা। অবাধে পাচার রোধে নেই কারো মন, আর রক্ষক যেনো লোভের লকলকে জিভ দিয়�� শিকার করছে শব্দহীন বোবা জানোয়ার দের। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির সবথেকে কাছে ঘেষা আদিবাসীদের কেও ছাড় দিচ্ছেনা এরা। যেনো সবটাই তার নিজের।

বনরুই, সাদা বাঘ, লাইগার, বার্মিজ পাইথন, গোলবাহার, গুইসাপ, গন্ধগোকুল, হাতি, বেঙ্গল টাইগার, নীলগাই, বনবিড়াল, রামগদি, মেছো বিড়াল ইত্যাদি আরো নানা প্রানীর বর্ননায় সাজানো গল্পটি। গল্পের প্লট অসাধারন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেটা কি নিছক গল্পই?

আদনান আজাদ, সারওয়ার পাঠান এবং মনি পুরো গল্পে তাদের তেজি পদচারনা চালিয়েছে এবং এ গল্পে লিড দিয়েছেন। এই তিনজনের প্রতি অন্যরকম সম্মান দাঁড়ায় যারা বনকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছে। এই টুকরো সবুজ গুলোকে রক্ষায় জীবন বাজি দিতেও প্রস্তুত। যদিও ডিপো ইকোলজি এন্ড স্নেক রেসকিউ এর সদস্যগন ও যথেষ্ট সাহসিকতা দেখিয়েছেন নিঃসন্দেহে

সিংহভাগ সত্য তথ্য দিয়ে লেখা ফিকশন বইটি পড়ে আবেগ আপ্লুত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। প্রানীর প্রতি নির্মমতা সহ্য করা কঠিন। শুধু নিজ ভয় আর অজ্ঞতার কারনে কত নিরীহ প্রানীকে হত্যা করা হয়। যা বন্ধ হলে হয়ত প্রানী���ৈচিত্র এখনো রক্ষা সম্ভব। আর নিজ স্বার্থে হত্যাকারী প্রানীরা কখনো মনুষ্যত্বকে ছুতে পারবেনা।

বইটির প্রতিটি পাতা যেনো চোখের সামনে ভাসছিলো। ভিন্নধর্মী গল্পের ধরন নিয়ে লেখা এই বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো। কেননা এটি আপনাদের শুধু নিছক গল্প নয়, তার থেকে অনেক বেশি কিছু জানাবে। নিনাদের জয় হোক!

বইয়ের নাম: নিনাদ
লেখক:
প্রকাশনা: ফেব্রুয়ারী ২০২৩
প্রকাশনী: বাতিঘর
মূল্য: ৫৮০ টাকা
Profile Image for فَرَح.
188 reviews2 followers
October 15, 2025
গাছ-পালা, পশুপাখি ভালো লাগলেও সাপটা কেমন জানি লাগে৷ তাই হিমঘুম রেখে এইটা পড়লাম৷ প্রায় মাস ছয়েক লাগসে শেষ করতে। কোন চরিত্রের কী বৃত্তান্ত এইসব কিছু না বলে একগাদা নাম খালি সিরয়ালি দিয়ে দেয়া । বইয়ের মজাই শেষ। কাহিনির প্রতিও তেমন টান ছিল না।
Profile Image for Sumaiya.
291 reviews4 followers
November 27, 2023
3.5/5 ⭐️
নিঃসন্দেহে বইটা খুবই তথ্যবহুল,
তবে হিমঘুম পুরো কাহিনীটা যেমন একটা বিশেষ টপিক নিয়ে তাই বড় কিংবা ছোট অনেক ইনফো ছিল কিন্তু মনযোগ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিল।
আর নিনাদ এ কয়েকটা বিষয়কে কেন্দ্র করে ভেঙে ভেঙে ইনফরমেশন দিচ্ছিলো যার জন্য হিমঘুম এর মতো অতটা ভালো লাগেনি আমার কাছে!
Profile Image for Farzana Tisa.
44 reviews7 followers
August 6, 2023
আমি ভীতু মানুষ, সাপ আমার ভয় লাগে। গতবছর যখন হিমঘুম হাতে নিতাম, সাপ দেখেই ভয় লেগেছিলো। বই আর পড়া হচ্ছিলো না। কিন্তু পড়ার পর জানতে পারি অনেক কিছু। নিনাদ হিমঘুম এর দ্বিতীয় বই। এবার ও এজন্য দেরী করছিলাম বইটা পড়তে। কাহিনীর দিক দিয়ে আমি নিনাদ কে এগিয়ে রাখবো।
এই বই পড়ার সময় আপনার মনে হবে আপনিও সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে রয়েছেন। আমার মনে হয় বই পড়তে পড়তে এই অনুভূতিটা চমৎকার। লেখক লেখা দিয়ে পাঠককে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন।
বন আমাদের জন্য আশীর্বাদ, সেই আশীর্বাদ কে কেন্দ্র করে একটা গোষ্ঠী উঠে পরে লেগেছে সম্পদের অপব্যবহারের জন্য। লোভ মানুষকে নিয়ে যায় ধ্বংসের শেষ সীমায়। আর এখানে লোভ পরিবেশ ও জাতির ও
ধ্বংস ডেকে আনে।
একই বই এ দেখা যায় জাহিদ হোসেনের মতো কুচক্রীদের আবার মনি, আজাদ, ডিপ ইকোলজির ছেলে মেয়েদের প্রানীর প্রতি অপরিসীম মমতা।
অনেক অজানা তথ্য ই আপনাকে চমকে দিবে।

