আকাশে ছিল জ্যোৎস্নার মাদকতা, মস্তিষ্কে রামের নেশা। নেশার ঝোঁকে একজন পুরুষ তাঁর তরুণী, তন্বী বন্ধুপত্নীকে কাছে টেনে নিতে চেয়েছিলেন একদিন। কান্নার তীব্র নিষেধে তাঁকে নিবৃত্ত করেন বন্ধুপত্নী। বৃষ্টি-মেশা নদীতে নেমে এক নারী বিস্মৃত হয়েছিলেন তাঁর তাৎক্ষণিক পরিচয়, তাঁর দুই সন্তান ও স্বামীকে, চিরকালের এক নারী জেগে উঠেছিল তাঁর মধ্যে। তাঁরই স্বামীর বন্ধু হয়ে উঠেছিল সেই নেশা-ধরানো মুহূর্তের প্রার্থিত পুরুষ। বন্ধুপত্নীকে সেদিন ফিরিয়ে দেন স্বামীর বন্ধুটি। দুজনে দুজনকে না বলেছিলেন এটা বেশি বড় সত্যি, নাকি দুজনে দুজনকে যে চেয়েছিলেন—সেটা ? কোন্টা বেশি জোরালো? এই-যে শরীরী সম্পর্কহীন সম্পর্ক, এ থেকেও কি জন্ম নিতে পারে কোনও সন্তান? দুজন নারী-পুরুষের চরম অতৃপ্তির ফসল—এই বোঝাই কি সারা জীবন বইতে হবে সেই সন্তানকে? এমনই বহু বিচিত্র প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই তীব্র কৌতূহলকর উপন্যাস, ‘রাকা’।
Sunil Gangopadhyay (Bengali: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়) was a famous Indian poet and novelist. Born in Faridpur, Bangladesh, Gangopadhyay obtained his Master's degree in Bengali from the University of Calcutta, In 1953 he started a Bengali poetry magazine Krittibas. Later he wrote for many different publications.
Ganguly created the Bengali fictional character Kakababu and wrote a series of novels on this character which became significant in Indian children's literature. He received Sahitya Academy award in 1985 for his novel Those Days (সেই সময়). Gangopadhyay used the pen names Nil Lohit, Sanatan Pathak, and Nil Upadhyay.
Works: Author of well over 200 books, Sunil was a prolific writer who has excelled in different genres but declares poetry to be his "first love". His Nikhilesh and Neera series of poems (some of which have been translated as For You, Neera and Murmur in the Woods) have been extremely popular.
As in poetry, Sunil was known for his unique style in prose. His first novel was Atmaprakash (আত্মপ্রকাশ) and it was also the first writing from a new comer in literature published in the prestigious magazine- Desh (1965).The novel had inspiration from ' On the road' by Jack Kerouac. His historical fiction Sei Somoy (translated into English by Aruna Chakravorty as Those Days) received the Indian Sahitya Academy award in 1985. Shei Somoy continues to be a best seller more than two decade after its first publication. The same is true for Prothom Alo (প্রথম আলো, also translated recently by Aruna Chakravorty as First Light), another best selling historical fiction and Purbo-Paschim (পূর্ব-পশ্চিম, translated as East-West) a raw depiction of the partition and its aftermath seen through the eyes of three generations of Bengalis in West Bengal, Bangladesh and elsewhere. He is also the winner of the Bankim Puraskar (1982), and the Ananda Puraskar (twice, in 1972 and 1989).
Sunil wrote in many other genres including travelogues, children's fiction, short stories, features, and essays. Though he wrote all types of children's fiction, one character created by him that stands out above the rest, was Kakababu, the crippled adventurer, accompanied by his Teenager nephew Santu, and his friend Jojo. Since 1974, Sunil Gangopadhyay wrote over 35 novels of this wildly popular series.
Death: Sunil Gangopadhyay died at 2:05 AM on 23 October 2012 at his South Kolkata residence, following a heart attack. He was suffering from prostate cancer for some time and went to Mumbai for treatment. Gangopadhyay's body was cremated on 25 October at Keoratola crematorium, Kolkata.
Awards & Honours: He was honored with Ananda Award (1972, 1979) and Sahitya Academy Award (1984).
