Jump to ratings and reviews
Rate this book

এ টাইম টু কিল

Rate this book
ত্রিশ হাজার বাসিন্দার ফোর্ড কাউন্টিতে ৭৪%-ই শ্বেতাঙ্গ। এখানেই গণধর্ষণের শিকার হলো দশ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ শিশু টনিয়া হেইলি। প্রকাশ্য আদালতে শ্বেতাঙ্গ ধর্ষকদের ব্রাশ ফায়ারে ঝাঁঝরা করে দিলো মেয়েটার বাবা। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল খবর।
হাজির হলো কুখ্যাত শ্বেতাঙ্গ সংগঠন কু ক্লাক্স ক্ল্যান। ডিনামাইট হামলার শিকার হলো হেইলির আইনজীবী জেইক ব্রিগেন্স। খুন হলো জেইকের সেক্রেটারির স্বামী, অপহৃত হলো তার সহকারিণী।
বসে নেই কালো মানুষরা। এগিয়ে এসেছে তাদের মহানায়ককে রক্ষা করতে। আট হাজার কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত কাউন্টির আদালত ভবন ঘিরে রেখেছে কুড়ি হাজার কৃষ্ণাঙ্গ।
পাগল হওয়ার দশা জেইক ব্রিগেন্সের। স্নাইপার রাইফেলের নল তাক করা আছে তার মাথা বরাবর। ওদিকে জুরি বোর্ডের সবাই শ্বেতাঙ্গ। তবে হাল ছাড়ার পাত্র না জেইক ব্রিগেন্স। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো বার কাউন্সিল থেকে বহিষ্কৃত এক আইনজীবী আর এক ডিভোর্স ল’ইয়ার। আরও একজন হাত বাড়িয়েছে সাহায্যের; রহস্যময় এক চরিত্র–মিকি মাউস।
এগিয়ে আসছে সেই চরম মুহূর্ত।

560 pages, Hardcover

First published January 1, 1989

4 people are currently reading
47 people want to read

About the author

John Grisham

488 books90.5k followers
John Grisham is the author of more than fifty consecutive #1 bestsellers, which have been translated into nearly fifty languages. His recent books include Framed, Camino Ghosts and The Exchange: After the Firm.

Grisham is a two-time winner of the Harper Lee Prize for Legal Fiction and was honored with the Library of Congress Creative Achievement Award for Fiction.

When he's not writing, Grisham serves on the board of directors of the Innocence Project and of Centurion Ministries, two national organizations dedicated to exonerating those who have been wrongfully convicted. Much of his fiction explores deep-seated problems in our criminal justice system.

John lives on a farm in central Virginia.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (34%)
4 stars
15 (57%)
3 stars
1 (3%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,114 reviews1,093 followers
July 2, 2023
একবার কল্পনা করুন তো, আপনার ছোট্ট ফুটফুটে একটা মেয়ে যার বয়স সবে মাত্র ১০। যাকে ধর্ষণ করছে পাড় মাতাল দুই শেতাঙ্গ। যার ডান পা টা বাঁধা একটা গাছের সাথে। বাম পা-টা বেঁধেছে বেড়ার একটা খুঁটির সাথে। উপর্যুপরি ধর্ষণ করেই চলেছে বাচ্চাটাকে। অশ্লীল গালাগাল করছে। কারণ, বাচ্চা মেয়েটা স্রেফ কৃষ্ণাঙ্গ। মেয়েটা দুই শেতাঙ্গের কাছে কাকুতি মিনতি করছে তার বাবার কাছে যাওয়ার জন। আর সেই দুই সাদা বেজন্মা বাচ্চাটাকে ছেড়ে দেওয়ার বদলে মুখে লাথি মেরে চোয়াল ভেঙে দিচ্ছে। ভেঙে দিচ্ছে দাঁত, নাক। একবার কল্পনা করুন, দুই মাতাল জারজ বিয়ার ঢেলে দিচ্ছে মেয়েটার গায়ে, প্রস্রাব করছে মেয়েটার মুখে। বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে পিশাচের মতো হাসছে।

বিষয়টা খুব কঠিন তাই না। ছোট মেয়েটির বাবা-মা হিসেবে আপনি কী করবেন? আপনি কি আইনি পন্থা মেনে উপযুক্ত শাস্তির জন্য অপেক্ষা করবেন, নাকি আপনার প্রথম ইচ্ছা হবে আপনার নিজের হাতে ন্যায়বিচার নেওয়া? জারজ দুটোকে উচিত শিক্ষা দেওয়া?

ঠিক সেরকম এক বাবার গল্প নিয়েই এই উপন্যাস 'এ টাইম টু কিল' । লিগ্যাল বা কোর্টরুম থ্রিলার বলতে আমরা যা বুঝি তার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট একটা উদাহরণ। যার প্রত্যেকটা পাতা গলাধকরন করবেন টানটান উত্তেজনা নিয়ে।

বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সেরকম কোর্টরুম/লিগ্যাল থ্রিলার কিন্তু নেই আর থাকলেও পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। এমনকি অন্যান্য ভাষার কোন লিগ্যাল থ্রিলারও না । এবছর লেখক সামসুল ইসলাম রুমির 'কাঠগড়া' নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম। কিন্তু সেটাও বৃহৎ পরিসরে না। তবুও বইটা লিগ্যাল থ্রিলারের প্রতি একটা আলাদা আগ্রহ জাগিয়েছিল। ঠিক এ কারণেই হাতে তুলে নিয়েছিলাম জন গ্রিশামের এ টাইম টু কিল।

