বেশ ঝরঝরে গদ্য। বক্তব্য সুস্পষ্ট। নিজের জীবনকথার চাইতে নানা দিকে আলাপ মোড় নিয়েছে ; কিছুক্ষেত্রে তা অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয়। সবার পক্ষে তসলিমা নাসরিন হওয়া সম্ভব নয়। বড়জোর তসলিমা হওয়ার ভান করা যেতে পারে।
অতি অল্প বয়সে তসলিমা নাসরিনের "ক" এবং "আমার মেয়েবেলা" পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো সেগুলোরই একটা চীপ কপি আবারো পড়লাম।
এই বইটা ব্যক্তি প্রাইভেসির কোনো তোয়াক্কাই করে নি এই অভিযোগটা দিয়েই মূলত বিখ্যাত হয়েছিলো এবং পরে এটার পিডিএফ ছড়িয়ে যাবার পরে পড়ার জন্য কালেক্ট করেছিলাম। লেখিকার আগের কোনো বই পড়ি নি এবং এই ধরণের বিতর্কিত বই পড়ার কেন জানি আগ্রহ পাইনা।
বইটাতে নির্দ্বিধায় সব ধরণের মানুষের প্রাইভেসির উপর যথেষ্ট আঘাত হানা হয়েছে। আর আরেকটা কথা না বললেই নয়, লেখিকার মধ্যে "আমি ভাব" টা খুবই প্রবল। সবসময়ই আমি যেটা ভাবছি, আমি যেটা করেছি- তার পুরোটাকে আদর্শ ধরে নিয়ে লেখা। এই জীবনে তিনি সম্মান করার মতো কোনো প্রেমিক খুঁজে পেলেন না কিংবা কোনো বন্ধু যে তার মধ্যে স্রেফ বন্ধুত্বই চেয়েছিলো কিংবা কোনো আদর্শ নীতিবান পুরুষ যার মধ্যে প্রীতির জন্য কামভাব নেই এমন লোক একটিও পেলেন এ এক আশ্চর্য বটে! গিয়াসউদ্দিন সেলিম থেকে হেলাল হাফিজ সবারই একই সমস্যা!
নতুন নতুন বিদেশে গিয়ে সবারই ওখানকার সব কালচার ভালো লাগে। ওখানকার ময়লা ফেলার ব্যবস্থা থেকে স্টার্ট করে বাসার বাইরের বার পর্যন্ত সবটাতেই মানুষ খুবই ইম্প্রেসড হয়ে যায়। প্রীতিও ব্যতিক্রম না। লেখাতে প্যারিসের প্রতি যে মুগ্ধতা ফুটে উঠেছে, বলাই বাহুল্য- ওখানকার পুরুষদের নিয়ে সে একই ধরণের বর্ণনা দিলেও- তাদের প্রতি কেন জানি এতোটা বিরাগ নেই।
একদমই আলাদা কিছু লাগলো না। সবটাই খুবই একপেশে সাধারণ। নিজের মহামূল্যবান দুইটা ঘন্টা ব্যয় করে একজনের একপেশে মতামত, কতিপয় মানুষের নিতান্তই ব্যাক্তিগত কিছু ব্যাপার এবং প্যারিসের স্তুতি শুনলাম।
বিতর্কিত বই জান্নাতুন নাঈম প্রীতির “জন্ম ও যোনির ইতিহাস” পড়লাম। লেখা এবং সম্পাদনার মান করুণ। যারা কবিতা লিখেন তাদের গদ্যে তার ছাপ থাকে। এই বইয়ে তেমন দেখি না।
হয়ত এই বই সাহিত্যমান খোঁজার জন্য নয়। হয়ত লেখক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানাতে চেয়েছেন, তাড়া খেয়ে ভিন্ন কোন দেশে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নেওয়ার বেদনার কথা জানাতে চেয়েছেন, শিল্পী হিসেবে ফরাসি দেশ নিয়ে তার উচ্ছাসের কথা জানাতে চেয়েছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আর পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন। এতকিছু একসাথে করতে গিয়ে কতদূর কি হয়ে উঠেছে হয়ত লেখা শেষে পড়ে দেখার সময় হয়নি। ছুঁতে পারেনি তাই।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এভাবে এমন প্রতিবাদের প্রয়োজন আছে। নিষিদ্ধ হয়ে মানুষের এটেনশন পাওয়ার প্রয়োজন আছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোন রকম আওয়াজ তোলার প্রয়োজন আছে। পাঠক হিসেবে শুধু চাই সেসব আরেকটু শিল্পসম্মত হোক।
রিভিউ শুরুর আগে বলে নেই আমি লেখিকার অনলাইন প্রেজেন্স/ইমেজ নিয়ে তেমন সচেতন ছিলাম না। এবার নিচে বলছিঃ
কিছু কিছু বই পড়ে খুব বিরক্ত লাগে… লেখকের উপর না, নিজের উপর- যে কেন এ বই পড়ে সময় নষ্ট করতে গেলাম। এ বইয়ের এত এত বাজে রিভিউ দেখেও নিজেকে বুঝিয়েছিলাম যে হতে পারে অন্তর্জালে লেখিকার নেগেটিভ ইমেজের কারনে বায়াসড রিভিউ হতে পারে, অতএব বইটা পড়ে দেখা যাক…। ভুল, ভুল, ভুল ছিলাম আমি, তার খেসারত দিয়েছি নিজের সময় এবং মুড নষ্ট করে।
কিছু একটা লিখতে হবে, কোন একটা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে লিখতে হবে কিংবা নিজে কিছু একটা হবার জন্য লিখতে হবে এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হলে সেটা ভাল হবে না এটাই স্বাভাবিক।
পুরো বই লজিকাল ফ্যালাসি দিয়ে ভরা। কোন ধরনের ঘটনার ব্যাকগ্রান্ড সেটিং/এক্সপ্লানেশান নেই। বিষয়বস্তু আলোচনার কোন গভীরতা নেই কিন্তু লেখিকা খুব জ্ঞানী / দার্শনিক হবার ভনিতা করছেন… অদ্ভুত।
এত কিছুর পরও , লেখার ভঙ্গিতে একধরনের সাবলিলতা আছে, হয়ত অনেকদিন ধরে লিখছেন বলে। নিজের কাজের জায়গা ( ফেমিনিজম, আর্ট, হিউম্যান রাইটস ইত্যাদি) নিয়ে জানাশোনা বাড়ালে ভবিষ্যতে লেখায় ভাল হলেও হতে পারেন তবে এই বইতে তেমন কোন আশা নেই।
