Jump to ratings and reviews
Rate this book

রাজনীতির মওলানা : মজলুম জননেতা বিক্ষোভের কারিগর

Rate this book
নাম তাঁর মওলানা ভাসানী। রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দশকের পর দশক। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটির জনক তিনি। কেউ তাঁকে বলেন মজলুম জননেতা, কেউ বলেন চাষি-মজুরের বন্ধু, কারও চোখে তিনি ধ্বংস বা বিক্ষোভের কারিগর। তাঁকে নিয়ে আছে অনেক জিজ্ঞাসা তিনি ধর্মগুরু না কমিউনিস্ট, শান্তিবাদী না নৈরাজ্যবাদী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন না খামখেয়ালি। তাঁকে ঘিরে আছে অদ্ভুত রহস্যময়তা। বর্ণাঢ্য তাঁর জীবন। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাঁর ভক্ত জুটেছে অগুনতি। অনেকে শত্রু হয়েছেন। রাজনীতিতে পছন্দ-অপছন্দ থাকে। প্রশ্ন হলো, তাঁকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক দলের চশমা পরে, না কি মুগ্ধ ভক্তের চোখে? যুক্তিহীন বিরোধিতা আর অন্ধ ভালোবাসার বাইরে গিয়ে তাঁকে দেখার চেষ্টা হয়েছে এই বইয়ে। সঙ্গে উঠে এসেছে টালমাটাল একটা সময়। এটি মওলানার জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং সময়ের দলিল, নিকট অতীতের আখ্যান, ইতিহাসের ছেঁড়া পাতা। মওলানা এ সময়ের রাজনৈতিক মঞ্চের এক দাপুটে চরিত্র। তিনি ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে থেকেছেন। জোটেনি রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য। সাদামাটা জীবনযাপন করে জন-আলোচনার শীর্ষে থেকেছেন বরাবর। এই ভূমিপুত্রকে নিয়ে লেখা হয়েছে এ বই, যেখানে উঠে এসেছে নানা বৈপরীত্যে ভরা এক মহাজীবন।

448 pages, Hardcover

First published February 1, 2023

10 people are currently reading
123 people want to read

About the author

জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (30%)
4 stars
6 (26%)
3 stars
8 (34%)
2 stars
2 (8%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,670 reviews441 followers
September 25, 2024
বইয়ের প্রকৃত রেটিং হবে ৩। আমি বিরক্ত হয়ে ২ দিচ্ছি। মহিউদ্দিন আহমদ নিজে কোনো পরিশ্রম না করে, অগ্রজ লেখকদের অভিজ্ঞতা ও শ্রমলব্ধ বিভিন্ন বই থেকে লম্বা লম্বা উদ্ধৃতি দিয়ে, ভাসানীর জীবনের সময়রেখা ধরে সাজিয়ে আস্ত একটা বই লিখে ফেলেছেন! আদৌ কি লিখেছেন?পুরো বইয়ের পাঁচ ভাগের অন্তত চার ভাগই তো উদ্ধৃতি! এর বেশিও হতে পারে উদ্ধৃতির পরিমাণ। কোনো মানে হয়? জরুরি বহু ঘটনা ও বিশ্লেষণ অনুপস্থিত। লেখকের হাতে এতো সময় কই?এর চাইতে সৈয়দ আবুল মকসুদের "ভাসানী চরিত" পড়ুন।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,484 reviews564 followers
February 16, 2025
' আমাদের মিলিত সংগ্রাম,
মৌলানা ভাসানীর নাম' - আবদুল গাফফার চৌধুরী

সাত দশকের বেশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গড়েছেন যত, ভেঙেছেন ঢের বেশি। কারো চোখে তিনি পির, কখনও তিনি সহিংসতার প্রবক্তা আবার লাল মওলানা ভাসানীই লাখ লাখ জনতার নয়নের মণি মজলুম জননেতা। পুরো ভারতবর্ষে মওলানা ভাসানীর সাথে তুলনীয় বৈচিত্র্যময় ও অনন্য অসাধারণ নেতা দুটো নেই। সেই আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন 'রাজনীতির মওলানা: মজলুম জননেতা  বিক্ষোভের কারিগর'। বইটির প্রকাশক 'বাতিঘর'।

