নগর যখন পুড়তে শুরু করে, তা থেকে দেবালয়ও তো রেহাই পায় না। কখনো কি চিন্তা করে দেখেছেন, সেই পুড়তে থাকা নগরীর অগ্নিদগ্ধ মানুষজনের গল্পগুলো কেমন?
জীবনযুদ্ধে পুড়তে থাকা এমন কিছু চরিত্র, ঘটনা, কাহিনিকে কেন্দ্র করেই এ সংকলনের একেকটা গল্প তৈরি হয়েছে। কিংকর্তব্যথ্রিলার’কে মোটা দাগে মিস্ট্রি-থ্রিলার গল্প সংকলন বলা হলেও এখানে প্যারানরমাল, সাইকোলজিক্যাল, ক্রাইম, ডিটেকটিভ, সাইফাই, রিভেঞ্জ, সাসপেন্স এর মতো অন্যান্য সাব-জনরাগুলোরও স্বাদ পাবেন।
বর্তমান সময়ের পাঠকপ্রিয় লেখকদের পাশাপাশি ক’জন নবীন ও প্রতিভাবান লেখকের গল্প একমলাটে আনার এই প্রয়াস পাঠকমনে রোমাঞ্চের সৃষ্টি করবে, এটাই প্রত্যাশা।
জামসেদুর রহমান সজীব এর জন্ম রাজবাড়ী জেলাশহরে। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। রাজবাড়ীতে ‘আড়ম্বর’ শিশু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সফল এ তরুণ সংগঠক। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০১৭’তে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তার নির্মিত ‘বাড়ি ফেরা’ চলচ্চিত্রটি।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
সেই ফেব্রুয়ারী মাসে পড়েছি। বেশিরভাগ গল্পই মনে নেই, শুধু মনে আছে প্রায় সব গল্পই মিডিওকোর লেভেলের ছিলো। মনে রাখার মতো গল্প এই মূহূর্তে একটা মাথায় আসছে। সেটা হচ্ছে, সাজিদ হাসান এর ‘বয়ে চলে বাঙালি’। আমার কাছে এইটা এই সংকলনের সেরা গল্প।
একদিন হুট করে সজীব ভাই ম্যাসেজ দিয়ে বললেন ১২ জনের গল্প নিয়ে একটা সংকলন বের করবেন তিনি। আমার ইচ্ছা আছে নাকি লিখার? আমি তো অবাক সেটা শুনে। পরে বললাম অবশ্যই ইচ্ছা আছে। পরে মাথায় একটা প্লট ঘুরছিলো কয়েকদিন। নোট করে রেখেছিলাম। সেটা লিখে ফেলি সময় মত এবং পরের কাহিনী তো জানেন আপনারা যারা আমার সাথে যুক্ত ছিলেন। ১২ জনের মাঝে আমারো জায়গা হলো সেখানে। বাকি ১১ জনের গল্প আমার পাঠক হিসেবে কেমন লেগেছে তা নিচে ছোট করে লিখলাম
মাছুয়া আলাদ - নিয়াজ মেহেদী নিয়াজ মেহেদী ভাইয়ের আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল পড়েছিলাম। ছোট গল্পে যে উনার লেখনী সুন্দর সেটা সেখান থেকে জানতে পেরেছি। এই গল্পেও তিনি চমৎকার ভাবে গ্রাম্য পরিবেশের বর্ণনা করেছেন। একটা কুসংস্কারকে ঘিরে গল্পটা এগিয়েছে। উনার সিগনেচার টোন বোধহয় আঞ্চলিক ভাষা ব্যাবহার করা যেটা আগেও দেখেছি।
না-সুস্মিতা জাফর এই গল্পটা আমাদের বইপাড়ার মিস্ট্রিরিয়াস ম্যান নিয়ে লিখা। সাথে সুন্দর একটা বার্তাও দিতে চেয়েছেন লেখিকা গল্পের মাধ্যমে। অতিরিক্ত শাসন যে সন্তানের জন্য কতোটা ক্ষতিকর তা আবার উপলব্ধি করা যায় গল্পে।
উপসংহারহীন- আসাদুজ্জামান জুয়েল ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে থাকার একটা গল্প বলেছেন লেখক এখানে। প্রথমে থেকে সিরিয়াল কিলিং এর তদন্তে এগুতে এগুতে শেষে সুন্দর একটা টুইস্ট দিয়েছেন।
তরতাজা কঙ্কাল - রিয়াজ মোরশেদ সায়েম এই সংকলনের ইউনিক প্লটের একটি গল্প। মেডিকেল স্টুডেন্টদের যে কঙ্কালের ডিমান্ড সেটা নিয়ে সুন্দর একটা গল্প লিখেছেন। পুরো সময় জুড়ে রহস্য ছিলো আর সমাপ্তিটাও রহস্য শেষ হয়েছে। গল্পটা আরেকটু বড় হলে আরো জমতো।
আবির্ভাব রহস্য- ফাল্গুনী আলম ভালোবাসা কি সমসময়ই দুইপক্ষ থেকে সমান থাকে, নাকি একজন সবসময় ভালোবেসে যাবে আর অন্য জন অভিনয় করে যাবে? তার উপলব্ধি এই গল্প পড়ার পর করা যায়। ডিটেকটিভ গল্প হলেও রোমান্টিকতা আছে পুরো গল্প জুড়ে। মি.অভির উপস্থিত বুদ্ধি ভালো লেগেছে।