অনুবাদক খালেদ নকিব চমৎকার কাজ দেখিয়েছেন বইটিতে। বোধ করি চমৎকারের চেয়েও বেশি। মারাত্মক সাবলীল। তার অন্যান্য অনুবাদ পড়া হয়নি কখনো। এখন একটা আস্থা তৈরি হয়ে গেল ।জমিয়ে বাকি অনুবাদ গুলো পড়া যাবে ।

অনুরোধ থাকবে অনুবাদক ও প্রকাশকের কাছে। জেইক ব্রিগেন্সের পরবর্তী দুটো উপন্যাস খুব দ্রুত চাই।
Profile Image for Taznina Zaman.
251 reviews63 followers
August 15, 2024
বইটা পড়তে পড়তে ব্লকে পড়ে গেছিলাম। তাই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে বইটা অসাধারণ টাইপের কিছু লাগেনি আমার কাছে। কেন? কিছু কারন লিখলাম।

* ৫৬০ পৃষ্ঠার একটা বই অথচ অসহ্য রকমের স্লো। প্রিভিউ পড়ে প্রথমেই জানা যায় কার্ল লি হেইলির মেয়েকে খুবই বিভৎস উপায়ে রেইপ করা হবে এবং হেইলি দুইজন ধর্ষককে খুন করবে। এরপরে যা হয়েছে যা কেবল এই দুই ঘটনার aftermath মাত্র। ফাঁকে ফাঁকে দুই চারটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, কিন্তু সেগুলো এই ৫৬০ পৃষ্ঠার কোন গহ্বরে লুকিয়ে আছে, তা অনেকটা খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার চেষ্টার মতো। শেষ ৬০-৭০ পৃষ্ঠায় যা কিছু গতি পাওয়া যায় কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত হাল ধরে রাখা কঠিন।

* উপন্যাসের বেশিরভাগ চরিত্রই গ্রে। তারা পুরোপুরি ভালোও না, আবার পুরোপুরি মন্দও না। এই জিনিসটা আমার ভালো লাগেনি। বিশেষ করে গল্পের নায়ক জেইক ব্রিগেন্স। তার কিছু গুণাবলী বলি।

১. সে নিজের সেক্রেটারি ইথেলকে দুই চোখে দেখতে পারে না। গোটা উপন্যাসে একটা জায়গা নেই যেখানে সে ইথেলকে একটু সম্মান করে। অথচ তার ল ক্লার্ক অ্যালেনের সাথে হালকা ফ্লার্ট করে (তরুণী এবং সুন্দরী বলে কথা। 🫤)

২. জেইক কেসটা নিয়েছে যতটা কালোদের প্রতি ভালোবাসার জন্য তার চাইতে অনেক বেশি তার নিজের ক্যারিয়ারে আরো উন্নতি করার জন্য।

৩. জেইকের চোখে সবাই খারাপ। যাকে বলে বিশ্ব হিংসুটে এবং হামবড়া। সুলিভান ফার্মের ল ইয়ার, রুফাস বার্কলি, ওমর নুজ সবাই খারাপ শুধু সে একা ভালো।

এছাড়াও আরো কিছু চরিত্র বিশ্লেষণ করা যাক।

রুফাস বার্কলিঃ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কিন্তু আচরণ বিরক্তিকর, তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে খারাপ ভাবে। কারন সে যদি ভালো হয় তাহলে তো জেইক নায়ক হতে পারবে না।

লুসিয়েনঃ খুবই প্রতিভাবান আইনজীবী কিন্তু পাঁড় মাতাল।

ওজিঃ সে একজন শেরিফ অথচ সে কার্লকে এক্সট্রা খাতির করে। কার্ল যদি একজন শ্বেতাঙ্গ হতো, তাহলে কি সে খাতিরগুলো পেতো? জানি না।

রেভারেন্ড অ্যাজিঃ একজন রেভারেন্ড অথচ অর্থলোলুপ।

নুজঃ একজন ক্ষমতালোভী বিচারক।

হ্যারি রেক্সঃ একজন ডিভোর্স ল ইয়ার অথচ হাবভাব ক্লাউনের মতো।

মানে একটা চরিত্র পাওয়া যায় না যাকে মনে মনে ভালো লাগতে পারে বা মনে দাগ কাটতে পারে।

* এক জায়গায় হ্যারি রেক্সের জবানীতে রেপিস্ট আর পিএলও (যদি ভুল অর্থ না করি তাহলে এর পূর্ণ নামটা দাঁড়ায় প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন) এই দুইটাকে সমার্থক ভাবে দেখানো হয়েছে! আই মিন, সিরিয়াসলি! আমেরিকানরা ভিয়েতনাম আক্রমন করে ফিরলে তাদেরকে ভ্যাটেরান আখ্যা দেয়া হয় আর প্যালেস্টাইনের মুক্তি চাইলে তারা রেপিস্টদের সমান হয়ে যায়? থুথু মারি এমন মানসিকতার বিরুদ্ধে।

* শেষ দিকে উপন্যাসের খেই হারিয়ে ফেলেছে। ইথেল বা অ্যালেনের ব্যাপারে আর কিছু লেখা হলো না। যেন লেখক নিজেও কাহিনীকে চুইংগামের মতো টানতে টানতে বিরক্ত হয়ে গেছেন।

* অনুবাদ কিছু জায়গায় খুবই বিরক্তিকর। সদ্যযোগ দেয়া সহকারিণী কিংবা বস্ত্রহরণ এই টাইপের শব্দ এই ২০২৪ সালে মানায়? খুঁজলে আরো পাওয়া যাবে, ধৈর্য্য কুলায়নি।

এবং শেষ কথা, বর্ণবাদকে পুঁজি করে একটা ট্রায়াল ম্যানিউপুলেট করা কতটা ন্যায়সঙ্গত, প্রশ্ন থেকেই যায়।

