ফারিহার গাড়িতে ছোটাচ্চুকে ওঠানো হয়েছে। তবে আজকে ছোটাচ্চু বসেছে পেছনের সিটে। তার চোখ একটা গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা, যেন সে কোনোভাবেই দেখতে পারে। তার এক পাশে টুনি অন্য পাশে শান্ত, তারা শক্ত করে ছোটাচ্চুর হাত ধরে রেখেছে যেন ছোটাচ্চু হাত দিয়ে তার চোখের বাঁধন খুলে ফেলতে না পারে। গাড়ির সামনের সিটে ফারিহাপুর পাশে বসেছে ঝুমু থালা। ঝুমু খালা অনেক আপত্তি করেছে কিন্তু কেউ শুনে নাই। সবাই মিলে তাকে আবার মার্দানা ম্যাডামের মতো সাজিয়ে দিয়েছে, তার কপালে টিপ আর ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টিক।
আগেও বলেছি, আবার বলছি, অতি দ্রুত জাফর ইকবালের এই সিরিজটা লেখা বন্ধ করা দরকার। ক্রনিক ডিজিজের মতো উপদ্রব আর ভালো লাগছে না। তবে আমার ছোট বোন বই বের হওয়ার সাথে সাথে অতি উৎসাহে কিনে ফেলে, তাই না পড়ে উপায় দেখি না🥺 টুনটুনি আর ছোটাচ্চুতে আমার সবচেয়ে অপছন্দের ক্যারেকটার হচ্ছে টুনি -_- না সিরিয়াসলি, যে লেখকের ঝুলিতে দস্যি কজন, দীপু নাম্বার টু, আমার বন্ধু রাশেদের মতো বই আছে, সেইখানে এই বইটা একদম বেখাপ্পা। কোয়ালিটির দিকে এখন মনযোগ দেয়া উচিত।
আমার মধ্যে যখনই কৈশোরের নস্টালজিয়া কাজ করে তখন আমি দুটো সিরিজের কাছে ফিরে যাই সবসময়। প্রথমত হ্যারি পটার এবং দ্বিতীয়ত টুনটুনি ও ছোটাচ্চু। এই সিরিজের প্রথম বই বেরিয়েছিল ২০১৪ এর বইমেলায়। তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সেসময় কিআ পেয়েছিলাম আইজেন-এ পুরস্কার জিতে। সেখানে প্রথমবারের মতো টুনটুনি ও ছোটাচ্চু পড়ি। শুধু প্রথম অধ্যায় পড়েই ভীষণ ভালো লেগে যায় এই গল্পের চরিত্রগুলোকে। একটা চমৎকার ক্যাওটিক ভাইব আছে তাদের। নিসন্দেহে দারুণ সেটআপ। ভালো লেগেছিল। তবে আমি ভাবিও নি যে জাফর স্যার এটাকে একটা সিরিজে পরিণত করবেন এবং সেটা ১১ বছর ধরে চালিয়েও যাবেন। ২০১৬-র বইমেলা বাদ দিয়ে প্রতিটি বইমেলাতেই এই সিরিজের নতুন বই বেরিয়েছে৷ ২০১৯ পর্যন্ত টানা পড়েছি। একটা সময়ে এটার এতো বড় ফ্যান ছিলাম যে আমি ২০১৮ তে জাফর স্যারকে মেইলও করেছিলাম সিরিজটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। স্যার লিখেছিলেন তিনি জানেন না এরপর আর বই লিখলে তিনি সেটার কী নাম দেবেন। তখন আমি বইয়ের নামের সাজেশনও দিয়েছিলাম! এরপর আস্তে আস্তে বড় হয়ে গেলাম। টিনএজার আর থাকলাম না৷ কিন্তু তবু সু্যোগ পেলে এই সিরিজের খবর নিই৷ পড়া হয়তো হয়ে ওঠে না। কিন্তু কী কী নতুন বই বেরোল খুঁজে দেখি৷ এ আমার এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া!
আজ হঠাৎ মনে হল যেখানে শেষবার রেখে গিয়েছিলাম সেখান থেকে সিরিজটা আমার শুরু করি। তাই এই বইটি ধরলাম। আগে হলে হয়তো এটুকু পড়তেই দু'-চারদিন লাগত। কিন্তু এখন এক বসায় শেষ করে ফেললাম। মাত্র ২ ঘণ্টা লাগল। একজন পঞ্চবিংশতির জন্য বইটি খুবই সাদামাটা এবং তার জন্য আমি স্যারকে দোষ দিই না। এ আমার বয়সের দোষ। তারপরও আমি বলব যে এই সিরিজের প্রথম বইটি যতখানি দারুণ ছিল বাকি বইগুলি যেন তার ধারেকাছেই নয়। ২য় এবং ৩য় বইদুটো তবু বেশ ভালো। ৪র্থ বই পর্যন্ত ঠিক আছে। এরপর থেকেই সিরিজের অধঃপতন৷
কিন্তু তবু আমি বলব আমার নস্টালজিয়ার জয় হোক, টুনটুনি ও ছোটাচ্চুর জয় হোক।
বিঃদ্রঃ আমি মনে মনে আশা করেছিলাম এতো বছরে হয়তো ছোটাচ্চু আর ফারিহাপুর বিয়েটা হয়ে যাবে। এ বইতে তো হলো না৷ দেখি পরের বইগুলোতে হলো কিনা!!!
