রাষ্ট্রীয়-সামাজিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত প্রিসিলা এক যুবতী নারী, যে রাসেলকে বিয়ে করেছিল ভালোবেসে। রাসেলের বাবা নেই। মা আছে, কিন্তু অচিরে তার মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া রাসেলের একটি ছোট ভাই আছে, সেও বিবাহিত এবং সন্তান নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু তার সামনে কোনও পথ নেই। স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে গর্ভধারণ করলে রাষ্ট্র স্বামীকে ফাঁসিতে লটকাবে। তাদের এমন আর্থিক সঙ্গতিও নেই যে মরণাপন্ন কোনও মানুষের প্রাণস্বত্ব কিনে সন্তানলাভের অনুমতি সংগ্রহ করবে। প্রিসিলার জন্য এক মহাসংকট, যার বিবরণ পাঠ করতে করতে পাঠকের শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসবে। পাঠকের মনে হবে লেখক তাঁকে টেনে নিয়ে গেছেন ২০৫০ সালের কল্পিত সেই দেশে, যেখানে মা ডাক শোনার বাসনায় মরিয়া নারীরা স্বামী ও প্রেমিকদের ফাঁসিকাষ্ঠে পাঠিয়ে দিতে বা বিষ খাওয়াতে দ্বিধা করে না, শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গোনে..
আক্ষেপ দিয়েই শুরু করছি। বাংলা ভাষায় এত অসাধারণ একটা ডিসটোপিয়ান সাই-ফাই নভেলা, অথচ পড়েছে হয়তো হাতে গোণা কয়েকজন পাঠক। ছোট্ট কলেবরের বইটা আজ থেকে আঠারো বছর আগে মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত। প্রিসিলাকে নিয়ে তুখোড় আলোচনা হবার কথা ছিল সাহিত্যের পাতায়, কলামে অথবা বৈঠকী আড্ডায়। আফসোস!
দ্বিতীয় খুনের কাহিনি, ঘোড়ামাসুদ, মাংসের কারবার, জুবোফস্কি বুলেভার, বাবা, তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত - মশিউল আলমের কলম থেকে জন্ম হয়েছে চমৎকার সব উপন্যাস আর ছোটগল্পের। সেই হিসেবে তার মূল্যায়ন হয়েছে কতটুকু? উত্তরটা জানা নেই।
(উল্লেখ্য যে, ঘোড়ামাসুদ বইয়ে লেখক শহীদুল জহিরীয় রীতি অবলম্বন করেছিলেন। দীর্ঘ জটিল বাক্য, ভিসুয়াল পার্স্পেক্টিভ থেকে ন্যারেশন - এইসব আরকি! মশিউল আলমের বইগুলোতে এমন এক্সপেরিমেন্ট সদাশই লক্ষণীয়; অনেকের কাছে সেই ভাষারীতি দুর্বোধ্য বলে মনে হতে পারে। তবে প্রিসিলার বর্ণণাভঙ্গীকে অতি সাবলীল, সুখপাঠ্য বলা যায়।)
আপাতত প্রিসিলা নিয়ে আলাপ করা যাক। নাম চরিত্র প্রিসিলা আর তার স্বামী এই বইয়ের মূল চরিত্র। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে(২০৫০ সালে) আইন পাশ হয়েছে, ইচ্ছে হলেই কোন দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে পারবে না। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ চলছে; আইন অমান্য করে কেউ গর্ভবতী হলে, তার স্বামীর জন্য নির্ধারিত হবে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি।
এই আইনের প্রবর্তক কে? উত্তরটা সহজ, বরাবরের মতোই পশ্চিমের হর্তাকর্তারা কলকাঠি নেড়ে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে এদিকটায়। সরকার এখানে পুতুল, অথবা প্রাপ্তির আশায় অন্ধ।
বাচ্চা নিতে চাইলে একটা আইন অবশ্য আছে। তা হলো, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ কারো মৃত্যু ঘটলে, তবেই কোন দম্পতি সন্তান গ্রহণের অনুমোদন পাবে। অর্থাৎ একের বদলে এক। মৃত্যুর বদলে জন্মদানের অধিকারের মেয়াদ মাত্র এক বছর।
আরেকটা বিকল্প উপায়ও অবশ্য আছে। চড়া দামে অনেকে নিজের মৃত্যুর সত্ত্ব বিক্রি করে দেয়, খবরের কাগজগুলোতে ছাপা হয় চটকদার বিজ্ঞাপন। সামর্থ্য থাকলে আপনি কিনে নিতে পারবেন। শর্তানুযায়ী মৃত ব্যক্তির উইল অনুসারে গর্ভধারণের অনুমতিও পাওয়া যাবে সেক্ষেত্রে।
সকল নারীর মাঝেই মাতৃত্ববোধের সুপ্ত বীজ বোনা থাকে। এই সহজাত প্রবৃত্তির কারণেই তারা গর্ভধারণের আশায় মরীয়া হয়ে ওঠে একসময়। ২০৫০ এর বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাই, স্বামী অথবা প্রেমিককে না বুঝতে দিয়ে গর্ভে সন্তান ধারণ করে অনেকেই। আইনে আছে, ছয় মাস পেরিয়ে গেলে এবোর্শন করা যাবে না। তাই কোনমতে লুকোচুরি করে মাস ছয়েক কাটাতে পারলেই হলো। জন্মদাত্রী এক্ষেত্রে নিরাপদ, শাস্তি পেতে হবে জনককে। স্যাক্রিফাইস? তবু তাই হোক!
ভবিষ্যতের এই সমাজে স্ত্রীরা নির্লজ্জভাবে অপেক্ষা করে থাকে, কবে তাদের শ্বশুর-শাশুড়ি বিদায় নেবে! সন্তানের আশায় মরীয়া হয়ে ওঠে তারা। বৃদ্ধরা হয়তো আরও বাঁচতে চান, তবু তাদের মনের কোণায় দানা পাকিয়ে ওঠে আতঙ্ক। এই বুঝি লোক ভাড়া করে খুন করানো হবে!
স্বামী-স্ত্রীর প্রতিনিয়ত একে অপরের সাথে অভিনয় করে যায়। সৃষ্টি হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। অথচ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাসীন দলের অনেকের কাছেই সন্তান জন্ম দেয়ার লাইসেন্স আছে! এ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়, বিক্ষোভ-সমাবেশ-মিছিল সব হয়। ফলাফল? কুকুর বেড়ালের মতো গুলিবর্ষণ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয় তাদের। চলুক গুলি, কমুক মানুষ। জনসংখ্যা কমানোটাই তো মূল উদ্দেশ্য!
প্রিসিলাকে নিছক কোন কাল্পনিক ফিকশন বলে আখ্যায়িত করলে ভুল হবে। গল্পের আড়ালে লেখক এমন এক অস্থির সময়ের কথা তুলে ধরেছেন, যা হয়তো অতি আসন্ন। অস্থিতিশীল সময়ের স্রোতে কখন যে কল্পগল্প বাস্তবে রূপ নেয়, কে জানে?
কিছু কিছু বই থাকে যেগুলো নিয়ে যতটুকু আলোচনা হবার কথা, ততটুকু কখনোই হয় না। তবে ভালো বইয়ের একটা দিক হচ্ছে- সেটা আজ হোক, কাল হোক- পাঠক খুঁজে বের করে পড়বেই। প্রিসিলাও সেরকমই একটা বই। ২০০১ সালে বাংলাদেশের কেউ এরকম অনবদ্য সাই-ফাই/ডিস্টোপিয়ান নভেলা লিখেছিল- তাও এরকম একটা বিষয়ে! দুর্ভাগ্য যে এতদিন ফেলে রেখেছিলাম শেলফে।
বেশ উপভোগ করেছি। মাত্র ৬৯ পৃষ্ঠার এই বইটি নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা করাই যায়, তবে আলসেমি পাওয়ায় আপাতত স্টপ রাখলাম। লিখবো সময় সু্যোগ পেলে। তবে পাঠকদের ছোট্ট করে বলি; বইটা চমৎকার। পড়ার সুযোগ মিললে নির্দ্বিধায় হাতে তুলে নিন।
প্রিসিলা আর তার স্বামী এই বইয়ের মূল চরিত্র। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে(২০৫০ সালে) আইন পাশ হয়েছে, ইচ্ছে হলেই কোন দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে পারবে না। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ চলছে; আইন অমান্য করে কেউ গর্ভবতী হলে, তার স্বামীর জন্য নির্ধারিত হবে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি।
তবে একটা মৃত্যুর বিনিময়ে একটা শিশু জন্ম নিতে পারবে। তাই ছেলে ছেলের বউয়েরা বাবা, মা, শ্বশুর শ্বাশুড়ির মৃত্যু কামনা করে,যাতে তার বিনিময়ে একটা বাচ্চা নিতে পারে। আবার যাদের অনেক টাকা তারা রুগ্ন ব্যক্তিদের কয়েক কোটি টাকা দিয়ে কিনতে পারে।
লেখকরা মনেহয় ভবিষ্যৎবাণী করতেো পারেন। বাংলাদেশে একটা সময় এরকম হলে আমি মোটেও অবাক হবোনা।
সম্ভাবনাময় গল্পখানা অত্যন্ত গড়পড়তা রকম লেখনীর কাছে মার খেয়ে গেল। সরি টু সে, “বাংলা সাহিত্যের গুটিকয়েক ডিস্টোপিয়ান বইয়ের একটা” শুধুমাত্র এই পরিচয়টাই লং রানে টিকে থাকার জন্য এনাফ না। একে তো গদ্য সাধারণ, তার উপর একই কথাবার্তার রিপিটেশন আছে পুরো বই জুড়ে, সোপ অপেরার মতো দাম্পত্যের ন্যাকামোও আছে খানিক। সবচেয়ে বড় কথা, ডিস্টোপিয়ান এই কনসেপ্টটা যতটা বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের দাবি রাখে লেখক গল্পখানা নিয়ে সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন নি, একই গণ্ডির মধ্যে ঘুর ঘুর করেছেন শুধু। ডিস্টোপিয়ান ভক্ত হিসেবে আমি হতাশ। পাঁচে আড়াই দিচ্ছি।
