রাকা শুনে এসেছে ছেলেবেলা থেকেই ও ভীষণ সুন্দর। সুন্দরি বলেই পাঁচ ছ বছর বয়স থেকেই এ ও চুলে হাত বুলিয়ে দিত, গাল টিপে দিত। বলত, বাহ কী সুন্দর। ঠিক পুতুলের মতন।
সময়ের সাথে, বড় হবার সাথে সাথে টের পায়, চারপাশটা ঠিক অমন না যেমন আমরা স্বাভাবিকভাবে ভেবে নেই। সবাই রাকাতে ছুঁতে চায়, কাছে পেতে চায়। সুন্দরের সত্যিকারে সংজ্ঞা খুঁজে বেড়ায় রাকা। বান্ধবি তাপসী সুন্দর নয়, তাই ভাল রেজাল্ট করতে হবে; রাকার তা না করলেও চলে। কী অদ্ভুত হিসাব!
মা সেবন্তীর মানসিক সমস্যা প্রকট হয়। একদিন রাকাকে বলে,
"তোকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, কিন্তু তোর জন্যই আমার...।"
সে রাতেই আত্মহত্যা করে সেবন্তী। কী বলতে চেয়েছিল সেবন্তী, তা না জানায় আজন্ম অতৃপ্তি নিয়ে বেঁচে থাকে রাকা। বাবা সোমনাথকেও হারায় একসময়।
একা রাকা বুঝতে শিখে যায়, এই রূপবতী হয়ে জন্মানোটা আশিবার্দের চেয়ে ঢের বেশি অভিশাপ।
প্রেম, বিয়ে আবার সব এলোমেলো হয়ে যাওয়া রাকার জীবনে।
পিতা সোমনাথের বন্ধু চন্দ্রমৌলি, তার আজন্ম দুর্বলতা ছিল সেবন্তীর প্রতি। তবু সব ছেড়ে চলে গিয়েছিলো অরণ্যে। সে ভরা জোছনার রাতে সেবন্তীর অপার্থিব রূপে ডুবে গিয়েছিলো চন্দ্রমৌলি, স্পর্শ করার ব্যাকুল বাসনা দমন করতে হয়েছিল চন্দ্রমৌলির। সে যে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর স্ত্রী।
সেই চন্দ্রমৌলি শুধু বন্ধু সোমনাথের সাথে দেখা করতেই অরণ্য থেকে ফিরে আসে বার বার। আগমন ঘটে রাকার জীবনে। রাকার এলোমেলো জীবনটা গুছিয়ে নেয়াটা ঠিক কতোটা সম্ভব হবে চন্দ্রমৌলির জন্য?
এই উপন্যাসটা পুরোপুরি প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য হলেও, আমি পড়েছিলাম প্রথম অপ্রাপ্ত বয়সে। এরপর প্রাপ্ত বয়সে আবার পড়েছি। কী দারুণ বর্ণনা, কী সাবলীল ঘটনা প্রবাহের স্রোত। প্রাপ্ত বয়সে পড়ে বুঝেছিলাম, এ উপন্যাস প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যও নয়। এ উপন্যাসের শেষ ঘটনা প্রবাহ গুলো মেনে নেয়ার জন্য অবশ্যই মানসিক ভাবে যথেষ্ট প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া উচিত। আমি এরপর অনেক খুঁজেছি, ঠিক এমন কোনো বই। হয়ত নেই, হয়ত সুনীলের লেখা রাকা একটিই।