পরীক্ষার আগে এই শেষ বই,এই শেষ বই - বলে যতই ঘোষণা দেই,শেষ বই আর হয়না।নির্লজ্জের মতো ঠিকই বই পড়ে গুডরিডস এ হাজির হই।তাই এখন থেকে এধরনের ঘোষণা দেয়া থেকে বিরত থাকবো। আহা টুনটুনি,উঁহু ছোটাচ্চু সম্ভবত টুনটুনি সিরিজের ৪র্থ বই এবং আমার পড়া ২য় বই।সিরিজের প্রথম বইটি ই এর আগে কেবল পড়া ছিলো।যতদূর মনে পড়ে,ওই বইটি ছিলো একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস।ঘটনা এগিয়েছিলো নিরবচ্ছিন্নভাবে। এই বইটি তা নয়।টুনটুনি পরিবারের কতগুলো বিচ্ছিন্ন মজাদার ঘটনা নিয়ে অনেকগুলো গল্পের ছাঁচে সাজানো বইটি।শেষের দিকে এসে যথারীতি একটি এডভেঞ্চার জাতীয় ব্যাপার দিয়ে বইটি শেষ হয়।কিন্তু বইয়ের এই মূল প্লটটি আসে কিন্তু অনেক পরে।এই মূল প্লটটির চেয়ে আমি টুকরো টাকরা ঘটনাগুলোই বেশি উপভোগ করেছি।পরীক্ষা পূর্বকালীন মানসিক অস্থিরতার সময় গুলোতে ঠিক যে ধরনের হাল্কা,মজার লেখা ভালো লাগে,এটি ঠিক তাই-ই।সবচেয়ে ভালো লেগেছে ঝুমু খালা ওরফে মার্দানি ম্যাডামকে। তবে সবথেকে বেশি ভালোভাবে বইটির রিভিউ দিয়েছেন,স্বয়ং জাফর ইকবাল স্যার নিজেই।তিনি ভূমিকাতে বলেছেন,টুথপেস্ট শেষ হয়ে গেলেও আমরা যেমন টিপেটুপে তা বের করার চেষ্টা করি,এই বইটি ঠিক তাই। আর আমার মনে হয় আসলেও বইটি নিয়ে কিছু বলতে গেলে এইটাই ঠিকঠাক তুলনা। পিচ্চিরা এইটুকেই খুশি,আমারও বিশেষ আপত্তি নাই। 😅 তবে এই আহা উঁহু নামকরণের কারণ খুঁজে পেলাম না।
গত কয়েক বছর ধরেই টুনটুনি আর ছোটাচ্চু আমার অবশ্যপাঠ্য। প্রতি বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি,কখন টুনটুনি আর ছোটাচ্চু কিনে বাসায় বসে আরাম করে পড়বো আর প্রাণখুলে হাসবো। এইবছর ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই সিরিজের নতুন বই আহা টুনটুনি উহু ছোটাচ্চু। প্রচুর হেসেছি কিন্তু কিছুটা হতাশ,এবারের টুনটুনি আর ছোটাচ্চু আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, অতিরিক্ত বাচ্চাটাইপ হয়ে গিয়েছে গল্পগুলো আর এতো ছোটো ,তেমন মন ভরলো না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমি স্যার জাফর ইকবালের মোটামুটি ভালই বই পড়েছি। উনার সাইন্স ফিকশন পড়ে পড়ে আমার বইয়ের নেশা উঠে। তাই কেন যেন উনার বই পেলে বেশ ভাল লাগে।
টুনটুনি ছোটাচ্চু সিরিজের এই বই হলো আহা টুনটুনি, উহু ছোটাচ্চু যেটা সত্যি বলতে আমার মনে হয়েছে অহেতুক টানতে হয়েছে। যদিও অন্যগুলো ভাল লেগেছে। তবে এইটা পড়ে মনে হয়েছে, কোনো গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শুধুমাত্র সিরিজের একটা বাড়তি বই।
সবার একই না-ও লাগতে পারে। বাচ্চাদের পড়ার বেশ উপযোগী বলব। 🌼
গড়পড়তা হলেও ২ বা আড়াই দিতাম, কিন্তু সমস্যা হলো ডঃ জাফর ইকবালের খুব বেশি স্টিরিওটিপিক্যাল, প্রায় স্টিগমাটাইজড পোর্ট্রেয়াল অভ সার্টেইন ক্যারেক্টারস। উনি যদি বাচ্চাদের জন্য না লিখে বড়দের জন্য এই কাজটা করতেন, হয়তো ব্যাপারটা উপেক্ষা করে যাওয়া যেত, কিন্তু শিশু-কিশোরদের মনে এই ধরণের স্টিরওটিপক্যালিটি ঢুকিয়ে দেয়া মানে বাকি জীবনের জন্য তাদের প্রেজুডিসড করে ফেলা, যেটা রীতিমত অপরাধ বলে মনে হয় আমার। সেজন্য আসলে রেটিং মাইনাস ১।
টুনটুনি সিরিজের এটা ঠিক কতো নাম্বার বই তা নিয়ে ভাবতে বসলে মাথায় তালগোল পেকে যাবে! সে যাকগে! বইয়ের কথায় আসি। অনেক অনেকদিন পর একদিনে কোনো বই পড়ে শেষ করলাম! এ সিরিজের বইগুলো পড়তে ভালোই লাগে।