আমাদের চারপাশে পার্থিব-অপার্থিব অনেক কিছুই ঘটে। এসব ঘটনার অনেক কিছু বুঝি, আবার অনেক কিছুই বুঝিনা। যা আমাদের নিকট বোধগম্য নয় সেগুলোকে আমরা বিচিত্র বা অলৌকিক ঘটনা বলে ব্যাখ্যা করি। আসলেই কি তাই? এসব বিচিত্র বা অলৌকিক ঘটনার ভিতরে কোন আসল সত্য লুকিয়ে নেইতো?
ওসমান গনি বিশিষ্ট বেহালা বাদক ও শিল্পপতি। আজকের এই অবস্থান তিনি অনেক সংগ্রাম করে অর্জন করেছেন। তিনি যখন বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স মাত্র একুশ স্ত্রীর বয়স পনের। তখন তাঁর দুর্দিন চলছে। হাতে টাকা-পয়সা নেই। পরের বাড়িতে আশ্রিত। নানান দুঃখ কষ্টে দিন যাচ্ছে। এমন সময় কনসিভ করেন তাঁর স্ত্রী। নতুন শিশুকে পৃথিবীতে আনা বোকামি হবে বিধায় তারা শিশুটিকে নষ্ট করে ফেলেন। একসময় অর্থকষ্ট দূর হলেও সন্তানের অভাব তাঁদের রয়েই যায়। তাঁর স্ত্রীর সন্তানধারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় বিধায় তারা সে-অভাব পুরনে একটি বাচ্চা ছেলে দত্তক নেয়। আশ্চর্যের ব্যাপার হল তখন তার স্ত্রী আবারও কনসিভ করল এবং একটি ফুটফুটে মেয়ে জন্ম নিল। দুটি বাচ্চা একসাথে বড় হচ্ছে। কিন্তু ওসমান সাহেবের স্ত্রীর স্নেহ সব মেয়ের প্রতি। ছেলেটিকে একদম সহ্যই করতে পারেননা। এজন্যে কারনে-অকারনে শাস্তি দিতেন। বাথরুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতেন। তেমনই একরাতে তিনি শাস্তি দিয়েছেন। বাইরে খুব বৃষ্টি।
হঠাৎ বাসার পেছনের গাছটা ভেঙে পড়ল বাড়ির ওপর। বিরাট বিশৃঙ্খলায় সকলে ছেলেটির কথা ভুলে গেল। পরদিন সকালে তাঁর কথা মনে পরতেই বাথরুমের দরজা খুলে দেখা গেল সে বাথটবে চুপচাপ বসে আছে বড় বড় চোখে তাকিয়ে। ছেলেটি মারা যায় হার্টফেল করে। এর ঠিক নয় বছর পর মারা যায় ওসমান সাহেবের স্ত্রী। বাথরুমে স্নানরত অবস্থায়। কয়েক বছর বাদে ওসমান সাহেবেরও মৃত্যু হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যকর বিষয় হল, তিনজনেরই মৃত্যু হয় বাথটবে, ভয় পেয়ে। আর এই রহস্যময় ঘটনা থেকে শুরু হয় “মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য” –এর গল্প।
ওসমান গনি সাহেবের মৃত্যু সৃষ্টি করে এক কঠিন ধ্রুম্রজালের। তাঁর মৃত্যুর তদন্তে বেরিয়ে আসে মিসির আলির নাম। কারণ, ওসমান সাহেবের লাশের পাশে পাওয়া যায় একটি সই-ঠিকানা সম্বলিত চিরকুট। যাতে লেখা “আপনার মৃত্যু হবে পানিতে ডুবে। খুব সাবধান! খুব সাবধান! তবে কি মিসির আলি খুনের সাথে জড়িত? নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হত্যাকাণ্ড তদন্তের ভার