আমি মনে হয় না এটা আর দ্বিতীয়বার পড়বো।
Profile Image for Rakib Hasan.
464 reviews80 followers
December 14, 2025
কোর্টরুম থ্রিলার আমার বরাবরই পছন্দের, আর জন গ্রিশামের এ টাইম টু কিল সেই জনরার একটি জনপ্রিয় বই। বর্ণবাদ, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার জটিল প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে গল্পটি এগিয়েছে, যেখানে আইন শুধু আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সামাজিক বাস্তবতার সাথেও সংঘর্ষে আসে। কিছু কিছু অংশে অতিরিক্ত নাটকীয়তার কারণে একটু স্লো মনে হয়েছে এবং জ্যাক চরিত্রটি কয়েক জায়গায় একমাত্রিক ও বিরক্তিকর মনে হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে কোর্টরুম দৃশ্য, আইনি যুক্তি এবং বিষয়বস্তুর গভীরতার কারণে বইটি বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Tasmin Nisha.
164 reviews5 followers
July 14, 2023
আমেরিকার ফোর্ড কাউন্টির মতো ছোট্ট শহরে কয়েকদিনের ব্যবধানে পুরো শহরের পরিবেশ বদলে যায়। অন্যসব জায়গার মতো এখানেও বর্ণবাদী আচরণের দৃষ্টান্ত উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় দশ বছরের কৃষাঙ্গ শিশুকে দু'জন শেতাঙ্গের ধর্ষণ করার মাধ্যমে। মাদক ব্যবসায়ী ও ধনী পরিবার থেকে আসা বিলি রে কোব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তার পার্টনার উইলার্ডের সাথে মিলে টনিয়া হেইলিকে ধর্ষণ করে এক ঝোপে ছুড়ে ফেলে চলে আসে, তাদের মতে কৃষাঙ্গদের এটি প্রাপ্য। সেখানকার পুলিশ ওজি ওয়ালসের প্রথমেই সন্দেহ যায় কোবের দিকে। পরবর্তীতে গ্ৰেফতার করা হয় দু'জনকে। শুরু হয় বিচার পর্ব।

মেয়ে টনিয়ার মুমূর্ষু অবস্থা সহ্য করতে না পেরে বাবা কার্ল লি কিছু একটা করার জন্য অস্থির হয��ে যাচ্ছিল, যেখানে অধিকাংশ বিচারকই শেতাঙ্গ সেখানে তার মেয়ে বিচার পাবে না বলে তার বিশ্বাস। সেখানকার ক্রিমিনাল লয়ার জেইক ব্রিগেন্সকে আগেভাগে কার্ল লি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল যে দুই ধর্ষককে সে নিজেই শাস্তি দিবে এবং সে চায় এমন কিছু ঘটার পর জেইক যেন তার হয়ে কেস লড়াই করে। জেইক শেতাঙ্গ হলেও কৃষাঙ্গদের সাথে যথেষ্ট সুসম্পর্ক বজায় চলে, মোটে সে বাকিদের মতো বর্ণবাদী নয়।

কার্ল লি তার ভাই লেস্টারের সাথে নেমে পড়ে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বিচার চলাকালীন দুই রেপিস্টকে গুলি করে হত্যা করে কার্ল লি। সাদা কালোর মধ্যে যে চলমান ব্যবধান তা দ্রুত গতিতে আরও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এই ঘটনার পর। কার্ল লি এর বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার পক্ষ হয়ে লড়াই করে জেইক এবং বিপক্ষে রুফাস বাকলি। কার্ল লি এর কেসটি ছিল জেইক এর এ যাবৎ কালে সবচেয়ে আলোচিত কেস, এই কেসটি তার জন্য হতে পারে নামকরা আইনজীবী হওয়ার সুগম পথ। কেসের কাজ শুরু হতে না হতেই জেইক নানারকম হুমকির সম্মুখীন হয়, উদ্দেশ্য কেস থেকে জেইকের সরে যাওয়া। একের পর এক তারিখ ঠিক করা হয় অন্তিম বিচারের জন্য। যুক্ত হয় সাদা ও কালো উভয় পক্ষের সন্ত্রাসী দলেরা।

শেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গের ভিন্ন চাল চলন, তাদের একে অপরের প্রতি ঘৃণা, আইনসম্পর্কিত নানান তথ্য এই বইয়ে দেখতে পাওয়া যায়। এক কথায়, একটা কোর্ট হাউসের পরিবেশ কেমন হতে পারে তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক। এবার যদি আসি মূলগল্পে তবে প্রথমদিকের কিছু অংশ ও শেষের পঞ্চাশ পেইজে টান টান উত্তেজনা অনুভব করা বাদে পুরো গল্পটি মাত্রাতিরিক্ত ধীরগতির।

অনুবাদ নিয়ে যদি বলি তাহলে এইটুকুই বলবো যে এর চেয়ে বাজে অনুবাদ করা বই আমি এর আগে পড়িনি। যদিও আমি অনুবাদ করা বই খুব কমই পড়িছি। একে তো বইটি এমনিতেই ধীর গতির তার মধ্যে অনুবাদের কারণে পড়তে বেশ স্ট্রাগল করতে হয়েছে, একই লাইন বারবার পড়তে হয়েছে বোঝার জন্য। বাজে অনুবাদের কিছু নমুনা নিম্নে দেওয়ার চেষ্টা করলাম:

× গল্পের যেকোনো চরিত্রের নাম একেক সময় একেক নামে সম্বোধন করা, এখন এতোগুলো চরিত্রের পুরো নাম তো মনে রাখা সম্ভব না। যেমন: বিলি রে কোবকে একবার বিলি বলে সম্বোধন করা আরেকবার কোব বলে।

× অনুবাদে প্রচুর অসংলগ্নতা দেখতে পাওয়া যায় যেমন ১৪৫ পৃষ্ঠাতে একটি বাক্য ছিল এমন " আইন অনুসারে আপনারা যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, কোনো নাগরিকের সন্দেহভাজন কোনো বিষয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার কোনো বিষয়, যে কোনো লোকের অথবা যে কোনো বিষয় যা আসলেই সন্দেহজনক।" এটা কেমন বাক্য, যে কোনো বিষয় টা কি?

