নাম রিদয়, কিন্তু ছেলেটা আসলে ছিল হৃদয়হীন। তার উপর যাকে বলে একেবারে বিচ্ছু ছেলে। নষ্টামি করেই দিন কাটত তার। মানুষ বলো, পশুপাখি বলো, কীটপতঙ্গ বলো—সব্বাই অতিষ্ট তার জ্বালাতনে। একদিন সেই বিচ্ছু রিদয় লাগল গণেশঠাকুরের পিছনে। আর যাবে কোথায়! ভীষণ রেগেমেগে গণেশঠাকুর তাকে এমন অভিশাপ দিলেন যে, দেখতে-না-দেখতে বুড়ো আঙুলের মতো ভয়ানক ছোট হয়ে শেষাবধি বুড়ো আংলা যক হয়ে গেল রিদয়। হায় হায়, কী করবে এখন রিদয়? গণেশঠাকুরের শাপে বুড়ো আংলা রিদয় তারপর যা করল আর যা দেখল—তাই নিয়েই এই কৌতূহলকর উপন্যাস, 'বুড়ো আংলা'। গল্পের খিদে যেমন মেটায় এই কাহিনী, সেইসঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় ঔপন্যাসিকের কলম, শিল্পীর তুলি আর কবির কল্পনা—এই তিনের দুর্লভ সংমিশ্রণ ঘটেছে অবনীন্দ্রনাথের এই আসামান্য সৃষ্টিকর্মে। ভিতরে পাতা জোড়া-জোড়া ছবি।
Abanindranath Tagore (bn: অবণীন্দ্রনাথ ঠাকুর), was the principal artist of the Bengal school and the first major exponent of swadeshi values in Indian art. He was also a noted writer. He was popularly known as 'Aban Thakur'. Abanindranath Tagore was born in Jorasanko, Calcutta, to Gunendranath Tagore. His grandfather was Girindranath Tagore, the second son of Prince Dwarkanath Tagore. He is a member of the distinguished Tagore family, and a nephew of the poet Rabindranath Tagore. His grandfather and his elder brother Gaganendranath Tagore were also artists.
বইয়ে লেখা গর্হিত অপরাধ। নাহলে লিখে দিতাম, Emtiaj likes this.
অনেক ভালো লেগেছে বইটা। আর কতদিন পর বাংলা বইয়ের ভালো ইলাস্ট্রেশান দেখলাম। কি কিউট কিউট সব নাম, সুবচনীয় খোঁড়া হাঁস, চকা-নিকোবর, পাঁপড়া নান্কৌড়ি, নেড়োল কাটচাল, লালসেরা আন্ডামানি, পাটাবুকো হামস্ত্রি্ ........... কি চমৎকার সব ছড়া/কবিতা, আহা!
বইটা যেন হুট করে শেষ হয়ে গেল। বইটাতে কোনভাবে যদি মানচিত্র টাইপের কিছুর মাধ্যমে যাত্রাপথ দেখানো যেত তাহলে কি ভালোই না হত! এই পেইজটার মতো!
এই বইটার গুল্লু-গোল্লা, স্বপ্নময় রিভিও কেউ লিখলে তাকে আমি কিটক্যাট খাওয়াবো। প্রমিজ :D
December 01, 2015
এটা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৌলিক লেখা নয়। The Wonderful Adventures of Nils পড়ে যা বুঝলাম আরকি। অনেকটা অংশ বাদ দিয়ে করা অনুবাদকর্ম বলা যায়। তবে সুইডেনের প্রকৃতিকে যেভাবে বাংলা দেশ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন সেটা অসাধারণ। এত এত চমৎকার সব ছড়া! আর আর .. থাক না বলি!
হাতে লেগেছে বইখানার পিডিএফ। কোন সংস্করণ কেউ অনুমান করতে পারেন? আচার্য নন্দলাল বসুর কর্তৃক অলংকৃত এবং সত্যজিৎ রায়ের প্রচ্ছদ ওয়ালা ১৯৫৩ তে প্রকাশিত সিগনেট সংস্করণ। পিডিএফ পাপীও তাহলে স্বর্গে যায়।
ওবিন ঠাকুর চিত্রশিল্পী ছিলেন। জ্ঞানী লোকে বলেন তিনি নাকি সাহিত্যেও সমান দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আমি ভাই মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ। এত বুঝি না। আমার মতে তিনি শুধু ছবিই আঁকতে জানতেন। তা সে প্যাস্টেল বা জলরং দিয়েই হোক, আর কলম দিয়েই হোক। কলমে আবার বড্ড সুবিধা। এক মুহূর্তের বদলে পুরো একখানা যাত্রাই এঁকে ফেলা যায়। দক্ষ চিত্রশিল্পীরও সুবিধা কম নয়, একটি মাত্র কালিতে আঁকেন, একটি মাত্র কালিতে ছাপা হয়, পেড়িয়ে যায় পৌনে এক শতক, তবু যেন এতটুকু রং হারায় না। আর এভাবেই রচিত হয়ে যায় সুবচনীয় খোঁড়া হাঁসের পিঠে করে বুড়ো আংলার রঙ্গিন এক অভিযান।
এতসব আঁকাআঁকির উপর আবারও আঁকাআঁকি। আচার্য নন্দলাল বসু এঁকে দিয়েছেন প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে একখানা করে চিত্রকর্ম। বহুকালে আগের অনাধুনিক প্রেস হয়ে এতটা কাল পেরিয়ে, অজানা কারো স্ক্যানারের সাথে লড়ায়ে খানিকটা ক্ষতি স্বীকার করেও ছবিগুলো হারায়নি তার আঁকিয়ের তুলির দৃঢ়তা, স্বপ্নময়তা। আর সত্যজিতের প্রচ্ছদ খানার কথা আজ না হয় তোলাই থাক, শুধু খুঁজে বের করুন প্রচ্ছদে মানুষের মত আকৃতির কিছু একটা আছে। কে এ? যক্ হয়ে যাওয়া বুড়ো আংলা? না শাপ প্রদানকারী শুঁড় তোলা গণেশ ঠাকুর? গণেশ ঠাকুরের পেট তো মোটা, এ না হয় বুড়ো আংলাই হোক, আর আমরাও না হয় তার সাথে খানিকটা পথ চলি...