বইটা ছোটদের জন্য নয়, কিন্তু লেখা হয়েছে সেই স্টাইলে। ফলে একটা অস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয় যেন লেখাটা শুরু করা হয়েছিল ছোটদের জন্যই, পরে আর সেটা বজায় থাকে নি। এটা সেই ধরণের বই যেখানে লেখক নিজেই মূল চরিত্রের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। সেকারণে পাত্র-পাত্রীদের আবেগের সাথে লেখকের নিজের আবেগ আর নায়িকার প্রতি পক্ষপাতের বহিঃপ্রকাশও পাওয়া যায়। কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যটি 'দোষ' হয়ে ওঠে নি, এখানেই লেখকের জয়। এ বইটা পড়া শুরু করেছিলাম এক ধরণের কৌতূহল নিয়ে। আমার এক অতিপ্রিয় বন্ধুর নাম রাকা, আর তার মা তার নাম রেখেছিলেন এই সুনীলের রাকার নামেই। রাকা নিজে এ বইটি পড়ে নি। পড়লে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে সেটি জানার আগ্রহ বোধ করছি। রাকা নামের মেয়েটির জীবনকাহিনী এটি, যে কিনা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে সে অনেক সুন্দর। এখানে আছে পারিবারিক রহস্য, রাকার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপন্যাস সাধারণত যেমন হয়ে থাকে এটি তেমনই হয়েছে। মন্দ না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত, শেষটা একটু কম নাটকীয় হলে ভাল হত। লেখকের মনে রাখা উচিত ছিল তিনি উপন্যাস লিখছেন, বাংলা সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়। মহিলা মুক্তি সংগঠন? সিরিয়াসলি? খিকস!!!!
সেবন্তির ছোট্ট মেয়ে রাকা। রাকা কে সব্বাই লিটল প্রিন্সেস বলে ডাকে, এই লিটল প্রিন্সেস কে একটু বেশী ই আদর করেন পিতৃবন্ধু চন্দ্রমৌলি। ছোট্ট রাকা বড় হয়ে উঠতে থাকে আর তার মা সেবন্তির মানসিক অবস্থা নাজুক হতে থাকে যার কারণ হয়তোবা স্বয়ং আদরের রাকা! রাকার মা মারা যায়, একা রাকা বুঝতে শেখে এ সমাজে মেয়ে হয়ে জন্মানো অভিশাপসরূপ আর তার চাইচে' বর শাপ রূপবতী হওয়া। এক সময় রাকা বিয়ে করে দূরে চলে যায় আর কোনো এক ঘটনার প্রক্ষিতে রাকার জীবনে অন্যভাবে আগমন ঘটে চন্দ্রমৌলির যে কিনা তার পিতৃবন্ধু, তার মায়ের প্রতি যার একসময় ছিলো আকর্ষণ! শুরুতে মনে হচ্ছিল বাচ্চালোগো কে লিয়ে লেখা কিন্তু যতোই সামনে এগিয়েছি ততই ভুল ভেঙেছে, এ বই প্রাপ্তবয়স্কের নয় বরং প্রাপ্তমনস্কের।
বইটি পড়ার আগে মনে রাখলে সুবিধা হবে, বইটির ভাবনা সহজে গ্রহণ করার মতো নাও লাগতে পারে। আমার কাছে দারুন লেগেছে। মানুষ ও জীবন প্রতিমুহুর্তেই বাঁক নিতে থাকে। এই বাঁক নেয়ার পরিক্রমায় মনকে উদার রেখে সাদা চোখে সবকিছু দেখার সামর্থ্য অর্জন করার বিকল্প নেই। রাকার জন্য ভালোবাসা রইলো। চন্দ্রমৌলিরাও তাদের উড়ন্ত ময়ূরের ডানায় করে বেঁচে থাকুক সময়ের গন্ডির বাইরে গিয়ে।