প্রীতি সাহেবার লেখা মোটেও pretty pretty নয়। তসলিমা নাসরিনের থেকে উনি কয়েক কাঠি সরেস তা সদর্থক আর নঞর্থক উভয় দিক থেকেই। তবে পইড়া ব্যাপক মজা পাইছি। নিষিদ্ধ বস্তু মজার হইবো তা তো চিরায়ত ব্যাপার। তয় ভালো বা মন্দলাগা উভয় স্বার্থেই বইখান পড়া একবার ডিজার্ভ করে। ফেসবুকে ভাইরাল না হইলেও বইটা কিছু পাঠক টাইনা নিতো আবশ্যিকভাবে।
ব্যাপক আলাপ আলোচনার মধ্যে আমি এই বইটা পড়ে শেষ করলাম। আসল বিষয় হইল বইটা নিষিদ্ধ কেন হইল? নিষিদ্ধ হবার যথেষ্ট এলিমেন্টই আছে বইটিতে। খোলাখুলি যৌনতা (শয়নকারীর নামসহ), ধর্ম নিয়া গালাগালি, স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার সাথে আর কি কি চান। অনেক বিষয়েই আলোচনা করেছেন কিন্তু কোনটারই গভীরে যান নাই। সুতরাং উনার অনেক জ্ঞান সেইটা বলা যাচ্ছে নাহ। নারী এবং বাকস্বাধীনতা নিয়া অনেক কিছুই বলেছেন, কিন্তু এগুলার লিমিট নিয়া কিছু বলেন নাই। মানে হইল স্কাই ইজ দ্য লিমিট। এই বিষয়টাতেই আমার প্রবল আপত্তি। এইটা হইতে পারে না। নিয়মাবদ্ধতা না থাকলে মানব সভ্যতা এই পর্যায়ে কখনই আসতে পারত বলে আমার মনে হয়না। উনার ব্যক্তিগত জীবনে যতটুকু উন্মোচন করেছেন তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় উনি প্যারিস গিয়া ভাল করেছেন। আবার সমস্যা হইল উনার দেশের জন্যও পেট পুড়ে। মানে প্যারিসের জিনিস উনি দেশে করবেন কিন্তু কিছু বলা যাবে না, এইরকম স্বাধীনতা চান আরকি। সমস্যা হইল দেশের সিংহভাগ মানুষের সাথে যায় না বিষয়টি। কিন্তু এইটা আবার উনার কাছে স্বাধীনতার সংঘাত। এইবার আসি ধর্ম নিয়া। উনি ব্যাপক ধর্মবিদ্বেষী। কিন্তু উনার আলোচনায় ব্যাপারটা নিয়ে গভীর কিছু নাই। আরেকটু পড়াশুনা করে আরেকটা বই লিখলে মনে হয় ক্লিয়ার হবে। আপাতত উনি আগে বিদ্বেষী আর পরে হয়ত কেন বিদ্বেষী এইটা আবিষ্কার করবেন। নিজের লেখা বইটা নিয়ে উনার মুগ্ধতা আছে খুব সেটা বইটা পড়েই বুঝা যায়। কে কে যেন ��ইটা পড়ে কেদেও ফেলল বলে উল্লেখ করলেন। অনেকগুলা কুযুক্তি দিয়েছেন যেটা চাইলেই খন্ডন করা যায়। আপাতত আর করলাম নাহ। মোটকথা আমার কাছে মনে হয়েছে উনি বইটা লিখেছেন একধরনের দায়বদ্ধতা থেকে। আসাইলাম নিয়ে ফ্রান্স গেলেন, স্কলারশিপ পাইলেন, কেন এগুলা পাইলেন সেইটা প্রমাণ করলেন। ভাল কিছু বলে শেষ করি। লেখিকার লেখা খুব ঝরঝরে। পড়ে বেশ লাগল। কিন্তু এক বিষয়ের ভিতরে আরেকটা বিষয় ঢুকে যাচ্ছ��ল বলে ট্র্যাক রাখতে বড় সমস্যা হচ্ছিল।
বইয়ের নাম: জন্ম ও যোনির ইতিহাস লেখক: জান্নাতুল নাঈম প্রীতি প্রকাশনী: নালন্দা প্রকাশকাল: ২০২৩ রেটিং: ৩.৫/৫
অবশেষে পড়ে ফেললাম জান্নাতুল নাইম প্রীতির বহুল আলোচিত-সমালোচিত- কার্যত নিষিদ্ধ ❝জন্ম ও যোনির ইতিহাস❞। প্রথমেই বলে রাখি, অনলাইন জগতে আমার দৌড় 'বইপোকাদের আড্ডাখানা' পর্যন্ত, লেখিকাকে নিয়ে বা তার অনলাইন অ্যাক্টিভিটি নিয়ে খুব বেশি ধারণা ছিল না বইটি পড়ার আগে। যে পরিমাণ নেগেটিভ রিভিউ, অনলাইনে গালিগালাজ করা হয়েছে এই স্মৃতিচারনামূলক লেখায়, তা সত্যিই আগ্রহ-জাগানিয়া। যদিও এই নেগেটিভিটি কতটুকু শুধু বইয়ের কন্টেন্টের জন্য, আর কতটুকু লেখিকার অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের জন্য - তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে।
❝জন্ম ও যোনির ইতিহাস❞- বইটি মূলত স্মৃতিচারনামূলক, একটি ক্ষুদ্র টাইম স্কেলকে প্রতিনিধিত্ব করে- লেখিকার ব্যক্তিগত ডায়েরি বললেও ভুল হবে না। কোভিড প্যান্ডেমিক চলাকালীন সময়ে, লেখিকা সরকারের উঁচু মহল থেকে মামলায় পড়েন তার একটি ফেসবুক পোস্টের জন্য। এরপর থেকে তার শুরু হয় বন্দিজীবন - লুকিয়ে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে - তখন লেখিকা চিনতে পারেন তার বন্ধুদের - তার শত্রুদের। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পর লেখিকা ফ্রান্স চলে যেতে একপ্রকার বাধ্য হন, বলা যায় নির্বাসনে যান নিজের নিরাপত্তার জন্য- ফরাসি সংগঠনের বৃত্তি নিয়ে।