কিছুটা সময় বনের রাজার সাথে কাটিয়ে দিতে চান এই বই আপনার জন্য। কারা জেতে.... কুচক্রীরা নাকী প্রানীদের প্রতি ভালোবাসা ও মমতা মাখা দল।
জাহিদ হোসেন রা কি একাই নাকি এর পিছনে আছে আরো বড়ো কোনো শক্তি। জানতে হলে পড়ে ফেলুন।
বই পড়ুন, সময়কে কাজে লাগান।
Profile Image for Sukaynah.
6 reviews
May 5, 2023
বইয়ের নাম: নিনাদ
লেখক: বাপ্পী খান
মূল্য: ৫৮০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫২
প্রকাশনা: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকাল: ২০২৩ বইমেলা

"বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে" ছোটবেলার পড়া এই ভাবের সম্প্রসারণটা পূর্ণতা পেয়েছে "নিনাদ" বইতে এসে।

আজ অব্দি বইগুলোতে বনের ভিতর জ্বিন ভূত, গুপ্তধনের রহস্য, এডভেঞ্চার, খুন কিংবা মাদকের গোপন আস্তানা এসবই পড়ে এসেছি। কিন্তু বনের রহস্য নিয়ে পড়েনি আমরা হয়ত। জানিও না বনের ভেতর থাকা হিংস্র প্রাণিগুলোর থেকেও পোচাররা কতটা হিংস্র!

📌"হিমঘুম" এরপর প্রাণি নিয়ে জানার আরেক ধাপ ছিল "নিনাদ"। মূল বক্তব্য এখানেও " রক্ষক যখন ভক্ষক" হলেও স্বাদ একদম ভিন্ন এবং আরও বেশিই ভয়াবহ ছিল। পশু-প্রাণি পাচারচক্র সম্পর্কে আমাদের ধারণা ওই খোরগোস,টিয়া, ময়না ধরে বাজারে বিক্রি অব্দিই হয়ত। কিন্তু মূল কাহিনি আরও বেশিই জটিল।
বন রক্ষক সংস্থা দলে সাময়িক ট্রেনিং এ যোগ দিতে এসে বনের এক গভীর ও গোপন বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে হোমিসাইডের চৌকস ক্যাপ্টেন কায়সার। কিন্তু কয়েকমাস চলে গেলেও জানে না সুন্দরবনের শান্ত প্রকৃতির মধ্যে মিশে আছে যে হিংস্র জগত। সেই জগত বন্য নিরীহ প্রাণিগুলোর বিদেশে পাচার করার। সেই জগতের হদিস থেকে কৌশলে তাকে আড়াল করতে তৎপর বনরক্ষক প্রধান জাহিদ হোসেন। কী তার উদ্দেশ্য? এই পোচারচক্র কেনই বা তাদের কার্য হাসিলের জন্য এতটা হিংস্র??? পোচারের খাঁচাতে থাকা শুভ্র নিষ্পাপ এক প্রাণিকে কেন সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সাথে পাচার করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে????

