Jump to ratings and reviews
Rate this book

Arshinagar | আরশিনগর

Rate this book
‘আরশিনগর' প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায়। তার আগেই আমার আরাে কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই বইটিকেই আমি আমার প্রথম উপন্যাস বলি। এর কারণও রয়েছে। আমার কেন যেন মনে হয়, এই উপন্যাসটি লিখতে গিয়েই আমি প্রথম আমার চারপাশের চেনা জীবন ও জগৎ কে অন্যরকম এক সংবেদনশীলতায় অনুভব করি, অনুবাদ করি নিজের ভাবনায়। আরশিনগর মূলত সেই অনুভব ও ভাবনার প্রকাশ। প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রকাশ অন্যের ভাবনাকে ছুঁয়ে যাবে কি না? স্পর্শ করবে কি না? আরশিনগর' সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছে বিপুল বিস্ময়ে। বছরের পর বছর পাঠকের অবিশ্বাস্য ভালােবাসায় সিক্ত হয়েছে এই উপন্যাস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরাে বেশি পাঠককে বদ করে চলেছে অদ্ভুত এই জীবন ও যন্ত্রণার আখ্যানে। একজন লেখক হিসেবে আমাকেও পৌঁছে দিয়েছে বিস্তৃত পরিসরের পাঠকের কাছে। এসব কারণেই এই উপন্যাসটির প্রতি কিছুটা পক্ষপাতিত্ব কিংবা দুর্বলতা আমার রয়েছে। ফলে সবসময়ই চেয়েছি বইটি আরাে যত্ন করে প্রকাশ করতে। সেই চাওয়া থেকেই এবার অন্যধারা থেকে প্রকাশিত হয়েছে আরশিনগর। গল্প অপরিবর্তিত থাকলেও এই সংস্করণে শব্দ ও বর্ণনায় সামান্য পরিমার্জনা রয়েছে। প্রচ্ছদেও রয়েছে ভিন্নতা। আশা করছি, আরশিনগর আরাে বেশি পাঠকের কাছে পৌছে যাবে। স্পর্শ করবে অগণিত মন ও মানুষ, ভাবনার ভুবন। পাঠকের জীবনের গল্প ও গল্পের জীবনে যে স্পন্দন তুলেছে এই উপন্যাস, সময়ের বাহনে চেপে তা আরাে বেশি আলােড়িত করবে, প্রবল ঢেউ তুলবে অনুভবের সমুদ্রে।

Hardcover

First published February 4, 2015

121 people are currently reading
1690 people want to read

About the author

Sadat Hossain

39 books379 followers
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
142 (24%)
4 stars
188 (32%)
3 stars
144 (24%)
2 stars
77 (13%)
1 star
27 (4%)
Displaying 1 - 30 of 93 reviews
Profile Image for Mahmudur Rahman.
Author 13 books357 followers
August 30, 2019
আরশিনগরে) আমার সাদাত হোসাইন আবিষ্কার ও অন্যান্য

আরশি মানে আয়না। আর আয়নায় সবকিছু উল্টো দেখা যায়। অর্থাৎ আয়নায় যদি কোন জগত থাকে, সে জগত হবে উল্টো জগত। তবে, আয়নার জগত যে আয়নার ভেতরে হতে হবে এমন না। আয়নার বাইরে বাস্তব জীবনেও কোন কোন জীবন হতে পারে উল্টো। কিংবা কোন একটা মানুষ বা পরিবারকে কেন্দ্র করে সেই উল্টো জীবন চলতে পারে। সেটাও যদি না হয়, তবে একটা গল্প তো হতে পারে।

কথাগুলো আমার ভাষায় তবে, বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা এবং একদম শেষে এসে লেখক যা বলেন তাতে এটিই প্রতীয়মান হয় যে তিনি এমন একটা উল্টো জীবনের গল্প বলতে চেয়েছেন। কিন্তু আদতে কোন উল্টো জীবনের গল্প এখানে নেই। যা আছে তা হলো অদ্ভুত সব সমাপতনে সাজানো লেখকের একটা গল্প।

গল্পের মূল চরিত্র আরশি যে কিনা জন্মের সময়ে মাকে খায় অর্থাৎ আরশির জন্মের সময়েই তার মা মারা যায়। স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে মজিবর মিয়ার সামনে থাকে আরশির মুখ। কিন্তু তবু মজিবর মিয়াঁ আরশিকে ঘৃণা বা অবহেলা করে না, মেয়ের জন্য তার বুকে রয়েছে অসীম ভালোবাসা। এহেন অবস্থায় বন্যা শুরু হলে যযাতিপুর গ্রাম পানির নিচে যাওয়া শুরু করে এবং মজিবর মিয়াঁ তার দুইখানা গরু সম্পর্কে চিন্তিত হন। কি করি কি করি চিন্তা করতে করতে সে ঠিক করে ‘মোঘলগঞ্জে’ মামার কাছে সে গরু নিয়ে যাবে।

মজিবরের মামা একজন ধূর্ত লোক। কিন্তু গল্পের এ পর্যায়ে এসে আমরা জানতে পারি আলাভোলা মজিবর আসলে ‘লং টার্ম প্লেয়ার’। সে মামার উপরে চালাকি করে গরু বেচা টাকার সঙ্গে মামার কাছ থেকে কর্জ করে একটা ট্রলার কিনে ফেরে। কেননা বন্যায় সেই ট্রলার হবে কাঁচা টাকার মেশিন। এবং সেটাই হয়। দিনে দিনে মজিবরের আয় রোজগার বাড়তে থাকে। এবং যেহেতু মজিবর বিশাল চালাক মানুষ, অচিরেই সে হয়ে ওঠে গ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
আরশি বড় হতে থাকে তার দাদী আম্বরি বেগমের কাছে। বহুদর্শী এই প্রবীণা আরশিকে নানা কেচ্ছা শোনায়। মা মরা আরশি তার দাদীর গল্পে ডুবে থাকে। মেয়েটি কথা বলে কম। সে শ্যামলা কিন্তু তার চোখে অদ্ভুত মায়া আছে। সবাই কেবল আরশির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

আরশি যখন একটু একটু করে বড় হয়, তখন সঙ্গে সঙ্গে বড় হয় মজিবর। ধনে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানেও বড় হয়। ভাগচাষী মজিবরের এই বড় হওয়া মেনে নিতে গ্রামের অনেকেরই সমস্যা। লতু হাওলাদার তাদের মাঝে অন্যতম। কেননা লতুর জমিতে এক সময় কাজ করেছে মজিবর। তাই মসজিদের ইমামের বেতনের বেশীরভাগ টাকা মজিবর দেওয়ার কথা বললে মজিবরের সঙ্গে লতুর দুশমনি প্রকাশ্যে শুরু হয়।

যযাতিপুরে যখন এই কাহিনী চলছে তখন প্যারালাল আরেকটি গল্প লেখক আমাদের সামনে উপস্থিত করেন যেখানে আশিষ নামের একটি হিন্দু ছেলের সঙ্গে মিলি নামের একটি মুসলিম মেয়ের সংসার। টোনাটুনির সে সংসার প্রেমের। কিন্তু সেটা কেবল একটা প্যারালাল গল্প না, আরশি এবং যযাতিপুরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যযাতিপুর থেকে বেশ খানিক দূরে মালোপাড়া। সেখানকার ডাক্তার শুকরঞ্জন। সেই শুকরঞ্জন ডাক্তারের ছেলে আশিষ। শুকরঞ্জন সেই ব্যক্তি যে মজিবরের স্ত্রীর মৃত্যুশয্যায় ছিলেন।

গল্প এখনও শুরুই হয় নাই। মাত্র কেবল ভূমিকা। এবং ভূমিকা থেকেই বোঝা যাচ্ছে নব্বই দশকের কলকাতার বাংলা সিনেমার গল্পের সঙ্গে কেমন যেন একটা মিল। একটি মাতৃহীন কন্যা, গ্রাম্য রাজনীতি, সমান্তরালে আরেকটি পরিবার যেখানে ভাগ্যচক্রে আশরি গিয়ে পৌঁছবে।

নাম আরশিনগর হলেও এ গল্প কেবল আরশির না। বরং অনেক বেশি একটা বিস্তৃত গল্পের। সে গল্পে আরশি আছে, মজিবর আছে, লতু আছে, মিলি আর আশিষের ভাঙা গড়ার জীবন আছে। সবটা মিলে একটা জটিল গল্প কিংবা খুব সরল গল্প যে গল্প আন্দাজ করে নেওয়া যায় বই পড়ার মোটামুটি ৫০/৬০ পাতার মধ্যে।

আরশিনগর উপন্যাসের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হলো গ্রাম, গ্রামের মানুষ এবং গ্রাম্য রাজনীতি। রাজনীতি কথাটি বললেই সভা সমাবেশ আর রাষ্ট্রক্ষমতার দ্বন্দ্বের কথা মনে হয়। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশে রাজনীতি হল একজনকে টেনে নিচে নামিয়ে অন্যের উপরে ওঠার সমার্থক। কূটচাল, কপটতার আরেক নাম রাজনীতি। এবং গ্রামের ক্ষেত্রে তা কেমন জঘন্য রূপ নেয় তা গ্রামে বসবাস না করলে বোঝা যায় না। লেখক এই উপন্যাসে গ্রাম্য রাজনীতিকে সামনে এনেছেন।

ক্ষমতা লাভ করতে লালায়িত লতু। কিন্তু যযাতিপুরের সবচেয়ে মর্যাদাবান মানুষ তালুকদার সাহেব। তার বসবাস ঢাকায়। কিন্তু এবার তিনি গ্রামে এসে কাজ শুরু করেছেন। রাস্তা করবেন, ইলেক্ট্রিসিটি আনবেন। লতু বুঝতে পারছিল তালুকদার থাকলে তার বড় হওয়া হবে না। তাই তালুকদারকে মারতে সে আবদুল মোমিন গ্রুপের সাহায্য চায়। সে খবর জেনে ইমাম সাহেব আসেন তাঁদের বাঁচাতে। আরশির অসুস্থতায় দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন তালুকদারের পুত্রবধূ রুবিনা। এখন তালুকদারদের বাঁচাতে হাজির মজিবর। লতুর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

মামাতো বোন লাইলিকে বিয়ে করা মজিবর মিয়াঁ আড়ত দিয়েছিল। জমি কিনেছিল লতুর। সে জমি ফেরত চাইলে লতুকে ফিরিয়ে দেয় (মানে রিফিউজ করে) মজিবর। সে সময় মজিবরকে অপমান করলে লতুকে চড় মারে সে। মজিবরের করা অপমানের শোধ নিতে লতু হাওলাদার ডেকে আনে আবদুল মোমিন গ্রুপের লোকমানকে। নদীর পাড়ে মজিবরের পায়ের গোঁড়ালি কেটে ফেলে লোকমান। ঠিক সেই সময় সেখানে হাজির হয় শুকরঞ্জন ডাক্তার।

মানুষের জীবনে সমাপতন থাকে। কিন্তু একটা মানুষের জীবনে বারবার সমাপতন আসে না। আরশিনগর হলো সমাপতনের গুরু। ঠিক যখন আরশির অসুখ হবে তখন রুবিনা থাকবেন তালুকদার বাড়ি। তখন ডাকলেই তিনি চলে আসবেন কেননা তিনি ডাক্তার। ইমাম সাহেব রুবিনাকে জননী সম্বোধন করলে রুবিনা অবাক হবে। (অবাক হওয়ার কি আছে? অনেকেই নারীদের মা, আম্মা ডাকে)। এবং শুধু অবাক না, সে ইমাম সাহেবের কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে।

সমাপতন অসহ্য হয়ে ওঠে তখন, যখন মজিবরের পা কাঁটা পরে তখনই শুকরঞ্জন ট্রলারে করে সেখানে পৌঁছেন। তা পৌঁছতে পারেন। কিন্তু মজিবরকে বাচিয়ে রাখার জন্য যখন লেখক দেখান যে লোকমানের সঙ্গে আগে শুকরঞ্জনের পরিচয় ছিল আর তাই লোকমান মজিবরকে ছেড়ে দেয় এবং হাট ভাঙা, পা কাঁটা চোয়াল বাঁকা হওয়ার পর ট্রলারে অনেক পথ যাওয়ার পরও মজিবর বেঁচে থাকে তখন রীতিমত পাঠক হিসেবে আমার বেঁচে থাকাই কেমন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে।

সাদাত হোসাইলের অনেক প্রশংসা, অনেক নিন্দা। এমনিতে পাঠক হিসেবে একজন লেখকের লেখা নিয়ে অনেক মন্তব্য করা যায়। বছর খানেক হলে নির্দ্বিধায় করতাম। কিন্তু এখন নিজের নামটা লেখকের কাতারে চলে আসায় কিছুটা রেখেঢেকে বলা লাগবে। নইলে আবার লোকে আমাকে বিদ্বেষী, ঈর্ষান্বিত ভাবতে পারে।

সাদাত হোসেইনের লেখা অর্থাৎ ভাষা সরল। এমন একটা উপন্যাসের জন্য যেমন হওয়া উচিত তেমনই। তিনি গ্রামীণ রাজনীতির কুৎসিত দিক খুব সুন্দর করে তুলে এনেছেন কিন্তু যে সময়ের কথা তিনি বলছেন সে সময়ের সঙ্গে কিছুটা অসামঞ্জস্য লক্ষিত হয়। প্রথমত লোকমান, গলাকাটা বশির এদের আচরণের সঙ্গে সর্বহারা পার্টির একটা ইমেজ পাওয়া যায়। কিন্তু তা স্পষ্ট না। সাদাত হোসাইন গ্রামের ক্যানভাসে গল্প আঁকলেন কিন্তু সেখানে যযাতিপুরের কোন উপযুক্ত বর্ণনা নেই। বিভূতির মতো প্রাকৃতিক বর্ণনার প্রয়োজন নেই কিন্তু গ্রামটা কেমন তার একটা চিত্র দিলে বোধয় ভালো হতো।

মজিবর মিয়ার বাড়ি বলতে শুধু মজিবরের বাড়িই মনে হয়। কিন্তু কিছুদিন গ্রামে থাকার দরুন জানি গ্রামে কোন বাড়ি এক ভিটায় এক ঘর নিয়ে হয় না। একটা বাড়ি মানে কয়েক ভি��ায় কয়েকটা বাড়ি, কয়েকটা পরিবারের বাস। সেটা জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’-তে স্পষ্ট। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির মতো নিউক্লিয়ার ঘর তৈরি হ���্ছে গ্রামে এই শতাব্দীতে ঢুকে। বিদেশী কাঁচা পয়সা হাতে আসার পর। কিন্তু গল্প তো আশির দশকের শুরুর বলে মনে হয়। সম্ভবত তালুকদারের খুন, লাইলির পরপুরুষ ঘরে ঢোকানোর জন্য স্পেস দিতে একঘর থিয়োরি এসেছে।

