স্বাধীনতা বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সেই স্বাধীনতার প্রতি গভীর আবেগ বোধ করে কম বেশি সব বাঙালি। কারন মুক্তিযুদ্ধই বাঙালির শ্রেষ্ঠ অহংকারের জায়গা। সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা, উপন্যাস আর গল্প। তার কিছু হয়েছে কালজয়ী আর কিছু হয়েছে সস্তা ভাবুলতা। মুক্তিযু্দ্ধ আসলে বিশাল এক ক্যানভাস, রণাঙ্গন, বোমা, গোল-বারুদ, হত্যা-ধর্ষন আর ৩০ লক্ষ প্রাণের আত্নত্যাগ শুধু এইটুকু দিয়ে এর ব্যাপকতা বুঝানো যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ কে বুঝতে হলে, মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হলে ৭১ এর রণাঙ্গনের পাশাপাশি জানতে হবে স্বাধীনতার বীজ বপনের একেবারে মূল থেকে। আর সেই মূল হলো ৪৭ এর দেশ ভাগ, ৫২র ভাষা আন্দোলন,৭০ এর নির্বাচন, ত্রিশবছর পাকিস্থানিদের শোষণ।
একটি উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকে কেউ এমন শিকড় থেকে নিয়ে আসেনি, যেটা এনেছেন আহমেদ ছফা তার ”অলাতচক্র ” উপন্যাসে। উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ আর মানবিক উপখ্যানের এক অসাধারন দলিল। ছফা দেখিয়ে দিয়েছেন রণাঙ্গনের রক্তাত্ত যুদ্ধ ছাড়াও যুদ্ধ হয়েছে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে, নিজের অস্তিত্বের সাথে। সেই লড়াই মানুষকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে অনন্ত শূণ্যতার মুখোমুখি, দিয়ে গেছে একবুক দীর্ঘশ্বাস আর শুকিয়ে যাওয়া এক অশ্রু নদী। এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহন না করেও যুদ্ধ করেছে প্রতিনিয়ত, এমনও অসংখ্য মানুষ আছে যারা সীমান্তের ওপারে গিয়েও পালাতে পারেনি ছাপানো হাজারের বর্গমাইলের শিকড়ের টান থেকে। তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ কেমন ছিলো, তাদের অনুভূতি কতটা তীব্র ছিলো তার মর্মস্পর্শী বিশ্লেষন আর গভীর পর্যবেক্ষনের যে উপন্যাস লিখেছেন আহমেদ ছফা তা নি:সন্দেহে বাঙলা ভাষায় রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর আলোকিত উপন্যাসগুলোর মাঝে অন্যতম।
জীবনকে বাঁচিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া কিছু মানুষের জীবনের মধ্য দিয়ে ছফা মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন এতটা গভীর ভালোবাসা দিয়ে যে মনে হবে আপনি নিজেই আছেন সেই মানুষগুলোর দলে। সরনার্থী জীবন কেমন ছিলো, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেমন ছিলো ভারতের মনোভাব, ৭১ এ কেমন ছিলো দেশ ছেড়ে আসা এককোটি মানুষ, তার একটি চিত্র পাবেন বইটিতে। যুদ্ধ কি করে মানুষকে দলে দলে ভাগ করে দেয়, কি করে ব্যাক্তিগত অনুভূতিকে ভোঁতা করে দেয়, মানুষকে কি করে আরেক মানুষের কাছে নিয়ে আসে, চিত্রকরের মতো এসবের এক জলছবি এঁকেছেন ছফা. সেই ছঁবি এতটাই নিখুঁত, এতটাই হৃদয়স্পর্শী যে অনেক জায়গায় নিজের অজান্তেই আপনার চোখে জল গড়াবে। গল্পের নায়ক দানিয়েল, একজন ছোটখাট লেখক, টুকিটাকি লেখালেখি করতেন, একসময় রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। সবকিছুকে গভীরভাবে দেখার ক্ষমতা, চারিত্রিক দৃঢতা, সম্পর্কের