রাকা, পূর্ণিমা রাতের জ্যোৎস্না। বর্ধমান নিবাসী সোমনাথ ও সেবন্তীর তৃতীয় কন্যা রাকা। ব্যারিষ্টার সোমনাথের বাল্য বন্ধু সুপুরুষ, অসীম সাহসী, শিকারী চন্দ্রমৌলী। বহুদিন আগে কোনো এক জ্যোৎস্না রাতে নেশার ঝোঁকে সুন্দরী তন্বী সেবন্তীকে কাছে টেনে নিতে চেয়েছিলেন চন্দ্রমৌলী, কান্নার তীব্র নিষেধে তাঁকে নিবৃত্ত করেন সেবন্তী। পরেরদিনই বৃষ্টি ভেজা নদীতে নেমে সেবন্তী বিস্মৃত হয়েছিলেন তাঁর তাৎক্ষণিক পরিচয়, ঐ মুহুর্তে তাঁর মধ্যে জেগে উঠেছিল এক চিরকালীন নারী, স্বামীর বন্ধুই হয়ে উঠেছিল প্রার্থিত পুরুষ। কিন্তু এইদিন আবার সেবন্তীকে ফিরিয়ে দেন চন্দ্রমৌলী। দুজনে দুজনকে না বলেছিলেন এটা বড় সত্যি নাকি, দুজনে দুজনকে চেয়েছিলেন এটা বড় সত্যি? এই যে শরীরী সম্পর্কহীন সম্পর্ক, এ থেকেই কি রাকার জন্ম? দুজন নারী পুরুষের চরম অতৃপ্তির ফসল রাকা, এই বোঝাই সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হল উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত সুন্দরী রাকাকে। এমনই অনেক বিচিত্র প্রশ্নের অবতারণা আছে এই উপন্যাসে। উঠে এসেছে আরও কিছু পার্শ্ব চরিত্র - রাকার স্বামী সুপ্রকাশ, ইউসুফ, অতীশ, ইন্দ্রজিৎ, বাঁশি, বান্ধবী শিখা ও তাপসী, দিদি দেবিকা ও সুলেখা...আরো অনেকে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা বই এই প্রথম পড়লাম ভালো লাগার বিষয় ছিলো গল্পের লেখনীর স্টাইল।সুন্দর বর্ণনা এবং ঘটনা প্রবাহ। যদিও গল্পের কিছু অংশ পছন্দ হয় নি,রাকা এবং তার বাবার বয়সী চব্দ্রমৌলির সম্পর্ককে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার বিষয় টা খুবই অপ্রাসঙ্গিক ছিলো।
বই - রাকা লেখক - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স বিনিময় - ১৫০ ভারতীয় মুদ্রা পার্সোনাল রেটিং - ৪/৫
"রাকা" কে সুনীল গাঙ্গুলীর কালজয়ী না বলা গেলেও বেশ ভিন্ন স্বাদের রসবোধে ভরপুর মনের গহীনে সুরসুড়ি জাগানো একটি উপন্যাস বলা যেতেই পারে। গল্পের শুরুতে প্রথমেই মনে হয়েছিল সেই আদিম ভালবাসা নিয়ে লেখা বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতে থাকা বালক বালিকাদের জন্য লেখা। কিন্তু যতই পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়তে থাকে ততোই বুঝতে পারি এই বই আর যায় হোক বাচ্চাদের ছেলে ভুলানো প্রেমের গল্প নয় বরং তার মধ্যে থেকে একটা সুনিপুণ "সুনীলীয়" আঁচড় আছে। নীরা কে ছেড়ে যে লেখক সত্যি রাকার ওপর কৃপাদৃষ্টি ফেলেছিলেন এই লেখা না পড়লে বোঝা সম্ভব নয়।
রাকা বরাবরই ভীষন ডাকসাইটে সুন্দরী ছিল তাই ছোটোবেলা থেকেই অনেকে ওর গাল টিপে দিত, সবাই ওকে কোলে নিতে চাইত আবার কেউ কেউ চুলে হাত বুলিয়ে দিত। ওকে সবাই আদর করার সময় পুতুলের সাথে তুলনা করে থাকত। কিন্তু সময়ের সাথে এগিয়ে যেতে যেতে রাকা টের পায় যে সেই ছোঁয়ায় পরিবর্তন হতে থাকে। আশেপাশের মানুষগুলো ঠিক সেরকম না যারা নিজেকে সেভাবে দেখায়। এই পৃথিবীর চরম বাস্তবের সম্মুখীন হতে থাকে সে, তখন তার এই রূপকেই মনে হয় অভিশাপ।