বাংলা সাহিত্যের এই মাস্টারপিসটি একই সাথে ফ্যান্টাসি, এডেভঞ্চার, ভ্রমণকাহিনী এবং কিশোর ক্লাসিক। অবন ঠাকুর ফ্যান্টাসি আর কিশোর উপন্যাসের ফাঁকে ফাঁকে শেখালেন ভূগোল আর পাখির নাম। সাথে হিন্দু পুরাণের কিছু অংশ।
অকাল কুষ্মাণ্ড, অকম্মার ঢেঁকি রিদয় নামের কিশোরটি গণেশ ঠাকুরের সাথে দুষ্টুমি করতে গিয়ে তার অভিশাপে 'যক' বনে যায়। যক থেকে ফের মানুষ হবার একমাত্র উপায় কৈলাসে গিয়ে গণেশ ঠাকুরের পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়া। খোঁড়া হাঁসের সাথে শুরু হলো রিদয়ের কৈলাস অভিযান। পথে পথে বিভিন্ন এডভেঞ্চারের সঙ্গী হয় রিদয় আর তার খোড়া হাঁস।
পুরো লেখায় একের পর এক জায়গার সাথে পরিচয় করান অবন ঠাকুর। ভারতবর্ষের ভূগোল চোখের সামনে কল্পনা করেছিলাম ক্লাস সেভেনে এই বইটা পড়ার সময়ে। তখন তো বটেই, সম্প্রতি বইটা রি-রিড দেবার সময়ে মনে হয়েছিলো, রিদয়ের বদলে আমি যক হয়ে হাঁসের পিঠে চেপে কৈলাস যাত্রা করলে মন্দ হতো না!
এডভেঞ্চারের সঙ্গী খোঁড়া হাঁসটির সাথে রিদয়ের কেমিস্ট্রি বেশ ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লাগে যখন রিদয় চকা নিকোবরের দলের সাথে পরিচয় হয়। চকা চরিত্রটি বেশ লেগেছে। একজন জাত নেতার মতো চরিত্রায়ন হয়েছে।
সময়ে সময়ে বিভিন্ন পাখির নাম আর কবিতা পরিবেশন করেছেন অবন ঠাকুর। হিন্দু পুরাণের কিছু ঘটনাও আছে উপন্যাসটায়। সব মিলিয়ে কিশোর উপন্যাস হলেও যেকোনো বয়সী পাঠক যেকোনো সময়ে বইটি পড়ে উপভোগ করবেন।
হার্ড কপি এই মুহুর্তে পাওয়ার সম্ভাবনা নাই তাই সফট কপিই ভরসা। অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে চট করে একটু পড়ে নেয়া হচ্ছে। এবং পড়তে গিয়ে আবিস্কার করলাম রিদয়ের মানস সরোবর যাত্রা আমার পড়া। অন্নেক ছোটবেলায় বাড়ির সব পুরনো বই পড়ে ফেলার পড়ে ঘরের চাতালে বইয়ের সন্ধানে হামলা চালিয়ে কিছু বই উদ্ধার করি। সেগুলোর মধ্যে একটা বাংলা পাঠ্যবই ছিলো। সেটা আব্বুর পাঠ্য ছিলো কি অন্য কারো জানি না। তবে সেই বইয়ে আমি এটুকু পড়েছিলাম এটা পরিস্কার মনে পড়ছে এখন! লাইফ ইজ বিউটিফুল এ্যান্ড শর্ট! :) [৯ ডিসেম্বর ] ভালোই ঘর পালিয়ে ঘোরা হলো ছিযুক্ত রিদয়নাথ পুততুন্ডুর সাথে! :D
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত চিত্রশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সাহিত্যিক হিসেবেও তিনি স্মরণীয়। "অবনীন্দ্র-প্রতিভার মহিমাময় বিকাশ চিত্রশিল্পে সে-কথা সত্য; কিন্তু লেখনীর ব্যবহারে সে-প্রতিভা হৃতমান হয়নি।" -'লেখক অবনীন্দ্রনাথ' ~অমলেন্দু বসু বাংলা শিশুসাহিত্যের তিনি অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের উৎসাহেই তিনি ছোটদের জন্য লেখা শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ তাকে বলেছিলেন, "তুমি লেখ না, যেমন করে তুমি মুখে মুখে গল্প কর, তেমনি করেই লেখ।" আর সত্যিই তিনি তেমনি করেই লিখেছিলেন। খুব সহজ করে তিনি গল্প লিখতেন। না, না, শিক্ষাদানের জন্য লেখা গল্প নয়। আনন্দদানের জন্য লেখা গল্প! তার মতে শিশু সাহিত্যের দায়িত্ব আনন্দদান। তার বক্তব্য: "এ-কালে যেন শখ নেই, শখ বলে কোনও পদার্থই নেই। এ-কালে সবকিছুকেই