নেন মিসির আলি। মিসির আলি চরম বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে খুঁজে বের করেন আসল রহস্য। আস্তে আস্তে বের হতে থাকে থলের বিড়াল। ওসমান গনি সাহেবের মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর সাথে জড়িয়ে আছে অনেক গুলো নাম। হোম মিনিস্টার থেকে শুরু করে ওসমান গনি সাহেবের কন্যা, কেয়ারটেকার আবদুল মজিদ,অম্বিকাচরণ বাবু পর্যন্ত। কে আসলে জড়িত আছে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে? জানতে হলে পড়ুন “মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য”। মিসির আলি সিরিজের শ্রেষ্ঠ একটি পর্ব এই-উপন্যাসটি।
আপনি বলবেন, এতে আর আশ্চর্যের কি? ওনার সব রহস্যই তো প্রায় অমীমাংসিত। ব্যাপারটা আইরনিক, কারণ এই একটি গল্পে আলি সাহেব প্রায় গোয়েন্দা-সুলভ তৎপরতায় রহস্য সলভ করেছেন। কাদা ঘেটেছেন। পুলিশ, পলিটিশিয়ান, ডাক্তার সবার কাছে মুখ-ঝামটা খেয়েছেন। হিমুর মতন, এক বিত্তবান বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিব্যি আয়েশ করেছেন।
ভালোই করেছেন। গল্পটিতে, গা-ছমছমে উপাদান কিঞ্চিৎ কম, প্যারাসাইকোলজির অভাবে ষড়রিপুর আবেশ। রহস্য-কাহিনী হিসেবে দিব্যি উপভোগ্য। সাথে সুন্দর লেখনী, সহজ সংলাপ। চিরাচরিত হুমায়ূন আহমেদ। এ জিনিস, চাইলেও হতাশ করে না।
প্যারা সাইকোলজির বাইরে গিয়ে মিসির আলির শার্লক হয়ে ওঠার গল্প। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরাদস্তুর রহস্য উপন্যাস লিখেছেন হুমায়ুন আহমেদ। অনেকটা বলাই যেতে পারে লকড রুম মিস্ট্রির অন্তর্ভূক্ত এমন উপন্যাস হুমায়ুন আহমেদ স্যার আর লেখেন নি।
তবে অবশ্যই এটা মিসির আলি সিরিজের অন্যতম প্রিয় বই হিসাবে থাকবে সব সময় আমার কাছে।
এখন পর্যন্ত আমার পড়া মিসির আলি সিরিজের সেরা বই এটা। সত্যি বলতে এমন খুনের তদন্তের গল্প মিসির আলির কাছে আশা করিনি। জমজমাট গোয়েন্দা কাহিনী। শুরুটা বোরিং, ঢিলেঢালা মনে হলেও শেষটা টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।উপভোগ করেছি।
থ্রিলার-ডিটেকটিভ মিসির আলি। শুধু মুগ্ধ হয়েছি। পুরোটা জুড়ে টান টান উত্তেজনা। রহস্য যদিও মীমাংসা হয়েছে, তবুও ছোট একটা রহস্য লেখক রেখে দিয়েছেন। সব রহস্যের মীমাংসার প্রয়োজন নেই। কিছু রহস্য থেকে যাক। নিষাদের পর সবচেয়ে ভালো লাগা মিসির আলি। হুমায়ূন আহমেদ এমন কিছু আর লিখেছে কিনা জানি না।