বইটি নিয়ে প্রথমেই যে বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তা হলো ঝরঝরে গদ্য। লেখিকা নারীবাদ নিয়ে যেগুলো বলেছেন, সেগুলো পূর্বপরিচিত, হুমায়ুন আজাদের 'নারী' বইতেই খুজে পাওয়া যাবে। এই কথাগুলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে আহত করবে,এটাই স্বাভাবিক। লেখিকার নারীবাদী হয়ে উঠা, তার সমাজভাবনা সহ অনেক বিষয় এসেছে বইটিতে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লেখিকা একটু বেশিই একরোখা। তিনি যে কথাগুলো অকপটে বলে ফেলেছেন, বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল দেশে এই রকম কথা বলতে রীতিমতো সাহস লাগে। তবে বইটা সুনির্দিষ্ট কোনো দিক ফোকাস করে লেখা না। অনেক বিষয় নিয়ে চিন্তার খোরাক যোগাবে ❝জন্ম ও যোনির ইতিহাস❞। সবাই যেভাবে বইটিকে আক্রমণ করেছেন আবর্জনা বলে, আমার ঠিক তেমন মনে হয়নি। হয়ত বিশ-ত্রিশ বছর পর কোনো এক দমবন্ধ করা সময়ের সাক্ষ্য দিবে এই ব্যক্তিগত দিনলিপি, রিভিউতে হয়ত অনেক কিছু বলা যেত, কিন্তু এত সাহস নেই বুকে।
যাইহোক, নিন্দিত একটা বইয়ের ভালো রিভিউ দেয়া সবাই কেমন ভাবে নিবে, তা সময় বলে দিবে। তবে শেষে একটা কথাই বলতে চাই, এই রিভিউতে শুধু বইকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, লেখিকার ব্যক্তিজীবন বা অনলাইন অ্যাক্টিভিটি নয়।
The war will end The leaders will shake hands The old woman will keep writing For her martyred son That girl will wait for her beloved husband And those children will wait For their heroic father I don't know who sold our homeland But I know, who paid the price !
২.৫/৫। রিসেন্ট হট কেক, আলোচিত বইটা পড়লাম। বইটা আসলে রাইটারের ২০২০ সাল বা করোনা পিরিয়ডের অভিজ্ঞতা দিনলিপি বললেও ভুল হবে না। বইটা ইন্ট্রেস্টিং। এই সময়কার জাতীয় ও সমসাময়িক অনেক ইস্যু উঠে আসছে রাইটারের পার্সোনাল জীবনের বাইরেও। শুরুটাও হইছিলো চমৎকার। বইয়ের অনেকগুলো ঘটনাই চেনা চেনা ঠেকছে, যেহেতু রাইটারকে ফেসবুকে লম্বা সময় ধরে ফলো করা হয়।
কিন্তু বইয়ের সমস্যা হচ্ছে, বইটাতে প্রচুর পরচর্চা উপস্থিত আছে। জানি না, এই টাইপের বইগুলোতে এরকমই হয় কিনা। এত পরচর্চা নেওয়া, থার্ড পার্সনের পার্সোনাল লাইফ বিষয়ক বর্ণনা ছিলো যে, নর্মাল পাঠক হিসেবে নেওয়ার মত ছিলো না। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, বইতে অনেক স্থানে বায়াসনেস দেখা গেছে। আদার কান্ট্রি-বাংলাদেশ, নারী-পুরুষ ইত্যাদি ইত্যাদি ইস্যু যখন আলোচনায় আসছে, তখন যেকোনো এক সাইডকে বেশি বলে ফেলা, আরেক সাইডকে একটু বেশী ইয়ে করাটা একটু খারাপই ঠেকছে আমার কাছে। তবে রাইটারের ফিলোসোফি বা চিন্তাধারার অনেক কিছু না মিললেও এমনিতে ন্যারেটিভ দারুণ। দেড় দিনে শেষ করে ফেলছি বলা যায়।
বইতে মূলত রাইটারের করোনা কালীন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মামলায় পালিয়ে বেড়ানো, দেশ ত্যাগের অভিজ্ঞতা, সমসাময়িক ও বিভিন্ন পার্সোনাল ইস্যু উঠে এসেছে। অটোবায়োগ্রাফিতে, পার্সোনাল ক্রাইসিস ইত্যাদি ইত্যাদিতে আগ্রহ থাকলে পড়তে পারেন। এমনিতে বই হিসেবে ভালো অভিজ্ঞতাই হবে হয়ত, আমার না হলেও।
প্রীতির লেখা আগে কখনো পড়া হয়নি। এই বইও হয়তো পড়তাম না। এতো এতো Controversy, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, নিষিদ্ধ হওয়া ইত্যাদি দেখে স্বভাবতই আগ্রহ জাগে। কে না জানে মানুষ বড়ই কৌতুহলী প্রাণী।
বইয়ের শুরুটা কিঞ্চিৎ এলোমেলো লেগেছে। যেন প্রীতি ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারেননি। কিংবা রাষ্ট্র,সমাজ তার সাথে যা করেছে সে রাগ এলোমেলোভাবে উগড়ে দিয়েছেন সেখানে। তবে বইয়ের মাঝামাঝি এসে এলোমেলো কলমকে স্থির করে মোটামুটি ভালো আলাপ করেছেন।
শিল্প,সংস্কৃতি, দেশ নিয়ে লেখিকার আলাপ মুগ্ধ এবং বিষণ্ণ করেছে। আবার বিরক্ত হয়েছি শুরুর দিকের কয়েক অধ্যায় পড়ে। বিশেষত, যৌন সঙ্গীদের অনুমতি ছাড়া তাদের নাম প্রকাশ করা উচিৎ কিনা সে প্রশ্নের অবকাশ থেকে যায়।
অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ, ইতিহাস নিজের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা আর নিজের জীবনের কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ এই নিয়েই বই।লেখকের ভাষায় কান্না, হতাশা কিংবা আক্ষেপ সরাসরি এই শব্দগুলো দিয়েই আসলে, লেখার দীনতা বলে আমি মনে করি।তো এই জন্য কিছু অংশের বর্ণনা ভালো লাগে নি।লেখক শৈশবেই যেভাবেই বিশ্বসাহিত্যের সাথে পরিচিত হয়েছেন,পাঠ করছেন বলেছেন।এমনটা সত্যি হলে ব্যাপারটি ঈর্ষণীয়।লেখক সময় নিয়ে আর একটু বিবেচনা করে লিখলে হয়ত মান গুণে আর ভালো হতো।
লেখিকা প্রীটি আমার তুমুল পড়ুয়া এক বন্ধুর ছোটবেলার বান্ধবী। ফলে তার জন্ম ও ইয়ের ইতিহাসে বন্ধুটির নাম আছে কিনা জানার জন্য বইটা পড়ার আগ্রহ ছিলো, বইয়ের যোগান দিলো আমাদের আরেক বন্ধু! পড়ে অবশ্য শেষমেশ ওই বন্ধুর নাম না পেয়ে বেশ হতাশই হলাম!!