বলে "শিক্ষা"। সব জিনিসের সঙ্গে শিক্ষা জুড়ে দিয়েছে। ছেলেদের জন্য গল্প লিখবে তাতেও থাকবে শিক্ষার গন্ধ…এখন কেউ গল্প বলে না, বলতেই জানে না।" এই বই লেখার প্রেরণা তিনি নিয়েছেন সুইডিশ লেখিকা সেল্মা লাগেরলফের Adventure of Nils থেকে। অনেকেই বলেন তিনি বইয়ের কাহিনী সূত্র যথাযথভাবে উল্লেখ করেননি। কিন্তু প্রকাশকের নিবেদন অংশে মূল বইয়ের প্রতি যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছিল। বইয়ের মূল চরিত্র রিদয়। নামে যদিও হৃদয়, কিন্তু দয়ামায়া বলতে তার কিছু ছিল না। মানুষ থেকে শুরু করে জীবজন্তু, সবাইকে এমন জ্বালাতন করেছিল যে কেউ তাকে দু চোখে দেখতে পারত না। বয়স বারো বছর। কিন্তু না শিখল লেখাপড়া, না শিখল চাষবাস। শেষে তার বাবা-মা বাইরে যাবার সময�� তাকে তালাবদ্ধ করে রাখত। এমনি একদিন তালাবদ্ধ হয়ে ছিল সে। হঠাৎ দেখল কুলুঙ্গিতে থাকা গণেশ ঠাকুরের মূর্তি জ্যান্ত হয়ে উঠল। রিদয় কখনো জ্যান্ত গণেশ দেখেনি। আজ দেখে তার কি যে মতিভ্রম হলো, বুড়ো আঙুলের সমান গণেশকে সে বন্দি করতে চাইল চিংড়ির জালে! তার এহেন কীর্তিতে রিদয় হয়ে গেল বুড়ো আংলা যক! এরপর শাপ থেকে মুক্তি পেতে রিদয় সুবচনীর খোঁড়া হাঁসের পিঠে চড়ে চলল গণেশের খোঁজে কৈলাস। পথে তারা মিলল বালিহাঁসের দলের সাথে। সেই হাঁসের দল কিন্তু যে সে হাঁসের দল নয়। এ দলের সর্দার চকা নিকোবর, যার ডানহাত পাপড়া নানকৌড়ি, বাঁহাত নেড়োল-কাটচাল। আর আছে লালসেরা আন্ডামানি, চোক-ধলা ডানকানি! নামগুলো কি সুন্দর, না? আর এবইয়ে যে শুধু হাঁসের কথা বলা হয়েছে তা নয়। আরো নানা পশুপাখির কথা এসেছে এ বইয়ে। ইঁদুর, চিংড়ি, পাঁঠা, বোলতা, কুবোপাখি, গোখরো সাপ, কাদাখোঁচা, সজারু, গঙ্গাফড়িং, শালিক, শেয়াল, পেঁচা, কাক, ভাল্লুক, কাঠবেড়ালি, শকুন, খাটাশসহ চেনা-অচেনা কত কত প্রাণি। তবে এই যে এতো এতো প্রাণি তার বেশিরভাগই তো আজকাল দেখাই যায় না। এর দায় তো আমাদেরই। সে বিষয়েও খানিকটা কথা আছে। আর স্থানের বর্ণনাগুলোও দারুণ। "হলদে ছকগুলো সরষে ক্ষেত – সোনার ফুলে ভরে গিয়েছে! মেটে ছকগুলো খালি জমি — এখনও সেখানে ফসল গজায়নি। রাঙা ছকগুলো শোন আর পার্ট। সবুজ পাড় দেওয়া মেটে-মেটে ছকগুলো খালি জমির ধারে-ধারে গাছের সার। মাঝে মাঝে বড়-বড় সবুজ দাগগুলো সব বন। কোথাও সোনালি, কোথাও লাল, কোথাও ফিকে নীলের ধারে ঘন সবুজ ছককাটা ডোরা-টানা জায়গাগুলো নদীর ধারে গ্রামগুলি - ঘর-ঘর পাড়া-পাড়া ভাগ করা রয়েছে। কতগুলো ছকের মাঝে ঘন সবুজ, ধারে ধারে খয়েরি রঙ - সেগুলো হচ্ছে আম-কাঁঠালের বাগান - মাটির পাঁচিল ঘেরা। নদী, নালা, খালগুলো রিদয় দেখলে যেন রুপোলি ডোরা নক্সা - আলোতে ঝিকঝিক করছে। নতুন ফল, নতুন পাতা যেন সবুজ মখমলের উপরে এখানে-ওখানে কারচোপের কাজ! – যতদূর চোখ চলে এমনি! আকাশ থেকে মাটি যেন শতরঞ্জি হয়ে গেছে..." আকাশ থেকে শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশের কি দারুণ বর্ণনা! পড়তে পড়তে মনে হয় আমিও যেন ওদেরই সঙ্গে সুবচনীর খোঁড়া হাঁসের পিঠে চড়ে তাদের সাথে চলেছি মানস সরোবর।