কায়সার, ডিপ ইকোলজি সদস্য, আদনান আজাদ, মনি মিয়াদের সাথে আর কে বা কারা আড়াল থেকে সাহায্য করছে বন ও বন্য প্রাণিদের বাঁচাতে???

🖇️বইতে চমক আছে অনেক। দেশজুড়ে বোবা প্রাণিদের বুঝে এমন সব চরিত্র নিয়েই বইয়ের গল্প। যেখানে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে কাজ করে আসা ডিপ ইকোলজির সদস্যরাও হয় অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণের শিকার। বন্যপ্রাণীর জন্য ভালোবাসা তাদের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ হয়ে আসছে!!! প্রাণি বিশারদ আদনান আজাদ বা রেপটাইল ম্যানও হাজির রহস্যময় নিরক্ষর মনি মিয়ার সাথে; যে কিনা বোবা প্রাণিদের বুঝে; বুঝে তাদের মনের ভাষা। মনি মিয়ার কাছে আছে এই সুন্দরবনের সব অদেখা সত্যের ভান্ডার আর অভিজ্ঞতা।



🔏"নিনাদ" বইতে শুধুমাত্র এই পাচারচক্র না, এই বন্য বোবা প্রাণিদের স্বভাব ও ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। লেখক এই বিষয় নিয়ে যে জ্ঞান রাখে সেটার খানিক ছটা পাঠকেরাও পাবে আশা করি। বাঘের আক্রমণ থেকে বেঁচে আসা মানুষের কথাও যেমন আছে সেই সাথে আছে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারানো মানুষের পরিবারের করুণ সত্য।

বইয়ের কাহিনি আপনাকে ভাবাবে আসলেই কি এমন হচ্ছে দেশে? এত এত প্রাণি পাচার হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কী হয় এসব প্রাণির? তবে বলে রাখি পড়াশোনার খাতিরে বাংলাদেশের বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি নিয়ে জানা হয়েছিল। এক সময় এই বাংলায় অনেক বাঘ তো ছিলই, সাথে ছিল ভাল্লুক, নীল গাই, বনরুই, অজগর, চিতাবাঘ,সোনাল বিড়াল,বনগরু, রামগদিসহ আরও অনেক প্রজাতির প্রাণি। সেগুলো কী শুধুমাত্রই উপযুক্ত পরিবেশের কারণেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে? পত্রিকায় হরহামেশাই সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব খবর আসলেও এখন অব্দি আমরা টেরই পাচ্ছি না কী হারাচ্ছি আমরা!!!
Profile Image for Khalid Hasan.
7 reviews8 followers
June 2, 2023
বন ও বন্যপ্রাণী, আন্তর্জাতিক পশু পাচার আর কণ্ঠে বজ্রধারী এক শুভ্র মায়াবী প্রাণী নিয়ে দারুণ একটি উপন্যাস নিনাদ।

༄ পাঠ প্রতিক্রিয়া -

বইটির প্রথম দিকে কাহিনী ধরা একটু টাফ ছিল। অসংখ্য চরিত্র ও তাদের কাহিনী একটির সাথে অন্যটির যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তবে কাহিনীর গভীরতা বাড়তে বাড়তে একটি অংশ অপর অংশের সাথে যুক্ত হতে থাকে। তবে এত এত চরিত্র ও তাদের গল্পের ভিড়েও বইয়ের মূল প্লট ক্লিয়ার ছিল -

“ রক্ষক যখন ভক্ষক। "