-কি মিয়া তোমারে এমন খুশি খুশি মনে হয় কেন? প্রেমে পড়লা নাকি? আমি- কেন? খুশি খুশি মনে হওয়ার সাথে প্রেমে পড়ার কি সম্পর্ক? - না,হাতে রোমান্টিক বই। মুখে হাসি। তাই ভাবলাম......... আমি(হাতের দিকে তাকিয়ে)-ওহ...... আপনি "প্রিসিলা" বইয়ের কথা বলছেন? আরে মশাই এটা মোট���ও কোন রোমান্টিক বই না। বরং এটা মারাত্নক সিরিয়াস একটা বই। -তাই নাকি? লেখক কে? আমি-মশিউল আলম। -আরে "ঘোড়ামাসুদ", "তনুশ্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় রাত" লিখেছে সেই মশিউল আলম না? আমি -এইতো ধরতে পেরেছেন। -তা উনি তো অনেক ভালো লেখক। বিশেষ করে ঘোড়ামাসুদ তো নাকি উনার ম্যাগনাম অপাস। তা এইটা কি নিয়া? আমি- এইটা অনেকটা ফ্যান্টাসি ঘরনার স্যাটায়ার ধর্মী লেখা। -কেমন লাগলো? আমি-অসাধারন। পড়তে লেগেছে এক ঘণ্টা। কিন্তু রেশে থেকে যাবে মনে হচ্ছে আরও এক সপ্তাহ। -তাই নাকি। ইন্টারেস্টিং তো। তা কাহিনী সংক্ষেপটা আমারে একটু কও না মিয়া। আমি- বইয়ের নাম দেখেই তো বুঝতে পারছেন।বইয়ের নামের সাথে বইয়ের প্রিসিলা নামের কোন ক্যারেক্টারের মিল আছে। বইয়েরর কাহিনী প্রিসিলা নামের একটা মেয়ে আর তার প্রেম করে বিয়ে করা স্বামী রাসেলকে নিয়ে। হ্যাপি ফ্যামিলি। -হ্যাপি ফ্যামিলি হইলে তো এই বই লেখা হইতো না। তাই না? ওদের মাঝে নিশ্চয় কোন সমস্যা ছিলো। নাহলে গলে কোন ভিলেন ছিলো? আমি- কথা খারাপ বলেন নাই। সমস্যা তাঁদের একটা ছিল।ওদের কোন ছেলেমেয়ে নাই।এইটাই ওদের সমস্যা। - কেন! কেন! নাই কেন? ওদের কারো সমস্যা? আমি-সমস্যা আসলে ওদের না। -তাইলে বাচ্চা নিতে সমস্যা কোথায়? -সমস্যা আসলে দেশের আইনে। -ধুর মিয়া,কি প্যাচাইতেছ। খুইল্লা কও। আমি-বইয়ের মূল চরিত্র এই প্রিসিলা আর তার স্বামী ভবিষ্যতের এমন একটা সময়ে বাস করে যখন সরকার আইন করে নিষেধ করে দিছে যে কেউ চাইলেই ইচ্ছে করে বাচ্চা কাচ্চা নিতে পারবে না।কেউ যদি বাচ্চা নেয় তাহলে তার শাস্তি হলো স্বামীর মৃত্যুদণ্ড। -ওমা! এমন আইন! এ কেমন বিচার! কে করলো এই আইন? আমি-সরকার করছে।আমেরিকার চাপে। দেশের জনসংখ্যা বেড়ে গ্যেছিল তো।তাই কমাতে এই আইন। -তাইলে বাচ্চা নিতে না পারলে তো দেশই ধ্বংস হয়ে যাবে! আমি- নাহ। বাচ্চা নেওয়ার উপায় একটা আছে। তা হল, কোন পরিবারের কেউ একজন মারা গেলে তার পরিবর্তে সেই পরিবারের একটা বাচ্চা নেওয়ার অনুমতি আছে। তাও সেটা ১ বছর পর্যন্ত কার্যকারিতা থাকবে। আর কেউ চাইলে নিজের মৃত্যুর স্বত্বও বিক্রি করতে পারবে। যার টাকা আছে সে কিনবে এবং কেনা ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার লিখে দেওয়া উইল অনুসারে সে একটা বাচ্চা নিতে পারবে। -তাইলে কি সবাই এইটা মাইনা চলে? আমি-না,চলে না।মা হওয়ার নেশায় পড়ে মেয়েরা স্বামীদের না জানিয়েই কনসিভ করে। কিন্তু যেহেতু কনসিভ করা মেয়েদের মৃত্যুদণ্ড হয় না,তাও ফেসে যায় স্বামী ।তাকেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আবার প্রেমিকারাও একইভাবে প্রেমিকদের ধোঁকা দিয়ে ফাসায়। মাঝখান থেকে প্রাণ যায় প্রেমিকের কিংবা স্বামীর। -ইন্টারেস্টিং তো। আমি- আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হইতে পারে। কিন্তু একবার এমন একটা সমাজ চিন্তা করে দেখেন তো সেখানে মেয়েরা সন্তানের জন্য বুভুক্ষের মত হপিত্যেস করছে। ছেলে চায় মায়ের-বাবার মৃত্যু। যাতে তার প্রাণের বিনিময়ে সে পায় নতুন আরেকটি প্রাণের জন্মদানের সুযোগ। মা-বাবা ভয়ে ভয়ে থাকে।ছেলে আর ছেলে বউয়ের চোখে খুঁজে ফিরে তাঁদের মৃত্যু কামনার আকাঙ্ক্ষা। সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে কোন ছেলে কখন, অথবা কোন বউ কখন তাঁদের মেরে ফেলে। পুরো সমাজ ব্যবস্তা যেখানে মৃত্যুর উওর জিম্মি। টাকা পয়সা যেখানে মুখ্য নয়। মুখ্য একটা সন্তান। -ভালোই বলছ তো। ব্যাপারটা আসলেই ক্রুয়েল। আমি- ধরেন সেখানেও আছে দুর্নীতি। সরকারি দলের লোক দুর্নীতি করে নিজের নামে সন্তান নেওয়ার লাইসেন্স নিয়ে নিলো। নিজের আত্নীয় স্বজনকেও দিলো। এমন খবর পত্রিকায় আসা স্বত্বেও মানুষ কিছু করতে পারে না। -কেন?কেন? পারে না কেন? রাস্তায় নামলেইতো হয়। আমি- নামছিল তো। সব ব্রাশ ফায়ার করে সরকার আরও কিছু জনগণ কমিয়ে ফেলেছে। সরকার এই ধান্দায় আছে কখন লোকজন আইনের বিরোধিতা করে সভা সমাবেশ করবে আর সরকার ব্রাশ ফায়ার করার সুযোগ পাবে। -তাইলে তো কঠিন অবস্থা। আমি-হুম।বুঝেন তাইলে অবস্থা। আমাদের মেইন নায়ক নায়িকাও সমাজের বাইরে নয়। তারাও চাও একটা সন্তান। কিন্তু তাঁরা নিরুপায়। এই নিয়েই কাহিনী আগায়। -তো, বইটা কেমন লাগলো? আমি- বলে না ছোট মরিচের ঝাল বেশি। বইটা ছোট কিন্তু মারাত্নক একটা ধাক্কা দিয়ে গেলো। -তারমানে বলতে চাচ্ছ বইটা ভালো লাগছে? আমি-লাগছে মানে। একেবারে অসাধারণ। একটা মাস্ট রীড বই। -তাইলে তো পড়তেই হয়। আমি- একশোবার। -আইচ্ছা যাই ঘুয়ামি গিয়া। রাইত হইছে। বাই দা ওয়ে রেটিং কর দিবা? আমি- ৫/৫ ।কোন কথা হবেনা।
সাল ২০৫০। বাংলাদেশ। ১৫ বছর কেটে গেছে জনসংখ্যা বিষ্ফোরণের কারণে সরকারের সন্তান জন্মদানের কিছু কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের। দেড় দশক আগে অর্থাৎ ২০৩৫ সালে লাগামহীন জনসংখ্যা ৩০ কোটি অতিক্রম করে। বিশ্বের তথাকথিত অভিভাবক পশ্চিমারা নড়চড়ে বসে। সরকারকে বাধ্য করে তাদের নির্ধারিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কিছু নিষ্ঠুর নীতিমালা জনগনের উপর চাপিয়ে দেবার। সেই নীতিমালাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলে অনেকটা এভাবে দাঁড়ায়। ১. উচ্চ মাধ্যমিকের সনদহীন কোন ব্যক্তি সন্তান গ্রহণ করতে পারবে না। অর্থাৎ সন্তান ধারনের প্রাথমিক যোগত্য হলো উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হবার সনদ। ২. একটি মৃত্যুর পরিবর্তে একটি জন্ম। সেক্ষেত্রেও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন কোন নারী বা পুরুষের মৃত্যুর পরিবর্তে কোন দম্পতি সন্তান নিতে পারবে। নিজের পরিবারের কোন মৃত্যু পথযাত্রী বৃদ্ধ কিংবা বৃদ্ধার ব্যক্তি উইল করার সনদে সেটা হতে পারে। আবার অনাত্মীয় কোন বৃদ্ধা বা বৃদ্ধ যদি অর্থের বিনিময়ে নিজের মৃত্যুর সনদ বিক্রি করে থাকে সেই সনদ নিয়ে এক দম্পতি সন্তান নিতে পারবে। ৩. স্ত্রী যদি স্বামীকে জানিয়ে বা না জানিয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যু সনদ ব্যতিরেকে সন্তান গর্ভে ধারণ করে সেক্ষেত্রে স্বামীকে ফাঁসি দেয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে একজন স্বামী সম্পূর্ণ অসহায়। তবে ৬ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করলে সাজা মওকুফ হবে। ৬ সপ্তাহ গত হলে গর্ভপাত নিষিদ্ধ আর স্বামীর মৃত্যু অনিবার্য। অন্যদিকে স্বামী ছাড়া অন্য কোন পুরুষের ঔরসে গর্ভবর্তী হলেও সে পুরুষের একই পরিণতি হবে। মোটামুটি এমন এক সময় আর পরিস্থিতি একটি স্বপ্নের ভেতর আমরা আমাদের গল্পের নায়িকাকে আবিষ্কার করি। নায়িকা নামচরিত্র, প্রিসিলা। স্বামী রাসেল। প্রিসিলার বয়স ৩৬ এ গিয়ে পড়েছে। মা হবার সম্ভবনা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছে। ওদিকে অর্থ খরচ করে একটা মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির থেকে উইল করা সনদ নিবে সে অর্থ ওদের নেই। এই ধরনের সনদ কিনতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। প্রিসিলাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রাসলকে। এখনো ভীষণ ভালোবাসে সে তার স্বামীকে। অবশ্য খুব বেশি অভিযোগ নেই রাসেলকে নিয়ে শুধু রাসেল তার জীবন নিয়ে খুশি। বাড়তি উপার্জন নিয়ে খুব একটা আগ্রহী না। ওদিকে প্রিসিলার হাতে সময় ক্রমণ ফুরিয়ে আসছে। এমন এক পরিস্থিতে গল্পের প্রবাহ দ্বারা এগিয়ে চলে। বিষণ্ণতা আর বিষাদগ্রস্ত এক সময়। যেখানে সাধারণ মানুষ জিম্মি এবং নিরুপায়। লেখক মশিউল আলম এই উপন্যাসটি যে জনরার লিখেছেন তাকে বলে ডিস্টোপিয়ান ঘরানা। এই ঘরানা এমন এক সময় আর স্থানের কল্পনা করা হয় যেখানে সাধারণ মানুষ অস্থিত্বের সংকট প্রতিনিয়ত ভুগছে থাকে। সেখানে সমাজ ব্যবস্থা, আইন সংশোধনের নাম তীব্র ত্রুটিপূর্ণ। এই জনরা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সরকার কিংবা কর��পোরেশন কিংবা ধর্মীয় সংস্থার ব্যক্তিগত জীবনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। বাংলা সাহিত্যে এই জনরা নিয়ে তুলনামূলক কাজ কম হয়েছে। তবে ইংরেজি সাহিত্যে এই ঘরনার প্রথম দিকে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল জোনাথন সুইফটের 'গালিভার ট্রাভের্লস'। আর পরবর্তীতে জর্জ অরওয়েলের '১৯৮৪' এবং 'এ্যানিম্যাল ফার্মস' প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। বাংলায় এমন একটি কাজের জন্য লেখক অবশ্যই একটি ধন্যবাদ পেতে পারেন। ডিস্টোপিয়ান বৈশিষ্ট্য আরোপ লেখককে এখানে সফলই মনে হয়েছে। সেক্ষেত্রে উপন্যাসটি একটি ভিন্ন গুরুত্বও বহনে করে। লেখকের পড়া প্রথম বই ছিল। হতাশ করেনি। তবে দ্বিতীয় মুদ্রণ বেশ কিছু ভুল চোখে লেগেছে। যেমন ৩৪-৩৫ পৃষ্ঠায় রাসেল, প্রিসিলা, পাভেল, মিলা নামগুলো বেশ এলোমেলো হয়ে গেছে। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে এসব ভুল ঠিক করা হবে।
ছোট্ট একটা বই কিন্তু প্রভাব অনেক বড়। ভীতিকর এক অদূর ভবিষ্যতের খুবই বাস্তব সম্মত গল্প। খুব ডার্ক টোনে লেখা, ডিপ্রেসড কেউ পড়লে আরো ডিপ্রেসড হয়ে যেতে পারেন। সুতরাং ওয়ার্নিং দেয়া থাকলো।
