Jump to ratings and reviews
Rate this book

মহাজাগরণ

Rate this book
উন্মাদ হয়ে গেছে ঢাকার মানুষ। দল বেঁধে হামলা করছে একে অপরের উপর। ভাঙচুর করছে দোকানপাট, গাড়ি-ঘোড়া, পোড়াচ্ছে বাড়িঘর। কিছু মানুষ আবার দেওয়ালে দেওয়ালে কুৎসিত ভয়াবহ এক দানবের গ্র্যাফিতি এঁকে বেড়াচ্ছে রাতের অন্ধকারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় নেমেছে সেনাবাহিনী। চলছে গোলাগোলি, রক্তপাত। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো শহর।
এই যখন পরিস্থিতি, তখন খুঁজে পাওয়া গেল এক তরুণ গবেষকের লেখা প্রবন্ধ, যেখানে সে কয়েক বছর আগেই এই পরিস্থিতির কথা ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন। কিন্তু সেই তরুণ কোথায় এখন? নিরুদ্দেশ! কেউ জানে না তার অবস্থান।
শুরু হলো অস্তিত্ব ও সভ্যতা রক্ষার এক অবিশ্বাস্য লড়াই, যা প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাদের চেনাজানা রিয়েলিটিকে।

96 pages, Hardcover

First published February 17, 2023

11 people want to read

About the author

Mohaiminul Islam Bappy

11 books123 followers
Mohammad Mohaiminul Islam, known as Mohaiminul Islam Bappy is a Bangladeshi thriller and SciFi writer. Born in Barisal. Grew up in Chittagong. Currently Living in Dhaka. He completed B. Sc. (Hon's) and M. Sc. (Thesis) from the University of Chittagong. His first novel "Je Shohore Golpo Lekha Baron" (The Town is Forbidden for Storytellers) was published by the renowned Bangladeshi publisher- Batighar Prokashoni in 2020.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (7%)
4 stars
16 (40%)
3 stars
13 (32%)
2 stars
6 (15%)
1 star
2 (5%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for Dystopian.
454 reviews245 followers
August 5, 2023
সাহিত্য এক্সপেরিমেন্ট গন WRONG!

★ যা আগে বাংলা সাহিত্যে লেখা হয়নি তেমন কোনো টপিক নিয়ে লিখলেই বই এর মান বাড়বে এমন কোনো কথা নাই। তারপরও সিমুলেশন মেইন টপিক হিসাবে এটা মোটেও নতুন কিছু না।
★মিডিওকোর লেখার সাথে রগরগে কিছু ১৮+ সিন এর বর্ননা দিলেই ব্যালেন্স হয়ে যায় না।
★ পুরা রক্তে ভেজা স্যালোয়ার কামিজ নিয়ে কেউ ব্রিফিং দেয় না, যত ইমপর্টেন্ট হোক না কেন৷ যেহেতু, টাইম সেনসিটিভ ইস্যু ছিল না মোটেও। ( নামকরন, ব্যাকগ্রাউন্ড এর কমন নলেজ ব্রিফিং তাও ঘটনার ৬ মাস পরে)

স্টোরির আরো ভেতরে যাওয়ার মত ইচ্ছা নেই, সেদিকে গেলে সাতারে বের হওয়া কষ্টের!
Profile Image for Aishu Rehman.
1,123 reviews1,111 followers
July 19, 2023
খুব সাদামাটাভাবে শেষ হয়েছে গল্পটা। যদিও শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। সিমুলেশন ব্যাপারটা মোটামুটি বুঝি। কিন্তু ধীরে ধীরে যেভাবে উন্মাদনার ব্যাপারটা সিমুলেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছিল তখন ঠিক রিলেট করতে পারছিলাম না এ দুটোর মধ্যে। ২য় স্তরের সিমুলেশন টার্মিনেট করা হলেও সেটা কেন ৩য় স্তরের সিমুলেশনে এরকম বিপর্যয় ঘটালো সেই বিষয়টার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আশা করছিলাম। একটা বিপর্যয় হঠাৎ করে শুরু হলো আবার ধাম করে শেষ ও হলো কিন্তু এগুলোর জন্য মানুষ কতটা দায়ী তার পর্যাপ্ত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। মোটের উপর অনেকগুলো বিষয় ছিল যেগুলোর বিস্তারিত আলোকপাত করার প্রয়োজন ছিল বই কি। যাইহোক, এতো ছোট্ট বইতে এতো ভারী একটা প্লট ঠিক ডানা মেলতে পারিনি। তাই আমার কাছে গল্পটা জাস্ট ওকেই মনে হয়ছে। ।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
436 reviews23 followers
May 28, 2023
যে ধরণের স্বপ্ন দেখে ব্যক্তি বুঝতে পারে সে স্বপ্ন দেখছে এবং সেই স্বপ্ন সে নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাকে লুসিড ড্রিম বলা হয়। কিন্তু ব্যাপারটা যদি এমন হয় আমরা এখন বর্তমানে লুসিড ড্রিমে আছি? হয়তো এই রিভিউটা আমি লুসিড ড্রিম থেকে লিখে যাচ্ছি। আমাদের সবাইকে ঘুমের মাঝে সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছে কেউ? বাস্তব জগৎটা যদি একটা শুধু লুসিড ড্রিম হয় কিংবা অন্যদের নিয়ন্ত্রিত স্বপ্ন? তখন কেমন লাগবে?
এমনি একটা বিষয় নিয়ে এই বইটা। যেখানে একজন খুজে যাচ্ছেন আমরা বাস্তবে আছি নাকি কোনো স্বপ্নে আছি। বইটা দুইটা টাইমলাইনে এগিয়েছে। একটা বর্তমান টাইমলাইন আরেকটা অতীতের। শেষের দিকে এসে দুইটা সুন্দর ভাবে মিলিত হয়েছে। গতানুগতিক জোম্বি বইয়ে আমরা দেখি যে হাত পায়ে পচন ধরা বিকৃত মুখের বায়োলজিক্যাল ওয়েপেন দ্বারা আক্রান্ত কিছু মানুষ সুস্থ মানুষদের মারার জন্য এগিয়ে আসছে। কিন্তু এই বইয়ে এটা ব্যাতিক্রম। এখানে না আছে বিকৃত মুখে মানুষ কিংবা বায়োলজিক্যাল ওয়েপেন, আছে ভিন্ন রোগে আক্রান্ত উন্মাদ মানুষ। যারা হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে।

