Jump to ratings and reviews
Rate this book

বোরিংপুর বাইফোকালস

Rate this book
Memoirs & Memories

192 pages, Hardcover

First published January 31, 2023

Loading...
Loading...

About the author

Kousik Samanta

9 books20 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
41 (54%)
4 stars
27 (36%)
3 stars
7 (9%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 30 of 37 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,783 reviews529 followers
June 20, 2023
সুলিখিত, সুপাঠ্য, সুস্বাদু - এরকম অনেকগুলো বিশেষণ এ বইটার সাথে লাগানো যায়।এত্তো আনন্দ পেয়েছি পড়ে! লেখক কৌশিক সামন্ত'র রসবোধ প্রখর; শব্দ নিয়ে খেলাও করেছেন প্রচুর।
সব মিলিয়ে, মন ভালো করার জন্য "বোরিংপুর বাইফোকালস" আদর্শ একটা বই। যে কেউ নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 45 books1,921 followers
February 12, 2023
নিজের সম্পাদনা করা বইয়ের রিভিউ করা যায় না। তবে একটাই কথা বলতে পারি: এই বইটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারা একটি মস্ত বড়ো সম্মান ও শ্লাঘার বিষয় ছিল।
কর্মসূত্রে ঘর ছেড়ে বাইরে থেকেছেন কোনোদিন?
পুরোনো প্রেমকে ভুলে নতুন করে সব শুরুর স্বপ্ন দেখেছেন?
শহর আর গ্রামের জীবনের মধ্যে হিসেব মেলাতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছেন কখনও?
অদ্ভুত নানা মানুষের সান্নিধ্যে এসে কখনও ভেবেছেন, এদের নিয়ে কেউ কিছু লেখে না কেন?
তাহলে এই ছোট্ট, সুমুদ্রিত, সু-অলংকৃত বইটি আপনারই জন্য।
এটিকে উপেক্ষা করবেন না, প্লিজ।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,146 reviews1,175 followers
June 18, 2023
কৌশিক সামন্ত আমার কাছে এক নতুন আবিস্কারের মতোই। এর আগে তার কোন বই ই পড়ার সুযোগ হয়নি। এমন একজন লেখকের স্মৃতিচারণ মুলক লেখা হাতে নেওয়া বেশ সাহসের বটে। তবুও কি মনে করে হাতে নিলাম জানি না। কিন্তু তারপর মনে হলো নিমেষেই লেখকের সাথে হারিয়ে গেলাম বোরিংপুরের অলিতে গলিতে। বোরিংপুরের গোটা জার্নি টা এতো জম্পেশ আর মজার হবে তা ঘুনাক্ষরেও আচ করতে পারি নি । পারলে আরো আগেই এ জার্নির সঙ্গী হতাম।
Profile Image for Yeasin Reza.
535 reviews96 followers
September 13, 2023
স্মৃতিকথামূলক বইটি পড়ে বেশ আনন্দ পেয়েছি। বিশেষ করে কৌশিক সামন্তের রসবোধ আর শব্দ নিয়ে খেলা খুব উপভোগ্য। পড়তে পড়তে শেষ কবে হলো সেই খেয়াল ছিলোনা। লেখকের মতো আমিও বোরিংপুর আর সেখানকার মানুষদের সাথে মায়ায় জড়িয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কবি বলেছিলেন জড়াতে হলে রাবার গাছে আঠায় জড়াও তবু মায়ায় জড়াবেনা, এ বড় বিষম ফাঁদ! তাই মায়ার শেকড় সৃৃষ্টির আগেই বই খতম, তবু কোথাও যেন মায়া রয়ে যায়..
Profile Image for Akash.
457 reviews167 followers
September 16, 2023
বোরিংপুরের মজার জার্নি বইটা না পড়লে মিস করে যেতাম। লেখকের রসবোধ, সরলতা, নির্ভীক চিত্তে সব অকপটে বলে যাওয়া আর এত্ত সুন্দর লেখনি; এতটা আনন্দ নিয়ে পড়েছি; যে আনন্দ সব বই দিতে পারে না, পারবেও না।

স্থান-কাল-মানুষ সবকিছু একসময় স্মৃতি হয়ে যায়। আর স্মৃতিকে অসাধারণ মুন্সিয়ানায় লেখায় রূপ দিয়ে কৌশিক সামন্ত পাঠকের মন জয় করেছে। অচেনা নতুন লেখকের বই হাতে নেওয়া অনেক সাহসের ব্যাপার। তারপর যখন বইটা মন জয় করে তখন লেখকের অন্যসব সৃষ্টি পড়তে ইচ্ছে হয়।

বোরিংপুরের অদ্ভুত সাধারণ মানুষগুলোর গল্প অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা, নিজের গোপন সবকিছু অকপটে বলে যাওয়া, কর্মসূত্রের বিড়ম্বনা, পুরোনো প্রেমের বিরহ, নতুন আর পুরাতন জীবনের সংকট আর ব্যাংক জীবনের গল্প, সবমিলিয়ে সুখপাঠ্য বই।

ওপার বাংলার বই বেশি পড়া হয় না। এজন্য নিজের মধ্যে অপরাধবোধ হয়। ওপার বাংলার বইও পড়তে হবে সমানতালে। এখন থেকে দুই বাংলার বই সমানে সমান পড়া হবে।

বইয়ের শেষ লাইনটা এই বইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য —
"দেয়ার ইজ নো রিয়েল এন্ডিং। ইট'স জাস্ট দ্য প্লেস ইউ স্টপ দা স্টোরি।"

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
Profile Image for Anubhab Bhattacharyya.
1 review1 follower
February 16, 2023
পাঠ প্রতিক্রিয়া

বোরিংপুর বাইফোকালস
লেখক - কৌশিক সামন্ত
অরণ্যমন প্রকাশনী
মূল্য - ₹২৫০
পৃষ্ঠা - ১৯২, হার্ডবাউন্ড কভার

কৌশিক সামন্তর লেখনীর তীক্ষ্ণতার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় 'জাজমেন্ট ডে' গল্পটির অডিও রূপান্তরের সময় থেকে। তবে ভৌতিক-অলৌকিক থিমের বই যেহেতু আমায় আর আগের মতো টানে না, অস্বীকার করতে দ্বিধা নেই, লেখকের এর আগের চারটে বইয়ের তিনটেই আমার অধরা। বইমেলার মাসখানেক আগে থেকে লেখকের ওয়ালে এবং বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে এই বইটির কিছু টিজার চোখে পড়বার পর থেকেই মনস্থির করে ফেলেছিলাম, আর কিছু কিনি না কিনি, এই বইটা কিনতেই হচ্ছে। যদিও বিজ্ঞাপনের গিমিকে এর আগে যে বই পড়ে ঠকিনি তেমনটা মোটেই নয়, তবে এই বইয়ের প্রচারের একটা বিশেষত্ব ছিল। সাধারণত বইয়ের বিজ্ঞাপন করা হয় চটকদার ও ক্রিসপ এন্ড ব্রিফ। আর 'বোরিংপুর'-এর প্রমোশনে লেখক বইয়ের বেশ কিছু অংশ ও স্কেচেস তুলে যেন রীতিমত পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন, 'দ্যাখ, আমার বই কতটা সাদামাটা। হুঁহুঁ বাওয়া, কিচ্ছু নেই কিন্তু সব আছে।' এই ধাঁচটাই শুরু থেকে ইউনিক হয়ে দাঁড়ায়, যার জেরে বইমেলার ঝাঁপি থেকে সর্বপ্রথম এই বইটা গোগ্রাসে গিলে শেষ করি। এখানে বলে রাখি, আমি 'রিডার্স ব্লকে' জর্জরিত বেশ কিছু মাস। বেশ কিছু মারাত্মক 'সুপাঠ্য' বই পড়বার পর থেকে একটা অদ্ভুত অনীহা তৈরি হয় একটানা পড়বার ক্ষেত্রে। যারা এই অনুভূতির মুখোমুখি হয়েছেন, তারা জানবেন কী বলবার চেষ্টা করছি। এবার ভেবে নিন, 'বোরিংপুর' কতটা 'বোরিং' হলে এমন অবস্থাতেও এক নিঃশ্বাসে শেষ করতে বাধ্য করে!