তারপর,কেমন বোধ করছো এখন? - শাহালুল তানজিম সংকলনের সেরা একটা গল্প বলতে গেলে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে চমৎকার একটা গল্প উপহার দিয়েছেন তানজিম ভাই। এতো দিন উনার সব দারুণ রিভিউ পড়ার পর এই প্রথম উনার লেখা গল্প পড়ার সুযোগ হলো। অল্প পরিসরে ভালো একটা টুইস্ট দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। গল্পটা অনেক গভীর। কারো কারো ২ বার পড়াতে হবে বোধহয় গল্পটা।
যবনিকা পতন- অমিত কুমার কুণ্ডু গ্রাম্য প্লটে লিখা আরেকটু সুন্দর গল্প যবনিকা পতন।গ্রাম্য পরিবেশের সুন্দর বর্ণনা দিয়ে শুরু করার পর একটা খুনের তদন্ত নিয়ে গল্পটি আগায়। গল্প পড়ে সেই আদিকালের উক্তি বের হয় মুখ থেকে, "অতি লোভে তাঁতি নষ্ট"।
স্বীকার - আহমেদ স্বাধীন মানুষ কখনো কখনো নিজের সাথে কথা বলে। সেটা হোক জোরে কথা বলে কিংবা মনে মনে। মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে সুন্দর একটা গল্প লিখেছেন লেখক। পুলিশের চালটা ভালো ছিলো।
ধাক্কা- মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ সংকলেনের সবচেয়ে বড় গল্প বলতে গেলে এটা। ৩ জন পুলিশ অফিসারের খুনের তদন্ত নিয়ে এগোতে থাকে গল্পটা। শেষে এসে ভালোই ধাক্কা লেগেছে।
বিভাবরীর আখ্যান- মোঃ সামসুদ্দোহা রিফাত (যেটা আমি) এটা আপনাদের জন্য তুলে রাখা হলো। গল্পটা কেমন লাগলো তা ২ ৩ বাক্য জানাবেন। চেষ্টা করেছি কিছু থ্রিল দিতে।
বয়ে চলে বাঙালি - সাজিদ হাসান এই গল্পের আরেকটি সুন্দর গল্প। প্রথম থেকেই জানবেন প্রধান চরিত্রটা কি করতে যাচ্ছে কিন্তু শেষে এসে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাবেন। পরিবেশের বর্ণনা গুলো সুন্দর লেগেছে।
সাপলুডু - জামসেদুর রহমান সজীব মার মার কাট কাট থ্রিলারের বাইরে আমাদের আশে পাশের কিছু চরিত্র নিয়ে সাপলুডু খেলেছেন লেখক। প্রতিটা চরিত্র একটা করে চাল দিয়ে এসেছে। শেষে কে ১০০ এর ঘরে জায়গা করে নিবে তা গল্পের শেষে বুঝতে পারবেন।
সব মিলিয়ে সংকলেনের প্রতিটা গল্প নিজ নিজ জায়গায় সুন্দর। প্রতিটি গল্পের চমৎকার সব ইলাস্ট্রেশন ছিলো যা আরো উপভোগ্য ছিলো। আশা করি প্রতিটা গল্প পাঠককে বিরক্ত করবে না। সজীব ভাই ও সাজিদ ভাইয়ের পরিশ্রমে আমাদের মতো নবীনরাও জনপ্রিয় লেখকদের সাথে লেখার সুযোগ পেয়েছি। ধন্যবাদ আপনাদের। আশা করি সামনে আরো সংকলন হবে এরকম।
প্রথম কপি সংগ্রহ করতে পারিনি, মিস গেছে। কিন্তু প্রথম রিভিউ মিস হবে না। একবসায় শেষ করেছি বই। শ্বাসরুদ্ধকর জার্নি ছিল। ১২টি গল্প। ১২জন লেখক। প্যাটার্ন অনুযায়ী সবগুলোই ভিন্ন আর জমজমাট।
যেহেতু ছোটগল্প, বিস্তারিত বলে মজা নষ্ট করবো না। তবে এটা কিন্তু সিরিজ হিসেবে কন্টিনিউ করা যায়। এটা নিয়ে ভাবার দরকার। থ্রিলার-টুইস্ট পছন্দ করলে এই বইটা মাস্ট রিড।
ছোটবেলা থেকেই আমরা ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ শব্দটির সাথে পরিচিত। কত ঠ্যাঙানি খেয়েই না এই শব্দের বানান আয়ত্ত করেছিলাম তা আল্লাহ জানেন! সেই ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ থেকেই এসেছে মিস্ট্রি থ্রিলার গল্প সংকলন ‘কিংকর্তব্যথ্রিলার’। বইয়ের নামটা খুবই ইন্টারেস্টিং, তাই না? থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য ব্লকবাস্টার প্যাকেজ হলো এই বইটি! কারণ বই-পাড়ার পরিচিত সব লেখক-লেখিকার ভিন্ন ধরনের থ্রিলার গল্প দিয়ে টইটম্বুর এই বই। আজকে কথা বলবো এখানকার কিছু গল্প নিয়ে। .
