গল্প হচ্ছে এমনই একটি জাদু, যা কঠিন বিষয়কেও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে তোলে। তাই অর্থনীতির জটিল পাঠগুলোকে সহজ করে তুলে ধরতে বহুকাল ধরে চলে আসা সেই পদ্ধতিটির অনুসরণ করে ‘গল্পে গল্পে অর্থনীতি’ বইটি লেখা হয়েছে। এই বইটির অধ্যায়গুলো শুরু হয়েছে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কিংবা ‘ঈশপের গল্পের’ মতো প্রাণবন্ত উপস্থাপনায়। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ উদাহরণের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর।
দীর্ঘ দশ বছর দেশে-বিদেশে অধ্যয়ন শেষে মােহাইমিন পাটোয়ারী বর্তমানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'চার্টার্ড ফাইনান্সিয়াল এনালিস্ট প্রােগ্রামে যুক্ত হন। অর্থনীতি এবং ফাইনান্সের পাশাপাশি গণিতের প্রতি রয়েছে তাঁর ঝোঁক। সিএফএ অধ্যয়নরত অবস্থায় দ্বিতীয় স্নাতক প্রােগ্রামের জন্য তিনি গণিত বিভাগে নাম লেখান উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সেরা দশে অবস্থানের পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালের জুন মাসে তিনি সিএফএ পরীক্ষার তৃতীয় এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করেন। তাঁর জীবনের ক্ষুদ্র একটি অপূর্ণতা হচ্ছে গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করতে না পারা। স্নাতক করা অবস্থাতেই নরওয়ে স্কুল অফ ইকনমিক্সে মাস্টার্স প্রােগ্রামের জন্য তার ডাক পড়ে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নিশীথ সূর্যোদয়ের দেশে পাড়ি জমান। অতঃপর নরওয়ে স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে দ্বৈত মাস্টার্স প্রােগ্রামের জন্য তিনি যন্ত্রের দেশ জার্মানির স্বনামধন্য মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। পড়াশােনার পাশাপাশি খেলাধুলা, ভ্ৰমণ, শিক্ষকতা এবং ভাষা শিক্ষার জগতেও তিনি একজন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। ২০১৮ সালে চাইনিজ ব্রিজ কম্পিটিশনে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থানসহ খেলাধুলার জগতেও রয়েছে তাঁর একাধিক পুরস্কার। বর্তমানে অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাংলা ভাষায় অর্থনীতির জগতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বই লেখার পাশাপাশি সংবাদপত্রেও তিনি নিয়মিত কলাম লিখেন। সরল বাংলায় এবং গল্পের ভঙ্গিমায় তাঁর লেখাগুলাে ইতােমধ্যেই পাঠকদের মন কেড়ে নিয়েছে।
আমরা আমাদের আয় কিভাবে খরচ করব, কি খাবার খাব, কি রকম হবে আমাদের ঘর সংসার , এমনকি পড়ালেখা শেষে চাকরিবাকরি পর্যন্ত অর্থনীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থনৈতিক ভুল সীধান্তের কারনে ব্যক্তিপর্যায় তো বটেই রাষ্ট্রপর্যায়েও বেশ বড়সড় কিছু পতন দেখেছি আমরা সাম্প্রতিক সময়ে। কিন্তু এত গুরুত্বপূ্র্ণ একটি বিষয়ে পাঠ্যবইয়ের বাইরে তেমন একটা বই নেই বললেই চলে। অর্থনীতি নিয়ে আমার পড়া প্রথম বইটি খুব বেশী সুখকর ছিল, ছোটদের জন্য লেখা বললেও লেখক ওটাতে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগির পক্ষপাতমূলক আলোচনায় করেছেন। এরপর আকবর আলী খান স্যারের পরার্থপরতার অর্থনীতি বইটা পড়ে বেশ উপভোগ করেছি ও দারুন মজাও পেয়েছি। স্যারের গল্প আর উদাহরণের সাহায্যে দারুন দারুন সব প্রবন্ধ লিখেছেন ঐ বইয়ে। গল্প আর উপমা কাঠকোট্টা বিষয়কে সহজবোধ্য করে তোলে। আর প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ গল্পপ্রেমী।