× বাক্য সাজানোতে অসংগতি যেমন ৩০৪ পৃষ্ঠাতে একটি বাক্য ছিল " কোনো লাইট জ্বেলো না।" জ্বেলো টা কি?

পাঁচশো পৃষ্ঠার একটি বইয়ের অনুবাদের এই নমুনা হলে গল্প আগান খুবই কষ্টকর হয়ে যায়, একশো পেইজ পড়েই আমার মনে হয়েছিল রেখে দেই তবুও শেষে কি হবে এই আশায় বইটা সম্পূর্ণ পড়া। পরিশেষে ,বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটিরও শোচনীয় অবস্থা, যেকোনো সময়ে বই মাঝ থেকে খুলে পড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।
Profile Image for Anjan Das.
419 reviews17 followers
January 29, 2025
ত্রিশ হাজার বাসিন্দা নিয়ে মিসিসিপি স্টেটের একটা ছোট কাউন্টি হচ্ছে "ফোর্ড কাউন্টি"।যেখানে ৭৪% ই শ্বেতাঙ্গ মানুষ।সেই কাউন্টিতে কার্ল হি হেইলি নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাক্তি তাঁর স্ত্রী,দুই ছেলে এবং টনিয়া হেইলি নামে দশ বছরের এক ফুটফুটে মেয়ে নিয়ে বসবাস করে।একদিন সকালে গ্রোসারি শপ থেকে মেয়েটি বাজার করে ফেরার সময় " বিলি রে কোব" এবং "উইলার্ড " নামে দুই মাতাল শ্বেতাঙ্গ কুলাংগারের খপ্পরে পড়ে।এরপর শুরু হয় উপর্যুপরি ধর্ষন এবং অমানবিক অত্যাচার।মেয়েটির ডান পা বেঁধে রাখা হয় একটা গাছের সাথে,বাম পা বেঁধে রাখা হয় বেড়ার একটা খুঁটির সাথে।চিৎকার করে দুই কুলাংগারের কাছে কাকুতি মিনতি করছে বাচ্চা টা তার বাবার কাছে যাওয়ার জন্য।চিৎকার করার জন্য ছেড়ে দেওয়ার বদলে বাচ্চাটার চোয়ালে লাথি দিয়ে ভেংগে দিয়েছে সেই দুই কুলাংগার।শুধু তাই না মুখে প্রস্রাব করে দিচ্ছে,বিয়ার ঢেলে দিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে তারা দুইজন।

কার্ল লি হেইলি বাড়িতে এসে যখন দেখতে পায় মেয়ের শোচনীয় অবস্থা তখন বাবা হিসেবে কি করণীয় হবে তাঁর?জার‍য দুইটা কে নিজ হাতে শাস্তি দিবে নাকি প্রোপার আইন মেনে দেশের আইন ব্যবস্থার উপর ভরসা করে থাকবে??

না কার্ল লি হেইলি দেশের আইন ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখে নি।শ্বেতাঙ্গ দুই জারয কে যখন শেরিফ "ওজি ওয়ালস" প্রাথমিক শুনানি শেষে কোর্টহাউজ থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ই ঝাঁপিয়ে পড়ে এম-১৬ রাইফেল দিয়ে দুই কুলাংগারকে একদম ঝাঝরা করে দেয় কার্ল লি হেইলি।ঘটনার পর পর ই কার্ল লি কে গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে আসা হয় এবং সাথে সাথেই কার্ল লির আইনজীবী হিসেবে দৃশ্যপটে আর্বিভাব হয় উপন্যাসের মূল নায়ক "জ্যাক ব্রিগেন্সের"।একজন কৃষ্ণাঙ্গকে বাঁচাতে আবির্ভাব হয় এক শ্বেতাঙ্গ আইনজীবীর।

অন্যদিকে মুদ্রার উল্টোপিঠে জনতার আইনজীবী অর্থ্যাৎ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হন " রুফাস বাকলি"।৭৪% শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত কাউন্টিতে দীর্ঘদিন ছড়ি ঘোরাতে থাকা সাদাদের চাওয়া রুফাস বাকলির মতই গ্যাস চেম্বারে নেওয়া হোক কার্ল লি কে।সেই চাওয়া নিশ্চিতকরণের জন্য উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ সংঘটন কুখ্যাত "কু ক্ল্যাক্স ক্যান" অব্দি রাস্তায় নেমে পড়েছে।শুরু হয়েছে রাজনীতির নোংরা এক খেলা।কৃষ্ণাঙ্গ কমিউনিটির ল ফার্ম থেকে প্রচারের আলো পাওয়ার জন্য হেইলির আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত জ্যাক ব্রিগেন্সকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চলছে জোর প্রচেষ্টা।সংবাদমাধ্যম,টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকেরা প্রতিদিন নতুন নতুন খবর পাওয়ার জন্য কোর্টহাউজের সামনে জড়ো হচ্ছে।ক্যাফে,রেস্তোরাঁ সহ জনবহুল সব জায়গায় সেই জোড়া খুনের মামলায় সরব চারদিক।

এত এত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে ৭৪% শ্বেতাঙ্গ মানুষের মধ্যে ১২ জন নিরপেক্ষ জুরি পাওয়া কি আদৌ সম্ভব?সারাজীবন নির্যাতিত হতে থাকা কালোদের হিরো কার্ল লি হেইলি কে কি বাঁচাতে পারবে জ্যাক ব্রিগেন্স?টনিয়া হেইলি কি তাঁর বাবাকে ফেরত পাবে??এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই পড়তে হবে লেখক জন গ্রিশামের বিখ্যাত বই এ "এ টাইম টু কিল" এবং পড়ার মাঝপথেই মনে একটা প্রশ্ন উঁকি দিবে কার্ল লি হেইলি কি guilty নাকি not guilty?