প্রথমে সুস্মিতা জাফর এর ‘না’ গল্পটি নিয়ে কথা বলতেই হয়। ক্লাস ফাইভ পড়ুয়া একটা ছেলে ‘মিকাইল’। যে ছোটবেলা থেকেই একটা নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার মাঝে বড় হয়েছে। তাকে বড় সাইজের জুতা কিনে দেওয়া হতো, যাতে অনেক বছর একই জুতা ব্যবহার করতে পারে! বইমেলায় গিয়ে বই কিনতে চাইলে কিংবা নতুন এক সেট রঙ নিতে চাইলে একটা শব্দই শুনতে হতো- ‘না’। সকল ধরনের বায়না-ই ছিল তার জন্য নিষিদ্ধ। এভাবেই গল্পের শুরু, যার শেষটা দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছি! কেননা ‘বইপোকাদের আড্ডাখানা’ গ্রুপের বহুল চর্চিত নাম ‘দ্যা মিস্ট্রি ম্যান’-কে আশ্রিত করে লেখা হয়েছে এই মিস্ট্রি থ্রিলার গল্পটি। কীভাবে? সেটাই তো মিস্ট্রি! .
এবার লুডু কোর্ট খুলে বসা যাক! এখন কথা হবে জামসেদুর রহমান সজীব এর ‘সাপলুডু’ নিয়ে। গল্পের প্লট সমসাময়িক মানব পাচারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। স্বল্প সংখ্যক চরিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে গল্পটি। কিন্তু পাচার করা হচ্ছে কাকে? কেইবা জড়িত? সেটা নিয়ে পুরোটা সময় পার হবে দ্বিধার মধ্য দিয়ে! গল্পজুড়ে প্রতিটি চরিত্রকে আলাদা গুটি বানিয়ে সাপলুডু খেলা খেলে গেছেন লেখক। যাকে বলে টুইস্টের উপর টুইস্ট! সেই সাথে লেখক যেহেতু নিয়মিত রম্য লেখেন, তার প্রমাণও পাওয়া গেছে গল্পে। ���্রিলার আর রম্যের দুর্দান্ত মিশ্রণ ছিল। .
অমিত কুমার কুণ্ডু এর ‘যবনিকা পতন’ গল্পে শান্ত পরিবেশের একটি গ্রাম- বহরপুর। সেখানকার শান্ত পরিবেশ হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে যায় যখন জব্বার মাঠের মধ্যে দেখতে পায় এক মৃত কিশোরীর লা*শ! একই গ্রামের রফিক সাহেবের বাড়িতে বেড়াতে আসা কথক এবং ক্রাইম রিপোর্টার ডাব্লু ভাই কাজে লেগে পড়েন মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে। কিন্তু সেই মৃত্যুর রহস্যের সুরাহা করার আগেই পরদিন আবারও একই জায়গায় পাওয়া যায় এক কিশোরের লা*শ! কে বা কারা করছে এই খু*ন? কি উদ্দেশ্য খু*নির? জানতে হলে ডাব্লু ভাইয়ের সঙ্গে রহস্যের দুনিয়ায় ঘুরে আসতে হবে। .
আহমেদ স্বাধীন এর ‘স্বীকার’ গল্পে দেখা যায়- ছয় বছর পর হুট করে একটি রেস্টুরেন্টে দেখা হয় স্বভাবগত ভিন্ন দুই বান্ধবী টিনা এবং সায়েরার। কিন্তু ঠিক পরদিনই খু*ন হয় টিনা! কে করলো এই খু*ন? ইন্সপেক্টর জামসেদ অবশ্য অনেক চড়াই-উতরাই শেষে খু*নিকে খুঁজে বের করেন এক রহস্যময় অভিজানের মধ্য দিয়ে। .
হাল জামানার ‘মিডজার্নি’ ও ‘চ্যাট জিপিটি’ সম্পর্কে যাদের জানাশোনা আছে, তারা বুঝতে পারবেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ কীরকম সাংঘাতিক জিনিস। এই বইতে শাহালুল তানজিম এর ‘তারপর, কেমন বোধ করছো এখন?’ গল্পটাও তেমন সাংঘাতিক হয়েছে। সাইফাই থ্রিলার জনরার গল্পটি আপনার চিন্তাভাবনাকে উপরে তুলে এমন একটা আছাড় মা*রবে, একদম তব্দা খেয়ে বসে থাকবেন। মোটা সাইজের সাইন্স ফিকশন বই পড়েও এত তৃপ্তি পাইনি যতটা তৃপ্তি পেয়েছি এই গল্পটি পড়ে। .