৩.৫/৫ প্রিসিলা আমাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন উপাখ্যান যেখানে সন্তান জন্ম দিতে হয় কারো মৃত্যুর বিনিময়ে।সব সম্পর্কে সন্দেহ, অবিশ্বাস আর দ্বিধা।সন্তান জন্ম দিতে,নিজের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে মানুষ কতদূর যাবে -এ নিয়েই প্রিসিলা।ছোট্ট, ঝরঝরে,নির্মেদ এই উপন্যাসিকা পাঠককে ধরে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। তবে পুরো গল্পের মধ্যে যে ভয়াবহতা বিদ্যমান,তার সাথে চরিত্রগুলোর পরিণতির অমিল নেই বলে গল্পের শেষাংশে এসে খুব একটা বিস্মিত হইনি।যারা ডিসটোপিয়ান ধারার লেখা পছন্দ করেন তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
“𝑾𝒉𝒂𝒕 𝒊𝒇 𝒂 𝒄𝒉𝒊𝒍𝒅 𝒅𝒓𝒆𝒂𝒎𝒆𝒅 𝒐𝒇 𝒃𝒆𝒄𝒐𝒎𝒊𝒏𝒈 𝒔𝒐𝒎𝒆𝒕𝒉𝒊𝒏𝒈 𝒐𝒕𝒉𝒆𝒓 𝒕𝒉𝒂𝒏 𝒘𝒉𝒂𝒕 𝒔𝒐𝒄𝒊𝒆𝒕𝒚 𝒉𝒂𝒅 𝒊𝒏𝒕𝒆𝒏𝒅𝒆𝒅? 𝑾𝒉𝒂𝒕 𝒊𝒇 𝒂 𝒄𝒉𝒊𝒍𝒅 𝒂𝒔𝒑𝒊𝒓𝒆𝒅 𝒕𝒐 𝒔𝒐𝒎𝒆𝒕𝒉𝒊𝒏𝒈 𝒈𝒓𝒆𝒂𝒕𝒆𝒓?” Jor-El’s question in Man of Steel, though not directly connected, twists into something darker in মশিউল আলম’s প্রিসিলা. Here, the dream is not of greatness, but of mere existence
Written in 2001 yet set in 2050 Bangladesh, this rare Bengali dystopian novella imagines a future governed by the "Human Reproduction Control Act", a law demanding “one death for one birth.” Families must wait for an elder to die—or purchase costly death certificates—to earn the right to bring new life into the world.
In dystopian fiction, oppressive societies often reflect present anxieties. Mashiul Alam’s genius lies in his razor-sharp political satire: using birth control as metaphor, he exposes Bangladesh’s enduring realities—foreign pressures shaping policy, draconian laws punishing the powerless, widening class divides, and a middle class trapped in compromise, while lawmakers remain untouched by their own brutality.
At its core, however, প্রিসিলা is an intimate tragedy. Prisila and her husband Rasel’s longing for a child collides with a state that criminalizes love itself, captured in Rasel’s devastating confession: “এই মেয়েটাকে আমি বোধ হয় জীবনে কোনোও দিনও সুখী করতে পারব না।” Alam shows how authoritarian systems corrode tenderness, turning wives into death-wishers, husbands into helpless bystanders, and families into battlefields of conscience.
The psychological realism is haunting, the satire biting, and the premise unforgettable. Yet this prescient 69-page novella falters with plain prose, repetitive dialogue, and domestic melodrama that prevent it from fully exploring the philosophical weight of its concept. Even so, its darkness lingers long after the last page, raising urgent questions about power, morality, and survival.
Not flales yet fearless, প্রিসিলা remains one of the boldest Bengali attempts at dystopian fiction—at once a cautionary tale and a political allegory. ⭐⭐⭐
⁉️ 𝐐𝐎𝐓𝐃: In a world where birth is regulated by death, how would you define freedom?
🔖 𝐒𝐚𝐯𝐞 𝐭𝐡𝐢𝐬 if you’re drawn to minimalist dystopia, ethical dilemmas in near futures, or political fiction written in compact form.
🔔 𝐅𝐨𝐥𝐥𝐨𝐰 𝐦𝐞 for more literary excursions that push limits and speak truths. 🔗 𝑮𝑶𝑶𝑫𝑹𝑬𝑨𝑫𝑺: Nazmus Sadat → goodreads.com/dsony7 📸 𝑰𝑵𝑺𝑻𝐀𝑮𝑹𝐀𝑴: @dSHADOWcatREADS .
"আমাদের বাসনা এমন ভায়োলেন্ট হয়ে ওঠে যে আমরা শুধু অপেক্ষা করি না, মৃত্যু কামনা করি। নিজেদের জন্মদাতা পিতামাতার মৃত্যু কামনা করি। কিন্তু কী হয় তাতে? আমরা সুখী হতে পারি? কেউ আসলে ওইভাবে সন্তান নিয়ে সুখী হয় না। তোমার মনের মধ্যে যদি একবার এই কামনাটা জাগে যে, কেউ একজন মরুক আর তার বিনিময়ে আমি একটা সন্তান পাই, তাহলে তুমি ওই সন্তান নিয়ে কোনও দিনই সুখী হতে পারবে না। কারণ তুমি পাপী, তুমি একজনের মৃত্যু কামনা করেছ।"
▪ কাহিনী সংক্ষেপ: ধরুন আপনি এখন ২০৫০ সালে বাংলাদেশে বাস করছেন। বিংশ শতকের পর থেকে দেশে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। দিনের পর দিন বেড়ে চলছিলো জনসংখ্যা আর একটা সময়ে দেশের সরকার এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০৩৫ সালে এক কঠোর আইন জারি করে যেটা 'মানব প্রজনন নিয়ন্ত্রণ আইন' নামে পরিচিত। মানে দেশের মানুষের প্রজনন ব্যবস্থাও দেশের সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে যার মূলকথা : একটি মৃত্যুর বিনিময়ে একটি শিশু জন্ম দেয়া যাবে। যার অর্থ দাঁড়ায় কোনো পরিবারে যদি কারো মৃত্যু না হয় তাহলে তারা কোনো সন্তান জন্ম দিতে পারবেনা। কেউ যদি এ আইন অমান্য করে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড। আবার শর্ত দিয়ে দেয়া হয়েছে যে কারো মৃত্যুর ঠিক এক বছরের মধ্যে ঐ ব্যক্তির পরিবার একটিমাত্র সন্তান জন্ম দিতে পারবে। কোনো পরিবারের বৃদ্ধ পিতা বা মাতা মারা গেলে সেই পরিবারের বড় সন্তান একটি সন্তান জন্মদানের অনুমতি লাভ করবে। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে সরকার শিশুর মা কে গর্ভপাত করানোর জন্য উৎসাহ দেয়। কিন্তু এখানেও যদি এই মেয়াদ পেরিয়ে যায় তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।
ঠিক এমনই এক রাষ্ট্রীয়-সামাজিক পরিস্থিতিতে বাস করছে প্রিসিলা নামে এক নারী যে বিবাহিত এবং ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রাসেল কে। রাসেলের বাবা নেই মা আছে কিন্তু মায়ের অবস্থা এমনই যে তার খুব শীঘ্রই মারা যাবার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আইন অনুযায়ী রাসেল কোনো সন্তান নিতে পারবেনা কেননা রাসেল ও প্রিসিলা সন্তান গ্রহণ করতে চাইলে অবশ্যই সরকার কে পরিবারের কারো মৃত্যুর সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। কিন্ত প্রিসিলাও চাইলে নিজ থেকে কিছু করতে পারবেনা কারণ স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে গর্ভধারণ করলে সরকার রাসেল কেও ফাঁসিতে ঝোলাবে আর রাসেল কে প্রিসিলা প্রচন্ড ভালোবাসে।
এমনই এক পরিস্থিতিতে মা হওয়ার আকুতি নিয়ে বেঁচে থাকে প্রিসিলা ২০৫০ সালে যেসময় মা ডাকার বাসনায় মরিয়া হয়ে ওঠে সব নারী যারা প্রেমিক বা স্বামীদের ফাঁসিকাঠে দাঁড় করাতে দ্বিধা করেনা, অপেক্ষা করে শশুর-শাশুড়ির মৃত্যুর জন্য।
এসব নিয়েই লেখক মশিউল আলম এর ডিসটোপিয়ান নভেলা 'প্রিসিলা'।
▪ ডিসটোপিয়া কি?: ডিসটোপিয়া আসলে এমন এক জিনিস যা অদূর ভবিষ্যৎ বা বর্তমানের এক অভিশপ্ত সময়ের গল্প বলার চেষ্টা করে। ঠিক সেরকম একটা খারাপ কিংবা আশা নেই এমনই কোনো অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে চলতে থাকা কোনো উপন্যাস বা উপন্যাসিকাকে ডিসটোপিয়ান নভেলা বলা হয়ে থাকে।
প্রিসিলা বইতেও একইভাবে এক অদূর ভবিষ্যৎ বা সময়ের কথা বলা হয়েছে যেখানে 'প্রিসিলা' নামের একজন নারী 'মা' হবার প্রবল আকাঙ্খা নিয়ে বেঁচে থাকে কিন্তু সেসময়ের খারাপ অবস্থার কারণে সেও 'মা' হতে পারেনা।
▪ পাঠপ্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা: লেখক কে আমি চিনেছি লেখকের পাকিস্তান বই থেকে। বইটা আমার কাছে এতোটাই কঠিন লেগেছিলো যে সেখা���ে লেখা সব মাথার উপর দিয়ে যচ্ছিলো তাই বইটার দুই পৃষ্ঠা পড়ে রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু লেখকের 'প্রিসিলা' বইটা যেন একদম তার বিপরীত। এত সুন্দর সহজ ভাষায় তিনি লিখেছেন যে কোথাও বুঝতে এতটুকু বেগ পেতে হয়নি। তবে বইটার সবথেকে বড় মজার বিষয় হচ্ছে এর সময়কাল। লেখক যেই সময়টাকে বা যেই পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে বইটা লিখেছেন তা বাংলা ভাষায় সম্ভবত খুব কম ই রয়েছে। লেখক এক কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে কিছু মানুষকে ফেলেছেন যেখানে সামান্য ভুল করার শাস্তিই মৃত্যুদন্ড। অথচ তার ভেতর দিয়েও কিভাবে একেকটা পরিবার দিন পার করছে লেখক সেটা দেখিয়েছেন খুব প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করে।