বর্ণনা তো নয়, এ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা নিখুত ছবি। অবশ্য অবন ঠাকুর তো শিল্পীই ছিলেন। অনেকে তো পুরো বইটাকেই রংতুলি দিয়ে আঁকা একখানা ছবির সাথে তুলনা করেন। যদিও এটা ছোটদের জন্য লেখা, তবুও এ বইয়ে ভাববার, চিন্তা করবার অনেক রসদই আছে। ছোটদের জন্য লেখা বই হলেও এতে হেলাফেলার ভাব নেই মোটেও। "চোখ দিয়ে দেখাই হল আসল দেখা, ঠিক দেখা, আর চোখ বুজে ধ্যান করে দেখবার মানে খেয়াল দেখা বা স্বপন দেখা। খেয়ালিদের বিশ্বাস কোরো না, তা তাঁরা ঋষিই হন, কবিই হন, যা দুই চোখে দেখছি তাই সত্যি, তা ছাড়া সব মিছা, সব কল্পনা, গল্পকথা, খেয়াল!" রামছাগলের এ কথায় সুবচনীর খোঁড়া-হাঁস বলল, "চোখে না দেখলে কোনও জিনিসে বিশ্বাস করা শক্ত। কিন্তু এই পাহাড় পর্বত কুয়াশায় যখন দেখা যায় না, তখন কি বলতে হবে কুয়াশার মধ্যে কিছু নেই? না বলতে হবে, সূর্য চন্দ্র আকাশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ঠিক জিনিস সব সময়ে চোখে পড়ে না, সেইজন্য এই দুই চোখের উপরে নির্ভর করে থাকি বলে আমরা কোনওদিন মানুষের সমান হতে পারব না। মানুষের মধ্যে যাঁরা ঋষি, যাঁরা কবি, তাঁরা শুধু দুই চোখে দেখলেন না, তাঁরা ধ্যানের চোখে যা দেখতে পেয়েছেন সেগুলো ধ্যান করে কেতাবে লিখেছেন..." তিনি যদিও আনন্দদানের জন্য লিখেছেন, তবুও এ কথাগুলোয় কি শেখার বা ভাবার কিছুই নেই? সে শিক্ষা থাকুক আর না থাকুক এ বইয়ে আনন্দ কিন্তু ষোলো আনাই আছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বইটা যেন আগাগোড়াই আনন্দ দিয়ে মোড়া। বইটায় অ্যাডভেঞ্চার অ্যাডভেঞ্চার ভাব আছে, আবার খানিকটা ফ্যান্টাসিরও ছোঁয়া আছে। শিশুকিশোর পাঠকদের জন্য দারুণ একটা বই।
ভালো লাগার মূল কারণ পড়বার মূল কারণের সাথে বাঁধা। গোটা কাহিনী অনেকের হয়ত না-পছন্দ হবে।
গোটা কাহিনীর গোটাটা খুব বেশি বড়ও না। আমি দ্যতিয়েনের একটা সাক্ষাতকারে দেখলাম সে বলতেছে কাকার চেয়েও এই ভাইপোর লেখা তার বেশি ভালো লাগে। ভাবলাম পড়তে হবে, ভাষাটা নাকী এই সেই।
ভাষাটা আসলেই এই সেই। বাংলায় দখল খুবই ভালো এনার, মোটের উপর সংস্কৃতঘেষা হতে পারে, কিন্তু বেশ মজেছে পড়তে। এই বইয়ে একেকটা শব্দ সে এক ধরনের দক্ষতার সাথে ছুড়ে দেয়। এটাই হয়ত ছবি লেখা, কে জানে।
ছোটোবেলায় কেনো পড়ি নাই? দুঃখ থাকবে, কিন্তু পড়া দরকার ছিলো এখন। ভাষাটা কি দারুণ রে বাবা। গল্পটাও ভালো। বেশ আসর বসায়ে শোনানোর মত। এই বই কেনো পাইরেসি হয় না। ধ্যেত্।
বাংলা উপন্যাসে মুসলিম চরিত্র নিয়া যারা চিন্তিত, একজন মুসলমান চরিত্র পাওয়া গেছে এই উপন্যাসে। এদিকে গুডরীডসে দেখলাম, কে যেনো কয়ে রাখছে যে রবি-কাকুর সাথে ভাস্তে-অবনের গোল ছিলো। আমি শুনছি অবনকে লেখায় উৎসাহই দিয়েছে কাক্কু। রবিঠাকুরের সাথে এত মারামারির ইতিহাস সবাই কয় পায়। ছেলেবেলায় ত নজরুলের সাথেও লাগালাগি ছিলো শুনতাম।
লেখকের কল্পনার সাগরে হাবুডুবু খেয়ে সুবচনী হাঁসের পিঠে চড়ে দুনিয়া ঘুরে এলুম। আরো একটু ঘোরার সাধ ছিল। হঠাৎই আকাশ হতে ধপ্পাস করে মাটিতে পড়ে গিয়ে বাস্তবে ফিরে এলুম। :(
বইটাতে অবনীবাবু যত সুন্দর করে উপমা, আর প্রকৃতির বর্ণনা করেছেন এমনটা বোধহয় খুব কম লেখকই পারেন। বইটা ১৪/১৫ বছরের কোনো ছেলে মেয়ের হাতে পড়লে সে নির্ঘাত আত্মহারা হয়ে পড়বে পড়ে। এত সুন্দর!