স্পয়লার আর রিভিউটা বড় হবার ভয়ে বাকি গল্পগুলো সম্পর্কে অল্প কথায় কিছু বলি। নিয়াজ মেহেদী এর ‘মাছুয়া আলাদ’ গ্রামীণ পটভূমিতে লেখা ভিন্নরকম থ্রিলার গল্প। লেখনশৈলী দারুণ। খানিক মিথলজির স্বাদও পাওয়া গেছে। আসাদুজ্জামান জুয়েল এর ‘উপসংহারহীন’ যেন ডিটেকটিভ থ্রিলার। ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে একেকটা অনুচ্ছেদ। সিরিয়াল কি*লিং নিয়ে গল্প। লাস্টের টুইস্টটা অসাধারণ। রিয়াজ মোরশেদ সায়েম এর ‘তরতাজা কঙ্কাল’ গল্পটাও দারুণ। একেবারেই অচেনা অজানা মেডিকেল সিন্ডিকেট নিয়ে গল্পটা লেখা হয়েছে। মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ এর ‘ধাক্কা’ গল্পটা সত্যিকার অর্থেই ধাক্কা দেবে। ম্যাগনেটের মতো টেনেছে ঘটনাগুলো। পুলিশ তদন্তকে ঘিরে গল্পটা সিনেমাটিক ফিল দিয়েছে। মোঃ সামসুদ্দোহা রিফাত এর ‘বিভাবরীর আখ্যান’ গল্পে ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে ছেড়েছে। পুলিশ আর অপরাধীর মধ্যকার ইঁদুর-বিড়াল ছোটাছুটি দারুণ লেগেছে। হার্ট দুর্বল পাঠকদের জন্য এই গল্পটা হজম করা কষ্টই হবে। সাজিদ হাসান এর ‘বয়ে চলে বাঙালি’ গল্পটা খুব সাবলীল ভাষায় লেখা দুর্দান্ত একটি রিভেঞ্জ থ্রিলার। পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো ঘটনাগুলো যেন চোখের সামনে ঘটছে। একজন অপরাধীকে ধরার মিশনে যা কিছু ঘটেছে সেগুলো পাঠককে প্রতি মুহূর্তে চমকে দেবে। .
মোট ১২টি ভিন্ন ফ্লেভারের গল্প নিয়ে এই বইটি। মিস্ট্রি থ্রিলার সংকলন হলেও বইয়ের সাইকোলজিকাল, প্যারানরমাল জনরার গল্পগুলোও ছিল অনবদ্য। প্রত্যেক গল্পের সঙ্গে লেখকের আর্ট করা ছবি আর অলংকরণ নজরকাড়া ছিল। প্রোডাকশন নিয়ে আমার ধারণা কম। কিন্তু বইয়ের কাগজ আর বাঁধাই দারুণ। পৃষ্ঠা আর কলেবর অনুযায়ী বইটার দামও খুব রিজনেবল ছিল। সব মিলিয়ে বইটি পড়তে আমার বেশ ভালোই লেগেছে, চাইলে আপনিও বইটি পড়ে নিতে পারেন।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ কিংকর্তব্যথ্রিলার!! নামটা শুনলেই মাথায় 'কিংকর্তব্যবিমুঢ়' এই শব্দটা আসে তাই না? কিংকর্তব্যবিমূঢ় শব্দটির মানে হলো হতবুদ্ধি অবস্থা। বইটা পড়ার মনে হবে আসলেই হতবুদ্ধি হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেছে। বইটিতে ১২জন লেখকের ১২টি গল্প রয়েছে যা রীতিমতো টুইষ্টে ভরপুর। বইটিকে ঠিক মিস্ট্রি থ্রিলার গল্পসংকলন বললে ভুলে হবে কারণ, থ্রিলার গল্প সংকলন বলা হলেও এখানে প্যারানরমাল, সাইকোলজিক্যাল, ক্রাইম, ডিটেকটিভ, সাইফাই, রিভেঞ্জ, সাসপেন্স এর মতো অন্যান্য সাব-জনরাগুলোরও স্বাদ পাবেন।
এবারের বইমেলায় যে গল্প সংকলন টা আমার ভালো লেগেছে তা হলো এই 'কিংকর্তব্যথ্রিলার'। চমৎকার সব টুইস্টেড গল্পের সম্ভার। তাছাড়া ছোটগল্প বা এমন গল্পসংকলনের প্রতি আমার একটা টান কাজ করে যার পরিপ্রেক্ষিতে বইটি নেওয়া। গল্প ছাড়াও বইটির যে দিকটি বেশি আকর্ষনীয় লেগেছে তা হলো প্রত্যেকটি গল্পের সাথে লেখক এবং গল্পের প্লটের দৃশ্যগুলোর সামঞ্জস্য রেখে অলংকরণ। যা গল্পগুলোকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছে।
বইটির ১২গল্পের লেখকের মধ্যে দুয়েকজন বাদে মোটামুটি সবাই পরিচিত মুখ ছিল। বইটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বটে। কিছু কিছু গল্প যেমন অনেক বেশি ভালো লেগেছে তেমনই কিছু কিছু গল্প নিয়মিত পড়া থ্রিলার, গোয়েন্দা গল্পের মতো মনে হয়েছে। তবে হ্যাঁ সেসব গল্পগুলোও কিন্তু বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না বলে আমার বিশ্বাস।