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচমেট(!) হওয়ার সুবাদে লেখার মধ্যে রিলেট করার মতো আরও বেশি ঘটনা আশা করেছিলুম। তবে তেমন কিছুই নাই। ঘুরেফিরে ওই কুমিরের এক বাচ্চাই সাতবার দেখানো!
বইটা প্রীটির প্যারিসে থাকার এক রকম 'টিকেট' বলা যায়। অ্যাসাইলাম ও স্কলারশিপের দায়বদ্ধতা থেকে লেখা। প্রচুর লেখক ও বইয়ের নামধাম আছে। পড়ে লেখিকাকে বিশাল জ্ঞানী বোধ হইতে পারে, তবে লেখার গভীরতা বলে কিছু নাই। ক্লাসে এক শিক্ষকের উদ্ধৃতি মনে পড়ে, 'এতো বই পড়ার দরকার নাই। নাম জানলেই জায়গামতো বলে জ্ঞানী সাজতে পারবা!' তবে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রতিবাদস্বরূপ সরাসরি কিছু তিক্ত সত্য আছে বইয়ে। এমন সরাসরি কথা বলার বিচি দেশের বুদ্ধি বেচে জীবিকা নির্বাহ করা লোকগুলোর নাই। এজন্যে এক তারকা বাড়িয়ে দেয়া হলো...
❛চিপেস্ট ভার্সন অব তসলিমা নাসরিন❜ খ্যাত জনাবা প্রীতি আপুর জন্ম ও যোনির ইতিহাস জানার আমার কোন প্রয়োজন ছিলনা। বহুল আলোচিত বই তাই না পড়ে থাকতেও পারলাম না। পড়বো, পড়বো না করেও শেষ পর্যন্ত পড়েই ছাড়লাম। অখাদ্যের সমাহার। গিলে বদহজম হয়েছে। বমি করে উগড়ে দিয়েছি যা পড়েছি সব। 🤢!
জান্নাতুন নাঈম প্রীতি একজন ঘোর-নাস্তিক, নারীবাদী এবং মানসিক ভাবে পঙ্গু। এই ধরনের মানুষ নামের বাঙ্গু দেশ, সমাজ এবং জাতীর জন্য ক্ষতিকর। এর নেতিবাচক দিক এতোই গভীর যে এর ইতিবাচক দিক চোখেই পড়ে না। লেখিকা যে সরাসরি ইসলাম ধর্মকে ঘৃণা করে সেটা তার লেখায় অনেক ভালো ভাবেই প্রকাশ পেয়েছে। ধর্ম নিয়ে তার চিন্তা ভাবনা তার মতোই নিচু স্তরের। আর এমনো হতে পারে সে ইচ্ছে করেই মানুষের স্পর্শকাতর জায়গাতে আঘাত করছে বিতর্কিত হবার জন্য। কারণ লেখিকা মনে করে বিতর্কিত মানুষ ছাড়া আজ পর্যন্ত জগতের কিচ্ছু উদ্ধার হয়নি। হাস্যকর! জান্নাতুন নাঈম প্রীতির কাছে বাবা মানেই ‘স্পার্ম ডোনেটর’। এতেই বুঝা যায়, তার মেন্টালিটি কতটা নিম্ন-স্তরের।
Burn book written by Bangladeshi wannabe Regina George. Nothing to learn just a jealous,social climber's whining and discussion about her sexcapade. Very poor writing. NOT RECOMMENDED.