মিসির আলি সিরিজের নবম বই 'মিসির আলির অমিমাংসিত রহস্য'। বইটিতে মিসির আলিকে একজন গোয়েন্দার ভূমিকায় চরিত্রায়ন করেছেন লেখক। সিরিজের অন্যান্য বইয়ের চাইতে এই বইটিতে মিসির আলিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মিসির আলির কাছে ওসমান গণি নামের এক ব্যক্তি আসেন। তিনি একটি গল্প বলতে চান। ভূত বিষয়ক গল্প। তবে মিসির আলি লোকটির উপর যারপরনাই বিরক্ত। তিনি কোনো গল্প শুনতে চাচ্ছেন না। তবুও লোকটির জোরাজুরিতে আজগুবি ধরনের একটি গল্প শুনতে হয়। যাওয়ার সময় অদ্ভুত এক গোঁ ধরেন লোকটি। তিনি মিসির আলিকে অনুরোধ জানান, মিসির আলি যেন একটি কাগজে লিখে দেন তাঁকে পানি থেকে সাবধান হওয়ার জন্য। লোকটির আশঙ্কা পানিতেই মৃত্যু হবে তাঁর। অন্যথায় তিনি মিসির আলির বাসা থেকে যাবেন না। বাধ্য হয়ে মিসির আলি কাগজে সাবধানবাণী লিখে দেন।
পরদিন সকালেই পুলিশ অফিসার রকিবউদ্দিন মিসির আলির বাসায় আসেন। তিনি জানান ওসমান গণি সাহেবের মৃত্যু হয়েছে বাথটাবে থাকা অবস্থায়। আগের রাতে গণি সাহেব মিসির আলির কাছে এসেছিলেন। সেটা জানা গিয়েছে মিসির আলির সাবধান বাণী হতে। তাই মিসির আলিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে মিসির আলি ওসমান গণি সাহেবের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে অবাক হন। কারণ লাশ হিসেবে যাকে দেখছেন তিনি যান নি মিসির আলির কাছে। অন্য কেউ ছিল সেই ব্যক্তি। ওসমান গণির বন্ধু মন্ত্রী এবং মিসির আলি মন্ত্রীর সাথে কথা বলে এই রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব নেন। তিনি কি পারবেন রহস্য সমাধান করতে?
বইটি ভালো ছিল। হুমায়ূন আহমেদ পাঠকের সামনে রহস্য তৈরি করে চিন্তা-ভাবনাকে এদিক-সেদিক প্রবাহিত করতে পারেন। রহস্যগুলোকে অনেকভাবেই সংজ্ঞায়িত করা যায়। তবে মিসির আলির যুক্তিগুলোকেও ফেলে দেওয়ার মতো না। হ্যাপি রিডিং।
যখন পড়া শুরু করেছি, ওই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল নিতান্তই কোন কিশোর উপন্যাস পড়ছি হয়ত। এর পূর্বে “সানাউল্লার মহাবিপদ” নামে একটা বই পড়ছিলাম সেটা অনেকটা শিশুতোষ ভূতের গল্পের মতন লেগেছিলো। এটাও কি সেম লাইনেই যাচ্ছে? তবে কি মিসির আলি সাসপেন্স ফেলে.. কিন্তু না। আমাকে অবাক করে দিয়ে কয়েক পৃষ্টা যেতে না যেতে কাহিনী যেন অপজিট টার্ন নিল। শিশুতোষ উপন্যাস, সাইকোলজ্যিকাল এক স্টোরীতে কনভার্ট হওয়া আর এটা উইটনেস করার এক্সপেরিয়েন্সটা ছিলো দুর্দান্ত। আর যেভাবে মিসির আলি গল্পের শেষটা নামালেন... এরপরেও কেন যে গল্পের নাম অমীমাংসিত রহস্য জানি না। শেষটা হয়ত আমার নজরে একটু ঘোলাটে থেকে গেছে। যাইহোক, দিনশেষে বলব, মিসির আলি সাহেব নেভার ডিজাপয়েন্ট আস!