বাপ্পী ভাইয়ের বই আগেও পড়েছি। ' শূন্যবিন্দু ' আর ' ভ্রম সমীকরণ '। দূইটাই দারুণ লেগেছিলো। সেজন্যই এই বইটাও লিস্টে ছিলো। বইটা শেষ করে মনে হলো নতুন কিছু পেয়েছি। উপন্যাসিকা চরিত্রগুলোকে কম বিল্ড-আপ দেওয়া হয়েছে। যখন আসল ঘটনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো গল্প আস্তে আস্তে দারুণ সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে, টুইস্ট গুলো মাথা ঘুরানো না হলেও ভালো ছিলো। রিয়েলিটি নিয়ে আলাপটা আরো বড় করলে দারুণ হতো। অন্য বাকি দুই বইয়ের মতো সমাপ্তি ছিলো না বরং অনেক সাদামাটা ছিলো। এখানে আরো ভালো করা যেতে পারত। লেখকের লেখনী নিয়ে বলার কিছু নেই। দারুণ লেখনী, শব্দ চয়ন আর ব্যাতিক্রমী প্লটের জন্যই তিনি অনেক জনপ্রিয়। বইয়ে একটা ছোটখাটো প্লট হোল ছিলো যেটা আসল গল্পে কোনো প্রভাব ফেলে না। সেই লাইন বা নামটা সরিয়ে দিলেও খুব একটা সমস্যা হবে না। সব মিলিয়ে যদি বর্তমান সাই-ফাই নিয়ে সুন্দর উপন্যাসিকা পড়তে চান তাহলে পড়ে দেখতে পারেব বইটা। আশা করি ভালো লাগবে।

বেনজিনের প্রডাকশন নিয়ে বলার কিছু নেই। এই পিচ্চি বইয়ের সুন্দর সিগনেচার প্রডাকশন দিয়েছে তারা। দুই একটা বানান ভুল ছিলো যা দৃষ্টিকটু। আশা করি সেটা পরের মুদ্রণে ঠিক করা হবে।
Profile Image for Saiqat .
60 reviews1 follower
March 22, 2023
মহাজাগরণ শুরুটা দুর্দান্ত মাঝে মিইয়ে যায় আর শেষ ওকেইশ। ওভারওল এভারেজ টু গুড।

৩ তারা।
বেশি ভালো ও কম ভালোর মাঝে!
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Sakib A. Jami.
349 reviews41 followers
August 6, 2023
যদি কোনো ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশে হয়, যে ঘটনা পুরো বদলে দিবে পৃথিবীর চিত্র। সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পাবে বাংলাদেশের মতো একটি অখ্যাত রাষ্ট্র, কেমন অনুভূতি হবে? হয়তো ভালো লাগায় ছেয়ে যাবে মন। গর্ববোধ হবে। কিন্তু সে ঘটনা যদি হয় ধ্বংসাত্মক! কেমন লাগবে তখন? পুরো পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, যায় সূত্রপাত বাংলাদেশ থেকে। একদল উন্মাদ, মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষের হিংস্রতা যেন বিশ্বকে একটু একটু করে শেষ সময়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছে! এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কী?

যোম্বি কাহিনি তো আমরা অনেকেই পড়েছি। এ যেন ভূত থেকে ভূতে কার্যক্রম। এক থেকে দুই, দুই থেকে চার, চার থেকে আট, আট থেকে ষোলো - এভাবে সংখ্যাটা বাড়ছে। সুস্থ সবল স্বাভাবিক মানুষগুলোর হুট করে কী যে হলো! রাগ, ঈর্ষা, হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে ধ্বংসের নেশায় যেন কেন মেতে উঠেছে কেউ জানে না। বাংলাদেশ থেকে যার শুরু। একে একে আমেরিকা, ইউরোপসহ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। একটি অদ্ভুত গ্রাফিতি থেকে শুরু। কোনো রোগ? না এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে। খুঁজে বেড়ান চেষ্টা করছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বিজ্ঞানীরা।

এমন এক সময় একসময় আসতে পারে, এমন এক ভবিষ্যতবাণী করেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী। সিমুলেশন নিয়ে এক গবেষণায় তারা দাবি করে, একসময় এমন ঘটনা আসবে যখন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাবে। ভারসাম্য নষ্ট হবে পৃথিবী। এর সাথে কোনো জগতের সংযোগ থাকলে সেটাও হয়তো ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে। এমন এক বৈজ্ঞানিক ভিত্তির খোঁজ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এর সাথে যুক্ত একজন মৃত, আরেকজন নিখোঁজ! তাহলে? কীভাবে খোঁজ মিলবে? এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থামানো না গেলে যে পৃথিবীটাই শেষ হয়ে যাবে! কী করা যায়?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