বইটা এতটাও বাজে না, যেমনটা বিভিন্ন রিভিউ তে দেখেছি। লেখিকার স্টোরিটেলিং মোটামুটি ভালই লেগেছে। কিছু চ্যাপ্টার ইন্টারেস্টিং - কিছু নতুন গেলাসে পুরোনো মদের মত। একই কনসেপ্ট বিভিন্ন নারীবাদীদের নানান বইয়ে পড়েছি। ফেসবুকেও হরহামেশাই চোখে পড়ে৷
'সেক্স স্টোরি' আর 'আমার পুরুষেরা' - এই দুই চ্যাপ্টারের অনেক কিছুই বইয়ের মেইন থিমের সাথে যায় না৷ সম্ভবত এসব ইনক্লুড করা হইছে নেগেটিভ মার্কেটিং আর বইয়ের কাটতি বাড়ানোর জন্য। এইযুগের তসলিমা হবার সাধ থেকেও হইতে পারে।
ভালো দিক এইযে, বোরিং লাগেনি পড়তে গিয়ে। উনি চাইলে আরো ভালো লিখতে পারবেন।
লেখনী ভালো লাগেনি। বাক-স্বাধীনতার নামে অন্যের প্রাইভেসি নষ্ট করা হয়েছে। কি লিখতে গিয়ে লেখিকা কি বুঝাতে চেয়েছে তা বোধ হয় সে নিজেও জানে না। হুদাই তসলিমা নাসরিনের মত ভান করা আর কি! অনুসরন আর অনুকরনে বিস্তার ফারাক আছে সেটা বোঝা উচিৎ।
লেখিকা মূলত বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাহিত্যকর্মের জন্ম দিয়েছেন। লেখার ধরন দেখে এই সিদ্ধান্ত আসতে বেশি বেগ পেতে হবে না। হাটে হাড়ি ভাঙ্গার কথা শুনলেও উনি হাড়ির সাথে লাঠিও ভেঙ্গেছেন।
দুজনের সম্মতিতে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পর্নসাইটে ছেড়ে দেয়া বা সেটাকে বই আকারে প্রকাশ করে ফেলা, দুটো একই জিনিস। সম্মতিতে ঘটেছে এবং সম্মতি ছাড়া পাবলিস্ট হয়েছে। প্রথমটা কে রিজেক্ট করলে দ্বিতীয় টা কে আপনি অ্যাকসেপ্ট করতে পারেন না। আর যদি তাই করেন, তাহলে আপনি দ্বৈত চরিত্রে বসবাস করছেন বা নিজের অবস্থান সম্পর্কে আপনি সচেতন না।
অবশ্য ভাইরাল হওয়ার জন্য এর চেয়ে ভাল টপিক হতেই পারেনা। উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। লেখিকার জন্য শুভকামনা। 🙂
জান্নাতুন নাইম প্রীতির নতুন বইটা পড়ে শেষ করলাম। বিদেশ বিভূঁইতে আসলে কিছু করার নেই, হার্ডকপি পাওয়া অতি দুষ্কর। তবে বইটির বিষয়বস্তু অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং একাধিক মহলের গায়ে জ্বালা ধরানোর মত হওয়ায় প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি একুশে বইমেলা বিক্রি হওয়া থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে, এবং কেউ একজন ফেসবুকে একটি পেজ খুলে সেখানে বইটার একটা পিডিএফ কপির লিংকও আপলোড করে দিয়েছে - সম্ভবত প্রকাশকের আর্থিক ক্ষতি করার বাসনায়, যেন তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বা এ লেখকের অন্য কোন বই প্রকাশ না করেন। তবে এসব ক্ষেত্রে যা হয় তা হচ্ছে সেটা লেখকের জন্য শাপে বর হয়, কারণ প্রকৃত লেখক কখনও আর্থিক লাভের আশায় লেখেন না, তার উদ্দেশ্য থাকে লেখার মাধ্যমে নিজের মতামত ও ভাবাদর্শ যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌছানো। গত কয়েক দিন ধরে বইটা নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা (সমালোচনাই বেশি) দেখতে দেখতে আগ্রহ জাগছিল, তাই আজ লিংকটা পেয়ে পড়েই ফেললাম। আশা করব প্রবাসী পাঠকের এই সীমাবদ্ধতা ক্ষমা করা হবে।
প্রথমেই যে কথাটা বলতে হয় তা হচ্ছে অত্যন্ত সাহসী লেখা। লেখক এমন অনেক বিষয় তুলে এনেছেন যেগুলো সবাই ট্যাবু মনে করে। ছোটবেলায় নিগৃহীত হওয়া থেকে শুরু করে বড় হওয়ার পড়েও প্রতি পদে পদে বৈষম্যের শিকার হওয়া, নিজের লেখালেখির জন্য স্বাধীনতার পক্ষ এবং বিপক্ষ উভয়েরই শত্রু বনে যাওয়া, আর সেই পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার মত ঘটনাগুলো উঠে এসেছে বইতে। এর পাশাপাশি এসেছে লেখকের প্রবাস জীবনের বর্ণনা, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয় ও জীবনযাপন - যারা সবাই তার মতই কোনো না কোনোভাবে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার। ছোট একটি অধ্যায়ে তিনি আলাপ করেছেন তার প্রেমিকদের নিয়েও, যেই অধ্যায়ের একটি পৃষ্ঠার অর্ধেকের ছবিতে গত কয়েকদিন সয়লাব হয়েছিল সোশাল মিডিয়া। অথচ পুরো বইটা পড়ার পর আমার কাছে ওই অধ্যায়টিকেই অপেক্ষাকৃত অকিঞ্চিৎকর ও অদরকারী বলে মনে হয়েছে।
