জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র বেসিক আলীর জনক বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট শাহরিয়ার খান। কার্টুনটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর উপসম্পাদকীয় পাতায় নিয়মিত প্রকাশিত হয় এই কার্টুন। শুরু থেকেই কার্টুনটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়ে আসছে। বেসিক আলী হলো বড় ছেলে। ‘আলী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’ এর মালিক, বিশিষ্ট ঋণখেলাপী ব্যবসায়ী তালিব আলীর বড় ছেলে। আলী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলো বেসিকের মা মলি আলী, যিনি একজন গৃহিণী, ছোট বোন নেচার আলী, যিনি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী, আর স্কুল ছাত্র ছোট ভাই ম্যাজিক আলী। এই পরিবারকে কেন্দ্র করে এই চরিত্রগুলোর জীবনের প্রতিফলনেই বেসিক আলী কার্টুন। পরিবার, প্রেম আর বন্ধুত্বের সম্পর্কের আবর্তে চলতে থাকা এ কার্টুনে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো বেসিকের অফিস সহকর্মী রিয়া হক এবং ঘনিষ্ঠ ও আত্মভোলা বন্ধু হিল্লোল। শাহরিয়ার এর বই বেসিক আলী মূলত এই কার্টুনের সংকলন। সাধারণ পাঠকের প্রতিক্রিয়া এবং চাহিদার প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে পাঞ্জেরী প্রকাশনী থেকে বেসিক আলী নামে এই কার্টুনটির এক বছরের সংকলন প্রকাশিত হয়। প্রথম সংকলন ভালো সাড়া পাওয়ার পর থেকেই নিয়মিত বেসিক আলী সংকলন প্রকাশ হয়ে আসছে। শাহরিয়ার এর বই সমগ্র বেসিক আলী ছাড়াও আরো অনেক বই নিয়েই গড়ে উঠেছে। কমিক কার্টুন সিরিজ ‘বাবু’ তার অন্যতম। এছাড়াও শাহরিয়ার এর বই সমূহ এর মাঝে আছে ‘ষড়যন্ত্র’, ‘লাইলী’, ‘কিউব’, ‘দ্বিতীয়’, ‘বোকা ভূত’, ‘কল্পশিকারী’ ইত্যাদি। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা পদে বহাল আছেন।
ভালোই লেগেছে বইটা, তবে আরও ভালো হওয়া সম্ভব ছিল। সবথেকে মজা লেগেছে তিন বদমাশ চরিত্রের খেল, আর নায়কের কিছু ডায়লগ। গল্পের প্রেম বেশি অনুমেয় ছিল, এবং সেটা তেমন একটা ভালো লাগেনি। আর শেষের দিকে নায়িকার যে ক্ষমতা দেখানো হয়েছে সেটাও অযৌক্তিক লেগেছে।
বাদবাকি জিনিশ ভালোই। গল্পটি বস্তুত সাইফাই, লেখক শাহারিয়ার সাহেবের সামাজিক গল্পধারার থেকে একটু ভিন্ন। লেখক নিজেই নিজেকে চ্যালেঞ্জ করছেন এই বিষয়টি ভালো, কিন্তু আরও ভালো করতে হবে। :)
কিউব একটি হাস্যকর সাইফাই বই। এই বইটি ভূতত্ত্ববিদ, জয় আহমেদ,একটি ছোট ছেলে,গিঠ্ঠু ও কয়েকটি গুন্ডা নিয়ে একটি কাহিনি। আসল কাহিনিটি শুরু গত যখন জয় ক্ষুদে চোর, গিঠ্ঠুর মুখামুখি হয়। সেই মুহূর্তে, গিঠ্ঠুকে কক্সবাজারের সন্ত্রাসীদের নেতা, ডা. জামশেদ আর তার দল ধরে ফেলেছিল। জয় গিঠ্ঠুকে নির্দোষ ভেবে তাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এক সময়,সন্ত্রাসীরা গিঠ্ঠুকে আবারও ধরে ফেললে, তার গলা থেকে একটি রহস্যময় কিউব বের হয়। জামশেদ সেই কিউটি নিতে গিয়ে, দুর্ঘটনাক্রমে,সেই কিউবটা জয়ের শরীরে মিশে যায় ও নিজের অজান্তেই জয় অপরিসীম শক্তির অধিকারী হয়ে যায়। এর পর থেকে একটি সাইফাই অ্যাড্ভেনচার শুরু হয়।
এই কমিকটি আমার কাছে খুব মজাদার লেগেছে। আমি নিজেকে পৃষ্টার পর পৃষ্টা খুব দ্রুত পরতে অনুভব করেছিলাম। প্রতিটি চরিত্রের বিষয়ে পরতে আমার খুব ভাল লেগেছি। আবার, কাহিনিটি এত সহজ সরল নয়। বইটির মাঝে একটি প্লট টুইস্ট হয়েছিল যা আমাকে খানিকটা আতঙ্কিত করেছিল। তাছাড়া, এই বইয়ে একটা রোমান্স আছে।
যদিও বইটি খুব আনন্দদায়ক তবুও আমি ভাবছি যে এই বইটি আরো ভাল হতে পারত। (এটা শুধু আমার মতামত)