স্টোরি টেলিংঃ বইয়ের প্রতিটা গল্পের স্টোরি টেলিং হয়েছে যথাযথ ভাবে। বেশ দাপুটে প্লট ছিলো গল্পগুলোর। প্রথম দুটো গল্প যদিও একটু সাদামাটা লেগেছে তবে পরবর্তী সবগুলো গল্পই দারুণভাবে বইটাকে এগিয়েছে নিয়েছে। প্লট মেকিং ও স্টোরি বিল্ডাপ করা হয়েছে সুন্দরভাবে, এছাড়াও বইয়ের সেটিং ও থিম এনালাইসিস ছিলো দারুণ। সাধরণত লেখকরা এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন এবং প্রতিটা লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন।
সবাই সর্বসাকুল্যে চেষ্টা করেছেন গল্পগুলোতে নতুনত্ব দেওয়ার এবং বলতে হয় অনেকখানি সফলও হয়েছেন৷ লেখকের ও সম্পাদক জামসেদ ভাইয়ের এ ধরণের নতুনত্ব নিয়ে আসা আমার মনে হয় পাঠককে বইয়ের জগতে একটি নতুন ধারণার সাথে পরিচয় করে দিবে। সর্বশেষ বলতে চাই বইটা বেশ ভালো ছিলো। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। চমৎকার আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি বই। বইটাতে পাঠকদের ধরে রাখার একটা টান আছে। পাঠক বইটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত ও উপভোগ্য করবে বলে আমি মনে করি। বইয়ের প্রতিটা লেখকের জন্য অসংখ্য ভালোবাসা ও শুভকামনা রইলো।
নগর যখন পুড়তে শুরু করে, তা থেকে দেবালয়ও তো রেহাই পায় না। কখনো কি চিন্তা করে দেখেছেন, সেই পুড়তে থাকা নগরীর অগ্নিসুদ্ধ মানুষজনের গল্পগুলো কেমন?
জীবনযুদ্ধে পুড়তে থাকা এমন কিছু চরিত্র, ঘটনা, কাহিনিকে কেন্দ্র করেই এ সংকলনের একেকটা গল্প তৈরী হয়েছে। কিংকর্তব্যথ্রিলার'কে মোটা দাগে মিস্ট্রি- থ্রিলার গল্প সংকলন বলা হলেও এখানে প্যারানরমাল, সাইকোলোজিক্যাল, ক্রাইম, ডিটেকটিভ, সাইফাই, রিভেঞ্জ, সাসপেন্স এর মতো অন্যান্য সাব- জনরাগুলোরও স্বাদ পাবেন।
বর্তমান সময়ের পাঠকপ্রিয় লেখকদের পাশাপাশি ক'জন নবীন ও প্রতিভাবন লেখকের গল্প একমলাটে আনার এই প্রয়াস পাঠকমনে রোমাঞ্চের সৃষ্টি করবে, এটাই প্রত্যাশা।
পড়ুন এবং হারিয়ে যান কিংকর্তব্যথ্রিলারে।
পাঠ অভিজ্ঞতা:
বইটা হাতে নিয়ে; বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে যখন একেক করে গল্পগুলো পড়া শুরু করলাম তখন থেকেই বুঝতে শুরু করলাম সময়গুলো মোটেও বৃথায় কিংবা হেলায় যাচ্ছে না। বইটিতে মোটমাট ১২ টি গল্প আছে। গল্পগুলোতে থ্রিলারের পাশাপাশি পেয়েছি প্যারানরমাল, সাইকোলোজিক্যাল, ক্রাইম, ডিটেকটিভ, সাইফাই, রিভেঞ্জ, সাসপেন্স এর মতো অন্যান্য সাব-জনরার স্বাদ। তুমুল পাঠকপ্রিয় লেখক নিয়াজ মেহেদি ভাই , সুস্মিতা জাফর আপু এবং জামসেদুর রহমান সজীব ভাইদের লেখা নিয়ে কখনোই দু’কথা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। অপরদিকে নবীন লেখকদের সবার গল্পগুলোতে পাঠকদেরকে গল্পে বুঁদ রাখানোর জন্য সেরা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন সকলেই। ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে ১২ জনের লেখা ১২ টা গল্পই দারুণ লেগেছিলো।
বাদবাকি:
বইটার প্রোডাকশন কোয়ালিটি ছিলো অসাধারণ। পড়ার সময় খুব সাবলীল ভঙ্গিতেই পড়তে পেরেছিলাম। বইটার সাইজটা ছিলো ক্রাউন আর রেগুলার সাইজের মাঝামাঝি পর্যায়ে। যার ফলে বইটা হাতে নিলেই একরকম ভালো লাগা কাজ করেছিলো। বাদবাকি সেরাটাই দিয়েছে অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনী। বইটার সম্পাদনায় ছিলেন জামসেদুর রহমান সজীব ভাই। উনি বই প্রকাশের এই উদ্যেগ টা না নিলে দারুণ কিছু মিস হয়ে যেতো আমার। আর এতো সুন্দর সুন্দর গল্পগুলো পড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই প্রকাশন এবং সম্পাদক মহোদয়কে।