এগুলো গৌন বিষয়। মুখ্য বিষয় প্রচুর সমাপতন যা আগেই বলেছি। এরপর আসে হুমায়ূন প্রভাব। পুরো উপন্যাস জুড়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রভাব প্রবল। ইমাম আকরাম হোসেন যেন হুমায়ূনের কোন বই থেকে উঠে আসা চরিত্র। তিনি ঠিক সেভাবেই কথা বলেন। হঠাৎ সমাপতনও হুমায়ূনের অনেক বইয়ের বৈশিষ্ট্য। মাঝে মাঝে চরিত্রেরা সেভাবেই কথা বলে। বিশেষত মিলি চরিত্রটি হুমায়ূনের নারী চরিত্রের সাথে খুব বেশি মেলে। যদিও পরবর্তীতে সে সিজোফ্রেনিক। এমনকি খোদ আরশি যেন বিষণ্ণতার সেই প্রতীক যে শেষ পর্যন্ত নীল শাড়ি পড়ে রিকশার হুড ফেলে বৃষ্টিতে ভেজে আর তার আগে আসিফ এবং রিকশাওয়ালার সঙ্গে সেই ভঙ্গীতে কথা বলে যেভাবে বলতে পারে হুমায়ূনের নারী চরিত্র।

পুরো বই আবেগে ভরা। সেই আবেগের প্রকাশ অদ্ভুত। যেমন লেখক লেখেন, ‘তার খুব কষ্ট হলো। খুব”। “একবারও পেছনে ফিরে তাকাল না। একবারও না”। এই রিপিটেশনের মধ্য দিয়ে আবেগকে প্রকাশ করা হলো যার আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না কিন্তু প্রয়োজন ছিল।

কেন ছিল? কেননা মানিকের ‘প্রাগৈতিহাসিক’ কিংবা হেমিংওয়ের ‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী’-এর পাঠক আমাদের দেশে খুব কম। ‘তিথির নীল তোয়ালে’ কিংবা ‘ এই শুভ্র এই’ এর খোঁজ বেশি হয়। সাদাত হোসাইন সেই চাহিদাটা বুঝেছেন এবং সেভাবেই লিখেছেন। তার লেখার সবচেয়ে বড় দিক আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে তিনি পাঠকের আবেগে টোকা দিতে চান এবং সেটা যেভাবে করা তার সঠিক মনে হয়েছে তিনি করেছেন। এবং তিনি যে সফল সেটা আজ বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আরশিনগর পড়ে লেখক এবং তার লেখা সম্পর্কে আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, সাদাত হোসাইনএকটা নিরেট গল্প রাখেন তার লেখায়। সে গল্পের ডালপালা থাকে। আরও বড় বিষয় সে গল্পটাকে তিনি সেভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখেন, যেভাবে করলে সেটা পাঠক গ্রহণ করতে পারবে। পাঠক অনেক রকম হয়। আমি সিংহভাগ পাঠকের কথা বলছি যারা বই কিনবে, পড়বে কিংবা ধার করে হলেও পড়বে। যারা বই পড়ে কিঞ্চিৎ আবেগে ভাসতে চায়।

আরশিনগর কোন ভ্রমণ ছিল না। আমি যযাতিপুর দেখতে পাইনি। আরশির চোখের মায়াও আমাকে টানেনি। আমি জানতাম গল্প কোথায় যাবে, গল্পের শেষে কি হবে। আমি শেষ করার জন্য শেষ করেছি কিন্তু অনেকেই বই শেষ করবে এই গল্পের শেষ দেখার জন্য। সেই ধরে রাখার ক্ষমতা লেখকের আছে। এটা একটা বড় ব্যপার। সেই জায়গাটা সাদাত হোসেন তৈরি করেছেন সেটা যে ভাবেই করে থাকুন।

একটা বই পড়ে মনে হলো, লেখকের লেখা যতোটা প্রশংসিত সেটা তার লেখার গুণে না বরং ফ্যানডমের গুণে। অন্যদিকে যতোটা নিন্দা কিংবা হাসাহাসি তাঁকে নিয়ে হয় সেটাও সে ডিজার্ভ করে না। সাদাত হোসাইনের লেখা বিচার করতে হবে তার সমসাময়িক অন্য লেখকদের সাথে। তার পাঠকরা তাকে নিচ্ছে, তিনি সেই জায়গা তৈরি করে নিতে পারছেন এটাও তার ক্রেডিট। এখন আমি গদার, তারকোভস্কি দেখে আসছি এটা তো রাজ চক্রবর্তীর দোষ না। যারা (সিংহভাগ মানুষ) গদার-তারকোভস্কি দেখে নাই, ‘বোঝে না সে বোঝে না’ তাদের কান্না আইনা দেয়। ইভেন আমরা গোর্কি-তলস্তয়-জয়েস-মার্কেজ পড়ার আগে ১৯/২০ বছর বয়সে ‘আরশিনগর’ পড়লে আমাদেরও ভালো লাগতো।

না, বাংলা সাহিত্য কিংবা বাংলাদেশি সাহিত্যেও সাদাত হোসাইন কোন নতুন সংযোজন করেন নাই। তিনি নিশ্চয়ই সে ঠেকাও নেন নাই। কিন্তু, এই যে একটা পাঠক গোষ্ঠী তৈরি করতে পারছেন, যারা তার বই কিনতে মেলায় যায়, গিয়ে আরও দুইটা বই দেখে-কেনে, বাংলাদেশের প্রকাশনা এবং বইয়ের বাজারের জন্য এইটা গুরুত্বপূর্ণ।
Profile Image for Hasib Al Ahsan.
8 reviews11 followers
May 19, 2020
"এছাহাক দুপুরবেলা মাছ কোটার বঁটি নিয়ে গেল ছত্তারকে কোপাতে"
এই রকম একটি বাক্য কিভাবে প্রমিত বাংলায় লেখা একটি উপন্যাসে থাকে, ভাবতে কষ্ট হয়।
উপন্যাসটি দেশের কোন অঞ্চলের পটভূমিতে লেখা সেটি স্পষ্ট নয়। তবে খুলনা শহরে গ্রাম থেকে টরকি বন্দর হয়ে মালামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ আছে। সে হিসেবে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা এর আশেপাশের এলাকা বলে আন্দাজ করা যায়। মজার ব্যাপার হল, গ্রামের কারো কথায় সে অঞ্চলের আঞ্চলিক টান নেই। বাংলা নাটক, সিনেমায় বহুল ব্যবহৃত 'জেনেরিক' গ্রাম্য টানে সবাই কথা বলছে।
উপন্যাস সামনে এগুলে মনে হতে থাকে, কাহিনী নিয়ে লেখকের সম্ভবত কোন সুনির্দিষ্ট নকশা নেই। উপন্যাস শেষ করার পর সে ধারনা আরও বদ্ধমূল হয়। লেখকের অবশ্য ভূমিকায় বলেছেন, ছোট বেলায় 'কেরছা' শোনার ও বড় হয়ে বলার নেশা থেকেই এই উপন্যাসের জন্ম, কিন্তু হাতের শচারেক টাকায় কেনা প্রিমিয়াম বাঁধাইয়ের বই থেকে আরেকটু গোছানো গল্প আশা করলে পাঠককে দায়ী করার কোন অবকাশ নেই।
২৭১ পৃষ্ঠার একটি বই। রেটিং এর এক তারকা শুধুমাত্র পাতা ভরানোর জন্য। পরীক্ষার খাতায় পাতা ভরালে যেমন কিছু সান্ত্বনা স্বরূপ কিছু নাম্বার দেয়া হয় সেরকম।
Profile Image for Roushni Majumder.
9 reviews5 followers
November 9, 2018
লেখকের কথায় কথায় "সে খুব কাঁদলো। খুব।" এ ধরণের অত্যুক্তিগুলো ভালো লাগেনি। অলমোস্ট সব চরিত্রকেই মেরে ফেলার প্রবণতা বা গল্পের জোরে কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ভালো লাগেনি। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত সিনেমাটিক লেগেছে যা বিরক্তির উদ্রেক করেছে। পাঠকের চিন্তার স্বাধীনত খুব কম ছিল পুরো গল্পে।

ভালো লেগেছে আরশিকে, ভালো লেগেছে শেষ পর্যন্ত তার সরলতা ধরে রাখা, ভালো লেগেছে অনেকগুলো চরিত্র সৃষ্টি করেও সব চরিত্রকে সমানভাবে হ্যান্ডেল করার সাহস এবং দক্ষতা লেখকের আছে দেখে। আরেকটু বড় হলে আমি আরও খুশি হতাম, কিন্তু অতৃপ্তি নেই ভেতরে কোনো।
5 reviews5 followers
October 17, 2020
"মা রে, এমন আয়নার মতো চোখ নিয়া জন্মাইলি। কিন্ত সেই আয়না চোখে নিজের মায়েরেই তো আর দেখতে পাবি না রে মা" - সদ্য ভূমিষ্ট আরশির সাথে তার মায়ের প্রথম কথা। আয়নার মতো স্বচ্ছ চোখের মেয়েকে, মৃত্যুর আগমুহূর্তে তার দাদীর হাতে তুলে দিয়ে নিলুফা বানু বলে গেলেন তার মেয়ের নাম যেন আরশি রাখা হয়। তারপর ঐ ছোট্ট বয়স থেকেই আরশির জীবনে ভেসে অাসা মেঘের মতো অনেকেই এসেছে। সময়ের একেকটি আচরে নানা বাক নিয়েছে তার জীবন। গ্রাম্য পলিটিক্স এবং চরমপন্থীদের আগমন বদলে দিয়েছে মজিবর মিয়া আর তার মেয়ে আরশির সাধারন জীবনের গল্প।

লেখকের তৃতীয় উপন্যাস এটি। সাদাত হোসাইন এর প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০১৩ তে। কিন্তু আমি তার নামই জানলাম ২০২০ এ। সেটা আমারই ব্যর্থতা। এই বই দিয়েই মূলত তার লিখালিখির সাথে আমার পরিচয়। আর বই এর শুরু থেকে আমার মনে হচ্ছিল এই বই দিয়ে পরিচয় না ঘটলেই বরং ভালো ছিলো। তার কিছু কারণ আছে। তবে সে ধারনা অবশ্য এখন পাল্টেছে।

যাই হোক শুরুতে কিছু ভালো দিক বলতে চাই...

১. তিনি 'হুট' করে এসে 'হাট' করে হারিয়ে যাবেন না, এই বিশ্বাস আমার জন্মেছে বইটা পড়ে।
২. উপন্যাসের শেষের দিকটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি জীবনকে যেভাবে দেখিয়েছেন সেটা চমৎকার ছিলো। তার মতে জীবন হলো "আরশিনগর"। আমরা আয়নায় যেমন উল্টো বিম্ব দেখি, জীবনটাও তাই। আমাদের চিন্তার ঠিক উল্টো বিম্ব হলো আমাদের জীবন। আমরা সবসময়ই ভাবি আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আসলে আমরা শূন্য থেকে শুরু করে, আবার শূন্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।
৩. গল্পের বেশ কিছু অংশ মনকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। অনেকদিন তার রেশ রয়ে যাবে।

এখন বলি কী ভালো লাগেনি...

১. চরিত্র গুলো যখন কথা বলে তখন হুমায়ুন আহমেদ স্যার এর কথা মনে পড়েছে মাঝে মাঝে।
২. উপন্য���স যে স্থান ও সময়ের কথা বলে তার সাথে কাহিনীর সামঞ্জস্যের অভাব বোধ করেছি। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরাও কিছু ক্ষেত্রে আধুনিক বিষয়াবলীর জ্ঞান রাখেন, যেটা বেমানান মনে হয়েছে।
৩. উপন্যাসের কিছু কিছু অংশ অপ্রয়োজনীয় লেগেছে। মনে হয়েছে টেনে টেনে গল্পটাকে বড় করার চেষ্টা করেছেন লেখক (তাঁর হয়তো এই উদ্দেশ্য ছিল না, আমার মনে হচ্ছিল)। তাছাড়া, কাহিনী খানিকটা পূর্বেই অনুমান করে ফেলা যায়। তাই সব মিলিয়ে মাঝে মাঝে একঘেয়ে লেগেছে।


সর্বোপরি, বইটা আমার ভালোই লেগেছে। সাদাত হোসাইন এর অন্যান্য লেখনি ও কাজের সাথে অবশ্যই নিজেকে পরিচিত করতে চাই।
Profile Image for Shammiul Siraji.
28 reviews46 followers
May 5, 2020
What an utter piece of BULL CRAP! took me a year to finish or more! Jeez!! I was literally bored with it, but whatever it was. I had a "reader's block" [if that ever exist!] but i was stuck at page 110 from there i finished it with one go! way go go ron! :S btw, if i could give minus ratings, i would give this to -5. for taking my so much precious time. btw, i was about to write this in bengali but I am too lazy to open avro and type!
Profile Image for NJ Shammi.
20 reviews13 followers
Read
March 26, 2021
আরশি মাথা তুলে তাকাল। ভোলানাথের বন্ধ সেলুনের সামনে কাঁঠের খুটি। সেই খুঁটির গায়ে হাতের তালুর সমান ছোট্ট এক চিলতে আয়না। ঝাপসা হয়ে যাওয়া সেই আয়নার দিকে তাকিয়ে খানিক স্থীর দাঁড়িয়ে রইল আরশি। তারপর ধীর পায়ে আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নার ভেতরে আবছা একটা মানুষ। গতকাল অবধি দেখে আসা সেই একই চোখ, সেই একই নাক, সেই একই মুখ, একই চেহারা। কিন্তু গতকালের সেই আরশি আর এই মানুষটাকে কি সে চেনে? আরশির হঠাৎ মনে হল, এই জগতে কেউ কাউকে চেনে না। এই জগত আয়নার মতন। উল্টোজগত। এই উল্টোজগতের নাম আসলে আরশিনগর।

জগতের নিয়ম হচ্ছে কারণে অকারণে, ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মানুষ স্মৃতি পুষে রাখে। সামান্য কিছু অতীতের স্মৃতি মানুষ জনম জনম মনে রাখে। হঠাৎ ই কোনো এক বিষাদের রাতে তা উঁকি দেয়। কি ভীষণ সত্য এই অনুভূতিগুলো!!

