গারো পাহাড়ের গহীনে, খেমতা গ্রামে শিকারীর দল মারা পড়ছে রহস্যময়ভাবে। রক্তাক্ত দেহগুলো পাহাড়ের চাতালে সাজানো। গ্রামসর্দার রামসির মুখে ভয়ের ছায়া। বৃদ্ধ আগারবাবার কন্ঠে ভয়ের কাঁপন। কোনো এক লালচাঁদের রাতে জঙ্গলের গভীর থেকে ভেসে আসে জীবন্মৃতের চিৎকার। সদ্য কৈশর থেকে যৌবনে পা রাখা এক সাহসী যুবক সেই অন্ধকার রাতের সাক্ষী। কে সে? কবিরাজ পরান শিকদার কেনই বা তাকে ভালোবেসে আগলে রাখতে চায়? অন্ধকার রাতে সেই যুবক খুঁজে পায় এক রহস্যময় স্বত্বা। চারপাশে শীতলতার ছোঁয়া। শুরু হলো আক্রমণ। এই ভয়াল আক্রমণ এই জগতের হতেই পারে না। নসিমা ঠিকই বলেছিল, এই জগতের মতো আরেকটা জগত আছে... বাপ্পী খানের লেখা, অতিপ্রাকৃত ধারার অন্ধকার ট্রিলজির (হার না মানা অন্ধকার, ঘিরে থাকা অন্ধকার, কেটে যাক অন্ধকার) পর এবার সেই ঘটনার প্রিক্যুয়েল ট্রিলজির প্রথম বই, ‘আসছে অন্ধকার’, যেখানে পাঠক খুঁজে পাবেন প্রকৃতির অন্ধকার শক্তির নতুন কিছু রূপ।
সম্পূর্ণ অন্ধকার ট্রিলজির পূর্ণতা প্রাপ্তীর জন্য এই প্রিকুয়েলটা যে কতটা দরকারি তা এই প্রথম বইটাই বুঝিয়ে দিয়েছে।তা ছাড়া লেখক মশাই যে রফিক শিকদার কে নিয়ে এরকম ভুরিভোজের আয়োজন করে রাখবেন তা কল্পনার বাইরে ছিল। আহ! এতো আরামের ভুরিভোজ অনেকদিন পর খেলাম। এখন বাকি দুটো খন্ডের জন্য তীর্থের কাকের মতো দিন গুজার করি। কি আর করার।
পরিমিতিবোধ একটা বড় ব্যাপার, এই বইতে এটা মিসিং। প্রিয় হরর সিরিজটা যাবতীয় জগাখিচুড়ি দিয়ে ভচকে গিয়ে একটা নিম্নমানের ছেলে ভুলানো ফ্রস্ট জায়ান্ট মার্কা কাহিনিতে রূপ নিল। খুবই হতাশ। শুরুর দিকের হুবালের দুর্দান্ত অংশটার কারণে তিন তারা দিলাম। জাদুকর ঝুলং এর কিছুটা অংশও ভালো ছিল। ইলাস্ট্রেশনগুলোও একদম ভালো লাগেনি, একেবারেই নবিশ লেভেলের আঁকা।
প্রকৃতির বর্ণনা গুলো চমৎকার ছিলো। রফিক মাহাই ব্যাপারে যতো পড়ছি ততই তার প্রতি আগ্রহ জন্ম নিচ্ছে। ভয়ের আবহ একটু কম লাগলেও রফিকের লড়াইয়ের বর্ণনা পড়ে ভালো লেগেছে। সাথে আগারবাবার চরিত্র ও আলাদা ছাপা ফেলে গিয়েছে। শেষে চমৎকার ভাবে আগের বইয়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এখন ক্রমশ অন্ধকারের অপেক্ষায়।
📜 বাংলাদেশে ‘অতিপ্রাকৃত’ জঁনরা নিয়ে সম্প্রতি যেসব কাজ হয়েছে তার মধ্যে লেখক বাপ্পী খানের 'অন্ধকার' সিরিজটি উল্লেখযোগ্য । এই 'অন্ধকার' সিরিজের মূল বৈশিষ্ট্য হল - সুন্দর প্রাকৃতিক বর্ণণা এবং তার সাথে প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারের অনুসন্ধান । যার ফলে 'অতিপ্রাকৃত' উপন্যাস হওয়া সত্ত্বেও, চিরাচরিত 'অলৌকিক' পটভূমির থেকে এই কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা ।
▫️'অন্ধকার' ট্রিলজি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আগেই করেছি । ঐ ট্রিলজি সিরিজটি শেষ করার পরে বেশ কিছু প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে থাকে, যার উত্তর তিনটি বইয়ের মধ্যে কোথাও নেই । সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এই সিরিজের চতুর্থ বই 'আসছে অন্ধকার', এটি 'অন্ধকার' ট্রিলজির প্রিকুয়েল সিরিজের প্রথম বই ।
📖 কাহিনী সংক্ষেপ : গারো পাহাড়ের গহীনে, খেমতা গ্রামে শিকারীর দল মারা পড়ছে রহস্যময়ভাবে । রক্তাক্ত দেহগুলো পাহাড়ের চাতালে সাজানো । গ্রামসর্দার রামসির মুখে ভয়ের ছায়া । বৃদ্ধ আগারবাবার কন্ঠে ভয়ের কাঁপন । কোনো এক লালচাঁদের রাতে জঙ্গলের গভীর থেকে ভেসে আসে জীবন্মৃতের চিৎকার । সদ্য কৈশর থেকে যৌবনে পা রাখা এক সাহসী যুবক সেই অন্ধকার রাতের সাক্ষী । কে সে ? কবিরাজ পরান শিকদার কেনই বা তাকে ভালোবেসে আগলে রাখতে চায় ? অন্ধকার রাতে সেই যুবক খুঁজে পায় এক রহস্যময় স্বত্বা । চারপাশে শীতলতার ছোঁয়া । শুরু হলো আক্রমণ । এই ভয়াল আক্রমণ এই জগতের হতেই পারে না । নসিমা ঠিকই বলেছিল, এই জগতের মতো আরেকটা জগত আছে...