"মহাজাগরণ" বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ঘরানার বই। আমি এ জাতীয় বইয়ের ক্ষেত্রে উপভোগ করতে পছন্দ করি। খটমটে শব্দ বা এর ব্যাখ্যা নিয়ে বিশেষ কিছু বলার এখতিয়ার আমার নেই। যারা বিশেষজ্ঞ, তারা হয়তো বিস্তর আলোচনা করতে পারবে। আমি সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলি।

"মহাজাগরণ" বইটি মানব মনের অলিতে গলিতে বিচরণ করে এক ভয়ংকর সত্য সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান সময়ে বিষণ্ণতা, হতাশা যে কতটা বিস্তৃত; এই দিকটি তুলে ধরেছে। বর্তমান সময়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কেউ সুখী নয়। কোনো না কোনো কারণে প্রত্যেকেই অসুখী জীবনযাপন করছে। ফলে মানসিক অবসাদ আসে। বিষাদে ভরে ওঠে মন। ফলে একসময় মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। কেউ হয়তো বুঝে, কেউ বুঝতেও পারে না।

ছোট্ট এই বইটিতে কিছু বৈজ্ঞানিক শব্দের আনাগোনা ছিল। লেখক যে ভালোই পরিশ্রম করেছেন, তা স্পষ্ট। আমরা যে জগতে বাস করছি, এই জগৎ বাস্তব না কোনো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি? যার রাশ কোনো এক বা একাধিক নিয়ন্ত্রকের হাতে। এই নিয়ন্ত্রণের স্তর কয়টি? না-কি কোনো স্বপ্ন! যে স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যাকে 'লুসিড ড্রিম' বলে। লেখক এখানে ভাবনার দুয়ার খুলে রেখেছেন। অনেক কিছুই হয়তো ভাবাবে। সত্যি মিথ্যের পার্থক্য, বাস্তব অবাস্তব বিভেদ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে। লেখক যে কাজ সবচেয়ে ভালো করেছেন, একক কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। পক্ষে বিপক্ষে ব্যাখ্যা বইটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী আমার অন্যতম পছন্দের লেখক। তার লেখনশৈলি বরাবর ভালো লাগে। এখানেও তার ব্যক্তিক্রম নেই। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখক যেই ধারায় গল্প বলেছেন পছন্দ হয়েছে। তবে কিছু সমস্যা ছিল। যে সমস্যার কথা বরাবরই বলি। উচ্চশিক্ষিত, অর্থ প্রাচুর্যে ভরপুর ব্যক্তি বোঝানোর জন্য সংলাপে কেন অতিরিক্ত ইংরেজি ব্যবহার করতে হবে? অনেকে বলতে পারেন, এতে সমস্যা কথায়। এখনে বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। আমরা দৈনন্দিন কথা বলায় বেশ কিছু ইংরেজি শব্দের ব্যবহার করি, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু বন্ধুদের সাথে ইংরেজির পর ইংরেজিতে কথা বলা কি সত্যিই বাস্তবে হয়? আমার তো এমন বন্ধু আছে। তারা তো এভাবে বলে না। তাহলে এটা কোন বাস্তবতা আমি জানি না।

বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে এর অনেক ডালপালা মেলার সুযোগ ছিল। খুব সংক্ষিপ্তভাবে লেখক শেষ করেছেন। কলেবর আরেকটু বড়ো হতে পারত। তাছাড়া লেখক চরিত্রগুলোর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। সে জন্য চরিত্রগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনে শুরুতে সমস্যা হচ্ছিল। শেষটা কিছুটা তাড়াহুড়ো লেগেছে। যদিও মনে হয়েছে এভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়। তারপরও ছোটো এ উপন্যাসিকা সময় কাটানোর ও উপভোগ করার ভালো মাধ্যম হতে পারে।

▪️পরিশেষে, জীবনে দুঃখ-কষ্ট, হতাশা-বেদনা থাকবে। তারপরও সেগুলো ভুলে গিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। মুখে হাসি রেখে দুর্গম, বন্ধুর, দুঃখের পথ পাড়ি দিতে পারলে সকল সমস্যার সমাধান হলেও হতে পারে।