প্রতি নিস্পৃহতা, আর দেশাত্ববোধ প্রখর একজন মানুষ দানিয়েল। মুক্তিযুদ্ধকে গভীরভাবে হৃদয়ে লালনকারী, স্বাধীনতাকামী এই যুবকের জীবনে ৭১ আর মুক্তিযুদ্ধ কেমন করে এসেছিলো, তিনি কি দৃষ্টিতে দেখেছেন মুক্তিসংগ্রাম সেটিই উপন্যাসের মূল গল্প। রাজনীতি আর সাহিত্য চর্চার সুবাদেই তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে প্রগতিশীল ভিন্নমনা আধুনিক নারী তৈয়বার. যার রয়েছে সংগ্রামী এক জীবন কাহিনী। স্বাধীনতা সংগ্রাম কেমন করে তাদেরকে পরস্পরকে কাছে এনেছে আবার মহাকালের অতলে নিয়ে গেছে সেটিই ফুটে ওঠেছে অলাতচক্রে। ব্যাক্তি জীবনের সাথে জাতীয় জীবনের যে সংঘাত, জাতীয় অর্জনের(স্বাধীনতা) জন্যে যে সব মানুষি যে ছোট-বড় অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন তার উৎকৃষ্ট উদাহারণ উপন্যাসটি।
ছফার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন ক্ষমতা, অসাধারন নির্মোহ বিশ্লেষন আর অগাধ জ্ঞানের ছাপ রয়েছে উপন্যাসটিতেস্বাধীনতা বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন. মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সেই স্বাধীনতার প্রতি গভীর আবেগ বোধ করে কম বেশি সব বাঙালি. কারন মুক্তিযুদ্ধই বাঙালির শ্রেষ্ঠ অহংকারের জায়গা. সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা, উপন্যাস আর গল্প. তার কিছু হয়েছে কালজয়ী আর কিছু হয়েছে সস্তা ভাবুলতা. মুক্তিযু্দ্ধ আসলে বিশাল এক ক্যানভাস, রণাঙ্গন, বোমা, গোল-বারুদ, হত্যা-ধর্ষন আর ৩০ লক্ষ প্রাণের আত্নত্যাগ শুধু এইটুকু দিয়ে এর ব্যাপকতা বুঝানো যাবে না. মুক্তিযুদ্ধ কে বুঝতে হলে, মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হলে ৭১ এর রণাঙ্গনের পাশাপাশি জানতে হবে স্বাধীনতার বীজ বপনের একেবারে মূল থেকে. আর সেই মূল হলো ৪৭ এর দেশ ভাগ, ৫২র ভাষা আন্দোলন,৭০ এর নির্বাচন, ত্রিশবছর পাকিস্থানিদের শোষণ. একটি উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকে কেউ এমন শিকড় থেকে নিয়ে আসেনি, যেটা এনেছেন আহমেদ ছফা তার ”অলাতচক্র ” উপন্যাসে. উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ আর মানবিক উপখ্যানের এক অসাধারন দলিল. ছফা দেখিয়ে দিয়েছেন রণাঙ্গনের রক্তাত্ত যুদ্ধ ছাড়াও যুদ্ধ হয়েছে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে, নিজের অস্তিত্বের সাথে. সেই লড়াই মানুষকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে অনন্ত শূণ্যতার মুখোমুখি, দিয়ে গেছে একবুক দীর্ঘশ্বাস আর শুকিয়ে যাওয়া এক অশ্রু নদী. এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহন না করেও যুদ্ধ করেছে প্রতিনিয়ত, এমনও অসংখ্য মানুষ আছে যারা সীমান্তের ওপারে গিয়েও পালাতে পারেনি ছাপানো হাজারের বর্গমাইলের শিকড়ের টান থেকে. তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ কেমন ছিলো, তাদের অনুভূতি কতটা তীব্র ছিলো তার মর্মস্পর্শী বিশ্লেষন আর গভীর পর্যবেক্ষনের যে উপন্যাস লিখেছেন আহমেদ ছফা তা নি:সন্দেহে বাঙলা ভাষায় রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর আলোকিত উপন্যাসগুলোর মাঝে অন্যতম.
