বইটা নিয়ে এক্সপেকটেশন অনেক বেশি ছিলো। তবে সেটা ফুলফিল হয় নি। গল্প খুব ই সাদামাটা। প্লট আরও গভীর এবং টুইস্ট আরও বেশি হলে পড়ে ভালো লাগতো। এন্ডিং খুব ই সাধারণ যেটা আশা করি নি। বর্তমান সময় অনুযায়ী বইটা 'মোটামুটি চলে' টাইপ।
কাশ্মীরের শাহজাদী শুধু একটি গল্প নয়, বরং কাশ্মীরের বাস্তবতা, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও স্বপ্নের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। লেখকের কাব্যময় ও প্রাণবন্ত ভাষাশৈলী কাশ্মীরের অপূর্ব প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে পাঠক যেন নিজেই সেই পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে কাশ্মীরের রাজনীতি, সংগ্রাম এবং মানুষের বেদনার প্রতি গভীর সহমর্মিতা অনুভব করা যায়। সত্যিকারের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের সংঘাতও লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
তবে বইটিতে কিছু ভাষাগত অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রেখা চরিত্রটি কখনো অসীমকে ‘দাদা’, আবার কখনো ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধন করেছে। উল্লেখ্য, হিন্দু পরিবারে সাধারণত বড় ভাইকে ‘দাদা’ বলেই ডাকা হয়। এ ধরনের সম্বোধনের অসঙ্গতি ছাড়াও শব্দচয়নে আরও কিছু ছোটখাটো ত্রুটি রয়েছে, যা সম্পাদনার মাধ্যমে সহজেই সংশোধন করা সম্ভব।
এ ছাড়া বইটির নাম ‘কাশ্মীরের শাহজাদী’ হলেও মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মুহাম্মদ নামের একজন কাশ্মীরি তরুণকে কেন্দ্র করে। সে কারণে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, বইয়ের নামটি গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি।
সব মিলিয়ে, কিছু ভাষাগত ও সম্পাদনাগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বইটির কাহিনী, আবেগ, বাস্তবতার উপস্থাপন এবং লেখকের সাবলীল বর্ণনাশৈলী আমাকে মুগ্ধ করেছে। কাশ্মীরকে নতুনভাবে জানার এবং তার মানুষের অনুভূতি উপলব্ধি করার জন্য বইটি অবশ্যই পাঠযোগ্য।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইটা যে মেন ক্যারেক্টার তার নাম মোহাম্মাদ। ছোটবেলায় থেকে একটি হিন্দু পরিবারের কোলে বেড়ে ওঠে কিভাবে একজন কাশ্মীরের বীর বনে যাই সেই বিষয়ই মূলত লেখা। শেষে তার নাম মিম সিত্তাও নামে কাশ্মীরের মানুষের কাছে পরিচিতি পাই। আমার বইটা বেশ ভালো লেগেছে খারাপ না। পড়তে পারেন।