শুধু তাই নয় দাম্পত্য জীবনের নানা ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হওয়া আবার নিজেরাই সে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা এই ব্যাপারগুলোর সাথেও বর্তমান দাম্পত্য জীবনের সাথে মিল পাওয়া যায়। আর এই ছোট ছোট ব্যপার গুলো খুব সুন্দরভাবে লেখক বর্ণনা করেছেন। কখনো গল্পে প্রবেশ করিয়েছেন মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা যেটার জন্য পাঠক কে একটু হলেও ভাবতে হবে, চিন্তা করতে হবে আসলেই যদি অদূর ভবিষ্যতে দেশে এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে তখনকার অবস্থা কেমন হবে।
এমন একটা প্লট নিয়ে লেখক একটা উপন্যাসিকা লিখেছেন ২০০১ সালে। স্বল্প পরিসরে হলেও দেখাতে পেরেছেন একজন নারীর 'মা' হবার ব্যাকুলতাকে, দেখিয়েছেন ইচ্ছা থাকলেও নিজেকে বাবা হিসেবে প্রমাণ করতে না পারার অবস্থাকে।
▪ বইয়ের চরিত্র: বইয়ের চরিত্র হলো রাসেল ও তার ভাই পাভেল এবং তাদের স্ত্রী প্রিসিলা ও মিলা এবং রাসেল আর পাভেলের মা সালমা হক। মূল চরিত্র আবর্তিত হয়েছে প্রিসিলাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু বইয়ের প্রত্যেকটা চরিত্রই অল্প পৃষ্ঠার মধ্যেও লেখক সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি কাহিনীর প্রয়োজনে ছোট ছোট চরিত্রের আগমনও ছিলো চোখে পড়ার মত।
▪ বইয়ের সমাপ্তি: লেখক বইয়ের সমাপ্তি টেনেছেন একটু ট্রাজেডি ব্যবহার করে তবে সেটা শেষ পর্যন্ত আসলে না পড়লে বোঝা যায়নি। নভেলা হিসেবে আর বইয়ের প্লট হিসেবে অমন সমাপ্তি আসলেই সুন্দর ছিলো।
▪ প্রচ্ছদ, বানান ও অন্যান্য: বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ যেটা যে সময়ে বইটি প্রকাশ পেয়েছে সে হিসেব মতে আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছ। বানানের দিক থেকে টুকটাক বেশকিছু টাইপিং মিসটেক চোখে পড়েছে। তবে সবথেকে বড় বিষয় বইয়ে বেশ কয়েক জায়গায় নাম ওলট পালট হয়েছে সেটার জন্য মাঝে একটু বুঝতে অসুবিধা হয়েছিল তবে সেটা খুব বড় কোনো সমস্যা করেনি পড়ার ক্ষেত্রে।
▪ লেখক সম্পর্কে কিছু কথা: মশিউল আলম বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক। লেখালেখি শুরু করেছেন আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে। তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'আমি শুধু মেয়েটিকে বাঁচাতে চেয়েছি' প্রকাশ পায় ১৯৯৯ সালে। উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে 'পলায়নপর্ব' নামে একটি ধারাবাহিক টিভিনাটক নির্মিত হয়। মস্কোর পাত্রিস লুমুম্বা গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে এসে সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকায় দৈনিক প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।
মশিউল আলমের প্রিসিলা একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র প্রভাবশালী ডিসটোপিয়ান নভেলা, যা বাংলা সাহিত্যে সায়েন্স ফিকশন ও সামাজিক সমালোচনার এক অসাধারণ মিশ্রণ। ২০০১ সালে মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে আমি যেন এক অচেনা, অন্ধকার ভবিষ্যতের জগতে প্রবেশ করেছি। এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং আমাদের সমাজের সম্ভাব্য ভবিষ্যত এবং মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষার উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের একটি গভীর প্রশ্নচিহ্ন। উপন্যাসটির পটভূমি ২০৫০ সালের বাংলাদেশ, যেখানে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কারণে সরকার অমানবিক নীতি প্রয়োগ করেছে। উচ্চ মাধ্যমিক সনদ ছাড়া কেউ সন্তান জন্ম দিতে পারবে না, এবং একটি জন্মের জন্য একটি মৃত$y পারে। এই নিয়মের কারণে প্রিসিলা, উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, তার স্বামী রাসেলের সঙ্গে মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এক নিষ্ঠুর দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়। তার শাশুড়ি বেঁচে থাকায় এবং তার দেবরও সন্তান নিতে চাওয়ায় প্রিসিলার স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সরকারের নিয়ম, যা বলে, সন্তান জন্ম দিতে হলে রাসেলকে ফাঁসির মুখোমুখি হতে হবে। এই পটভূমি গল্পটিকে একটি ট্র্যাজিক এবং চিন্তা-উদ্দীপক রূপ দেয়। প্রিসিলার চরিত্রটি আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তার মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রিয়জনকে হারানোর ভয়ের মধ্যে তার মানসিক সংঘর্ষ অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। মশিউল আলমের লেখনী এখানে অসাধারণ। তিনি সহজ কিন্তু প্রাঞ্জল ভাষায় প্রিসিলার বেদনা, হতাশা এবং বিদ্রোহী মনোভাব এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে পাঠক হিসেবে আমি তার প্রতিটি অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েছি। উপন্যাসের শেষে প্রিসিলার সিদ্ধান্ত—তার গর্ভধারণের পছন্দ, যা রাসেলের জীবনকে বিপন্ন করে—একটি মর্মান্তিক সমাপ্তি এনে দেয়। এই সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং সমাজের নিষ্ঠুর নিয়মের মধ্যে সংঘর্ষের প্রতীক। গল্পটি স্পষ্টভাবে রাসেলের ভাগ্য বলে না, তবে ফাঁসির ছায়া পাঠকের মনে ভারী একটা প্রভাব ফেলে। প্রিসিলা শুধু একটি সায়েন্স ফিকশন নয়, এটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নারীর প্রজনন স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নীতির অমানবিকতার উপর একটি তীক্ষ্ণ সমালোচনা। লেখক এই সংক্ষিপ্ত নভেলায় অল্প কথায় অনেক কিছু বলে ফেলেছেন। তবে, আমার মনে হয়েছে, গল্পটি আরেকটু বিস্তৃত হলে রাসেল বা প্রিসিলার শাশুড়ির মতো চরিত্রগুলোর গভীরতা আরও প্রকাশ পেত। এই সংক্ষিপ্ততা যেমন উপন্যাসের শক্তি, তেমনি কিছুটা সীমাবদ্ধতাও বটে, কারণ পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায়। তবু, এই শূন্যস্থানই পাঠককে নিজের কল্পনায় গল্পটির সমাপ্তি ভাবতে উৎসাহিত করে। প্রিসিলা আমাকে ভাবিয়েছে, আমাদের সমাজ কি এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানুষের সবচেয়ে স্বাভাবিক ইচ্ছাও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বন্দী হয়ে যাবে? এই প্রশ্নটি গল্প শেষ হওয়ার পরেও আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। যারা সায়েন্স ফিকশন, সামাজিক সমালোচনা এবং মানবিক দ্বন্দ্বের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য প্রিসিলা একটি অবশ্যপাঠ্য কাজ। এটি বাংলা সাহিত্যে ডিসটোপিয়ান ধারার একটি উজ্জ্বল নিদর্শন, যা পড়ার পর পাঠককে দীর্ঘক্ষণ ভাবিয়ে তুলবে।
ডিস্টোপিয়ান ঘরানার বই পাঠকদের স্বস্তি দেয়না কখনোই ; উল্টো একটা খচখচানি রেখে যায়। ঠিক ডিস্টপিয়ান সংজ্ঞায় খাপে খাপে না মিললেও মশিউল আলমের প্রিসিলা যেন ডিসটোপিয়ান সমাজের গা ঘেঁষে চলা এক প্রেম। এমন এক সমাজ যেখানে সক্রেটিসের ইউরোপিয়ান গণতন্ত্র বন্দী মার্কিন নিষেধের বেড়াজালে। যে সমাজে একটি মৃত্যু নিশ্চিত করে একটি জন্ম। যে সমাজে বিবাহিত জীবনের সার্থকতা কেবল সন্তান দিয়ে বিচার করা হয় সেই সমাজে সন্তানহীনতায় দিনযাপনের গল্প প্রিসিলা।
বৈষম্য আর হতাশার শহরে প্রিসিলার প্রেমের গল্প, সুখী সংসারের গল্প, সন্তান না থাকার অসুখের গল্প, ভালোবেসে যাওয়ার গল্প বলে এই বই। কিন্তু প্রিসিলা কি নিজেকে ভালোবাসার গল্প বলে?
বাংলাদেশে ডিস্টোপিয়ান জনরার বই হাতেগোনা। মশিউল আলমের কলমে যা উঠে এসেছে তাতে বই শেষ করার পরও রেশ রয়ে যায়।
ভালো। ব্যতিক্রমী। যে সময়ে লেখা, সেই সময় অনুসারে এমন গল্প লেখকের সৃজনশীলতার দিকে নির্দেশ করে। তবে... বইয়ের সাইজখানা ছোটো বলেই কিনা কে জানে, ওখানে যেমন সমাজব্যবস্থা ও চরিত্র ঠিক ফুটে ওঠে নি বলে মনে হলো। মানে, যেরকম চাচ্ছিলাম তেমন হয়ে উঠছিলো না। আরও বিস্তৃত ও বিশাল পরিসরে লিখিত হলে সম্ভবত 'আরও ভালো' হইতো। গল্পের মূল আইডিয়াটা দারুণ। এই আইডিয়ার আলোকে মানব মনের দ্বিমুখিতা, বিচিত্রতা, আক্ষেপ, ভালোবাসা ইত্যাদি একটু বিস্তারিত হলে বোধ করি তৃপ্তি পেতাম।
"বি��্রি:ক্যান্সারবৃদ্ধ ৬৫।আয়ু পাঁচ সপ্তাহ। দাম ৩ কোটি। ফোন:৮৯১১...." পত্রিকার পাতায় এমন বিজ্ঞাপন খুবই সাধারণ যেই সমাজে, সেই সমাজব্যবস্থার গল্পই হলো "প্রিসিলা"। সোজা কথায়, মানুষ কেনাবেচার গল্প।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা কোনটি জানেন? বস্তাপচা পারিবারিক একটা ইমোশোনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা।হ্যাঁ, যেই মূল গল্পটা সেখানে একই ধরণের ডায়লগ,আর কেমন একটা পরিচিত নাটক সিনেমার কাহিনি এসেই মূল ঝামেলাটা করেছে।আবার এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্ত জায়গাও এটি।কেন?
