Jump to ratings and reviews
Rate this book

ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ

Rate this book

64 pages, Hardcover

First published February 1, 2023

2 people are currently reading
84 people want to read

About the author

হাসান রোবায়েতের জন্ম ১৯৮৯ সালে, বগুড়ায়।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
13 (20%)
4 stars
38 (61%)
3 stars
10 (16%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 28 of 28 reviews
Profile Image for Rifat.
502 reviews329 followers
June 19, 2023
হাসান রোবায়েতের অন্যান্য বইয়ের মতো এই বইতেও গদ্য কবিতা স্থান পেয়েছে। কবিতার বিষয় ভিন্ন ভিন্ন হলেও আসলে এরা শেষে বিষন্নতা নামক এক ও অভিন্ন বিন্দুতে মিলে যায়। কবিতাগুলোতে আছে বিষন্নতা, দুঃখবোধ, মাদরাসার ছাত্রাবাসে মা আর বাড়ির জন্য ছটফট করা এক বাচ্চা ছেলে, আছে বন্ধু আরিফ, আছে দৈন্যতা আর ভালবাসা, আছে শুধুই মা, মায়ের মমতা- যেখানে, "মা'র কাছ থেকে টাকা ধার চাইলে মা হাসে—
এটা সেটা বলে তারপর টাকা দেয়
'' কিন্তু সেই ঋণ কখনও শোধ করা যায় না। "ঝরা পাতা কি হেমন্তের ঋণ শোধ করতে পারে কখনো?" কবিতায় আরও আছে আব্বা আর ছেলের কথা- সেখানে " আব্বা বনের সবুজ হাওয়ার মতো কেমন নৈঃশব্দ্যের পাতা ঝরায়—" আর আছে হাসান রোবায়েতের নিজস্বতা ও শব্দের উপরে থাকা সহজ কর্তৃত্ব।


কবিতায় বারবার যেটা এসেছে সেটা মৃত্যু, সাধারণ মৃত্যু নইলে আত্নহত্যার সুর; কখনও "চিতা" কবিতায় আবার কখনও "কবরে নামানোর পর" কবিতায় কিংবা অন্যান্য কবিতায়। মৃত্যুকে সহজ করে আর কোমলতায় মুড়িয়ে রোবায়েত লিখলেন-
" চিতা শেষ—সবাই বাড়ি ফিরছে একে একে, সুন্দর পুড়তে পুড়তে ছাই তার মেদুরতা নিয়ে আস্তে আস্তে উড়ে যাচ্ছে জীবনের দিকে—

কেউ নাই—না স্মৃতি না সন্ধ্যার সাইকেল ক্যারিয়ারে একটা চিঠিহীন বিমমতা—

একজন মানুষ

নিশ্চিন্তে পুড়ে যাচ্ছে আত্নীয়-বন্ধুদের ছায়ায়—"

রোবায়েত আরও লিখেছেন-
"কোথাও, কিছু নাই— একটা পাখি, নির্জন আত্নহত্যার দিকে তাকিয়ে ভাবছে, সমস্ত জীবন ধরে রোদ উঠল, ছায়ারা হারিয়ে গেল বিমমতায়, পৃথিবীর সন্ধ্যায় কয়েকটা ফকির একে অন্যকে ছুঁয়ে চলে গেল গণ্ডগ্রামের ভেতর, যেন মানুষের বন্ধনের ভেতর এখনও হরিণ হাঁটে—

কিছু নাই, শূন্য তিসির খেতে নিঃশব্দে মরে যাচ্ছে বাতাস—

একটা বিজন গাছ তাকিয়ে আছে ক্লান্ত মমতায়—"

কিংবা,
"দিন চলে যাচ্ছে— স্বভাববশত— দরজা খুলে দিই, জানালা তাকিয়ে আছে নিধুয়া হাওয়ার দিকে— কারা যেন খাটিয়ায় লাশ নিয়ে চলে যাচ্ছে নদীর ওপার—"

আর,
"সন্ধ্যা হচ্ছে। আকাশমণি গাছের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যাস্তের রঙ কাটা মুরগির মতো লাফিয়ে উঠছে মুহুর্মুহু—"



ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশটা আসলে কী? শৈশব পেরিয়ে কৈশোর কিংবা এর পরবর্তী জীবন? নিজের সামনে নিজের মা-বাবার বয়সের পরিবর্তন? দুঃখ পেরিয়ে সুখ? সুখ পেরিয়ে দুঃখ? নাকি জীবন পেরিয়ে মৃত্যু?



"অজস্র হরিণের রক্তে লাল হচ্ছে সন্ধ্যার রঙ— মাটির জীবনবর্তী দূরে ওই যে কুয়াশার বন ঘন রক্তে ছেয়ে গেছে মাঠ, পিঁপড়ারা মুখে করে নিয়ে যাচ্ছে কবরের মাটি—

স্বভাবত, চলে যাচ্ছে দিন—"


মানুষ আসলে ব্রিজ পার করার স্বপ্ন নিয়েই বাঁচে, ব্রিজ পার হলেই অন্য ঋতুর দেশ..


১৯ জুন, ২০২৩




Profile Image for শাহ্‌ পরাণ.
261 reviews75 followers
March 10, 2023
৩.২৫/৫

একটা কবিতা আমার নিজের কিছু স্মৃতিকে এমনভাবে সজীব করে ফেললো যে চোখে পানি এসে গেলো। এ পৃথিবীর কষ্টের রং হয়তো খুব বেশি না, একই কষ্ট একই রঙে শুধু একটু ভিন্ন বাস্তবতায় একেক মানুষের জীবনে আসে। চক্রের মতো ঘুরতে থাকে মানুষের জীবনে।

মাকে নিয়ে, বাবাকে নিয়ে এত সুন্দর, বিমর্ষ আর মধুর কবিতা আমি খুব বেশি পড়িনি (আমি খুব বেশি কবিতা পড়িও নাই)।

বেশিরভাগ কবিতাতেই কেমন যেনো একটা বিষন্নতা ছিলো, শুন্যতা ছিল, ভালো লাগা ছিলো।

মাদ্রাসার ছাত্ররা কবিতাগুলো হয়তো আরো বেশি অনুভব করতে পারবে। মাদ্রাসার ছাত্র না হওয়ায় অনেক কবিতাকে লেখকের মতো করে বুঝতে পারিনি হয়তো।
Profile Image for Tawheeda Rufah Nilima.
294 reviews59 followers
Read
February 10, 2023
নাম দেখেই বইটা কেনা। বইমেলা থেকে কেনা বইগুলোর মধ্যে এই বইটাই প্রথম পড়লাম। সম্ভবত, এটাই ফেব্রুয়ারি মাসে পড়া প্রথম বই।
আজ যাওয়ার পথে বাসে বসে এবং আসার পথে সি.এন.জি তে বসে - এই দুই সময় মিলে বইটা পড়ে শেষ করলাম। বইটা কেমন লেগেছে বলতে চাইলে ঠিক এক কথায় ভালো খারাপ কিছু বলতে পারছি না। খুব ভালো লেগেছে? জানি না। তবে কিছু লাইন মাথায় গেঁথে আছে। কিছু লাইন বার বার পড়েছি। কয়েকটা লাইন পড়ে বই হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে ছিলাম।
এই যেমন,
"অপার দু:খবোধের নিচে মানুষ কত একা! চালের দানার মতো তার মন একবার শূন্যে আরেকবার পৃথিবীর এই কুলার উপর কিভাবে ঝিরঝির করে নেমে আসছে।"
উপরের এই কথাটুকু কি সুন্দর লাগলো পড়তে!