প্রায় ছিয়ানব্বই বছর হায়াত পেয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। উপমহাদেশে এত দীর্ঘ জীবন অন্য কোনো রাজনীতিবিদ পেয়েছেন কি না কিংবা পেলেও তারা কেউ মওলানা ভাসানীর মতো জীবনসায়াহ্নে এসে কতজন সক্রিয় রাজনীতি করেছেন তা আমার অজানা৷ এক্ষেত্রে মওলানা ভাসানী বিরল মানুষ। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন মাত্র চারশ' পাতার বইতে সম্পূর্ণভাবে তুলে আনা অসম্ভব। ভূমিকাতে মহিউদ্দিন সাহেব দাবি করেছেন তিনি মওলানা ভাসানীর জীবনী লিখতে বসেননি। বরং বুঝতে চেয়েছেন বহুমাত্রিক মওলানাকে। এই বুঝতে চাইবার প্রচেষ্টাকে সফল করতে মওলানাকে নিয়ে লেখা নানা জনের বই, সাক্ষাৎকার, বিবৃতি ইত্যাদি পড়েছেন এবং সেইসবের উদ্ধৃতি দিয়েছেন উদারভাবে। এককথায় বললে, মহিউদ্দিন আহমদের বইটি হলো মওলানা ভাসানীকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন জনের লেখার একটা সংকলনমাত্র। সেখানে মহিউদ্দিন আহমদের নিজের বিচার-বিশ্লেষণ ততো চোখে পড়েনি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী স্যার সাদুল্লাহ পাকিস্তান আন্দোলনে শরিক হননি। তিনি জানতেন পাকিস্তান টেকসই হবে না। কারণ হিসেবে বলেছিলেন,

' ওয়ান মওলানা ইজ এনাফ টু ডেস্ট্রয় থ্রি পাকিস্তান।'

যখন বঙ্গের সবাই পাকিস্তানের নেশায় বুঁদ, তখন মওলানা ভাসানী পাকিস্তানকে 'আসসালামু আলাইকুম' জানিয়েছিলেন। নিজে পির ছিলেন। লাখ লাখ মানুষ তাঁর মুরিদ ছিল। একদিকে সেই গরিব দুঃখী মুরিদদের পানি পড়া দিতেন। আবার, তাদেরই হাতে পয়সা গুঁজে দিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাতে বলতেন! ধর্ম ও বিজ্ঞানের এমন অত্যাশ্চর্য মেলবন্ধন আর কোথাও মিলবে না।

নিজে সমাজতন্ত্রের কথা বলতেন, প্রচার করতেন। কিন্তু কমিউনিস্টদের সকল নীতিতে গ্রহণ করতে পারেননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, এদেশে কখনো কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

মওলানাকে বুঝতে পারা কঠিন। অভিযোগ করা হয় তিনি চীনের পরামর্শে 'ডোন্ট ডিস্টার্ব আইয়ুব' নীতি গ্রহণ করেছিলেন। আবার, এ-ও সত্য যে, আইয়ুব পতনের আন্দোলন প্রধান পুরোহিত মওলানা ভাসানী।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তীব্র ভারতবিরোধী ভূমিকায় তিনি অবতীর্ণ হন। অথচ একাত্তরে তিনিই চিঠি লিখে ইন্দিরা গান্ধিকে অনুরোধ করেছিলেন ভারত-বাংলাদেশ কনফেডারেশন গঠন করতে!

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক কথাপ্রসঙ্গে ছফাকে বলেছিলেন, মওলানা ভাসানীর অসুখ দুই ধরনের। এক হলো রাজনৈতিক অসুখ এবং অন্যটি সত্যিকারের অসুখ। এই কথার সত্যতা ভাসানীর পুরো জীবনে বহুবার দেখা যায়। তিনি আইয়ুব বনাম ফাতিমা জিন্নার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক অসুখে আক্রান্ত হন এবং খুববেশি প্রচারণা চালাননি। যখনই কোনো আন্দোলন ও ইস্যুতে ভাসানী নীরব থাকতে চেয়েছেন তখনই তাঁর রাজনৈতিক অসুখ দেখা দিয়েছে। এমনকি তেহাত্তর সালের নির্বাচনে তিনি নিজ দল ন্যাপের পক্ষে প্রচারণা না চালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ও পরে শেখ সাহেব তাঁকে দেখতে গেলে তিনি শেখ সাহেবকে দোয়া করেন! নির্বাচন ভরাডুবির পর তাঁর দলের লোকেরাই এই কাণ্ডে ক্ষুদ্ধ হয়।

জীবদ্দশায় অনেকেই তাঁকে সাম্প্রদায়িক আ্যখা দিতে চেয়েছে। অপব্যাখা করেছে তাঁর কথা ও কাজের। সেই সুযোগ হয়তো মওলানা নিজেই তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনোই সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তাঁর বড় পরিচয় মেহনতি জনতার কাণ্ডারি ছিলেন তিনি এবং বাংলার মেহনতি মানুষদের মতোই তিনি ও তাঁর পরিবার সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। যা বাংলার অন্য কোনো নেতা সম্পর্কে বলা দুষ্কর।