মিসির আলিকে আমি যেভাবে আবিষ্কার করেছি অন্য কেউ সেভাবে তাকে লক্ষ্য করেছে কিনা আমি জানিনা। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে মিসির আলি একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। কৈশোরের পুরোটা সময় আমি মিসির আলির প্রতিটি গল্পে অবসেসড হয়ে ছিলাম।
একবার মিসির আলির কোন এক বইতে এক তরুণী তাকে বলল, 'একজন মানুষের জীবন যতটা একঘেয়ে হতে পারে, আপনার জীবন ততটাই একঘেয়ে।' লাইনটা পড়ে হঠাৎ মনে হলো,অবাক কান্ড! আমি নিজেও এমন একটি জীবনে বাস করতে শুরু করেছি। আমি হয়ে গেছি গম্ভীর এবং পুরোপুরি ঘরকুনো ধরনের একজন মানুষ। কিছুদিন আগেও হিমুর ভক্ত ছিলাম। বড় আপু বললেন হলুদ পাঞ্জাবী কিনে দেবেন। অথচ হঠাত সেটা বদলে গিয়ে মিসির আলি ভালো লাগতে লাগলো। এই বিষয়টা নিয়ে যে এখন আমি আফসোস করছি তা নয়- তবে কী এক অমোঘ আকর্ষণ সে সময় ছিল; কী প্রবল সেই ঘোর তাই খানিকটা জানাবার চেষ্টা করলাম। আমার কাছে মিসির আলির একটা বিশেষ স্থান রয়েছে।
মিসির আলির প্রতিটি বই আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। বেশীরভাগ গল্পই আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে, এই গল্পটা মনে হয়েছে সবথেকে ভিন্ন। আমি এই বইটিকে মিসির আলির সেরা বই বলেই বিবেচনা করব। পড়তে পড়তে এক একবার মনে হয়েছে, মিসির আলির সঙ্গে যেন ভয়ে আমিও গুটিয়ে যাচ্ছি। গল্পের রহস্য ধরে রাখা থেকে রহস্য উন্মোচন পর্ব পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ই অবাক করার মতো। মিসির আলির মতো এখন নিজের কাছেও পৃথিবীকে রহস্যময় বলে মনে হয়।
একদিন রাত্রে মিসির আলির সাথে দেখা করতে আসেন ওসমান গণি নামের একজন লোক,যার তিনটি দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো।কিছু কথাবার্তার পর ওসমান গণি এক অদ্ভুত আবদার করে মিসির আলির কাছে।তারপর দিন মিসির আলির বাসায় পুলিশ আসে।কারণ ওসমান গণি মারা গেছেন।আসলেই কি ওসমান গণি মারা গেছেন?নাকি আত্মহত্যা?নাকি খুন?মাঠে নেমে পড়েন মিসির আলি!
এটা ভাল্লাগছে।তার আগের দুইটি মিসির আলি পড়ে চরম লেভেলের বিরক্ত হয়েছিলাম।এই বইটা আসলেই ভালো।সুন্দর ক্রাইম থ্রিলার।মিসির আলির উপন্যাস বলতেই আমরা বুঝি অতিপ্রাকৃত কিছু।এতে তাও আছে।হুমায়ূন আহমেদ সাধারণত মিসির আলির গল্পে রহস্য রাখতে পছন্দ করেন।সে স্বাদ থেকেও তিনি বঞ্চিত করেননি।বেশ উপভোগ্য বই!
A renowned musician is found dead in his bathroom. The bathroom was locked from inside. Police, doctors even his own daughter declared it as a heart attack or suicide. But Misir Ali who is unexpectedly involved with this case claims it to be a murder and seeks permission to solve the mystery.
This one is a pure crime thriller without any psychological or supernatural stuff though the writer tries to create mysterious surroundings and it goes well with the thrill of the story.
Readers often complain that many of Misir Ali's cases are kept unsolved but this one is a totally different one with a superb ending. So don't go to judge this book by it's name. It contains all the required elements to glue you to goon till the last page at a stretch.
Great mystery writers have at least one locked room murder classic. Conan Doyle had The Speckled Band, Agatha Christie had her Murder in Mesopotamia, Edgar Allan Poe wrote The Murders in the Rue Morgue. Then there was the locked room mystery expert, John Dickson Carr, possibly reaching his peak with The Hollow Man.
This is Humayun Ahmed locked room murder classic. Exceptionally well written and explained, and the clues are right there to see, for both Misir Ali and the reader. Loved Misir Ali's analysis of the Home Minister. And don't be misled by the title, yes there will be something that remains 'omimangshito; but overall the murder mystery was brilliantly resolved by Humayun Ahmed, via Misir Ali.