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শব্দের জাদুকর বলবো নাকি শ্রেষ্ঠ কল্পকার?! চমৎকার একটা কল্প অ্যাডভেঞ্চারকে মিষ্টি মিষ্টি শব্দ দিয়ে বুনে আস্ত একখান উপন্যাস বানিয়ে ফেললেন!
"বুড়ো আংলা" নামটাই এতো মিষ্টি! আরো আছে মজার মজার কতো নাম- সুবচনীয় খোঁড়া-হাঁস, চকা-নিকোবর, হংপাল, নেড়োল কাটচাল, লালসেরা আন্ডামানি, যোগী-গোপা! আর পাতায় পাতায় সব্যসাচী মিস্ত্রীর আঁকা চমৎকার ইলাস্ট্রেশান! সাথে আছে মজাদার ছড়া!!
একেবারেই শিশুতোষ একটা বই। অথচ এই বড়বেলায় পড়তে আমার একটুও খারাপ লাগেনি।
অ্যাডোর্ন পাবলিকেশনকে ধন্যবাদ চমৎকার এই কিশোর ক্লাসিককে নতুন করে ছাপিয়ে পড়বার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য!
আমার ছোটবেলা সহনীয় হয়েছিলো যে গুটি-কয়েক বইয়ের বারংবার পঠনে, তার মধ��যে অন্যতম হলো এই ক্লাসিকটি| "ছবি লেখে" যে অবন ঠাকুর, তাঁর এই অমর সৃষ্টির সঙ্গে এখনো পরিচিত হয়নি এমন দুর্ভাগা কোনো বাঙালি যদি থেকে থাকেন, তবে তার প্রতি ঢালাও সহানুভূতি রইলো| আর রইলো একটি অনুরোধ: বইটি পড়ুন, পড়ান, এবং অন্য কোনো অভাগা বাঙালিকে হাতের কাছে পেলেই বইটি পড়ানোর চেষ্টা করুন|
The name is Hridoy. but the boy was actually heartless. Absolutely a scatterbrained boy. He used to spend his days doing mischief. People, animals, insects, everyone is very annoyed by his infuriating nature. One day, the boy started to exasperate Lord Ganesha, And where to go! Lord Ganesha cursed him so badly that he became as small as a thumb and named as "Buro Angla" (Thumbkin) Now what will Hridoy do? What an adventurous story it is.. For a while I felt like I was back in my childhood.
A beautiful tale of heroism and friendship. And of course the way Abanindranath Thakur weaves the folklore and myths of Bengal into a tapestry of wonder is beyond my appreciation.
P.S - The book Buro Angla is also available in translated version named: Thumbkin.
বুড়ো আংলার আনন্দ পাবলিশার্স সংস্করণ। আচার্য নন্দলাল বসুর করা চ্যাপ্টার হেড গুলোর জায়গায় যুক্ত হয়েছে ছোট ছোট ড্রপক্যাপ আকৃতির কিছু চ্যাপ্টার হেড আর কাহিনীর ভিতরকার কিছু দৃশ্যে নিয়ে আশিস সেনগুপ্তের করা কিছু অলংকরণ। ওবিন ঠাকুর যে শব্দ দিয়েই ছবি আঁকেন, ওদের আবার কিছু দৃশ্যের ছবি। ছবি যতই ভাল হোক (খুব বেশি ভালও নয়), কিছুটা বাহুল্য মনে হবেই। চ্যাপ্টার হেডের ছবিগুলোতে আবার আচার্য নন্দলাল বসুর আঁকার স্টাইল অনুকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। চেষ্টা কিছুটা বিব্রতকর। প্রচ্ছদটাও ক্যামন যেন ম্যারম্যারে রংয়ের।
অলংকরণ এবং প্রচ্ছদ দেখে খুশি হলে হয়তো তারা একখানা বাড়িয়ে দেয়া চলে, কিন্তু এসব দেখে খুশি না হলে আবার একখানা তারা পকেটে রাখা যায় না। পৃথিবী সরল নয়।