মওলানা ভাসানীকে নিয়ে শ্রেষ্ঠ কাজটি করেছেন প্রয়াত আবুল মকসুদ সাহেব। তাঁর সাথে তুলনীয় হতে পারেন না মহিউদ্দিন আহমদ। পরিশ্রম, তথ্যসূত্র এবং ব্যপ্তি - এই তিন ক্ষেত্রেই সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেব তুলনাহীন। তবু সংক্ষেপে পড়তে চাইলে মহিউদ্দিন আহমদের বইটি মন্দ না।
Profile Image for Ashik.
221 reviews42 followers
July 27, 2024
মওলানার মাথার তালপাতার টুপিটা তার ছিল মুকুট এবং বাংলার কোটি মজলুম জনতার হৃদয় ছিল তার সিংহাসন।

ইতিহাসের দলীয়করণের নগ্ন উৎসবের মাঝে সত্যিকারের জননেতাদের নিয়ে চর্চা হওয়াটা এখন সময়ের দাবি।

বইয়ের শেষদিকে তাড়াহুড়ার ছাপ স্পষ্ট, যেমনটা লেখক উল্লেখ করেছেন বইয়ের ভূমিকায়।
Profile Image for Siam.
43 reviews
September 2, 2024
মাওলানা ভাসানী পাঠ এর প্রাথমিক যাত্রা বইটার মাধ্যমে শুরু করা যায়।
ভাসানী সাহেব এর মনে ঢুকার দরজা এই বই না। বইটা মাওলানার রাজনীতি আর তার বয়ান এর আশেপাশে ঘুরঘুর করে। ভেতরে ঢুকার ইচ্ছা পোষণ করলেও কেন যেন ঢুকতে পারে না।
তবে এই কেন এর জবাব আছে, জবাব হলো বইটা স্মৃতিকথার সমগ্র।
মওলানার আশেপাশে মানুষ এটার মধ্যে নিজের চশমায় মওলানার কার্যক্রম দেখে আর যাচাই করে।
মওলানাকে মওলানার চশমায় তাই দেখা যায় কম।

তবে বইটাতে মওলানার বিভিন্ন লেখা ও উঠে আসছে। এগুলো মূলত তৎকালীন রাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলনগুলোতে মওলানার কী কথা সেগুলো। মূল কথা, মাওলানা যে এসবই বলবেন তা আমরা আগে থেকে জানি। ঐটাই ডমিনেটিং মত ছিলো তখন, তাই মওলানার ওসব লেখায় আলাদা কোনো অন্তর্দৃষ্টি অন্তত তার রাজনৈতিক আদর্শের সাথে ঘটে যাওয়া চলমান ঘটনাগুলোর সম্পর্ক কি সেগুলো নির্ণয় করতে দেখি না।
এখানে আরেকটা কারণ আছে না দেখার , মাওলানা বিভিন্ন সময় রেফারেন্সের কথা বলছেন বটে তবে তিনি তার মাটির সাথে সম্পর্ক কী এটা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শ নিঃসন্দেহে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইতেন।

তবে মাওলানা ইসলামী সমাজতন্ত্র বলতে কি বুঝান এটার ইকোনমিক্স পারস্পেক্টিভ কী এটা নিয়ে লেখক একটা তুলনামূলক লেখা লিখলে বইটার শ্রীবৃদ্ধি ঘটত।

শেরেবাংলা - সোহরাওয়ার্দী - শেখ মুজিবের সাথে মওলানার দৃষ্টির মিল - অমিল দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বটে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে শেখ মুজিবের সাথে।
এটা ঠিকঠাক কাজ হয় নাই। শেখ মুজিবে��� মতে মাওলানা উদার না, স্বার্থপর এটা তো মানুষ জানেই।
কিন্তু, শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দীর সাথে ভাসানীর মতের মিল অমিল আরো ভালোভাবে দেখানোর দরকার ছিল।

ভাসানীর মুক্তিযুদ্ধকালীন, অবস্থান অস্পষ্ট। তাকে ভারতীয় দেখানোর চেষ্টা আছে, অন্যের কথা ধার করে, আবার মাওলানার চীন সম্পর্কের জন্য পাকিস্তানের দিকে তিনি ঝুঁকে আছেন এটারও আবার দেওয়া হয় অন্যের কথা ধার করে।
মাওলানা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থান তাই অপরিষ্কার। এমনকি মাওলানা কে যে ভারত গৃহবন্দী ও প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল সেটা অনেক রয়ে সয়ে স্বীকার করা হয়েছে বইয়ে।