পাঠ প্রতিক্রিয়া :–

টান টান উত্তেজনা,পাতায় পাতায় থ্রিল কি আছে বইটিতে? উত্তর হবে "না"।বেশ স্লো বার্ন টাইপ একটা বই এটি কিন্তু বইটা শেষ করার পর এর রেশ আমার মনে অনেকক্ষণ রয়ে গেছে।মুগ্ধতায় আছন্ন হয়ে রয়েছিলাম পড়া শেষে।

সাধারণত মুভি সিরিজে আমরা কোর্টরুমে "ট্রায়াল" অংশটা দেখি।কিন্তু সেই ট্রায়ালের আগের সেই প্রক্রিয়া টা সাধারণত দেখি না বা দেখানো হয় না।বইটিতে ট্রায়ালের আগের পুরো খুঁটিনাটি বর্ননা একদম স্টেপ বাই স্টেপ আকারে বিশদভাবে বর্ননা করা হয়েছে।প্রাথমিক শুনানি,এরপর ভেন্যু নির্বাচন,প্রমানাদি সহ সাক্ষী উপস্থাপন,এরপর ১২ জন জুরি বাছাইকরণ এবং সাথে ২জন বিকল্প জুরি বাছাইকরণ সহ প্রতিটি বর্ননা ছিল একদম টপ নচ।

মূল প্রোটাগনিস্ট জ্যাক ব্রিগেন্সের উপর বার বার হামলার পর তাঁর মানসিক দৈনদশা বা কার্ল লি হেইলির পরিবারের মানসিক অবস্থা,আমেরিকার তৎকালিন সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিস বর্ণবাদের মত সেন্সিটিভ জিনিসের পুরো চিত্র তুলে ধরা সহ প্রতিটি ধাপ ছিল দুর্দান্ত।বড় বইয়ে ক্যারেক্টর বিল্ড আপ খুবই জরুরি যা এই বইটিতে পুরোপুরি ভাবে দেখানো হয়েছে।

লিগ্যাল বা কোর্টরুম থ্রিলারের সবচেয়ে আকর্ষনিয় দিক বা উত্তেজনার জিনিস হচ্ছে কোর্টরুমের ভিতর দুই উকিলের মধ্যেকার যুক্তি তর্ক আইনের মারপ্যাঁচ দিয়ে একজন আরেকজন কে পরাস্ত করার প্রচেষ্টা।এখানেও লেখক দশে দশ পাবেন।স্লো বার্ন বইটার মধ্যে সবচেয়ে টান টান থ্রিল এবং এক্সাইটিং মুহুর্ত হচ্ছে ট্রায়ালের সময়ে দুই আইনজীবীর তাদের নিজ সাক্ষ্য প্রমাণ কোর্টের কাছে পেশ করে উপস্থাপন করা,উইটনেস ক্রস এক্সামিনেশন করে যুক্তি তর্ক বাগবিতণ্ডার মাধ্যমে সেগুলা উপস্থাপনের মুহুর্ত গুলা ছিল এক কথায় দুর্দান্ত।সেই স্পেসিফিক অংশটুকু পড়ার সময় Literally "I was on the edge of my seat".

বইটা কেন আন্ডাররেটেড থ্রিলার :–

থ্রিলারের জনপ্রিয়তা এখন এদেশের বইপাড়ায় আকাশচুম্বী।থ্রিলারের সাব জনরাগুলো যেমন পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার,ডিটেকটিভ থ্রিলার,স্পাই থ্রিলার,সারভাইভাল থ্রিলার,সুপারন্যাচারাল থ্রিলার যতটা জনপ্রিয় সেক্ষেত্রে লিগ্যাল থ্রিলার অতটা নয় এদেশে।আইনের মারপ্যাচ,কোর্ট কাচারির নিয়ম কানুন হয়ত অনেকের পছন্দ নয় সেজন্যই হয়তো এই দুর্দান্ত বইটা অনেকটা আড়ালে থেকে গেছে।৫৬০ পেইজের বিশাল কলেবরের বই হওয়ায় হয়ত অনেকেই বড় বই পড়তে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না সেটাও আরেকটা কারণ হতে পারে বইটি সঠিক প্রচারে না আসার।

যারা ভায়োলেন্স কম পছন্দ করে,আইনের মারপ্যাচ বুঝতে সমস্যা হয় না বা আইনের ছাত্র,কোর্টরুম ড্রামা ব্যপক পছন্দ তাদের জন্য একদম পয়সা উসুল করার মতো একটা বই এটি।

অনুবাদ কথন :–

বিশাল কলেবরের স্লো বার্ন থ্রিলারের অনুবাদ পড়ার প্রথম শর্ত হল অনুবাদ ঝরঝরে এবং সাবলীল হতে হবে।এক্ষেত্রে অনুবাদ যথেষ্ট সাবলীল ছিল কিন্তু কিছু দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করা ছাড়া।একটা নেগেটিভ পয়েন্ট হচ্ছে বইয়ের এক ই চরিত্র কে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে সম্বোধন করে লিখেছে অনুবাদক।যেমন বিলি রে কোব কে একবার " বিলি" এক জায়গায় আরেক জায়গায় "কোব" সম্বোধন করা হয়েছে।এইরকম ভুল আরো কিছু জায়গায় দেখা গেছে যা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।