আপনারা বইটা পড়বেন কি পড়বেন না! এমন ভাবনাচিন্তায় না ভুগে এখনই বসে পড়ুন আর হারিয়ে যান কিংকর্তব্যথ্রিলারের জগতে।
বই: কিংকর্তব্যথ্রিলার সম্পাদক: জামসেদুর রহমান সজীব ( Zamsedur Rahman Sajib) প্রচ্ছদ: রাকিব রাজ্জাক প্রতিকৃতি: রাজকুমার পাল প্রকাশনী: অক্ষরবৃত্ত মলাট মূল্য: ৩৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২ পার্সোনাল রেটিং: ৪.৫/৫ অনেকদিন ধরে একাডেমিক বইয়ের চাপে নন-একাডেমিক বই থেকে বেশ দূরে আছি। শুধু দূরে নয়, নন-একাডেমিক বইয়ের রাজ্য থেকে বিতাড়িত যাকে বলা হয় আমি তার মধ্যেই অবস্থান করছি। এমন অনেক বই শেষ মাসে শুরু করেছি ঠিকই, কিন্তু শেষ করা ওঠেনি। তার মধ্যে "কিংকর্তব্যথ্রিলার" বইটি মার্চে শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু শেষ করা হয়ে ওঠেনি। বইটির নাম যখন শুনেছিলাম তখন ভেবেছিলাম মনে মনে এই যে লেখক বোধহয় ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ বলতে চেয়েছেন। কিন্তু একজন লেখক সর্বদা পাঠকের চেয়ে অনেক বেশিই চিন্তা করে থাকেন। বিশেষ করে থ্রিলার এবং সায়েন্স ফিকশন এর সময় যদি আমরা চিন্তা করি এখানে "ক" রয়েছে, লেখক বোধহয় কোলকাতায় যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অথচ তার খানিক বাদে আপনি পরের পাতায় গিয়ে দেখবেন লেখক আসলে কোলকাতা নন কর্ণফুলী নদী দিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা বলেছেন। ঠিক একই ভাবে ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ থেকেই এসেছে মিস্ট্রি থ্রিলার গল্প সংকলন ‘কিংকর্তব্যথ্রিলার’। যেখানে ১২টি মিস্ট্রি থ্রিলার গল্প রয়েছে, তাও আবার ১২জন চমৎকার লেখকের।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া— মোট ১২টি ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে এই বইটি। প্রত্যেকটি গল্প ছিল অনবদ্য। প্রত্যেকটা গল্পের লেখনশৈলী অত্যন্ত দারুণ। সব চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ১২জন লেখকের ১২টি ভিন্ন ধর্মীর থ্রিলার আমি একসাথে পড়ার সুযোগ পেয়েছি, যা একজন থ্রিলার প্রেমীর জন্য বেশ আনন্দের।
কয়েকটি গল্প নিয়ে মতামত—
°সুস্মিতা জাফরের "না" গল্পটি পড়তে গিয়ে শুরুতে ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। সাধারণত বাবা মায়েরা যখন ছেলেবেলায় আমাদের কোনো এক আবদার বা বায়নার উপর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ জারি করতেন তখন তা আমাদের মনে গেঁথে যেতো। কেউ কেউ আবার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিতাম। ক্লাস ফাইভ পড়ুয়া একটা ছেলে মীকাইল ঠিক একইভাবে ছোটবেলা থেকেই একটা নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার মাঝে বড় হয়েছে। বইমেলায় গিয়ে বই কিনতে চাইলেও মীকাইলকে না বলা হতো। অন্যদিকে বইপোকাদের আড্ডাখানা’ গ্রুপের বহুল চর্চিত নাম "জাদুকর"কে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে এই মিস্ট্রি থ্রিলার গল্পটি। কিন্তু মীকাইলের সাথে জাদুকরের সম্পর্ক কোথায়? মীকাইলের "না" এর অভাব পূর্ণ করতেই কী জাদুকরের আগমন? নাকি এর মাঝেও রয়ে গেছে অন্য গল্প?