আসেন, আশেপাশে তাকাই।সমাজের তিনটি শ্রেণীর মধ্যে, সবচেয়ে অবহেলিত গোষ্ঠী, নিম্নবিত্ত যারা, তাদের কথা আগে ভাবি। কারণ এদের আসলে কোনো সুযোগ সুবিধার জন্য লড়াই করার শক্তিই নেই। এদেরকে আইন প্রণয়নের সময়ও ওপরমহলের লোকজন, পরীক্ষায় খাতায় ভুল করে লিখে আশা একটা এক্সট্রা উত্তরের মতো আগেই কেটে বাদ দিয়ে ফেলেন।
এবার ভাবেন উপরমহল বা এলিট শ্রেনীর কথা। বেশিদিন না, এই একবছর হলো, আমাদের দেশে একটা বিশাল আন্দোলন কোটাপ্রথা নিয়ে গেলো। মূল কারণ তাদের পাওয়া বিশেষ সুবিধা। যার ফলাফলে আমরা দেখেছি মিছিলে গুলিবর্ষণ থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে গুলিবর্ষণ ।তারপর সরকার প্রধানের থেকে একটি কালো পোষাক পরিহিত শোকবার্তা প্রদান এবং হাত ঝাড়া দিয়ে সেই রক্তের দাগ মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।আর সেই ঘটনার পরও, চামচ শ্রেণীর চামচ কেটে কেটে খাওয়া এলিট খাদ্যালাপে বার বার বলা, সবই দুষ্কৃতিকারীদের উস্কানির ফলাফল। এই শ্রেনির মানুষদের দেশের আইন কানুন, মানুষ, তাদের নিয়ে মাথা ব্যাথা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা বরং তাদের মতো সুখে থাকুক।অন্যদিকে যাই আমরা।
ভাবুন সেই শ্রেণির কথা, বরাবরের মতোই সামাজিক লড়াইয়ের আগে পিছে না থাকলেও যাদের চলে তেমন শ্রেণির মানুষ, অর্থাৎ মধ্যবিত্ত মানুষ৷ তারপরও এরা সেই সমাজের সবচেয়ে জটিল থেকে কঠিন সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামায়, দিনশেষে রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে মরে।যাদেরকে হাতের মুঠোয় রাখতেই যত নিয়ম কানুন এবং যাদের জীবনই হয়ে ওঠে একেকটি গল্প উপন্যাসের মূল ভিত্তি।
এবার আপনি "প্রিসিলা" পড়ুন এবং তিন শ্রেণির মানুষদের মধ্যে,"এইচ এস সি সার্টিফিকেট না থাকা শ্রেনী","টাকা পয়সার অভাবে জীবনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে চাহিদা সেটি না পূরণ করতে পারা শ্রেনী" এবং "বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেনীর" কথা ভাবুন। এবারে পলিটিকাল স্যাটায়ার হিসেবে ডার্ক একটি উপন্যাস হিসেবেই এই লেখাটি আপনার কাছে ধরা দেবে।
আমি এই উপন্যাসটিকে পলিটিকাল স্যাটায়ার হিসেবে অনেক উঁচুতে রেখেই আপনাদের সাজেস্ট করছি। মূল ম্যাসেজটা খুবই প্রাসঙ্গিক। যা আপনাকে দেয়া হয় ওইযে, বস্তাপচা পারিবারিক কাহিনির কথা যে শুরুতেই বললাম? তার মধ্য দিয়ে। যদিও বলছে ২০৫০ এর গল্প, সেই কল্পগল্পই কখন যেনো আমাদের সামনে থেকে হাত ফসকে ত অতীত হয়ে গিয়েছে। বলা যায় না, আবার ভবিষ্যতেও এমন গল্প আবারো ঘুরেফিরে আমাদের সামনে আসতেও পারে।
ডিস্টোপিয়ান সোসাইটি, সাই-ফাই এসব জ্ঞানের আলাপের প্রয়োজন নাই আমার।ওসব বলাই আছে উপন্যাসের ফ্ল্যাপে।ডিস্টোপিয়ান সোসাইটি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে এমন কাজ আর দেখেছি বলে মনে পড়ে না। ২০০১ সালে বসে এই ঘরানায় কলম চালানোর পর, তা কতদূর গিয়েছে সেটা আমার মাথা ব্যাথার মূল কারণ। একঘেয়ে প্রেম কাহিনি,থ্রিলার,পারিবারিক উপন্যাসের বাইরে যখন এমন তরতাজা নতুন একটি জায়গায় কাজ হয়েছিলো, সেই কাজকে সাধুবাদ না জানালেই নয়।
এই উপন্যাসের একটি চমকপ্রদ দিক "প্যারাডাইজ লস্টের" সেই বিখ্যাত গল্প। এক জায়গায় লেখক হালকাভাবে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।প্যারাডাইজে সন্তান জন্মদানের কোনো ক্ষমতা মানুষের ছিলো না, নিষিদ্ধ ফল আমাদের এই পৃথিবীর জীবনের জন্য দায়ী। প্রিসিলা আর রাসেলের সাক্ষাতকে তিনি ওই ঘটনার সাথে যখন তুলনা করেন, তখন সেই প্রাচীন সমস্যা অর্থাৎ সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা;সেটিকেই তিনি টেনে আনেন। যেই কনসেপ্টটা আমার মারাত্মক লেগেছে। অন্য কোনো বিষয়ে আইন প্রণয়ন না দেখিয়ে তিনি এই বিষয়েই কেনো দেখালেন,সেই প্রশ্নের উত্তরও এই জায়গায় দিয়ে দিলেন।
একটি আইন, একটি পরিবারের গল্পের মাধম্যে মশিউল আলম তুলে ধরলেন গোটা একটি সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বউ শ্বাশুড়ির ঝামেলা(জ্বি বাংলা টাইপ),স্বামী স্ত্রীর মাঝে স্বর্গীয় ভালোবাসা থাকার পরেও কেনো এতো তিক্ততা সেই বিশেষ কারণটি(টাকা না থাকলে ভালোবাসা জানলা দিয়া পালায়) আর সরকার কর্তৃক প্রণীত আইনের বিরুদ্ধাচারণ না করে সেই আইনের আনুগত্য করার অলিখিত নিয়মটি।
বইটি আমার কাছে তরতাজা কনসেপ্টের লেগেছে, বাহুল্য বলতে গেলে রাখেনই নি তিনি।৭০ পৃষ্টায় মূল ম্যাসেজ দিয়ে তিনি পাঠকসমাজকে পরিতৃপ্ত করতে পেরেছেন। এজন্যই উপন্যাসিকাটি আমি সবাইকে সাজেস্ট করছি, খুব বেশি সময় এক জায়গায় ব্যয় না করেই দারুণ ম্যাসেজ পাবেন সবাই।
স্পয়লার এলার্ট: কিনে ফেলা মানুষটি মরা ছাড়া তো লাভ নাই আল্টিমেটলি। তো, টাকা দিয়ে নিজের জীবন বিক্রি করে ওই মানুষ কি করে? তার লাভ কোথায়?🐸
প্রিভিউঃ ২০৫০ সাল। দেশে জনসংখ্যা হ্রাসের নীতি অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০৩৫ সালে প্রণীত হয়েছে মানব প্রজনন নিয়ন্ত্রণ আইন, যার মূলকথা- একটি মৃত্যুর বিনিময়ে একটি জন্ম। কোনো পরিবারে কারো মৃত্যু না হলে কোনো সন্তানের জন্ম দেওয়া যাবে না। এ আইন অমান্য করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কারো মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে ঐ ব্যক্তির পরিবার একটি সন্তানের জন্ম না নিলে ঐ মৃত্যু মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে।
বৃদ্ধ পিতা বা মাতার মৃত্যু হলে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ পুত্র বা কন্যা সন্তান জন্মদানের অনুমতি লাভ করে। ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক পাশ নয়, এমন কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর বিনিময়ে সন্তান জন্ম দেওয়া যাবে না। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করার জন্য সরকার উৎসাহিত করে। এই মেয়াদ পেরিয়ে গেলে গর্ভপাত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ক্যান্সার ও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত গরীব বয়স্ক নারীপুরুষকে উচ্চমূল্যে কিনতে পাওয়া যায়।
এই বিশেষ রাষ্ট্রীয়-সামাজিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত প্রিসিলা এক যুবতী নারী, যে রাসেলকে বিয়ে করেছিল ভালোবেসে। রাসেলের বাবা নেই। মা আছে, কিন্তু অচিরে তার মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া রাসেলের একটি ছোট ভাই আছে, সেও বিবাহিত এবং সন্তান নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু তার সামনে কোনও পথ নেই। স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে গর্ভধারণ করলে রাষ্ট্র স্বামীকে ফাঁসিতে লটকাবে। তাদের এমন আর্থিক সংগতিও নেই যে মরণাপন্ন কোনও মানুষের প্রাণস্বত্ব কিনে সন্তানলাভের অনুমতি সংগ্রহ করবে। প্রিসিলার জন্য এক মহাসংকট, যার বিবরণ পাঠ করতে করতে পাঠকের শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসবে। পাঠকের মনে হবে লেখক তাকে নিয়ে গেছেন ২০৫০ সালের কল্পিত সেই দেশে, যেখানে মা ডাক শোনার বাসনায় মরিয়া নারীরা স্বামী ও প্রেমিকদের ফাঁসিকাষ্ঠে পাঠিয়ে দিতে দ্বিধা করে না,শ্বশুর-শ্বাশুড়ির মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গোনে।
রেটিং দেখেই অনেকেই তেড়ে আসতে পারেন মারার জন্য। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই বইটা একটু কম ভালো লাগার আসলেই কোনো মানে নেই। লেখকের লিখনশৈলী দূর্দান্ত। প্রায় ২১ বছর আগে বের হওয়া বইটা ওই সময়ের অনুযায়ী বেশ অনেক এগিয়েও ছিলো। তাহলে সমস্যা কোথায়?