অনেক অনেক কিছুর তুলনায় কিছুই নয় এমন যতসামান্যই পড়া হয়েছে। ছোটবেলায় কেন পড়া হয়নি! এপ্রশ্নের জন্য কোন আক্ষেপ নেই, আক্ষেপ ক্ষেত্রটুকু এই ন্যারেটিভের সাথে আগে কোনপ্রকার পূর্বপরিচয় ছিল না! এ যে গল্প-কাহিনী ছিল না, ছিল ছবি-কাহিনী। লেখক বাংলাটা বেশ ভালো জানেন বলে সংস্কৃতের আনাগোনা থাকলেও সেটা কখনো কটু স্বাদের উদ্রেক করেনি।
বইটা কিশোর বেলায় পড়া এক রত্ন। যত দূর মনে পড়ছে ৭ম শ্রেণিতে (৮ম ও হতে পারে) থাকতে পড়েছিলাম। বইটা এতই ভালো লেগেছিলো যে পড়া শুরু করার দিনেই শেষ করেছিলাম। এখন অবশ্য কাহিনীর অনেক ভূলে গেছি। আবার একবার চোখ বোলানো দরকার।
মজার কথাটা না বললেই নয়, আমি আর আমার বন্ধু মিলে স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বইটা চুরি করেছিলাম কিন্তু আমার বন্ধু বইটা পড়তে পারে নি। তবে আমার সংগ্রহে এখনো আছে 😁😁 জয় বই চোরাদের জয়।
পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে এই বইটা নিয়ে সুন্দর একটা এ্যানিমেশন মুভি হতে পারে! এ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর, সুন্দর মেসেজ, প্রকৃতির বর্ণণা, একটু পর পর কবিতা! তবে বইয়ের ভেতরের ছবিগুলো রঙিন হলে আরো বেশি ভাল লাগত। আর প্রিন্টিং মিস্টেক মনে হয় বাংলা বইগুলো এড়াতে পারেই না। সামান্য হলেও থাকে! -_-
বুড়ো আংলা -অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 'বুড়ো আংলা', ভূগোল আর ফ্যান্টাসির এক মেলবন্ধন নিয়ে রচিত শিশুতোষ অনবদ্য এক কাহিনী। মূল চরিত্র রিদয়। প্রচণ্ড দুষ্ট এক ছেলে রিদয়, যার অত্যাচারে অতিষ্ঠ আশেপাশের সকল প্রাণী। গণেশ ঠাকুরের বাহন, ইঁদুরকে বিরক্ত করার জন্য অভিশাপে বুড়ো আঙ্গুলের মত ছোট হয়ে যায় রিদয়। এর পর শুরু হয়, কৈলাশ যাত্রা। কারণ, গণেশ ঠাকুরের দেখা মিলবে কেবল কৈলাশে। তখন, অভিশাপ মুক্ত হতে পারবে রিদয়। হাঁসের পিঠে চড়ে কৈলাশ যাত্রার সময়, বিভিন্ন ভৌগলিক স্থানে যাত্রাবিরতীতে নানান ফ্যান্টাসি আর এডভেঞ্চার ঘটনা ঘটতে থাকে রিদয়ের জীবনে। মূলত এটাই কাহিনী। তবে, বইয়ের সব'চে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গল্পের ছলে ছলে বিভিন্ন স্থানের ভৌগলিক বর্ননা। আর, ৫০ টির অধিক পশু-পাখির নাম সংযুক্ত হয়েছে কাহিনীর প্রবাহে। গল্পের ছলে দারুন এক শিক্ষনীয় বই এটি। 'বুড়ো আংলা' রচিত হয়েছে 'সেগ্মা লাগেরলফ' এর শিশুতোষ উপন্যাস 'The Wonderful Adventures Of Nails' অবলম্বনে। সেগ্মা নোবেল বিজয়ী সুইডিশ লেখক। তিনি প্রথম মহিলা নোবেল বিজয়ী। তাঁর নোবেল প্রাপ্তি আরেকটি কারনে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, সেটা হচ্ছে তিনি একমাত্র লেখক যাঁকে নোবেল দেওয়া হয়েছে শিশুতোষ সাহিত্য সৃষ্টির জন্য। এখানে, দুঃখের বিষয় হচ্ছে 'বুড়ো আংলা' এর আধুনিক কোন সংস্কারেই সেগ্মা এর নাম উল্লেখ নেই। তবে, বইটি যখন 'মৌচাক' পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়, প্রকাশক যথাযথ নিবেদনের মাধ্যমেই এটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। আবার, বইটির প্রথম সংস্করনে, অবনঠাকুর ও যথাযথভাবে সেল্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মূলথিম আর প্লট ছাড়া সেল্মার 'নেইল' এর সাথে অবনঠাকুরের 'আংলা' কোন মিল নেই।