গল্পের ব্যাকস্টোরি খুবই সহজ, আই.টির চাকরি ছেড়ে দিয়ে লেখক সরকারী ব্যাঙ্কের পরীক্ষায় মনোনিবেশ করেন ও উত্তীর্ণ হন। সাধারণত এই চাকরির প্রথম পোস্টিং একটু প্রত্যন্তদিকেই পড়ে, এবং লেখকের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয় নি। শহুরে ছেলের ধ্যারধ্যারে গোবিন্দপুরে অস্থায়ী ঠিকানা খুঁজে নেওয়া, নতুন চাকরির অভিজ্ঞতা ; মোদ্দা কথা, নতুন বৃত্তের মাঝে জীবনের এক অন্য অধ্যায় শুরু করবার কাহিনী এটা, যেখানে উঁকি মেরেছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে হর্ষ-বিষাদ, একাকীত্ব, বন্ধুত্বের গল্প, ঈষৎ প্রেমের আঁচ, যৌবনের চটুল কীর্তি, বোরিংপুরের ইতিহাস, ভৌতিক অভিজ্ঞতা ও আরো নানান পাঁচমেশালী ঘটনা। বই যদিও বলছে, 'গল্পগুলো একশো শতাংশ সত্যি, এ দাবী লেখক করেন না। তবে কল্পনা আর বাস্তবের মাঝে যে সূক্ষ্ম ব্যবধানটুকু রয়েছে, ৯৯ থেকে ১০০'র পথে, ঠিক সেই জায়গাটায় লেখক আপনাদের হাতে ছেড়ে দেবেন...' তবে এ কথা বিশ্বাস করতে সত্যিই মন চায় না, বিশেষ করে পড়তে পড়তে যখন নিজেকেই কৌশিক মনে হতে শুরু হয়। যাই হোক, বেশি দেরি না করে 'বোরিংপুর বাইফোকালস'-এর পজিটিভ দিকগুলো চটপট বলে ফেলি :

■ বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে চূড়ান্ত নস্টালজিয়ায় ভুগেছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক ঋজু গাঙ্গুলী। আমার ক্ষেত্রে অবশ্য অনুভূতি কিছুটা আলাদা (যেহেতু সবে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করছি)। বইটার অনাড়ম্বর, ফ্রি-ফ্লোয়িং অথচ প্রচন্ড রিলেটেবল গল্পকথনের স্টাইল ও রোজনামচার ছলে বলে চলা প্রায় ষোলোটা অধ্যায় রীতিমত ভাবতে বাধ্য করেছে, এটা হয়তো আমারই গল্প। সে কোনো এক জন্মেরও হতে পারে, ভবিষ্যতেরও হতে পারে, আবার কোনো সমান্তরাল বিশ্বেও হতে পারে! কোত্থাও এক বিন্দুও কাহিনীগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলবার জন্য অতিরিক্ত মেকি প্রচেষ্টার বাড়বাড়ন্ত নেই। কথা নিয়ে জাগলারি এবং বেশ কিছু pun দারুণ লেগেছে।

■ যেমন আগের পয়েন্টে বললাম, এই বইতে ষোলোটা আলাদা অধ্যায় আছে, প্রত্যেকটায় রয়েছে একটা বা দু'টো করে নানান স্বাদের ঘটনা। অধ্যায়গুলোর নামকরণ বুদ্ধিদীপ্ত ও গল্পের থিমের সঙ্গে বেশ মানানসই, এবং গল্প বলার এই প্যাটার্নটা একদম অনন্য ও নিখুঁত।

■ কয়েকটা ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু গানের অবতারণা খুব সুচারু। মধ্যে মধ্যে হাজিরা দিয়ে গেছে ক্যাকটাসের সাইকেডেলিয়া, এলিয়েন্স, গানস এন্ড রোজেস, মিনার, মহীনের ঘোড়াগুলি, ক্রসউইন্ডস, রবীন্দ্রসঙ্গীত ইত্যাদি। যারা 90s কিংবা early 2000s kid, তাদের জন্যে গল্পকথনে এই ধরণের গানের ওজন বেশ উপভোগ্য হবে তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে বলতে চাই 'পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে', 'দিনের শেষে ঘুমের দেশে' ও 'জলের ধারে' এই তিনটে গানের ব্যবহার বইটা বন্ধ করে, কিছুক্ষণ গল্পে বর্ণিত পরিস্থিতিটা চোখ বুজে ভাবতে বাধ্য করে।

■ প্রত্যেকটা অধ্যায় শুরু হওয়ার আগে রয়েছে ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যর চমৎকার স্কেচ স্টাইলের অলঙ্করণ যা একটা আলাদা মাত্রা যোগ করে গল্পের মেজাজে। ফেলে আসা দিনের গল্পের সঙ্গে স্কেচের সামঞ্জস্য কতটা তা আশা করি নতুন করে বলে দিতে হয় না। প্রচ্ছদটিও বেশ সুঠাম।

■ বইটির মুদ্রণ ও বাঁধাই প্রশংসনীয়, প্রুফও বেশ যত্ন নিয়ে দেখা হয়েছে। দু'একটা অতি সামান্য বানান ভুল ছাড়া আর কিছু চোখে পড়লো না।

নেগেটিভ দিক :

বইটির কোনো নেগেটিভ দিক নেই সত্যি বলতে। তবে আমার দু-একটি খামতি থাকলেও থাকতে পারে বলে মনে হয়েছে।

■ বেশ কিছু পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির মুখের অভিব্যক্তি বোঝাতে কিংবা ঘটনার সাদৃশ্য বোঝাতে বেশ কিছু সিনেমার বিশেষ কিছু দৃশ্যের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। যারা সেই উক্ত সিনেমাগুলি দেখেন নি, তাদের পক্ষে রেফারেন্স বোঝা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। আমার এই রেফারেন্সগুলো সারা বইজুড়ে অহেতুক বেশি বলে মনে হয়েছে।

■ স্পয়লার দিতে চাই না বলে যতটা অল্পের ওপর বলা যায় বলছি, শেষটা যেন একটু বেশি তাড়াতাড়ি ও আকস্মিক। শেষদিকে বোরিংপুরের প্রতি লেখকের মনোভাব কীভাবে আবার বদলে যাচ্ছে, তা আরেকটু ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ডেভেলপ করানোটা বড্ড দাবী করছিল।

মোটের উপর বলা যায়, নিঃসন্দেহে 'বোরিংপুর বাইফোকালস'-এর মত প্রায় নিখুঁত বই আমি সত্যিই খুব কম পড়েছি যেখানে জীবনের সমস্ত উপাদান মজুত, অথচ ওভারকুকিং নেই। আমায় সবচেয়ে ভাবিয়েছে গল্পের শিরোনামে 'বাইফোকালস' শব্দটির ব্যবহার। প্রচ্ছদ বলছে, এ শুধুমাত্র লেখকমনে শহুরে ও গ্রামীণ জীবনের দোলাচলমাত্র। আমার মতে, যেমন বার্ধক্যে প্রত্যেক মানুষের সম্বল বাইফোকালস চশমা, তেমনই লেখকের আগামী জীবনের পুঁজি হয়ে দাঁড়ায় বোরিংপুরের রসদ ও 'সার্ভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট' -এর প্রথম অভিজ্ঞতা। সব ক্ষেত্রে বোরিংপুর সুখকর না হলেও, সে যে চিরসবুজ তাতে সন্দেহ নেই!
Profile Image for Saugata Sengupta.
20 reviews5 followers
June 16, 2023
অনেকদিন পর গুডরিডস এ রিভিউ করতে এলাম। শুরু করছি বোরিংপুর বাইফোকালস বইটা দিয়ে। কৌশিক সামন্ত পেশায় ব্যাংক কর্মী। তার আগে তিনি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। একদিন দূর ছাই বলে সেসব ছেড়ে ব্যাংকের পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়ে গেলেন। প্লিজ বিখ্যাত কারোর সঙ্গে মিল খুঁজবেন না। ইনি ব্যাংকের চাকরিতেই মনযোগ দিয়েছেন, বিসিএসে বসেননি।

তা সেই চাকরির প্রথম যুগে সম্ভবত এই শতকের দ্বিতীয় দশকের শুরুর দিকে তিনি নদিয়ার বোরিংপুর গঞ্জে পোস্টেড ছিলেন। যারা জানেন না তাদের বলে দিই এই বোরিংপুর হল করিমপুর। কিছুটা আইন বাঁচাতেই হয়ত নামের এই পরিবর্তন। বলা যায়না কে কখন মামলা করে দেয়!