আমার সমস্যা হলো বইয়ের যে মূল থীম সেটার যৌক্তিকতা নিয়ে। জনসংখ্যা সমস্যার জন্য কোনো পরিবারে কেউ একজন মারা না গেলে, নতুন কোনো সন্তান নেয়া যাবে না; এই থীমটা ইউনিক এবং দূর্দান্ত। কিন্তু সেটা শুধু বাংলাদেশের উপরেই আমেরিকা চাপিয়ে দিয়েছে এটা মানতে পারলাম না। একটা দেশ আরেকটা স্বাধীন দেশের উপর এমন কিছু চাপিয়ে দিতে পারে, বিষয়টা আসলে অস্বাভাবিক লেগেছে আমার কাছে। ক্রাইসিসটা বৈশ্বিক সমস্যা হিসাবে দেখানো হলে আরো যৌক্তিক হতো বলে আমার মনে হয়। এরপর আসে মানুষের "মৃত্যু কেনার" ব্যাপারটা; আরেকটা দূর্দান্ত কনসেপ্ট। এটা নিয়েও আমার আক্ষেপ হলো, বইয়ে দেখানো হয় কয়েক কোটি টাকা লাগে অন্য কারো মৃত্যু কিনতে। এমনকি ২ কোটি টাকা জমিয়েও কেউ কেউ অন্যের মৃত্যু কিনতে পারছে না। আমার কথা হলো এতো টাকা দিয়ে মৃত্যু না কিনে বিদেশের কোনো দেশে স্যাটেল হয়ে গেলেই তো হয়!! যেহেতু বইটায় ফুটে উঠেছে এই নিয়মের কারনে পারিবারিক সম্পর্ক মোটামুটি ভেঙ্গে পড়েছে, স্বামী স্ত্রী নিজেদের বাবা মায়ের মৃত্যু কামনা করছে, নিজেদের ভাই বোনকে শত্রু ভাবছে, এমনকি স্ত্রী'রা নিজেদের স্বামীকে পর্যন্ত মেরে ফেলছে। সেক্ষেত্রে ২/৩ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে গিয়ে একটু সময় নিয়ে স্যাটেল হওয়াটাই কি স্বাভাবিক হতো না?
তবে এ সব কিছুই যদি রূপক অর্থে ধরে নেই তাহলে হয়তো এই আক্ষেপ আর থাকে না। বিভিন্ন জায়গায় বইটার জনরা সায়েন্স ফিকশন হিসাবে উল্লেখ করায় এবং প্রচুর হাইপ দেখে হয়তো আমার এক্সপেক্টেশন বেশী ছিলো। কিংবা আমি সম্ভবত থ্রিলার পড়তে পড়তে একটু বেশীই যুক্তিবাদী হয়ে গিয়েছি৷ সব জায়গায় লজিক খোঁজা উচিতও নয়। মোদ্দাকথা বইটার ব্যাপারে যা লিখেছি তার দায়ভার একান্তই আমার। হয়তো এই বইটা আমি ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি, হয়তো এই রিভিউ আমার পাঠক সত্ত্বাকে প্রশ্নবিদ্ধ (?) করবে। তবুও যাইই পড়ি সবই যেহেতু শেয়ার করি, এই বইয়ের ক্ষেত্রেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে থাকতে পারলাম না 😔।
যাইই হোক এর বাইরে বইয়ের বাকী সবকিছুই বেশ ভালো। গল্প বলার ধরণটাও সুন্দর। লেখকের তৈরীকৃত কনসেপ্টটা লেখক বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। সন্তানের জন্য যে হাহাকার নারীর মনে তৈরী হয়, তা সুনিপুনভাবে দেখাতে পেরেছেন। এই নিয়মের কারনে সমাজের প্রতিটা মানুষের যে স্ট্রাগল তা একেবারে বুকের ভিতরে অনুভব করাতে পেরেছেন। প্রিসিলাসহ বইয়ের ওই সময়ের প্রতিটা মানুষের প্রতি মায়ার জন্ম দিতে পেরেছেন লেখক। অমন ভয়াবহ সমাজ ব্যবস্থা ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে যে একেবারেই অসম্ভব, তা কিন্তু নয়। আর তাই বইটার রেশ মনের মাঝে রয়ে যাবে অনেকদিন।
ভাবুন তো ছোট্ট একটা পুতুলের মতো বাচ্চা আপনার কোলে হাসছে, খেলছে। আপনার সব সুখের উৎস। ভাবতেই ভালো লাগছে তাই না? মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার ইচ্ছে পৃথিবীতে সব মেয়েদের থাকে। তেমনি ছেলেদেরও বাবা ডাক শোনার বাসনা থাকে মনে। এটাই তো পৃথিবীতে চলে এসেছে যুগের পর যুগ ধরে।
কিন্তু হঠাৎ করেই যদি সব বদলে যায়? মা হওয়ার ক্ষেত্রে যদি আসে বাঁধা? না না সন্তান জন্ম দিতে সক্ষমতা আছে, এই বাঁধা দিচ্ছে দেশের সরকার। জ্বি এমনি এক সময়ের কথা বলবো আজ। ভবিষ্যতের এমন একটা সময়ে হয়তোবা দেখা গেল যদি এমন হয়েই যায়! কারণ হিসেবে বলা যায় সব দেশেই জনসংখ্যা বাড়ছে। অধিক হারে জনসংখ্যার বি স্ফো র ণ প্রতিটি দেশের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ডেকে আনছে। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে করে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোতেও তার প্রভাব পড়ছে। কী করে কমানো যাবে এই জনসংখ্যা?
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ খুঁজে পেল একটি আইন। "মানব প্রজনন নিয়ন্ত্রণ আইন" নামের এই আইন অনুযায়ী বদলে দিলো পুরো দেশের দৃশ্যপট। এখানে নিয়মটা একটু অন্যরকম। মৃ ত্যু র বিনিময়ে পাওয়া যাবে নতুন জীবন। অর্থাৎ কেউ মা রা গেলে তখনই তার বিপরীতে জন্ম নিতে পারবে নতুন শিশু। পরিবারে এমন কেউ বয়জোষ্ঠ ব্যক্তি থাকলে সুবিধা আছে। কিন্তু যাদের পরিবারে এমন বৃদ্ধ মানুষ নেই তাঁরা মৃ ত্যু র প্রহর গোনা এমন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জীবন টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে তাঁদের মৃ ত্যু র পরে, ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে সরকারের অনুমতিক্রমে জন্ম দিতে পারবে শিশুর।
আহা! এ কেমন সময়ের কথা বললেন লেখক! পরিবারের বয়জোষ্ঠ ব্যক্তি কবে মা রা যাবে সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে! ছেলে মেয়ে বসে ভাববে বাবা কিংবা মা কবে মা রা যাবে তারপর তাঁরা নতুন করে বাবা মা হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই তাঁদের কাছে। গোপনে যদি কোনো মেয়ে গর্ভধারণ করে তাহলে তাঁর স্বামী বা প্রেমিকের ফাঁ সি হয়ে যাবে সরকারের তরফ থেকে। ওই যে নিয়ম একটি মৃ ত্যু র বিনিময়ে আরেকটি জীবন।
আচ্ছা সেটা নাহয় এতক্ষণে বোঝা গেল জীবনের জন্য মৃ ত্যু দরকার। যাদের পরিবারে এমন কেউ নেই তাঁদের কিনতে হবে মৃ ত্যু শয্যায় থাকা কোনো বুড়ো বুড়ি। কিন্তু তাঁদের দাম আকাশছোঁয়া। জ্বি সহজে তাঁদের কেনা যাবে না। দুই কোটি, তিন কোটি দাম হাঁকাচ্ছেন তাঁরা নিজেদের। এ যেন মানুষ কেনাবেচার হাট বসেছে। যাদের টাকা আছে কিনে নিচ্ছে তাঁরা। কিন্তু যাদের টাকা নেই তাঁরা কী করবে? সন্তান জন্মদানে সক্ষম হয়েও লক্ষ লক্ষ দম্পতি সন্তান নিতে পারছে না। আহ্ এ যে বড় সমস্যাময় জীবন।
দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নিঃসন্তান হয়ে জনগনকে স্বান্তনা দিয়ে যাচ্ছে। যারা যারা আইন মানে না, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে তাঁদের উপর নির্বিচারে গু লি চলছে। মানুষ মা র তে পারলেই যেন লাভ। ঠিক এমন সময়ে রাসেল ও প্রিসিলা দম্পতি ভালোবেসে বিয়ে করেছিল একজন আরেকজনকে। কিন্তু লাভ কিছুই হচ্ছে না কারণ প্রিসিলা মা হতে গেলে পরিবারের কাউকে বিসর্জন দিতে হবে। কিংবা এমন কাউকে খুঁজতে হবে যাকে বিসর্জন দেয়া যায়। কীভাবে সম্ভব সেটা! প্রিসিলা রাসেলের জীবনে তাই সুখ থাকতেও নেই।
এমন এক সময়ে প্রিসিলার মনটা আকুল হয়ে আছে মা ডাক শুনতে। রাসেল এমনিতে ভালো কিন্তু প্রিসিলাকে মাতৃত্বের সুখ দিতে পারছে না শুধু। কী হবে তাঁদের জীবনে? প্রিসিলা কী পারবে মা হতে?
