কল্পনা আর বাস্তবতা কি কখনো মিশ খায়? কৃষ্ণকুহকে মিলবে তার উত্তর। ভেতরের পাতাগুলোয় কখনো আকাশ ফুঁড়ে নেমে আসে দেবী নেসহাত, তো কখনো নাম না জানা নদীর তীরে হাজির হয় খালি এক জাহাজ। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুতে ছুটে চলে এক ক্লান্ত কুমারী, আবার ছবির মত শান্ত-ছিমছাম কোন রাজ্যের কিনারায় বাসা বাঁধে ক্ষমতাধর এক কাল ডাকিনী। গল্পকথকের সাথে ছুটতে ছুটতে পাঠক নিজেও জড়িয়ে যাবেন সেই কুহকের জগতে।
"কৃষ্ণকুহক" বইয়ে গল্পের সংখ্যা ৭। সংকলনের সেরা দুটো গল্প "রয়েছি তোমার অপেক্ষায় নেসহাত" এর 'সাতের চক্র' এবং "কঙ্কাবতী" গল্পে ব্যবহৃত 'সপ্তম সন্তানের প্রথম সন্তান' (Famous folklloric concept : Seventh son of the seventh son) তত্ত্বের সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে গল্পের সংখ্যা।
গল্পগুলো মূলত ফ্যান্টাসি ধাচের; তবে লোভ, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, মনস্বতাত্বিক দ্বন্দ্ব অথবা বিষণ্ণতার অনুভূতি ঘুরেফিরে হাজির হয় বারবার। ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড নির্মানে সালমান হকের সহজাত দক্ষতা আছে, শব্দের গাঁথুনিতেও যত্নের ছাপ লক্ষণীয়। গল্প পড়তে গিয়ে কখনও কানের ভেতর বেজে ওঠে সমুদ্রের বিষণ্ণ গর্জন, কখনও আবার তলোয়ারের ঝনঝনানিতে নড়েচড়ে বসতে হয়। জরাজীর্ণ কোন দালানের নোনাধরা দেয়ালের বুনো গন্ধকে সঙ্গী করে অপেক্ষায় লিপ্ত হতে হয়ে প্রাচীন কোন দেবীর পুন:আবির্ভাবের!
লেখকের কাছ থেকে বড় পরিসরে ফ্যান্টাসি উপাখ্যানের অপেক্ষায় রইলাম।
আমি ফ্যান্টাসির ভক্ত। নিজেও ফ্যান্টাসি লেখার চেষ্টা করি টুকটাক। বহুদিন আমার ধারণা ছিল বাংলায় ফ্যান্টাসি লেখা ঠিকমতো সম্ভব নয়। কিন্তু জুলিয়ানের আশিয়ানি এবং মাহবুব আজাদের আগুনি আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। সালমান ভাইয়ের আগের যে দু'টো বই পড়েছিলাম, তা ছিল ক্রাইম থ্রিলার। কিন্তু কৃষ্ণকুহক ফ্যান্টাসি। আমার ধারণা আবারও ভুল প্রমাণিত হলো, বাংলায় উৎকৃষ্ট মানের ফ্যান্টাসি লেখা সম্ভব। বিশেষ করে এই সংকলনের 'যাদুসমর' এবং 'কণ্কাবতী' রীতিমতো হাই ফ্যান্টাসি ধাঁচের। আক্ষেপও আছে। নেসহাত এবং ১৩ নং, আতশিখানা লেন- এই বড় গল্প দু'টো চাইলেই আরো বড় করে উপন্যাস বা উপন্যাসিকা করতে পারতেন লেখক। বোতলভূতকে অবশ্য আমি ফ্যান্টাসি বলবো না। মনস্তাত্ত্বিকই মনে হয়েছে বেশি। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা সংকলন। আমরা কি লেখকের কাছ থেকে ফ্যান্টাসি উপন্যাস আশা করতে পারি?
