এই জগতে যেকোন কালে যখনই মানুষকে বলা হয়েছে তুমি কি ঈশ্বরে বিশ্বাস কর? উত্তরে মানুষ ঈশ্বরকে দেখতে চেয়েছে। উত্তরে মানুষ কার্যকরণের কথা বলেছে। উত্তরে মানুষ নিরাকারকে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কিন্তু বুদ্ধ প্রশ্ন করেছেন 'তুমি কি দুঃখে বিশ্বাস কর?'
মানুষ জানে দুঃখ নিরাকার। তবুও মানুষ এই নিরাকারকে অনুভব করেছে। জীবনে কোন না কোন সময় দুঃখ দ্বারা সে আক্রান্ত হয়েছে। দুঃখ থেকে পরিত্রাণ খুঁজেছে।
তাই মানুষের কাছে যখন দুঃখের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখন প্রখর জড়বাদী মানুষটিও অস্বীকার করতে পারেনি। তার কার্যকরণের শাখা-প্রশাখা ভেঙে পড়েছে। প্রবল আবেগে চোখ আদ্র হয়ে এসেছে মানুষের। অসহায় মানুষের আদ্র চোখ মুছে দিয়ে বুদ্ধ বলেছেন, 'এসো আমার সাথে।'
বার্ট্রান্ড রাসেল শেষমেশ ক্ষেপে গিয়ে বলেছেন, 'বুদ্ধ চতুর। নিজেকে নাস্তিক দাবি করে এই লোক সবাইকে আস্তিক বানিয়ে ছেড়েছে।'
প্রত্যেক চিন্তাশীল মানুষেরই ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস কিংবা আইডিওলজি থাকে। বিশ্বাস না থাকলেও অবিশ্বাস থাকে এ্যাজ আ কাউন্টার থট। আপনি আস্তিক না নাস্তিক?– এই ধরনের বাইনারি লজিকের বাইরে জীবনকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে সব ধর্মের সৌন্দর্য্য, রহস্য, ক্রেডিবিলিটি। লেখক আরিফ রহমানের চেষ্টা ছিলো এই পর্যবেক্ষণে, এই খোঁজায়।
লেখক থ্রেট দিয়েছিলেন শুরুতে; সময়ের সাথে সাথে তার চিন্তাও পরিবর্তন হইতে পারে। এই বই শুধুই তাঁর ব্যক্তিগত বোঝাপড়ার নির্যাস, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে কথা বলার মতো। সাধারণত যে ভয় বা অস্বস্তিবোধ নিয়ে দর্শনের বই পড়তে হয়, এই বইয়ে তেমন কাটখোট্টা থিওরি টিওরি নাই।
একই নক্ষত্রের নিচে আমাদের বসবাস। অথচ চিন্তাভাবনার কতো ফারাক। ভাবতেই অবাক লাগে। কেউ না কেউ তাহলে এক্সিস্ট করে; যারা গুডউইল আর এ্যাম্পেথি দিয়ে জীবন যাপন করতেছে। দেখতেছে পৃথিবীর রূপ, রঙ। জানতেছে নানাবিধ মিথোলজি, রিলিজিয়ন, কালচার। কি ফ্যাসিনেটিং!
"বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে। বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো। অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায় অনায়াসে সম্মতি দিও না।"
- নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
নীরন্দনাথ চক্রবর্তী যখন প্রবল দ্বিমত পোষণ করতে বলেন তখন দ্বিমত পোষণ করার পরে যে কাজটা করা সবচেয়ে জরুরি এবং কঠিন তা হলো নিরপেক্ষ হওয়া। নিরপেক্ষ থেকে কোন একটা বিষয় পর্যালোচনা করা বিশাল একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ আমার জন্য। তারপর আসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পক্ষপাত দুষ্ট না হয়ে নিরপেক্ষ ভাবে একটা যৌক্তিক স্থানে পৌঁছা আসলেই সহজ ব্যাপার নয়। লেখক আরিফ রহমান যেন তার লেখা "এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয়" বইতে সেই দ্বিধা নিয়ে দেখা এবং নিরপেক্ষ থাকার ক্ষেত্রটাকে পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন বারবার। সেই সাথে সিদ্ধান্ত উপনীত হতেও বেশ সময় লেগেছে অনেক ক্ষেত্রে। কারণ অনেক কিছুই প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে আমাকে। এই বইতে লেখক বলেছেন বইটি তার নিজেকে ভাঙাগড়ার দলিল, তিনি নিজেকে বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন(পাঠকদেরও) এবং নিজেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন।