লেখক মশিউল আলমের লেখা এই প্রথম পড়লাম। আমার কাছে মোটামুটি ভালো লেগেছে লেখকের লেখনী। লেখকের এমন ফিকশন লেখকের দূরদৃষ্টিকেই মনে করিয়ে দেয়। সেই সময় বসে লেখক দেখেছিলেন, একসময় জীবনের মূল্য থাকবে না। জনসংখ্যার বিরুপ প্রভাব পড়বে জনজীবনে। জনসংখ্যা কমাতে চেষ্টা করবে শেষে সরকার। এবং আসলেই কী আস্তে আস্তে তেমন হচ্ছে না? দিন দিন বাড়ছে শুধু জনসংখ্যা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনীতির দুরবস্থাও দেখা যায়।
ছোট্ট বইটি পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। আমি অবশ্য মাঝখানে একটু স্লো হয়ে গিয়েছিলাম, পরে বেশ দ্রুত এগিয়েছি। প্রিসিলা হতে পারে কোনো ফিকশন তবে পড়তে পড়তে ভাবছিলাম ভবিষ্যতে যদি এমন একটা সময় আসে আসলেই কত ভয়াবহ হবে সেটা। ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা এই শব্দগুলো ঠুনকো মনে হবে তখন। সবাই নিজের স্বার্থ আগে দেখবে। স্বার্থের জন্য দরকার হলে আপনজনের জীবন নিয়ে নেবে।
"প্রিসিলা" বইটি ভবিষ্যতের কাল্পনিক সময়ের কথা বললেও একটু অনুধাবন করুন সেই সময়টাকে। যেখানে কত ভয়াবহ হতে চলেছে সবকিছু। গভীরে চিন্তার খোরাক পেয়ে যাবেন আশা করি।
অর্থাৎ এখন সরকারের হাতে সব-নিয়ম, দর্শন, ধর্ম; এমনকি কারা সন্তান জন্ম নিতে পারবে আর কারা পারবে না সেটাও! মশিউল আলম ২০০১ সালে বসে এক সাংঘাতিক গল্প " প্রিসিলা " লিখেছেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মিশ্র অনুভূতি কে কাজে লাগিয়ে।
মূল চরিত্র প্রিসিলা সন্তান নেয়ার জন্য মরিয়া কিন্তু দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা অমোঘ আইন আছে- সন্তান নিতে চাইলে পরিবারের বয়স্ক কাউকে মরে যেতে হবে কিংবা কোটি টাকা দিয়ে কিনতে হবে বয়স্ক কোনো ব্যাক্তির জীবন স্বত্ব। যেটা একমাত্র উচ্চবর্গীয় মানুষরা ছাড়া আর কেউ পারবে না কারণ কারা কিনতে পারবে তাদেরও নিয়ম করে দিয়েছে! সন্তান না নিতে পারার শোকে গরিবরা মরে গেলে তো সরকারেই লাভ! এক কথায় গরিবরা পুরো বঞ্চিত। ফুটে উঠে শ্রেণী বৈষম্য স্পষ্টভাবে। যারাই এই আইনের বিরোধিতা করবে তারাই গুলির স্বাদ আস্বাদন করবে। এই চিত্র আমরা এক বছর আগেও পুরোদেশে দেখতে পাই। অদ্ভুত মিল বইয়ের বাস্তবতার সাথে।
এবার মধ্যবিত্তে আসা যাক- প্রিসিলা ও রাসেল। তাঁদের পরিবারে শুধু মা আছেন - বয়স্ক কিন্তু স্বাস্থ্যবান। সুতরাং রাসেল ও তার ভাই দুজনই সন্তান নিতে পারছে না। এদিকে প্রিসিলার কলিগরা বলে আইনের ফাঁকফোঁকরের কথা ভাবি বলে প্রিসিলার ভালোবাসার কথা। কিন্তু একঘেয়ে ভালোবাসার গল্প লেখক বলেননি। তিনি পুরোপুরি চোখ রেখেছেন আইনের উপর। এক আইন কিভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করতে পারে তা দেখিয়েছেন- তাঁদের মা ভয়ে ভাবতে শুরু করেন যে তার বৌয়েরা তাকে মেরে ফেলবে! ঘোলা পরিস্থিতি।
লেখক আইন অপছন্দকারীদের কথা বলেছেন তবে আইন পছন্দকারীদের কথা বললে গল্প আরো একটু জমতো। লেখা পড়ে একটু খচখচ ভাব আসতে পারে। কিন্তু তিনি শুরুতে মাঝে শেষে (বিশেষ করে শেষে) যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা এই ৭০ পৃষ্ঠার বইয়ে স্পষ্টতই ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে প্রিন্ট আউট একটা বই। এই বই এর সম্পর্কে এতো এতো ভালো রিভিউ শুনে ভাবলাম পড়ে দেখা যাক। কিন্তু বিধিবাম। পুরোনো কিছু বই এর দোকানে আর পুরোনো বই বিক্রি করে এমন পেজ গুলো তে খুঁজেও পেলাম না। হুট করে একদিন দেখলাম একজন কিছু বই বিক্রি করে দিচ্ছেন। তার মধ্যে এই ছোট্ট বইটিও আছে। অবশেষে আজকে হাতে পেয়েই পড়ে ফেললাম। শেষ কবে এভাবে এক বসায় একটা বই পড়ে শেষ করেছি মনে নেই। প্রিসিলা ও তার স্বামী এই গল্পের মূল চরিত্র। গল্পে এমন এক সময়ের কথা বলা হচ্ছে যেখানে কেবলমাত্র একটা মৃত্যু হলেই একটা জন্মের অনুমোদন পাওয়া সম্ভব। তাই সবাই মা বাবা, শ্বশুর শ্বাশুড়ির মৃত্যুর অপেক্ষা করে। এমনকি স্বামী কিংবা প্রেমিককে হারাতেও দ্বিধাবোধ করে না। কোনো মা বাবা তাদের সন্তানকে বিশ্বাস ভরসা করতে পারে না। গল্প পড়ে মনে হলো এমন যদি সত্যিই কখনও হয় তাহলে কি হবে? এক সময় যা মানুষের কল্পনার অতীত,তা বাস্তব হওয়া তো সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আসলেই আলোচনায় আসার মতো সাই-ফাই জনরার ছোট্ট একটা বই। হাতের কাছে থাকলে তুলে নিতে পারেন, আশা করি হতাশ হতে হবে না।
বেশ একটা প্রত্যাশা তৈরি করেছিল শুরুতে। কিন্তু পূরণ করতে পেরেছে কি শেষ পর্যন্ত? যেসব গল্প মানুষের মরাল সিস্টেমকে নানাভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়, বর্তমানকে প্রশ্ন করতে শেখায় ইশারা ইঙ্গিতে, সাধারণভাবে সেগুলোর প্রতি আগ্রহ পাই। চমৎকার সম্ভাবনাময় একটা প্লট অথচ লেখক ছোটগল্পের সীমা কেন পার হয়ে যেতে চাইলেন না সেই প্রশ্ন রইল।
ডিস্টোপিয়ান জনরা জেনে 'প্রিসিলা' পড়তে আগ্রহী হই। পড়ার পর ভাবলাম এটা তো অতো খারাপ বই নয়, বরং বেশ ভালো, সুখপাঠ্য একটা রচনাই বলা যায়। তাহলে খুব একটা আলোচনা কেন হয় না এই বই নিয়ে? বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। সেই সময়ে বসে লেখক ২০৫০ সালকে কেন্দ্র করে সাবলীল গদ্যে এই চমৎকার উপন্যাসিকাটি লিখেছেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো এই যে, প্রকাশিত হওয়ার দুই যুগ পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও খুব কম পাঠকই এই বইটি পড়েছেন।
আপনার জীবন যদি প্রতিক্ষেত্রে রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তবে কেমন হবে একবার ভাবুন তো! একটা সমাজের বা রাষ্ট্রের টিকে থাকার জন্য নিয়ম নীতি যেমন জরুরী ঠিক তেমনি এসব নিয়ম নীতি কে পুঁজি করে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করাও অনেক সময় ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
"প্রিসিলা" বইটি ডিস্টোপিয়ান ঘটনার বই যেখানে লেখক এক বিরাট সমস্যাকে কেন্দ্র করে বইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন। সেই সমস্যাটির নাম হল জনসংখ্যা। একটি মৃত্যুর পরিবর্তে একটি জন্ম এই কথাটির সফল প্রয়োগ এবং এই নিয়ম ভঙ্গকারীর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান সরকার তৈরি করে রেখেছেন। তবে নিয়ম যেমন আছে সেই নিয়মনীতি নিয়ে আছে রাজনৈতিক মারপ্যাচ এবং সাথে যুক্ত হয়েছে ধনীক শ্রেণীর স্বার্থসিদ্ধির গল্প। প্রিসিলা ও রাসেল গল্পের মূল চরিত্র তবে ছোট পরিসরে লেখা এই বইটিতে বাকি চরিত্রগুলো নিজেদের অবস্থান খুব সুন্দর ভাবে জানান দিয়েছে। প্রিসিলা ও তার স্বামীর সন্তানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা যেন হাজারো সন্তানকামী মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি!
বইটির সবচেয়ে ভালো দিক বইটি পড়তে পড়তে এটি আপনাকে চিন্তার খোরাক যোগাবে। আপনার সামনে হাজারো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে যার উত্তর আপনি নিজের মতো করে ভেবে নিতে পারেন। বইটা আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে তবে বইয়ের শেষের টুইসটা দারুন ছিল!
The writer presented a good dystopian novel. I can't readily recall having read one in Bengali. Draconian laws only bring misery to people, only the lawmakers remain immune to them, the masses suffer. Mashiul Alam explored the income, hence power, disparity we notice in our society and the future consequences with a plot where the present is the year 2050. A good read.
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। জনসংখ্যা বিস্ফোরণের পর বৈদেশিক চাপে সরকার নতুন এক আইন করেছে - পরিবারে কারও মৃত্যুর আগে সে পরিবারে নতুন কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করতে পারবে না। আইন অমান্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে স্বামীকে।
এই আইনের কঠোরতম প্রয়োগে সামাজিক কাঠামো, মানুষের জীবন বদলে যায় পুরোপুরি। পরিবর্তিত সেই সমাজের টানাপোড়ন নিয়েই পারিবারিক আবহে এই বই যেখানে বৃদ্ধেরা নিজের সন্তানদের বিশ্বাস করতে না, মানুষ সঞ্চয় করে টাকা দিয়ে অনাত্মীয় কোন বৃদ্ধের মৃত্যুর পর একটা জন্মের অধিকার কিনতে, সবখানে সন্তানবিহীন দাম্পত্য জীবন হয়ে দাড়ায় বিষাদময়।
থিমটা কৌতুহলোদ্দীপক সন্দেহ নেই, আমার কাছে এর এক্সিকিউশনটা মন ভরাতে পারে নি। লেখনী একটু জড় যেন, প্রঞ্জল নয় অতোটা ; সমাপ্তিটাও অতি নাটকীয় লাগলো।
এই বইটা নিয়ে সত্যিই কেন আলাপ হয়না বুঝিনি! ৭০ পৃষ্ঠার ছোট একটা বই, উপন্যাসিকা। ২০০১ সালে লেখক মশিউল আলমের লেখা ২০৫০ সালের বাংলাদেশ নিয়ে একটা ডিস্টোপিয়ান লেখা। ২০০১ সালের দিকে অথবা তারও আগে একটা আলোরণ উঠেছিলো জনসংখ্যা নিয়ে। এই বইয়ের ঘটনা সেই থিমকে কেন্দ্র করেই। কিছু সাটেল ইংগিত, সম্পর্কগুলোর রূপান্তর দেশি প্রেক্ষাপটে... আমার খুব ভালো লেগেছে বইটা। সাধারণত ছোট বইয়ে এক্সপেকটেশন থাকেনা। শুরু হতে না হতেই শেষ। তবে এর মধ্যে একটা সুন্দর লেখায়, এক্সেপশনাল গল্প পেলে তো ভীষণ ভালো! রেকোমেন্ডেড!