- 'সাউদি? টিম সাউদি? নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলার?' ভ্রু কুচকে বললেন ফজলু ভাই। - 'সাউদি না, ভাই, সাউতি। ফাস্ট বোলার না। সাউতি হইতেছে ভয়ংকর ক্ষমতাধর এক ডাকিনি।' বললাম আমি। বিকেলে মাঠের মধ্যে আড্ডা দিতেছিলাম আমি, শাহিন আর ফজলু ভাই। ফজলু ভাই কোথা থেকে জানি এক প্যাকেট বিদেশি ডানহিল সিগারেট জোগার করেছে। আমার উদ্দেশ্য হইলো সুযোগ বুঝে তারে চুনা লাগায়া গোটা প্যাকেটা বাগায়া নেয়া।কথায় কথায় আজকের পড়া বইটার কাহিনি বলতেছিলাম ওদের। বইয়ের নাম 'কৃষ্ণকুহক', সালমান হকের ছোটগল্পের সংকলন। - 'হুম৷ তা এই ডাকিনি সাউতি চায়টা কী? ' - 'রাজ্য চায়।' - 'রাজ্য? পরীমনি আর শরীফুল রাজের ছেলে? ওরে দিয়া সাউতি কী করব?' - 'আরে ওই রাজ্য না। মৌষল রাজ্য। মৌষল রাজ্যের রাজারে বিয়া করতে চায় ডাকিনি সাউতি। হূমকি দেয় যে, স্বেচ্ছায় বিয়াতে রাজি না হইলে সমস্ত মৌষালবাসিকে খতম কইরা দিবে। কিন্তু রাজা হচ্ছে বীর...' 'বীর? শাকিব খানের ছেলে?’ ’আরে না। বীর মানে বুঝাইতেছি সাহসী। সে তো ডাকিনীরে বিয়া করব না। সে সাউতিরে মারার জন্য একের পর এক সৈন্যদল পাঠায়, আর ওরা গিয়া সাউতির জীবন্মৃত পিশাচবাহিনীর হাতে কচুকাটা হয়।' 'তারপর কী হয়? রাজা সাউতিরে বিয়া করে?' রাজহাঁসের মত গলা লম্বা কইরা জানতে চায় শাহীন। 'সেইটা জানার জন্য এই বইয়ের 'কংকাবতী' গল্পটা পড়তে হইবে। লাস্টে একটা ট্যুইস্ট আছে। আমি অবশ্য ট্যুইস্টটা আগে থেকেই আন্দাজ করছিলাম, হে হে।' 'তোরে কী এখন স্যার কয়া ডাকতে হইবো?’ ফরফর কইরা বইলা ওঠে ফজলু ভাই। 'না। এক প্যাকেট মিস্টার ট্যুইস্ট খাওয়াইলেই চলব। 'শুইনা তো রুপকথার গল্প মনে হইতেছে।' 'রুপকথা। আবার রুপকথাও না। বললাম না, লাস্টে ট্যুইস্ট আছে।' 'আর কী কী গল্প আছে বইটায়? সব গল্প কি এই টাইপেরই?’ 'না। এক টাইপের না। একেকটা একেক স্বাদের। মোট ৭ টা গল্প আছে। নাম হইতেছে, ’রয়েছি তোমার অপেক্ষায়, নেসহাত' '১৩ নং, আতিশখানা লেন', 'সমুদ্রসান', 'যাদুসমর', 'দৃষ্টি', 'কংকাবতী' আর 'বোতলভূত'। 'বোতল ভূত। নামটা চেনা চেনা লাগে।' 'হুঁ। হূমায়ুন আহমদের একটা কিশোর উপন্যাস আছে বোতল ভূত নামে। ছোটবেলায় পইড়া ভাজাভাজা কইরা ফেলছিলাম বইটা। তবে এই বোতলভূত টোটালি ডিফ্রেন্ট। খুবই হারামি টাইপ। তবে.... ' 'তবে?' 'তবে এর মধ্যে কিন্তু আছে, ওইটা আদৌ... থাক এর বেশি কইলে স্পয়লার হয়া যাইব। খালি এইটা বলি, গল্প শেষে কনফিউশান তৈরি হয় গল্পের জনরা নিয়া। এইটা হরর, নাকি...?' 'আচ্ছা ঠিকাছে? তোর কোন গল্পটা বেশি ভাল লাগছে?' 'প্রথমটা। 'রয়েছি তোমার অপেক্ষায়, নেসহাত।' মিথলজিক্যাল ফিকশন। এই টাইপের গল্প আমার বরাবরই ভাল্লাগে। সেই কত বছর আগে মুহম্মদ আলমগীর তৈমুরের ''বংশালের বনলতা" পইড়া মিথলজিকাল ফিকশনের ফ্যান হইছিলাম। এখনও সেই নেশা কাটলো না।' 'এইটার কাহিনি কী? এই নেসহাতের? কে তার অপেক্ষায় আছে?’ ’সেইটা জানতে হলে...' 'বুঝছি, বুঝছি। পড়তে দিস আমারে।' 'অকা। শেষ হইয়াও হইলো না শেষ টাইপ ব্যাপার আছে সবগুলা গল্পে। পড়ার সময় তৃপ্তি পাওয়া যায়, কিন্তু গল্প শেষে এক ধরনের অতৃপ্তি ভর করে। মনে হয়, আরেকটু লম্বা হইলে ভাল হইতো, বা আরও কিছু ঘটলে ভাল হইতো। এন্ড আই থিংক দিস ইজ দ্য বেস্ট থিং।... এনিওয়ে, ফজলু ভাই, দেখেন, দেখেন! দুষ্টু ছেলেরা ঢিল মেরে আপনার গাছের বরই পারতেছে।' ঝট করে ওই দিকে তাকালেন ফজলু ভাই, সাথে সাথে ছো মাইরা উনার বুক পকেট থেকে ডানহিলের প্যাকেটটা নিয়া ভোঁ দৌড় দিলাম আমি। দুই সেকেন্ড পরই পেছন দিক থেকে শুনতে পাইলাম ফজলু ভাইয়ের গগনবিদারী চিৎকার, 'শাহীন, ন** পোলারে ধর!’