যা হোক ষোল পর্বে ভাগ করা এই দিনলিপি শুরু হয়েছে লেখকের বোরিংপুর আগমন থেকে। আদ্যন্ত শহুরে যুবককে যদি বাড়ি থেকে একটা দুশ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে থাকতে হয় তাহলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ফলে লেখা গুলো একেবারেই সৎ স্বীকারোক্তি সে নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বর্ণনার খাতিরে তাতে একটু জল থাকলেই বা ক্ষতি কি? পড়তে তো খারাপ লাগছে না।

যাঁরা ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তারা তো জানবেনই যারা যুক্ত নন তারাও ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার শিকার বহুবার হয়েছেন। আমার নিজের কুড়ি বছরের পুরনো একাউন্ট যা কিনা লেখক যে ব্যাংকে আছেন তাদের শাখায় ছিল, বন্ধ করে দিলাম কর্মীদের অসহযোগিতার জন্য। আমার না হয় বিকল্প ব্যাংক আছে কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে ব্যাংক নেই, সবেধন নীলমণি একটাই ব্যাংক। সেখানে? তবে সব ক্ষেত্রে কি আর কর্মীদের দোষ থাকে, উর্ধতন কর্তাদের ফরমানে গালি খেতে হয় নিচের কর্মীদের, তার নিজের দোষ না থাকা সত্ত্বেও।

প্রতিটা পর্বই খুবই মজাদার, তাও মাঝে মাঝে বিষাদ বারবার ফিরে আসে। জলঙ্গির অন্ধকার কিংবা ডাকাতিয়া চরের মাঝি, মনে পরিয়ে দেয় সিরাজের রানীরঘাট কে। সহযাত্রী মহিলার সঙ্গে হালকা প্রেম ভালবাসা নিবেদনের আগেই চৌচির হয়ে পাঠকের চোখেও জল এনে দেয়। তবে এর মধ্যে সেরা হল যেখানে অন্যান্য লেখক সম্পাদক প্রকাশক ঋজু গাঙ্গুলি, মনীশ মুখোপাধ্যায়, তমোঘ্ন নস্কর আর চিরঞ্জিত দাস সবাই গেছেন বোরিংপুরে আর সে রাতে ভুতুড়ে বাড়িতে পিকনিকের তাল কীভাবে কাটল জানতে হলে পড়তেই হ��ে বাইফোকালস।

বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন দ্য কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল। তাই প্রচ্ছদ নিয়ে কিছু বলার নেই। অলঙ্করণ করেছেন ওনকারনাথ ভট্টাচার্য। ওঁর আঁকা নিয়ে যাই বলি কম পড়ে যায়। আমি পাঠককে বলব 168 পৃষ্ঠার অলঙ্করণ দেখুন আর চিনুন কোনজন কে? আমাদের মেসেজ করে জানাবেন কিন্তু। লেখার শেষ লেখকের বোরিংপুর থেকে বদলি হয়ে যাওয়া দিয়ে। আশা রাখব মেলানকলির রাতে প্রফেসর সোম কে আবার ব্লু চেয়ারে বসিয়ে সময় সুযোগ পেলে সেই নতুনপুরের গল্প শুনতে চাই, চাই এলাহাবাদ থেকে ইন্ডিয়ান হয়ে যাওয়ার গল্পও।

বইটা সম্পাদনা করেছেন ঋজু গাঙ্গুলী। তিনি নিজেও কর্মসূত্রে প্রবাসী তবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার ফলে বোরিংপুরের মত অয়রানপুরীতে থাকার প্রয়োজন হয় না। বইয়ের ভূমিকাও তাঁর লেখা। বইটার দাম 250 টাকা, হার্ড বাউন্ড। মোট পৃষ্ঠার সংখ্যা 192, ওপরে জ্যাকেট সমেত গ্লসি কভার, ফন্ট ঠিকঠাক সাইজের, বানানভুলও নেই। জুন মাসের শুরুতে অরণ্যমন যে 30% ছাড় দিচ্ছিল তখনই বইটা কেনা।

সবশেষে বলি পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা থেকে অথবা দুলেন্দ্র ভৌমিক কিশোর রচনা সংগ্রহ থেকে হুলো ডাকাতের আখড়া গল্পটা একবার পড়ে নেবেন। দেখবেন নইয়ার চকের বিজনের সঙ্গে বোরিংপুরের কৌশিকের কী আশ্চর্য মিল।
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
224 reviews46 followers
October 3, 2023
বোরিংপুর তো মোটেও বোরিং নয় হে!
Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
226 reviews34 followers
July 23, 2023
বেশ কিছুদিন ধরে বই পড়তে পারছি না, একটা অদ্ভুত অনীহা এসেছে বইয়ের প্রতি । শেষ কবে যে একটা বই শেষ করেই তার পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখতে বসেছিলাম ভুলেই গেছি । এই বইটি সবেমাত্র পড়া শেষ করেছি, আর এখনই লিখতে বসেছি বইটি নিয়ে । এই বইটি নিয়ে আমার অনুভূতি এখনই লিখে ফেলতে হবে । কারণ শেষ কবে একটা বই পড়ে এত 'পরিপূর্ণ' অনুভূতি হয়েছে তা আমার ঠিক মনে নেই ।


📝 ব্লার্ব : 'বোরিংপুর' - সীমান্ত ঘেঁষা, শূন্য ডাঙার চরে জেগে থাকা এক বিচ্ছিন্নপুর । কর্পোরেট কংক্রীট ছেড়ে, গগনচুম্বী বারান্দার অভিজাত কফির স্বাদ ভুলে, লাল চা আর সবুজ ক্ষেতের মাঝে আটকে থাকা সদ্য চাকুরি জয়েন করা উদ্ভ্রান্ত ব্যাংকার যুবকের প্রথম অস্থায়ী ঠিকানা । বিএসএফের টহলদারি আর ইউনিয়নের নজরদারি এড়িয়ে মায়াসাইকেল ছুটে চলে । কত বিচিত্র সব চরিত্র, কত বিচিত্র সব নাম, কত বিচিত্র তাদের গল্প । গল্পগুলোর সঙ্গে সঙ্গে বোরিংপুরের চেহারাটাও পালটে পালটে যায় । গল্পগুলো কখনও রক্ত মাংসের, কখনও বা দৈর্ঘ প্রস্থ আর উচ্চতার ত্রিমাত্রিক বাধা পেরিয়ে অনন্তে টহলদারি করে ! গল্পগুলো প্রশ্ন তুলে দেয়, বোরিংপুর ঠিক কতটা বোরিং ? বোরিংপুর কী আদৌ বোরিং ?