আবার,
"একটি সারেঙ্গিও সুরের চেয়ে বেশি নয় হাওয়ায় টুপ করে ডুবে যাওয়া আমাদের জীবন।"
আবার,
"চারদিকে বৃষ্টি পড়ছে, কৃষ্ণচূড়ার ডাল থেকে ঝুরঝুর করে ভেসে যাচ্ছে নিরঙ ফুলগুলো, শুধু দুইটা চোখের আকুলতায় কেটে যাচ্ছে আমাদের অনন্ত জীবনপ্রবাহ, চারদিকে ফরফর করে উড়ে যাচ্ছে সমস্ত হরফ, যেন তুমি আছ, খালি তোমার সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা হলো না কোথাও...."

"যেন তুমি আছ, খালি তোমার সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা হলো না কোথাও...."
কি আশ্চর্য কথা! কি অদ্ভুত!

এই বই নিয়ে অনুভূতি আসলে মিশ্র। কিছু লাইন পড়ে মনে হলো এর থেকে সুন্দর বুঝি আর হয় না। এক লাইনের কিছু কথা কিন্তু বুকে কেমন ধাক্কার মতো লাগে। আবার কিছু লাইন পড়ে মনে হলো কেমন যেন অস্পষ্ট, বড্ড তাড়াহুড়োয় লেখা। আরেকটি বিষয় হলো, বইটি পড়তে পড়তে মনে হয়েছে লেখায় লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের ছাপ রয়েছে। এবং সে হিসেবে গুটিকয়েক বিষয় মিলাতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছি।

আবার বইয়ের সেই লাইনগুলোর কথায় আসি যা পড়ে বুকে ধাক্কার মতো লাগে।
"ভালোবাসা মনে পড়লে ধানকাটা মাঠের মতো একা লাগে।"

জীবন নিয়ে একটা লাইন আছে। লাইনটা পড়ে কিছুক্ষণের জন্য অদেখা শূন্যতায় ডুবে ছিলাম যেন।এরকম ও কি হয়!
"জীবন, শৈশবে জুতা কিনতে যাওয়ার আগে আব্বার মেপে নেওয়া সেই সুতার মতন।"

অবশেষে,
"মা'র কাছ থেকে টাকা ধার চাইলে
মা হাসে-
এটা সেটা বলে তারপর টাকা দেয়
আমি সেই ধার কখনোই শোধ করতে পারিনা।
ঝরাপাতা কি
হেমন্তের ঋণ শোধ করতে পারে কখনো?"

ঠিক যেন আমার ও আমার মায়ের গল্প। মা'র কাছে টাকা ধার চাই। মা বলে না। মা বলে দেবো না। কিংবা বলে 'অনেক সাত সতেরো আর নয় আঠারোর কথা'। টাকা দেয়। আমি টাকা শোধ করি। কিন্তু ঋণ শোধ করি না।

আমি যেন এক ঝরাপাতা আর আমার মা সুন্দর ঝলমলে হেমন্ত।
সামান্য এক ঝরাপাতা হেমন্তের ঋণ কিভাবেই বা শোধ করবে? তাই টাকা শোধ করেই ক্ষান্ত দেই। ঋণ শোধের ঝামেলায় যাই না।
Profile Image for Yeasin Reza.
519 reviews88 followers
November 19, 2023
" বৃষ্টি হলেই কি প্রজাপতির গায়ের রঙ মুছে যায়?"

হাসান রোবায়েতের কবিতার ধরণ আমার বেশ ভালো লেগেছে। যে ধর্মীয় আবহ তে আমি বড় হয়েছি সেসবের একটা গাঢ় ছাপ মনে থাকবেই তা যতই সংস্কারমুক্ত হই না কেনো। আর ধর্মীয় বিশ্বাসের বিশুদ্ধ আবেগ ও পরিশুদ্ধ অনুভবের সাথে কবিতার কোন বিরোধ নেই বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকভাবে দুটো একই মাইনে রাখে। আমি নিজেকে উক্ত কাব্যগ্রন্থে বিশেষভাবে খুঁজে পেয়েছি। মুগ্ধ যে হয়েছি তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
Profile Image for Akhi Asma.
233 reviews465 followers
March 21, 2023
৩.৫ স্টারস!
" কবিতার কাছে আমি কি চাই--
দুধভাত?
ইলিশ মাছের তরকারি?

এসব কিছুই না--

গভীর রাত্রিতে আমার মা যখন
কোমরের ব্যথা নিয়ে হেঁটে যায় কলপাড়ের দিকে
আমার প্রতিটা কবিতা যেন তখন জ্বলে ওঠে
তার সমস্ত পথ জুড়ে--"


অনেকদিন কোন বই পড়তে পারিনি যদিও অনেক বই কেনা হয়েছে, ২০২৩ সালের এটাই আমার প্রথম বই পড়া। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিলো আর আমি এক মগ কফি নিয়ে বইটা পড়তে শুরু করি। ছোট একটা বই। আধা ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেল।

হাসান রোবায়েত এর সাথে আমার পরিচয় ফেসবুক থেকে, এরপরে একে একে উনার সব বই-ই কেনা হয়েছে। এই বইয়ের ও বেশিরভাগ কবিতাই আমার ফেসবুকে পড়া কিন্তু তারপরেও কবিতাগুলো বারবার পড়া যায়।

কবিতায় মা, আব্বা, মাদ্রাসা, বোন, আল্লা এই শব্দগুলো অনেকবার এসেছে। কিছু কিছু কবিতায় বিষন্নতা, লোনলিনেস, প্রেম, বিরহ এইসব বিষয় উঠে এসেছে।

আমি বলবো আমার কয়েকটা কবিতা বেশ ভালো লেগেছে কিন্তু আগের বইগুলোর মতো খুব একটা ভালো লাগেনি।
কবির একটা পান্ডুলিপি পড়ার সুযোগ হয়েছিল আমি ভাবসিলাম ওইটাই এই মেলায় আসবে কিন্তু সেটা আসেনি। ওই পান্ডুলিপির কবিতাগুলো খুবই সুন্দর। ওইটা পড়ার পরে আমি মনে মনে বলতেছিলাম জীবনানন্দ দাশের পরে আমার প্রিয় কবি হলো হাসান রোবায়েত।
যাইহোক, কবিকে অনেক শুভকামনা তার পরবর্তী বইয়ের জন্য।

"চারদিকে বৃষ্টি পড়ছে, কৃষ্ণচূড়ার ডাল থেকে ঝুরঝুর ভেসে যাচ্ছে নিরঙ ফুলগুলো, শুধু দুইটা চোখের আকুলতায় কেটে যাচ্ছে আমাদের অনন্ত জীবনপ্রবাহ, চারদিকে ফরফর করে উড়ে যাচ্ছে সমস্ত হরফ, যেন তুমি আছ, খালি তোমার সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা হলো না কোথাও--"
Profile Image for Akash.
448 reviews153 followers
April 8, 2023
মা'র কাছ থেকে টাকা ধার চাইলে
মা হাসে—
এটা সেটা বলে তারপর টাকা দেয়
আমি সেই ধার কখনোই শোধ করতে পারি না —

ঝরাপাতা কি
হেমন্তের ঋণ শোধ করতে পারে কখনো—?