কতটা ভালোবাসলে কেউ মানুষটার মৃত নিথর দেহ সহ্য করতে পারে না। মাটির ভিতরে শুইয়ে রেখে আসতে ভয় পায়। মৃত মানুষটাকে পুরো জীবন ধরে বেঁচে থাকার স্মৃতি করেই রেখে দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝেই বুকের ভিতরে কবুতরের পালকের ওমের মতো লেগে থাকা স্পর্শের সেই অনুভূতির জন্য কেঁদে ওঠে নির্জন রাতে। এই কান্না যেন জগতের শুদ্ধতম কান্না।

কখনও কখনও পাশাপাশি এক দীর্ঘ মানবজনম, তারপরও চেনা জানা হয় না। রয়ে যায় দূরের মানুষ। আবার কখনও এক দেখাতেই যেন কারো উপর একটা অধিকারবোধ কাজ করে। মানবমন সত্যিই বিস্ময়কর।

জগতে মানুষের বেঁচে থাকার অজস্র কারন থাকতে পারে তবে তাদের ভেতর শ্রেষ্ঠতম কারন হচ্ছে ভালোবাসা। মানুষ আজীবন এই তেষ্টা বয়ে বেড়ায়, ভালোবাসার তেষ্টা।

মানুষ মৃত্যুর জন্যই জন্মায়। মৃত্যু ছাড়া জন্মের কোনো মূল্য নেই।

এতসব গল্পের মাঝে যেই গল্পটি মন কে নাড়া দেয় তা হচ্ছে আরশির ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠার গল্প। এই এতটুকু মেয়ের জীবনে যেন সব অভিজ্ঞতারা নানান পসরার ডালা সাজিয়ে বসেছে তার জন্য।
কি উল্টো নিয়ম এই জগতের। এ যেন আয়নার মতো উল্টো এক জগৎ। এই জগতের নাম আসলে আরশিনগর। যেখানে সবার সঙ্গেই সবার অদৃশ্য সুতো বাঁধা আছে। কেউ একজন আড়ালে বসে সেই সুতো নাড়ে। আর মানুষগুলো সেই অদৃশ্য সুতোর টানে অভিনয় করে যায়। এ এক অদ্ভুত চিত্রনাট্যের জগৎ। বিচিত্র হিসাব-নিকাশ এই জগতের।
Profile Image for Adyel.
8 reviews
September 16, 2024
সাদাত হোসেনের "আরশিনগর" আমার পড়া তাঁর প্রথম বই। সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়, বিশেষ করে বইপ্রেমীদের মধ্যে। তবে বইটি পড়ার পর আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সাদাত হোসেনের লেখার ভঙ্গি অবশ্যই আকর্ষণীয়, কিন্তু আমার মনে হয়েছে এটিই তাঁর একমাত্র শক্তিশালী দিক।

গল্পের পরিবেশ বা জগত গঠনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, একটি সংকীর্ণ, বদ্ধ ঘরে আটকে আছি, যেখানে গল্পটি সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারছে না। অনেক সময় মনে হয়েছে, লেখক যেন লেখার জন্য লিখছেন। ঘটনা প্রবাহ হটাত খুব দ্রুত হয়ে যায় আবার কখন খুবই ধীরগতি হয়ে যায়। গল্পটি কিছুটা টেনে হিঁচড়ে দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা ছিল, যা পাঠক হিসেবে আমাকে ক্লান্ত করেছে।

গল্পের গভীরতাও আশানুরূপ ছিল না। অনেক ঘটনাই কাকতালীয় মনে হয়েছে, যেন পরিস্থিতি বা চরিত্রগুলো হঠাৎ করেই সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে যায় বা প্রয়োজনীয় ব্যক্তির সাথে দেখা হয়ে যায়। কিছু চরিত্রের অনুভূতি বা কাজের পেছনের যুক্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। বারবার একই কথা ভিন্নভাবে বলে গল্পটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হয়েছে, যা বিরক্তিকর মনে হয়েছে।

সব মিলিয়ে বইটি পড়ে তৃপ্তি পাইনি। শুরুতে লেখকের যে উপস্থাপনার দেখে অভিভূত হয়েছিলাম, তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, এবং আমি কিছুটা হতাশ হয়েছি।
Profile Image for Saifuddin Rajib.
Author 3 books29 followers
February 15, 2018
আরশিনগর : যে গল্পের সমাজ বাস্তবে ফিরে না আসুক!

পৃষ্ঠা উলটে প্রথম লাইনে যে মৃত্যুর সংবাদ, তার উলটোপিঠে কী আছে? আরশি যদি আয়না হয় তবে সেই আয়নার ভেতরে তো আমিই! আর আমার চারপাশের মহাপরাক্রমাশালী সমাজের যে নাগরিক জীবন—তাই তো আরশির ভেতরকার প্রতিচ্ছবি। তা-ই যদি হয়, তবে আরশি কে? উপন্যাসের একটা চরিত্র! শুধু একটা চরিত্র কি কখনো জীবনের গল্প বলে? সমাজ অথবা জাতিসত্ত্বার কথা বলে? আশির দশকের জাতিগত নিয়ন্ত্রণহীনতায় আমাদের চারপাশের যে গল্প মনুষ্যত্বের তাড়নায় বাস করে—সেইসব গল্পকেই আরশিকে কেন্দ্র করে একসাথে গেঁথেছেন তরুণ লেখক সাদাত হোসাইন।

সামাজিক বিষয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা মৌলিক সাহিত্যে আপনি যে-কজন তরুণ লেখকের নাম নেবেন, সেই তালিকায় প্রথম নামটি সাদাত হোসাইন। একজন লেখককে যখন আরশিনগর-এর মত উপন্যাস লিখতে হয়, তখন তাকে যতটা বই পড়তে হয় তার থেকে বেশি সমাজ পড়তে হয়, জীবন পড়তে হয়। সমাজের খুব গভীরে ঢুকে বের করে আনতে হয় ভেতরকার গল্প। লেখক সেই গল্পেরই নাম দিয়েছেন ‘কেরছা’। মাদারীপুরের আঞ্চলিক শব্দ কেরছা হল জীবন্ত গল্প। ছোটবেলায় দাদি/নানির কোলের মধ্যে শুয়ে যে কেরছা শুনেছেন, তা নিছক কল্পগল্প নয়,, বরং জীবন্ত। যেন প্রত্যেক গল্পে আলাদা আলাদা জীবন রয়েছে। আরশিনগরের লেখক সেই জীবন পড়েছেন। ধারণ করেছেন। ভুলতে বসা সেই সব গল্পকে উপন্যাসে রূপ দিতে রীতিমত যে গবেষণা করেছেন—সেটাই ফুটে উঠেছে বইটিতে।

স্বাধীনতা যদি হয় স্বাধিকার আন্দোলনের লড়াই, আশির দশকে মানুষ তবে করেছে জীবনযুদ্ধ। সমতায় বেঁচে থাকার যুদ্ধ। সমরেশ মজুমদারের কালবেলা উপন্যাসে উঠে এসেছিল নকশাল কমিউনিজমের যে রাজচিত্র, আরশিনগরে সাদাত হোসাইন দেখিয়েছেন মাদারীপুরের প্রত্যন্ত এলাকা যযাতিপুরের নকশালের ঘৃণ্য চিত্র। পাঠক হিসাবে আমার ভাবনাটা প্রথম এখানেই থমকে যায়। উপন্যাসে কত কি ঘটলেও ঠিক এখানে আমি কেন বিশেষভাবে থেমেছিলাম? কারণ সমরেশ মজুমদারের কালবেলা উপন্যাস। একটা আন্দোলন সত্তর আশির দশকে শুধু একটি দেশ বা অঞ্চলে আটকে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। ঠিক ওই সময়ই মনে হয���েছিল, সময়কাল বিবেচনায় আরশিনগর যেন কোনো কিছুকে ছেড়ে বা ফেলে রাখার উপন্যাস নয়।



মাদারিপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিত্রপটে শুরু হয়েছিল আরশিনগর-এর গল্প। আঁটকে থাকেনি, ডালপালা মেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বলেছে এমন সব সমাজের কথা, যা পাঠক হিসাবে আমার কাছে মনে হয়েছে আমার খুব কাছের গল্প। যেন আমি দেখছি অথবা হেঁটে চলেছি সে গল্পে। নামভূমিকার আরশিকে জন্ম দিয়ে নিলুফা বানু দায় রেখে গিয়���ছিলেন—সে গল্পের আগেও ছিল সমাজের গল্প। প্রভাবশালী পরিবারের নাতনি নিলুফার বানুর বিয়ে হয় মজিবর মিয়াঁর সাথে। কেন? লেখক যেন বলে গেলেন কলুষিত সমাজের গল্প। নৌকা ডুবে নওশাসহ বরযাত্রীর মৃত্যুতে দায় পড়ে একটু পরে নাড়ীর বাঁধন ছিড়ে পরের হতে অপেক্ষা করা একজন কিশোরী বধুর। এরপর কি সমাজের সবাই তাকে সহজে নেবে? নেয়নি! নিয়েছিলেন মজিবর মিয়াঁ। আর তাদের ঔরসে জন্ম নেওয়া শ্যামলা মেয়ে আরশি, নিলুফা বানু মৃত্যুর আগে হতাশা নিয়ে যাননি। কারণ আরশির মায়াভরা চোখ।

একটা গল্প, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমাজ। সমাজের ভেতর জীবনের গল্প। সেই গল্পে শুকরঞ্জন ডাক্তার, ছেলে আশিষ। কাউকে কোনো কিছু না জানিয়ে হটাৎ নিরুদ্দেশ আশিষ ফিরেছিল পায়ের গোড়ালিতে গুলির ক্ষতচিহ্ন নিয়ে। পাঁচমাস পরে ফেরা আশিষের ভাবলেশ যেন দিনের দায়িত্ব শেষ করে ঘরে ফিরেছেন। ভাবতে পারেন? একটা জাতি মাত্র নয়মাসে একটা দেশ নিজের করে নিল! তার কারণ দায়িত্ব, ভালবাসা। লেখক গল্পের ভেতরে পেছনে টেনে নিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনিও ভাবতে পারেন। তার গল্পের শুধু কাণ্ড নয়, বরং দৃঢ় শাখা ও সজীব পাতাও রয়েছে।

নিলুফা বানুর মৃত্যুর পরে মজিবর মিয়াঁ যখন লাইলিকে বিয়ে করে, তখন ছিল তার গুছিয়ে নেবার সময়। মজিবর মিয়াঁ পেরেছিলেনও, কিন্তু কতটা পেরেছিলেন? নিজের মা’কে হারিয়েছেন, আলাদা হয়েছিলেন মেয়ের থেকেও। কেন? আমাদের সমাজ আসলেই যে কতটা বিষাদের, কতটা স্বার্থের, সাদাত হোসাইন দেখিয়েছেন যেন গল্পের ভেতরে ঢুকে। সৎ মায়ের সংসারে অন্যের সন্তান যেন আশ্রিত! এ গল্প তো গতানুগতিক; লেখক যে জানতেন না—তা নয়। কিন্তু সেই গতানুগতিক গল্প যখন আপনাকে টেনে রাখবে, আঁকড়ে রাখবে লেখনশৈলীর সম্মোহনী শক্তিতে, তখন? তখন লেখক সার্থক। যেমনটা চেয়েছেন, তেমন হয়েছেনও। বোঝা যায়, এই গল্পের কারিগরের থেকে সাদাত হোসাইন পাঠক ছিলেন বেশি! হ্যাঁ তার টের পাইয়ে দিলেন ইমাম সাহেবকে দিয়ে, সমাজের সকল অনিষ্টর মাঝে এমন কিছু থেকে যায়, যা ভালোকে আঁকড়ে রাখে। আপন বন্ধনে বাঁচিয়ে রাখে সম্মোহনী শক্তির ধারায়। আরশিকে একারণেই হারাতে হয়নি!

আরশিনগর কতটা বড় হতে পারত? কতটা কষ্ট টেনে হিঁচড়ে পাঠকের হৃদয়ের খুব কাছে নিয়ে দেখানো যায়, তা দেখিয়েছেন লেখক। যযাতিপুরের ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করতে থাকা মজিবর মিয়াঁকে স্থানীয় লতু হাওলাদারের ঘৃণ্য রাজনীতির সাথে নকশাল সর্বহারাদের যোগসুত্রে করেছেন পঙ্গু অথর্ব। তার পক্ষে কি আরশিকে খুঁজে ফেরা সম্ভব ছিল! সাদাত হোসাইন যোগসুত্র বোঝেন। তার গল্পকে নিছক জোড়াতালির গল্প মনে হবে না। যখন সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায়, তিনি গল্পে গতিপথ তৈরি করেন আপন বলয়ে! আরশির মোহনীয়তা ছিল সেই পথে, চিত্রপট যখন লেখক নিজে আঁকেন, তখন তার পূর্ণতা তো আসবেই। আরশি বেড়ে উঠেছে ঢাকা শহরে, লেখাপড়া শিখেছে। কিশোরী থেকে যুবতী হয়েছে, তারও ভেতরবাড়িতে ভালবাসার খিদে ছিল। টান ছিল। লেখক দেখিয়েছেন, আরশিনগর ছিটকে যাবার গল্প নয়, বরং খুঁজে ফেরার গল্প। পাঠক হিসাবে গল্পের ভেতরে আপনি কত কি খুঁজতে পারেন—এ লেখক যেন সেগুলো লিষ্ট করে বসেছিলেন তার কাহিনিতে।

একজন লেখক সাদাত হোসাইন, দুটো গল্পগ্রন্থের পরে প্রথম উপন্যাস আরশিনগর। একে একে লিখেছেন অন্দরমহল, মানবজনম ও এবারের বইমেলায় নিঃসঙ্গ নক্ষত্র নামের উপন্যাস। তাহলে কেন তার প্রথম উপন্যাস নিয়ে আমি বিশ্লেষণ করতে বসেছি? কারণ সোজা; পাঠক হিসাবে এটা আমার প্রিয়। তাহলে কি প্রিয়র মাঝে অপ্রিয় নেই? অবশ্যই রয়েছে। আমরা বিপরীতমুখী ভাবনা পাই বলেই তুলনা করতে পারি। অন্ধকার রাত রয়েছে বলেই দিনের আলোকিত আভা টের পাই বা নাম দিন দিতে পারি। সাদাত হোসাইনের আরশিনগর তেমনই একটা উপন্যাস। সমাজের ঘৃণ্য গল্পগুলো আরশিনগরে লেখক তুলেছেন কোনো প্রকার পর্দা ছাড়াই, যেন চোখের সামনেই ভেসে আসছে হত্যা নির্যাতনের চিত্র। কোনো পাঠক এটাকে খুব আনন্দ নিয়ে পড়লেও আমাকে ছুঁয়ে যায়। কারণ সাহিত্যে শৈল্পিকতার দরকার পড়ে, যেন অপরাধ আপনার চোখের সামনে ঘটলেও আপনার বোধটা ভেতরে আঘাত করবে, কিন্তু আপনি ঘৃণা করতে পারবেন না। সাদাত হোসাইনের বর্ণনা যেন পর্দা ছাড়া চোখের সামনে ঘটা ঘৃণার চিত্র। আমি চোখ বন্ধ করলে যে লাইলিকে দেখতে পাই, আরশিকে দেখতে পাই—তা আমি দেখতে চাই না। তবে আমার ভেতরবাড়িতে এঁটে থাকুক সেই গল্প, যেন আমি বুঝতে পারি সমাজে এমন চরিত্রর অভাব নেই। এটা লেখকের সহজাত বর্ণনা কৌশলও হতে পারে।