নামে এটি একটি কিশোর উপন্যাস। কিন্তু আসলে এটি অদ্ভুত ধরনের ভ্রমণ কাহিনীও বটে। অনেক ভ্রমণ কাহিনীতেও হয়তো এতো এতো জায়গার নাম থাকেনা বা কথা প্রসঙ্গে এত ছোট ছোট উদাহরণ আসে না। পাখিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা বইটিতে পাখিদের জীবন যাপনের অদ্ভুত কৌশল জেনে বিস্ময় লেগেছে। তাদের যাত্রাপথ নির্বাচন প্রক্রিয়া, উড়ার কৌশল, প্রতিকূল পরিবেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বাঁচা সহ তাদের অনেক কথাই এসেছে।
যেগুলো ভৌগলিক জায়গার নাম বা বিবরণ এসেছে তাদের অনেকের নাম জানা ছিল আর কিছু অজানা। তবে তবে ভৌগলিক অবস্থান জানা থাকলে আরো বেশি উপভোগ্য লাগতো। যদি বইতে একটা যাত্রা পথের মানচিত্র থাকতো বিষয়টা খুবই ভাল হতো।
বইয়ের অন্যতম দিক অনেক অনেক মজার মজার ছড়া, ছোট আর বড়। তবে অনেক ছড়াতে মজা পেলেও বেশ কিছু ছড়া দুর্বোধ্য আমার জন্য, ছোটদের জন্য তো অবশ্যই।
এছাড়া গল্পের মাঝে মাঝে কিছু ধর্মীয় গল্পও চলে এসেছে যেটা ভালো ছোটদের তথা বড়দের জন্য যদিও সেটা হিন্দু ধর্মীয়। একটা হলো শিব আর সতী আর একটা হলো মহাভারতের ছোট একটা অংশ।
গল্পের সব থেকে ভালো লেগেছে পশু পাখি বিশেষ করে বুনো হাস চক আর খোঁড়া হাস এর কাহিনী। তাদের দলের সাথে মানিয়ে নেয়া, অন্য জন্তু থেকে বাঁচতে দলবদ্ধ হয়ে থাকা ইত্যাদি। আর শেষে খোঁড়া হাস আর বালিহাসের প্রেম সত্যিই মধুর লেগেছে। পাখিদের মনে হলো নতুন করে চিনলাম। সর্বোপরি পাখিদের সাথে কৈলাস যাত্রা বেশ উপভোগ করলাম।
বিচ্ছু ছেলে রিদয়ের যন্ত্রণায় সবাই অতিষ্ট। সারাদিন তার মাথায় ঘুরে কি করে একে তাকে ধরে জ্বালানো যাবে। গণেশকে জ্বালানোর শাস্তি স্বরূপ শাপে বুড়ো আঙুলের মতো ছোট হয়ে যক হলো রিদয়। বুড়ো আংলা হয়ে সুবচনীর খোঁড়া হাঁসের পিঠে চেপে সে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের গল্প এটা।
ওবিন ঠাকুর গল্পের ছলে পুরো ভারতবর্ষ ঘুরিয়ে আনলেন সেই সাথে দিলেন ভূগোলের পাঠ, পূরাণের পাঠ, জীবনের পাঠ আর ভালো ছেলেটি হয়ে থাকার উপদেশ। রূপকের মাধ্যমে অনেক কিছুই বলেছেন।
এই গল্প একেক বয়সের মানুষের কাছে একেকরকম অর্থ হয়ে ধরা দেবে।
ছোটবেলায় গুগল পূর্ব যুগে আমার প্রিয় বন্ধু ছিল শিশুবিশ্বকোষের ৫টি খণ্ড। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি দেখতাম তখন, তারপর জানলাম ভদ্রলোক লেখালেখিও করেন। বড় হওয়ার পরে বাচ্চাদের জন্য লেখা বই পড়তে সাধারণত ভালো লাগে না, কিন্তু "বুড়ো আংলা" পড়ে আমি একই সাথে মুগ্ধ আর বিস্মিত।
বাংলাদেশের এত পাখির পরিচয়, প্রকৃতির এত সুন্দর বর্ণনা, সহজ উপমায় খুব কঠিন জীবনের শিক্ষা, অবারিত কল্পনার জগত আর সাথে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি- বইটি আমার দারুণ লেগেছে।
This masterpiece precisely shows how to write a fantasy. When I was reading it, I was in 6th std in school. This was one of the best ones of my small collection. Abanindranath Tagore was and always will be a pioneer in children literature. A gift from my parents, this was a real treat and cherished one in my childhood. The Art and the story both are just perfect.