📝 পাঠ প্রতিক্রিয়া : লেখক 'কৌশিক সামন্ত'-কে চেনেন তো ? হ্যাঁ, উনিই সেই 'প্রফেসর সোম'-এর সৃষ্টিকর্তা । অন্ধকার বা অতিপ্রাকৃত ভয়ের জগতে লেখক যে বেশ স্বচ্ছন্দেই বিচরণ করেন, তার প্রমাণ আমরা আগেই পেয়েছি । কিন্তু এইবার তিনি চেষ্টা করেছেন তার 'কমফোর্ট জোন' থেকে বেরিয়ে এসে পাঠকদের জন্য একটু অন্যরকম লেখা উপহার দিতে । এই প্রসঙ্গে লেখকের নিজের কথায় - "শিরদাঁড়া দিয়ে হিমস্রোতের পরিবর্তে, তপ্ত বুকের মাঝে কিঞ্চিৎ 'রু -আফজা' ট্রাই করলাম প্রথমবার !"
চাকরি জীবনের একদম প্রথম দিকে লেখকের পোস্টিং হয়েছিল সীমান্ত ঘেঁষা এক প্রত্যন্ত এলাকায় । লেখকের সেই 'বোরিংপুর' জীবনের কিছু স্মৃতি, কিছু ঘটনা জুড়েই এই ''বোরিংপুর বাইফোকালস্'' বইটি ।

▫️এই লেখকের গল্প বলার একটি নিজস্ব ধরণ আছে । পড়তে পড়তে মনে হয় লেখক যেন আপনার সামনে বসে আপনাকে গল্প শোনাচ্ছেন, একদম বৈঠকি ভঙ্গিতে । গল্পের বিষয়বস্তু বদ���েছে, কিন্তু গল্প বলার ধরণ সেই একই আছে । বৈঠকের আসরে আমরা বিভিন্ন ধরণের গল্প শুনি, কোনোটা হাস্যরসের, তো কোনোটা গা-ছমছমে, আবার কোনো কোনো গল্পের শেষে অজানা কারণে আমাদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে । বইটির মুখবন্ধ লিখতে গিয়ে প্রখ্যাত সাহিত্যিক 'ঋজু গাঙ্গুলি' বলেছেন - 'আবেগের বেনিআসহকলা'। সত্যিই এর থেকে ভালোভাবে বইটিকে বর্ণণা করা যায় না, খুব স্বল্প পরিসরেও সবরকম অনুভূতি ছুঁয়ে গেছে এই ছোট্ট বইটি ।

▫️বইটি আদ্যোপান্ত 'অনাড়ম্বর', সাদামাটা । সমস্ত উপাদান মজুত, কিন্তু কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই । বইটি ষোলোটি অধ্যায়ে বিভক্ত । প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আছে অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত 'নামকরণ' এবং তার সাথে একটি বা দুটি করে নানান স্বাদের ঘটনা । গল্প বলা এবং নামকরণের এই কায়দা বেশ অভিনব । লেখকের রসবোধ প্রবল, শব্দ নিয়ে খেলা করেছেন গোটা বই জুড়ে । এর সাথে যোগ হয়েছে পপ-কালচার রেফারেন্স, কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু গান বা সিনেমার অবতারণা বইটিকে অনেক বেশি উপভোগ্য করে তুলেছে ।


▫️এত সুন্দর ঝরঝরে গদ্য, সাথে এমন কাব্যময় লেখনী... যে পড়তে পড়তে আমিও যেন পৌঁছে গেছিলাম বোরিংপুরের অলি-গলিতে । বোরিংপুরের গোটা জার্নিটা এতো মজার এবং এতো জমজমাট হবে, এটা আমি সত্যিই ভাবিনি । সবমিলিয়ে বলতে পারি - এইরকম 'সুপাঠ্য', 'সুমুদ্রিত', 'সু-অলংকৃত' বই আমি খুব কমই পড়েছি ।
Profile Image for প্রান্ত দস্তিদার.
Author 18 books330 followers
July 3, 2024
প্রথমে বইটার রিভিউ দেখেছিলাম ইউটিউবে। প্রচ্ছদ দেখেই মনে হলো এই বস্তু চেখে দেখা প্রয়োজন। রিভিউও ভালো ছিল, তাই আগ্রহ বাড়ল। সমস্যা ছিল সংগ্রহ করা, যথেষ্ট বেগ পেতে হলো তাতে। সংগ্রহ করার পর প্রাথমিক ভাবে কিঞ্চিৎ হতাশও হলাম বইয়ের ছাপা দেখে। এমন চকচকে প্রচ্ছদ আর ঝকঝকে এন্ড পেপার -এর বইতে অক্ষরগুলো কাগজে ঠিক জাঁকিয়ে বসতে পারেনি। সুতরাং, তার জন্য এক পয়েন্ট শুরুতেই কেটে নিলাম।

আর দ্বিতীয় তারা খসল ঘটনায় বারংবার মদ্যপান সংক্রান্ত প্রসঙ্গ উত্থাপনের জন্য। কারণ-সুধার পিপাসু নই বিধায় এই দ্রব্যে কারো অতি প্রেম আমার বড় অহেতুক লাগে। এক্ষেত্রে পাঠকের সঙ্গে লেখকের দূরত্ব হয়ে গিয়েছে। ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও কিছুই করার নেই।

এবারে আসা যাক গল্পে। আসলেই কি গল্প? না জীবন ঘটনা। লেখক বইয়ের মলাট-চিরকুটে লিখেছেন ৯৯ ভাগ সত্যতার কথা। ফলে ধরেই নিচ্ছি নামগুলো ছাড়া আর বিশেষ কিছুই বদল হয়নি। হয়তো দুই একটি আবেগ উপমার বাতাস পেয়ে খানিক বেশি উড়েছে আকাশে, আর সেটুকুই ৯৯ থেকে ১০০ র মধ্যকার সেই ১ শতাংশ পার্থক্য।

লেখকের চাকরির কারণে চলে আসা প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যেখানে অচেনা-মানুষ, নিরীহ-আক্রোশ, সাপ-খোপ, মিথ্যে গুজব, প্রেম, মদ, যৌন কর্মের আখড়া ওঁৎ পেতে আছে। তার থেকে কতটুকু নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যায় আর কতটুকুর সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়া যায় তাই দেখা যায় এই গল্পে। টুকিটাকি বেশ কিছু ঘটনা খণ্ডাকারে চলে এসেছে এক একটি অধ্যায়ে। তার কিছু কিছুর প্রগতিও আছে এক অধ্যায় থেকে আরেক অধ্যায়ে। পুরো বই পড়ে লেখক মানুষটির সম্পর্কে কিঞ্চিৎ ধারণা সংগ্রহ করা যায়।

গল্পের লেখনী মোটের উপর ভালো। প্রচুর উপমা ও দৃষ্টান্তের প্রয়োগ করে লেখক এগিয়েছেন বিবরণ। মাঝে মধ্যে ইংরেজি শব্দের প্রয়োগ আর উর্দু/হিন্দি কবিতার পংতি ব্যাপারটাকে বিরক্তিকর না করে বরং লেখকের স্টাইল হিসাবেই বেশি আশ্বস্ত করেছে। যদিও অনেক অনেক রেফারেন্স আছে যেগুলোর উৎস আগে থেকে জানা না থাকলে পাঠক হয়তো সেইসব রসিকতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সংযুক্ত হতে পারবে না। যেমন ধরুন, আপনি যদি "রক্কে করো রঘুবীর" পড়ে দিতীপ্রিয়ার ভোকাল টোন আর এক্সপ্রেশন স্মৃতিতে চাক্ষুস করতে ব্যর্থ হন তবে ওই উক্তির মজা অনেকটাই কমে যাবে। লেখক প্রচুর পড়েন এবং সিনেমার পোকা, ফলে এমন উক্তি, দৃষ্টান্ত, উপমাও প্রচুর এসেছে বইতে।

এছাড়া? গল্পে ধারাবাহিকতা আছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা গোটা পরিক্রমা আছে। ফলে টুকরো টুকরো দৃশ্যপট হলেও আস্ত ছবি একটা পাওয়া যায়। আর পুরো বইটা পড়ার পর প্রচ্ছদের চশমার কাঁচে থাকা ছবি দুটোর মানেও বোঝা যায়। গোটাটা মিলে আয়োজন মন্দ নয়। অন্তত শুরুর দুটো অভিযোগ বাদ দিলে আমি বেশ উপভোগ করেছি। এক্ষেত্রে স্বাদু গদ্য নিশ্চয়ই একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। আজকাল শব্দ নিয়ে ঠিকঠাক খেলতে পারা সাহিত্যিকের সংখ্যা কমে গেছে, ফলে এসব বই বড় আরাম দেয়।

অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী কোনও "চঞ্চলপুর বাইফোকালস"-এর। লেখকের চাকরি যেহেতু গতিশীল, এমন আশা তো করা যেতেই পারে! নাকি?
Profile Image for Sayantan Shaw.
14 reviews1 follower
October 1, 2023
যাঁরা শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত পড়েছেন, তাঁরা এটা নিশ্চয় মানবেন যে 'truth can be stranger then fiction', আসলে যেকোনো গল্পই জীবন থেকে উঠে আসে, প্রত্যেকটি কাহিনীর নেপথ্যে থাকে কোনো না কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা বা বিশ্বাসের অনুপ্রেরণা। কিন্তু যখন বাস্তব জীবনটাই একটা কাহিনীময় উপন্যাস হয়ে উঠে তখন সেই জীবনের গাথা হয় অন্য স্বাদের।
'আরণ্যক', 'শ্রীকান্ত' যে গোত্রের লেখা এটিরও স্বাদ অনেকটা সেরকমই। প্রতিটি অধ্যায় লেখকের একটি ব্যাংকের গ্রামীণ শাখায় চাকুরী জীবনের ছোটবড় নানা অভিজ্ঞতায় পুষ্ট। বেশ আধুনিক রসবোধে পুষ্ট স্মার্ট, ঝকঝকে লেখনী এবং গল্প বলার অনবদ্য শৈলীতে কাহিনী পাতার পর পাতায় তরতরিয়ে এগিয়ে যায়। 
বোরিংপুর বাইফোক্যালস কোথাও গিয়ে প্রতিটি পাঠকের জীবনের ব্যক্তিগত আখ্যান হয়ে ওঠে। নিত্যনৈমিত্তিক ছোটবড় ভাবনা চিন্তা আর অভিব্যক্তি এর রঙে রেঙে ওঠা একটা ক্যানভাস যার আনাচে কানাচে পাঠকরা নিজেরই প্রতিকৃতি দেখতে পায়।

ভালোবাসা কিংবা দুঃখ, আনন্দ কিংবা বিরহ, ভয় কিংবা পিছুটান;  সবরকম emotions এর রোলার কোস্টারের রাইড, যা শেষ হয়েও যেনো শেষ না হওয়া কোনো ছোটো গল্পের রেশ রেখে যায়, ঠিক সূর্যাস্তের মতো...
Profile Image for Shreejit Sarkar.
55 reviews4 followers
May 26, 2025
অত্যন্ত স্মার্ট এবং ঝরঝরে, নির্মেদ লেখনী। দৃশ্যকল্প নির্মাণ চমৎকার। One Time Read হিসাবে বেশ ভালো।
Profile Image for Anindita Nath.
Author 17 books3 followers
February 16, 2023
মাস্ট রিড বুক, নস্টালজিয়ায় ভেসে যাবেন এই সফরে।
Profile Image for Saibal Bose.
39 reviews11 followers
March 26, 2024
Extra one or rather half star for relatability. Being a fellow banker incidents narrated, snippets from a daily banker's life especially one far from home that too in a rural setting seems to resonate with my own experiences. Chapters cover all facets of a banker's tenure as well as explores all emotions a person goes through during a certain phase of life. Smooth and clever writing and thoroughly enjoyable.
Profile Image for Dipanjan Das.
Author 14 books5 followers
April 24, 2023
বই: বোরিংপুর বাইফোকালস
লেখক: কৌশিক সামন্ত
প্রকাশক: অরণ্যমন প্রকাশনী
মূল্য: ২৫০/-
আলোচক: দীপাঞ্জন দাস

বোরিংপুর, নাম শুনে অদ্ভুত লাগতেই পারে, আমারো লেগেছিল। সীমান্ত ঘেঁষা এক গ্রাম, ভালো বলা যায় নাকি খারাপ তা লেখকের বাইফোকাল লেন্স দিয়ে দেখা যাক। ‘বোরিং কিছু কথা’ নিয়ে শুরু হয়েছে বইটি। লিখেছেন সম্পাদক ঋজু গাঙ্গুলী। ভূমিকা লিখতে গিয়ে সম্পাদক লেখার সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছেন, যা বোরিং কথাকে করে তুলেছে অমৃতসমান।
সর্বমোট ১৬টি অধ্যায় নিয়ে এই বইটি লেখা হয়েছে। লেখক তাঁর কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে যোগ দেন ব্যাঙ্কের চাকরিতে। অসংখ্য আশা, ফেলে আসা নিরাশা, অনেকটা নতুন প্রেমের মতো। যত দিন এগিয়ে যায় বোঝা যায় বাস্তব ও স্বপ্নের পার্থক্য। প্রথম পোস্টিং বোরিংপুর। শুরুতেই ব্রাঞ্চ নিয়ে কনফিউশন, ‘গলা কাটা’ যাওয়ার জোগাড়। তারপরে শুরু হয় ‘জীবন সংগ্রাম’। জীবন মানে জি বাংলাও নয়, করণ জোহারের সিনেমাও নয়। তাই, বাস্তবের মাটিতে ল্যাণ্ডিং-এ লেখকের আত্মা খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। সেই অভিজ্ঞতার কথা যে এত সহজ গদ্যে লেখা যায় তা আমার কল্পনাতীত ছিল। কিন্তু, শুধুই কি সমস্যা? বোরিংপুরে লেখক পেয়েছেন বহু বন্ধুর সন্ধান, পেয়েছেন বিচিত্র কিছু চরিত্রের সন্ধান, যা তাঁর দিনলিপিতে এনে ফেলেছে এক চিলতে রোদের ছোঁয়া। সে রোদ কেবল লেখকের ওই সময়েই সঞ্চারিত হয়নি, তাঁর লেখাতে ফুটে উঠেছে বারেবারে। লেখার ধাপে ধাপে বিভিন্ন গানের কোটেশন, বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্যের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে যা লেখনীর মাধুর্য বৃদ্ধি করেছে বলেই আমার মনে হয়েছে।
বইয়ের বাইন্ডিং, পেজ অত্যন্ত ভালো। মুদ্রণ প্রমাদ প্রায় নেই বললেই চলে। ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের অসাধারণ অলঙ্করণ ছাড়া এই বইটি সম্পূর্ণ হতে পারতো না। তবে গল্প বলার সময় লেখকের অনুভূতির যে পরিবর্তন চোখে পড়েছে তা একটু ধীর লয়ে হলে ভালো হতো বলে আমার মনে হয়েছে। এই বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড আসবে বলেই আশা করছি। লেখকের দেওয়া ফ্র্যাংক হারবার্ট-এর বক্তব্য দিয়েই এই অসাধারণ বইয়ের রিভিউ শেষ করছি—
“There is no real ending. It’s just the place you step the Story”
তাই, পড়ুন, পড়ান। ‘বোরিংপুর বাইফোকালস’ যে আদপে একেবারেই বোরিং নয় সেকথা হলফ করে বলতে পারি।
50 reviews1 follower
March 14, 2023
দুর্দান্ত বই ❤️❤️❤️
Profile Image for Rohit Sarkar.
44 reviews
June 2, 2026
📕 বই~ বোরিংপুর বাইফোকালস্
✒️ লেখক~ কৌশিক সামন্ত
🖼️ প্রচ্ছদ~ কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
🎨অলংকরণ~ ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য
🖨️ প্রকাশনা~ অরণ্যমন প্রকাশনী
💷 মুদ্রিত মূল্য~ ৩০০/-
📋 পৃষ্ঠা~ ১৯২


📝 পাঠ প্রতিক্রিয়া
ওই গেল ,গেল মনটা খারাপ হয়ে। হ্যাঁ, কারণটা লেখক কৌশিক সামন্ত। এই মানুষটি হরর, রোমাঞ্চ জঁরে যত বেশি ভয়াল লিখতে পারে, নস্টালজিয়া মিশিয়ে ততটাই কাঁদাতে পারে অন্য উপন্যাসে। জানিনা কেন জানি এই মানুষটা যতই আমুদে হোক, প্রবল মেলানকোলিকও বটে! না হলে আপনারাই ভেবে দেখুন কিভাবে এসব লিখতে পারে? এবার বিস্তারিত আলোচনায় আসি।