জানি না কোন কারণে এই বইটা অদ্ভুত রকমের ভালো লাগছে।
#স্পয়লার এলার্ট
মিসির আলির কাছে এক লোক এসেছেন নাম ওসমান গণি, বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। তিনটি দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো,হাতে তিনটি আংটি আছে। কি হাবিজাবি বলে গেলেন। ভূত দেখতে পান,এরা তাকে পানির কাছাকাছি যেতে সাবধান করে দিয়েছে। কারণ পানিতেই নাকি তার মৃত্যু হবে।তিনি এও বলেন যে মিসির আলি যদি এই কথা টুকু ওনাকে লিখে স্বাক্ষর করে দেন তাহলে তিনি মিসির আলিকে আর ডিস্টার্ব করবেন না।মিসির ঐ লোকের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাইই করলেন।পরের দিন পুলিশ এল ���নার কাছে ওসমান গণির ব্যাপারে খোঁজ করতে,কারণ গত রাতেই তিনি নিজ বাড়ির বাথরুমে মারা গেছেন। সবাই ভাবছে আত্নহত্যা। কিন্তু মিসির আলি থমকে গেছেন অন্য কারণে। ওনার কাছে যে লোক এসেছিল আর যে মারা গেছে তার চেহারায় কোনো মিল নেই।মিসির আলি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন যে লোকটি এসেছিল সে হচ্ছে রিটায়ার্ড স্কুল মাস্টার অম্বিকাবাবু। পাশাপাশি তিনি জ্যোতিষীও ছিলেন।ওসমান গণি আসতেন তার কাছে। এ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেন মিসির আলি। গিয়ে উঠলেন ওসমান গণির বাড়িতে,তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করতে রাজী হলেন ওসমান গণির একমাত্র মেয়ে নাদিয়া গণি। এ বাড়িতে আসার পর মিসির আলি জানতে পারলেন এ বাড়িতে একটু ভৌতিক বিষয় আছে। ওসমান গণির পালক পুত্র ছোটবেলায় বাথরুমে মারা গিয়েছিল।এটা মূলত একটা দুর্ঘটনা ছিল। নাদিয়ার মা রাগ করে ছেলেকে বাথরুমে আটকে দিয়ে ভুলে গেছিলেন আর ঝড়বৃষ্টির রাতে ভয়ে হার্টফেইল করে বাচ্চাটি মারা যায়। এর কয়েকবছরের মধ্যে ভয় পেয়ে হার্টফেইল করে নাদিয়ার মাও মারা যায়। নাদিয়া ছাড়া এ বাড়িতে আছে তার দূর্সম্পকের ফুপু আর তার ছেলে মজিদ। মজিদ মিসির আলিকে ভুতের ব্যাপারে সাবধান করে দেয়। মনে মনে মিসির আলি এই ধরনের ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতেন।একদিন তার সাথেও এই ঘটনা ঘটলো। বাথরুমে যাওয়ার পর পানি ফুরিয়ে গেল, অন্ধকার হয়ে গেল,দরজা আটকে গেল,আর শুরু হল অশরীরী ডাক - মিসির আলি!প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও যে ভয় পেলেন তিনি আর অপ্রস্তুত কেউ হার্টফেইল করে মরারই কথা। পরেরদিন সকালে তিনি এর সুরাহা করলেন।ওসমান গণিকে আসলে হত্যাই করা হয়েছে আর এর পেছনে আছে মজিদ আর তার মা।খুনের বর্ণনাও তিনি সুস্পষ্ট ভাবে করলেন। মীমাংসিত হলো না শুধু অম্বিকাবাবুর আচরণ! তিনি কিভাবে জানলেন যে ওসমান গণির পানিতে মৃত্যু ভয় আছে!!
This entire review has been hidden because of spoilers.