"গল্পে গল্পে অর্থনীতি " বইটিকে যে কেউ অর্থনীতির সাথে পরিচিত হওয়ার প্রথম বই হিসেবে বেছে নিতে পারেন। এটি সাবলীল ভাষায় লেখা, খুব ধাপে ধাপে এগিয়েছেন লেখক। নন ফিকশন বইয়ের মূল সমস্যা হল একটানা মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। কিন্তু লেখক প্রতিটি জটিল বিষয়ে নানা চরিত্র এনে উদাহরন দিয়েছেন। একারনে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হয় নি।
লেখকের বোঝানোর স্টাইলটা অসাধারন । তিনি প্রথমে একটা সরলতম উদাহরন নেন, এরপর তাতে ধাপে ধাপে ফিচার বা জটিলতা যোগ করতে থাকেন। তার এই লেখনশৈলীতে প্রথম মুগ্ধ হয়েছিলাম তার ব্যাংকব্যবস্থা নিয়ে লেখা বইটিতে। এই বইতেও তা রয়েছে। যেমন ধরুন লেখক শেয়ারবাজার কিভাবে কাজ করে, তার ব্যাখায় বেছে নিয়েছেন একটা গ্রামের পুকুরে অংশীদারী মাছ চাষকে। এরপর ধাপে ধাপে চলে এসেছেন বর্তমান শেয়ার মার্কেটের জটিলতায়।
এছাড়া বইয়ের বিষয়গুলিও বেশ বৈচিত্র্যময়, শেয়ারবাজার, বীমা, ব্যাংক ব্যবস্থা,মুদ্রার মান, রিজার্ভ, ফরেক্স ট্রেডিং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ঝুকি, নানারকম অর্থব্যবস্থার সুবিধা ও অসুবিধা এবং সব শেষে মাত্র দু পৃষ্টায় অর্থনীতি চর্চার দুশো বছরের ইতিহাস।
অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনার শুরুর জন্য এর চেয়ে ভাল বই বাংলা ভাষায় আছে বলে মনে হয় না।
স্রেফ গল্প না করে শুরু থেকেই শেয়ারবাজার কীভাবে এলো, তার ঐতিহাসিক পরিক্রমাটা ফুটিয়ে তোলা যেত। রহমতউল্লাহ ইমন তাঁর ‘পরিসংখ্যানে হাতেখড়ি‘ বইয়ে এমনটাই করেছেন। ৩৯ পৃষ্ঠায় জিরো-কুপন বন্ডের দাম নির্ণয়ের যে সূত্রটা দেওয়া হয়েছে, সেটা তো চক্রবৃদ্ধি সুদের সূত্রটিই নয়। কিন্তু তেমনটাই বলা হয়েছে। ‘ফিউচার‘-এ গিয়ে বলা হয়েছে মুদ্রার মান বাড়তে-কমতে পারে। কীভাবে কমে এটা পূর্বেই ব্যাখ্যা করা দরকার ছিল। বলা হয়েছে ‘সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ‘-এর কথা। এটা কী বস্তু, তার টীকা দরকার। ‘বিভিন্ন প্রকার টাকা‘ পরিচ্ছদে ব্রেটন উডস চুক্তি বা এম ০, এম ১ বুঝি নি।
ঋণ নিলে কেন আমার দেশের টাকার মূল্যমান কমে যাবে, এটা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করা হয় নি।
নির্ঘণ্ট নাই।
এরকম আরো কয়েক জায়গায় কমতি আছে। তবে শিখেছিও বেশ কিছু জিনিস। লেখক যদি তাঁর কয়েকটা বইয়ের মধ্যে জ্ঞানগুলো ছড়িয়ে না দিয়ে এই একটা বইতেই দিতেন, তবে ভালো হতো। অর্থনীতির মতো একটা বিষয়ে ১৫০ পৃষ্ঠার নিচে বই করা আসলে আমপাঠকের তৃষ্ণা মেটায় না।
যাদের ইকোনমিক টার্মগুলো সম্পর্কে একেবারেই ধারণা নেই, তাদের জন্য ভালো বই। গল্পে গল্পে আলোচনা, কিন্তু ইনডেপথ কোনো আলোচনা নেই।
প্রকাশক এর কাছে একটা প্রশ্ন রেখে গেলাম, "ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে, লেখার স্পেস বাড়িয়ে, (সর্বোচ্চ) ১০০ পৃষ্ঠার লেখা ১৪০ পেজে এটে, আবার তার দাম ৩৮০ টাকা হাঁকানোটা-কে অর্থনীতির ভাষায় কী বলে?"