✨ বিষয় প্রসঙ্গ
উপন্যাসের গল্প পুরোপুরি এগোয় কথকের হাত ধরে। এখানে লেখক স্বয়ং কথক, অর্থাৎ সামন্তমশাই নিজে। অনেকটা ডায়েরী লেখার মত লেখক এখানে তার বোরিংপুরে চাকরির অভিজ্ঞতাকে ফুটিয়েছেন। লেখক এর বাড়ি থেকে বোরিংপুরে যাওয়া, এবং সেখানে ঘটে চলে নানা ঘটনাকে তিনি এক একটি অধ্যায় হিসেবে ভাগ করেছেন। প্রতিটা অধ্যায়ের মধ্যে হাসি ঠাট্টা, মস্তি, নস্টালজিয়া মাখামাখি থাকলেও প্রত্যেকটা অধ্যায় শেষেই যেন মনটা বিষাদে ভরে যায়।

🌻 ব্যক্তিগত ভালোলাগা/ গল্পের প্লট বর্ণনা

১.লেখকের ভেতরের কবি মন 🍃 :- এক অধ্যায়ে লেখক জন ডেনভারের , 'Country roads, take me home' ব্যক্ত করেছেন, কিংবা মহীনের ঘোড়াগুলির 'ভেবে দেখেছ কি?' গান। যেগুলি লেখকের কবি মন কে বারবার ইঙ্গিত করে।
২.কৌতুক 🎭:- এক জায়গায় লেখক গল্পকথকের গল্পকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন,"এরকম মাঝপথে ক্লিফহ্যাঙ্গার করে ঝুলিয়ে দিলেন কেন? তুমি মানুষ, ওয়েব সিরিজ নও", "পিতিবি হারিয়ে যেত মরু সাহারায়" , দেবুদার দুঃখ কাহিনী প্রসঙ্গে "রামানন্দ সাগর আর একতা কাপুর" , "অমুক ব্যাংকের কামুক ম্যানেজার বুগি ড্যান্স দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে" , "ড��মের মালকিন চিকেন" এই Phrase গুলি যেন সিরিয়াস সময়ও কৌতুকের উদ্রেক করে, উপন্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩.অসাধারণ মানুষের সাহচর্য 🏔️:- বোরিংপুরে হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনির কথা ব্যক্ত করতে গিয়েও লেখক এখানে হাসিখুশি দেবুদা কিংবা তার শাম্ব জ্যাঠার মত দিলদরিয়া লোক, যিনি "মানুষ শুধু দুবার খায়" এগুলি যেন মরুভূমির তপ্ত বালুকণার মাঝে মরুদ্যানের সৃষ্টি করে লেখকের মনে।
৪.পুরানো সেই দিনের কথা 😌 :- আইটি জীবন ছেড়ে লেখক বোরিংপুরে এসেছেন, অর্থাৎ আধুনিকীকরণ থেকে সভ্যতার আদি পর্বের দিকে যাত্রা করেছেন লেখক। সে ক্ষেত্রে যোগ্য সঙ্গত দেয় তার সেই মাঝি ভাই। নৌকার পাটাতনে শুয়ে যিনি হিন্দি সিনেমার চটুল গানের বাইরে বেরিয়ে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের 'দিনের শেষে ঘুমের দেশে' শুনছিলেন, এ যেন শিকড়ের টান।
৫.মনের অন্ধকার হাতরে হাহাকার👤 :- আগেই বলেছিলাম এই লোকটার মধ্যে অনেক খারাপ লাগা, দুঃখ মিশে আছে, সেইগুলো প্রকাশ করার জন্যই এরকম এক একটি উপন্যাস। এখানেও লেখক নিঃসঙ্গ জীবনকে একদিকে যেমন উপভোগ করেছেন, সেরকমই তার নিঃসঙ্গতার উপর উদাসীন হয়ে থাকার জন্য বিধাতাকে বারবার দুষেছেন। তিনি কি শুধুমাত্র নিঃসঙ্গতা পাবেন জন্যই তার আইটির বিলাসব্যসন কে ছেড়েছিলেন? কিন্তু উত্তর দেয় কোন অভাগা?
৬.দমবুড়ো 👴🏻 :- আমরা জানতে পারি দমবুড়োর কথা। যিনি বহু সময় ধরে নিজের দম ধরে রেখে পুকুরের জলে ডুবে থাকতেন, কথক ভাবতেন বুঝি এই গেল গেল , কিন্তু সত্যিই মুহূর্তে সকলকে অবাক করে দিয়ে তিনি আবার জল থেকে উঠে আসতেন। অবাক হলেন লেখক যেদিন দমবুড়ো আর স্বেচ্ছায় উঠলেন না জল থেকে। দমবুড়ো,শীর্ণকায়, মানুষ বলে ভুল হতো, তারই মৃত্যুর পরে মুখে একটা প্রশান্তির হাসি লেগে থাকে। এই অদ্ভুত রহস্যের কিনারা লেখক করতে পারেননি।
৭.নাগরদোলা চাপার অভিজ্ঞতা 🎡 :- লেখক নাগরদোলা চাপার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। সেই সময় সঙ্গী হরেনের নাগরদোলা চাপা প্রসঙ্গে তার ভেতরের চাপা ভীতিকে অভিনব কায়দায় উপস্থাপন করেছেন লেখক।
৮.মায়ের মমত্ব 🤱🏻:- একান্তে লেখকের ক্যাকটাসের গান শোনার সময় তৎস্থানে উপস্থিত হন বছর ৩৫ এর এক মহিলা এবং তার তিন বছর বয়সী সন্তান। ফেরিওয়ালার থেকে বইটা নেবার পরে মা এবং তার বাচ্চার মধ্যে চলা খুনসুঁটি মায়ের মমত্বকে প্রাধান্য দেয়।
৯.ধর্মের উর্ধ্বে পরিচয় ঘটুক 'মানুষ' নামে 🫂:- সত্যি বলতে লেখক এখানে কালিকাপুরের এক হোটেলওয়ালা পরাশর দার কাহিনী শুনিয়েছেন। যার হাতের মোহময় তরকা-রুটি গোগ্রাসে খাওয়া কিংবা তরকা প্রাপ্তি না ঘটে খালি পেটে বাড়ি চলে যাওয়া এগুলোকে জীবনের এক অদ্ভুত প্রাপ্তি হিসেবে লেখক যুক্ত করেছেন উপন্যাসে। এবং শেষে মুসলিম ধর্মাবলম্বী পরাশর দার পরিচয় পেয়ে লেখক তার উপলব্ধিকে চরমে নিয়ে গেছেন।
১০.'বন্ধু' চল :- যারা কৌশিক দাকে চিনি, সবাই মোটামুটি কৌশিকদা কে জানি একজন হাসিখুশি,কৌতুকপ্রিয় মানুষ হিসেবে। তার পোস্টগুলোতে উঠে আসে আরো কিছু সম্মানীয় লেখক , তারই বন্ধু তমোঘ্ন নস্কর দাদা, মনীষ মুখোপাধ্যায় স্যার, প্রকাশক চিরঞ্জিৎ দাদা, শ্রদ্ধেয় ঋজু গাঙ্গুলী স্যার। সেরকমই এই প্রত্যেকেই Original Character হয়ে উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছেন, এ যেন এক একটি Cameo Appearance।

✨ সবশেষে এটাই বলব, এটা কোন কাল্পনিক উপন্যাস নয়, কৌশিকদার নিজের জীবনেরই একটা Potray । উপন্যাস তো মায়া ভরা বটেই, তবে প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে শ্রী ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য স্যারের আঁকা হেডপিসগুলি উপন্যাসের কাহিনীকে যেন যোগ্যত সঙ্গ দেয় 😌❤️।

🍃পাঠ মেলানকোলিক হল 🥺

✍🏻লেখায়~ রহিত
Profile Image for Dipankar Bhadra.
735 reviews66 followers
May 2, 2024
🍁 ২০২৩-র বইমেলায় যখন বইটি বের হয় তখন আমার জীবনের কোমাটোজ অবস্থা চলছে, ফলে বইটি সংগ্রহ করতে ও পড়তে বেশ কিছুটা সময় লেগে গেল। কিন্তু কথায় আছে বেটার লেট দ্যান নেভার। তাই বৈশাখের তপ্ত দুপুরে তপন দাসকে স্মরণ করে যখন নিজ মনে বলছি,

"তপন তাপে দহন দাহে
মম হৃদয় খানি
বৃক্ষ ছায়ে ক্লান্ত দেহ
চাহে শীতল পানি। "

তা বলতে পারেন ওই শীতল পানির খোঁজেই ব‌ইয়ের তাকে চোখ বোলাচ্ছিলুম, তখনই ...