.......

অনেক অনেক অনেক ভাল্লাগসে কবিতাগুলি। যেন মা'র কাছে ফিরে টাকা ধার চাইলাম, যেন বাবার শরীরে পা রেখে ঘুমালাম, যেন শৈশবে পুকুরে সাঁতার কাটলাম, যেন আমি মরেই বেঁচে গেলাম। আমি শান্তি পাইলাম। আমি শৈশব নামক ঋতুতে চলে আসলাম।


(৮ এপ্রিল, ২০২৩)
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books407 followers
February 25, 2023
বইয়ের নামটা দেখেই কেনা আরকি। ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ। হাসান রোবায়েতের লেখা আগে পড়িনি। ভাবলাম ব্রিজটা পার হই, দেখি অন্য ঋতু পাওয়া যায় কিনা। অনুভূতি মিশ্র। লেখাগুলো আসলে না কবিতা না গল্প, এককথায় বলতে গেলে গল্প-কবিতা। কয়েকটা বেশ ভালো লেগেছে। পড়ার পর ফেলেছি বিষাদের দীর্ঘশ্বাস। পরাবাস্তব ছোয়া আছে, কয়েকটা মোটামোটি আর কয়েকটা বুঝিনি। তবে বেশিরভাগের-ই থিম মাদ্রাসা, মক্তব, মা , বাবা, প্রেম। সবমিলিয়ে মন্দ নয় অভিজ্ঞতা।
Profile Image for Zannat.
41 reviews16 followers
July 6, 2023
অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা ঘিরে ধরেছে আমাকে। জীবনানন্দ, মুরাকামি পড়লে আমি যেরকম বিষণ্ণ বোধ করি, ঠিক সেরকম!
Profile Image for SH Sanowar.
118 reviews29 followers
November 21, 2023
“চারিদিকে বৃষ্টি পড়ছে, কৃষ্ণচুড়ার ডাল থেকে ঝুরঝুর ভেসে যাচ্ছে নিরঙ ফুলগুলো, শুধু দুইটা চোখের আকুলতায় কেটে যাচ্ছে আমাদের অনন্ত জীবনপ্রবাহ, চারদিকে ফরফর করে উড়ে যাচ্ছে সমস্ত হরফ, যেন তুমি আছ, খালি তোমার সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা হলো না কোথাও—”

হাসান রোবায়েতের কবিতা এখানে ওখানে বিচ্ছিন্নভাবে আগেও পড়েছি। কিন্তু এক মলাটে এবারই প্রথম। সবগুলো কবিতাই ভালো লেগেছে, এমনটা বলবো না। তবে সব কবিতার মাঝে কী যেন একটা ছিলো। একটা হাহাকার, একটা আর্তনাদ। কবিতায় সবচেয়ে বেশি আসে নিঃসঙ্গতা আর নস্টালজিয়া।

কবিতার বিষয়বস্তু মুলত মাদ্রাসা, মা, আব্বা, প্রেম, বিরহ, এসব। কবি ঘুরেফিরে বারবার ফিরে যান মাদ্রাসায় পড়বার সময়টাতে৷ কখনো নস্টালজিয়া হাতড়ে ফোপাঁতে ফোপাঁতে ঘুমিয়ে যান মাদ্রাসার বিষন্ন দুপুরে। আবার কখনো, স্মৃতিকাতরতায় ডুবে যান মায়ের চিঠি কেমন হয় ভেবে। মা ক্যানো চিঠি লেখে না? ক্লাস থ্রি পাস মা যদি ভাঙা হাতের অক্ষরে চিঠি লিখতো কেমন হতো সেই চিঠি?

রোবায়েত তাঁর কবিতায় লেখেন,

“হেলেন কেলারের স্টোরি অব মাই লাইফ পড়তে পড়তে আমারও অন্ধ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে তাঁর অনুভব দেখার বর্ণনায়—”

আমি কখনো মাদ্রাসায় পড়িনি। কিন্তু রোবায়েত তাঁর কবিতায় যে অনুভবে মাদ্রাসা, মা, আব্বাকে তুলে এনেছেন তা পড়ে আমারও ইচ্ছে হয়েছে জীবনে একবার হলেও নিজস্ব অভিজ্ঞতায় তা অনুভব করার। কিন্তু তা তো আর হবার নয়। তাইতো বারবার ফিরে যাব কবিতার সেইসব বিষন্ন দুপুরে, মাগরেবের আগে পিয়ন যখন হাতভর্তি চিঠি নিয়ে হাজির হতো তাকে কিভাবে ঘিরে ধরতো সমস্ত তালেবে আলেম তা দেখার। কিংবা ভালোবাসা মনে পড়লে ক্যানো ধানকাটা মাঠের মতো একা লাগে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য ফিরে যেতে হবে বারবার।
Profile Image for Ahmed Maruf.
4 reviews3 followers
February 24, 2023
জীবন
জীবন, শৈশবে জুতা কিনতে যাওয়ার আগে আব্বার মেপে নেওয়া ছোট সেই সুতার মতো।
Profile Image for Rashid.
25 reviews5 followers
April 9, 2024
ব্রিজ পেরুলেই অন্য ঋতুর দেশ

নামটিই একটি আলাদা কবিতার দাবি রাখে। বইটা পড়তে গিয়ে একটা আচমকা প্রশ্ন উঁকি দিল। ধরা যাক মাদ্রাসা-পাস একজন কিশোর/সদ্য কৈশোর পেরুনো তরুণ একদিন নিয়মিতভাবে বাংলা কবিতা পড়ার আগ্রহ করলো। তখন বাংলা সাহিত্য এরকম একটা মার্জিনাল কিন্তু বড় জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক অনেক বিকল্প কি খোলা রেখেছে? নজরুল অবশ্যই, তারপর গোলাম মোস্তফা, ফররুখ ছাড়া খুব বেশি তো কিছু মনে পড়লো না। কিন্তু সমকালীন? (আমার পড়াশোনা বেশি না তাই) আল মাহমুদ ছাড়া তো আর কিছু মাথায় আসলো না। এই বইটা এরকম 'চোখের সামনে কিন্তু দৃষ্টির আড়ালে' রেখে দেওয়া অংশের জন্য একটি সমকালীন ও ভালো সাহিত্যিক প্রচেষ্টা বলে আমার মনে হয়েছে।