কে বলে ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া যায় না? এই ত আমি ঘুরে আসলাম বুড়ো আংলা-র সঙ্গে সুবচনীর খোঁড়া-হাঁসের পিঠে চড়ে অবন ঠাকুরের ছবি লেখা পথে। যে যেতে চান, যতবার যেতে চান যেতে পারেন। আমার বার বার ফিরে ফিরে যাবার ইচ্ছে আছে।
কিছু কিছু বই বয়সের গণ্ডি মানে না। শিশুদের জন্য লেখা হলেও তারা বড়দের হৃদয়ে ঠিকঠাক জায়গা করে নেয়। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "বুড়ো আংলা" সেইরকমই এক অপূর্ব সাহিত্যকীর্তি, যা শুধু ছোটদের জন্য লেখা ‘গল্প’ নয়—একটি সময়হীন জার্নি, একটি মায়াবী উড়ান, আর একটি মানুষ হয়ে ওঠার আখ্যান।
শুরুতেই চমক। রিদয় নামের এক দুর্বিনীত ছেলে, যার হৃদয় যেন প্রাণীদের প্রতি সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর। কুকুর, হাঁস, পাখি কারও প্রতিই তার দয়া নেই। একদিন সে মজা করতে গিয়ে গণেশঠাকুরের উপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে! ফলত, রেগে গিয়ে গণেশঠাকুর তাকে দেন ভয়ানক এক অভিশাপ—সে রূপ নেয় একটি বুড়ো আঙুলের মাপের ক্ষুদ্র যকে। এখান থেকেই শুরু হয় গল্পের পরাবাস্তব উড়ান—রিদয় এখন ‘বুড়ো আংলা’।
এই ছোট্ট রুপান্তরিত রিদয় নিজের খোঁড়া হাঁসের পিঠে চড়ে উড়তে থাকে দূর থেকে দূরান্তরে—কখনও সুবচনীর সঙ্গে, কখনও পাখিদের, শামুকের, বকের সঙ্গে। মাটির সঙ্গে, প্রাণীর সঙ্গে, আর সর্বোপরি নিজের অন্তরের সঙ্গে তার গভীর পরিচয় ঘটে। যে ছেলেটি এক সময় হৃদয়হীন, দায়িত্বহীন এবং অহঙ্কারী ছিল, সে-ই ক্রমে হয়ে ওঠে সংবেদনশীল, সহানুভূতিশীল, প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি যত্নশীল এক নায়ক।
এই রূপান্তর শুধু তার শরীরের নয়, আত্মারও।
মূলত সেল্মা লাগারল্যোফ-এর সুইডিশ ক্লাসিক The Wonderful Adventures of Nils থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বইটি রচনা করেন, কিন্তু সেটিকে তিনি শুধু অনুবাদ বা অনুসরণে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং তিনি এই বিদেশি কাঠামোর ভেতরে ঢেলে দিয়েছেন বঙ্গীয় মাটি, গন্ধ, ভাষা আর সংস্কৃতির রসায়ন। বাংলার পাঁচালি, লোকধর্ম, কৃষিনির্ভর সমাজজীবন, পাখিদের ডাক, সাপ-ব্যাঙের চিহ্নভাষা—সব মিলিয়ে ‘বুড়ো আংলা’ হয়ে ওঠে এক নির্মল, দেশজ, সাহিত্যমূল্যবান সৃষ্টি।
অবন ঠাকুর ছবি আঁকতেন, সে তো জানা কথা। কিন্তু এখানে তিনি শব্দ দিয়ে ছবি আঁকেন—ভাষা যেন জলরঙের মতো পাতলা পাতলা হয়ে চরিত্রের গায়ে বসে যায়। “ছবি লেখেন” কথাটার তাৎপর্য বোঝা যায় যখন পড়তে পড়তে দেখি রিদয়ের চোখে কীভাবে প্রকৃতি ধরা দেয়, কীভাবে পশুপাখিদের হৃদয় আর জীবনের গল্প সে উপলব্ধি করতে শেখে। মাটির কাছাকাছি যেতে যেতে সে যেন সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠে।
শিশু-কিশোরদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে দারুণ রোমাঞ্চকর, মজাদার, আর মানবিক শিক্ষায় ভরপুর এক অ্যাডভেঞ্চার। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্যও এটি যেন এক ‘সারল্যে ফিরে যাওয়া’র টনিক। এমন একটা বই যা বড় হয়ে যাওয়ার ক্লান্তি থেকে খানিক ছুটি দেয়, মনে করিয়ে দেয় কল্পনার শক্তি, প্রকৃতির রহস্য, আর হৃদয়ের নিঃশর্ত কোমলতার কথা।
লেখার ছন্দময়তা, প্রকৃতিপ্রেম, লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া—সব মিলিয়ে ‘বুড়ো আংলা’ একটি মাইলফলক। এটি বাংলা সাহিত্যের সেই ধারার প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা আসে, কিন্তু কোনও প্রচারধর্মিতা নয়—কেবল গল্পের মাধুর্য, ভাষার জাদু আর মননশীলতার আলোকপাত।
যাঁরা এখনও বইটি পড়েননি, তারা যেন দেরি না করেন। আর যাঁরা ছোটবেলায় পড়েছেন, তারা একবার অন্তত প্রাপ্তবয়স্ক চোখে ফিরে তাকান এই বইয়ের দিকে—দেখবেন, ‘বুড়ো আংলা’ এখনও ঠিক ততটাই জাদুকরী, ততটাই শুদ্ধ। আপনি হয়তো বড় হয়েছেন, কিন্তু আপনার ভেতরের শিশুটি এখনো বুড়ো হয়নি। আর সেই শিশুটিকেই আদরে জাগিয়ে তুলবে এই ছোট্ট, চিরন্তন, আশ্চর্য বইটি।
অসামান্য বললেও কম হয়। সেই ক্লাস সেভেনে পড়া। ১৯৯৩ সাল। না পড়ে থাকলে অবিলম্বে পড়ুন।
রুপকথা বরাবরই আমার প্রিয় আর এই বইটা একদম ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।এত সুন্দর কল্পনার জগতে প্রবেশ করে আর সেখান থেকে ফেরার ইচ্ছা করবে না।কি নেই এই বইতে; রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, ভৌগলিক পরিচিতি, হাস্যরস সবকিছু মিলিয়ে একদম মনের মতো।