গোয়েন্দা গল্পের মতই লাগলো,পুরোটাই রহস্যে মোড়া। ঢাকা শহরের এক নামি শিল্পপতি ওসমান গনির মৃত্যু হয় তার নিজস্ব বাড়িরই বাথরুমে। কোনওভাবে সেই মৃত্য প্যারাসাইকোলজিক্যাল কিনা সে বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে মিসির আলির কাঁধে। শেষ পর্যন্ত ওসমান গনির অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্য অমীমাংসিত রয়ে যায় নাকি সেটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সেটা শেষেই পরিস্কার হয়।
মিসির আলি সিরিজের সব গুলো থেকে আলাদা এটা। একটা ভিন্ন স্বাদের বই। ডিটেকটিভ কাহিনি। বেশ ভালো লেগেছে। আমি বার বার মুগ্ধ হয়ে যাই এই মানুষটা কত সুন্দর ভাবেই না কাহিনির সত্যতা উদ্ঘাটন করেন।
❝ প্রকৃতি মানুষকে Truth—কে স্পর্শ করার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু Absolute thuth—কে স্পর্শ করার অনুমতি দেয় নি। ঐটি প্রকৃতির রাজত্ব। মানুষের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। ❞
"প্রকৃতি মানুষকে Truth-কে স্পর্শ করার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু Absolutetruth-কে স্পর্শ করার অনুমতি দেয় নি।ঐটি প্রকৃতির রাজত্ব। মানুষের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই।''
হুমায়ুনভক্ত হওয়ার দরুন অন্যান্য বই যেমন বেস্ট,মিসির আলী সিরিজের এই রহস্যঘেরা বইটিও ভিন্ন নয়।যেখানে আমরা বিশ্বাস করি মিসির আলীর মতে সব কিছুরই ব্যাখ্যা থাকবেই,সেখানে অমীমাংসিত ঘটনাগুলো আমাদের কল্পনার রাজ্যে দ্বিধায় ভোগাতে প্রতুল।
❝প্রকৃতি মানুষকে truth স্পর্শ করার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু Absolute truth-কে স্পর্শ করার অনুমতি দেয়নি। ঐটি প্রকৃতির রাজত্ব। মানুষের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই।❞
❝ট্রুথ❞ আর ❝অ্যাবসোলিউট ট্রুথ❞ - এর মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? খোলা চোখে এই দুটো টার্মকে একই মনে হলেও হতে পারে। তবে আদতে সেগুলো একই অর্থ বহন করে না। কেন? কারণ ট্রুথ বা সত্য আসলে পরিবর্তনশীল। স্থান, কাল কিংবা পাত্রভেদে - অমোঘ সত্যও বদলে যায়; বদলে যাচ্ছে। বদলে যাওয়ার এই প্রবণতাও আবার থেমে থাকছে না। অব্যাহত থাকছে এবং থাকার সম্ভাবনাও বেশি।
কিন্তু অ্যাবসোলিউট ট্রুথ? সেটাও কি পরিবর্তনশীল? উত্তরটা হচ্ছে; না। এবং এখানেই মূলত ট্রুথ আর অ্যাবসোলিউট ট্রুথের পার্থক্যের প্রসঙ্গটা চলে আসে।
প্রকৃতপক্ষে; অ্যাবসোলিউট ট্রুথ পুরোপুরি স্থির। সময় পাল্টায়, জায়গা বদলায়। আরও বদলায় সাবজেক্ট। অথচ অ্যাবসোলিউট ট্রুথ সেই একই রকম থাকে - নো চেইঞ্জ অ্যাট অল! কাজেই আমরা যা সত্য বলে জানি; তা সবসময় পরম সত্য নাও হতে পারে। কারণ; সত্য বা ট্রুথ সবসময় অ্যাবসোলিউট হতে হবে - এমন কোনো কথা নেই। এক্ষেত্রে এটুকু বলা যায়; মানুষের অ্যাবসোলিউট ট্রুথের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সেখানে কেবল প্রকৃতির-ই আধিপত্য।
এবার আসি ❝মিসির আলি❞ প্রসঙ্গে। মিসির আলির কাজকারবার রহস্য নিয়ে। খানিকটা যুক্তি আর খানিকটা মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের সাহায্যে রহস্যের জট খুলতে সিদ্ধহস্ত তিনি। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে; এসব রহস্য কাদের তৈরি? মানুষের। হ্যাঁ; মানবসৃষ্ট রহস্যের জট ছাড়িয়ে মিসির আলি আবিষ্কার করেন ❝ট্রুথ❞। তবে প্রকৃতির রহস্যের সমাধান অর্থাৎ অ্যাবসোলিউট ট্রুথের কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষমতা তার নেই। এজন্য কিছু কিছু রহস্যের চূড়ান্ত মীমাংসা করতে মিসির আলিও ব্যর্থ হন। এ ধরনের রহস্যকে আমরা বলতে পারি; ❝মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য❞ কিংবা ❝রহস্যময় প্রকৃতির অ্যাবসোলিউট ট্রুথ❞।
● কাহিনি সংক্ষেপ :
একদিন ওসমান গনি মিসির আলিকে ভূতের গল্প শোনাতে চাইলেন। যুক্তিবাদী মিসির আলির ভূত-প্রেতের ব্যাপারে আগ্রহ নেই বললেই চলে। ওদিকে গনি সাহেবও নাছোড়বান্দা। ভূতের গল্প তাকে শোনাতেই হবে! কাহিনি এ পর্যন্ত এগিয়েছে হাসি-ঠাট্টার ছলে। কিন্তু আসল ঘটনা শুরু হয় মূলত পরের দিন থেকে। কী এমন ঘটেছিল পরের দিন?