বইটা শুধু মাত্র বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের জন্য। ব্যাবসায় শিক্ষা শাখার ছাত্র ছাত্রী রা এসব নবম শ্রেণি তেই পড়ে ফেলে। বানিজ্য শাখার ছাত্র হওয়ায়, এই বই থেকে নতুন কিছু শিখতে পারিনি বললেই চলে। তবে অন্য দের জন্য খুব চমৎকার একটি বই হতে পারে। বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্র ও ঘটনার মাধ্যমে লেখক শেয়ার, শেয়ার বাজার, বিমা, বন্ড, জিডিপি ইত্যাদি বিষয় গুলো অনেকটা সহজেই বুঝিয়েছেন।
প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা অর্থনীতির বেসিকস নিয়ে ভাল একটি বই, ইন্টারেস্টিং লেগেছে। রেকমেন্ডেড ফর রিডিং যারা অর্থনীতির মূল আইডিয়া এবং উপাদানগুলোর বেসিক সহজে বুঝতে চান।
বেশি ছোটদের জন্য না। কিন্তু যেহেতু গল্পের ছলে লিখা তাই ক্লাস ৬/৭ এর বাচ্চাদের ও বুঝার মত। আমার মত অর্থনৈতিক জ্ঞান না থাকা বুড়ির জন্য ও বইয়ের লিখা বোঝাটা সহজ ছিল। 🤣 তাই বলা যায়, খুবই সহজ ভাষায় লিখা। যেখানে দরকার সেখানে একের অধিক উদাহরণ ও দেয়া। পুঁজিবাদ বা মিশ্র অর্থনীতির সুবিধা অসুবিধা সব সুন্দর করে দেয়া। ফরেক্ষ ট্রেডিং, ফিয়াট কারেন্সি তো জীবনে প্রথম শোনা আবার share market নিয়ে আমার জ্ঞান শূন্যার কাছাকাছি ছিল। খুব সুন্দর করে এসব topic বেঝানো হয়েছে।
যাদের অনৈতিক বিষয় গুলোর খুব সহজ ও প্রাথমিক ধারণা দরকার তাদের জন্য এই বই দিয়ে শুরু করাটাই শ্রেয়।
ক্লাস ৬/৭ম এর বাচ্চাদের মতো মজাদার উপায়ে অর্থনীতির বেসিক বিষয় শেখা মজাদার একটা ব্যাপার।
লেখকের শেখানোর ধরণ অনবদ্য। তবে, এক্কেবারে রুট লেভেলের মানুষের কানেকশনে আসতে লেখক সামান্য বিষয়ও অতিরঞ্জিত করেছেন। ফলস্বরূপ, ১ পেজের লেখা ৩ পেজে দাড়িয়েছে।
অর্থনীতির ছাত্র না হলেও অর্থনীতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ আমার বরাবরই ছিল। এই বইটাতে সহজভাবে অর্থনীতির বেসিক দিকগুলো আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো আমি মনে করি সকলের জানা থাকা দরকার। সহজপাঠ্য এই বইয়ের জন্য লেখকের কৃতিত্ব স্বীকার করতেই হয়।