কোনো কিছু কল্পনা করাটা কঠিন না। কঠিন হলো সেই কল্পনাটা কাওকে বোঝানো। ডিটেইলে, উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা। এই বিষয়টা আমার ধারণা লেখক সালমান হকের বাম হাতের খেল। মানে লেখক ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এ এতোই সিদ্ধহস্ত, যে এত অল্প লেখার মাঝে এত ডিটেইল দেখে অবাক হতেই হয়। ফ্যান্টাসি সাহিত্য নিয়ে আমার আগ্রহ একটু কম, পড়েছিও কম। কিন্তু আমার মনে হয়েছে এটা সালমান হক ভাইয়ার জন্য তেমন কোনো বিষয় না। এখানে ভালো লাগেনি যেটা, সেটা হলো বেশ কিছু বাক্যের গঠন। আমার মনে হয় কিছু লেখা বেশ আগের। যেকারণে একটু অপরিপক্কতা দেখা গেছে বাক্য গঠনে। যেমন, 'ও হ্যাঁ, ওমুক কিন্তু তমুক ও করে' বা 'হ্যাঁ, এই ই সেই লোক যাকে আপনারা খুঁজছেন'। এরকম হ্যাঁ দিয়ে শুরু করা বাক্যগুলোর বহুল ব্যবহার দেখা যায় একদম নতুন লেখকদের মাঝে। কোনো একটি বিষয়ে বলতে গিয়ে ছুটে গেলে, 'হ্যাঁ' এর আশ্রয় নিয়ে জুড়ে দেয়া হয়। তারপর আরেকটি দূর্বলতা হলো বর্তমান সময় টাইমলাইনে থার্ড পার্সন পার্স্পেক্টিভে বর্ণণা গুলো। ওদিকে লেখক ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে খুবই ভালো।
৭টির মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'রয়েছি তোমার অপেক্ষায় নেসহাত' গল্পটি। লেখকের কাছে এইরকম পরিপূর্ণ এডভেঞ্চারাস গল্পের জন্য আবেদন জানাই, সিলেটের প্রেক্ষাপটে! রকি এবং রক্তিম চরিত্র দুটোর মাধ্যমে গল্প ন্যারেট করার বিষয়টাও ফাইন। এই দুই চরিত্রের হাত ধরেই পুরো ারেকটি গল্পগ্রন্থ নামিয়ে ফেলুক লেখক!
কৃষ্ণকুহকে আছে তিনটা নভেলেট আর চারটা অনুগল্প। আমার পড়া প্রিয় ফ্যান্টাসি মৌলিক গল্প সংকলন হয়ে থাকবে। সরল-সরস গদ্যে লেখা গল্পগুলো আশা করি সকল বয়সী পাঠকের ভালো লাগবে।
নভেলেট তিনটা মুগ্ধ করেছে। ‘রয়েছে তোমার অপেক্ষায় নেসহাত, ১৩ নং, আতিশখানা লেন, এবং কঙ্কাবতী’—এই তিনটা নভেলেটকে আরেকটু দীর্ঘ করে উপন্যাস করা যেত। প্রতিটি গল্প টুইস্টে ভরপুর।
মৌলিক দু’টি অনুগল্প ‘বোতলভূত এবং জাদুসমর’ ও লভেলেট তিনটার মতো স্বাদ দিয়েছে। বিদেশি গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা দু’টি অনুগল্প ‘সমুদ্রস্নাত এবং দৃষ্টি’ অসম্ভব ভাল্লাগছে।
সালমান হক-এর অনুবাদকৃত নিক পিরোগের ‘থ্রি এ এম সিরিজ’ ছিল আমার জীবনে পড়া প্রথম কোনো ভালোলাগার থৃলার সিরিজ। এজন্য আমার সাহিত্যচর্চায় পুরোপুরি মগ্ন হওয়ার পিছনে সালমান হকের অবদান রয়েছে। আজ আমি সে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলাম। লেখকের কাছ থেকে আগামী বইমেলায় মৌলিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস আশা করছি।
বইটা বাসায় আমার পিচ্চি ভাইদের জন্য পাঠিয়ে দিব আজই। আশা করি বইটা ‘বোতলভূত’ এর ছোট্ট টুকুনের মতো আমার ছোট্ট ভাইদেরও ভাল্লাগবে।
