প্রাচীন মিশরের পৌরণিক কাহিনির জটিল বাতাবরণে পুরো উপন্যাস। রিবিকা, সায়গন, লোটা এবং হেরা এই উপন্যাসের প্রভাব বিস্তারকারী চরিত্র।
রিবিকা নামের সেবাদাসীটির গোত্রের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। পালিয়ে এসেছে মেয়েটি৷ তাকে উদ্ধার করে ভাড়াটে যোদ্ধা সায়গন। এরপরেই কাহিনি প্যাঁচালো হতে থাকে। মরুভূমির গোত্রে গোত্রে বিবাদ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। কখনো আধিপত্য নিয়ে। কখনো স্রেফ নারী কিংবা খাদ্য নিয়ে। লোটা চরিত্রটি অন্যের শব বহন করে। সাত চড়ে রা করে না। অথচ রিবিকাকে ভালোবেসে, সেই হত্যা করে রাজা হিতিনকে। লোটা নিজেও হারিয়ে যায়।
ভাষার পার্থক্য, গোত্রের আধিপত্য, ক্ষুধা, প্রেম আর দারিদ্র্যতাকে উপজীব্য করে প্রাচীন মিশরের পৌরণিক বিভিন্ন ঘটনাই 'মরুস্বর্গ'।
লেখক লেখেন পাঠকের জন্য। কিন্তু লেখা পড়ে পাঠক বুঝতে না পারলে ব্যর্থ হন লেখক। 'মরুস্বর্গ' উপন্যাসটির কাহিনি এতবেশি জটিল এবং পরম্পরাহীন যে পড়তে গিয়ে ন্যূনতম আনন্দ পাইনি। বুঝিনি ঘটনার অদল-বদল। হতে পারে 'ফুল বউ'এর লেখক আবুল বাশারের 'মরুস্বর্গ' আমার মতো পাঠকের জন্য নয়। উচ্চমার্গের লোকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন বইটি। আসলেই উপন্যাসটি উচ্চমাপের পাঠকদের জন্য রচিত। কারণ 'দেশ' পত্রিকায় আবুল বাশারের সাক্ষাৎকারে জানলাম, বইটি এমএ ক্লাসে পাঠ্য।
"ফুলবউ বাদ দিয়ে অন্য একটা উপন্যাসের নাম বলুন, যেটা না পড়লে আবুল বাশার পড়া বৃথা। আবুল বাশারঃ মরুস্বর্গ।" পুরাণ মিশ্রিত উপন্যাসটির প্রতিটি চরিত্র যেন প্রাচীন নগর সভ্যতার বিলুপ্ত ইতিহাস,ধর্মের দ্বন্দ্বের সাক্ষী।ব্যতিক্রম শক্তিশালী লেখনী।