আত্মজীবনী ক্যাটেগরিতে বইটা উতরে গেছে কিনা বলতে পারব না অবশ্য। একজন মানুষ সাধারণত জীবনের শেষ পর্যায়ে গিয়েই আত্মজীবনী লিখতে বসে। তাই লেখকের উনিশ বছর বয়সে যখন প্রথম আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় তখন অনেকের তীর্যক মন্তব্য ছুটে এসেছিল। তার জবাবে তিনি এই বইতে লিখেছেন যে সেই বয়সেই তিনি বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, যা একটি আত্মজীবনী লেখার জন্য যথেষ্ট ছিল। কথাটি অবশ্���ই যৌক্তিক, কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে আত্মজীবনী শুধু অভিজ্ঞতার সংকলন নয়, বরং সারা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখকের পাওয়া আত্মোপলব্ধি, ভুয়োদর্শন আর চিন্তাধারারও প্রকাশ। সেটি আসতে পারে কেবল বয়সের সাথেই, এটি অন্যভাবে পাওয়ার কোন পথ নেই। এই বইতেও সেগুলো অনুপস্থিত বলে মনে হয়েছে। এটিকে আত্মজীবনী বলার চেয়ে দৈনন্দিন দিনলিপির কিছু উল্লেখযোগ্য পাতার পরিশীলিত সংকলন বলে রায় দিতেই আমি বেশি পছন্দ করব।
তবে প্রথমেই যে ব্যাপারটি চোখে লাগে তা হচ্ছে লেখনীতে যত্নের অভাব। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েক জায়গায় ছন্দপতন ঘটেছে, মনে হয়েছে হুট করেই যেন সুর কেটে গেল। লেখার ধারাবাহিকতা এবং সুখপাঠ্যতা বজায় রাখা একজন লেখকের জন্য খুবই জরুরী, বিশেষ করে তিনি যখন লিখছেন এমন স্পর্শকাতর কিছু ব্যাপারে। তার লেখার সারমর্ম ও উদ্দেশ্য যেন পাঠকের বোধগম্য হয় সেটুকু খেয়াল রাখা প্রয়োজ���, যেন আবেগের ও ক্ষোভের স্রোতে বক্তব্যের মূলভাব হারিয়ে না যায়। বইটি পড়তে পড়তে এ ব্যাপারটি মাঝে মধ্যেই অনুভব করেছি, মনে হয়েছে লেখক যেন তার সমস্ত ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছেন লেখার মাধ্যমে। একজন লেখকের জন্য সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক, কিন্তু তাকে মনে রাখতে হবে যে এতে তার নিজের দুঃখের ভার কিছুটা কমা ছাড়া আর তেমন কোন লাভ হবে না। মানুষের মানসিকতার প্রকৃত পরিবর্তন, সেই সাথে তিনি যে পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন তার বিলুপ্তি ঘটাতে হলে শুধু সমস্যাকে পয়েন্ট আউট করলে চলবে না, তার সাথে সমাধান নিয়েও আলাপ করতে হবে। এই সমস্যার কারণেই বইটি শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে লেখা একটি দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাস হিসাবেই থেকে গিয়েছে, সঠিক সাহিত্যের বিচারে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এটি আফসোসের ব্যাপারও বটে, কারণ এমন বিষয়বস্তু নিয়ে সাহসী গলায় কথা বলার মত লেখক দেশে খুব বেশি নেই। আরও অনেকে হয়তো ভবিষ্যতে এগিয়ে আসবেন, কথা বলবেন, কিন্তু তার জন্য যারা পথ দেখাচ্ছেন তাদের লেখা আরও সুচিন্তিত ও সুলিখিত হওয়া জরুরী। আশা করব, লেখকের এই প্রতিবাদী মনোভাব ভবিষ্যতেও জারী থাকবে, সেই সাথে লেখায় যুক্ত হবে আরো প্রজ্ঞা ও চিন্তাশীলতার মিশেল।
Jannatun Nayeem Prity 'র লেখা "জন্ম ও যোনির ইতিহাস" বইটাতে যাদেরকে এক্সপোজ করা হয়েছে - ১. শিপ্রা দেবনাথ ( এবং তার বয়ানে মেজর রাশেদ সিনহা) ২. গিয়াসউদ্দিন সেলিম ( এবং তার বয়ানে জয়া আহসান, পরীমনি) ৩. অনীশ দাস অপু ( অনুবাদক,লেখক) ৪. মঈনুল আহসান সাবের ( কথাসাহিত্যিক) ৫. রাজু আলাউদ্দিন ( বিডিনিউজ এর সাহিত্য সম্পাদক) ৬. হেলাল হাফিজ ( কবি) ৭. ইমতিয়াজ মাহমুদ ( আইনজীবি) ৮. মাহবুব আজিজ ( কবি, সমকাল এর সাবেক সাহিত্য সম্পাদক) ৯. নওশাদ জামিল ( কবি) এছাড়াও নাম প্রকাশ না করে লেখকের মামা, শিক্ষক এবং জাহাঙ্গিরনগর ভার্সিটির এক দারোয়ানের কুকীর্তি এক্সপোজ করা হয়েছে। রাশেদ সিনহা বাদে বাকি সবাইই বেচে আছে। তবে কেউই এই বইয়ের তথ্যের ব্যাপারে এখনো কোনো প্রতিবাদ জানাননি। কক্সবাজারে খুন হওয়া রাশেদ সিনহা'র কেসটা খুব ইন্টারেস্টিং হতে পারে। ২০২০ সালের ৩১শে জুলাই টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপের নির্দেশে লিয়াকত আলি তাকে খুন করেছিল। এই মামলায় বর্তমানে দুইজনের ফাসির রায় হয়ে রয়েছে, তবে কার্যকর হয়নি এখনো। এই বইয়ের ভাষ্য মতে, রাশেদ সিনহা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি চাকরিরত ই ছিলেন ( সম্ভবত কোনো গোয়েন্দা সংস্থায়, যার পরিচয় প্রকাশ করা যেত না)। আর রাশেদ এবং শিপ্রার মধ্যে এক ধরনের প্রেমের সম্পর্কও ছিল। বইটায় এই বিভিন্ন জনকে এক্সপোজ করা একটা দুইটা চ্যাপ্টার বাদে বাদবাকি চ্যাপ্টারে সারবত্তা কিছু নাই। বেশ অগোছালো স্টাইলে, কোথাও কোনো টপিক ফিক্স না করেই র্যান্ডমলি ১৭৩ পেজ লিখেই ২ মলাটবন্দী করে একটা বই বানানো হয়েছে। ( তবে, গল্প বলার স্টাইলে এমন এলোমেলো লেখার কারনেই হয়ত বেশ সুখপাঠ্য হয়েছে। গুছিয়ে