২০০৪ সালে সরকার জনসংখ্যা নীতিতে এই শ্লোগানটি চালু করেন। যেখানে অধিক সন্তান নেয়াকে অনুৎসাহিত করা হয়। জনসংখ্যা সমস্যা বাংলাদেশের আর্থিক এবং আকৃতিগত দিক থেকে ভয়াবহ এক সমস্যা। যার থেকে পরিত্রাণের বদলে সমস্যার বৃদ্ধি হচ্ছে ক্রমশ।
❛একটি মৃ ত্যুর বিনিময়ে একটি জন্ম। কোনও পরিবারে কারও মৃ ত্যু না হলে কোনও সন্তান জন্মদান করা যাবে না। এ আইন অমান্য করার শাস্তি মৃ ত্যুদন্ড।❜
ভবিষ্যতের বাংলাদেশে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে ২০৩৫ সালে। সরকার কঠোরভাবে এই আইনটি মানার জন্য জনগণের উপর চাপ ফেলেছে। সময়টা জনসংখ্যা নীতিতে অদ্ভুত এই আইন প্রণয়নের দেড় যুগ পরের। ২০৫০ সাল। সরকার বিজ্ঞাপন, বার্তা, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তায় এই আইন এবং এর সুবিধা সম্পর্কে প্রতি সপ্তাহেই বলে আসছেন। কিন্তু এমনটা মেনে নিতে কষ্ট হয় না? নতুন একজনের আগমন যেখানে সুখ, খুশির কথা সেখানে তার আগমনের হেতু হবে আরেকজনের মৃ ত্যু! তবে সেই আদিকাল থেকে চলে আসা দাদা-দাদী, নানা-নানী তথা বয়োজ্যেষ্ঠদের আদর থেকে ভবিষ্যত প্রজন্ম বঞ্চিত হবে। প্রিসিলা আর রাসেল একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। তবে পরিবারের পূর্ণতা এখনো আসেনি। আসেনি কোল আলো করে কেউ। কারণ সে উপায় নেই। রাসেলের বাবা গত হয়েছেন তাদের বিয়ের আগে। আর রাসেলের মা সালমা বেগমের গত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। তাই দুজনের বয়স বেড়ে গেলেও ভবিষ্যত প্রজন্মের আশা দেখা যাচ্ছে না। সরকারি নিয়ম এতই কঠোর এবং নিয়মগুলো শুধু টাকা ওয়ালাদের জন্য সোজা। তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই তেমন যা দিয়ে তারা অন্যের মৃ ত্যু সনদ কিনে নিতে পারে। মা হওয়ার প্রবল বাসনা নিয়ে প্রিসিলার দিন কাটে। স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নে রাত পার হয়। চাইলে কুটিল পন্থা অবলম্বন করতে পারে সে, কিন্তু আবেগের কাছে বিবেক জয়ী হয়। রাসেলকে সে ভালবাসে এবং তারা এই না পাওয়া, দৈন্যের মাঝেও সুখী। ভালোবাসা তাদের সুখে রেখেছে। কিন্তু সক্ষম হয়েও মা ডাক শুনতে চাওয়ার যে আকুতি তার কাছে অন্য কোনো কিছুর মানে কতটুকু? সরকারের এমন নিয়ম চাপিয়ে দেয়া তাও ওই সাদা চামড়ার দেশের কথা অনুযায়ী, সেটাই বা কতটা যৌক্তিক? ভাবনা চিন্তার মিশেলে হাহাকার করে প্রিসিলার মা না হতে পারার দুঃখ। বাবা-মা কিংবা শ্বশুর-শাশুড়ির মৃ ত্যু কামনা করার মতো স্বার্থপর সময়ের মাঝে রাসেল-প্রিসিলা কিংবা বাবা-মা হতে না পারা অসংখ্য মানুষের বিবেক কতক্ষণ কাজ করবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝প্রিসিলা❞ মশিউল আলমের ডিস্টোপিয়ান সাই-ফাই ঘরনার নভেলা। মাত্র ৬৯ পৃষ্ঠার বইতে লেখক ভাবনা চিন্তার অসীম খোড়াক জুগিয়েছেন। ২০০১ সালে রচিত এই বইটি লেখকের দূরদর্শী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। সাই-ফাই ঘরনার কঠিন বিষয়বস্তু ব্যতিরেকে দেশীয় সমস্যাকে উপজীব্য করে এমন লেখা সত্যিই প্রশংসনীয়। ছোট্ট আকারের বিধায় পড়তে সময় বেশি লাগেনি। কিন্তু পড়ার সময় মনে ভয় জেগে যায়। আসলেই তো বাংলাদেশের বাড়তি এই জনসংখ্যা বিরাট এক সমস্যা। এতে ভুক্তভোগী মানুষও অনেক। কিন্তু কোনোভাবেই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মিলছে না। সত্যিই যদি এমন কোনো কঠোর নিয়ম জারি করা হয় তবে কী হবে? নভেলাটি লেখক কিছুটা ডার্ক ভাবেও উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র এবং স্বার্থের খাতিরে তাদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা ভাবনাগুলোর চিত্রণ ছিল প্রশংসনীয়। প্রিসিলা এবং রাসেল মূল চরিত্রে হলেও পাভেল, মিলা, সালমা, জামান, প্রীতি চরিত্রগুলো ছিল আপন স্থানে একদম খাপে খাপ। দেশের এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে শতভাগ সৎ, নিঃস্বার্থ ভাবে পরিচালনা করা কতটা কঠিন ব্যাপার উপন্যাসিকার চরিত্রগুলোর কথায় সেটা উপলব্ধি করা গেছে। ❝প্রিসিলা❞ এর সমাপ্তি ছিল থমকে যাবার মতো। তবে এর সমাপ্তিতে না পাওয়া মনের যে আকুতি ছিল তা ছিল লক্ষণীয়। এর থেকে যৌক্তিক (হয়তো!) সমাপ্তি হতে পারত না।
এখানে গরীব এবং ধনীর যে আজীবন বিভেদ সে বিষয়টা ট্রাজিকভাবে প্রকাশ হয়েছে। যার টাকা এবং ক্ষমতা আছে তার কাছে আইনও কঠিন নয়। অপরদিকে নিপীড়িত, নিরীহ মানুষগুলো নিয়মের বলি হয়। হারিয়ে যায় তাদের সুখ। এই ভেদাভেদ অতীতে যেমন ছিল তেমন বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।
উপন্যাসিকার দারুণ এই প্লট এবং এর সমাপ্তি মনঃপুত হলেও জনসংখ্যা নীতি তে বাইরের দেশের কঠোর হস্তক্ষেপের বিষয়টা আমার তেমন একটা জুতসই লাগেনি। দেশীয় গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ বা দেশীয় সমস্যা এবং কর্তাব্যক্তিদের আলোচনা এবং মত সাপেক্ষে এর প্রণয়ন করাই যৌক্তিক হতো।
এই লেখা পড়ার পর আমার মনে হয়েছে অদূর ভবিষ্যতে কখনো বাংলাদেশে এমন নিয়ম যদি হয় খুব একটা অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। লেখকের দূরদর্শী চিন্তা নিতান্তই চিন্তা নয় শুধু!
🍁 ডিস্টোপিয়ান সাহিত্যের কথা উঠলে আমরা হয়তো 1984 বা Brave New World এর কথা বলি। বাংলা সাহিত্য ডিস্টোপিয়ান নোভেলা তেমন দেখা যায় না সহজেই বলা যায়। কিন্তু মশিউল আলমের প্রিসিলা একেবারে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি আর ভবিষ্যৎ বাস্তবতার সঙ্গে মিশে থাকা এক অনন্য সংযোজন। তবে আমি প্রিসিলাকে ডেস্টোপিয়ান সাই-ফাইয়ের সাথে পলিটিক্যাল স্যাটায়ার জনরাতেও ফেলব। লেখক একই সাথে দুটো জনরায় এগিয়েছেন। একসাথে দুটো জনরার মিশেল কিভাবে? এটার জন্য আগে জানতে হবে ডেস্টোপিয়ান সাই-ফাই আসলে কি? যেখানে সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রিত হবে, সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে কিছু থাকবে না আর সেটার সময়টা হবে ভবিষ্যত। মোট কথা সুদূর ভবিষ্যতের একটা সম্ভাবনাকে কল্পনার সাথে মিশিয়ে গল্পে রুপ দেয়া। প্রিসিলা বই���ায় সরাসরি প্রযুক্তির কথা উল্লেখ না থাকলেও এই বই সেই কোটা পূরণ করেছে। এখন এটার সাথে আবার পলিটিক্যাল স্যাটায়ার কেন টানলাম? তার কারণ হলো ২০০১ সাল বা এর আগে দেশে জনসংখ্যা নিয়ে যে আলোড়ন ঘটেছিল সেই কাহিনীকে কেন্দ্র করেই বইটা। যেখানে দেখানো হয় ২০৫০ সালের বাংলাদেশ যেখানে জন্ম নেওয়ার আগে কাউকে মরতে হবে। বিকল্প হিসেবে কোটি টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারেন মৃত্যুর দাঁড়প্রান্তে দাঁড়ানো কোনো বৃদ্ধ ব্যাক্তিকে। তবে সেখানেও আছে হরেক রকমের শর্ত। এমন এক শীতল, কঠোর বাস্তবতায় মশিউল আলমের প্রিসিলা আমাদের নিয়ে যায় যেখানে মানবিক অনুভূতিও যেন রাষ্ট্রীয় নীতির হাতে বন্দি। সেই রাষ্ট্রীয় নীতি বা আইন মানা বাধ্যতামূলক নাহলে আপনার মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করবে সরকার। তাই ভাবলেন এখন একটা উপায় আইন না ভেঙ্গেই অন্যায় আর ভিত্তিহীন আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন, পালন করবেন ধর্মঘট কিন্তু সেখানেও আছে বাঁধা। এখন প্রশ্ন হলো কেমন বাঁধা? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়ের পক্ষে আওয়াজ তুললে কি এমন বাঁধা আসবে? আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজের অধিকার, নিজের পিতৃত্বের,মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার জন্য ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল কেন করা লাগবে ? তাহলে কি গণতন্ত্র শুধু নামেই? এই প্রশ্নের উত্তরেরা আপনাকে খুঁজে পাওয়ার আগেই আপনি পৃথিবী ছাড়ার পথ খুঁজে পাবেন। আপনার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই সেই পথ দেখাবে। এরপর আসে আবার আরেক শ্রেনীর মানুষ যারা নিজের জীবনটাও চায় আবার তার সাথে লিগ্যাসিও। তবে সেই লিগ্যাসির জন্য যা দরকার আইন অনুযায়ী সেটা আবার নেই, থাকলেও নতুন একটি মূল্যবান সম্পর্ক পেতে হলেও হারাতে হবে আরেকটি মূল্যবান সম্পর্ক। কিন্তু সমস্যা আপনার দুই নৌকাই চাই। তখন আপনার সাদা মনে আবারও প্রশ্ন আসবে, "হাম যায়ে তো কাহা যায়ে"? তো বিশ্বের হর্তাকর্তারা এরকম মজার হাস্যরসাত্মক আইন বানিয়ে সাধারণ মানুষ নামক পুতুল নিয়ে খেললে সেটাতো স্যাটায়ার হবেই। বইটায় রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রের হর্তাকর্তাদের ও জনগনের কান্ডকারখানা এবং সম্পর্কের টানাপোড়ন আর কিছু সাটেল ইঙ্গিত, হোক সেটা পারিবারিক বা রাজনৈতিক সবকিছুতেই আছে দেশীয় বা বলা যায় আমাদের আশেপাশে নিত্যদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট।
🍁 ডেস্টোপিয়ান ঘরনার লেখা আমাকে তেমন শান্তি দেয় না। কিন্তু এই বইয়ের লেখা খুবই সহজ আর সাবলীল। খচখচানি যে নেই একদমেই তা নয়। লেখকের এটাই আমার প্রথম বই। এরপর পড়েছিলাম ঘোড়ামাসুদকে নিয়ে রুপনগরের লোকজনের জটপাকানো গল্পগুজবের বিবরণ (বিশাল নাম) যেটা ছিল আরেকটি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার। পড়ার মধ্য স্বাদ বদলের চেষ্টা থেকেই লেখকের বই পড়া। তবে বই দুটো শেষ করার পর লেখকের আরও বই এক্সপ্লোর করার ইচ্ছে আছে আমার। প্রিসিলার মত কন্সেপ্টের বই খুব কম আছে মনে হলো আমার কাছে আমাদের দেশীয় লেখার মধ্য। আবার এটাও মনে হয়েছে এই ঘটনা তো নিত্যদিনেই দেখি যেহেতু দেশীয় ঘরনায় লেখা। আর ভবিষ্যতে এমন আইন বা এমন পরিস্থিতির সূচনা হলেও অবাক হব না। তবে বইটা আরেকটু বড় এবং আরও ডিটেইলে হলে ভালো হত। বই শুরু করার আগেই মনে হয়েছে শেষ হয়ে গেছে।