আত্রেয়ীর বিয়ে হয়েছিল বিদেশে। কিন্তু অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে কলকাতা থেকে লণ্ডনে পৌঁছে সে বুঝতে পারে তার স্বামী অন্য এক নারীর প্রতি আসক্ত। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে দেশে ফিরে আসে সে। শুরু হয় অপূর্ণতা, নিঃসঙ্গতা ও অনিশ্চয়তায় আক্রান্ত তার বদলে-যাওয়া জীবন। স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টায় একটি রিসার্চ এজেন্সিতে চাকরি পেয়ে যায় সে—যুক্ত হয় ইউনেসকোর এক প্রোজেক্টে। বিশ্বের প্রায় সর্বত্র মেয়েদের কীভাবে বাধ্য করা হচ্ছে পতিতা বা কলগার্লের বৃত্তিতে-কীভাবে তারা পরিণত হচ্ছে হৃদয়বর্জিত অস্তিত্বে, তারই সূত্র-সন্ধানের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রোজেক্টে কাজ করতে করতে অসংখ্য তরুণী ও যুবতীর বিপর্যস্ত অভিজ্ঞতার সংস্পর্শে এসে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে আত্রেয়ী। খুঁজে পায় তার বেঁচে থাকার অর্থ।সম্পূর্ণ নতুন বিষয় নিয়ে দিব্যেন্দু পালিত-এর এই অসামান্য উপন্যাস—‘অনুভব’—আত্রেয়ীর বৃত্তান্তের মধ্য দিয়ে বিরল সংবেদনশীলতায় স্পর্শ করেছে এক আন্তর্জাতিক বাস্তব। এরকম উপন্যাস এর আগে লেখা হয়নি।সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত
দিব্যেন্দু পালিত-এর জন্ম ৫ মার্চ ১৯৩৯ (২১ ফাল্গুন, ১৩৪৫), ভাগলপুরে। শিক্ষা : তুলনামূলক সাহিত্যে এম-এ (১৯৬১)। কর্মজীবনের শুরু ১৯৬১-তে, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডে সাংবাদিক হিসাবে। ১৯৬৫-তে যোগ দেন বিপণন ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত পেশায়। এই সূত্রে দীর্ঘকাল যুক্ত ছিলেন ক্লারিয়ন-ম্যাকান, আনন্দবাজার ও দ্য স্টেট্স্ম্যান-এ। বর্তমানে সাংবাদিক, আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা-সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছন্দ। লিখছেন ১৯৫৫ থেকে। আনন্দ ও রামকুমার ভূয়ালকা-সহ আরও কয়েকটি সাহিত্য পুরস্কারে সম্মানিত। ইংরাজি ও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে বহু রচনা। বাংলা ও হিন্দীতে চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে কয়েকটি কাহিনী। ‘গৃহযুদ্ধ’ ছবির সুবাদে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকাহিনীর জন্য পেয়েছেন বি-এফ-জে-এ এবং অন্যান্য পুরস্কার।
সত্যি কথা বলতে "অনুভব" আমার মনেপ্রাণে অনুভব করার হয়তো ক্ষমতা নেই কিংবা ঠিক ইচ্ছে নেই। স্বভাবের কারণে জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছি যে বাঙালির অতি রঞ্জিত করার স্বভাব নতুন নয়। দড়ি কে সাপ বলে আতঙ্কে অস্থির এবং সাপ কে বাইন মাছ বলে অবজ্ঞা করার অসাধারণ ক্ষমতা নিয়েই আমরা বেঁচে আছি। থাকবো। এই উপন্যাসখানি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার কিভাবে পেয়েছিলো আমি জানি না। পড়তে পড়তে জানার আগ্রহও মরে গেছে। আহামরি কোন গল্প নয়। একজন মহিলা বিয়ের পর স্বামীর সাথে বিদেশ চলে যায়। পরে স্বামীর অন্যত্র সম্পর্ক থাকার কথা জানতে পেরে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর ভাইয়ের সংসারে গলগ্রহ হয়ে কিছুদিন থাকার পর সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করে। একটি চাকুরী পাওয়ার পর সে আরো অনুভব করে এই পৃথিবীতে নারীদের অনুগ্রহ ছাড়া, অবলম্বন ছাড়া বেঁচে থাকা কতটা কষ্টকর। আক্ষেপ দুই ধরণের হয়। এক - না হতে পারার কথা ভেবে আক্ষেপ আর দুই - হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা ভেবে আক্ষেপ। অমুকের ওটা আছে কিন্তু আমার নেই! ইস! আবার তমুকের ওটা নেই আমার তো এইটুকু আছে, যদি তমুকের মতো তাও না থাকতো। দুটো আক্ষেপ পরিস্থিতি সাপেক্ষে মানুষ অনুভব করে। ভালোমন্দের কথা চিন্তা না করেই করে। করে সময় কাটানো যায়, কিছু একটা নিয়ে কিচ্ছুক্ষণ জাগতিক সমস্যার কথাগুলো এড়ানো যায় তাই আক্ষেপ করে। এই গল্পের মূল পাত্রীর অবস্থা হলো সেরকম। অপরের অবস্থা দেখে নিজের অবস্থার তুলনা করতে শুরু করে৷ আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে মন্দের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে দেয় শুধুমাত্র এই ভেবে যে এটাই জগতে সফল হওয়ার বাধ্যতামূলক নিয়ম । এভাবে হয়তো ভালো রাখা যায় কিন্তু থাকা কি যায়?
প্রধান চরিত্রের অফিসের কাজের case study এর দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে উপন্যাসটি অযথা দীর্ঘায়িত না করে মূল চরিত্রের জীবনের ঘটনা বেশি করে তুলে ধরলে ভালো লাগতো। একদম শেষ পর্যায়ে এসে কিছু ঘটনা অস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করার কারণটিও অস্পষ্টই রয়ে গেল।
দিব্যেন্দু পালিতের ভাষা যেমন সংবেদনশীল, তেমনই নির্মোহ। তিনি সম্পর্কের জটিলতা, নারীর সামাজিক অবস্থান, এবং জীবনের অন্তহীন সংগ্রামকে এমনভাবে তুলে ধরেন, যা পাঠকের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে যায়।