This is one hell of a book.একজন বাবার সন্তানের প্রতি ভালোবাসার নির্দশন স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।সন্তানের কোন কিছু হলে বাবা কোন পর্যন্ত যেতে পারে তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হল এই বইটা।তার সাথে নোংরা রাজনীতির খেল,সেই আমলে বর্ণবাদের মত ভয়াল জিনিসের পারিপার্শ্বিক অবস্থা সব কিছু পুংখানুপুংখ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
241 reviews15 followers
March 17, 2024
একটা ১০ বছরের ফুটফুটে বাচ্চা।যাকে গাছের সাথে বেঁধে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেছে দুই পাঁড়মাতাল যুবক। মেয়েটা বাবার কাছে যেতে চাইলে তাকে পেটানো হয়েছে, গালমন্দ করা হয়েছে। মেয়েটার মুখে প্রস্রাব করা হচ্ছে,গায়ে বিয়ার ঢালা হচ্ছে। মেয়েটাকে নিয়ে বীভৎস পৈশাচিক আনন্দে মেতে উঠছে দুই মানুষরূপী জানোয়ার। আপনি মেয়ের বাবা হলে কি করতেন? আইনের পথ ধরে এগোতেন নাকি নিজ হাতে খুন করতেন সেই দুই জানোয়ারকে? অবশ্যই আপনি চাইবেন যে সেই নরকের কীটদের নরকে জায়গা যেনো আপনার হাত দিয়েই হয়।

মূলত উপরের প্লট দিয়েই তৈরি জন গ্রিশামের এই "এ টাইম টু কিল"। ১০ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ শিশু টনিয়া হেইলিকে ধর্ষণ করে দুই শ্বেতাঙ্গ যুবক। প্রকাশ্য আদালতে শ্বেতাঙ্গ দুই যুবককে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে টনিয়া হেইলির বাবা কার্ল লি। কি হবে কার্ল লি-র পরিণতি? বিবেক তো বলছে যা করেছে বেশ করেছে। ধর্ষকদের পরিণতি এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্ত,আইন? নিজের হাতে আইন সবাই তুলে নিলে তো আইনব্যবস্থা বলে আর কিছু থাকবে না। তাহলে কি হবে কার্ল লি-র পরিণতি? কি হওয়া উচিত কার্ল লি-র পরিণতি?

কার্ল লি-কে তোলা হয় আদালতে। তার কেইস লড়বে জেইক ব্রিগেন্স। যে কখনো খুনের মামলায় হারেনি। সে কি পারবে কার্ল লি-কে বেকসুর প্রমাণিত করতে? নাকি এইটাই হবে তার প্রথম হার?

এই হচ্ছে " এ টাইম টু কিল"। আমার কাছে এই বইটা খুবই ভালো লেগেছে।প্রত্যেকটা পাতায় টান টান উত্তেজনা। চরিত্রগুলো খুবই নিখুঁত এবং সুন্দরভাবে সাজানো। লিগ্যাল থ্রিলার তো বটেই, তবে আমি বলবো এটা লিগ্যাল থ্রিলারের চাইতেও অনেক বেশি কিছু। সময় নিয়ে পড়ে ফেলুন। আমি খালেদ নকীবের অনুবাদটা পড়লাম। অনুবাদটাও বেশ গোছানো ও সাবলীল। সবমিলিয়ে বলবো, এটা এমন একটা বই যা আপনাকে ভাবাতে বাধ্য করবেই করবে। আর আপনি যদি হন আমার মতো আইন বিভাগের ছাত্র, তবে তো কোনো কথায় নাই। এইটা আপনার জন্য হাইলি রেকোমেন্ডেড!
Profile Image for Indranil Chowdhury.
5 reviews
March 9, 2023
#বুক_রিভিউ

ব্যাক্তিগত সংগ্রহ নাম্বারঃ ৩৭৮

বইঃ এ টাইম টু কিল

লেখকঃ জন গ্রিশাম
অনুবাদকঃ খালেদ নকীব
প্রকাশনীঃ সতীর্থ প্রকাশনা
ধরণঃ হার্ডকভার, স্ট্রেট বাইন্ডিং
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৬০
মুদ্রিত মূল্যঃ ৮০০/-

সতীর্থ প্রকাশনার এবারের বইমেলার চমক ছিল, এ টাইম টু কিল বইটি। যদিও বইটি হাতে পেয়েছিলাম আরও আগেই কিন্তু ব্যাক্তিগত কিছু ঝামেলার কারণে পড়া হয়ে উঠছিল না। কিন্তু যখন হাতে নিলাম, বইটি রাখতে পারি নাই। হয়ত অনেকেই একমত হবেন না। আমি কিন্তু আসলেই পারি নাই।

বইয়ের প্রোডাকশন বা ফার্স্ট ইম্প্রেশন নিয়ে এই পোস্টে কিছু বলব না। ওটা অলরেডি বলা হয়ে গেছে। এই পোস্ট মূলত ফোকাসড থাকবে বইয়ের বিষয় বস্তুর উপর এবং আমার ভাল/খারাপ লাগা দিকগুলোর উপর।

রিভিউর শুরুতে সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাই একটা ব্যাপারের জন্য। ৫৬০ পেইজের এই বিশাল কলেবরের বইটির মুদ্রিত ধরা হয়েছে ৮০০/- টাকা। যারা প্রি-অর্ডার করেছিলাম তারা ৫০%+ ছাড় পেয়েছে। আর যারা বইমেলার সময়ে নিয়েছেন তারাও বেশ ভালো ছাড়ই পেয়েছেন। এই অগ্নিমূল্যের বাজারে দাম আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য সতীর্থকে ধন্যবাদ। একটা জিনিস দেখে ভালো লাগলো এবারের বইমেলায়। বেনজিন, সতীর্থ, নয়া উদ্যোগসহ আরও কিছু প্রকাশনী তাদের প্রফিট মার্জিন কমিয়ে পাঠকবান্ধব দাম রেখেছে। তা না হলে অনেকেই আমরা পছন্দের বই কিনতে পারতাম না। সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ।