বইটার অনেক কবিতাতেই শৈশবের ডালিম ফুলের গন্ধ আর মায়ের গায়ের গন্ধের সাথে মক্তবের আতরের সুবাস সুন্দরভাবে মিশেল খেয়েছে; কবিতা পড়তে পড়তে অনবরত শোনা গেছে দুপুরবেলায় নির্জন কবরের উপর বাতাসের ঝরা পাতার শব্দ। সেই শব্দ একটানা শুনতে শুনতে মনে করতে বাধ্য হই- আসলেই তো,....ব্রিজ পেরুলেই অন্য ঋতুর দেশ।
Profile Image for Muntasir Dhip.
165 reviews3 followers
January 20, 2025
আমার অসুখের দিনে
তাকে দেখে রাইখো আল্লাহ--

তুমুল গ্রীষ্মের দিনে মা যেইভাবে
যত্ন করে গলার নিচে
যত্ন কইরা পাউডার লাগায়ে দিতো--
Profile Image for Jobaida Jui.
54 reviews1 follower
March 24, 2023
আমার মায়ের অসুখের দিনে
তাকে দেখে রাইখো আল্লাহ ---
তুমুল গ্রীষ্মের দিনে মা যেইভাবে
যত্ন করে গলার নিচে
পাউডার লাগায়ে দিত ---

বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ আকর্ষণ করার মতো।গদ্য আকারে লেখা কবিতাগুলো পড়তে ভালোই লেগেছে।কয়েকটা কবিতা অবশ্য আমার মনে ধরেনি।তবে কবিতাগুলোতে হাসান রোবায়েত এর উপমা ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি।সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালো লেগেছে বইটা।
Profile Image for Kazi Wali.
2 reviews4 followers
Read
March 15, 2023
বিষয়ের দিক থেকে এইটা অদ্ভূত বই। পাগলের দুনিয়া, অন্ধত্ব, মায়ের সোহাগের জন্য আকুলিবিকুলি করা হেফজখানার একটা ছেলের মনোজগত, অসুখ, বাপের মৃত্যু, স্বয়ং নিজের মৃত্যু, পাখির সুইসাইড, এসব দিয়ে ভরা।

ব্রিজ পার হইলেই অন্য একটা ঋতুর দেশ যে আবিষ্কৃত হচ্ছে, সেই দেশ আসলে কি? একটা সুস্থ মানুষের ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যাওয়া? মা সুস্থ আর অসুস্থ থাকার মধ্যখানের মনের অবস্থার ফারাক? হোস্টেলে থাকা এক বালকের বাড়িতে যাবার স্বপ্ন? বাপের মৃত্যুর পরের অদ্ভূত নি:স্ব দুনিয়া? নাকি নিজেরই মৃত্যু? যেকোনও কিছুই হইতে পারে৷

মৃত্যু ঘুরেফিরে পুরা বইটাতেই আছে। কিছু কিছু লাইন এত বেদনাদায়ক, মন উদাস লাগে। 'অজস্র হরিণের রক্তে লাল হচ্ছে সন্ধ্যার রঙ... পিঁপড়ারা মুখে করে নিয়ে যাচ্ছে কবরের মাটি__' 'মুর্দা দাফন করার পর যখন সন্তান ফিরে আসে বাড়ি তখনই শুরু হয় আশল পিতৃশোক__'

আরেকটা লাইন আছে, 'শূন্য তিসির খেতে নি:শব্দে মরে যাচ্ছে বাতাস'। বাতাসের মরে যাওয়া কিন্তু ওইরকম আলাদা কোনও মৃত্যু না, কিন্তু পুরা বইতেই এত এত মৃত্যু পড়তে পড়তে হঠাৎ এই জায়গাতেও আপনার মনে হবে, হায়, আরো একটা মরণ!

'নিজের কাফনের গিঁট খুলতে খুলতে হঠাৎ টের পাই রূপালি ফুলের হাওয়া__' এই লাইনটা পড়ার পর আমি শিউরে উঠে বই বন্ধ করে দিই। তখন সাদা রঙের প্রচ্ছদটা রঙহীনতার বাইরে আলাদা একটা রঙ হয়ে চোখে পড়ে৷ এই সাদা প্রচ্ছদ কি কবির আঙুল নেড়ে গিঁট খুলতে থাকা নিজেরই কাফন? এটা মরে যাওয়া না, জেগে ওঠাও না, মাঝামাঝি একটা জগতে বসবাস করে যাওয়া।

বইটাতে আর আছে সমুদ্র। রোবায়েতের সমুদ্রের রূপরসই আলাদা। সমুদ্রের হাওয়াবাতাসে ভরা শহরে বেড়ে ওঠার ফলে সেই রূপরস আমি নিজের জগতের ছোঁয়া দিয়ে অনুভব করতে পারি।

সব কবিই এদিক ওদিক ঘুরেফিরে, জগতসংসার বুঝেটুঝে নিয়ে শেষ পর্যন্ত একদিন শৈশবে ফিরে যায়। রোবায়েতের বাড়ি থেকে মাদরাসায় ফেরা, মাদরাসার বিষণ্ণ দুপুর, বন্ধু আরিফ এসব আমাদের শৈশব আবিষ্কারে একেবারে নতুন এস্থেটিক্স হিসাবে পা ফেলল।
Profile Image for Farjana Rahman.
51 reviews3 followers
October 23, 2025
বই: ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ
লেখক: হাসান রোবায়েত
ধরন: কবিতা
প্রকাশনী: ঐতিহ্য
মূল্য: ১৮০ টাকা।

কবিতা আমরা কেন পড়ি? এর মোক্ষম কোন উত্তর দেয়া হয়তো কঠিন। আমি যে দেখি, যা পড়ি, যা অনুভব করি তাতে হয়তো আমার আনন্দ; কিন্তু কবিতার শব্দে আমি পাই স্বাধীনতার গন্ধ!

একটা কবিতার বইয়ে অনেকগুলো কবিতার মধ্যে হয়তো সবগুলো মনে দাগ কাটে না। যেগুলো আমার কল্পনার বারান্দায় ইজলে নিয়ে আসে, তাদের প্রতি অসীম ভালোলাগা কাজ করে। সেগুলো আমার চেনা দৃশ্য, অনুভূতি বা শব্দের মৌচাকে ভালোলাগার ও ভালোবাসার ক্লোজআপ। খুব নতুন কিছু না। তাহলে এ লেখা আমার হাত ধরে কেন আসে না?