পরের দিন মিসির আলি গনি সাহেবের মৃত্যু সংবাদ পান। ডাক্তার ও পুলিশের ধারণা; বিত্তশালী বেহালাবাদক ওসমান গনির মৃত্যুটা স্বাভাবিক।হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হবার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন ভদ্রলোক। কিন্তু গনি সাহেবের মেয়ে নাদিয়া মনে করেন; আত্মহত্যা করেছেন তার বাবা। কেন? কী কারণ?
মজার ব্যাপার হচ্ছে; এই গনি সাহেব আবার সেই গনি সাহেব নন! সেই গনি সাহেব অর্থাৎ মিসির আলিকে যিনি ভূতের গল্প শোনাতে গিয়েছিলেন; তার গায়ের রঙ ছিল শ্যামলা। তাছাড়া উচ্চতায় বেশ খাটো ছিলেন ভদ্রলোক। অথচ রোজ ভিলার বিত্তশালী গনি সাহেব আদতে শ্যামলা নন। উচ্চতাও বেশ ভালো তার। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে; একই ব্যক্তির দুটো ভিন্ন ধারার শারীরিক কাঠামো গ্রহণের ব্যাপারটা কীভাবে সম্ভব? নাকি মৃত ওসমান গনির সম্মতিতে কেউ মিসির আলির কাছে সাহায্য চাইতে গিয়েছিলেন? সেটাই বা কেন? প্রশ্ন আর প্রশ্ন!
অসংখ্য প্রশ্নের জালে জড়িয়ে পড়েছেন মিসির আলি। এসবের মধ্যে সবচেয়ে জটিল আকারের প্রশ্ন কিন্তু একটাই; বিত্তশালী ওসমান গনির মৃত্যু রহস্যের সমাধানটা ঠিক কী? এবং এই একটি রহস্যের ঠিকঠাক উত্তর যদি পাওয়া যায়; তাহলে বাকি প্রশ্নগুলোর সমাধান বের করা খুব একটা কঠিন কিছু না। এখন উপায়? উপায় হচ্ছে; যুক্তির হাতিয়ার সাথে নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে মিসির আলিকে। করতে হবে সকল রহস্যের সমাধান।
রহস্য সমাধানের লক্ষ্যে মিসির আলি এসে পড়লেন অকুস্থল, রোজ ভিলায়। সেখানে গিয়ে প্রত্যক্ষ করলেন বিচিত্র সব ঘটনা - রাত বারোটার পর বাথরুমের দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাওয়া; গভীর রাতে নাদিয়া গনির রহস্যময় ভঙ্গিতে হেঁটে বেড়ানোসহ আরও অনেক কিছু। এরমধ্যেই এগিয়ে চলে মিসির আলির তদন্তের কাজ। সন্দেহের তীর এগিয়ে আসে নাদিয়া গনি, নাদিয়ার বৃদ্ধা খালা, মিউজিক লাইব্রেরীর দেখাশোনায় নিয়োজিত আব্দুল মজিদ, ম্যানেজার সাফকাতসহ আরও অনেকের দিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিসির আলি কি সকল রহস্যের সমাধান করতে পারবেন? উত্তরটা হচ্ছে; হ্যাঁ এবং না। এখানেও রহস্যের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। একই প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দুই রকম হয়, তাই না?