মা সেবন্তী আর বাবা সোমনাথের সাথে রাকাদের ছোটো সংসার। রাকা বড় হবার সাথে সাথে তার মা সেবন্তীর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একসময় রাকা জানতে পারে মায়ের এই মানসিক অবস্থার পেছনে একমাত্র দায়ী সে, কিন্তু কি কারন সেটা বুঝে ওঠার আগেই ওর মা আত্মহনের পথ বেছে নেয়। রাকার জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। এভাবেই একদিন বাবা সোমনাথকেও হারায় সে। রাকা প্রেমে পড়ে, তারপর প্রণয় থেকে শুভ পরিণয় ঘটে তার জীবনে। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টেকে না, একদম এলোমেলো হয়ে যায় তার জীবন।
সোমনাথ বাবুর বন্ধু ছিলেন চন্দ্রমৌলি। তার বরাবরের দুর্বলতা ছিল সেবন্তীর প্রতি। অদ্ভুত ভাবে সবকিছু ছেড়েছুড়ে অরণ্যবাস করতেন উনি। এক জোছনাময় রাতে সেবন্তীর রূপের মাধুর্যে ডুবে গিয়েও কোনও মতে নিজেকে সামলে নেন তিনি। একি করছেন তিনি? সে যে তার প্রিয় বন্ধুর স্ত্রী। এইভাবেই একদিন রাকার সাথে চন্দ্রমৌলির পরিচয় হয়। রাকার এলোমেলো জীবনে আসেন ধীরে ধীরে। উনি কি পারবেন রাকার জীবন ঠিক করে দিতে? তার জন্য অবশ্যই পড়তে হবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সুবিখ্যাত উপন্যাস "রাকা"
সুনীল বাবুর কলমের খোঁচায় কি দারুন বর্ণনা আছে। মানুষ ও জীবন প্রতিমুহূর্তে বাঁক নিতে থাকে আর বয়ঃসন্ধিকালের এই প্রতিটি বাঁক স্পর্শ করে এই উপন্যাসটি রাঁধা হয়েছে। প্রতিটি পাতার সাবলীল ঘটনা প্রবাহের চোরা স্রোতগুলিতে টিকে থাকার জন্য অবশ্যই পাঠক কে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া উচিত, থুড়ি প্রাপ্তমনষ্ক হওয়া উচিত।
রাকা শুনে এসেছে ছেলেবেলা থেকেই ও ভীষণ সুন্দর। সুন্দরি বলেই পাঁচ ছ বছর বয়স থেকেই এ ও চুলে হাত বুলিয়ে দিত, গাল টিপে দিত। বলত, বাহ কী সুন্দর। ঠিক পুতুলের মতন।
সময়ের সাথে, বড় হবার সাথে সাথে টের পায়, চারপাশটা ঠিক অমন না যেমন আমরা স্বাভাবিকভাবে ভেবে নেই। সবাই রাকাতে ছুঁতে চায়, কাছে পেতে চায়। সুন্দরের সত্যিকারে সংজ্ঞা খুঁজে বেড়ায় রাকা। বান্ধবি তাপসী সুন্দর নয়, তাই ভাল রেজাল্ট করতে হবে; রাকার তা না করলেও চলে। কী অদ্ভুত হিসাব!
মা সেবন্তীর মানসিক সমস্যা প্রকট হয়। একদিন রাকাকে বলে, "তোকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, কিন্তু তোর জন্যই আমার...।" সে রাতেই আত্মহত্যা করে সেবন্তী। কী বলতে চেয়েছিল সেবন্তী, তা না জানায় আজন্ম অতৃপ্তি নিয়ে বেঁচে থাকে রাকা। বাবা সোমনাথকেও হারায় একসময়।
একা রাকা বুঝতে শিখে যায়, এই রূপবতী হয়ে জন্মানোটা আশিবার্দের চেয়ে ঢের বেশি অভিশাপ। প্রেম, বিয়ে আবার সব এলোমেলো হয়ে যাওয়া রাকার জীবনে।
পিতা সোমনাথের বন্ধু চন্দ্রমৌলি, তার আজন্ম দুর্বলতা ছিল সেবন্তীর প্রতি। তবু সব ছেড়ে চলে গিয়েছিলো অরণ্যে। সে ভরা জোছনার রাতে সেবন্তীর অপার্থিব রূপে ডুবে গিয়েছিলো চন্দ্রমৌলি, স্পর্শ করার ব্যাকুল বাসনা দমন করতে হয়েছিল চন্দ্রমৌলির। সে যে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর স্ত্রী। সেই চন্দ্রমৌলি শুধু বন্ধু সোমনাথের সাথে দেখা করতেই অরণ্য থেকে ফিরে আসে বার বার। আগমন ঘটে রাকার জীবনে। রাকার এলোমেলো জীবনটা গুছিয়ে নেয়াটা ঠিক কতোটা সম্ভব হবে চন্দ্রমৌলির জন্য?