লিখলে বোরিং হতে পারত) বিভিন্ন সময়ে অনেক অনলাইন এক্টিভিস্ট/ব্লগার ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পরে একটা গুজব/কন্সপাইরেসি থিওরি প্রচলিত আছে যে, এসব ব্লগার রা এসাইলাম পাওয়ার উদ্দেশ্যে হুদাই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে। প্রীতি'র এই বই থেকে দেখা যায়, একজন লেখক ( বা একজন সচেতন ব্যক্তি) কোন পরিস্থিতিতে বিতর্কিত বিষয়ে লিখতে বাধ্য হয়, এবং তার কনসিকোয়েন্স কি হতে পারে। বইটায় প্রচুর বানান ভুল, সেন্টেন্স মেকিং এ ভুল চোখে পড়ে। এমনকি বইয়ের ফ্লাপে লেখক পরিচিতিতেও ভুল চোখে পড়ল। বোঝা যাচ্ছে, বেশ তাড়াহুড়া করে বইয়ের কাজ কমপ্লিট করা হয়েছে। বইটার নামটাও জাস্ট এ্যাটেনশন সিকিং এর জন্যই মনে হয়েছে। বইয়ের লাস্ট পেজে নামের একটা ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে ( সত্য হচ্ছে নারীদেহের যোনির মত।এখান থেকেই মানুষ জন্মায়, কিন্তু তারপর ভুলে যায় জন্মকথা), কিন্তু সেটাও খুব একটা প্রাসঙ্গিক লাগেনি। তা ও ভাল, চারুকলার স্টুডেন্ট জান্নাতুল নাঈম প্রীতি প্রচ্ছদে যোনির ছবি আকাতে যায় নাই। শুধু নামের উপর দিয়েই গেছে 🙂 অন্যদের বিশেষ মুহুর্তে ঘটা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাওয়া তথ্যগুলো, কিংবা নিজের অভিজ্ঞতা অন্যের সম্মতি ছাড়া তার নাম উল্লেখসহ বইয়ে তুলে দেওয়া উচিত কিনা, সেটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। আরো হবে হয়ত। তবে আমরা দেখি, বিশ্বসাহিত্যে মোটামুটি সব আত্মজীবনিতেই এইভাবে কিছু অজানা ঘটনা জানা যায়। খুশবন্ত সিং এর আত্মজীবনী তে ভারতের প্রধান্য,ইন্দিরা গান্দীর ফ্যামিলির ও অনেক অপ্রকাশিত তথ্য ছিল। এটা নিয়ে গান্ধী ফ্যামিলি আদালতে মামলাও করেছিল, এবং সেই মামলায় আদালত খুশবন্ত সিং এর পক্ষেই রায় দিয়েছিল। বইটা বাজারে এখনো পাওয়া যায়, ট্রুথ,লাভ এন্ড এ লিটল ম্যালিস নামে।
যাইহক বছরের শেষ বই হিসেবে পড়ার ইচ্ছা ছিল সমালোচিত বিতর্কিত বই। আমার ভিন্ন পার্সপেক্টি এর মানুষ দের চিন্তাভাবনা জানতে বেশ ভাল লাগে।
আগেই বলে নেই, আমি প্র্যাক্টিসিং মুসলমান না হলেও মুসলমান আর আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। তাই বায়াসড বলার আগে এই অংশ পড়ে নিবেন।
বই এর নাম বা দিয়ে যদি হিসেব করি তবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এই বই পড়ে অনেক দেশের অনেক কিছু নিয়েই জানা যায়। বই টার পার্সপেক্টিভ যদি ভ্রমণ নিয়ে লেখা, তবে এত সমালোচিত হত না। তবে আমার ধারণা সমালোচিত হওয়ার জন্যই কিছু কাজ মানুষ সেচ্ছায় করে।
এই বইতেও তেমন মনে হল আমার।
বই নিয়া আমার প্রথম সমস্যা এর নাম।
জন্ম ও যোনির ইতিহাস, পুরা বই এ যে কয়েকটা ব্যাপার পাইলাম তার একটা অন্যতম হল যোনি নিয়া আলোচনা, একটা আত্মকেন্দ্রিক বা ভ্রমণ নিয়া বই এর মধ্যে যোনি যোনি এতবার লিখার কি আছে এইটায় বুঝলাম না :/ অনেক টা জোর করে আরোপিত মনে হয়ছে আমার কাছে।
এরপরের ব্যাপার হল : আমি যত নাস্তিক চিনি তারা সবাই মোটামুটি আদর্শ বাদী। আর আমি যতদূর তাদের চিনি তারা বিচিং বা কূটনামি বা কথা পাচার করা স্বভাব তাদের আদর্শ বিরুদ্ধ।
কিন্তু লেখক এই কাজ টা করলেন। যোনি আর পুরুষাঙ্গের ব্যবহারের সময়ে আলোচিত বক্তব্য গুলো নির্দ্বিধায় ছেপে দিয়েছেন। এইটা কেমন আদর্শ? আপনাকে কেও বিশ্বাস করে কিছু বলেছে আর আপনি তার পুংগি বাজিয়ে দিলেন!! প্রাইভেসির মায় রে বাপ করে দেওয়া মানুষ জন বাকস্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার ফ্লোর রাখে বলে আমি মনে করিনা।
তবে শিপ্রা দি কে নিয়ে লেখা অংশ গুলোর সাথে আমি টুকটাক পরিচিত যেহেতু উনার ছোট ভাই আমার ও জুনিয়র। সব না জানলেও টুকটাক জেনেছি।
এই বই এর মূল মোটো দুইটা:
১/ বাকস্বাধীনতার কথা ফুটিয়ে তোলা।
২/ বিতর্কিত করার জন্য ধর্ম আর যোনি টেনে আনা, যাতে পরবর্তীতে বাকস্বাধীনতার বুলি কপচানো সহজ হয়। কেও কিছু বললেই বলতে পারবেন, বাক স্বাধীনতার অভাব।
সবকিছু সাইডে রেখে ভ্রমণ কাহীনি হিসেবে নিলে বই টায় তেমন ইনফো নেই। যাস্ট কিছু নাম আর তার সাথে রিলেটেড দুই তিন লাইন যা লেখকের মনে গেথে গেছে এমন পাবেন।
উনার যা ইচ্ছা উনি লিখতে পারেন, তবে আমার অনুরোধ বাকস্বাধীনতা ��র অন্যের ধর্মের উপর আঘাত করা সেইম না। নাস্তিক আল্লাহ আর নবীকে বিশ্বাস করবেনা স্বাভাবিক। কিন্থ তাই বলে তাদের গালি দেওয়ার ও দরকাএ পরেনা, তাইনা?