▪️বই : মহাজাগরণ
▪️লেখক : মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
▪️প্রকাশনী : বেনজিন
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬
▪️মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
Profile Image for Parvez Alam.
310 reviews12 followers
August 18, 2023
২.৫/৫
লেখক আমার খুব পছন্দের। কিন্তু এই বইটা উনার বাকি বইয়ের থেকে পিছিয়ে রাখবো আমি। তার উপরে আমার মনে হয়েছে এই বই সবাই পড়ে বুঝতে কষ্ট হবে, কারন অনেক সাইন্টিফিক জিনিস আছে যেগুলা পরিস্কার করা নেই।
Profile Image for B. M.  Parvej  Rana.
20 reviews10 followers
March 31, 2023
❝বাস্তবতা শ্রোডিঞ্জারের বিড়ালের মতো। একই সাথে কিছু ঘটবে আবার ঘটবে না।❞
বাস্তবতা মূলত কী? যা চোখ খোলা রেখে, সজ্ঞানে দেখছি তাই! এখন যে জিনিসটা সজ্ঞানে দেখছি সে জিনিসটাই যদি অবাস্তব তথা সিমুলেশন হয়ে থাকে তবে ব্যাপারটা কী দাঁড়ায়?
অনেক বছর আগে একটা বিষয় দেখেছিলাম। মূলত ধর্মীয় আঙ্গিকে বিষয়টা দেখা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মমতে মৃত্যুর পরে পুনরুত্থিত করার পরে ইহজগতে যা কিছু করেছে তা নিছক একটা স্বপ্নের মতো মনে হবে তাদের কাছে। সেই জগতটাকেই আসল বাস্তবতা মনে হবে।
সিমুলেশনের যে থিসিস রয়েছে সেই বিষয়টা সেই সনয়েই মাথায় নাড়া দিয়েছিল। সেই একই বিষয়ের উপরে বই পড়েছি এটা ভাবতেই চমকপ্রদ অনুভূতি হচ্ছে।
আপনি আসলে যে পৃথিবীতে বসবাস করছেন অথবা যেটা যেমন আছে সেটা তেমন করে দেখছেন এর কারণ কি আসলেই সেটা সেখানে বিদ্যমান ছিল এমনকি? না কি কারও অতিউন্নত মস্তিষ্কের একটা নিউরন মাত্র আপনি?
এর উত্তরে যে থিসিস রয়েছে তা ৫০ বাই ৫০।
অর্থাৎ হতেও পারে আবার পারে না। কিন্তু বাস্তবতা তো নিরেট সত্য। হয় আপনাকে মহাকাশে থাকতে হবে নয়তো পৃথিবীতে, এর মাঝামাঝি কিছুতে আপনি থাকতে পারবেন না! আসলেই কি তাই? কোয়ান্টাম ফিজিক্স কিন্তু অন্যকিছু বলছে। আপনি নিঃসন্দেহে মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকতে পারবেন যেটা প্রোবাবিলিটি বা সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
অনেকে হয়তো ভাবছেন আমি এই ছোট্টোখাট্টো উপন্যাসিকাটি নিয়ে এমন কাটখোট্টা টাইপের সব থিওরি কেন দিচ্ছি। বলে রাখা ভালো বইটা ছোটো হলেও এর ভেতর উপজীব্য যে এলিমেন্টগুলো ছিল তা মোটেও ছোটো কিছু নয়।
★সারসংক্ষেপ:
একজন মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্রের অকল্পনীয় চিন্তার সাথে মিশ্রিত হয় কিছু প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তৈরি হয় একটা থিসিসের। সেই থিসিসে বলা থাকে যে একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী। আর এই পৃথিবী ধ্বংসের মূল কারণ হলো কিছু প্রাণীর সিমুলেশন ভেঙ্গে যাওয়ার ফল। অর্থাৎ আমাদের এই জগতে যা কিছু হচ্ছে তা মূলত কিছু প্রাণীর ঘুমিয়ে থাকার ফলে যে স্বপ্ন দেখে তার স্বরূপ মাত্র। এবং তারা যে ঘুমিয়ে আছে সেটাও আরও কিছু প্রাণীর আর এরকম করে তিনটা স্তর পর্যন্ত এটা বিস্তৃত।
এখন সেই ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে পৃথিবীতে শুরু হয়েছে অরাজকতা। উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে মানুষ এবং তার পেছনের থিওরিটাও বেশ শক্ত! চট করেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভাবতে এবং ভাবাতে জোর করে।
★ মূল রিভিউ:
