মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বইটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে লেখা একটি গ্রন্থ। এখানে পাঠকরা মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের ইতিহাস যেমনি খুঁজে পাবেন, ঠিক তেমনি সমসাময়িক রাজনীতি সম্পর্কেও একটি ধারণা পাবেন। মোট ১১ টি অধ্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে বইটাতে। গ্রন্থটি মূলত একটি একাডেমিক গ্রন্থ। রাজনীতি বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ইতিহাসের ছাত্রদের কাছে গ্রন্থটি অবশ্যপাঠ্য। একইসাথে সাধারণ পাঠকদের অনেক প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে এ গ্রন্থটিতে।
এই পৃথিবীর সবথেকে অস্থিতিশীল জায়গা কোনটা? উত্তরঃ মধ্যপ্রাচ্য। বইটার মূল থিম হচ্ছে আরব বসন্ত পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আরব বিশ্বের অবস্থা নিয়ে। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার বোইয়াজিজির আত্মহননের মাধ্যমে যেই বিপ্লবের আগুন তিউনিসিয়াতে জ্বলেছিলো তা ধীরে ধীরে পুরো আরব বিশ্বের প্রতিটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তারই পরিণতিতে আরব বিশ্বের দেশগুলোর সরকার পরিবর্তন, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। কিন্তু যেই আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে আরব বিশ্বের তরুণ সমাজ পুরো আরব বিশ্বে আন্দোলন করেছিলো সেই স্বপ্ন কতোটা পূরণ হয়েছে? মূলত সেই আন্দোলন হয়েছে ব্যর্থ এবং স্বপ্ন হয়েছে ভূলন্ঠিত। বইটির শুরতে আরব বসন্তের পটভূমি, ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা, বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তারপর তিউনিসিয়াতে জেসমিন বিপ্লব/ আরব বসন্তের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনটা কিভাবে হলো তা বুঝানো হয়। এরপর আসে মিসরে আরব বসন্তের ছোঁয়া নিয়ে, এই মিসর আন্দোলনের সবথেকে বড় প্রভাব দেখেছে। মিসরের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলো গণতন্ত্রের, পরিবর্তিত ব্যবস্থায় হয়েছিলো নির্বাচন, কিন্তু ফলাফল হলো শূন্য। এখনো মিশরে চলছে একনায়কতন্ত্র। গাদ্দাফির লিবিয়ার পরিণতির কথা আসে এরপর, গাদ্দাফিকে কিভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, কিভাবে দেশটা ধ্বংস করা হয় তার বর্ণনা রয়েছে এখানে। প্রসঙ্গত এখানে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের কাহিনিও চলে আসে। এরপর আসে সিরিয়ার ভূমিকা, যেখানে এখনো চলছে গৃহযুদ্ধ। এছাড়াও মধ্যেপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটা দেশেই আরব বসন্তের ছোঁয়া নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা রয়েছে। এইসকল যুদ্ধে সৌদি, ইরান, তুরষ্কের প্রক্সি ওয়ার নিয়েও আছে আলোচনা। একইসাথে রুশ-মার্কিনি স্বার্থ। বইটাতে তেমন ক্রিটিকাল অ্যানালিসিস নেই, যা আছে তা হচ্ছে তথ্যপূর্ণ আলোচনা।