আপনার বলায় বাধা দিলে আপনি রেগে যান, তবে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে সে রাগবেনা কেন?
আপনার আর মৌলবাদীদের মধ্যে পার্থক্য সামান্য, মৌলবাদীরা গায়ে হাত তোলার কথা বলে ফেলে। আর নাস্তিকরা এইটার ফায়দা তুলে নিজেকে অসহায় হিসেবে প্রমোট করে!!
না আমরা মৌলবাদী সমাজ চাই, না চাই তথাকথিত লিবারেল যারা নাস্তিকতার নামে মুসলমান দের পিন্ডি চটকাবে।
আপনার জার্নি নিয়ে আর ও সময় নিয়ে লিখতে পারেন, ভ্রমণ কাহীনি বের করতে পারেন। সেটা করা যায় বোধয়!!
অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই বই, যার জন্য এর শিরোনাম ও লেখিকা নিজে দায়ী।
লেখিকা এতে তার কিছু প্রেমিকের বিষয়ে লিখেছেন (নামধাম সহ--তারা সবাই বাস্তবজীবনের জীবন্ত চরিত্র), যেটা বইয়ের মূল ধারার সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না। তিনি তাদের বিষয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন বা অভিযোগ করেছেন, যা সত্য হলেও প্রকাশ করা শোভন নয়, আর মিথ্যে হলে তো মিথ্যেই!
বোঝাই যায়, বইয়ের কাটতি বাড়ানোর জন্য এসব অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করেছেন তিনি।
মজার ব্যাপার হল, এ বিষয়টা বাদ দিলে তার লেখার হাত খারাপ না। গ্রেপ্তার এড়াতে কিংবা প্রাণের ভয়ে একজন বাংলাদেশি নাস্তিক তরুণীর ইউরোপে আশ্রয় নেওয়া--এটাই বই লেখার জন্য যথেষ্ট রোমহর্ষক উপকরণ। বস্তুত, এই বইয়ের বেশিরভাগ অংশে তিনি তার নির্বাসিত জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। লেখিকার চোখ দিয়ে ইউরোপের বেশ বিখ্যাত কিছু স্থাপনা ও ইউরোপীয় জীবনের খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে, বইয়ের প্রেক্ষাপট ২০২০-২০২২ হওয়াতে করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সমসাময়িক বিষয়গুলোও ধরা পড়েছে।
এ অংশগুলো আমি বেশ উপভোগ করেছি। এমন কী, তিনি যদি সঠিক ভাবে তার ভালোবাসার সম্পর্ক বা যৌনতা নিয়ে লিখতেন, সেটাও হয়তো পাঠযোগ্য হত। কিন্তু সেদিকে তিনি নজর না দিয়ে শুধু পাঠকের সামনে কিছু বড় বড় মানুষের নাম ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, 'এই দ্যাখ, আমি কার কার সঙ্গে প্রেম করছি!'
আরেকটা বিষয়, লেখার সম্পাদনা ভয়াবহ পর্যায়ের খারাপ। অসংখ্য বানান ভুল দেখে বোঝায় যায়, ভালো একটা বই প্রকাশ করা নয়, বরং প্রকাশকের উদ্দেশ্য ছিল তাড়াহুড়া করে একটি বিতর্কিত বই 'নামিয়ে দিয়ে' বিক্রি বাড়ানো।
সে উদ্দেশ্য কী সফল হল? আমার মনে হয় না। সবার মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে বইটির পিডিএফ, এবং সেটাও খুব বেশি মানুষ পড়ছে না। যারা পড়ছে, তারা আমার মতো হতাশা ব্যক্ত করছে।
তার পরও, এই বইটিতে ১ শতাংশ হলেও শাহরিয়ার কবিরের বার্চবনে ঝড়, কার্পেথিয়ান কালো গোলাপের মতো লেখনীর ছাপ পেয়েছি। তিনি সেবা প্রকাশনীর অনুবাদের কথা বলেছেন, সেজন্যেও তাকে ৩ রেটিং দিয়ে দেওয়া যায়।
আনি জানি না লেখিকা কখনো এই রিভিউ দেখবেন কী না। তবে তার প্রতি আমার একটাই কথা, 'আপনার এর চেয়ে ভালো কিছু করার সামর্থ্য রয়েছে, এবং তা বিতর্ক ছাড়াই'।
বইটা পড়ার পর মনে হইলো উনি প্যারিস যাওয়ার স্বপ্ন সার্থক । একটা পশুচরিত্রের বেডি জাবি তে গিয়ে প্যারিস যাওয়ার শর্টকাট খুঁজে বেড়িয়েছে । এরপর খানিকটা সরকার বিরোধী মিমস্ আর দুচারলাইন লিখে কট্ খাওয়ার অপেক্ষা করছিল যাতে একটা ট্যাগ পায় । ফু*লিশ ও খেতাবাহিনী দৌড়ানি দিসে । ব্যাস্ , ওনিও ওনার স্বর্গরাজ্যে । বিদেশের নতুন বাতাস আর বয়স কম তাই প্যারিসে নিজেকে দামী ফিল হচ্ছে । সময় যেতে দাও , ঠ্যাং ভাঙ্গা আন্টির মতন তুমিও ভিক্ষে করে খাবে যখন চামড়া ঢিলা হবে ।
All pretentious. I've started to read this from out of utter curiosity. Won't deny her struggles and injustices done to her. Still, i don't agree to her way of seeking revenge and disclosing names. her way of life and understanding is way beyond my comprehension. May Allah guide her to the right path.
এই বই কিনে টাকাটা এটলিস্ট নষ্ট করবেন না । লেখিকা নারীবাদী আর নাস্তিক সাজতে গিয়ে এমন আবোল তাবোল জিনিসের অবতারনা করেছেন তাতেই বুঝা যায় যে সব কিছু সমালোচিত হওয়ার জন্য নিজ ইচ্ছা তে করেছেন ।