লেখকের অন্য বইগুলোর সাথে তুলনা করলে আরশিনগর-এর কথোপকথন কৌশল উন্নত। শেষের দিকে গল্পের টান কিছুটা মূল বিষয়বস্তু থেকে ছিটকে ফেলেছে আমার মতে। তবে যে যোগসুত্র টেনে তিনি গল্পের শেষ জুড়েছেন—তা ছিল এককথায় অসাধারণ। সামাজিক ভাবনার সহজাত নির্মাণশৈলীর গল্প এমনিতেই পাঠকের হৃদয়ের খুব কাছে থাকে, আর তা সাদাত হোসাইন নিজের সম্মোহনী ক্ষমতায় পেরেক এঁটে দিয়েছেন। যেন ওয়ানওয়ে টিকেট কেটে সেই ভেতরবাড়িতে পাঠকের প্রবেশ রয়েছে, প্রস্থান নেই।

সাদাত হোসাইনও তাদের জন্য লিখে চলেছেন, নিজেকে ভেঙে গড়ে পরিপূর্ণ হচ্ছেন।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews160 followers
July 29, 2020
গল্পটা যযাতিপুর নামের একটা গ্রাম থেকে শুরু। যে গ্রামে আরশি নামের এক মা মরা মেয়ে থাকে, আরও থাকে স্বপ্ন দেখা মজিবর মিয়া, লতু হাওলাদারের মত ভয়াবহ লোক কিংবা হুমায়ূন আহমেদের লেখা চরিত্র গুলোর মতো এক ইমাম সাহেব। আবার লোকমানের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসী থেকে শুকরঞ্জন ডাক্তার নামের এক মহানুভব মানুষও আছেন।
এর প্যারালালি আরও একটা গল্প আছে, শহুরে গল্প। মিলি-আশিষের সংসার। সবকিছু মিলেছে একটা সময়।
আরশি মানে আয়না, চোখ। আয়নার উল্টো প্রতিবিম্বটাও কত কি ভাবায় মানুষকে। তিনিও সেরকম ভাবাতেই চেয়েছেন। খুব আবেগঘন একটা পরিবেশ।
বইটা সুন্দর। সাদাত হোসাইন এর প্রথম দিককার লেখা। নব্য লেখক হিসেবে তিনি সত্যিই চমৎকার। লেখা সুন্দর, স্বাভাবিক, সহজ। আরশিনগর গল্পটা শুধু আরশির হলেও হতে পারতো। কিন্তু তা হয়নি। বেশ ডালপালা ছড়ানো একটা গল্প বলতে চেয়েছেন লেখক। তাই দেখা গেছে তিনি গ্রাম্য/আশপাশের কোন পরিবেশের একটা স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার চেষ্টা না করে সরাসরি গল্প বলে গেছেন। বইয়ের বর্ণণা মানুষকে কল্পনা করায়। তাই বর্ণণা থাকা ভালো। বিভূতিভূষণের মতো অত অসাধারণ বর্ণণা না হলেও চলবে। তবুও ভালো লেগেছে৷

লেখককে নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনা, তিনি হুমায়ুন আহমেদ কে ফলো করেন। আমার সেরকম মনে হয়নি আসলে। দেখুন, রবীন্দ্র পরবর্তী সময়ের বড় বড় লেখক-লেখিকারাও কিন্তু তাঁর দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তিনি হুমায়ূন প্রভাবিত সত্য, তবে অনুকরনকারী নন। এ যুগের বেশিরভাগ লেখক থেকে তিনি ভালো লেখেন। লেখায় একটা ট্র‍্যাজিক গুমোট আবহাওয়া থাকে সত্য, সেটাও খারাপ বলা যায়না আসলে। কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর বহু বছর পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথও অশান্ত ছিলেন। প্রভাব ছিলো সেখানেও।

কাহিনী হিসেবে বইটা বড় কলেবরের হলেও বেশ সাধারণ আমি বলব। এরকম কাহিনী পড়লে মনে হয় কোথায় যেন মিল আছে, কোথায় যেন পড়েছি।
তবে সাদাত হোসেন চাইলে অনেক ভালো লিখতে পারেন। আমার ধারণা প্রথাগত লেখার বাইরে উনি যদি নতুন কোন গল্প নতুন ভাবে শোনানোর চেষ্টা করেন...বেশ সুন্দর কাজ দেখতে পারি আমরা!

যাহোক, এটা একদমই একজন পাঠকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোন থেকে কিছু বলার চেষ্টা। উৎসাহিত/নিরুৎসাহিত কোনটাই করার চেষ্টা করছিনা। শুধুমাত্র পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা।
ধন্যবাদ!
Profile Image for Musharrat Zahin.
413 reviews492 followers
January 19, 2021
গল্পটা শান্ত থেকে অশান্ত হয়ে ওঠা যযাতিপুরের। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নীলুফা বেগম মারা যাচ্ছে। মারা যাওয়ার সময় তার সন্তানকে শাশুড়ি আম্বরি বেগমের হাতে তুলে দিয়ে যান। আর তার নাম দিতে বলেন 'আরশি'। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সেই। এটা আরশির একটু একটু করে বেড়ে ওঠার গল্প। তার জীবনের উত্থান-পতনের ঢেউয়ের গল্প। ⠀
আরশির বেড়ে ওঠার সাথে সাথে একই সমান্তরালে চলতে থাকে যযাতিপুর গ্রামের মানুষদের চাওয়া-পাওয়া, রাজনীতি, প্রভাবশালীদদের আধিপত্য, ধার্মিকতা,জমিজমা নিয়ে কলহসহ নানান বিষয়।সমান্তরালে চলতে থাকলেও, সবার চাওয়া কিন্তু একটাই- আরশি৷ ⠀

🌻পাঠ-প্রতিক্রিয়া: ⠀

উপন্যাসটা বেশ বড়৷ সাদাত হোসাইন বৃহৎ কলেবরে গল্প বলে থাকেন। তাই কয়েকটা ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে গল্প শুরু হলেও তা শেষ হয় একটা বিন্দুতেই। এর আগে সাদাত হোসাইনের 'নিঃসঙ্গ নক্ষত্র' পড়েছিলাম, পড়ে খুব একটা ভালো লাগেনি৷ যার কারণে এই বইটা পড়বো কিনা, এইটা নিয়ে বেশ দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু এই বইটা যেভাবে আমার দিকে কটমটিয়ে তাকিয়ে ছিল, না ধরে আর পারলাম না। এটা খুব সম্ভবত লেখকের প্রথম বই। যদিও গল্প আহামরি তেমন কিছু না, তবুও তা বলার ধরন বেশ সুন্দর। লিখনশৈলী, উপমা, ধারাবাহিকতা- এ সবকিছুতে লেখক তাঁর মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন। ⠀

তবে তিনি যদি চরিত্রগুলো আরেকটু ভালোমতো তৈরি করতেন, তাহলে ভালো হতো। চরিত্রগুলো মনে হচ্ছিল একটা বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে, বেরিয়ে আসতে পারছে না৷ আর সবজায়গায় সবার ক্ষেত্রে দার্শনিক টাইপ কথাবার্তা মানায় না, এদিকেও একটু খেয়াল রাখা উচিত৷ কাহিনীর প্রয়োজনে উপন্যাস টেনে বড় করা যায়, কিন্তু পৃষ্ঠা বাড়ানোর জন্য অহেতুক গল্প বাড়ানো কখনো কখনো বিরক্তিকর ঠেকে। ⠀

তবে একটা কথা বলতেই হয়, এই বইয়ে লেখকের বর্ণনাশৈলী চমৎকার। পড়ার পর খুব একটা খারাপ লাগেনি। সহজ-সরল ভাষায় লেখা উপন্যাসটা পাঠ্য হিসেবে ভালো। পড়তে গেলে অাপনি একটা ঘোরের মধ্যে থাকবেন এটা নিশ্চিত।
Profile Image for Zauad Mahmud.
37 reviews7 followers
June 15, 2025
উনি কি সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন পড়ে তেমন কিছু লেখার চেষ্টা করে মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছেন? ক্লাসিক কিছু লেখার চেষ্টা করেছিলেন নাকি অন্যকিছু? পুরো উপন্যাসে দুয়েকটা পাঞ্চ লাইন ছাড়া তেমন ভালো কিছুই খুঁজে পেলাম না। খুবই ছাড়া ছাড়া এলেমেলো ধরণের কিছু লেখা ছাড়া অন্যকিছু মনে হলো না।
3 reviews1 follower
Read
March 2, 2016
আরশি নগর
সাদাত হোসাইন।
তৃতীয় মুদ্রণঃ বইমেলা ২০১৬


একেবারে ঈ সাদামাটা গ্রাম আর তার আরো সাদামাটা জীবন এর অন্যন্য সাধারণ পটভূমিতে রচিত উপন্যাস। ঔপন্যাসিক এর গভীর পর্যবেক্ষণে যেখানে উঠে এসেছে গ্রামের মানুষের নিত্য যাপিত জীবনের সংগ্রাম, কলহ, ব্যঞ্জনা। আর, প্রত্যাশিত অথচ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে চলে এসেছে,ক্ষমতার দ্বন্দ। সাবলিল শব্দ চয়ন, বাক্যগঠনের সহজ ভঙ্গিমা আর নিদারুন সুন্দর গল্পবিন্যাস এবং পরিমিত, অথচ নিরপেক্ষ আবেগ ; পাঠককে সহজেই আকৃষ্ট করবে।

উপন্যাস এগিয়েছে দারুন ভাবে, লেখকের সহজ সাধারণ অথচ অনিন্দ্য সুন্দর বর্ননাতে। গল্পকথক এখানে ঘটনার পরিবেশে স্বশরীরে অনুপস্থিত কিন্ত তিনি সব কিছু প্রত্যক্ষ করছেন। কখনো কখনো তার এই প্রকাশ রিতি বিশেষত চরিত্রগুলোর স্বীয় মনস্তাত্বিক জিজ্ঞাসা- পর্যালোচনায়, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ র " কাঁদো নদী কাঁদো " উপন্যাসের প্রকাশরীতি মনে করিয়ে দিতে পারে। কিংবা বর্তমানের সাথে ভবিষ্যৎ এর কোন ঘটনার কালমিলনে লেখকের গল্পকথার ভঙ্গি, অনেকটা গ্যাব্রিয়েল মার্কেজ এর "One Hundred years of Solitude " প্রভাবিত মনে হলেও তিনি সাথে সাথেই উপন্যাসের নিজস্ব প্রকাশ ভঙ্গিতে ফিরে এসেছেন।


গল্পটা এগিয়েছে, অনেকটা নদীর মত। কোথাও খুব শ্লথ, কোথাও খুব দ্রুত সবকিছু ঘটে গেছে। অথচ, বাস্তবজীবনে যে ঘটনা গুলো খুব ধীরে হয়। যেমন আমরা মিলির মানিসিক অস্থিরতা জনিত, শুকরঞ্জনের প্রথম পর্যবেক্ষণ থেকে তার চূড়ান্ত পর্যায়ে সাইক্রিয়াটিস্ট এর পরামর্শে মিলি র সুস্থ হয়ে যাওয়া,,ব্যপার টা ঘটেছে মাত্র কয়েকটা লাইনে। বাস্তবজীবনে এই ব্যাপারগুলো এত দ্রুত ঘটে না।

আবার, কিছু ব্যাপার অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, একটা তাল মেলানো র প্রানান্ত প্রচেষ্টা ছিল শেষের দিকে। যে আরশি স্কুলে ওয়ান কিংবা টু শ্রেনিতে পড়ার পর আর স্কুলে যায় নি, সেই আরশির একবারে ক্লাস নাইনে ভর্তি হওয়া, এবং তার মাত্র দুই বছরেই একবারেই স্কুল পাশ করে যাওয়া অতিরিক্ত রঞ্জিত মনে হতে পারে। অন্তত, লেখক নিজেই।যখন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আরিশি মেধাবী নয়, আর মিলির বাসায় পড়ান বা টিউটর রাখাও প্রতুল নয়।

ব্যাপার টা কিছু টা অদ্ভুত। গল্পের প্রয়োজনে ঈ চরিত্র সৃষ্টি হওয়া উচিত। কিন্ত এখানে ঘটনার পরম্পরায় এটা খুব বেশি মনে হয় যে, চরিত্রগুলোর প্রয়োজনে ঈ গল্প এগিয়েছে, যেখানে গল্পের টার্ন আর পরিনতিগুলো ছিল পূর্ব নির্ধারিত।

কোথাও কোথাও গল্পে ছেদ এসেছে। প্রত্যাশিত, এবং অপ্রত্যাশিত ভাবেই। তবে যে জিনিস টা আরো বেশি থাকা উচিত ছিল তা হল, পাঠকের চিন্তার স্বাধীনতা। পুরা গল্পে পাঠক তার নিজস্ব কল্পনার দোলাচলে খুব কমই পড়বে। ঘটনা গুলোর পরম্পরা অনুমেয়। তবে চরমপন্থি জনিত আতঙ্ককে গ্রামের পুরা পরিবেশে ছড়ায়ে দিতে লেখক স্বার্থক।


এখনকার গল্পকার রা উপন্যাসের মধ্যে, ছোট গল্পের "ছোট ছোট অপূর্ণতা " ঢুকিয়ে দেন; নানান প্রকারে, নানান ব্যঞ্জনায়। আমাদের লেখক এই ব্যাপার টাতে যান নি। তিনি, চল্লিশ - পঞ্চাশের দশকের বাংলা উপন্যাস গুলোর মত নিজেই গল্পের "শেষ হইয়াও হইল না শেষ " ব্যাপার গুলো ব্যাখ্যা করেছেন। অথচ এই ব্যাখ্যাগুলো পাঠকের নিজস্ব কল্পনাতে হতে পারত। তখন পাঠক পরের পাতা পড়ার একটা অমোঘ টান অনুভব করত, আরো বেশি করে। যেমন টা শরত বাবুর বেলায় হয়।