বইটিতে বন্যপ্রাণী বিষয়ক প্রচুর অজানা তথ্য ছিল। যা এই বই না পড়লে আমি কখনো জানতেও পারতাম না। লেখক যেন তার সমস্ত জ্ঞান উজাড় করে দিয়েছেন এই বইটিতে। তবে এত সব তথ্য থাকার পরও বইটি আমার কাছে একেবারেই বোরিং লাগেনি। বরঞ্চ বইটি একেবারে টান টান উত্তেজনাময় অ্যাডভেঞ্চার, থ��রিলার, রহস্য, সাসপেন্স, অ্যাকশনে ভরা। বইটি একেবারে রোলার কোস্টার রাইড। বিশেষ করে শেষের শত পেজ একে আরে আগুন! একের পর এক টুইস্ট এর ধাক্কায় টিকা দায়।

বইটির বেশ কিছু চরিত্র লেখকের চোখে দেখা কিছু মানুষ থেকে উঠে এসেছে বলে চরিত্রগুলোর গঠন বেশ শক্তপোক্ত। বিশেষ করে মনি মিয়া আর আদনান আজাদ চরিত্র দুটি আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেগেছে। তাছাড়া সাদা বাঘ ধলার মনের ভাষা গুলোও লেখক যেভাবে ব্যাক্ত করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ ছিল।

বইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিল দেশের বিভিন্ন বনজঙ্গলে চরিত্রগুলোর অ্যাডভেঞ্চার, অ্যাকশনের দৃশ্যগুলো। কাসলাং এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জাহিদ হোসেনের দলের সাথে কায়সার, আদনান আজাদ, মনি মিয়া, ডিপ ইকোলজি টিমের সংঘর্ষের অংশটি একেবারে দারুণ ছিল।

বইটিতে থ্রিল, অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চারের প্রকৃতির দারুণ মিল দেখলাম। এ ধরণের বন্যপ্রাণী বিষয়ক বই আগে পড়া হয়নি। বইটি বেশ উপভোগ করলাম।

হাইলি সাজেস্টেড একটি বই।

༄ ফ্ল্যাপ হতে -

ক্যাপ্টেন কায়সার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেল বন রক্ষক দলে। শান্ত সুন্দরবনে কোনো ঝামেলা নেই, নেই বিশৃঙ্খল বা অনৈতিক কাজ। পশু-পাখির দল দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে চারপাশে। আসলেই কি তাই?
ডিপ ইকোলজির সদস্যরা ভাওয়াল গড়ে আক্রমনের শিকার, প্রাক্তন শিকারি সরওয়ার পাঠানের মনে শঙ্কা জাগে।
অতর্কিত হামলা-বোট বিস্ফোরণে হারিয়ে গেল কায়সার। প্রানী বিশারদ আদনান প্রেক্ষাপট হাজির, সঙ্গে রহস্যময় এক সঙ্গী, মনি মিয়া; বিচিত্র তার পেশা ও নেশা।
সিলেটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাটির নিচে গোপন সুরঙ্গ। কী খেলা শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়ে?
রাঙামাটির দূর্গম অঞ্চলে ছুটল সবাই। আদিবাসী সর্দারের ছেলের ক্ষত-বিক্ষত দেহের কারণটা অদ্ভুত; এক শ্বেত-শুভ্র মায়াবী প্রানী! গর্জনে তার বজ্র নিনাদ! ভেসে আসছে শ্বাপদের হুংকার। পাহাড় থেকে নামছে বৃষ্টির ঢল। বিপর্যয় আঘাত হানল বলে.,,
এ অসম যুদ্ধে জেতা অসম্ভব।
... কখনও কখনও পুরনো শত্রুরাও যে বন্ধুরূপে ফিরে আসতে পারে।
বন্যপ্রানীদের বোবা জগতে কিছু মানুষরূপী জানোয়ারের হিংস্র ও নির্মম রূপ দেখতে পাবেন নিনাদ এ।