° আচ্ছা, কল্পনা করুন তো। বাইশ বছর আগে মা রা যাওয়া আপনার কোনো বন্ধু বা বান্ধব আপনার সাথে আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। একটু ভয় ভয় করছে না? ফাল্গুনী আলমের "আবির্ভাব রহস্য" পড়ার সময় আমারও একটু ভয় ভয় করছিলো। তবে শেষাংশে গিয়ে লেখিকার সুনাম করতে বাধ্য হয়েছিলাম। কী দারুণভাবে ভয় লাগিয়ে সাধারন ভাবেই রহস্যের সমাধান করলেন।
°রফিক সাহেবের শীতকালিন আমন্ত্রণে বহরপুরে বেড়াতে আসেন গল্পকথক এবং ক্রাইম রিপোর্টার ডাব্লু। রাতে ভরপেট খাবার পর পরের দিন সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখলেন গ্রামের শান্ত পরিবেশ হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে যায় মাঠের মধ্যে মৃত কিশোরীর লা শ দেখতে পেয়ে! মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে নেমেছিলেন গল্পকথক এবং ডাব্লু।। কিন্তু সেই মৃত্যুর রহস্যের সুরাহা করার আগেই পরদিন একই জায়গায় পাওয়া যায় রফিক সাহেবের বড় ভাইয়ের ছেলে নিলয়ের লা শ! কে বা কারা করছে এই খু ন? অজানা ওই কিশোরীর খুনের সাথে নিলয়ের খুনের কী সম্পর্ক? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিয়েই রচিত হয়েছে অমিত কুমার কুন্ডের "যবনিকা পতন"।
°ছয় বছর পর হুট করে একটি রেস্টুরেন্টে দেখা হয় টিনা এবং সায়েরার। তারা দুইজনি ভিন্ন স্বভাবের দুই বান্ধবি ঠিক পরদিনই খু ন হয় টিনা! টিনার খু নে র শোক সামলিয়ে তখনো উঠেনি সায়েরা, ঠিক সপ্তাহ দুয়েক পরই তার স্বামীর মৃ ত দে হ পাওয়া যায়। কী এই খু নে র রহস্য? সায়েরা প্রতি কারো ক্ষোভই কী তার কাছের মানুষদের মৃ ত্যু র কারণ হয় দাঁড়ালো? নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? সেই রহস্যের ভেদ হবে আহমেদ স্বাধীন এর 'স্বীকার" গল্পটিতে
° সাজিদ হাসানের "বয়ে চলা বাঙালি" গল্পে দেখা যায় ধ র্ষ নের শিকারের পর অনন্যা নামক এক মেয়ের জীবন কীভাবে বেসামাল করে দেয়। কিন্তু এত অশান্তির মাঝে গল্পে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় যখন অনন্যাকে নিয়ে থানায় আসে তার প্রেমিক আকিব। শুধু তা নয়, অনন্যার আসামীকে ধরতে যাওয়ার সময় আকিব পুলিশ অফিসারকে অনুরোধ করে যেন তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। আদৌ অনন্যার এই অবস্থার জন্য অভিযুক্ত আসামীকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো? আকিব এর অনুরোধ কী রেখেছিলেন পুলিশ অফিসার? আচ্ছা অনন্যা এবং আকিবের শেষ পরিণতি কোথায় ছিলো?
° এই পুরো গল্পগ্রন্থের সম্পাদনায় যিনি ছিলেন এবার আসি তার লিখা গল্পের কথায়। "কিংকর্তব্যথ্রিলার"এর সর্বশেষে ছিলো জামসেদুর রহমান সজীব রচিত "সাপলুডু"। গল্পের শুরুতে রম্যের প্রভাব দেখে মনে মনে ভেবেছিলাম লুডু খেলতে খেলতে রম্য লেখক থ্রিলার লিখতে বসেছিলেন বোধহয়। ভুলেই গেছেন এইটা থ্রিলার সমগ্র। কিন্তু তার খানিক বাদে আবারো আমার চিন্তা উলটে দিয়ে রম্যের সাথে থ্রিলার মিশিয়ে দূর্দান্ত এক গল্প লিখে ফেলেছেন তিনি। চম্পা ও তার স্বামী খায়রুল সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান। পথে দেখা যায়, একজন লোক চম্পার দিকে বার বার লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলো, যে দৃষ্টি শহরে আসা অব্দি পিছু ছাড়ে নি। তারপর? চম্পা ও খায়রুলের উন্নত জীবনের আশায় শহরে আসার সিদ্ধান্ত কী আদৌ সঠিক ছিলো?