এই বইতে মূলত লেখক ধর্ম এবং ধর্মীয় দর্শনকে বারবার পর্যালোচনা করেছেন। সবচেয়ে ভালো বিষয়টা হলো লেখক প্রতিটা বিষয়কে দেখেছেন সহানুভূতি নিয়ে এবং টেনে আনার চেষ্টা করেছেন সকল ভালোগুলোকে। মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ, সেই সাথে অফুরান সম্ভাবনাকে খতিয়ে দেখার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে লেখক উত্তীর্ণ হয়েছেন এই বইয়ে।
"মহামতি তথাগত গৌতমের বোধিলব্ধ প্রথম সত্য (যেটাকে ধর্মীয় পরিভাষায় বলে আর্যসত্য) হলো— ‘সর্বম্ দুঃখম্ দুঃখম্'। অর্থাৎ এই সংসারের সবকিছু দুঃখময়। জীবের জীবন দুঃখে পরিপূর্ণ। জন্ম, জরা, বিচ্ছেদ এবং মৃত্যু সবই দুঃখময়। দুঃখ মানব অস্তিত্বের নিত্যসাথী।"
এতটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে কিন্তু বুদ্ধ যখন বলেন মানুষের সুখ এবং দুঃখ একই মুদ্রার এপিট ওপিঠ নয় বরং সুখও এক ধরণের দুঃখ। গৌতম সুখকে বলেন দুঃখের ছদ্মবেশ বা ছদ্মবেশী দুঃখ।
"জন্মে দুঃখ, নাশে দুঃখ, রোগ দুঃখ, মৃত্যু দুঃখময়। অপ্রিয়ের সংযোগ দুঃখময়, প্রিয়জনের বিয়োগ দুঃখময়। সকল কিছুই দুঃখময়।" (মহাসতিপতানসূত্ত/২২/১৮)
এই বইতে উঠে এসেছে সাংখ্য দর্শন, সুফিবাদ, সনাতন, ইসলাম, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দর্শনগুলো এবং তার ভিতরের মর্মস্পর্শী বাণীগুলো। এমনিতেই নন-ফিকশন কম পড়া হয় আমার। কিন্তু লেখকের এই বই সরল ভাষায় এমনভাবে বিন্যস্ত যে পড়ার আগ্রহটা থেকেই যায়। বইটি যেমন তাকে পড়ার আগ্রহ শেষ পর্যন্ত জাগিয়ে রেখেছে তেমন ভাবে আমাকে কিংবা আপনাকে করে দিবে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন। যেসকল প্রশ্নের উত্তর আমি কিংবা আপনি খুঁজে চলেছি বহুকাল ধরেই। এই বইয়ের উপজীব্য জীবন এবং ধর্ম যাদের সাথে মিশে আছে সবকিছুকে দেখার শুভ ইচ্ছে, সহানুভূতি, নিরপেক্ষ দৃষ্টি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
যেমন লেখক বলছেন, "আমাদের এখানে যে অসুর সে অন্য কোথাও মহুসাসুর কিংবা হুদুর দুর্গা হয়ে পূজিত হন। আবার দুর্গার অল্টার ইগো হয়ে দাঁড়ান কালি। দুর্গা বা পার্বতীর যা কিছু ভালো তাঁর বিপরীত হচ্ছেন কালি। তাই বলে কালির সবকিছু তো খারাপ নয়। দুর্গা পোশাক পরেন আর কালির পোশাক নেই, তাই বলে কালি খারাপ নন, তিনিও পূজিত হন। এভাবেই বহুত্বকে বুঝতে হবে আমাদের। একদিকে রাম পূজিত হবেন অন্যদিকে রাবণ পূজিত হবেন। গল্পের বিভিন্ন দিক থাকবে কিন্তু কোনো দিককেই চূড়ান্ত ভাবা যাবে না। এটাই ভারতীয় ফিলোসফির একটা মজার দিক। এটাই টলারেন্সের সবচেয়ে সুন্দরতম রূপ।"
দিনশেষে সবকিছুরই মাত্রাতিরিক্ততা বাজে, হোক সেটা বিশ্বাস, হোক সেটা আইডলজি। মানুষ এম্প্যাথির উপর জোর দিলে হয়তোবা পৃথিবীতে এত রক্তপাত হইত না, অবশ্য বুদ্ধিমান প্রাণীর বৈশিষ্ট্যই খুব সম্ভবত এইটা, "তারা রক্তারক্তি করবে, যুদ্ধ-বিগ্রহ করবে, যুদ্ধের উপর ভর দিয়ে জ্ঞান, তত্ত্ব, বিজ্ঞান আগায়ে যাবে সামনের দিকে।"
নোটখাতার সাইজের নোটখাতা নাম না ধারী বইটা বইমেলাতেই মনোযোগ আকর্ষণ করছিল, কিন্তু দামের কারণে বাগানো হচ্ছিল না, পরে অবশ্য গিফট পেয়ে গেলাম। বইটা আমি পড়ছি সময় নিয়ে, আস্তে ধীরে। এ ধরণের বইয়ে সময় দেয়া আবশ্যক।
সুফিজমের মূল স্তম্ভ গড়ে উঠছিল এম্প্যাথির উপরে, ক্ষমার উপর বেজ করে। গ্রিক মিথোলজিতে টাইটান এবং গডদের দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ হইছিল টাইটানদের এম্প্যাথির কারণে। যদিও সে এম্প্যাথির উদাহরণ কালের গর্ভে হারায়ে গেছে। পৃথিবীর নিষ্ঠুর ইতিহাসে এম্প্যাথি একটা দূর্বলতা। আই উইশ, এই জিনিসটা ম্যাস মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকত।