সবচেয়ে নির্জন প্রকৃতিতে ভরা খালের মাঝে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমার দোলনার পাশে আমি কবিতাকে বসতে দেখেছি। সদরঘাটের সন্ধ্যার বাতাসে লঞ্চের ছাদে আমার পাশে কবিতা বসে। সামুদ্রিক বিকেলে নোনা নোনা বন্যতায় নিজের মধ্যে দেখা এস্ট্রাল প্রোজেকসনের পাশে দেখি কবিতা ছায়ার মতোন হাঁটে। কথা হয়। কিন্তু কবিতা ধরা দেয় না। কবিতা ধরা দেয় কবিদেরই হাতে।

কারন, আমাদের খুব চেনা অনুভূতি, শব্দ, বাক্যগুলো আরও গুছিয়ে যারা লিখতে পারেন তারাই কবি। আমারে চেনা শব্দগুলো তখন হয়ে ওঠে ভালোলাগার একক। জেমস্-এর বিজলী গানের "চোখের দেখায় মনের দেখা হয়" কবিতায় খাটে না। উল্টোটাই সই! মনের দেখাটাই আসল। দুর্বোধ্যতার তপস্যা কি তাহলে সফল পদ্যের সিদ্ধিলাভের উপায় - এরূপ ভাবনা অনেক কবির হতে পারে। সে প্রসঙ্গে না যাই, কারন কবিতার টার্গেট অডিয়েন্সেরও একটা ব্যাপার আছে এখানে। কবিতা দুর্বোধ্য কিছুটা - এ ভ্রান্ত নয়। তবে, কবিতা বিজ্ঞাপনের ভাষাও না, যে দু মিনিট দেখেই চোখে জল আসবে, মুখে হাসি আসবে। হাসান রোবায়েতের "ব্রিজ পেরুলেই অন্য ঋতুর দেশ" দুর্বোধ্যতার তপস্যায় ধ্রঅনমগ্ন নয়, বরং তার নিজস্ব চালে পাঠকের বোধের এবং অনুভূতির কাছাকাছিই।

কবিতা অনুভবের বিষয় প্রথমত। বোঝার ব্যাপারটা পরে আসে। epistemology থেকে বরং ontology এর দিকে পাঠকের মূল পাঠ, বা সেটাই হওয়া কাম্য। হাসান রোবায়েতের "ব্রিজ পেরুলেই অন্য ঋতুর দেশ" কাব্যগ্রন্থের বিন্যাসপদ্ধতি এবং উপকরণসমূহ অচেনা না; তবে চেনা অবয়বের ছায়ায় অসামান্য বিষয়গুলো খালি চোখে দেখার উপায় নেই।

essential delusion তো আমাদের জীবন ও যাপনের অংশই। তাই হাসনার রোবায়েতের "জীবন" যখন "আব্বার মেপে নেয়া ছোট সেই সুতার মতন -" অথবা "শারমিন" ও তার সিএনজির চলে যাওয়া আমাদের হলকা চমকে দেয়ার সাথে পিছু তাকাতে বাধ্য করে - তবে যেটা বললাম, অসামন্য বিষয়গুলো এই সাধারন কথার ফাঁকে খালি চোখে দেখাও ওয়ে নাই। এ যেন পাঠকের সংবেদনশীল মননের মৌচাকে হাসান রোবায়েতের মহাজাগতিক ঢিল ছোঁড়া, পাঠকে যেখানে কবির ভাষিক সমান্তরালে - "ডালিমের দানার মতো লাল হয়ে নবীজির দস্তরখানে ফেটে যেতে চায়"। [ভয়:পৃ:৩৮]

"ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ" বইয়ের কবিতাগুলো পড়া শেষে রেশ শেষ হয় না যেন। মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। সোডার গ্লাসে আরাম করে বসে থাকা বিকেলের রোদের মতোন স্মৃতি তুলে ধরছে অন্য গল্প, অন্য রাত। এলিয়েনেশন। ন্যাপথলিনের গন্ধ জুড়ে অন্য যে রিদম - চেনা ও অচেনার মাঝামাঝি "ডিহাইপেনেশন" - এবং ব্রিজ পেরোলেই অন্য বিষাদের স্মৃতি! পুরনো গল্পের খনিজে বিষণ্ণতার কবুতরের বাকবাকুম।

"ব্রিজ পেরুলেই অন্য ঋতুর দেশ" এর ব্রিজ বা ঋতু তথন আক্ষরিক-অর্থে ব্রিজ বা ঋতু থাকে না। এই বইয়ের মলাট তখন হয়ে যায় ব্রিজ। পেরোলেই কবিতা (ঋতু), অথবা "মায়ের চিঠি কেমন হয়?" ভাবনায় একবার স্মৃতির দিকে আর একবার কল্পনার দিকে যাত্রায় "চিঠি" হয়ে ওঠে ঋতু। নিরবচ্ছিন্ন ও নিঃশব্দ বয়ন হয়ে ওঠে হাসনাত রোবায়েতের "ব্রিজ"। পাঠকের ব্রিজ।

হাসান রোবায়েতের ""ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ" তাই "নিজের কাফনের গিঁট খুলতে খুলতে" [তুঁতগুচ্ছের ঘুম: পৃ: ৪৯] পাঠকের নিজস্ব এস্ট্রাল প্রোজেকসন মধ্যে দিয়ে নিজেকেই একটু দেখা।
Profile Image for Ibrahim Nirob.
26 reviews3 followers
March 16, 2023
*ইদানীং আল্লার থেকেও বেশি ভয় পাই মানুষকে— আজান হলেই পাশের মানুষেরা কেমন চ���য়ে থাকে আমার দিকে,* এটা আমার আশেপাশে দেখা চিরায়ত দৃশ্য, কিন্তু এমনভাবে কে আর ভেবেছিল? আমি যখনই কবি হাসান রোবায়েতের লেখা পড়ি তখন এমন বিভোর হই যে চোখ বেয়ে শান্তির ঘুম নেমে আসে, তার লেখার সৌন্দর্যের গভীরতা এত প্রখর যে প্রতিটি কবিতা বারবার পড়ার পরেও ভাবার্থ বের করতে বেগ পেতে হতে হয়। ফেসবুকে কবি'র লেখা নিয়মিত পড়া হয়, নিউজফিডে না আসলে আইডি সার্চ দিয়ে বের করে পড়ে আসি। কারণ হাসান রোবায়েতের ব্যবহৃত প্রতিটা শব্দ কিংবা বাক্য আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়— জানার অনুপ্রেরণা যোগায়— লিখতে শেখায়।

"ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ"— কাব্যগ্রন্থতে টানাগদ্য কবিতার সংখ্যাই বেশি, তবে 'মুসলমানের ছেলে' কাব্যগ্রন্থে ছিল সনেট। টানাগদ্য কবিতা সম্পর্কে প্রথম জানা যায় ফরাসিদেশে— আরো দেড়শো বছর আগেই ফরাসিরা এই প্যাটার্নটাকে এস্টাবলিশ করে গেছে। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে এই ধারাটা একদম অধুনা। সেই হিসাবে নয়, তবুও কবি হাসান রোবায়েতের লেখার স্টাইলটা অধুনা এবং একইসাথে অনন্য। আমার মনে হয় এটাকে রোবায়েতীয় ধারা বলে অভি��িত করাটাই সমীচীন হবে। এই ধারা দিয়ে প্রভাবিত হতে হলে আপনাকে আগে নিজেকে বুঝতে ও চিনতে হবে, নয়তো তাল পাইবেন কিন্তু গুড় পাইবেন না।