ছোট কলেবরের ফ্যান্টাসি এই গল্প সংকলনটিতে রয়েছে ৭টি গল্প।এদের মধ্যে আমার কাছে সেরা ৩টি গল্প লেগেছে সমুদ্রস্নান,জাদুসমের এবং দৃষ্টি।সমুদ্রস্নান গল্পটি হচ্ছে সবচেয়ে প্রিয়।মাত্র ৪-৫ পেইজের "ন্যারো" সাইজের গল্পটি ভাল লাগেছে শুধুমাত্র লেখকের অসাধারণ লেখনীর জোরে।এত সুন্দর মৌলিক ফ্যান্টাসি সংকলন আদৌ পড়েছি কিনা জানা নেই।লেখনশৈলী,শব্দচয়ন সবকিছুই ছিল অপূর্ব যার জন্য তরতড়িয়ে পড়ে গেছি এক বসাতেই। সুন্দর,ছিমছাম গোছের এবং কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এই বইটির মত আদর্শ বই আর হয় না।
দারুণ একটা ফ্যান্টাসি গল্প সংকলন কৃষ্ণকুহক। ধীরেসুস্থে, রয়েসয়ে পড়লাম, যাতে দ্রুতই শেষ না হয়ে যায়। কিন্তু সব সুন্দরের-ই শেষ থাকে। অতঃপর বইটাও শেষ করতে হল। গল্পগুলো হিস্ট্রি, মিথের সাথে আরবান ফ্যান্টাসির মিশেল। মজার অনুভূতির সাথে রয়েছে একধরণের গা ছমছমে অনুভূতিও। কয়েকটা গল্প বেশ ডার্কও। আমার সবথেকে প্রিয় রয়েছি তোমার অপেক্ষায় নেসহাত আর ১৩ নং আতিশখানা লেন। কঙ্কাবতী গল্পের ফাইট সিনটা দুর্দান্ত। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য এক সংকলন। লেখকের কাছে বড় কিছুর আর্জি জানিয়ে গেলাম এখানে।
সালমান হক, আমার প্রিয় অনুবাদকদের মাঝে একজন। তার মৌলিক আমি পড়েছি কম। গতবার বইমেলায় তমসামঙল পড়েছিলাম। এবার কৃষ্ণকুহক। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। গল্পগ্রন্থের রিভিউ বা রেটিং দেওয়া খুব টাফ। এখানে সব গল্প হয়তো একই ধাচের বা মাপের হয় না৷ বইটির সের গল্প লেগেছে দৃষ্টি নামের একটি গল্প। লেখকের ভাস্যমতে এটি বিদেশী কোনো গল্পের ছায়া অবলম্বনে তিনি লিখেছেন। এই গল্পটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে৷ আরো একটি গল্প বেশ ভালো লেগেছে সেটি সমুদ্রস্নান।
খুব ছোটবেলার একটা বই আছে আমার কাছে। বইটা পাওয়ার কাহিনী আমার মনে নেই,তবে ওইটি ছিলো আমার প্রথম ভয়ের গল্পের বই,ভূত বা অতিপ্রাকৃতের দ্বিতীয় পরিচয় ওখানে। প্রথম পরিচয় নানী -বড়নানীদের জ্বীন-পরীর কিসসা-কাহিনি, অবশ্য তাদের মতে সেসব কিসসা না। আমি যদিও জ্বীন বিশ্বাস করি, ওনাদের কাহিনি বিশ্বাস করিনা(এখন আরকি, তখন তো বান্দরের মতো গলায় লটকে থাকতাম) কেননা আমার নানী কেঁচো দেখলেও বাড়ি মাথায় করে,সে নানী জ্বীন ভূত দেখলে আধা আউলা হয়ে যেতোই। আর এমনে মাইর থেকে বাঁচতে আমিও একবার প্রচলিত জ্বীনকে দেখেছি বলে কাহিনি বলে দিয়েছিলাম। এইরে!এসব তো বলতে আসিনি। তো প্রথম ভূতের বইয়ের গল্প আমি পড়ে রাতে আর ঘুমুতে পারতাম না, অন্ধকার হলেই মনে হতো গল্পের সবকিছু আমার চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। অনেককাল পরে এমন হলো। সালমান হক midjourney-এর একটা কভার দিয়েছিলেন,কৃষ্ণকুহকের। ওই কভারের মেয়েটা আমার সারাঘর জুড়ে ধাপাধাপি করেছে। এ অবশ্য ওই বইয়ের প্রথম গল্পের ফল। কিন্তু ওই ছবিটা বইয়ে আছে কিন্তু, শেষের গল্পে। যা আজ দেখলাম।বইয়ের পরে সালমান হকের ফেবু তে যে ছবিটা আছে,সেটা ছট করে দেখে এসো। দেখবে কেমন জীবন্ত!
বোতল ভূত নিয়ে বলি।কী সুন্দর মিষ্টি দেখতে একটা গল্প লেখক ফাঁকা ফাকাঁ লাগা ভয়ের করে ফেললেন!