এই উপন্যাসটা পুরোপুরি প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য হলেও, আমি পড়েছিলাম প্রথম অপ্রাপ্ত বয়সে। এরপর প্রাপ্ত বয়সে আবার পড়েছি। কী দারুণ বর্ণনা, কী সাবলীল ঘটনা প্রবাহের স্রোত। প্রাপ্ত বয়সে পড়ে বুঝেছিলাম, এ উপন্যাস প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যও নয়। এ উপন্যাসের শেষ ঘটনা প্রবাহ গুলো মেনে নেয়ার জন্য অবশ্যই মানসিক ভাবে যথেষ্ট প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া উচিত। আমি এরপর অনেক খুঁজেছি, ঠিক এমন কোনো বই। হয়ত নেই, হয়ত সুনীলের লেখা রাকা একটিই।
বইটা যখন শেষ করলাম ঘড়িতে তখন ভোর ৬টা(আনুমানিক) ! রাতেই শুরু করেছিলাম, শেষ না করে ঘুমানো গেলো না! আরও আগেই শেষ করা যেত কিন্তু মাঝে গান আর সামাজিক যোগাযোগ অনেকটা সময় নিয়ে নিল! আমি সাধারণত রিভিউ লেখি না । ভোর হয়ে গেছে এখনো চোখে মুখে ঘুম নাই , বলে ছোট্ট করে স্পয়লার ফ্রী একটু লিখছি। 'রাকা' নামের পুতুলের মত সুন্দর একটি মেয়ের পারিবারিক রহস্য নিয়ে আর্থসামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিপার্শ্বিক চরিত্রের ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতের সাথে বেড়ে উঠা নিয়েই গল্পের এগিয়ে চলা! ব্যাক্তিকেন্দ্রিক উপন্যাস যেমনটা এককেন্দ্রীক হয় আরকি! পার্থক্যটা গড়ে দেয় অলীক লেখক যখন নিজেই এক সাক্ষাতেই প্রাধান চরিত্রের গুণে প্রেমে মগ্ন হয়ে গল্পে আরোও একটি অলীক চরিত্র অবতারণ করেন! কিন্তু চরিত্রের প্রতি আবেগ গল্পের ত্রুটি হয়ে ওঠেনি কোনভাবেই। লেখকের উপস্থাপনা কৌশল বরাবরের মতই ভালো বলেই একটা সংগঠন থেকে একটা চরিত্র দারুণ ভাবে ফুটে উঠেছে! আর গল্পের উপসংহারটা এমন আকস্মিক হবে ভাবি নাই,বুঝে উঠতে কিছু সময় লাগসে ! সচারচর সিনেমাতে এমনটা হয় দেখসি! যেটাই হোক পড়লেই বুঝবেন কী হইসে! এটা সারপ্রাইস!!! :D
পুস্তক পরিচয় : রাকা লেখক : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশনা : আনন্দ পাবলিশার্স 🌿 সম্প্রতি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা রাকা উপন্যাসটি পড়া শেষ করলাম। প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসটি আমি দ্বিতীয়বার পড়লাম। সংক্ষেপে পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। 🌿 এই উপন্যাসটিতে নায়িকার নাম রাকা এবং এই রাকাই হল উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি শুরু হয়েছে রাকার পাঁচ বছর বয়েস থেকে যে বয়সে রাকা প্রথমবার দেখেছিলো চন্দ্রমৌলি দত্তকে। এই চদ্রমৌলি দত্ত সম্পর্কে ছিলেন রাকার পিতৃবন্ধু। এরপর রাকার বয়স বৃদ্ধির বিভিন্ন ঘটনার আবর্তনে উপন্যাসটিও নতুন মাত্রা পেতে শুরু করে। রাকার বাড়িতে ছিল তার বাবা সোমনাথ, মা সেবন্তী, দুই দিদি দেবিকা এবং সুরেখা, এবং রাকার একমাত্র দাদা তুনীর। এই সেবন্তী কিন্তু স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন না। মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন তিনি। অবশেষে রাকার ষোলো বছর বয়সে এক দুপুরে সেবন্তী আত্মহত্যা করেন। 