এবার আসি মূল রিভিউতে। বইটি রগরগে থ্রিলার না। বরং এটা কোর্টরুম ড্রামা আর থ্রিলারের মিশেল বলা চলে। বইটি যখন পড়ছিলাম, কোর্টরুম বা পাশবিকতার অতিরিক্ত বর্ণনা কেন জানিনা ভালো লাগছিল না। ভাবছিলাম এত ডেটা ডাম্প করার কী আদৌ দরকার ছিল? কিন্তু ধীরে ধীরে যখন সামনে আগালাম, বুঝলাম লেখক খুবই কৌশলের সাথে আমাদের নিয়ে খেলেছেন। তিনি আমাদের জাস্ট পাঠক না বানিয়ে এই বইয়ের ক্যারেক্টার বানিয়ে দিয়েছেন।

বইয়ের শুরুটা হয় খুব করুণ একটা ঘটনা দিয়ে। দশ বছরের শিশু, বলা ভালো দশ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ শিশু টনিয়া হেইলির ধ**ন দিয়ে। ধীরে ধীরে তা গড়ায় টনিয়ার বাবা কার্ল হেইলির সেই দুই শেতাঙ্গ পশুকে ব্রাশ ফায়ারে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার ঘটনায়। কার্ল হেইলিকে তোলা হয় আদালতে। দৃশ্যপটে আগমন ঘটে হেইলির আইনজীবী জেইক ব্রিগেন্সের, যে কখনো হারেনি খুনের মামলায়। কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো এই ঠান্ডা মাথার হত্যাকান্ডের ঘটনায় সে কি করবে হেইলিকে মুক্ত করতে যেখানে প্রত্যক্ষদর্শী ছিল এই ঘটনার? উপায় একটাই, ইনস্যানিটি প্লি।

কিন্তু???

হেইলি তো পাগল না। বরং হেইলি ঠান্ডা মাথার একজন হত্যাকারী...সেই সাথে একজন পিতা। দৃশ্যপটে আরও আসে কুখ্যাত কু ক্ল্যাক্স ক্ল্যান। বর্বরতায় যাদের জুরি মেলা ভার। প্রকাশ্যেই হত্যা করতে প্রস্তুত তারা ব্রিগেন্সকে। আরও আছে হাজার হাজার কৃষ্ণাঙ্গ, যারা যেকোন মূল্যেই মুক্ত করতে চায় হেইলিকে।

কি করবে ব্রিগেন্স যেখানে তার নিজের জীবনই একটা সুতোয় ঝুলছে?

এই নিয়ে মূল ঘটনা এগোতে থাকে সামনে। আপনি নিজেই বুঝবেন না কখন যে আপনি নিজেই জুরির চেয়ারে বসে গেছেন।

বইয়ের লেখনশৈলী চমকপ্রদ। অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি সবসময়ই একটা বিষয় খুঁজি তা হল, মূল লেখকের টোনটা ধরে রাখা। খালেদ নকীব ভাই এখানে উনার সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। একটাবারের জন্যও ছন্দপতন হয়নি। এত বিশাল কলেবরের বইতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই টোন ধরে রাখা আসলেই কঠিন কাজ ছিল। এতটুকু বলতে পারি, পাঠক এই অনুবাদ উপভোগ করবেন। লেখকের বর্ণনায় আধিক্য মনে হলেও শেষ পর্যন্ত পড়ে মনে হল, উনি আসলে আমাদের নিয়েই খেলেছেন। উনি চেয়েছেন আমরা যাতে ভিজুয়ালাইজ করি কোর্টরুম। হেইলির আবেগ যাতে আমরাও অনুভব করি। ক্ল্যানের বর্বরতায় আমরাও যাতে ঘৃণা বোধ করি। এই জায়গায় আমি আবারও খালেদ নকীব ভাইকে কৃতিত্বটা দেব। উনি মূল টোনটা ধরে না রাখলে এই জিনিস সম্ভব ছিল না।

বইয়ে চরিত্রে আধিক্য নেই। প্রায় সবকটা চরিত্রই ফোকাস পেয়েছে। তবে রো আর্ক কে আরেকটু বিল্ডাপ করা যেত। এই জায়গাটায় একটু খারাপ লেগেছে।

বইয়ে কিছু স্ল্যাং ব্যাবহার হয়েছে। এমন কিছু নাম ব্যাবহার করা হয়েছে যেগুলো প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু বইয়ের প্রয়োজনে দরকার ছিল এটা।

বইয়ে টুকটাক বানান ভুল বা টাইপো আছে। তবে আমি কখনোই এসব নিয়ে ভাবি না, যদি না সেটা পড়ার ফ্লোতে ব্যাঘাত ঘটায়। টুকটাক যা আছে এই বইতে তা কোন মেজর ইস্যু না, আমার মতে।

বই মোটা হলেও পড়তে কোন অসুবিধা হয় নাই। পেইজ ঠিকঠাক ছিল। পরিস্কার ঝকঝকে ছাপা।

তো এই আর কি...