● পর্যালোচনা :
❝মিসির আলি❞ সিরিজের কাহিনিগুলো গতানুগতিক ডিটেকটিভ ধাঁচের গল্প থেকে খানিকটা আলাদা। হ্যাঁ; এখানেও অপরাধীর পেছনে ছোটাছুটির ব্যাপারগুলো খুঁজে পাওয়া যায় - তবে ভিন্নভাবে। প্রকৃতপক্ষে; শারীরিক আক্রমণের পরিবর্তে মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণের ব্যাপারগুলো এখানে প্রাধান্য পায় বেশি। আরও প্রাধান্য পায় যুক্তির কারুকাজ; ঠিক-ভুলের রীতিনীতি।
❝মিসির আলি❞ এখানে একান্ন বছরের বৃদ্ধ। শরীর দুর্বল হয়ে এসেছে; কমে এসেছে কর্মদক্ষতা। কমেনি শুধু মিসির আলির ঠিক-ভুলের প্রভেদ করার মানসিক দৃঢ়তা। হ্যাঁ; মিসির আলির সত্যকে খুঁজে পাওয়ার অদম্য স্পৃহা সেই একই রকম আছে এখানেও। আরও আছে অজানাকে জানার সুতীব্র আগ্রহ।
কাহিনির আগাগোড়া মোড়ানো রয়েছে রহস্যের আবরণে। শুরুতে একটু হালকা মেজাজের দেখা পাওয়া গিয়েছে ঠিকই। তবে প্রথমার্ধের সেই অংশকে বেশি পাত্তা দিলেই মুশকিল। তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদের বেশিরভাগ রচনা-ই এভাবে লেখা। তুমুল বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও পাঠককে হাসাতে জানেন তিনি - এ আর নতুন কী?
যাহোক; রোজ ভিলায় মিসির আলির তদন্তের কাজটুকু ভালোই উপভোগ্য। সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ঘটনাকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসেন তিনি। ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি সম্ভাব্য ঘটনা সম্পর্কে ভাবেন; একইসাথে পাঠককেও ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেন। এবং মিসির আলির কাহিনিগুলোর আসল মজাটা মূলত এখানেই। বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়ে যেতে হয় নিজের তাগিদে; রহস্য সমাধানের তাগিদে।
কাহিনির প্রধানতম চরিত্র অবশ্যই ❝মিসির আলি❞। পাশাপাশি পার্শ্ব চরিত্রের ভূমিকায় যাদের দেখা গিয়েছে; তাদের প্রত্যেকের চরিত্রায়ণ-ই প্রশংসার দাবিদার। শুধু সালেহা চরিত্রটি ঠিকঠাকভাবে ফুটে ওঠেনি বলে মনে হয়েছে। সালেহাকে আরেকটু ভালোভাবে নির্মাণ করলে কাহিনিটা বোধ হয় পুরোপুরি জমত। তবে; সবমিলিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো ছিল। শেষাংশের সমাপ্তিটাও দারুণ সুখপাঠ্য।
সর্বোপরি বলতে চাই; মিসির আলির মাধ্যমে ❝ট্রুথ❞ আর ❝অ্যাবসোলিউট ট্রুথ❞ সম্পর্কিত যে বার্তাটি লেখক এখানে দেয়ার চেষ্টা করেছেন - সেটুকু মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে জীবন। সকল রহস্যের-ই যে সুনির্দিষ্ট সমাধান থাকতে হবে - এমন তো কোনো কথা নেই! থাকুক না কিছু রহস্য অমীমাংসিত!
[ একনজরে বইয়ের তথ্য ]
• বইয়ের নাম : মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য • বইয়ের লেখক : হুমায়ূন আহমেদ • প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম : সময় প্রকাশন • প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ • মুদ্রিত মূল্য : ১৭৫/-
This one was a complete-murder-mystery, without bordering on lines of any supernatural. The mystery was intriguing enough, also added with it was an extra pinch of self-inflicted confusion that the author mixed, for the reader to bring an eerie effect. ZThank you for this fantastic one. Hats off Humayun Ahmed! :) :D