অতএব, আমার মতে, সবারই এই কমিকটি পরার দরকার। কিন্তু এই বইয়ে কিছু ভাইলেনস্ আছে তাই ১৬ বছর বয়স বা তার বেশি না হলে বইটি পরার পরামর্শ দিব না।
কিউব। নেহায়েতই নির্দোষ দেখতে একটি জিনিস। কক্সবাজারের ছিচকে চোর গিঠ্ঠু এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী জামসেদের কাছে এই কিউব নিছক কোন কিউব নয়। অতিমানবিক শক্তির উৎস এই কিউবের সাথে ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েন ভূতত্ত্ববিদ জয় আহমেদ। কক্সবাজার থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন অঞ্চলে শুরু হয়ে যায় এক রহস্যে ঘেরা অ্যাডভেঞ্চার।
কিউব ভালো মানুষের সাথে মিশে গেলে সে সুপারহিরো এবং কোন খারাপের সাথে মিশলে সে সুপারভিলেনে পরিণত হতে পারে। আরো কিছু গোমড় আছে যা জামসেদের দল এবং জয়ের কাছে আপাতদৃষ্টিতে ছোট্ট গিঠ্ঠু ফাঁস করছে না। যেকোন ভুল পদক্ষেপ পৃথিবী পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে পারে। এতসব বাধা-বিপত্তির মুখে জয় এবং গিঠ্ঠুর পক্ষে কি সম্ভব শেষ পর্যন্ত টিকে যাওয়া?
'বেসিক আলী' 'লাইলী' খ্যাত কার্টুনিস্ট শাহরিয়ার খানের এই সায়েন্স ফিকশন জনরার একশন-অ্যাডভেঞ্চারে পূর্ণ গ্রাফিক নভেলটি ভালো লেগেছে। শাহরিয়ার খান কমিক্স থেকে বেশি কার্টুনিশ ভঙ্গিমায় গল্প বলতে পছন্দ করেন। তাঁর প্রচুর কাজ রয়েছে বাংলা কার্টুন / কমিক্সের ময়দানে। শিল্পীর আরো কাজ নিয়ে রিভিউ লিখার ইচ্ছে আছে।
শাহরিয়ার খানের কার্টুন বা কমিকস বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ‘বেসিক আলী’র চটুল হাস্যরস কিংবা ‘বাবু’র শহুরে জীবনের আজব সব অ্যাডভেঞ্চার পূর্ণ দিনকাল। কিন্তু এই চেনা ছকের বাইরে গিয়ে তিনি যখন ২০১১ সালে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার সাই-ফাই থ্রিলার ‘কিউব’ নিয়ে এলেন, সেটি পাঠকদের জন্য ছিল এক বড় চমক।
আমি অবশ্য শাহরিয়ার খানের তারও অনেক পরের পাঠক। তাই কিউব নামটা আর এর বিজ্ঞাপন দেখে আসছি বছর পাঁচেক হবে। এবং এতদিনে এসে গত সপ্তাহে পিডিএফ থেকেই অবশেষে এটা পড়লাম।
২. যাইহোক‚ গল্পের শুরুটা হয় একেবারেই অপ্রত্যাশিত এক সমীকরণে। মূল চরিত্র জয় আহমেদ, যিনি পেশায় একজন ভূতত্ত্ববিদ বা জিওলজিস্ট। তার শান্তিনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন আকস্মিকভাবে তার মুখোমুখি হয় গিঠঠু নামের এক ধূর্ত ক্ষুদে পকেটমার বা চোর। এবং গিঠঠুর পেছনে তখন হন্যে হয়ে লেগে আছে কক্সবাজারের কুখ্যাত মাফিয়া ডন ও সন্ত্রাসী নেতা ডক্টর জামশেদ এবং তার সশস্ত্র গ্যাং।
ঝামেলার মূল কারণ একটি অতিপ্রাকৃতিক ও রহস্যময় বস্তু, একটা ক্ষুদে ‘কিউব’। এবং সেসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডে গুঞ্জন ছিল, এই কিউবটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন এক আদিম বা অতিমানবীয় শক্তি.. যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণে এলে সে অপরাজেয় হয়ে উঠবে। ডক্টর জামশেদ এই মহাজাগতিক বা বৈজ্ঞানিক শক্তির লোভেই গিঠঠুকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল।
গল্পের মূল ক্লাইম্যাক্স ও টুইস্টটি ঘটে এক দুর্ঘটনার মাধ্যমে। ডক্টর জামশেদের তাড়া খেয়ে পালানোর এক পর্যায়ে, পরিস্থিতি ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই অদ্ভুত কিউবটি দুর্ঘটনাক্রমে ভূতত্ত্ববিদ জয়ের শরীরের সাথে আক্ষরিক অর্থেই মিশে যায়। একজন সাধারণ বৈজ্ঞানিক গবেষক থেকে জয় রূপান্তরিত হতে শুরু করে এক অতিমানবীয় সত্ত্বায়। এই রূপান্তর, কিউবের শক্তির অপব্যবহার বনাম আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত ডক্টর জামশেদের কবল থেকে নিজেকে ও গিঠঠুকে বাঁচানো নিয়েই গড়ে উঠেছে কমিকসটির শুরুর ভাগ।