*'কবরে নামানোর পর' কবিতায় যেভাবে মুনকার-নাকির ফেরেশতার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, শুধু এই উত্তর দেওয়ার অংশটুকুই আপনার জীবনবোধ পরিবর্তন করে ফেলবে। প্রতিটি কবিতা আপনাকে এমনভাবে আশ্চর্য করবে যে আপনি কোথায় হারিয়ে যাবেন, বুঝতেই পারবেন না! *'কুরবানি' কবিতাটার ভাবার্থ আমাকে একটা অভাবী শিশু সাজতে বাধ্য করেছে, যখন পড়ছিলাম মনে হচ্ছিলো যেন আমিই ঐ শিশু যার বেবুঝ ছোট্টবোনটা রান্না করা গোশতের জন্য বসে আছে থালা নিয়ে কিন্তু এমন দিনেও তাদের কেউ গোশত দিতে আসেনি। পড়ার পর শেষ লাইনটার মতো আমার মাথাও হলুদ বন থেকে উড়ে আসা পাতার মতো নির্জনে নিচু হয়ে গেছে! আমি ভাবি আমার আব্বা যখন অসুস্থ হয়, তখন তো আমারও একই অবস্থা হয়। কবির কবিতা জীবনের সাথে এতই গভীরে কানেক্টেড। *'কোনো কোনো দুপুরে' কবিতায় একাকীত্বের ভয়কে এত নিদারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যেন আমাদের কোথাও জীবন নাই।

কবি তার লেখায় আমাদের জীবনের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা বেদনাগুলো এমন সরল-সাবলীল উপমায় তুলেছেন যে আমি নিজেকে খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি বারবার, দুঃখ আমাকে বাবলাকাঁটার মতো আঁকড়ে ফেলেছে, ইচ্ছে করে নিজেকে ছুটি দিয়ে ব্রিজটা পার হয়ে যাই— পাবো কি অন্য ঋতুর দেশ? অথবা যদিও পেয়ে যাই— সেই দেশটা কাদের নিয়ে হবে— যারা মৃত্যু ভেবে ভেবে 'আল্লা গো' বলে নবীপ্রেমে পাগলপারা হয়েছে তাদের— নাকি পরিবার ছাইড়া আসা হোস্টেল জীবন!—?


রিভিয়্যুতে খুবই স্বল্প আলোচনা করেছি, এর আগেই অন্যান্য রিভুয়্যুদাতারা বইটা নিয়ে পোস্টমর্টেম করে ফেলেছে, ফলে আমি যেটুকু ফাঁকা পাইছি— মোটামুটি সেটুকুই পূর্ণ করতে চাইলাম আরকি— 'মুসলমানের ছেলে' কাব্যগ্রন্থের মতো 'ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ' পাঠকপ্রিয় হোক— জনপ্রিয় হওয়ার প্রয়োজন একদমই নাই কারণ আগেই বলেছি, "আপনাকে আগে নিজেকে বুঝতে ও চিনতে হবে, নয়তো তাল পাইবেন কিন্তু গুড় পাইবেন না।" বাংলা কবিতাকে আপনি যা দিয়ে যাচ্ছেন হয়তো সেই ঋণ পাঠক হিসেবে আমরা কেউই কোনদিন শোধ করতে সক্ষম হব না। কারণ “ঝরাপাতা কি হেমন্তের ঋণ শোধ করতে পারে কখনো?”
Profile Image for Imtiaz Muhammad.
93 reviews
April 23, 2024
একটা বিষণ্ণ গরমের দুপুরে ঘামতে ঘামতে এইসব কবিতা পড়ে অনূভুতি অবশ হয়া আসে৷ পাখির ডাক, গরুর ডাক আর পুকুরের ঘাটে বাচ্চাদের হৈচৈ কবিতাগুলা পড়ার সময় আমারে আরো বেশি শব্দহীন করে তোলে৷ 


বাড়িতে আসলে আম্মুর ব্যস্ততা বাড়ে। ডাব কেটে খাওয়ানো, ভালো আনাজ খুজে রান্না করা আর ছেলের স্বাস্থ্যের উন্নতিই যেন তার একমাত্র ধ্যান৷ কবিতার কাছে তখন আমি চাই আমার মায়ের চলার পথ যেন উজ্জ্বল হইয়া ওঠে কলপাড় তক। অথচ আমি আমার মাকে কোনোদিনই ভালোবাসি বলে জড়ায় ধরতে পারি না। রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসা মাকে কোনোদিন পিছন ফিরে দেখতে পারি না। আমার ভয় হয় মায়ের টলমলে চোখের দিকে তাকাতে৷ মা যেনো হেমন্তের ঝলমলে দিন আর আমি তার ঝরাপাতা।


বাড়িতে নানাভাইয়া গাছগাছালিপূর্ণ বেশুমার জমি রাইখা গেছেন। নানাভাইয়া চলে যাওয়ার পর মহাস্তব্ধ সেইসব পথে হাটতে হাটতে ভাবি এই অপার দুঃখবোধের নিচে আমি একা হইয়া পড়লাম। আর এই যে বারবার অসুস্থতা নিয়া বাড়ি ফিরি, ঈদের ছুটিতে বাড়ি না ফেরা আমি যখন তীব্র মাথার যন্ত্রণা নিয়া মায়ের কোলের ভিতর শুইয়া পড়ি তখন যথার্থ ঠেকে- আমাদের সমস্ত অসুখই তো পূর্বপুরুষের পাশে বসে থাকা প্রতিটা বিষাদ থেকে আসে-- আমরা আসলে পূর্বপুরুষদের বয়ে যাওয়া ক্ষত-


বাড়ি আসলেই আমার হুমায়রার কথা মনে পড়ে বারবার৷ তখন আমার ধানকাটা খেতের মত একা লাগে৷ তখন ওরে ফোন দিয়ে বলতে ইচ্ছা করে খোদার কসম লাগে আমারে ভুলে যাইও না৷ শুধু তোমার বিরহে আমার দিনকাল বহিয়া যায়। আমাদের স্বপ্নগুলা হয়তো আমরা ছুয়ে দেখতে পারবো না আর এই অজানা শংকায় বেহেশতের গাছগুলাও কাপতে থাকে৷ কিন্তু তুমি ফুটে থাকা লাল পপি ফুলের মত আমারে স্বান্তনা দেও। তোমার  স্বান্তনা জলপাইফুলের রজতাভ আলোর মত আমার গভীর স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে নেমে আসে৷ স্বভাববশত আমাদের দিন চলে যাচ্ছে। এমনই কোনো ঘামেভেজা গরমের তপ্ত দুপুরে খোপার বাঁধন খুলে পাশে এসে বসবে৷ তোমার দুই চোখের আকুলতায় কেটে যাবে আমাদের অনন্ত জীবনপ্রবাহ। আর সারেঙ্গির সুরের ভেতর টুপ করে ডুবে যাবে আমাদের জীবন৷ তখন আমার মনে হবে যেন তুমি আছ-- কিন্তু তোমার সাথে আমার দেখা হলো না কোনদিন কোথাও।


এইসবের বাইরে আমার মৃত্যুর কথা বারবার মনে পড়ে। সেইসব আবার ফিরে আসে রোবায়েতের কবিতায়। 