১৩নং,আতিশখানা লেইন গল্পে বাংলাবাজার নিয়ে অংশটা বেশ। গল্পের কথা আলাদা করে বলছিনা। কিন্তু বাস্তব,বাংলাবাজারের অংশটুকু আমার ওখানে যাওয়ার ইচ্ছে বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনি আমার ঢাকাশহর ভালোলাগেনা। কিন্তু যখন আমার বইবন্ধুগুলোর বইঘরে ঘুরে বেড়ানো দেখি, ঢাকাশহর গিয়ে থেকে আসতে মন চায়।
এর পরের দুটো গল্প মন না টানলেও শেষ দুটো গল্প সে মন না টানার খুঁতটুকুন নাই করে ফেলেছে। আর বাংলায় এতো সুন্দর ফ্যান্টাসি জনরার গল্প বোধহয় আমি পড়িনি। বিশেষ করে "কঙ্কাবতী" গল্পটা। ছোটগল্পের তৃপ্তি অনেকদিন পাচ্ছিনা। কারণ অনেক গল্পকার "শেষ হয়েও হলো না শেষ " কথাটা একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলে অসমাপ্ত গল্পের মতোন রেখে দেন। কিন্তু এই বই সে পথ রাখেনি। হ্যাঁ অথবা না ভাবার রাস্তা রেখেছেন,অথচ সমাপ্তির তৃপ্তিও দিয়েছেন। @salman_reads নেক্সট বইয়ে ছবিগুলো অবশ্যই রঙিন রাখতে পারা যায় কিনা দেখবেন, ডিটেইল বুঝতে সুবিধে হয়।
এরকম চমৎকার ফ্যান্টাসি গল্প সংকলন বাংলাদেশের কমই বের হয়েছে আমার মতে। সবগুলো পরিপূর্ণ ফ্যান্টাসি নয় অবশ্য, কিংবা ফ্যান্টাসি হতেও পারে, আমার অচেনা কোন সাব জেনরার। প্রথম ও তৃতীয় গল্পটা বারবার প্রিয় লেখক তৈমুর আলমগীরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। বিশেষ করে বংশালের বনলতার কথা। শুধু এই দুটো গল্পের জন্যই লেখককে সাধুবাদ জানাই। আমি খুব বেশি একটা হাই ফ্যান্টাসি ধাঁচের লেখা পড়িনি। কিন্তু কঙ্কাবতী ভালো লেগেছ। বোতল ভূত গল্পটা এই সংকলনে কিছুটা হলেও বৈচিত্র এনেছে। তবে লেখকের এই গল্পটা আগেই পড়েছিলাম কিশোর আলোতে। শেষটুকু পড়ে তখনো মন খারাপ হয়েছিল, এবারেও হলো।
সালমান হককে মূলত অনুবাদক হিসেবে চেনা হলেও কৃষ্ণকুহক সত্যিই চমকে দিল। প্রথম গল্পটা 'রয়েছি তোমার অপেক্ষায়, নেসহাত' আমার পড়া অন্যতম সেরা বাংলা মিথলজিক্যাল ফিকশন। বাকি গল্পগুলোও চমৎকার। বোতলভূতের সমাপ্তিটা বুকে শূন্যতার জন্ম দেয়। কঙ্কাবতী গল্পটায় রূপকথার বিপরীত দিকে হাঁটার প্রচেষ্টাটাও ভালো লেগেছে। এরকম গল্প আরো হোক।
অধীর অপেক্ষায় ছিলাম এই বইয়ের। হাতে পাবার সাথে সাথে পড়া শুরু করেছিলাম। প্রত্যেকটি গল্প অসাধারন। ৫/৫ এক কথায়। আমার পড়া সেরা ফ্যান্টাসি মৌলিক গল্প সঙ্কলন এর মধ্যে থাকবে।
৭ টি গল্প দিয়ে সাজানো বই। তার মধ্যে "ইতি তোমারই অপেক্ষায় নেসহাত" এবং "কঙ্কাবতী" সবচেয়ে পছন্দের। প্রথম গল্পটা অবশ্য আমি আগেই অতীন্দ্রিয়তে পড়ে ফেলেছিলাম। তবে মাঝখানের তিনটা অনুগল্প অতোটা টানেনি আমায়। লেখায় যথেষ্ট উন্নতির জায়গা আছে।
সালমান হকের বেশকয়েকটা অনুবাদগ্রন্থ আমার পড়া হয়েছে। সেখানে তিনি মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন। কিন্তু মৌলিক গ্রন্থতে ইতোপূর্বে তাকে সেরকম সাবলীল মনে হয়নি। এই বইটা পড়ে আমার মনে হয়েছে তার লেখা ধীরে ধীরে ভালোর দিকে এগুচ্ছে। বিশেষ করে তিনি যেভাবে কল্পনার রাজ্য বুনেন তার প্রশংসা করতেই হয়। অদূর ভবিষ্যতে লেখকের কাছ থেকে চমৎকার সব লেখা আশা করতেই পারি।