༄ ব্যাক্তিগত রেটিং - ৫/৫
༄ বই পরিচিতি -
বইয়ের নাম - নিনাদ
লেখক - বাপ্পী খান
প্রকাশনী - বাতিঘর প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৩৫২
মুদ্রিত মূল্য - ৫৮০
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
July 3, 2023
‘নিনাদ’ বইটি লেখক বাপ্পী খানের 'হিমঘুম' বইয়ের পরবর্তী পর্ব। বইয়ের প্রথমদিকে জানা যায় 'হিমঘুম' এর ঘটনার পরে ক্যাপ্টেন কায়সার সুন্দরবনের বন রক্ষক দলের হয়ে কাজ করছেন। এদিকে 'ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ ফাউন্ডেশন' এর মাহফুজ, অনন্যা সহ আরো অনেক সদস্য ভাওয়াল গড়ে মারা যাওয়া কিছু প্রাণীদের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে নিজেরাই এক বিশাল ষড়যন্ত্রের ভেতরে পড়ে যায়। তাদের কাহিনির সাথে এবারে যুক্ত হয় সরওয়ার পাঠান, আদনান আজাদ, মনি মিয়া সহ আরো অনেকে। তাদের সম্মিলিত শক্তি কী সেই ষড়যন্ত্র রুখতে পারে নাকি তা নিয়েই 'নিনাদ' বইটি লেখা।

অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ‘নিনাদ’ বইটি সিরিজের আগের বইটির থেকে বেশ আলাদা। যদিও সিরিজের মূল থিম এখানেও বজায় রয়েছে। বইয়ের লেখনশৈলী লেখকের আগের বইগুলোর মতোই সহজবোধ্য। বেশ কিছু ভাইরাল ঘটনাও বইতে কাল্পনিকভাবে কাহিনির সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বইয়ের নানা ধরনের প্রাণী সম্পর্কিত তথ্য উপাত্তগুলো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যার জন্য লেখককে বেশ খাটতে হয়েছে তা বোঝাই যায়। সিরিজের এই পর্বে অনেক চরিত্র এসেছে তবে বেশিরভাগ চরিত্রই কাহিনিতে অবদান রেখেছে, যাদের ভেতরে আদনান আজাদ আর মনি মিয়াকে স্ট্যান্ড আউট মনে হয়েছে।

‘নিনাদ’ বইটি বন-জঙ্গল ভিত্তিক অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ধরণের তাই সে ধরনের বেশ কিছু দৃশ্য রয়েছে, কয়েক ক্ষেত্রে হালকা অতিরঞ্জন বাদে সেগুলোও বিশ্বাস যোগ্য ভাবে লেখা হয়েছে। বইতে প্রচ্ছদ অ্যাভারেজ, সম্পাদনার ঘাটতি বেশ চোখে পড়েছে। যাই হোক, বইটাকে ঠিক টানটান থ্রিলার হিসেবে না পড়ে বন-জঙ্গল ভিত্তিক অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে পড়লে পাঠকদের আরো ভালো লাগবে আশা করি।
-
Profile Image for Fahad Islam.
55 reviews1 follower
July 14, 2024
প্রথম বইটা(হিমঘুম) যেমন ইমপ্যাক্ট ফেলতে পেরেছিলো, সেই তুলনায় সিক্যুয়াল হিসেবে আমার কাছে নিনাদ-কে দুর্বলই লেগেছে। তবে স্ক্যান্ডালোন হিসেবে চলনসই বলবো।

গল্পটার প্লটটা ছিলো ঠিক এইরকম, প্রাণী আর বনের উপর সরকারি অধিদপ্তর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে চলে আসা চোরাকারবারি আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্নেক রেস্কিউ ফাউন্ডেশন আর হিমঘুমের সাহসী সিআইডি ক্যাপ্টেন কায়সারের রুখে দাঁড়ানো।

বাকিটুক আরেকদিন লেখবো....||||
Profile Image for Kiron.
6 reviews
October 23, 2023
বইটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। হিমঘুম পড়ে। ওটার গল্প এখনো ভুলতে পারিনি। একটা ইমোশন কাজ করে হিমঘুমের প্রতি। নিনাদ ও সেই একই লিস্টে যুক্ত হলো। বন্য প্রাণী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি এবং তাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র আসলেই চলে,এটাও জানতে পারলাম। গল্পটা আসলেই অসাধারণ। এই বুনো সিরিজের বই আরো চাই।
Displaying 1 - 15 of 15 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.