আনোয়ার পাশার কবিতার বই। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এই বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক। কবিতার এই বইটি লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৭৪ সনে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটির কবিতা "সূর্য সনাথ" সম্ভবতঃ তাঁর লেখা সর্বশেষ কবিতা।
আনোয়ার পাশা একজন বাংলাদেশী কবি, কথা সাহিত্যিক, এবং শিক্ষাবিদ। তাঁর পিতার নাম হাজী মকরম আলী আর মা সাবেরা খাতুন। তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর মোহকুমার রাঙ্গামাটি চাঁদপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৪৬ সালে মাদ্রাসা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে কৃতকার্য হন। কিন্তু ১৯৪৮ সালে আবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন। তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক পাশ করেন ১৯৫১ সালে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যেই স্নাতকোত্তর সম্মাননা অর্জন করেন। মানিকচক হাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে আনোয়ার পাশার কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি ১৯৫৪ সালে ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসায় এবং ১৯৫৭ সালে সাদিখান দিয়ার বহুমুখী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে এই কলেজেরই বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনি জৈষ্ঠ্য প্রভাষক পদে পদোন্নতি পান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এখানেই কর্মরত ছিলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম: উপন্যাস: নীড় সন্ধানী (১৯৬৮), নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮), রাইফেল রোটি আওরাত (১৯৭৩) কাব্য: নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩), সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী (১৯৭৪), অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪) সমালোচনা: সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল (১৯৬৭), রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা (প্রথম খন্ড-১৯৬৯, দ্বিতীয় খন্ড-১৯৭৮) গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ঢাকার মিরপুরের বধ্যভূমিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহযোগী আল বদর বাহিনীর সদস্যদের হাতে তিনি নিহত হন। ১৯৭২ সালে তিনি মরণোত্তর বাংলা একাডেমী পুরস্কারে ভূষিত হন।
আনোয়ার পাশা কে চিনি "রাইফেল, রোটি, আওরাত" থেকে। চিনতামও এতোটুকুই। উনি যে কবিতা লিখেছেন জানা ছিলো না। পরে যখন থেকে বইটার নাম শুনেছি, নামটা ভালো লাগতো। প্রথমে ভাবতাম নামটাঃ 'সমুদ্র, শৃঙ্খলতা, উজ্জয়িনী'; পরে দেখা গেলো নামটা আরো সুন্দর। রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর, ঢাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষক আনোয়ার পাশার এই বই এর প্রায় সব কবিতাই বেশ দুর্বোধ্য আর কঠিন আমার কাছে- ভাষাগত, উপমাগত উভয়ই। একটা-দুইটা কবিতার অংশ শুধু কিছুটা পরিচিত ধাঁচে লেখা ছিল, যেমনঃ
এছাড়া বাকি কবিতাগুলো কঠিন। আনোয়ার পাশা খুব বেশি কাব্য লেখার সময় পান নি। বাকি কবিতার বইগুলোও খুব বেশি সহজপ্রাপ্য নয়। এই বইটা ১৯৭৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত। আরো আনোয়ার পাশা পড়ার আশা রাখি।