এছাড়াও নিয়াজ মেহেদীর " মাছুয়া আলাদ", আসাদুজ্জামান জুয়েলের "উপসংহারহীন", রিয়াজ মোরশেদ সায়েম রচিত " তরতাজা কঙ্কাল", শাহলুল তানজিম এর 'তারপর, কেমন বোধ করছো এখন?", মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ রচিত "ধাক্কা", মোঃ সামসুদ্দোহা রিফাত এর "বিভাবরীর আখ্যান" প্রত্যেকটি গল্পই ছিলো অসাধারণ।
গল্প ছাড়াও বইটির যে দিকটি বেশি ভালো লেগেছে— প্রত্যেকটি গল্পের সাথে লেখক এবং গল্পের প্লটের দৃশ্যগুলোর অলংকরণ গল্পগুলোকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছিলো। যে বিষয়টি আমার নজর বই খোলার পর নজর কেড়েছে।
বইটি কেন পড়বেন?— শুরুতেই একটি কথা বলেছি ১২জন লেখকের থ্রিলার একসাথে পড়ার সুযোগ একজন থ্রিলারপ্রেমী হিসেবে আমি কখনোই মিস করতে চাইবো না। এছাড়া এত অল্পে থ্রিলারের রহস্য সাজিয়ে তারপর আবার তা ভেদ করার মতো চমৎকার এই বিষয়টি প্রত্যেকটি গল্পেই পেয়েছি। যার ফলে "কিংকর্তব্যথ্রিলার শুধু নামেই নয় বরং প্রচ্ছদে, অলংকরণে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখনশৈলী দিয়ে আমার মন কেড়েছে। [উপরোক্ত সমস্ত মতামত আমার ব্যাক্তিগত। তাই ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো]
If anyone wants to have a basic idea about the styles of short stories on trend in Bangladesh these days and which writer's writing might suit their preferred one..this might help to start...
কিংকর্তব্যথ্রিলার ~ নামটা যেমন আচানকই মনে হোক না কেন বইটা রীতিমতো ভয়ংকর রকমের অসাধারণ থ্রিলার পড়তে ভালোবাসি, কিন্তু বইয়ের প্রতিটা গল্পের গাঁথুনি অদ্ভুত রকম অভাবনীয় সুন্দর পাঠ্য বইয়ের জন্য বিভিন্ন সাহিত্যের নামকরণের সার্থকতা পড়তে হয়, এই বইটাকে সেই হিসাবে ১০০ তে ১০০ দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবো না বইটার লেখক একাধিক, এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের লেখা আগেও পড়ার সুযোগ হয়েছে আবার কয়েকজনের লেখা এখানেই প্রথম পড়লাম বিশ্লেষণ করতে গেলে লেখনী চমৎকার, প্রতিটা গল্পের স্বকীয়তা এবং ভিন্নতা থাকা স্বত্তেও কেন জানি বারবার মনে হয়েছে সূক্ষ্ম একটা সুতায় একসাথে গাঁথা একটা গল্পের মালা, ডজনখানেক গল্পের ঝাঁপি বলতে চাই নিঃসন্দেহে কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ কত বেশি দেয়া যায় জানি না তার থেকেও বেশি দিতে চাই জামসেদুর রহমান সজীব ভাই এবং কিংকর্তব্যথ্রলার এর পুরো লেখক বাহিনী আর সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রচ্ছদ আর ভেতরের ছবি আঁকার কাজগুলোও অসম্ভব ভালো লেগেছে ১ ডজন গল্প, প্রতিটা গল্পের শুরু থেকে শেষ অবধি একটা চমক, থ্রিলার গল্পের স্বাদ আছে আবার ভিন্ন রকম ছোট গল্পের একটা আমেজ আছে এই জন্যই হয়তো কিংকর্তব্যথ্রিলার সংকলন বই যে এমনটা হতে পারে বুঝতে পারি নাই প্রতিটা গল্পের নিজস্বতা ছিলো দারুণ শুধু থ্রিলার ভক্ত পাঠক না, যারা পড়তে ভালোবাসেন সবার কাছে ভালো লাগবে এটা বলতে পারি আমি সব পাঠকদের বইটা পড়ার জন্য উৎসাহ দিতে চাই আর বেশি কিছু বললে পরে গল্পের কাহিনী চলে আসতে পারে, সেটা অনুচিত কাজ
বইটা বেশ কয়েকজন লেখক দিয়ে লেখা।কার লেখা সেরা এই বিবেচনা না করে, কার লেখা কার থেকে সেরা এই তুলনা করতে হবে।থ্রিলার বই আমার জীবনে এটাই প্রথম কিন্তু বইটা সেরা লেগেছে
গ্রাম বেড়াতে যাওয়ার পর প্রতিদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে আয়েশি ভাবে পড়তাম এই বইটি। আরামসে পড়ে শেষ করা যায় এমন ১২টি ছোট গল্প নিয়ে বইটি সাজানো। এখনি এই গল্পটা পড়ে শেষ করতে হবে এমন কোনো তাড়া পাইনি আবার ফেলে রাখি এমন ভাবনার উদয় হয়নি। বলা যায় গল্পগুলো বেশ জমজমাট ছিলো।