এরপর একসময় ঘটনাচক্রে তারা সকলে পৌঁছান কক্সবাজারেরই এক জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মেগাকিউবে। যে মেগাকিউবটি ঠিক কোনো জড় বস্তু নয়, দেখা যায় এর ভেতরে রয়েছে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন ও অবিশ্বাস্য পরিবেশ, যা আমাদের চেনা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মানে না।
সবচেয়ে বড় চমকটি আসে যখন দেখা যায় এই মেগাকিউবের ভেতরের পরিবেশের আসল নিয়ন্ত্রক, অর্থাৎ নবম মাত্রার প্রাণীদের অস্তিত্ব সামনে আসে। আমাদের ত্রিমাত্রিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই নবম মাত্রার প্রাণীদের উদ্দেশ্য, তাদের ক্ষমতা বা তাদের তৈরি পরিবেশের জটিলতা বোঝা অসম্ভব। তবে মেগাকিউবে গিয়ে জানা যায় আরেক টুইস্ট, সেখানে আটকে থাকা গিঠঠুর বোনের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে কিউব শরীরে ঢুকে গিয়ে কিউবধারী বা কিউবয়েড হয়ে ওঠা জয়। এরপর গিঠঠুও জয়ের যৌথ লড়াইটি কীভাবে একসময় এই বহুমাত্রিক মহাজাগতিক গোলকধাঁধা আর নবম মাত্রার জীবদের খেয়ালের সাথে জড়িয়ে যায় তা নিয়েই ‘কিউব’ কমিকসের মূল আখ্যান।
৩. কিছু পর্যবেক্ষণ-
ক. শাহরিয়ার খান গল্পটিকে একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায় নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে খুব তাড়াহুড়ো করে সব গুটিয়ে নিয়েছেন। কিউবটির আসল উৎস কী, এর শেষ পরিণতি কী হলো.. তা নিয়ে কোনো জোরালো বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা নেই। ওপেন এন্ডিং বা অস্পষ্ট সমাপ্তি রাখা ভালো, তবে সেটি যদি গল্পের মূল থিমকে সমৃদ্ধ না করে শুধু পাঠককে বিভ্রান্ত করে, তবে তা স্ক্রিপ্টের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। (যদিও শেষ দৃশ্য দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে কিউব ২ আসাও সম্ভব! কেননা মেগাকিউবের বা নবম মাত্রার প্রাণীদের যোগাযোগের মাধ্যমের ধ্বংস যে ঘটেনি পুরোপুরি, তা স্পষ্ট।)
খ. যারা আন্তর্জাতিক সিনেমা বা পপ কালচার সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন, তাদের কাছে এই কমিকসের মূল আইডিয়াটা কিছুটা চেনা মনে হতে পারে। হলিউডের বিখ্যাত কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা 'Cube'(1997)-এর কনসেপ্টের সাথে এর বেশ কিছু জায়গায় দৃশ্যত এবং কাঠামোগত মিল পাওয়া যায়। ফলে সিনেমাটি যারা আগে দেখেছেন, তাদের কাছে গল্পের মূল টুইস্ট বা সারপ্রাইজ এলিমেন্ট কিছুটা মার খেয়ে যেতে পারে।
গ. জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণার মাঝেও গল্পের মূল চালিকাশক্তি কিন্তু ছিল গিঠঠুর বোনের প্রতি ভালোবাসা ও তাকে বাঁচানোর আকুলতা। এই মানবিক ইমোশনটা না থাকলে কমিক্সটা কেবল শুষ্ক লেকচার হয়ে যেত। তবে গিঠঠুর বোনের সাথে জয়ের ঘনিষ্ঠতা বা প্রেমের আবহ তৈরিটা তাড়াহুড়ো করে বসিয়ে দেয়া হয়েছে মনে হয়েছে, ঠিক স্বাভাবিকতা নেই।
তাই সবকিছু মিলিয়ে গল্পের দুর্বলতার জন্য রেটিং দিতে পারছি ২/৫
This entire review has been hidden because of spoilers.
The story is really intriguing , probably one of the different comic books in Bengali. However, I think the humors aren’t good as author another book “Layli.” But still I would recommend this comic , if you are looking for something different to read in Bengali
Always a big fan of his art. Which is why I gave it a 4. As the story was decent but compared to his other work, expected more fun & comedy. But overall a good read.