জীবনকে বাঁচিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া কিছু মানুষের জীবনের মধ্য দিয়ে ছফা মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন এতটা গভীর ভালোবাসা দিয়ে যে মনে হবে আপনি নিজেই আছেন সেই মানুষগুলোর দলে. সরনার্থী জীবন কেমন ছিলো, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেমন ছিলো ভারতের মনোভাব, ৭১ এ কেমন ছিলো দেশ ছেড়ে আসা এককোটি মানুষ, তার একটি চিত্র পাবেন বইটিতে. যুদ্ধ কি করে মানুষকে দলে দলে ভাগ করে দেয়, কি করে ব্যাক্তিগত অনুভূতিকে ভোঁতা করে দেয়, মানুষকে কি করে আরেক মানুষের কাছে নিয়ে আসে, চিত্রকরের মতো এসবের এক জলছবি এঁকেছেন ছফা. সেই ছঁবি এতটাই নিখুঁত, এতটাই হৃদয়স্পর্শী যে অনেক জায়গায় নিজের অজান্তেই আপনার চোখে জল গড়াবে. গল্পের নায়ক দানিয়েল, একজন ছোটখাট লেখক, টুকিটাকি লেখালেখি করতেন, একসময় রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন. সবকিছুকে গভীরভাবে দেখার ক্ষমতা, চারিত্রিক দৃঢতা, সম্পর্কের প্রতি নিস্পৃহতা, আর দেশাত্ববোধ প্রখর একজন মানুষ দানিয়েল. মুক্তিযুদ্ধকে গভীরভাবে হৃদয়ে লালনকারী, স্বাধীনতাকামী এই যুবকের জীবনে ৭১ আর মুক্তিযুদ্ধ কেমন করে এসেছিলো, তিনি কি দৃষ্টিতে দেখেছেন মুক্তিসংগ্রাম সেটিই উপন্যাসের মূল গল্প. রাজনীতি আর সাহিত্য চর্চার সুবাদেই তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে প্রগতিশীল ভিন্নমনা আধুনিক নারী তৈয়বার. যার রয়েছে সংগ্রামী এক জীবন কাহিনী. স্বাধীনতা সংগ্রাম কেমন করে তাদেরকে পরস্পরকে কাছে এনেছে আবার মহাকালের অতলে নিয়ে গেছে সেটিই ফুটে ওঠেছে অলাতচক্রে. .ব্যাক্তি জীবনের সাথে জাতীয় জীবনের যে সংঘাত, জাতীয় অর্জনের(স্বাধীনতা) জন্যে যে সব মানুষি যে ছোট-বড় অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন তার উৎকৃষ্ট উদাহারণ উপন্যাসটি.
ছফার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন ক্ষমতা, অসাধারন নির্মোহ বিশ্লেষন আর অগাধ জ্ঞানের ছাপ রয়েছে উপন্যাসটিতে। মুক্তিযুদ্ধের উপর উপন্যাস লিখতে হলে যে অগাধ রাজনীতিক জ্ঞান থাকতে হয়, তা উপন্যাসটি পড়লে বুঝতে পারবে পাঠক। উপন্যাসে ওঠে এসেছে দেশভাগ আর তার যন্ত্রনার কথা, পাকিস্থানিদের গভীর ষড়যন্ত্রের কথা। যুদ্ধকালীন সময়ে তাজউদ্দিনের অসীম সাহসিকতা, আওয়ামিলীগের দলে দলে ভাগ হয়ে যাওয়া, বাঙালিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখানো শেখ মুজিবের কথা। রয়েছে নানা গুজব আর মুজিব বিরোধী কথার ব্যাখা। দুটো দৃষ্টিকোন থেকেই ছফা মুক্তিযুদ্ধকে দেখিয়েছেন। বিদেশিরা কেমন করে দেখেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে, কেমন করে দেখেছে পাকিস্থান পন্থী ভারতীয় মুসলমানরা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কেমন ছিলো শ্রীমতি ইন্ধিরা গান্ধির ভূমিকা, তিনি কতটা আন্তরিক আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা উপন্যাসটি পড়লে পাঠকের জানা হয়ে যাবে। ইতিহাসের নতুন পাঠকরা জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধে কোন কোন ক্ষমতাধর রাষ্ট দাঁড়িয়েছিলো আমাদের পক্ষে আর কারা ছিলো বিপক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের উপর উপন্যাস অথচ তাতে মাত্র দুুটো মৃত্যুর বর্ণনা আছে, আর সেই দুটো মৃত্যু আপনাকে এতটাই নাঁড়া দিয়ে যাবে যে আমি স্তব্দ নিথর হয়ে যাবেন কিছুক্ষনের জন্যে। ভালোবাসা-দেশপ্রেম-যুদ্ধ-রাজনীতি-আত্নত্যাগের মহিমা ছাড়াও উপন্যাসটি হয়ে ওঠেছে ৭১ আর মুক্তিযুদ্ধকে জানার অসামন্য এক ঐতিহাসিক দলিল। মুক্তিযুদ্ধের উপর এত তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন, গভীর মমত্ববোধ, নির্মোহ সত্য ভাষন, আর ব্যাক্তি সংঘাতের এমন উপন্যাস আমি পড়িনি। এমন উপন্যাস সকল পাঠকের পড়া উচিত...আশা করি উপন্যাসটি সবার জীবনে পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসাবে স্থান পাবে।
মুক্তিযুদ্ধের উপর উপন্যাস লিখতে হলে যে অগাধ রাজনীতিক জ্ঞান থাকতে হয়, তা উপন্যাসটি পড়লে বুঝতে পারবে পাঠক। উপন্যাসে ওঠে এসেছে দেশভাগ আর তার যন্ত্রনার কথা, পাকিস্থানিদের গভীর ষড়যন্ত্রের কথা। যুদ্ধকালীন সময়ে তাজউদ্দিনের অসীম সাহসিকতা, আওয়ামিলীগের দলে দলে ভাগ হয়ে যাওয়া, বাঙালিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখানো শেখ মুজিবের কথা। রয়েছে নানা গুজব আর মুজিব বিরোধী কথার ব্যাখা। দুটো দৃষ্টিকোন থেকেই ছফা মুক্তিযুদ্ধকে দেখিয়েছেন। বিদেশিরা কেমন করে দেখেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে, কেমন করে দেখেছে পাকিস্থান পন্থী ভারতীয় মুসলমানরা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কেমন ছিলো শ্রীমতি ইন্ধিরা গান্ধির ভূমিকা, তিনি কতটা আন্তরিক আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা উপন্যাসটি পড়লে পাঠকের জানা হয়ে যাবে। ইতিহাসের নতুন পাঠকরা জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধে কোন কোন ক্ষমতাধর রাষ্ট দাঁড়িয়েছিলো আমাদের পক্ষে আর কারা ছিলো বিপক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের উপর উপন্যাস অথচ তাতে মাত্র দুুটো মৃত্যুর বর্ণনা আছে, আর সেই দুটো মৃত্যু আপনাকে এতটাই নাঁড়া দিয়ে যাবে যে আমি স্তব্দ নিথর হয়ে যাবেন কিছুক্ষনের জন্যে। ভালোবাসা-দেশপ্রেম-যুদ্ধ-রাজনীতি-আত্নত্যাগের মহিমা ছাড়াও উপন্যাসটি হয়ে ওঠেছে ৭১ আর মুক্তিযুদ্ধকে জানার অসামন্য এক ঐতিহাসিক দলিল। মুক্তিযুদ্ধের উপর এত তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষন, গভীর মমত্ববোধ, নির্মোহ সত্য ভাষন, আর ব্যাক্তি সংঘাতের এমন উপন্যাস আমি পড়িনি। এমন উপন্যাস সকল পাঠকের পড়া উচিত...আশা করি উপন্যাসটি সবার জীবনে পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসাবে স্থান পাবে।