ফ্যান্টাসি আমার প্রিয় জনরা আর মাতৃভাষায় ফ্যান্টাসি দেখলেই ঝাপিয়ে পরি। লেখক এতো সুন্দর করে আমাদের কিছু গল্প উপহার দিয়েছেন- এইবার-ও নিরাশ হয় নি। "বোতলভূত" পড়ে খুব মন খারাপ হয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে "রয়েছি তোমার অপেক্ষায় নেসহাত"; এটি উপন্যাস আকারে বের করার জোরালো দাবি জানাই। :')
লেখক সালমান হকের @salman_reads লেখা আমি এই প্রথম পড়লাম। আগে কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও বই কেনা কিংবা পড়া কোনোটাই হয়ে ওঠেনি স্টক আউট হয়ে যাওয়ার কারণে। কৃষ্ণকুহক বইয়ের প্রতিটা গল্প বেশ সাজানো, সুন্দর ছিমছাম। প্রতিটা গল্প পড়া শেষেই ভাবতে বাধ্য করেছে গল্পগুলো নিয়ে। লেখকের আরেকটি জিনিস যা ভালো লেগেছে তা হলো বাক্যের অপপ্রয়োগ। তিনি মনোযোগ ধরে রাখতে জানেন পাঠকের। কেননা আমি এ বইটি সম্পূর্ণ বাসে বসে বসেই পড়েছি এবং এক সেকেন্ডের জন্যেও পড়ার মাঝে আমার মনোযোগের হেরফের হয়নি।
গল্পগুলো আমাদের ছাপোষা অতিপ্রাকৃত গোছের কিছু নয় বরং সায়েন্স ফিকশনের মিশেল রয়েছে এতে৷ তোমরাও পড়ে দেখতে পারো। বইটি পাবে @afsarbrothers এ
#বই_রিভিউ বই : কৃষ্ণকুহক। লেখক : সালমান হক। রেটিং: ৪.০/৫.০০ জনরা : লঅলৌকিক/অতিপ্রাকৃত গল্পগুচ্ছ। প্রকাশনা : আফসার ব্রাদার্স পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১২৭ মলাট মূল্য : ৩০০৳
~ কল্পনা আর বাস্তবতা কি কখনো মিশ খায়? কৃষ্ণকুহকে মিলবে তার উত্তর। ভেতরের পাতাগুলোয় কখনো আকাশ ফুড়ে নেমে আসবে দেবী নেসহাত তো কখনো নাম না জানা নদীর তীরে হাজির হয় খালি এক জাহাজ। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুতে ছুটে চলে এক ক্লান্ত কুমারী, আবার ছবির মত শান্ত-ছিমছাম কোন রাজ্যের কিনারায় বাসা বাঁধে ক্ষমতাধর এক কাল ডাকিনী।
~ পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ- মৌলিক বই হিসেবে যথেষ্ট ভালো লেগেছে সালমান হকের লিখা কৃষ্ণকুহক বইটি। এই বইটিতে সর্বমোট ৭টি গল্প রয়েছে। প্রত্যেকটি গল্পই তার নিজস্ব স্থান থেকে সেরা। সালমান হকের অনুবাদ যেমন ভালো তেমনি উনার লেখা গল্পগুলোও অনেক ভালো লেগেছে। পড়তে গিয়ে বিরক্ত লাগেনি। ৭ টি গল্পের মাঝে আমার ভালো লেগেছে বেশি, ~রয়েছি তোমার অপেক্ষায় নেসহাত ~১৩নং, আতিশখানা লেন ~যাদুসমর ~কঙ্কাবতী যেহেতু এগুলো গল্প তাই বেশি ডিটেইলস দিতে গেলে স্পয়লার দিয়ে বসব।🫡 যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন তারা পড়তে পারেন আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের।
সালমান হকের তমসামঙ্গল পড়ার পরে খুব বাজে ভাবে তিক্ততা এসেছিল লেখকের উপর যার অনেক টাই প্রশমিত হয়েছে কৃষ্ণকুহক পড়ার পরে। বহুদিন যাবৎ অনেক বইই শুরু করেছি কিন্তু শেষ করার আর ফুরসৎ মেলে নি ইচ্ছাও জাগে নি। তাই বইটা শেষ করতে পেরে ফুরফুরে লাগছে ভীষণ।