▫️প্রথম তিনটি বইয়ের মূল চরিত্র 'রফিক শিকদার' বিভিন্ন সময় তার দাদা (ঠাকুরদা) 'রফিক মাহাই শিকদার' এর কথা উল্লেখ করেছে, কিন্তু তিনটি বইয়ের মধ্যে কোথাও তাকে নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না । প্রিয় পাঠক, 'অন্ধকার' ট্রিলজির পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য এই প্ৰিকুয়েলটা যে কতটা দরকারি তা এই বইটিই বুঝিয়ে দিয়েছে । এই বইটিতে আছে 'রফিক মাহাই শিকদার' এর শৈশবের বর্ণনা, আর আছে সেই সময়ে একের পর এক অন্ধকার শক্তির সাথে লড়াই করে করে কিভাবে তিনি বিশেষ শক্তির অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন সেই সব ঘটনা ।
▫️'অন্ধকার' সিরিজের এই বইটি শুধুমাত্র 'হরর' বা 'সুপারন্যাচারাল' জঁনরায় সীমাবদ্ধ নেই, এর সাথে মিশেছে 'ফ্যান্টাসি'। এই কাহিনীর মূল চরিত্র রফিক মাহাই শিকদারের সাথে সাথে 'আগারবাবা' আর 'পরান শিকদার' এর চরিত্রায়ন খুব ভালো লেগেছে । এছাড়া গল্পে নানা সময়ে আসা 'অন্ধকারের প্রতিনিধি' চরিত্রগুলিকেও লেখক দারুন শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করেছেন । খুব সুনিপুণভাবে এই কাহিনীকে 'অন্ধকার' ট্রিলজির সাথে কানেক্ট করা হয়েছে, যা আমার দারুন লেগেছে । এক কথায় বলতে পারি, বেশ দুর্দান্ত ভাবেই এই 'প্রিক্যুয়েল' সিরিজের সূচনা হয়েছে 'আসছে অন্ধকার' বইটি দিয়ে ।
'আসছে অন্ধকার' লেখক বাপ্পী খানের 'অন্ধকার' সিরিজের একটি বই। এখানে মূলত অন্ধকার সিরিজের প্রোটাগনিস্ট রফিক শিকদারের দাদা 'রফিক মাহাই শিকদার' এর শৈশবের বর্ণনা এবং সে সময়ের অন্ধকার কিছু শক্তির সাথে তার মোকাবিলার ঘটনা জানা যায়। - অন্ধকার সিরিজের এই বইটি বলা যায় হরর-সুপারন্যাচারাল-ডার্ক ফ্যান্টাসির এক মিশ্রণ। সিরিজের বাকি বইগুলোর মতো এখানেও আলো-অন্ধকার শক্তির ভেতরে যুদ্ধের দেখা পাওয়া যায়। সিরিজের মূল চরিত্র রফিক কীভাবে নানা ধরনের অতিপ্রাকৃতিক শক্তির অধিকারী হয়েছে তার আভাসও পাওয়া যায় এই গল্পে। এই গল্পের মূল চরিত্র রফিক মাহাইয়ের সাথে সাথে আগারবাবা আর পরান শিকদারের চরিত্রায়ন ভালো লেগেছে, তারসাথে গল্পে নানা সময়ে আসা এন্টাগনিস্টগুলোকেও বেশ শক্তিশালীভাবে দেখানো হয়েছে। সেদিক থেকে বলতে গেলে একমাত্র নসিমা চরিত্রটিকে কিছু খাপছাড়া মনে হলো আমার কাছে। গল্পের ভেতরে এর সিক্যুয়েল ট্রিলজির টাই ইন গুলোও চমৎকারভাবে করা হয়েছে। বইয়ের প্রোডাকশনগত দিক থেকে প্রচ্ছদ গতানুগতিক লাগলেও শিল্পী ওয়াসিফ নূরের করা ইলাস্ট্রেশনগুলো বইয়ের অন্যতম হাইলাইটস বলা যায়। বইতে কয়েক জায়গায় চরিত্রের নামে 'রহিক' এবং 'রফিক' ভুলভাবে এসেছে দেখলাম, আশা করি এগুলো সামনে ঠিক করে নেওয়া হবে। এক কথায়, প্রিকুয়াল ট্রিলজির বেশ ভালো সূচনা হয়েছে 'আসছে অন্ধকার' বইটার মাধ্যমে, সিরিজের পরবর্তী বই ক্রমশ অন্ধকারে এই ধারা অব্যাহত থাকবে, এই প্রত্যাশা করছি।