উপন্যাসে কয়েকটা দারুন এপিগ্রাম তিনি দিয়েছেন। তবে উতপ্রেক্ষা যেগুলো এসেছে সেগুলোর শুরুটা দারুন, কিন্ত শেষের অংশগুলোতে এসে লেখক ব্যঞ্জনা হারিয়ে ফেলেছেন। এই উতপ্রেক্ষা ই পাঠকের মনে চরিত্রগুলোর জন্য একধরনের শূন্যতা, একধরনের মমত্ব অনুভব করায়।

উপন্যাসের একটা দারুন দিক হল, এখানে লেখক আধুনিক আর পুরান সময় কে পাশাপাশি দাড় করিয়েছেন। ছন্দপতন টা এখানেও। তিনি মোবাইল ফোনের কথা এনেছেন, সেই সাথে চরমপন্থি এবং তাদের দৌর্দ্যন্ডপ্রতাপ প্রভাবের কথাও। বাস্তবসম্মত ভাবে চিন্তা করলে, তিনি যে কমিউনিস্ট দের অরাজকতা র কথা বলেছেন সেঈ সময় আর, মোবাইল ফোন, বা স্যাটেলাইটস এর সময়ের মধ্যে যুগাধিক ব্যবধান। লেখক ব্যাপার টা আনতেই পারেন। কিন্ত এমন একটা অবস্থা, যেখানে চরমপন্থি রা প্রকাশে অস্ত্রনিয়ে ঘুরে আর, মোবাইল এর মত আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, পাশাপাশি ঠিক যায় না।


হুমায়ূন আহমেদের যারা একনিষ্ঠ ভক্ত, তারা উপন্যাসের শুরুতেই প্রকাশভঙ্গী টা তার ঈ মত বলে বিভ্রমে পড়তে পারেন। তবে গ্রামীন জীবনে হঠাত পূজিভিত্তিক ক্ষমতার যে দ্বন্দ, আর তাকে কেন্দ্রকরে চক্রাকারে আবর্তিত হওয়া মানুষ গুলোর জীবনের কাকতালীয় সব সহজ কিন্ত অবস্থাদৃষ্টে অ���াধ্য প���িনতি ;পুরা উপন্যাসের আবহ কে হালকা করে ফেলেছে। সত্যিকার অর্থে, জীবনের যে দর্শন লেখক শুক রঞ্জন বা মজিবর কিংবা আশিষের মাধ্যমে সামনে এনেছেন, তা সম্পূর্ণ নয়। আবার পুরাপুরি অসম্পূর্ণও নয়। তবে দুই সম্প্রদায়ের একীকরনে লেখক দারুন সাহসী। প্রথা ভাঙার একটা সাহসী, তেজদীপ্ত প্রবনতা খুব করে লক্ষনীয়, ঠিক যেমন লক্ষনীয় দ্বীরুক্তি ব্যবহারে লেখকের সুপ্ত আগ্রহ।


একজন লেখক, যিনি নতুন এসেছেন, সেই হিসেবে তার উপন্যাস টা ভাল ঈ বলা যায়। তবে ইনি যদি লেখাটা চালিয়ে যান, আর আবশ্যিকভাবে যদি তার লেখনি, প্রকাশরীতি, আর শব্দের ব্যঞ্জনা তৈরীর দারুন ক্ষমতা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হয়, তবে এটা বলা যায়, হুমায়ূন উত্তর বাংলা সাহিত্যে বেশ ভাল একজন ঔপন্যাসিক আমরা হয়ত পাব।


লেখকের লেখার জন্য অনেক শুভকামনা। অনেকদিন পর একবসায় কারো উপন্যাস শেষ করলাম। এই কৃতিত্ব আপনারই।
Profile Image for Sharika.
358 reviews96 followers
July 8, 2019
এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে রচিত সামাজিক জীবনচিত্র "আরশিনগর"। নিলুফা বানুর মৃত্যুসংবাদের মধ্য দিয়ে শুরু উপন্যাসের পটভূমিকা। নিলুফা বানু ছিলেন এক প্রভাবশালী পরিবারের নাতনি। যে পরিবারের ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, বরযাত্রী আসার সময় ছেলেসহ পরিবারের লোকজন নৌকাডুবি হয়ে মারা পড়ে। সমাজের চোখে "অপয়া" মেয়েটিকে কি অন্যকেউ বউ হিসেবে মেনে নিবে? কিন্তু সে বউ হয়ে গেলো মজিবর মিয়ার ঘরে।

নিলুফা বানু মারা গেলেন মেয়ের জন্মের সময়। মেয়েটির গায়ের রঙ শ্যামলা, সবচেয়ে মোহনীয় তার টলটলে চোখ, ঠিক যেন আয়নার মতো! মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে নিলুফা বানু নিজেকে পরিষ্কার দেখতে পেলেন, শাশুড়ি আম্বরি বেগমকে বলে গেলেন মেয়ের নাম যেন আরশি রাখা হয়। সেই আরশির জীবনের ধাপগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অসামান্য গল্প।

দাদী আম্বরি বেগমের ভালোবাসায় যত্নে বড় হতে থাকলো আরশি। দাদী তাকে মায়ের অভাব ভুলিয়ে দিতো অপরিসীম আদরে। তার জন্মের বছরই এক ভয়ংকরী বন্যায় গ্রামে দুঃখ-দুর্দশার শুরু হলেও তার বাবা মজিবর মিয়ার অবস্থা বদলাতে শুরু করলো অচিরেই৷ তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে লাগলো হু হু করে, ব্যাপারটা চোখে পড়লো সকলের। সাথে সাথে সে চক্ষুশূল হতে থাকলো অনেকের। যার মধ্যে অন্যতম একজন লতু হাওলাদার।

গল্পের দৃশ্যপট বদলে যেতে সময় লাগলো না। যে আরশির জীবন আদরে-যত্নে, বাবার ছায়ায়, নিশ্চিন্তে-নির্বিঘ্নে কেটে যাবে বলে মনে হচ্ছিলো, তার জীবনে একের পর এক আসতে লাগলো দুর্ভোগ। একপর্যায়ে মনে হলো তার জন্মই হয়েছে কষ্ট পাবার জন্য। আর সে যেখানে যায় কষ্ট বয়ে নিয়ে যায়।

কি পরিণতি হলো শেষ পর্যন্ত আরশির? মায়াবিনী কাজল চোখের মেয়ের? জীবন তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করালো? রাজনৈতিক বিবাদ কতোদূর বিপর্যস্ত করলো তার বাবাকে? কতোটুকু সুখ, কতোটুকু দুঃখ তাকে গড়েপিটে করে তুললো বদলে যাওয়া আরশি??

পাঠ-প্রতিক্রিয়া - প্রথমেই একটা কথা বলে নিতে চাই। যারা বলেন সাদাত হোসাইন হুমায়ূন আহমেদের লেখার ধরণ নকল করার চেষ্টা করেন, তারা কি যুক্তিতে বলেন? পুরো বইতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার কোথাও কোনো লাইনে মনে হয় নি সাদাত হোসাইন হুমায়ূন স্যারের আদলে লেখার চেষ্টা করেছেন। তার লেখার ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব। যাদের অভিযোগটা রয়েছে - দুঃখের বিষয় তারা কেউই ডাইহার্ড হুমায়ূন আহমেদ ভক্ত নন। নয়তো পার্থক্যটা বোঝা এতো কঠিন কিছু না। একমাত্র মিল যা খুঁজে পাওয়া যায় তা হলো দার্শনিক উক্তিগুলো। দার্শনিক উক্তি বইতে শুধু স্যারই লিখে যান নি এবং তার কপিরাইটও স্যারের একার নয়।

এবারে আসি আমার মতামতে। বর্তমানে বেশিরভাগ লেখকই বড়সড় কলেবরে সামাজিক জীবনচিত্র নিয়ে লেখার সাহস করেন না। সাদাত হোসাইন লিখে যাচ্ছেন এবং যথেষ্ট পরিমাণে পাঠকের ভালোবাসাও পেতে সক্ষম হয়েছেন। এতোদিন তার বই পড়ি নি কিন্তু আগে থেকেই একটা ইতিবাচক ধারণা ছিল, বইটা পড়ে সেটা আরো বেড়েছে। সাবলীল লেখনী তার।

২৭২ পৃষ্ঠার বই বিকেলে বসে একবসায় শেষ করেছি, আশ্চর্যের বিষয় যে কোনো কোনো থ্রিলার - মিস্ট্রি বইও এতোটা আগ্রহ অনেকসময় ধরে রাখতে পারে না। অত্যন্ত সুখপাঠ্য ❤ আরশির বর্ণনাগুলো পড়ার সময় কাজলচোখের একটা মায়াবী মুখ ক্রমাগত মনে ভাসছিলো। মজিবর মিয়ার চরিত্রটিও হৃদয়ে দাগ রেখে গিয়েছে। এছাড়া আম্বরি বেগম, আশিষ, আসিফ, যশোদা স্যার, ইমাম আকরাম সাহেব প্রতিটি চরিত্র এতো বেশি ভালো লেগেছে!

বড় কলেবরের বই পড়তে অনেকের আতঙ্ক রয়েছে। কিন্তু "আরশিনগর" পড়ে দেখতে বলবো আমি। আশা করি হতাশ হবেন না। সাদাত হোসাইনের উক্তিগুলো অসম্ভব সুন্দর। কবিতার লাইনগুলো আরো বেশি। ভীষণ ভালো লেগেছে বইটা।
Profile Image for Prionty - প্রিয়ন্তী.
37 reviews20 followers
March 12, 2018
#পুতুলের_রিভিউ
বই-আরশিনগর
লেখক-সাদাত হোসাইন
পৃষ্ঠা-২৭২
মূল্য-৪৫০
প্রকাশনী-ভাষাচিত্র

#রিভিউঃ সাদাত হোসাইন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।যদিও তার ইচ্ছে ছিল খেয়ানৌকার মাঝি হওয়া অথবা নিজের নামটি ছাপা অক্ষরে দেখতে পাওয়া। প্রথম স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক থাকা স্বত্বেও পূরণ হয়ে যায় দ্বিতীয় স্বপ্নটি।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তার লেখা পরপর মোট ছয়টি বইই পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে।আরশিনগর তার মাঝে অন্যতম। যা রীতিমত চমকে দিয়েছে পাঠকদের।

আরশিনগর মূলত জন্মের সময় মা মারা যাওয়া এক অনাথ মেয়ের জীবনের গল্প।
মেয়েটির গায়ের রং শ্যামলা কিন্তু ঝলঝলে আয়নার মতো চোখে, মায়ায় পরিপূর্ণ ।তাকালে চোখ ফেরানোর কোন উপায় নেই। মা নিলুফাবানু জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায়।শেষবার মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে নিলুফা বানু মেয়ের চোখে স্বচ্ছ আয়নার মতো স্পষ্ট পরিষ্কার নিজেকে দেখতে পাচ্ছে মনে হয়েছিল বলে মারা যাবার আগ মুহূর্তে শ্বাশুড়ি আম্বরি বেগমকে বলে যায় তার মেয়ের নাম যেন আরশি রাখা হয়।সেই ছোট্ট আরশির একটু একটু করে বড় হওয়ার গল্পই হলো আরশিনগর।
মা হারা আরশি বড় হতে থাকে তার দাদী আম্বরী বেগমের আদর যত্নে।তার জন্মের বছরই বন্যায় সব ডুবে যাচ্ছিলো বলে দাদী আক্ষেপ করলেও সেই বন্যা থেকেই হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠে মজিবর এবং তখন থেকেই ধীরেধীরে পাল্টে যেতে শুরু করে তার অর্থনৈতিক অবস্থা।যার কারণে গ্রামের সকলেরই চোখ পড়ে যায় তার উপর।গ্রামের অন্য আট-দশজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে বিভিন্ন বিচারেও অংশ নিতে দেখে ধীরেধীরে অনেকেই শত্রুতা শুরু করে।তার মধ্যে অন্যতম শত্রু হয়ে দাঁড়ায় লতু হাওলাদার।
অন্যদিকে যতই বড় হতে থাকল আরশি চোখের সামনে ততই বদলাতে থাকে গল্পের দৃশ্যপট।যেই সৎ মায়ের আরশির প্রতি মমতা দেখে তার বাবা তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি ভেবেছিলো কিন্তু হঠাৎ করেই তার জীবনে নেমে আসলো নির্মম দুঃখ-কষ্ট।তারপর কেমন হয়েছিল আরশির জীবন?আর তার বাবার কি হয়েছিল??
কি বা হয়েছিল লতু হাওলাদার আর তার সৎ মা লাইলীর পরিনতি???
শেষ অব্ধি জানতে এখুনি পড়ে ফেলুন লেখকের লেখা অন্যতম সুখ্যাতিপ্রাপ্ত বই আরশিনগর।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা ছিল বেশ তৃপ্তি দায়ক।তবে আরশির গল্পের সাথে লেখক উপস্থাপন করেছেন বাংলার এক অন্যতম অজপাড়াগাঁ যযাতিপুরের আরো কতো গু��ো গল্প।যেমনঃ শুকরঞ্জন ডাক্তার ও সুজাতা রানীর গল্প, আশিষ ও মিলির গল্প, ইমাম আকরাম হোসেনের গল্প, রুবিনার গল্প।
বিশাল পটভূমির আরশিনগর গল্পে সাদাত হোসাইন মানুষের স্বাভাবিক জীবনের কিছু চিত্র একের পর এক চিত্রিত করে গেছেন।প্রথম বই হিসেবে কিছুটা এলোমেলো হলেও গল্পগুলো ছিল বেশ অসাধারণ।আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আরশির গল্প আর আমার মতে পাঠক যদি বইয়ের সমাপ্ত পর্যন্ত যায় তবে শুধুমাত্র আরশির উপর আকৃষ্ট হয়েই যাবে।অবশ্য প্রথম বই হিসেবে এটাই লেখকের সার্থকতা।বইয়ের প্রিয় কিছু লাইনঃ
**কখনো কখনো অন্ধকার খুব দরকার হয়। খুব। নিজেকে আড়াল করার জন্য।
**আচ্ছা মানুষের চোখে কি এমন থাকে? যা অন্য মানুষকে এমন মুগ্ধ করে!
**ভালোবাসারা এমন কেন? এমন রহস্যময়। এমন অপাঠ্য। এমন গন্তব্যহীন কিংবা অদম্য?