আমার রিভিউ কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।এই রিভিউ তে আমি অতিরিক্ত বর্ণনা বা বিশ্লেষণ এভয়েড করেছি। একজন পাঠক হিসেবে আমি কি জানতে চাই একটা বই সম্পর্কে সেদিকে আমার ফোকাস ছিল। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

সবাই ভালো থাকুন। বইয়ের সাথে থাকুন।

©️Indranil Chowdhury
Profile Image for Faria Megha.
15 reviews
October 18, 2025
যারা মামলা বিষয়টা আসলে কতটা দীর্ঘমেয়াদী হয় এবং সিনেমায়/টিভিতে দেখানো কোর্টরুম ড্রামায় যে আসলে মামলার সতিকার কিছুই দেখানো হয়না সে বিষয়ে অবগত, তাদের কাছে এই বইটির গল্প অবশ্যই ভালো লাগতে বাধ্য। যারা প্রধান গল্পের বাইরে গিয়ে চরিত্রের ক্রমবিকাশ বা গল্পের সমসাময়িক পরিবেশ(ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং) ও উপভোগ করেন তাদের কাছেও বইটি ভালো লাগবে।

তবে এত বড় আকারের বই পুরোপুরি পড়ে শেষ করার জন্য ধৈর্যের পাশাপাশি অনুবাদের মান হওয়া উচিত অত্যন্ত সাবলীল। যেটা অনুবাদক দিতে অক্ষম হয়েছেন। বাক্যে প্রচুর পরিমান অসঙ্গতি, একই বাক্যে সাব্জেক্ট(কর্তা)/সর্বনামের পুনর্ব্যবহার, একই ব্যক্তির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নাম, আর ডায়লগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বাংলা শব্দ না ব্যবহার করে সাধু এবং অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার দৃষ্টিকটু ছিল।
আশা করি পরবর্তী অনুবাদগুলিতে এই সমস্যা তিনি কাটিয়ে উঠবেন।
Profile Image for শুভ্র.
70 reviews8 followers
June 18, 2023
বিল্ডআপ অনেক স্লো। প্রথম কিছু পেজের পরে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত টানতে বেশ কষ্ট হয়েছে। তবে একদম শেষ অব্দি ধারণা করা যাচ্ছিল না যে কার্ল লি গিল্টি নাকি নট গিল্টি। ঠিক এই কারণেই ৫ স্টার।
Profile Image for Sk Khokan Ahamed.
2 reviews
April 4, 2023

বইয়ের নাম : এ টাইম টু কিল
লেখক : জন গ্রিশাম
অনুবাদক : খালেদ নকীব
সতীর্থ প্রকাশনা ।
মুদ্রিত মুল্য : ৮০০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬০
রেটিং : ৪.৫/৫


বই রিভিউ :

মাত্র বারোজন লোকের হাতে একজন মানুষের জীবন মরন এর সিদ্ধান্ত । একদিকে তার দশ বছর বয়সী কন্যাকে ধর্ষণ করা হয়েছে । আর সেই ধর্ষকদেরকে নিজের হাতে উপযুক্ত সাজা দেওয়ায় আজ সে আদালতের মুখোমুখি ।

ধর্ষনের শাস্তি কি হতে পারে ? তাও আবার দশ বছর বয়সী কোনো এক বাচ্চা মেয়েকে ? কোনো চিন্তা ছাড়াই তাদের মে*রে ফেলা ছাড়া অন্য কিছু আমি ভাবি না । ঠিক এমনটাই করেছিল এক পিতা । কিন্তু সেটা ভুল সময়ে ভুল স্থানে । কৃষ্ণাঙ্গদের এমনিতেই দেখতে না পারা শেতাঙ্গদের স্বভাব ছিল তখন । ফোর্ড কাউন্টিতে দশ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ বাচ্চাকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে দুই শেতাঙ্গ । শিশুর পিতা ধর্ষকদের আদালতেই গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় । মামলা হয় পিতার নামে । আসামীর পক্ষের উকিল হিসেবে নিয়োগ হয় তরুণ আইনজীবী জেইক ব্রিগেন্স। কোনোভাবে এই মামলাটি জিততে পারলেই সে হয়ে যাবে ফোর্ড কাউন্টির সবচেয়ে নামী দামী ব্যাক্তি । রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আছেন আরেকজন নামকরা উকিল রুফাস বাকলি। গর্ভনর হওয়ার চিন্তা তার মাথায় । সব কিছুই নির্ভর করছে এই কেসের উপর । যে জিতে যাবে তার স্বপ্নই হবে পুরন । নানারকম বাধা বিপত্তির সূচনা শুরু হয়ে যায় মামলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই । হামলার শিকার হয় জেইক ও তার সহযোগীরা । তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় রাতের আঁধারে । জেইকের অফিসের সহকারী ইথেলের স্বামীকে বাড়ি এসে পিটিয়ে মেরে ফেলে । সহযোগী হিসেবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া রো আর্ককে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের করে ক্ল্যান । আদালতের বাইরে স্নাইপারের গুলির শিকার হয় জেইক । ।তবুও দমে যায়নি সে । শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যায় সে । সাহায্যের হাত আসে অদৃশ্য একজনের থেকে । মামলার রায়ের আগে কাউন্টিতে অসংখ্য কালো লোকে ভরে যায় । সাথে ক্ল্যানের সদস্যরা এসে ভিড় করে আদালত প্রাঙ্গণ ।তাদের চিৎকারে জুরি বোর্ডের সদস্যরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে । আদালতের ভুল রায়ে যেকোন পরিস্থিতি হয়ে যেতে পারে সেটা তারা ভালো করে বুঝতে পারছে । ক্লানের হুমকি থেকে তারাও বাদ পড়েনি । অবশেষে তারা এমন এক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যা হতবাক করে দেয় সবাইকে । কি ছিল তাদের রায় ? জেইক কি বাঁচাতে পেরেছিল আসামীকে ? আর যদি বাঁচাতে পারে তবে সেটা কিভাবে ? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি আপনাকে ।
Displaying 1 - 10 of 10 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.