আল্লা গো, নদীতে কুমকুম ফুলের মতন ভেসে যায় আমার বেজান হৃদয়। আমার বিষণ্ণ লাগে। আল্লা গো তোমারে ফাকি দিয়ে নিজেরে ধুলায় মিশাই ফেলি আর ভুলে যাওয়া সুরা গুলা আমি আর মনে করতে পারি না নামাজে। তখন সাতার না জানা আমি হাবুডুবু খাইতে থাকি অথৈ পানিতে। তোমার ঋণ শোধ আমি করতে পারবো না আল্লা গো- তোমার কাছে আমার দেনা পপি ফুলের মত লাল হয়ে থাকে আর আমি বিষণ্ণ পাগল- সমস্ত বাতি নিভায়ে অন্ধকারের দিকে চলে যাই৷ তোমার ঋণের কথা মনে পড়লে আমি চাই একটা সুন্দর নদীতে ডুবে যাওয়ার মত আমার মৃত্যু হোক৷ খুব ধীরে ঢেউ বয়ে যাবে আর কুমড়া ফুলের মত আমার মৃত্যু ফুটে উঠবে সারাটা মাঠজুড়ে৷ 


হাসান রোবায়েতের এই বইয়ের প্রত্যেকটি কবিতা আলাদাভাবে ক্রিটিসিজমের দাবিদার৷ আমি কোনো ক্রিটিক না৷ আমি বড় কবিও হইতে চাই না। শুধু চাই আল্লাহ গো তুমি আমারে হাসান রোবায়েত এর মত একটা কবিতা লেখার তোফিক দিয়ো৷
Profile Image for Shaimon.
15 reviews
August 11, 2023
"ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ"- বইয়ের নামটা খুব সুন্দর যেনো বারবার বলতে ইচ্ছে করে।
আমার ধারণা এই নামটা এমনিই দেয়া হয়নি বরং এর কোনো অর্থ আছে। আমার মনে হয় 'ব্রিজ' দ্বারা কবি মৃত্যুকে বুঝিয়েছেন যা পেরিয়ে গেলে অন্য ঋতুর দেশ বা অন্য জগৎকে আমরা খুঁজে পাবো।
যাই হোক এটা একটা কবিতার বই যার মধ্যে প্রায় প্রতিটি কবিতাই গদ্যে লেখা। কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু কবির ছেলেবেলা, মাদরাসা জীবন, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা বিশেষত মায়ের প্রতি এবং বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব। কবিতার কিছু ভালোলাগার লাইন উল্লেখ করি তবে কিছুটা বিষয়বস্তু বোঝানো যাবে--

একাকীত্ব নিয়ে এই লাইনটা সুন্দর ছিলো :-
"...অপার দুঃখবোধের নিচে মানুষ কত একা..."

'আমার মাকে' কবিতার মধ্যে কবির মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়---
"আমি আমার মাকে কোনোদিনই
বলতে পারি নি 'ভালোবাসি'--
আমি আমার মাকে কোনোদিনই
জড়ায়ে ধরতে পারি নি
হেমন্তের পুরানা পাতার মতো...."

কিংবা 'অসুুখের দিনে' কবিতার কথাও বলা যায়---
"আমার মায়ের অসুখের দিনে
তাকে দেখে রাইখো আল্লাহ--
তুমুল গ্রীষ্মের দিনে মা যেইভাবে
যত্ন করে গলার নিচে
পাউডার লাগায়ে দিত--"

প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায় 'শারমিন' কবিতায়--
"প্রতিটা সিএনজিতে মনে হয় চলে যাচ্ছে শারমিন--"

'পিতৃশোক' কবিতায় দেখা যায় পিতার প্রতি সন্তানের অপার ভালোবাসা--
"পিতার লাশ কাঁধে নিয়ে
যে তরুণ চলে যাচ্ছে গোরস্থানের দিকে
সে-ই জানে একটা মৃতদেহের সাথে সাথে
চলে যাচ্ছে কত কত লজেন্স, সাইকেলের পেছনে
বসে বসে কতদূর যাওয়া, ঈদের কাপড়,
বাজারের ব্যাগ ধরে হেঁটে যাওয়ার স্মৃতি..."

বইটার সব কবিতাই কমবেশি ভালো ছিলো, তবে যেটা সবথেকে ভালো লেগেছে সেটা হোলো 'ঋণ'--

"মা'র কাছ থেকে টাকা ধার চাইলে
মা হাসে--
এটা সেটা বলে তারপর টাকা দেয়
আমি সেই ধার কখনোই শোধ করতে পারি না--

ঝরাপাতা কি
হেমন্তের ঋণ শোধ করতে পারে কখনো---?"

সর্বোপরি, প্রিয় কবিতার বইয়ের তালিকায় এই বইটাও যুক্ত হোলো।
Profile Image for Nusrat Jahan Suha.
31 reviews9 followers
Read
March 28, 2023
হাসান রোবায়েতের মাধুডাঙাতীরে পড়ার পর তার আরেকটা কবিতা বই পড়ার জন্য মন আইটাই করা শুরু করল।এর জন্য রাতেই পড়া শুরু করলাম এই সদ্য প্রকাশিত বই।আগের বইয়ের মতো ছন্দের আবেশে লিখা না কবিতা।গল্পের আবেশে লিখা।আমি যেমন আগে কবিতায় গল্প খুঁজতাম তেমন।ছোট ছোট অনেক গল্প।অনেক সময় শুধু একটা লাইন "ভালোবাসা মনে পড়লে ধান কাটা মাঠের মতো একা লাগে-"।মাকে নিয়ে লিখেছেন,বাবাকে নিয়ে,ঘুরে ফিরে বার বার প্রভুকে স্মরণ করেছেন।আল্লাগো বলে বার বার মাফ চেয়েছেন।ভালো লাগছে।সবটা এক পাকে ভালো লাগার কথাও না।কিন্ত যতটুকু পড়েছি একটানে পড়ে শেষ করেছি।অনেক লাইন পড়ে এত ভালো লেগেছে যে,আমি আবেশে বিমোহিত হয়েছি।আধ্যাত্মিকতাও মিশে ছিলো কবিতায়।কবিতা কি,তার ব্যাকরন বা কিভাবে লিখতে হয় তাও জানা নাই।কিন্ত কবিতা সেই লেখা যা পড়লে মনে হয় আহা এত আমার মনের কথা।" জীবন,শৈশবে জুতা কিনতে যাওয়ার আগে আব্বার মেপে নেওয়া ছোট সেই সুতার মতন—"।"প্রতিটা সিএনজিতে মনে হয় চলে যাচ্ছে শারমিন—"

মৃত্যু

একটা সুন্দর নদীতে ডুবে যাওয়ার মতো মৃত্যু আমার হোক —যেন পাখিরা তাকিয়ে দেখছে আমাকে, ছোট ছোট মাছ তাদের স্বপ্নের ভেতর পাক খেতে খেতে শুনে নিচ্ছে মৃত্যুর সুর—

ঢেউ বয়ে যাচ্ছে খুব ধীরে আর কুমড়া ফুলের মতো আমার মৃত্যু ফুটে উঠছে সারাটা মাঠ জুড়ে—