থিসিসটার বিপক্ষে কিছু যুক্তি তুলে ধরব প্রথমে। যদি এটা স্বপ্ন হয়ে থাকে তবে সেই স্বপ্নের নিয়ন্ত্রক নিশ্চয়ই আলাদা হবার কথা না। অর্থাৎ যদি সিমুলেশনের স্তর মাপি তবে অবশ্যই প্রথম স্তরকেও তার সিমুলেশনের স্তর মাপতে হবে। না মাপলে সিমুলেশনের স্থায়ীত্ব টিকবে না। অনেকটা স্রষ্টার সৃষ্টি হওয়ার প্রশ্নের মতো। যার উত্তর কেউ জানে না। এখন ধরে নিই আমরা সিমুলেশনে আছি তার মানে আমরা আদৌ এতা প্রমাণ করতে সক্ষম হবো না যে আমরা সিমুলেশনে আছি। কারণ সময়ের ভেতর থেকে সময়ের বাইরে গিয়ে সময়টা কীরকম হবে তা নির্ণয় করা যায় না।
আবার অন্য প্রসঙ্গে বলা যায় যে ধরে নিলাম সবই সিমুলেশন এবং তা-ও উন্নত কোনো প্রোগ্রাম দ্বারাই পরিচালিত। তবে এই প্রোগ্রামের উদ্ভাবক কে? আর যদি উদ্ভাবনাই হয়ে থাকে তবে এর কার্যক্ষমতায় নিশ্চয়ই ত্রুটি থাকবে। আর সেই ত্রুটি যদি রোগ বা মহামারী হয়ে থাকে তবে রোগ থেকে বা মহামারী থেকে মানুষ বারবারই পরিত্রাণ পেয়ে এসেছে অতএব থিসিস এখানেও মাঠে মারা যায়।
এবার আসি আরেকটু গভীরে, যদি সিমুলেশন হয়ে থাকে এই পার্থিব জগত তবে ফিজিক্সের ভূমিকায় কিছুটা ভাটা পড়বে। তথা প্রত্যেকটা প্রাণীর স্বপ্ন বা সিমুলেশন এক হবে না এটা নিশ্চিত। যদিও তাতে একই এলিমেন্ট দেওয়া হয়ে থাকে তবিও একই চেতনার হবে না। আর এতে পৃথিবীতে বিদ্যমান পদার্থবিজ্ঞানে কিছুটা সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা।
যেহেতু হচ্ছে না অতএব আমরা সিমুলেশনে নেই।
৫০/৫০ কে আমি ৫১/৪৯ নিয়ে গেলাম।
এবার গল্পটার ব্যাপারে বলি। এতক্ষণ যা বললাম তা পুরোটাই মহাজাগরণ গল্পটারই একটা বিস্তারিত আলোচনা ছিল। একটা সুন্দর সায়েন্স ফিকশন নভেলা। যা পড়ার পরে লুসিড ড্রিমকে বাস্তবিক বলেও মনে হতে পারে অথবা বাস্তব জগতকে লুসিড ড্রিম।
হুট করে কাপল দিয়ে শুরু হওয়া বইটা জায়গায় বেজায়গায় এমন মোড় নেবে তা হয়তো ভাবেনি কেউ। না আমিও ভাবিনি। ভেবেছিলাম জম্বি অ্যাপোকেলেপ্স নিয়েই হবে হয়তো বইটা। বিশেষ করে অল অব আস আর ডেথের মতো। কিন্তু সায়েন্টিফিক এরকম আলোচনা হবে ভাবিনি। থিসিস যখন রিয়ে���িটি নামে বইটি চালালেও অবাক হতাম না!
কিছু বিষয়ে খটকা ছিল।
সিজোফ্রেনিয়াকে স্কিজোফ্রিনিয়া লিখাটা ভুল হয়েছে না কি ঠিক ধরে নিয়ে লিখেছে তা বলা মুশকিল। ইংরেজিতে schizophrenia থেকে সিজোফ্রেনিয়া আগত হয়েছে তবে এটাকে স্কিজোফ্রিনিয়া বলতে এই প্রথম শুনলাম।
ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় অতিরিক্ত পারিভাষিক শব্দের কারণে ফ্লো কিছুটা নড়ে গেছে। হ্যাঁ মানছি ইংরেজি শব্দের ব্যবহার কিছু জায়গায় থাকা দরকার ছিল কিন্তু একটু চোখে পড়ার মতো বেশি ছিল।
★ উপসংহার:
গতানুগতিক ধারার সায়েন্স ফিকশনের বাইরে গিয়ে একটি সায়েন্স ফিকশন পড়তে চাইলে আমি বলবো এই ৯৫ পৃষ্ঠার বইটা তুলে নিতে। যার ভেতর দুঃখ বিষাদ সায়েন্স প্রেম সব আছে। বইটা আরেকটু বড়ো হলে আমার জন্যে ভালো হতো মনে হয়েছিল। আরও বিস্তারিত আলোচনা পেতাম। সিমুলেশন নিয়ে অনেক আগ্রহ ছিল একসময়ে। সত্যি বলতে আমি ব্লার্ব না পড়েই বইটি।নিয়েছিলাম। এর কারণ ছিল লেখকের নাম। লেখকের মৃত্যুচক্র পড়ছিলাম। গল্প ভালো লাগায় এই নভেলাটা নিয়ে নিই। খারাপ হয়নি কেনা। আসলে আমি কখনোই ব্লার্ব পড়ে বই নিই না। লেখক আর প্রকাশনী দেখে নিই। এরপর পড়ে বিচার করি বই কেমন!
বই: মহাজাগরণ
লেখক: মোহামিনুল ইসলাম বাপ্পী
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা ২০২৩
প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন
প্রচ্ছদ মূল্য: ২৫০ টাকা।
Profile Image for Rehnuma.
452 reviews22 followers
Read
September 29, 2023
❛শরীরের রোগের ঔষুধ আছে, মনের রোগের নাই।❜