অন্ধকার ট্রিলোজির প্রিকুয়েল বললেও, আসলে মূল কাহিনী চলছে কেটে যাক অন্ধকার এর পর থেকেই। একারণেই তো এটারে বাদ রেখে অন্ধকার পড়ে ফেলেছিলাম চার নম্বরে। ফলে তাল খুঁজে পাচ্ছিলাম না কোথা থেকে কী হলো, কেন হচ্ছে। এখন সবকিছুই ক্রমশ আলোকিত হচ্ছে।
এই বইতে আছে রফিক মাহাই শিকদার ওরফে রহিক মাহাই এর পরিচয় পর্ব, নসিমা দাদির পরিচিতি। তবে যা মনে হচ্ছিল নিতান্তই লৌকিক, এই বইতে এসে তা আর লৌকিক না থেকে কিছুটা কল্প-বিজ্ঞানের জগতে প্রবেশ করেছে। অন্ধকার-এর পুরো জট এখনো খোলে নি, তবে ক্রমশ অন্ধকার-এ যে পুরো জটই খুলে যাব�� এ বলে দেয়া যাচ্ছে।
লেখা নিয়ে বলার কিছু নাই, তবে বানানভুল নিয়ে বলার আছে। এতেও সে সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। শুরুতে রহিক মাহাই এর সাথে পরিচয় ঘটলেও, সেখানে কয়েকবার রফিক ব্যবহার করা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয় নি, বেখেয়ালে করা ভুল লেখকের।
শুরু থেকে চমৎকার ছিল বই। সিরিজের গত তিনটা বইয়ের ন্যায় ব্যাপক রহস্য ও একটু ভয়মিশ্রিত অনুভুতি জাগিয়ে দেয় পড়তে গেলে। সুপ্রসন্ন আরবান ফ্যান্টাসির ছোঁয়া আছে সাথে আছে কাল্টের ব্যবহার। লেখক সবকিছুর দারুণ মিশ্রণে অদ্ভুত স্বাদের একটা বই তৈরি করেছেন। বইটা ভালো বেশ৷ লেখকের লেখনশৈলী বেশ প্রশংসনীয়। লেখকের লেখা যখন পড়তে শুরু করেছিলাম, নিশাচর। তখন মনে হয়নি লেখকের লেখনী এত দারুণ হবে। হার না মানা অন্ধকার থেকেই চমৎকার উন্নতি করেছেন লেখক। ওয়াসিফ নুর ভাইয়ের ইলাট্রেশনগুলো বেশ দারুণ লেগেছে। হরর বইয়ের মাঝে এইরকম দারুণ ইলাট্রেশনগুলো বেশ মজা দিয়েছে। *** স্পয়লার এলার্ট*** খুং মানে নসিমা যদি রফিকের ত্রিনয়নে হাত দিয়ে তার সব ইতিহাস, ভাষা, চালচলন, অভ্যাস ও জ্ঞান রপ্ত করে নিতে পারে, তাহলে রফিক যে সতেরো বছর বয়সে বনদেবতাকে বিনাশ করে আগুনের শক্তি পেয়েছে তা কেন জানলো না?
This entire review has been hidden because of spoilers.
রফিক মাহাই শিকদারের গল্পটা তেমন জমলো না। অতিপ্রাকৃত কম ফ্যান্টাসী বেশি মনে হয়েছে। আগের বইগুলোতে না পাওয়া কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল। তাছাড়া মেইন ট্রিলজির সাথে যেভাবে কানেক্ট করা হয়েছে তা ভালো লেগেছে। আশা করি পরের বইগুলো এবারের অসন্তোষ পুষিয়ে দেবে।
সম্পূর্ণ অন্ধকার ট্রিলজির বইগুলোতে না পাওয়া কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল। কিন্তু আরো একটু সুন্দর হতে পারত। রফিক মাহাই শিকদারের কাহিনী আরেকটু বেশি হইলে ভালো হত। ক্রমশ অন্ধকারে হইত আরো কিছু জানা যাবে।