🌿 উপরোক্ত ঘটনার অভিঘাতে রাকা অনেকবেশি মানসিক পরিপক্ক হয়ে ওঠে। এরপর রাকা কলকাতায় চলে যায় কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য। সেখানে গিয়ে সে জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। এই সময় সে কিছু ভুল করে কিন্তু সেই ভুলকে সে ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠে। 🌿 এই ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার পুরো সময়টাতে চন্দ্রমৌলি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন রাকা এবং রাকার পরিবারের সঙ্গে। 🌿 রাকা নামের অর্থ হল পূর্ণিমা; পৃথিবীতে শারদ পূর্ণিমার প্রথম পতনশীল রশ্মি। রাকার জীবন যেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো। চন্দ্রের মধ্যেও কলঙ্ক থাকে তবুও চন্দ্র সুন্দর। তেমনি রাকার জীবনে বিভিন্ন ওঠাপড়া থাকলেও রাকা এক এবং অদ্বিতীয়া। চন্দ্রমৌলি মাঝে মাঝে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর নিঃশব্দ অধিকারবোধের দাবী উপন্যাসটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে এসেছে। চন্দ্রমৌলি দত্তর সাথে রাকার যে ঠিক কি সম্পর্ক ছিল সেটা জানার জন্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে। তবে এটুকু বলতে পারি যে এই সম্পর্ক ছিল নিঃস্বার্থ, মহান এবং অপাপবিদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে রাকা এবং চন্দ্রমৌলি দুজনেই মহান ছিলেন তাই দুজনেই এই সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছিলেন। তবে দুঃখের বিষয় পৃথিবীর সমস্ত রাকা জীবনে সঠিক চন্দ্রমৌলিকে পায় না অথবা পেলেও তাকে ধরে রাখতে পারেনা। 🌿 পরিশেষে বলতে পারি রাকা উপন্যাসটি বারবার পড়ার মতো এবং সংগ্রহে রাখার মতো একটি উপন্যাস। সমস্ত পাঠকবন্ধুকে উপন্যাসটি পড়ার অনুরোধ জানালাম।
রাকা নামের একটি চরিত্রকে নিয়ে লেখা এই বইটি আমার খুব ভালো লাগলো। একদিক দিয়ে ভাবলে মনে হয় সাধারণ একটি গল্প। কিন্তু রাকার জীবনের বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে তার যতরকম সিচুয়েশন এর সামনে পড়তে হয় এর অনেককিছু অনেকেই রিলেট করতে পারবেন। এছাড়া শেষের দিকে বইয়ের একটা অন্যরকম অংশ উঠে আস�� যেটা অনেকের কাছে অনেকরকম লাগতে পারে। তবে আমার ভালো লাগলো। চন্দ্রমৌলি চরিত্রটিকে বিশেষভাবে মনে রাখার মত। সুপ্রকাশ ও। ❤️
বই টার সব বিষয়বস্তু হয়তো সবার ভালো লাগবে না, না লাগাই স্বাভাবিক। তবে আমার বেশ ভালো লেগেছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অন্যান্য লেখার মতোই। রাকা চরিত্র টাও দারুণ। তবে শেষে একটা টুইস্ট ছিল, যেটা গ্রহণ করা সহজ ছিল না। হয়তো বা না হলেও পারতো।
This work of Sunil Gangopadhyay is very close to my heart, may be it's my first romantic novel. This beautiful work grow my interest in literature in many folds.
যে বইটার প্রধান চরিত্রের নামেই আমার নাম। গল্প নয় সত্যি ই। আমি যতদূর জানি আমার বাবা এই বইটা পড়ার পরেই আমার নাম রেখেছিল রাকা। এবং আমি খুব খুশি সেই ব্যাপারে।
বইটা প্রধান চরিত্র রাকাকে নিয়ে। ও জন্মের কারণ ওর বেড়ে ওঠা ওর জীবন ওর পছন্দ অপছন্দ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; সবটা মিলিয়েই এই বইটা।