২০২৪ সালে পৃথিবী সম্মুখীন হয় ভয়াবহ এক রোগের। রোগ না বলে উ ন্মাদনা বলা ভালো। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ❛এমপিআই টুয়েন্টি ফোর❜ বলে। আর অদ্ভুত এই রোগের উৎপত্তিস্থল আমাদের সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ। আর ক্রমেই যা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। রোগ নিরাময় এবং এর সমাপ্তি সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে সকল দেশের সর্বোচ্চ সব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যোম্বি আ ক্রমণের মতো ক্রমেই ছড়িয়ে যাচ্ছে এই মনোরোগ।
তথ্য গবেষণা করে দেখা যায় এরকম হওয়ার আশঙ্কা আরো কয়েক বছর আগেই করেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু বর্তমানে সে নিখোঁজ। তাকে খুঁজে বের করতে আর্মি এবং সাথে আছে লুবানা। স্বামী হারানোর শোক বুকে নিয়ে কাজ করছে এহেন অবস্থার কারণ জানতে।

সিমুলেশন, স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে এই পৃথিবী চলছে কার নিয়ন্ত্রণে? সবটাই কি তবে মহাজাগরণের ছোট্ট কোনো খেল?



পাঠ প্রতিক্রিয়া:

সাইকোলজিক্যাল এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির সংমিশ্রণে লেখা উপন্যাস ❝মহাজাগরণ❞। উপন্যাসের লেখক এই জনরায় আমার অন্যতম প্রিয় একজন। লেখকের লেখা বেশ কিছু বই পড়া হয়েছে এবং সেখানে মুগ্ধতার পরিমাণ বেশি ছিল। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় এই বইটায় এসে সে মুগ্ধতায় ছেদ পড়ল।

সিমুলেশন থিওরি, স্বপ্ন, লুসিড ড্রিমিং খুব আগ্রহ উদ্দীপক বিষয়। এই জনরায় সিনেমা দেখতে, বই পড়তে এবং এই থিওরি নিয়ে যেকোন ডকুমেন্টারি দেখতে আমি খুব উপভোগ করি। এই বইটা সেই আগ্রহ থেকেই নেয়া। শক্ত একটা প্লটের উপন্যাস এটি। তবে মনে হলো সঠিক উপস্থাপনার কারণে ভালো লাগা বাড়ল না। কোথায় যেন লেখকের খুব তাড়া ছিল উপন্যাস শেষ করে দেয়ার। অনেক কিছু অ-ব্যাখ্যেয় রয়ে গেছে। আবার অপ্রয়োজনীয় জিনিসে সময় নষ্ট করেছেন।
বিজ্ঞানের যেসব বর্ণনা দিয়েছেন এবং পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন সেসব ভালো লেগেছে বেশ। তবে শেষের দিকে এসে মনে হলো বেশ তাড়াহুড়ো করে ফেললেন। সিমুলেশনের যে ব্যাপারটা দেখিয়েছেন আর শেষের দিকটা এর কোনো যৌক্তিক কারণ দেখালেন না।

উপন্যাস সমাজের চিত্র। সাহিত্যিকরা সমাজের চিত্র লেখায় তুলে ধরেন, আবার নিজের কল্পনা ভাবনাও তার লেখায় ফুটে ওঠে। এই বই পড়তে গিয়ে শুরুতেই আমি বিরক্তবোধ করছিলাম। প্রেম পিরিতি এত সস্তা? একবার একজনকে দেখলাম সে ফুটুরফাটুর দুইটা ইংরেজী বলল আর প্রশংসা করলো তারে জড়ায় ধরে উম্মাউম্মি শুরু করে দিলাম আর লাল পানি গিলা শুরু করলাম? লুবানা আর পল্লবের এই কাহিনি আমার খুব বেশি অযৌক্তিক মনে হয়। উদারচেতা, স্বাধীনচেতা মানসিকতা আর সাহসী প্রকাশ করতে আটলান্টিকের সমান জামার গলা আর লাল পানি খাইলেই হয়ে গেল? আমি হয়তো গ্রামের চাচাতো বোন তাই আমার এই ব্যাপারগুলো ভালো লাগেনি। সমাজে হাই সোসাইটি মানেই এমন নাকি জানা নেই।

গায়ে র ক্ত ভর্তি জামা নিয়ে কেউ সিরিয়াস প্রেজেন্টেশন দিবে না, পরিসস্থিতি যতোই বেসামাল হোক না কেন! একটু পানি দিয়ে হাত মুখ হলেও ধুবে। যেখানে সবাই ইচ্ছামতে ম রে যাইতেসে, মে রে ফেলতেসে সেখানে এক দুই মিনিট অপচয় বিশেষ অপচয় না।

উপন্যাসে অতিরিক্ত ইংরেজী শব্দের ব্যবহার আমার ভালো লাগে না। টানা তিনটা বই পড়লাম, তিনটাতেই এই জিনিসের অতিমাত্রায় প্রয়োগ দেখলাম।


সুন্দর প্লটের উপন্যাসটা আরো বেশি সুন্দর হতে পারতো এই বিষয়গুলো না থাকলে বা কম থাকলে।

৯৫ পেইজের বইয়ের দাম ২৫০টাকা খুবই কম। আমার দিকে তেড়ে আইসেন না দোহাই লাগে।

লেখকের থেকে আরো সুন্দর এবং উপভোগ্য উপন্যাসের আশায় রইলাম।
Profile Image for Umar Faruk Akash.
38 reviews3 followers
May 14, 2023
বইঃ মহাজাগরণ
লেখকঃ মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
প্রচ্ছদঃ জাওয়াদ উল আলম
বানান সংশোধনঃ নিঝুম
ধরণঃ সাইফাই/অ্যাপোক্যালিপ্টিক
প্রকাশনায়ঃ বেনজিন প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০/-
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬

ফ্ল্যাপ থেকেঃ
উন্মাদ হয়ে গেছে ঢাকার মানুষ। দল বেঁধে হামলা করছে একে অপরের উপর। ভাঙচুর করছে দোকানপাট, গাড়ি-ঘোড়া, পোড়াচ্ছে বাড়িঘর। কিছু মানুষ আবার দেওয়ালে দেওয়ালে কুৎসিত ভয়াবহ এক দানবের গ্র্যাফিতি এঁকে বেড়াচ্ছে রাতের অন্ধকারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় নেমেছে সেনাবাহিনী। চলছে গোলাগোলি, রক্তপাত। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো শহর।
এই যখন পরিস্থিতি, তখন খুঁজে পাওয়া গেল এক তরুণ গবেষকের লেখা প্রবন্ধ, যেখানে সে কয়েক বছর আগেই এই পরিস্থিতির কথা ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন। কিন্তু সেই তরুণ কোথায় এখন? নিরুদ্দেশ! কেউ জানে না তার অবস্থান।
শুরু হলো অস্তিত্ব ও সভ্যতা রক্ষার এক অবিশ্বাস্য লড়াই, যা প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাদের চেনাজানা রিয়েলিটিকে।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
বলা চলে অনেকদিন পর দারুণ একটা বই পড়লাম। বেশ ইউনিক প্লট। রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরপুর। সাই ফাই ও সিমুলেশনের এক অসাধারণ মেলবন্ধন রীতিমতো মুগ্ধ করেছে।
বইটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে তাই নিজের পাঠপ্রতিক্রিয়াটাই ব্যাক্ত করলাম।
বইটা সাই-ফাই ঘরানার হলেও একটা থ্রিলিং সাধ পেয়েছি। প্রথম দিকে বইটা একটু সাদামাটা ভাবে এগুলেও যতো গভীরে ঢুকেছি ততই রহস্য ও থ্রিলিং ভাইব দিতে শুরু করে। বইটিতে একই সাথে রয়েছে, রোমাঞ্চ, রহস্য, ও সিমুলেশন সূত্রের অসাধারণ কম্বিনেশন। যা খুব সহজেই আপনাকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে।
এই লেখক নিজে ব্রেইনস্টর্মিং করতে এবং পাঠকদের চিন্তা চেতনা, ব্রেইন নিয়ে খেলতে ভালোবাসে সম্ভবত।
লেখকের অন্যান্য বইগুলোর মতো এটারও লিখনশৈলী, বর্ণনা, সংলাপ সবকিছুই দারুণ সুখপাঠ্য ছিলো। সিমুলেশন ও জোম্বি অ্যাপোক্যালিপ্টিকের কঠিন ও মাথা নষ্ট করার মতো সব থিওরি উনার লেখনীর মাধ্যমে খুব সহজভাবে তুলে ধরেছেন।
ছোট সাইজের এই বইটি কিন্ত খুবই গতিময় ছিল। গল্পে ঢুকে পড়বেন তো দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টাবেন। সুন্দর ও গোছানো ছিল। প্লট ও কাহিনির বুনন বেশ ���রিপক্ক লেগেছে।
বইয়ের সেটিং, থিম এনালাইসিস ও রিসার্চগুলো ছিলো দারুণ। সাধারণত লেখক এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। আর লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বাজিমাত করেছেন। পার্ফেক্ট স্টোরি টেলিং হয়েছে বইটার। লেখক চেষ্টা করেছেন নতুনত্ব দেওয়ার এবং অনেকখানিই সফল হয়েছেন তিনি।

সবশেষ, বেনজিনের বইয়ের প্রডাকশন নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, ওরা আমাকে মুগ্ধ করে বারবারই এবারও বইয়ের পৃষ্টার মান, জাওয়াদ উল ভাইয়ের অসাধারণ মনকাড়া প্রচ্ছদ, ডাস্ট কভার, কালার কম্বিনেশন, ফন্ট সবকিছুই টপনচ, এককথায় অসাধারণ। প্রকাশনীর এমন কাজ সত্যিই প্রসংশার দাবীদার।
Profile Image for AFROZA CHOITY .
29 reviews11 followers
March 31, 2023
‌‌ পা*গল হ‌ইতে সাব*ধান ❗

🔸২০২৪ সালে একটা রো*গের উদয় হলো পৃথিবীতে; মাস সাইকো*লজি ইল*নেস-২০২৪ বা এমপি*আই টুয়েন্টিফোর। দলীয় উন্মা*দনা বা উন্মা*দীয় দলীয়করণ প্রকৃতির এই রো*গে দলে দলে উ*ন্মাদ ও সহিং*স হতে লাগলো মানুষজন। রোগ*টার গতিপ্রকৃতি বুঝে উঠতে পারেনি। ল্যাবে বেশ কিছু উন্মা*দকে পরীক্ষা চালিয়ে জানা গেল রো*গটা বায়ো*লজিক্যাল না, সাইকো*লজিক্যাল।
এমপি*আই টুয়েন্টিফোর এর সাথে ব‌ইয়ে উঠে এসেছে সিমুলেশন আর রিয়েলিটি- পৃথিবীটা বা*স্তব না সি*মুলেশন!?

🔸ব‌ইটা পড়ে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুললাম। মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার একটা ব‌ই কিন্তু পড়ে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেয়েছি। ব‌ইটা প্রি অর্ডার করা থাকলেও কিছু ব্যক্তিগত কারণে কিছুদিন আগে হাতে পেয়েছি। ব্যস্ততার জন্য বই পড়া অনেক কম হচ্ছে। আর একারণে ধীরগতির ব্লকেও পড়েছি‌। বইটা ব্লক কাটাতে ভালোই কাজে দিল বলা যায়।
ব‌ইটা সাইফাই ঘরণার হলেও রোম্যান্স, থ্রিল আর সাইকো*লজিও উঠে এসেছে। এবং এখানে লুসি*ড ড্রিমিং, সিমুলেশন, রিয়েলিটি, বিষন্নতা, স্কি*জোফ্রেনিয়া, অনলাইন গেম, একটা ভিন্ন সিমুলেটর এর জগৎ -ত্রিনয়ন, এমপি*আই ইল*নেস এর মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে পরিমিত ভাবে। এছাড়াও ভালোবাসার বিষয়টা ফুটে উঠেছে পুরো গল্প জুড়েই। তবে অনেকেই এমপি*আই এবং জো*ম্বি ব্যপারটা গুলিয়ে ফেললেও আসলে দুইটা ব্যপার ভিন্ন। এখানে এই ব‌ইয়ে জো*ম্বির কোনো অস্তিত্ব নেই।