#বইয়ের_রেটিংঃ ৪/৫
Profile Image for Biniamin Piash.
15 reviews4 followers
March 7, 2019
আরশিনগর ~ সাদাত হোসাইন

রিভিউ নয়, কাটাকুটি/বিশ্লেষণ

সাম্প্রতিক সময়ে সাদাত হোসাইন সাহিত্য প্রিয় মানুষদের কাছে অতি পরিচিত এক নাম। বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় যার বই শীর্ষে থাকে অনেকটা একক আধিপত্য নিয়েই। বিভিন্ন গ্রুপে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে হরহামেশাই। সাদাত হোসাইনকে কবি হিসেবে চিনেছি অনেকদিন হয়েছে, ভালোবেসেছি তার কবিতা আর কাব্য প্রতিভাকে। তবে তার উপন্যাস পড়া হলো এই প্রথম।

আরশিনগর উপন্যাস সম্পর্কে বলতে গেলে বলবো, গল্পটা তেমন আহামরি কোন গল্প নয়। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, বাংলা সিনেমার কাহিনী! আমি তাও বলবোনা, অনেকটা পরিচিত ধরণের গল্প। তবে মূল মজাটা অন্য জায়গায়। প্রকাশভঙ্গী, উপমা, লেখনশৈলী এইখানটাতেই রয়েছে সাদাত হোসাইনের জাদু। পুরো বইজুড়ে নজর কেড়েছে তার অনুভূতির প্রকাশভঙ্গী, কত সাধারণ কথা কিন্তু কত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন! যদি গল্পের বিচারে উপন্যাসের মানদন্ড দেয়া হয় তাহলে হয়তো একদম নিম্নসারীর উপন্যাস হয়ে যাবে! তবে যদি প্রকাশভঙ্গী আর লেখনশৈলী বিচার করা হয়, আর যদি কেউ অনুভব করতে পারে লেখার ভেতরের সূক্ষ্ম মায়াটুকু তাহলে অনেকদিন ধরেই মনে রাখবে উপন্যাসের নামটি। অতি আবেগপ্রবণ বলে কিনা জানিনা, কিছু কিছু লাইন পড়ার সময় চোখের জল কেন যেন এমনি এমনিই গড়িয়ে পরলো!

গল্পের যে দিকটা ভালো লাগেনি তা হচ্ছে চরিত্রের সীমাবদ্ধতা। ঘুরে ফিরে বেশ কিছু চরিত্রের মাঝেই যেন জোর করে আবদ্ধ রাখা হয়েছে উপন্যাস। কিছু কিছু গৌণ চরিত্রে নিয়ে একটু বেশিই লেখা হয়েছে মনে হয় যেন! উপন্যাসের প্লট যেরকম ছিলো তাতে আরকিছু চরিত্র সংযোজন করে এবং কিছু গৌণ চরিত্রদের নিয়ে খুব বেশি না আগালে উপন্যাসটা হয়তো আরো ভালো হতো।

পরিশেষে, আমার কাছে মনে হয়েছে কবি সাদাত হোসাইনের তুলনায় ঔপন্যাসিক সাদাত হোসাইন যেন কিছুটা অপটু, বা কোথাও একটু কমতি আছে। তার কবিতাগুলো অসাধারণ, আশা করি বাকি উপন্যাসগুলোও কবিতার মত অসাধারণ হবে।
Profile Image for Fazle Rabbi Riyad.
87 reviews28 followers
October 16, 2018
প্রথমেই বলে নেই খুশি হয়েছি দুটি কারণে-
প্রথমত, বইটা পড়ে খুব ভাল লেগেছে। এবারের বইমেলা (একুশে বইমেলা- ২০১৮) থেকে অনেক সাধ আর এক্সপেকটেশন নিয়ে কিনেছিলাম এবং সত্যি বলতে এতো ভাল লাগবে বইটা আশা করি নাই একদমই।
দ্বিতীয়ত, খুশি হয়েছি এই কারণে যে হুমায়ুন পরবর্তী সময়ে দেশে সাদাত হোসাইনের মত একজন ত্রুণ সুলেখকের আবির্ভাব ঘটায়। সাদাত হোসাইন এরকম আরো কতগুলো বই উপহার দিয়ে যাবেন সেই অপেক্ষায় থাকব।

এবার আসি বইয়ের রিভিউতে। শুরুতেই ক্রেডিট দিতে হয় গল্পের ব্যাপ্তি আর পরিসর নিয়ে। এমনিতেই লেখক তার গল্পগুলো দীর্ঘ পরিসরে বর্ণনা করতে পছন্দ করেন। ঠিক এরই প্রেক্ষিতে এতোগুলো চরিত্রকে এতো ভালভাবে পরিচালনা করে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লেখক যে মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন সেটা সত্যিই প্রসংশনীয়। এতোগুলো চরিত্র তবু কাউকেই অতিরিক্ত বলে মনে হয় নাই কখনো।
গল্প বলার স্টাইল ছিল সাধারণ অথচ জীবন্ত। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমিও যেন গল্পের কেউ একজন। এমন খুব কম লেখকের বই পড়ার সময় হয়। এদিক দিক দিয়ে আমি লেখককে ফুল ক্রেডিট দেব নিঃসন্দেহে।

যদি খুব হার্ড ক্রিটিক করতে হয় তাহলে বলব আরশি আর আসিফের কথোপকথনের কিছু কিছু অংশ খুব একটা ভাল লাগে নাই। আর গল্পের সব ক্যারেক্টারকেই এতো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে গল্পের নামের সাথে প্রধান চরিত্র আরশিকে হয়তো ওতোটা প্রধান নাও লাগতে পারে। বাট এসব বিষয়ে আমার অভিযোগ একদমই স্বল্প।

পরিশেষে এটাই বলতে পারি, আরশিনগর উপন্যাস নিঃসন্দেহে লেখক গভীর জীবনবোধের ফসল। কিংবা হয়তো এটি লেখকের মনের মাঝে অন্য কোন একটি জগতের গল্প যেখানে সবকিছুই আয়নায় দেখার মত উল্টো। সে জগতটাই তো আরশিনগর তাই না?
122 reviews10 followers
July 23, 2018
ভালই কিন্তু কেমন জানি ছন্নছাড়া ধরনের লেখা। শেষটা কিছুটা গোঁজামিল দিয়ে দিয়েছে।
Profile Image for Rizal Kabir.
Author 2 books45 followers
July 7, 2021
ইচ্ছা ছিল – সপ্তাহখানেক না হলেও অন্তত দিন চারেক লাগাবো বইটি শেষ করতে। কিন্তু হলো না। ডুবে গেলাম বইয়ে… চেয়ারে, বিছানায়, খাবার টেবিলে মাথা গুঁজে পড়তে পড়তে ক্লান্তও হলাম, তবে বই রেখে আর অন্য কোথাও মন বসাতে ইচ্ছে করলো না।
সাদাত হোসাইনের পড়া আমার প্রথম বই আরশিনগর। একদম সত্যি বলতে – বইটি হাতে নেয়ার পেছনে আমার মধ্যে যা কাজ করছিল তা হলোঃ কয়েক বছর ধরে দেখি ভালই হাইপ তুলেছে লোকটা। কানে আসছে, কিন্তু যেহেতু কোনো বই পড়ে দেখিনি, তাই আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়া যাচ্ছে না ঠিকমত। এজন্য হলেও একটা বই পড়া দরকার লেখকের।

অতঃপর হাতে নিলাম আরশিনগর। এবং মোটামুটি অনেকদিন পর এমন একটানা বসে পড়লাম কিছু একটা। এজন্য লেখকের একটা বড়সড় ধন্যবাদ প্রাপ্য। পাঠক সবসময় যে নিজের ইচ্ছায় বই পড়ে তা না, মাঝেমধ্যে লেখক জোর খাটিয়েও বই পড়িয়ে ফেলতে পারে। আমি যখন পড়ছিলাম বইটি, তখন দ্বিতীয় ঘটনাটিই ঘটছিল। চমৎকার কাহিনী, বেশ দীর্ঘ কলেবরের সময়কাল এবং ঘটনাকে লেখক বেঁধেছেন আস্তে আস্তে। খুব যত্ন করে কাহিনীর যোগসূত্র তৈরি করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে বলে গেছেন গল্প।
প্রাথমিকভাবে একদম সাদামাটা গ্রাম্য জীবন নিয়ে কাহিনী শুরু হলেও কাহিনী ডালপালা মেলেছে বিভিন্নদিকে। গ্রামীণ রাজনীতি প্রধান উপজীব্য হয়ে উঠেছে ক্রমে, আর এর সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়েছে গল্পের চরিত্রেরা – বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন সময়ে। যযাতিপুর গ্রাম যেন পুরো উপন্যাসের শেকড়, সেই উৎস ধরেই আবির্ভাব হয়েছে সকল চরিত্রের এবং ঘটনার।

আরশিনগর পড়তে গিয়ে প্রথম যে কথাটা মনে হয়েছে তা হলোঃ লেখক জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্টাইলে লিখতে চেষ্টা করেছেন। আমার জানামতে, বাংলাদেশে হুমায়ূন-পরবর্তী এই যুগে এমন ধারাটি অনেকের লেখাতেই চলে আসছে। হুমায়ূনের প্রচুর বই পড়েছে এমন যে কেউই এই ব্যাপারটা ধরতে পারবে সাদাত হোসাইনের এই উপন্যাসে। তবে আবেগের প্রকাশ��ঙ্গি অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে এই উপন্যাসে এটা আমি বলবো। অনুভূতির তীব্রতা বোঝানোর জন্য লেখকদের নানারকম কৌশল থাকে – শূন্যতা ব্যাখ্যা করার ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবেঃ
চারদিকে নিঃসীম শূন্যতা। এর মাঝে কেউ নেই। কিছু নেই। কিছু নেই।
এমন ঘরানার প্রকাশভঙ্গিকে খারাপ বলছি না। কিন্তু উপন্যাসে অগুণিত জায়গায় অতি-আবেগী বহিঃপ্রকাশের ব্যবহারকে অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে প্রায়ই।

উপন্যাসে চরিত্রের সংখ্যা কম নয়। বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে রয়েছে মজিবর মিয়া, আম্বরি বেগম, লাইলি, লতু হাওলাদার, আশিষ, শুকরঞ্জন ডাক্তার, লোকমান, ইমাম, মিলি প্রমুখ। উপন্যাসের নামানুসারেই, কেন্দ্রিয় চরিত্র আরশিকে লেখক বেশ সময় নিয়ে সাজিয়েছেন - বিভিন্ন ঘটনার পরম্পরায়, গল্পের নাটকীয়তার সাথে জড়িয়েছেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। তীব্র নাটকীয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছেন – এমনকি খুব সূক্ষ্মভাবে রহস্যাবৃত করারও চেষ্টা করেছেন। সেদিক থেকে লেখককে সফলই বলবো।

পুরো লেখার পরতে পরতে রয়েছে নানারকম জীবনবোধকে তুলে ধরার চেষ্টা। কখনো চরিত্রের গ্রাম্য ভাষায়, কখনো বা লেখকের কণ্ঠে, পটভূমিকায়। ভালবাসার মহাত্মকে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন রূপে, আঙ্গিকে।
মানুষ যতক্ষণ না অবধি অন্য মানুষকে বুঝে উঠতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাউকে ছুঁয়ে দিতে পারে না। মানুষ বেশিরভাগ সময়ই মোহগ্রস্ততাকে ছুঁয়ে যাওয়া ভেবে ভুল করে।
সবমিলিয়ে আমার ভাল লেগেছে বেশ। উপন্যাসের ঘটনার সাথে পাঠকের অনুভূতিকেও স্পর্শ করেছেন লেখক। কিছু কিছু ঘটনার অবতারণা হয়তো না করলেও হতো – কিন্তু গল্পের গতির সাথে তা এমনভাবে মিশে গেছে যে সে কথা আর আলাদা করে মনে হয় নি। একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই ভাবে কাহিনী গতিময়তা বজায় রাখা একদম সহজ কথা নয়। বরং আরো কিছু ঘটনা পরিণতির দিকে এগোলেও পড়তে একেবারেই খারাপ লাগতো না।
Profile Image for Journal  Of A Bookworm .
134 reviews9 followers
October 29, 2022
আরশিনগর
লেখক - সাদাত হোসাইন
প্রকাশনা - দেজ পাবলিকেশন
মূল্য - 400/-

সাদাত হোসাইন সাহেব এর চতুর্থ এবং আমার পড়া ওনার লেখা প্রথম উপন্যাস আরশিনগর। প্রচ্ছদ আর ব্লার্ব এর লেখা দেখে বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরী হয়। লেখক জীবনবোধ এর কিছু কিছু নিত্য দৈনন্দিন উপলব্ধি গুলোকে খুব সুন্দর করে ভাষার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বইটি তে, যেমন ধরুন
"জগতের নিয়ম হচ্ছে কারণে অকারণে, ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মানুষ স্মৃতি পুষে রাখে। সামান্য কিছু অতীতের স্মৃতি মানুষ জন্ম জন্ম মনে রাখে। হঠাৎই কোনো বিষাদের রাত এ তা উঁকি দায়"
"জগতে মানুষ এর বেঁচে থাকার অজস্র কারণ থাকতে পারে তবে তাদের ভেতর শ্রেষ্ঠতম কারণ হচ্ছে ভালোবাসা. মানুষ আজীবন এই তেষ্টা বয়ে বেড়ায়, ভালোবাসার তেষ্টা"
কী অসম্ভব সুন্দর এবং সত্যি এই অনুভূতিগুলো।

পটভূমি -

আরশিনগর বাংলাদেশ এর এক প্রত্যন্ত গ্রাম যযাতিপুর এর পটভূমি তে লেখা বৃহৎ পরিসরের উপন্যাস। যযাতিপুর এর মজিবর মিয়া ও নিলুফা বানু এর সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান, একই সময়ে নিলুফা বানু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু মুখে নিলুফা বানুর বলা কথাগুলো অসম্ভব দামি
"মা রে, এমন আয়নার মতো চোখ নিয়ে জন্মাইলী. কিন্তু সেই আয়না চোখে নিজের মায়েরই তো আর দেখতে পাবি না রে মা" আয়নার মত স্বচ্ছ চোখ বলেই মা মরা কন্যা সন্তানের নাম রেখেছিলেন আরশি।
সেখান থেকেই শুরু হয় আরশির বেঁচে থাকার লড়াই, যে লড়াইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্রে আরশি, এই লড়াই বেঁচে থাকার, লড়াই মাথা তুলে শুধু মাত্র টিকে থাকার, মা ছাড়া এই মানবজনম যে কতটা কঠিন তা উপলব্ধি করায় এই উপন্যাস। লেখক এই উপন্যাসে আরশি কে কেন্দ্র করে, প্রত্যেকটি চরিত্রের নিজস্ব গল্প গুলো বলেছেন। তাই এই উপন্যাস যতটা আরশির ঠিক ততটাই অমানসিক মনের জোরের অধিকারী মজিবর এর, ঠিক ততটাই অকৃতদার সুখরঞ্জন ডাক্তার এর, ঠিক ততটাই ক্ষমতা লোভী স্বার্থপর লতু হাওলাদার এর, ঠিক ততটাই দরিদ্র ইমাম আকরাম হোসেন এর, আর ঠিক ততটাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের মুখে শান্ত থেকে অশান্ত হয়ে ওঠা যযাতিপুর গ্রামের।