লেখকের ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রকাশ হওয়া কিছু গল্প আর নতুন দুটো গল্প নিয়ে কৃষ্ণকুহক বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সবকটা গল্পই লেখকের মতে ফ্যান্টাসি ধাঁচের হলেও আমার কাছে কাল্পনিক বা সুপর্ন্যাচারাল ঘরানার মনে হয়েছে। লেখকের সাথে আগাম শত্রুতা থাকায় কঠোর মন নিয়ে পড়তে বসেছিলাম জন্যে হয়ত সাত টা গল্পের মধ্যে শুধু তিনটে মনে ধরেছে। আর সে তিনটের লিখনী ও ছিল দারুণ। কল্পনা কি বাস্তবতার সাথে মিল খায়? খায় হয়ত। বাস্তবতা থেকে দিন কয়েক ছুটি নিয়ে কল্পনায় বিচরণ বেশ সুখ্কর ঠেকেছে । কল্পনার রাজ্যে কখনও হারিয়েছি পাতালপুরির নেসহাতের আর আকাশপুরির নেরহাতের কোন্দলে, বনজঙ্গলের শেষ প্রান্তের পোড়াবাড়ির পথে বাবার পিছু নিয়েছে মানস কিন্তু মধ্যরাতে শিউরে উঠেছি আমি। ছোট্ট টুকুনের সাথে বোতলের মাঝে বন্দি হওয়ার বাসনা জেগেছিল আমারও । আবার উত্তপ্ত মরুভূমিতে কাহিল হয়ে সায়রীর সাথে মালাত দের ধূর্ততা ভেদ করে রায়েদ নগরীও যেন খুঁজেছি। রায়ানের স্বপ্নে সমুদ্র দেখে পাহাড় মাঠ পেরিয়ে সমুদ্র দেখতে যাওয়ার বাসনায় আমিও বোধ করেছি সমুদ্রস্নানের প্রয়োজনীয়তা। হারিয়েছি যাদুসমরে ভূমিস্বর আর মেঘস্বর রাজ্যের লড়াইয়ে। আবার অর্কর সাথে হয়েছি ভূতের সাথে কথা বলা মানুষ অথবা ভুত। দেখেছি শান্ত শিষ্ট রাজ্যের মাঝে ডাকিনী আর কঙ্গাবতীর লড়াই নাকি নিছক ছলনা!
ছোট খাট সুন্দর বই। লেখকের সাথে শত্রুতা না থাকলে লিখা পড়তে বেগ পেতে হবে না কিন্তু আমার দলের মানুষ হয়ে থাকলে একটু বেগ পেতেই পারেন তবে তিনটে গল্প মনে ধরবেই ধরবে। আর তা না হয় আপনি নিজে বের করে ফেললেন!
সালমানের হকের 'কৃষ্ণকুহক' শেষ করলাম। সাতটা গল্পের শ দেড়েক পৃষ্ঠারও কম কলেবরের বই। তবে বলতেই হবে কাউকে বুদ করে রাখার জন্য কলেবর যে কোন ব্যাপারই না সেটা আরেকবার প্রমাণ করলেন সুঅনুবাদক সালমান হক। তবে এই বইতে নিজের মৌলিক কল্পনার জাদু দেখিয়েছেন তিনি। বিদেশি গল্পের ছায়া অবলম্বনে গল্প ছিল ৩ টি, সেগুলোরও রুপান্তর করেছেন নিপুণভাবে। 'শেষ হইয়াও হইলো না শেষ' — ছোটগল্পের এই সংজ্ঞার যথার্থতা পাওয়া যাবে দুইটি গল্পে। পাঠককে 'কেন শেষ হয়ে গেল' আফসোসে ডুবিয়ে রাখার এক অনন্য প্রয়াস। তবে আশা করবো 'নুসহাত' ও 'কঙ্কাবতী' গল্পদুটো আরো বড় কলেবরে কখনো আনবেন তিনি।
গল্প বলার এই ধরণটা আমার খুব পছন্দের। একভাবে শুরু করে সেখানেও আবার গল্প কথকের দেখা, যে অন্য আরেকটা গল্��� বলে। কিংবা স্বপ্ন বা কল্পনায় বিভোর হয়ে জন্ম দেয় ভিন্ন কাহিনির৷ একাধিক ডাইমেনশনের এসব গল্প পাঠককে ভাবায় বৈকি।
সারসংক্ষেপ: কল্পনা আর বাস্তবতা কি কখনো মিশ খায়? কৃষ্ণকুহকে মিলবে তার উত্তর। ভেতরের পাতাগুলোয় কখনো আকাশ ফুড়ে নেমে আসে দেবী নেসহাত তো কখনো নাম না জানা নদীর তীরে হাজির হয় খালি এক জাহাজ। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুতে ছুটে চলে এক ক্লান্ত কুমারী, আবার ছবির মত শান্ত-ছিমছাম কোন রাজ্যের কিনারায় বাসা বাঁধে ক্ষমতাধর এক কাল ডাকিনী। গল্পকথকের সাথে ছুটতে ছুটতে পাঠক নিজেও জড়িয়ে যাবেন সেই কুহকের জগতে।