মৃত্যুর আগে আল্লাহ আমাকে তার জ্ঞান আর সৌন্দর্যের কিছু অবলোকন এর সুযোগ দেন,সেই মোনাজাত করি।আল্লাহ রহম কর।তুমি দয়াময়।
Profile Image for Siam.
2 reviews
February 17, 2024
প্রতি পৃষ্ঠায় করুন সুর৷ যে সুর কবির একান্ত, সেটা হয়ে যাচ্ছে পাঠকদেরও। কবি যখন "আল্লা গো" বলেছে, নিজের ভিতরেও আল্লাহকে এমন ভাবে ডাকতে মন চেয়েছে। প্রতিটা সিএনজি তে শারমিন রা চলে যায়, আর আমাদের ভীড়ের মাঝে আরো একা বানিয়ে দেয় রোবায়েতের লেখা একেকটা লাইন। কবি দীর্ঘজীবী হোক, কবিতা দীর্ঘজীবী হোক।

বয়স বেড়ে যাচ্ছে, মা বাবা বুড়ো হয়ে যাচ্ছে। এই বয়সটাকে, এই অনুভূতিটাকে কবি হাসান রোবায়েত এমনভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন, তা এর আগে কখনো কেউ পেরেছে বলে মনে হয়না। মধ্যযুগের ভারতচন্দ্র রায়গুনাকরের সেই লাইন - " আমার সন্তান যেনো থাকে দুধেভাতে", এতে যেভাবে পিতামাতার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, এই আধুনিক সময়ে এসে কবি হাসান রোবায়েতের লেখাতে গভীর রাতে কোমারের ব্যথা নিয়ে মায়ের কল পাড়ের হেঁটে যাওয়ার কথায় সন্তানের ভিতরের দীর্ঘশ্বাসযুক্ত ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। কোথায় যেনো মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগ একাকার হয়ে গেছে। একই কয়েনের দুটো আলাদা পিঠ।

কবির সাথে দেখা হলে একটা প্রশ্ন করতাম, " ফাতেমা (রা.) কে স্বপ্নে দেখেছিলেন কি সত্যি?" খুব জানতে ইচ্ছে করছে...
Profile Image for Rakibul Hasan Sanjer.
15 reviews3 followers
April 9, 2023
কবিতার বই নিয়ে লেখা দূরহ ব্যাপার। হাসান রোবায়েত সমকালীন প্রিয় কবিদের একজন। যার কবিতায় আছে স্নিগ্ধতা, মাধুর্য, সরলতা, গভীরতা আর মিষ্টি ভালোবাসা।
স্মৃতিচারণ করতে পারা তার কবিতার অনন্য বৈশিষ্ট্য। কবিতার গতানুগতিক নিয়ম ভেঙে লিখে চলছেন কবি। ২০২৩ এর বইমেলায় তার প্রকাশিত বই হচ্ছে, "ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ"।

হেমন্তের প্রেম, গ্রামীণ সজীবতা, সন্ধ্যার বর্ণিল গল্পমালা, মায়ের চিঠি, মাদরাসার স্মৃতিকাতরতা, মাকে মনে পড়ার আত্মচিৎকার ইত্যাদি কবিতার পরতে পরতে গেঁথেছেন।
মেটাফোরিক রহস্যতো হাসান রোবায়েত এর কবিতার অনন্য বৈশিষ্ট যা এইখানেও বিদ্যমান। ছোট দুই লাইন গদ্যময় কবিতার মধ্যে কখন যে তিনি মহাকালের নির্মম সত্য উৎক্ষেপণ করে বসবেন কে জানে!

"জীবন, শৈশবে জুতা কিনতে যাওয়ার আগে আব্বার মেপে নেওয়া ছোট সেই সুতার মতন—"

এমনই আমাদের জীবনে নিয়মিত ঘটে যাওয়া গল্পগুলোকে কবি সুর দিয়েছেন তার কবিতায়। আরো অনেক পড়তে চাই কবি। আপনি লিখুন। 🌻
February 26, 2023
হাসান রোবায়েত পড়া হয় খুব। কবিতা থেকে বিমুখ হওয়া মানুষকে কানে ধরে কবিতার দিকে মুখ করানো একজন কবির নাম। লেখকের জন্য ভালোবাসা। এমন লেখা চলুক এজন্যই যে পাঠকেরা মুগ্ধ হোক বারবার।
Profile Image for Kamrul islam Arafat .
45 reviews
August 22, 2023
কয়েকটা ভালো ভালো লিখা ছিলো

আমার ভালো লেগেছে। মাকে নিয়ে অনেকগুলো লিখা ছিলো।
Profile Image for Md. Shahedul Islam  Shawn.
198 reviews4 followers
July 21, 2025
Empathetic and experiential writing এর অন্যতম লেখার উদাহরণ এই বইটি।
হাসান রোবায়েত on his prime!
Profile Image for Arafat Shaheen.
76 reviews3 followers
March 6, 2023
'মুসলমানের ছেলে' পড়ে ভালোলাগার পর 'ব্রিজ পেরোলেই অন্য ঋতুর দেশ' পড়লাম। বইটি ২০২৩ সালের বইমেলায় বের হয়েছে এবং এবারের মেলা থেকে আমার কেনা একমাত্র বই এটি।

হাসান রোবায়েতের কবিতা আমার ভালো লাগে। এটা কোনো রাখঢাক না রেখেই আমি বলি। এই বইটিও ভালোলাগার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

কয়েকটি কবিতা পড়ার পর আপনাআপনিই মন বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
হাসান রোবায়েতের লেখার নিজস্ব ধরন রয়েছে; যা আমার বিশেষ পছন্দের। গ্রামীণ জনপদের টুকরো টুকরো বিষয়গুলোও তার লেখায় অনন্য হয়ে ওঠে।

কবিতাপ্রেমীদের কাছে বইটি ভালো লাগবে আশা করি। কবির কাছ থেকে নতুন কিছু পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।
49 reviews
March 15, 2023
নাম আর প্রচ্ছদ দেখেই বইটা মূলত কিনা। হাসান রোবায়েতের লেখা এই প্রথম পড়ছি! কিছু কিছু কবিতা বেশ ভালো লেগেছে! পড়ে আরাম পেয়েছি! আবার কিছু খাপ খায়নি ঠিক! পড়ে দেখতে পারেন ভালো লাগবে!
Profile Image for Muna.
55 reviews2 followers
November 2, 2024
কবিতার বই আমায় তেমন টানে না, ২৩ সালের শেষের দিকে বইটা উপহার পেয়েছিলাম। আজকে পড়ে শেষ করলাম বইটা এক বসাতেই। বিষণ্নতার একটা ছাপ রয়েছে বইটার প্রতিটি পৃষ্ঠায়। তবে লেখকের গদ্য কবিতার মিশেল��� আপনি ��ারিয়ে যাবেন। বইটিতে মা নিয়ে কিছু কবিতা, অনুগল্প রয়েছে যেটা আমার কাছে বইটি ভালো লাগার এক অন্যতম অংশ।
Displaying 1 - 28 of 28 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.