পাঠ প্রতিক্রিয়া -

পুরো লেখার পরোতে পরোতে রয়েছে নানারকম জীবনবোধ কে তুলে ধরার চেষ্টা সেটা কখনও গ্রাম্য মানুষ এর কণ্ঠ দিয়ে আবার কখনো লেখক এর নিজের কণ্ঠে। ভালোবাসার নিজস্ব রূপকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই দীর্ঘ কলেবরে লেখা উপন্যাস এ। আরশি যখন জায়েদ এর থেকে বিদায় নিচ্ছে ঢাকা যাওয়ার জন্য দৃশ্যটি লেখক এতোটাই সুন্দর ভাবে ব্যক্ত করেছেন, চোখে জল এসে যায়।
জীবনবোধ ও মূল্যবোধ এর এই উপন্যাসে লেখক অনেক দামি কিছু উপলব্ধি ব্যক্ত করেছেন খুবই সহজ ভাবে
"একটা মানবজীবনের সবটা জুড়ে মানুষ কেবল অন্য মানুষকেই চিনতে চায়, জানতে চায়, কিন্তু সে কখনো টের পায়না, এই একজীবনে সে তার নিজেকেই কতটা কম চিনে" এই গল্পে ভালো লাগে আরশির ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিরে আসা। আরশির জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা আর তার থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা কিভাবে ডালা সাজিয়ে রাখা থাকে এই অল্প বয়সে।
আসলে আমরা জীবনে যা যা চাই, তাই কিন্তু হয়না, জীবন জীবনের মতোই চলতে থাকে। আসলে মানবজীবন আয়নার মতো উল্টো এক জগৎ। এখানে আমরা যা ভাবি, যেভাবে জীবন কাটাতে চাই তার বিপরীত ঘটনা ক্রমশ ঘটতে থাকে।
Profile Image for Shafin Ahmed.
81 reviews8 followers
May 23, 2020
যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমানকালের লেখকদের মধ্যে কার উপন্যাস সবচেয়ে ভালো লাগে, আমি বলব সাদাত হোসাইন।
আর কোন বইটা সবচেয়ে বেশী ভালো লেগেছে? আমি বলবো আরশিনগর।
Profile Image for Atiq Zawad.
5 reviews8 followers
September 13, 2020
Highlight:
Profile Image for শুভাগত দীপ.
277 reviews43 followers
July 26, 2017
|| রিভিউ ||

বই : আরশিনগর
লেখক : সাদাত হোসাইন
প্রকাশক : ভাষাচিত্র
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
ঘরানা : সমকালীন উপন্যাস
পৃষ্ঠা : ২৭২
প্রচ্ছদ : সাইফুল হালিম জেলীন
মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০ টাকা

মায়াময় পরিষ্কার দুটো চোখে চোখ পড়লে যেন আয়নার কথা মনে হয়। তাই মৃত্যুর আগে নিজের সদ্যজাত কন্যার নাম আরশি রাখলো তার ভাগ্যহতা মা। বাবা মজিবর মিয়া আর দাদি আম্বরি বেগম তাকে গড়ে তুলতে লাগলো আগলে রাখা সমস্ত স্নেহ ও ভালোবাসার সবটুকু দিয়ে। তারপরো, মাতৃহীন আরশি তার পুরোটা জুড়ে আসন পেতে বসা মায়ের অভাব বারবার অনুভব করলো। আরশির বেড়ে ওঠা শুরু হলো শান্ত-নিস্তব্ধ যযাতিপুর গ্রামে।

পরিশ্রমী ও আত্মপ্রত্যয়ী মজিবর মিয়া নিজ চেষ্টায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলো উন্নতির শিখরে। কিন্তু তথাকথিত বাঙালি সমাজে সাধারণত যা হয়, তা আর আটকাতে পারলোনা। চক্ষুশূলে পরিণত হলো যযাতিপুর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি কুচক্রী লতু হাওলাদারের। নিজের ঠুনকো আ��িজাত্য ও বংশপরিচয়ের নেশায় বুঁদ এই মানুষটা যেকোন মূল্যে মজিবর মিয়াকে থামানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখলো।

এদিকে অস্থির এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পুরো দেশ। শ্রেণীশত্রু খতমের নামে চরমপন্থিরা নৃশংসতার চরমপন্থার সীমাও যেন অতিক্রম করে চলেছে প্রতিনিয়ত। আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ হয়ে একে অপরকে ধ্বংস করার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারা। আর স্বাভাবিক ভাবেই, চরমপন্থিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আগুন সবকিছুকেই পোড়ায়। আর এই ভয়াবহ আগুন একটা পর্যায়ে স্পর্শ করলো যযাতিপুরের মাটি। শান্ত গ্রামটা অশান্ত হয়ে উঠলো ক্রমেই।

ঢাকায় বসবাসরত আশিষ ও মিলির জীবনটাও কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেলো। সন্তানহারা এক মায়ের হাহাকারে মুহুর্মুহু কম্পিত হতে লাগলো আকাশ বাতাস। পুত্র আর পুত্রবধুর জীবনের সাথে জড়িয়ে গেলেন গ্রাম্য ডাক্তার শুকরঞ্জন বাবু ও তাঁর স্ত্রী সুজাতা রাণী।

'জলে ভাসা পদ্ম' কথাটা যে কতোটা সত্য, তা হয়তো আরশিকে নতুন করে বোঝানোর কিছু নেই। সাজানো গোছানো সংসারও যেকোন সময় তাসের ঘর হয়ে উঠতে পারে, এটাও তাকে বোঝানোর কিছু নেই। ঘাতপ্রতিঘাতে জর্জরিত হতে লাগলো মেয়েটা। যেখানে প্রতি পলে সুখ আর দুঃখের যুগপৎ আসাযাওয়া অব্যাহত রইলো। প্রায় সব হারিয়েও আরশি কিন্তু ভেঙে পড়লোনা। সর্বংসহা হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো শেষটা দেখার জন্য। আর আরশির এই ঘটনাবহুল জীবনকে নানান অভিজ্ঞতার প্রলেপে অর্থবহ করলো ডা. রুবিনা, ইমাম সাহেব ও তাঁর স্ত্রী, লাইলি সহ আরো অনেকে।

সারাটা জীবন ভালোবাসা নামক মরীচিকার পেছনে ছুটে চলা আরশির জীবনেও কি ভালোবাসা এসেছিলো? বুকের ভেতরের আজন্মলালিত দীর্ঘশ্বাস কি একটা বারের জন্যও বের করতে পেরেছিলো সে? আরশিনগরের পথে পথে হাঁটা কি কখনো এক টুকরো স্বস্তির সন্ধান দিয়েছিলো তাকে? অনেক প্রশ্ন। সবগুলোর উত্তরও প্রোথিত আছে আরশিনগর নামের উল্টোজগতের ভেতরে।

ব্যক্তিগত মতামত : এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনের কোন বই এর আগে পড়িনি। 'আরশিনগর'-ই প্রথম। বইটা পড়ে উনার সাবলীল ও আবেগময় লেখিনীর আশ্চর্য এক পরিচয় পেলাম। গ্রাম্য বালিকা আরশির জীবনই শুধু না, এতে তুলে ধরা হয়েছে লতু হাওলাদারের মতো মানুষের মনের অন্ধকার দিক ও সেই সাথে সন্ধান দেয়া হয়েছে কিছু মানুষের বুকের ভেতরে লুক্কায়িত অশেষ ভালোবাসার ঐশ্বর্যের। সহজ-সরল বর্ণনাভঙ্গি অসাধারণ ভাবে বাহুল্যবর্জিত ছিলো। এই কারণে পাঠকমনে দাগ কেটে গেছে 'আরশিনগর'-এর প্রতিটা হরফ।

অনেক পাঠক বলেন, সাদাত হোসাইন নাকি শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদের লেখনীকে অনুসরণ করেন। 'আরশিনগর' পড়ে আমার এমনটা মনে হয়নি। তবে গল্প বলার ঢঙে সামান্য হুমায়ূনীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে অন্ধভাবে যে তিনি গল্পের জাদুকরকে অনুসরণ করেন, তা আমার মনে হয়নি। আজকাল অনেক লেখকই সচেতন ভাবে বা অবচেতন ভাবে এই কাজটা করে থাকেন। তবে সাদাত হোসাইন অত্যন্ত সাফল্যের সাথে নিজের গল্প বলার স্বতন্ত্রতা ধরে রাখতে পেরেছেন বলেই আমার মনে হয়। 'আরশিনগর' পড়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই উনার অন্যান্য বই গুলোর প্রতি আগ্রহ বোধ করছি।

বইটার প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। মুদ্রিত মূল্যের ব্যাপারে অবজেকশন আছে। ২৭২ পৃষ্ঠার একটা বই, সেটার ফিনিশিং যতোই মানসম্মত হোক, সেটার মুদ্রিত মূল্য ৪৫০ টাকা রাখা অযৌক্তিক মনে হয়েছে। ব্যাপারটা ঠিক পাঠকবান্ধব মনে হয়নি। যাই হোক, আরশিনগরের উল্টোজগত আমাকে অসাধারণ একটা পাঠ-অভিজ্ঞতা দিয়েছে। লেখকের জন্য শুভকামনা।

রেটিং : ৪.৫/৫

© শুভাগত দীপ
Profile Image for Abid Mahmud.
3 reviews5 followers
February 16, 2017
বাড়ির কাছে আরশিনগর,
সেথা পড়শি বসত করে
একঘর পড়শি বসত করে,
আমি একদিনও না
দেখিলাম তারে...
­
অতিপ্রিয় এই গান একটা সময় প্রচুর শোনা হয়েছে। অনেকদিন বিস্মৃত থাকার পর বইটি হাতে নেয়া থেকে সেই যে বাজতে শুরু করেছে, মাথার ভেতরের সে সঙ্গীত এখনও সুরেলা।
­
হুমায়ূন স্যারের সর্বশেষ বইটি পড়েছি বেশ আগে এবং হাতেগোনা যে কয়টা বাকি আছে... শেষ হয়ে যাওয়ার গোপন এক ভয়ে সেগুলো আর ধরা হয়না। তাঁর পর আর কোনও বইয়ে অতিপরিচিত সেই ঘোরলাগা অনুভূতিটুকু পাইনি, যে অনুভূতির ফাঁদে পড়ে বই শেষ না করে ওঠা যেতো না... আর শেষ করে উঠলেও আচ্ছন্নতা ঘিরে থাকতো। কমবেশি সবারই সে অনুভূতির সাথে পরিচিতি আছে। অনেক, অনেকদিন পর 'আরশিনগর' পড়তে গিয়ে সেই অনুভূতির সন্ধান পেলাম। এই উপলব্ধি অন্যরকম, অন্য জগতের। সেই জগতের নাম আবার 'আরশিনগর।'
­
গাঁয়ের নাম যযাতিপুর। সেই গাঁয়ে ছোট্ট আরশি'র জীবনের গল্প শুরু। বন্যাকবলিত যযাতিপুরে অভাবের মধ্য দিয়ে সূচনা, ক্রমে তা কমলেও কমেনি আরশি'র দুর্ভাগ্য। ঘটনাপ্রবাহে সে গণ্ডগ্রাম থেকে শহরে যাত্রা ছোট্ট আরশি'র... পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা, বৃহত্তর পরিবেশে নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন করে চিনতে থাকে সে। জগতের সকল কিছুতেই তার বিস্ময়! যযাতিপুরের ছিমছিমে বাড়ির পাশে চালতা গাছের তলায় পড়ে থাকা অজস্র ফুল, কুপির আলোয় দাদী আম্বরি বেগমের পুঁথিগাথা, উঠোন পেরিয়ে দুই পা থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত জীবন, জটিলতা, পাওয়া না পাওয়ার গল্পের মাঝে একজন নারী হয়ে ওঠা... সবটুকুই তার অদ্ভুত সুন্দর চোখে বিস্ময় মাখে। একটা সময়ে শহুরে 'আরশি' হলেও, তার মন পড়ে থাকে শৈশবের যযাতিপুরে। পাঠক, কিছু কি মনে পড়ে? নিশ্চিন্দিপুর?
­
হ্যাঁ, আরশি আমার কাছে আরেক 'অপু' হয়ে ধরা দিয়েছে। 'পথের পাঁচালি' পড়ার সেই অনুভূতি ভোলার নয়, তার খানিকটা খোঁজ অন্য কোথাও পেয়ে মোটামুটি মিশ্র মুগ্ধতায় আটকা পড়েছি। আটকা পড়েছি আরশি'র সরল দৃষ্টিভঙ্গিতে, এই জগতটা আসলে একটা আয়না! একটা জীবন মানুষ কাটিয়ে দেয় তার কাছের মানুষটাকে জানতে, কোনও ক্ষেত্রেই সেই জানা সম্পূর্ণ হয় না। অথচ মানুষ নিজেকে কতোটা চেনে? একমাত্র যে 'চোখ' শরীর ও মন দুই-ই দেখে... সে চোখ নিজেকে কখনও দেখতে পায়না। তার আয়নার সাহায্য লাগে, দরকার হয় আরশি'র। আর সে আরশি, এই আরশিনগর কখনও মানুষকে সোজা করে দেখায় না... ধ্রুব সত্য'র মত উল্টো দেখায়।
­
মানুষ হিসেবে কেমন জানিনা, তবে লেখক হিসেবে সাদাত হোসাইন অত্যন্ত আবেগি। আরশিনগর পড়তে গিয়ে পরতে পরতে সে আবেগে আক্রান্ত হয়েছি। অনেক কিছুই বলার ছিল, এবং যদিও কিছু আশঙ্কা ছিল ফিনিশিং নিয়ে... যে রেশ রেখে ইতি টেনেছেন লেখক, এরচে' সুন্দর বোধকরি হতে পারতো না।
­
অথবা হয়ত পারতো, কে জানে! আরশিনগর জানে।
Profile Image for Zahidul  Tamim.
113 reviews5 followers
May 6, 2022
হুমায়ুন আহমেদের লেখা থেকে অনেক বেশি প্রভাবিত। এমনকি উপন্যাসের বেশিরভাগ চরিত্রই আপনি হুমায়ুন আহমেদের কোন না কোন বইয়ে পাবেন। শুধু সামাজিক উপন্যাস না, হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলি থেকেও ইন্সপিরেশন নিয়েছেন লেখক। মিলি নামের যে ক্যারেক্টার তার বাচ্চা নিয়ে অবসেসড আর এ নিয়েই প্রায় পাগল হয়ে যায় সেটা স্ট্রেইট আপ মিসির আলির বই থেকে ইন্সপায়ারড (নাকি কপি!)। এমনকি মিলি নামটাও হুমায়ুন আহমেদের বহুল ব্যবহৃত একটা নাম। পুরা বইয়ে অরিজিনাল যা লেগেছে সেটা হল গ্রাম্য পলিটিক্স।
আরেকটা জিনিস খেয়াল করলাম উপন্যাসের সব ভাল চরিত্রই খুবই দার্শনিক টাইপের। হঠাৎ হঠাৎ উচ্চমার্গের উক্তি আওড়ায় তারা।
সাদাত হোসাইনের ক্যারেক্টাররা কিছুই জানে না, কোয়াইট লিটারেলি। একটু পরপর নানা কাজ তারা কর��� কিন্তু কেন করল জানে না। বারেবারে পুনরাবৃত্তি হয় এই সিনের, পাঠক আবার ভাববেন না দেজা ভ্যু হচ্ছে।
ডেস্ক্রিপশনের নামে একই কথা বারেবারে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লেখা হয়েছে। বিরক্তি লাগে একটা পর্যায়ে এসে৷
এত র‍্যান্টের পরেও দুই তারা দিলাম কারণ
*কপি করা ইজি কাজ না। কপি টপি করেও একটা অরিজিনাল(আই গেস) কাজ দাঁড় করানো হয়েছে।
*লেখার মধ্যে আবেগ ভালমত ঢালা হয়েছে।
বইটা সুন্দরমত গুছিয়ে প্ল্যান করে লেখা। মেসেজটাও সুন্দর।
'আমরা জীবনে কাজ করি এক জিনিসের জন্য আর চাই বিপরীত কিছু, আয়নার বিপরীতে বিম্বের মত'
Profile Image for Rifat.
501 reviews327 followers
November 18, 2020
"কী অদ্ভুত এই মানবজনম! কী অদ্ভুত! এ যেন আয়নার মতোন এক উল্টো জগৎ।এই উল্টো জগতের নাম আসলে আরশিনগর!"