মাওলানা সাম্রাজ্যবাদী একনায়ক তান্ত্রিক মুজিব এর প্রতি দুর্বল ছিল, এটা দেখানো হয়েছে ৭৫ এর পটভূমির পর, তাও অন্যের স্মৃতিকথা ধার করে। তবে সেই স্মৃতি কথার পূর্ণাঙ্গ সমালোচনা করা হয়নি। মাওলানা এক কথায় বা মুজিব এক কথায় মাওলানাকে যে ত্যাগ করেছেন এটার পরেও মাওলানা মুজিবের উপর আবেগ থাকবে তাও এত বেশি যে মসজিদে তার জন্য দোয়া করছেন এটা বিশ্বাস করা মুশকিল।

বিশাল কলেবরের মতো দেখতে হলেও। এই বই তাই অপূর্ণ, কারণ স্মৃতি কথার যেখানে দেওয়া খারাপ না। কিন্তু স্মৃতি কথাগুলোর ক্রসচেক ও বিশ্লেষণ এমন রাজনৈতিক একটা বইয়ের মধ্যে থাকা চায়। এটা না হওয়ায় বইটা দেখতে শুনতে মোটা তবে মাথার মধ্যে ফাঁপার মতো একটা জিনিস হয়েছে ।


তবে বইটার একটা সার্থকতার দিক আছে , মাওলানা ভাসানী যে শ্রমিক ও মাটির মানুষের জন্য সকল ইতিহাস সকল তথ্য এবং এক কথায় সকল রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তাদেরই জন্য ভাবতে চেয়েছেন এটা পরিষ্কার হয়েছে। বইটা তাই হয়তো প্রাথমিক পাঠের জন্য তুলে রাখা যায়।
Profile Image for Nasim Bin Jasim.
116 reviews4 followers
October 13, 2024
মাওলানা ভাসানীর ইতিহাস যে এতবড় হবে চিন্তা করায় যায়না ।
মাটি ও মানুষের সাথে মিশে যাওয়া মানুষ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কৃষকের জন্য তথা মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন । অথচ তার অবদান তার নেতৃত্বের কথা কোন পাঠ্যবইতে তেমনভাবে তুলে ধরা হয়নি ।

লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়া মহান নেতা অবদানের কথা জাতির স্মরণ করা উচিত।
Profile Image for Wreet Sarker.
51 reviews49 followers
October 21, 2024
ব্যক্তি ভাসানীর চরিত্র বেশ জটিল। তিনি আসলে কী চান সেটার অনেক কিছু তাঁর কাছের মানুষেরাও বুঝতে পারত না। ১৯৬৬ এর ছয় দফা ভাসানী সমর্থন করেন নাই। কারণ তিনি ভেবেছিলেন এতে পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাবে। ৭১ এর শুরুতে তিনি আবার স্বাধীন 'পূর্ব পাকিস্তান' চাইছিলেন। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা একটি চিঠিতে ভাসানী ভারতের সাথে বাংলাদেশের কনফেডারেশন ও চেয়েছিলেন।

ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে ভাসানী ছিলেন নিস্পৃহ। আইনসভার প্রার্থী হয়েছিলেন দুবার, সর্বশেষ ১৯৪৮ সালে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাতা হয়েও সেই দলের হয়ে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তিনি সবসময়ই সরকারের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন বদ্ধপরিকর। যেই ইন্দিরা গান্ধীকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিজের মেয়ে বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই ইন্দিরাকে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে কট্টর ভাষায় সমালোচনা করতে ছাড়েননি।

বইয়ের কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর অংশ উদ্ধৃতি গুলো। লেখক বলেছেন এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে এটা করতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রেই ভাসানী গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন(বিশেষ করে শুরুর দিকে)। বইটা মূলত মওলানা ভাসানী কে নিয়ে, তবে অনেকক্ষেত্রে লেখক এমন ৪-৫ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়েছেন যেখানে মওলানার উল্লেখও নেই। মওলানার শুরুর জীবনের কথা বিশেষ কিছু নেই। তিনি কীভাবে মজলুম জননেতা হলেন, শ্রমিক - কৃষক প্রভৃতি খেটে খাওয়া মানুষের কেন তিনি এতো আপন তা বিস্তারিত জানার ইচ্ছা মেটেনি।

প্রায় হাজার টাকা মূল্যের এই বইটি যে ভাসানী সম্পর্কে জানার খুব ভালো উৎস তা বলার উপায় নেই। তবে বইটি নিঃসন্দেহে 'প্রফেট অফ ভায়োলেন্স' ভাসানী সম্পর্কে আগ্রহ বাড়িয়ে দিল।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.