কৃষ্ণকুহক লেখক : সালমান হক প্রকাশনী : আফসার ব্রাদার্স প্রচ্ছদ : সব্যসাচী মিস্ত্রী প্রকাশকাল : বইমেলা ২০২৩ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১২৭ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা
কৃষ্ণকুহক যে ফ্যান্টাসি, এটা না দেখেই কেনা হয়েছিল। ফ্যান্টাসি খুব বেশি পড়া হয়নি আগে। তাই একটু চিন্তিত ছিলাম কেমন লাগবে। ধী থেকে ৪০% এর অফার দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। যাইহোক, আমি মুগ্ধ। ভদ্রলোকের অনুবাদগুলোর সাথে আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম, তিন ডাহুক এবং নিখোঁজকাব্যও পড়া হয়েছিল। কিন্তু এবারের লেখাগুলো একদম ভিন্নরকম। আগের তুলনায় অনেক ম্যাচিউর। রয়েছি তোমার অপেক্ষায়, নেসহাত এবং ১৩ আতশিখানা লেইন চাইলে উপন্যাস বানানো যেত, এমন এলিমেন্ট ছিল। পুরো সংকলনে আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্পের তালিকা করলে প্রথমে থাকবে বোতলভূত আর দ্বিতীয়তে কঙ্কাবতী।
ছোটগল্পের সংকলন সচেতনভাবে এড়িয়ে চলি। কিন্তু কৃষ্ণকুহক সেই সচেতনতার অভ্যাসে সূক্ষ্ম চিড় ধরালো। শুধু ফ্যান্টাসি গল্প নিয়ে আলাদা সংকলন আগে চোখে পড়েনি। বইটা গ্যাম্বল হিসেবেই কিনেছিলাম, লেখক সাহেব উতরে গেছেন সেই গ্যাম্বলে। সমুদ্রস্নান গল্পটা এর খুব সম্ভবত কিশোর আলোতে বেরিয়েছিল। কোন মিথলজির বইগুলো পড়েছেন লেখার আগে, সেগুলো রেফারেন্স হিসেবে বইয়ের শেষে বলে দিলে ভালো হয়। এরকম আরো গল্পের অপেক্ষায়।
আফসার ব্রাদার্সের বইগুলোয় আগে প্রচুর বানান ভুল থাকলেও এবারে সেরকম কিছু চোখে পড়লো না। তবে লেখক খুব সম্ভবত অভ্রতে লিখে বই জমা দিয়েছেন, সেটাকে কনভার্ট করা হয়েছে। যার কারণে উ কার গুলো বেশ সরে গিয়েছে। জানি এটা বলার মতন বিষয় না, কিন্তু যাদের ওসিডি আছে, তাদের হয়তো চোখে পড়বে। এবারে বেশ কয়েকটা সংকলন কিনলাম আফসার ব্রাদার্স থেকে। শুরুটা ভালোই হলো, বাকিগুলো দেখা যাক।
দ্বিতীয় এডিশনে মনে হয় দাম বাড়ানো হয়েছে। মেলায় ভেতরের পৃষ্ঠাগুলো বাদামী ধাঁচের দেখেছিলাম। আমারটার পৃষ্ঠা সাদা। দ্বিতীয় এডিশন প্রকাশের সময় এগুলো বলে দিলে ভালো হতো। তবে এসব আক্ষেপ গল্পগুলো পড়ার পর আর থাকেনি। সালমান হকের কল্পনার তারিফ করতে হয়। অনুবাদের পাশাপাশি এই ধারাতেই তিনি একসময় সেরা হবেন, আমরাও ভালো ভালো সব গল্প পাবো।
বোরিং সময় পার করার জন্য যদি বইকে সাথী করতে চান, তবে এই বইটা চমৎকার সঙ্গ দিবে আপনাকে। আপনার বিরক্তিকর সময়টা কীভবে পেরিয়ে যাবে টেরও পাবেন না। গল্প সঙ্কলনের সাতটা গল্পই সুন্দর। তবে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয় ‘রয়েছি তোমার অপেক্ষায় নেসহাত’ গল্পটার কথা। দুর্দান্ত। যারা ফ্যান্টাসি ঘরানার গল্প পছন্দ করেন অথচ ঢাউস আকারের বই পড়তে অনাগ্রহী তাদের জন্য বইটা আদর্শ।
বাংলাদেশে ফ্যান্টাসি জগতের অনন্য সংযোজন এই বইটি। সংকলনের কিছু গল্প আগে পড়া ছিল। আমার প্রিয় গল্পগুলোর মধ্যে "রয়েছি তোমার অপেক্ষায়, নেসহাত", "কঙ্কাবতি", "বোতল ভূত" অন্যতম। লেখক সালমান হক ভাইয়ের কাছ থেকে এ ধাঁচের আরও গল্পের আশা থাকবে।