উপন্যাসের যাত্রা শুরু নাম চরিত্রের জন্ম আর তার মা নীলুর মৃত্যু দিয়ে।মারা যাওয়ার আগে মেয়ের আয়নার মতো চোখ দেখে শ্বাশুড়ি মা কে বলেন এর নাম রাইখেন আরশি। মা মারা যাওয়ার পর বেড়ে বাবার আদর অনাদরে বেড়ে ওঠে আরশি।
এছাড়া আরও অনেক চরিত্র আছে।চরিত্রগুলোতে কিছু অযত্নের ছাপ আছে। আরও একটু মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল বেশ কিছু চরিত্রের প্রতি।পুরো উপন্যাস জুড়ে মানবজনম শব্দটির এত্তবার পুনরাবৃত্তি বিরক্তি ধরিয়ে দিয়েছিল।

কাহিনীর শুরুটা ভালোই ছিল, তবে এলোমেলো হয়ে গেছে, চরিত্রগুলোর বিল্ডাপ খুব একটা ভালো হয় নি।শেষটায় আসিফ আর আরশি চরিত্রের দিকে সুনজর দিলে আরেকটু ভালো হতো।

এই বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ আমার পছন্দ হয়েছে খুব। সাদাত হোসাইনের প্রায় সব বইয়ের প্রচ্ছদই সুন্দর :3
Profile Image for Imtiaz Emu.
60 reviews33 followers
April 21, 2018
বইয়ের নামকরণের সার্থকতা খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। শুরুটা বেশ ভালো ছিল। কাহিনীর ভেতরে কাহিনী ঢুকিয়ে কিছু জায়গায় খুব সুন্দর গল্পের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু শেষের দিকে কেন যেন মনে হয়েছে খুব তাড়াহুড়া করে লেখক সমাপ্তি টেনেছেন। অথচ প্রথমদিকে বেশ আয়েশী একটা উপন্যাসের ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
কাহিনীর মাঝামাঝি জায়গায় কিছু খটকা আছে। গল্পের সময়কালটা এর জন্য দায়ী। গল্পের মূল চরিত্র কন্যা নয়, বাবা। এমনকি পুরো উপন্যাসে অনেক ক্যারেক্টারকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। লেখকের বর্ণনা এমনিতে বেশ ভাল।
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books142 followers
April 8, 2016
আরশি নামে একটি মেয়ে আর তার জীবনের চলতি পথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসটা। যযাতিপুর গ্রামের মানুষদের গল্প, তাদের চাওয়া-পাওয়া, রাজনীতি, জমিজমা নিয়ে কলহ সহ আরো অনেক বিষয় উঠে এসেছে এই বইটাতে। বইটার মাঝখানে কিঞ্চিত দীর্ঘ মনে হয়েছে কাহিনীটা, মনে হয়েছিল, অযথাই টানা হচ্ছে। কিন্তু আস্তে আস্তে সে বিরক্তি ভাব কমে আসছে, পড়তে পড়তে।
সবমিলিয়ে ভালোই বইটা।
Profile Image for রি য়ে ন.
170 reviews23 followers
May 31, 2018
একের পর এক খুন খুবই বিরক্ত লেগেছে... 😒
Profile Image for Pritha.
98 reviews12 followers
June 27, 2018
Vivacious fiction with a beautiful description of village politics and uncertainty of life. But the ambiguous ending disappoints me.
Profile Image for Masum Ahmed.
Author 2 books44 followers
February 9, 2023
টানটান উত্তেজনা নিয়ে পিলগ্রিম ও পোয়েট শেষ করার পর একটা জিনিস খেয়াল করলাম। খুবই সূক্ষ্মভাবে আমার পড়ার রুচি বদলাচ্ছে। বয়স হচ্ছে, অস্থির মন স্থির হচ্ছে, বিশাল আকৃতির বই পড়তে তাই খারাপ লাগছে না। সেই চিন্তা থেকে গতরাতে পড়ে শেষ করলাম সাদাত হোসাইনের আরশিনগর।

এক কালে সামাজিক উপন্যাস প্রচুর পড়েছি, বলতে গেকে নাকেমুখে গিলেছি। কিন্তু একটা সময়ে এসে সেই যে থ্রিলারে থিতু হলাম, তারপর থেকে সামাজিক উপন্যাস পড়ার ইচ্ছা জাগতো না। শরীফুল হাসান একমাত্র তার ব্যতিক্রম ছিলেন, উনার সামাজিক উপন্যাসকে তাই শুরু থেকেই আমি সামাজিক থ্রিলার বলতাম।

সেদিন বাতিঘরে স্মৃতিগন্ধা বইটা নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। নেড়েচেড়ে দেখতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল হলো আমি বইটার আঠারো পৃষ্ঠা পড়ে ফেলেছি, এবং পড়তে আমার ভালোই লাগছে। তখনই নিজের পরিবর্তনটা আস্তে আস্তে টের পাচ্ছিলাম। আরশিনগর শেষ করার পর বুঝতে পারলাম, আমার অনুমান মিথ্যা ছিল না। এখন আমার মস্তিষ্ক বিশাল কলেবরের সামাজিক উপন্যাস পড়ার জন্য প্রস্তুত। এই দিনটার জন্যে অনেকদিন ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম আমি। দূরবীন, পার্থিব, মানবজমিন- অনেকদিন থেকেই আফসোস ছিল এই বইগুলো পড়তে না পারার। এখন নিশ্চয় সেই আফসোস ঘুচবে।

ধান ভানতে শীবের গীত গাইলাম এতক্ষণ, এখন মূল আলোচনায় প্রবেশ করব। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম স্মৃতিগন্ধা পড়ার আগে লেখকের পুরনো একটা বই পড়ব, এবং তার পরে স্মৃতিগন্ধা পড়ব। এক্ষেত্রে লেখকের পরিবর্তনগুলো সহজেই ধরতে পারব আশা করছি। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই আরশিনগর পড়ে শেষ করলাম। রাত বারোটার দিকে শুরু করে ভোর পাঁচটায় শেষ হয়েছে বইটি। ঘুম বাদ দিয়ে কেন সারা রাত একটা বই পড়ে কাটিয়ে দিলাম তাই নিয়ে আলোচনায় যাওয়া যাক।

আরশিনগরের গল্পটা ছোট্ট মেয়ে আরশিকে নিয়েই, যে কিনা জন্মের মরেই মাকে খেয়েছে। তার পর পরই গ্রামে বন্যা হয়েছে, এমন বন্যা বাপের জন্মে কেউ দেখেনি। মানে একটা মেয়েকে অপয়া, অলুক্ষণে বলতে যা যা ঘটা প্রয়োজন তার সবই ঘটে আরশির জীবনে।

মূল গল্পটা আরশিকে নিয়ে হলেও, গল্পটা যযাতিপুর নামক এক গ্রামের। যার আশেপাশের মালোপাড়া, মোড়লগঞ্জ, টরকি বন্দর, স্টিমারঘাটার গল্পও উঠে আসে। উঠে আসে তৎকালীন ঢাকা শহর ও এর অস্থির সময়ের গল্প। সেই অস্থিরতার হাওয়া এক সময় যযাতিপুর গ্রামেও বয়ে যায়।

গল্পটা এমন যে, আলাদা করে এর কাহিনী সংক্ষেপ লেখার মত না। কিছু লিখতে গেলেই মনে হবে গল্পটাকে নষ্ট করা হচ্ছে। তাই সেদিকে না গিয়ে আনুষঙ্গিক কিছু চরিত্র ও ঘটনা নিয়েই আলোচনা করা যাক। আরশির বাবা মজিবর মিয়া স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। ডুবে যান সমাজের সবচে নিকৃষ্ট বস্তু; অর্থের চিন্তায়। তারপর একে একে বিভিন্ন ধরণের কাজ করেন। আরশিকে অপয়া বললেও, বাপের দিক থেকে তাকে লক্ষ্মীর সাথেই তুলনা করতে হয়৷

মজিবরের মা আম্বরি বেগম সমাজের আর দশটা দাদির মতনই। মা মরা মেয়েকে সর্বস্ব দিয়ে আগলে রাখেন। আর বু বলতে আরশি অজ্ঞান। বলতে গেলে মা বাবা সবার আদরই এই বু'র কাছেই পায় আরশি।

এই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র হলো ইমাম সাহেব। সবার মুখে মুখে ইমাম সাব শুনতে শুনতে কেউ আর তার আসল নামটা বলতে গেকে জানেই না। ইনি ভালো মানুষ, ভীনদেশের হলেও এই গ্রামের প্রতি, গ্রামের মানুষের প্রতি, মা-মরা মেয়ে আরশির প্রতি তার মায়া কাজ করে।

এছাড়া শুকরঞ্জন ডাক্তার, সুজাতা রানী, তাদের ছেলে আশিষের গল্পও বলা হয়েছে বড় পরিসরে৷ যযাতিপুরের আতাহার তালুকদার, যে কিনা এই গ্রামের সবথেকে মান্যগণ্য ব্যক্তি ছিলেন এ�� সময়, তার ছেলে আফজাল, পুত্রবধূ রুবিনা এদের গল্পও প্রয়োজনে উঠে এসেছে যতটুকু দরকার।

লতু হালদার সবথেকে আকর্ষণীয় চরিত্র। আমরা যারা গ্রামে বড় হয়েছি তারা সবাই এই চরিত্রের সাথে কমবেশি পরিচিত। সমাজে কেউ যদি তাদের থেকে ধন সম্পদে উপরে উঠে যায় তাতেই তাদের গা জ্বলে যায়। পরশ্রীকাতরতার সবথেকে বড় উদাহারন হলো এই লতু হালদার।

আরশিনগর গল্পটা আমার ভালো লেগেছে। এক ঘন্টা পড়ে রেখে দেয়ার কথা থাকলেও ভোর পাঁচটা পর্যন্ত একটানা পড়ে গেছি। এর সবথেকে বড় কারণ গল্পের পটভূমি। যারা গ্রামে বড় হয়েছে, পরে শহরে এসেছেন তাদের সবার কাছে মনে হবে এটা তার নিজ গ্রামেরই গল্প।

বেশিরভাগ লতু হালদারকেই দেখি একটা বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলে, সাদাত হোসাইন হুমায়ূন আহমেদকে কপি করে। গল্প বলার স্টাইল, চরিত্র গঠন, গল্পের মোড় ঘুরানো টুইস্ট এসব কথা চিন্তা করলে বলতে হয় যে হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্টাইলের সাথে মিলে যায়। হুমায়ূন আহমেদের অনেক বইয়েই ইমাম সাবের মত এমন চরিত্র আছেন, মধ্যাহ্ন ও জোছনা ও জননীর গল্পেও আছেন। মজিবরের চরিত্রটাও মধ্যাহ্নের ধনু শেখের সাথে মিলে যায়।

চরিত্র ও গল্প বলার স্টাইল মিলে যাবার কারণেই গল্পটাকেও একইরকম মনে হয়। কিন্তু মূল ব্যাপারটা এখানে আলাদা। মানে গল্পের মূল প্লটটা আলাদা। তবে একই প্লটে হুমায়ূন আহমেদ লিখলেও হয়ত এভাবেই লিখতেন। কিন্তু এসবকিছুর কারণে গল্পের মজা নিতে আমার তো কোনো অসুবিধা হয়নি। সম্ভবত লতু হালদারের দলে ঢুকতে পারিনি এখনো।

কাল পাঁচ ঘন্টা আমি তন্ময় হয়ে গল্পটা পড়ে গেছি, কিছু কিছু জায়গায় চোখ আর্দ্র হয়েছে, কিছু জায়গায় খুশিতে হেসে উঠেছি। তবে এর পর কী ঘটবে এটা জানার জন্যে উন্মুখ হয়ে ছিলাম। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি সাদাত হোসাইন চমৎকার একজন লেখক। তাকে নিয়ে লতু হালদারদের যেসব কথা এতোদিন শুনেছি সেগুলোতে কখনো কান দিইনি। তবে এখন থেকে কান দেব, সম্ভব হলে তাদেরকে চিনে রাখব।

পুরো বইয়ে ভুল বানান আমার তেমন চোখে পড়েনি। কি এবং কী এর ব্যবহারে কিছু জায়গায় লেখককে সন্দিহান মনে হয়েছে। এছাড়া আর কোনো সমস্যা আমার চোখে পড়েনি। তাঁর লেখার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের প্রভাব আছে, নিশ্চয় এটা থেকে বের হয়ে নিজস্ব একটা স্টাইল তৈরি করবেন তিনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে সাদাত হোসাইনের কাছে প্রচুর গল্প আছে, সেগুলো লিখতে লিখতে একটা সময় সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন। আরশিনগর শেষ, এবার সময় করে স্মৃতিগন্ধা পড়ে তারপর বাকি কথা বলব।
Displaying 1 - 30 of 93 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.