"কে গো তুমি দাঁড়িয়ে আছো
মম আখির প'রে
বাঁচাও মোরে নীরদ সখা
লহ মনন ডোরে।"

বুইলেন না তো? আরে বাবা, কোনটা পড়ব কোনটা পড়ব খুঁজতে খুঁজতে বোরিংপুর বাইফোকালস্ -এ চোখ আটকে গেল। ব্যস আর কী! বাক্স প্যাঁটরা গুছিয়ে আমিও লেখকের সঙ্গে বের হলাম বোরিংপুরের উদ্দেশ্যে। ব‌ইটি যারা এখন‌ও পড়েননি তাদের জন্যে ছোট্ট করে বলে রাখি, জীবনে থ্রিলের খোঁজে এবং কর্পোরেট কংক্রিটের গেরো থেকে বেরোতে লেখক বেছে নিয়েছিলেন আধা সরকারি ট্যাগটিকে। সেই সূত্রেই তার প্রথম অস্থায়ী ঠিকানা হয়ে ওঠে বোরিংপুর। সীমান্ত ঘেঁষা এই বিচ্ছিন্নপুরের অচেনা অজানা ধারার সঙ্গে মেনে ও মানিয়ে নেওয়ার কাহিনী‌ই শোনায় বোরিংপুর বাইফোকালস্। আমার কেমন লাগলো তা এবার দু-এক কথায় জানাই...

~ পুরো ওয়েব সিরিজের ফর্মে ব‌ইটিকে সাজানো হয়েছে। পড়তে গিয়ে মনে হবে ১৬ টি এপিসোডের একটা ওয়েব সিরিজ দেখছি। প্রতিটি এপিসোডের থুরি অধ্যায়ের নামগুলো‌ও খুব ইন্টারেস্টিং।

~ এই ব‌ইয়ের সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট হল এর সিম্পলিসিটি। বড়োসড়ো কোনো নাটকীয় মুহূর্ত‌ বা টুইস্ট এতে নেই এবং তার প্রয়োজন অনুভব‌ও হয়নি। কেননা গল্প বলার মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত সারল্য। এবং কে না জানে, জীবন সমুদ্রের তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনা যখন সহজ সরলভাবে পরিবেশিত হয় তখন চটকদার কোনোকিছুর‌ আর দরকার পড়ে না।

~ তমালদা, হরেন, ভূদেবদা, দেবুদা এরকম বেশ কিছু চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তবে আছে কি নেই তা আমি জানি না..তবে এটুকু বুঝেছি লেখক তাদের যত্ন সহকারে তৈরি করেছেন। ফলে কোথাও গিয়ে চরিত্রগুলোকে ও তাদের কর্মকান্ডকে কৃত্রিম মনে হয় না।

~ গোটা ব‌ইতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু সিনেমা, গান ও কবিতার রেফারেন্স‌ এসেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু রেফারেন্স একদম বুলস আই আবার কিছু মনে হবে 'এর বদলে অন্য কিছু হলে হয়তো আরো ভালো হত।' তবে জোর করে ইনপুট করা হয়েছে বা সিচুয়েশনের সাথে ঠিক যাচ্ছে না এরকম মনে হ‌ওয়ার‌ও কোনো জায়গা নেই। তাই এখানেও আমার তরফ থেকে ফুল মার্কস।

~ প্রচ্ছদ বেশ ভালো। তবে প্রচ্ছদ ভাবনাটা যার মাথা থেকে এসেছে তাকে 👍

~ অলংকরণ গুলো দুর্দান্ত। ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যকে আমার তরফ থেকে ❤️

~ আমার কাছে ব‌ইটির থার্ড এডিশন রয়েছে। তৃতীয় মুদ্রণের পরেও অল্পবিস্তর টাইপো চোখে পড়ল। এটি ব‌ইটির রসাস্বাদনে ব্যাঘাত না ঘটালেও চোখে লাগে।

~ মূল‌ গল্পে ঢোকার আগে যে ভূমিকাটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের ওয়েলকাম জানায় তা যদি নিজেই গল্পের রূপ নেয় তাহলে গল্প পড়বার মজা দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। ব‌ইটির সম্পাদক ঋজু গাঙ্গুলী এটা করে দেখিয়েছেন.. তারজন্য স্যালুট।

~ শেষে, মণিমেখলা মাইতির "রোজনামচা" ব‌ই থেকে কয়েকটি কথা ধার করে বলি, অন্য কার‌ও জীবনের বেলা অবেলাগুলো যখন আরেকজনকে স্পর্শ করতে পারে, শুধুমাত্র ছাপার অক্ষর দ্বারাই যখন একজন পাঠক লেখকের নাড়ির স্পন্দনের টের পেতে পারে তখন সেই গল্প, সেই ব‌ই সার্থক বলে আমি মনে করি। লেখক কৌশিক সামন্ত সেটা পেরেছেন। ন‌ইলে তার সুখ দুঃখের এই উপলদ্ধি গুলো আমার আপনার এত কাছের বলে মনে হত না। নমস্কার।
Profile Image for   Shrabani Paul.
397 reviews27 followers
July 10, 2023
🎀বইয়ের নাম - বোরিংপুর বাইফোকালস্🎀
✍🏻লেখক - কৌশিক সামন্ত
🖨️প্রকাশক -‌ অরণ্যমন
📙প্রচ্ছদ - কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৯২
💰মূল্য - ২৫০₹

🍁এই বই অনেক দিন আগেই পড়েছিলাম, রিভিউ আর লেখা হয়ে ওঠেনি.. লেখকের লেখা এই প্রথম পড়ছি। ‘বোরিংপুর বাইফোকালস্’ নামটাই বেশ অন্যরকম। খুব জানতে ইচ্ছে হয়েছিলো এই বই এর গল্পটা, তাই নেওয়া। এই বইটিতে মোট ১৬ টি অধ্যায় আছে আর অধ্যায়গুলোর নামও বেশ interesting !
এক একটি অধ্যায় এক একটি ঘটনা নিয়ে,নাম গুলোর সাথে বিষয়বস্তুর দারুন সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। প্রত্যেকটা অধ্যায় শুরু হওয়ার আগে রয়েছে ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যর চমৎকার স্কেচ স্টাইলের অলঙ্করণ যা একটা আলাদা মাত্রা যোগ করে গল্পের মেজাজে। এই বই এর প্রচ্ছদ টিও ভীষন সুন্দর।
ব্যাংকে চাকরি করার সুবাদে লেখকের প্রথম পোস্টিং হয় বাড়ি থেকে অনেক দূরে একটি গ্রামের ব্যাংকে। সেই গ্রামে বেশ কিছু বছরের নানান অভিজ্ঞতার কথাই এই বইয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন লেখক। সেখানকার মানুষজন সেখানকার পরিবেশ সবকিছুই লেখক খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। বোরিংপুরে লেখকের গোটা জার্নি টাই বেশ উপভোগ্য করেছি পড়তে পড়তে.....
এই বই টি অবশ্যই সবাইকে পড়তে বলবো। আমার তো দারুন লেগেছে পড়তে , লেখকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য।

📍সেদিন কোথায় যেন একটা পড়লাম, “কবিরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত নারীকে পান না। পেলে বাজারের ফর্দ লিখতেন, কবিতা নয়!”কথাটা বেশ মনে ধরল। সত্যিই তো।


#বোরিংপুর_বাইফোকালস্
#লেখক #কৌশিক_সামন্ত
#প্রকাশক #অরণ্যমন



♡~🍁~~📖~♡~📖~~🍁~♡
🍂🍁📚📖📚🍁🍂

🙋👩‍🦰 Follow My Instgram Page👇
https://instagram.com/bookreader_shra...
Profile Image for Souptik Paul.
13 reviews2 followers
April 13, 2024
📖: বোরিংপুর বাইফোকালস
✒️: কৌশিক সামন্ত
🖨: অরণ্যমন প্রকাশনী
🔖: ₹275 (নভেম্বর '23 সংস্করণ, আমি এই বছর কলকাতা বইমেলা থেকে সংগ্রহ করেছি)