🔸 চরিত্রায়ন প্রথম দিকে একটু দুর্বল হ‌ওয়ার কারণে প্রথম দুইটা অধ্যায় একটু এলোমেলো মনে হতে পারে কিন্তু তারপরে যখন মূল কাহিনীতে প্রবেশ করবে পাঠক তখন গল্পে ডু*বে যাবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে এতো সহজ সরল আর সাবলীলভাবে গল্পটা আগালেও পাঠক আগে থেকেই কিছু প্রেডিক্ট করতে পারবেনা। এছাড়াও ৭৬-৭৭ পৃষ্ঠার রুবি আর অভ্রের বিষয়টা আরেকটু গভীর আলোচনা হলে ভালো হতো। গল্পের সমাপ্তিটা সাদামাটা মনে হলেও সুন্দর লেগেছে আমার। কারণ দিনশেষে বাস্তবতা এমন‌ই হয়। যাদের সাইকোলজিক্যাল জনরা ভালো লাগে তারা হয়তো অনেক বেশি তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে।

🔸 লেখকের পড়া প্রথম ব‌ই এটা আমার। লেখকের লিখনশৈলী, শব্দ চয়ন, গল্পের বুনন খুবই চমৎকার। গল্পের প্লট অনেক ইউনিক ও গোছানো।



🔸 বেনজিন এর ব‌ই হাতে নিলেই কেমন আরাম আরাম লাগে। প্রোডাকশন নিয়ে বলার কিছু নেই। ব‌ইয়ের ছাপা থেকে শুরু করে বাইন্ডিং পর্যন্ত সব কিছু চমৎকার। তবে দুইএকটা বানান ভুল চোখে পড়েছে।
Profile Image for Aiman .
73 reviews
January 6, 2025
#বুক_রিভিউ

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দেয়ালে দেখা মিলে এক অদ্ভুত গ্রাফিতির। যে গ্রাফিতির কালার লাল। ভালো ভাবে খেয়াল করলে বুঝা যায় সেই লাল রঙ আসলে রক্ত। ধীরে ধীরে বিশ্বের নানা যায়গায় একি ধরণের গ্রাফির দেখা মিলে। পরে দেখা যায় যারা সেই গ্রাফিতি এঁকেছে সবাই বিকারগস্ত হয়ে পড়ে।

বিশ্বে তারপর দেখা যায় অদ্ভুত এক রোগ। মানুষ ছোট্ট ছোট্ট বিষয়ে এত্ত রেগে যায় যে তাদের মানুষিক ভারসাম্য থাকে না, আরো অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে কোনো যায়গার একজন রেগে গেলে সেটা ছড়িয়ে পরে আশেপাশের সবার মাঝে। রাগের কারণ মিটে গেলেও সেই রাগ থেকে যায়। যা থেকে ওইসব পাগল মানুষ খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

বিজ্ঞানীরা এই রোগের কোনো নিদিষ্ট কারণ খুঁজে পায়না। তখনি লুবানা অনেকের সামনে হাজির করে একটা পেপার যেখানে একজন কয়েক বছর আগেই এই বিষয়টার ভবিষ্যৎবানী করে গেছে। কিন্তু সেই মানুষের খোঁজ কেউ জানে না।

জম্বি থ্রিমে তো অনেক মুভি দেখলাম, সেটার সিমিলার কোনো বই প্রথম পড়লাম। লেখকের এর আগে একটা বই পড়ে লেখা ভালো লেগেছে বলে ঠিক করেছিলাম পড়বো। বইটা এক বসাতেই শেষ করেছি।

গল্পের থ্রিম বেশ ইউনিক। এই থ্রিমে বাংলাদেশে এর আগে কেউ লিখেছে কিনা আমার ঠিক জানা নেই আমার। লিখলেও আমি প্রথম পড়িনি আগে। বইটা পড়ে বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে।

লেখকের লেখার প্রসংশা করতেই হয়। কারণ লেখার হাত এমন যে বই শুরু করলে গল্প টেনে নিয়ে যায় বইটা শেষ না করা পর্যন্ত। অনেক সময় দেখা যায় গল্প ভালো হলেও লেখার ধরণের জন্য বই পড়া যায়না। কিন্তু এখানে বেপারটা অন্য।

বই শেষ করে একটু বিষন্ন লেগেছে সুমনের জন্য। আসলে কিছু মানুষ জন্ম হয় একা বেঁচে থাকার জন্য। তাদের প্রিয় জিনিস গুলো কোনো না কোনো ভাবে হারিয়ে যায় তাদের জীবন থেকে। হয়তো প্রকৃতি তাদের একা রাখতে চায় বলেই এমন টা হয়।
Profile Image for MD Sifat.
122 reviews
November 16, 2024
একাডেমিক প্রেশারে বই-টই পড়া কমিয়ে দিয়েছে। লাভ খুব বেশি একটা হলো না। তাই এই বই শুরু করে শেষ করে ফেলা।

দারুণ অভিযাত্রা। ইউনিক প্লট, গতানুগতিক ধারায় চাইতেও ভিন্ন কিছু। যা বেশ উপভোগ করেছি। শুধু এন্ডিংটা একটু ভালো লাগেনি!
Displaying 1 - 13 of 13 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.