🌻সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম কৌশিক সামন্তের লেখা খুব জনপ্রিয় বই 'বোরিংপুর বাইফোকালস'। এটি 2024 সালে আমার পড়া চতুর্থ বই। আমার বইটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। খুব সুন্দর, ছোট্ট একটি বই। বইটির লেখক পরিচিতি থেকে জানতে পেরেছি লেখক 'যোগ্যতায় ইঞ্জিনিয়ার এবং পেশায় ব্যাঙ্কার'। ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে ব্যাঙ্কের চাকরি জোগাড় করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বোরিংপুর নামক এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে ষোলোটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত এক সুন্দর রম্যরচনা। পরিচ্ছেদের নামগুলি বেশ মজাদার এবং প্রতিটা পরিচ্ছেদের শুরুতে একটা করে সুন্দর ইলাস্ট্রেশন রয়েছে বিশেষ করে 'পাচকবধ পালা' আমার সারা জীবন মনে থাকবে। যাঁরা একেবারে নতুন বই পড়া শুরু করছেন বা সবে বেশ কঠিন একটা সাহিত্য শেষ করে সহজ কিছু পড়তে চাইছেন বা নিছক একটা রিল্যাক্সিং এক্সপিরিয়েন্স পেতে চাইছেন, আনন্দ উপভোগ করতে চাইছেন, তাঁরা অবশ্যই বইটা পড়ুন। নিরাশ হবেন না এটুকু বলতে পারি। বইটা একবার শুরু করলে শেষ না করে থাকতে পারবেন না এবং নিমেষে শেষও হয়ে যাবে। বেশ আধুনিক একটা বই - গান থেকে ওয়েব সিরিজ, এই বইতে সব আছে ।

🌻আপনার বইটি কেমন লেগেছে? লেখকের আর কোন বই আপনি পড়েছেন? আমাকে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ🙏🏻।
Profile Image for Subhrodip Dey.
23 reviews4 followers
March 1, 2024
📗বই: বোরিংপুর বাইফোকালস
✒️লেখক: কৌশিক সামন্ত
🍁অরণ্যমন প্রকাশনী
🏷️মুদ্রিত মূল্য: ২৭৫/-
📃পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৯২

কিছু কিছু বই আছে যেগুলোর পাঠ প্রতিক্রিয়া সেই অর্থে দেওয়া সম্ভব নয়। যার শুধু একটা অনুভূতি থাকে। এই বইও সেরকম। বইটা না পড়লে সেই অনুভূতি পাওয়া অসম্ভব। মূলত লেখকের বাস্তব জীবনের কিছু অভিজ্ঞতার ঘটনা উঠে এসেছে বইতে। আর সেইসব অভিজ্ঞতার কথা পড়তে পড়তে আমরাও হারিয়ে গেছি বোরিংপুরের বিভিন্ন আঁকেবাঁকে। গল্পগুলোর মাঝে আনন্দ, দুঃখ, মজা, উদাসীনতা জীবনের প্রত্যেকটা অনুভূতি খুঁজে পেয়েছি। সহজ সরল উপমা, গানের লাইন, ছবির ডায়লগ এবং চমৎকার ভাষা বইটাকে বোরিংপুরের আখ্যানকে 'বোরিং' হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। প্রত্যেকটা অধ্যায়ের শুরুতে থাকা ছোট ছোট অলঙ্করণগুলোও বইয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। মোদ্দা কথা হল এ বই একটা ফিল গুড বই। বেশি কথা বললে হয়তো এর মজাটাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই যারা শত চাপের মধ্যেও একটু আনন্দ খুঁজছেন তারা অবশ্যই এই বইটা একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।
Profile Image for Snehasis Das.
57 reviews1 follower
June 15, 2024
এ যেন পঞ্চায়েত ওয়েব সিরিসের গল্প; শহুরে জীবন পেছনে রেখে লেখক এসেছেন না ফুলেরাতে নয় বোরিংপুরে একজন ব্যাংকার হিসাবে আর তার অভিজ্ঞতার স্মৃতি রোমন্থন করেছেন মোট ষোলটি ভাগে।

এই গল্পে একাধারে রয়েছে নিশুতি রাতে সাইকেলে চড়ার এক ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা তেমনি অন্যদিকে রান্নার মাসিকে ভাগানোর "কীচকবধ" এর হাস্যরস। রয়েছে দমবুড়োর নিজের সন্তানের জলঙ্গী নদীতে সলিলসমাধির অশ্রূচিত্র তার সাথে রয়েছে বোরিংপুরের অজানা গলিতে নদীর ধারে বসার নিঃসঙ্গতা।

লেখকের বাইফোকালসে পরপর দেখতে পেলাম শীতকালে নাগরদোলায় মেলা, মজাদার পিকনিক, বনফায়ার এবং পরিশেষে একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প।

একটি মন ভালো করে দেওয়া আর অনাবিল মজার ন্যারেশনের এই গল্প দেওয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।
Profile Image for Debasrita Bhattacharjee.
3 reviews3 followers
September 17, 2024
If you have loved the series Panchayat, you'll like this book too.. It revolves around an engineer who takes up the job of a banker in a rural town and thereby begins all the adventure. The writing is fresh and there are references from various novels, pieces of music and even from certain tv series. It's about the journey of discovering oneself in a new place. There is happiness, sadness, sorrow, laughter, heartbreak, all of it portrayed in a crisp manner. It's a small book and won't take much of your time.
Profile Image for Asif Khan Ullash.
150 reviews10 followers
September 8, 2023
এক তরুণ ব্যাংকারের প্রথম পোস্টীং এর জীবন! ছোট ছোট ঘটনা নিজের মত করে বৈঠকী চালে পাঠকের পাতে উপস্থাপন করেছেন কৌশিক সামন্ত। লেখাও একদম রুচি ঝাল চানাচুরের মত মুচমুচে, সুস্বাদু। এক বসায় পড়ে ফেলার মত সাবলীল, উইটি ছোট্ট একটা বই।

লেখকের সেন্স অফ হিউমার, পপ কালচার রেফারেন্সের গুণে পড়ার স্বাদ বেড়ে যায় অনেকটাই। পড়ার সময় টি ভি এফ এর “পঞ্চায়েত” এর কথা মনে পড়ে যায়। গল্পের সেটাপ তেমনই কিন্তু বোরিংপুর বাইফোকালস এর স্বাদটা একটু বেশিই মধুর মনে হয়, কে জানে হয়তো মাতৃভাষায় লেখা বলেই।
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
258 reviews12 followers
December 26, 2024
এক কথায় ফ্যান্টাসটিক।
রিডার্স ব্লকে আছি প্রায় ৩ মাস।অনেক দিন পরে একটা বই পড়ে দারুন লাগলো এবং শেষ করতে পারলাম।নিজেও ব্যাংকার দেখে এক জন ব্যাংকারের রম্য কাহিনির সাথে সহজে কানেক্ট করতে পেরেছি।নন ব্যাংকারদের ভয়ের কিছু নাই,এই বই আপনার অবশ্যই দুর্দান্ত লাগবে।
আপনার যদি মন খারাপ থাকে বা রিডার্স ব্লকে থাকেন,তাইলে অবশ্যই এই বই নিয়ে বসে যান।আপনার মুখে অবশ্যই হাসি ফুটবে।
কৌশিকদাকে ধন্যবাদ এমন দারুন বই উপহার দেয়ার জন্য।
Profile Image for SOUROV DUTTA.
69 reviews2 followers
June 14, 2024
আমিও সরকারি কর্মচারী। আমারও প্রথম পোস্টিং না গ্রাম না শহর এরকম একটা জায়গায়। যদিও ওনার মতো প্রত্যন্ত কোণে নয়। এই লেখাগুলো পড়ে আবার সেই সময়ে ফিরে গেলাম। লেখাগুলো অধিকাংশই সুখপাঠ্য। কিছু কিছু ঘটনাতো চমকে দেওয়ার মতো। ছোট ছোট লেখাগুলো পড়তে ভালোই লাগলো।
Displaying 1 - 30 of 37 reviews