বেশ ভাল বই, সকলের পড়া উচিত। কিছু ভাল জিনিস তো লোকে শিখুক অন্তত।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পায়ের তলায় সর্ষে ১' ভ্রমণ সমগ্রে 'হঠাৎ এক টুকরো' নামে একটা অংশ আছে। অগণিতবার পড়েছি। এম্প্যাথি নামক মহান গুণ মনের অতি গভীরে শিরা-ধমনীতে আজীবনের জন্যে মিশিয়ে দিয়েছে সুনীল 'হঠাৎ এক টুকরো' পড়ার পরমূহুর্তে।
আর কিছু কবিতা সবকিছুকে(মানুষ, উদ্ভিদ কিংবা জড় অর্থাৎ সমস্তকিছু) সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখতে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে ইমতিয়াজ মাহমুদের 'আমিত্ব' গদ্য কবিতাটা। এছাড়া আরও অনেক কবিতা।
আর তলস্তয়ের একটা ছোটগল্প জীবনদর্শন মুহূর্তে বদলে দিল। এক অন্য আমি হয়ে গেলাম।
রাসেলের 'দ্য কনকোয়েস্ট অব হ্যাপিনেস' বইয়ের মোতাহের হোসেন চৌধুরীর করা বঙ্গানুবাদ 'সুখ' বইটা আমাকে প্রথম আঘাত করে। প্রথম বদলে যাই। অন্য মানুষে পরিণত হই। আর সর্বশেষ 'রাত ভ'রে বৃষ্টি' আমরা মনের একটা অপরিপক্ক অংশ পরিপক্ক করে দিল।
আর 'আরণ্যক' বইটা প্রকৃতির সাথে প্রেমের একটা সম্পর্ক স্থাপন করে দিল। যেখানে প্রকৃতি আমার একমাত্র প্রেমিকা। যেখানে প্রকৃতি আমার একমাত্র নীড়।
'এটা আমার দর্শনের ন��টখাতা নয়' পড়তে পড়তে জীবনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তারকারী এমন অনেক বইয়ের কথা মনে পড়ল। স্বাদু সরল গদ্য আর বৈঠকী একটা আবহ আছে লেখকের লেখায���। পড়ার মতো ভাল বই।
"একবার খেলা শুরু হয়ে গেছে মানে এই মেশিন কিন্তু চলতেই থাকবে। আপনি চিন্তা করেন একটা ছোট শিশু যে শরীরে বড় হচ্ছে সে তো ভাতটা খাচ্ছে, মাংসটা খাচ্ছে, দুধটা খাচ্ছে। অনেক অনেক ধানগাছ, মুরগি, গোরুর শরীরের অংশ আমার আপনার শরীরে লাগছে। আবার আপনি আমিও কোন অণুজীবের, শেয়ালের, গাছের খাদ্য হব। আমরা সবাই যদি বিগ ব্যাং এর শুরুর সেই এটম থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকি তাহলে তো তাত্ত্বিকভাবে আমরা বলতেই পারি সেই মেটেরিয়াল অসংখ্যবার রূপ পরিবর্তন করে করে মানুষ হচ্ছে, গাছ হচ্ছে, কম্পিউটার হচ্ছে।" .
পৃথিবীর কোনো ধর্মই তো মানুষকে খারাপ কাজ করতে প্রভাবিত করেনা। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখতে পাই ধর্মের নামে ব্যবসা, রাজনীতি এবং দাঙ্গা চলেই এসেছে বছরের পর বছর। কারণ মানুষ ধর্মকে মানার চেয়ে ধর্মের অন্ধ অনুসারী হয়েছে বেশি। এই বইতে ধর্মের অন্ধবিশ্বাস থেকে বের হয়ে খোজা হয়েছে এম্পেথি এবং ধর্মের গুডউইল।
বেশ সময় নিয়েই বইটি পড়েছি। যতটুকু দরকার, তারচেয়ে কিছুটা বেশিই সময় নিয়েছি বলা যায়। এই ধরনের বইগুলো চট করে রিভিউ দেয়া যায় না। বিশেষ করে যখন লেখক আলাপের ছলে এক বিষয় থেকে আরেক বিষয়ে চলে যাচ্ছেন তখন নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্কে লেখার বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধ থাকছে না। এইটুকু বলতে পারি, সামর্থ থাকলে যে বইগুলো কিনে সকল বন্ধুদের উপহার দিতে চাইবো, এই বইটির স্থান শীর্ষ পাঁচ এ থাকবে।
যেটা একদম না বললেই নয়- বিশেষভাবে চমৎকৃত হয়েছি জরথ্রুস্টবাদের সাথে সেমেটিক ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের সাথে সাদৃশ্যগুলো দেখে। অনেকদিন পর ধর্মতত্ত্ব নিয়ে আলাদা করে পড়াশোনার উৎসাহটা ফিরে পেয়েছি বলা যায়। তবে এই বই শুধুই ধর্ম নিয়ে নয় মোটেও।
বইটা এককভাবে কোনো নির্দিষ্ট টপিকের ওপরে রচিত নয়। ধর্ম-দর্শন-সমাজকে উপজীব্য করে লেখকের নিজের প্রশ্ন, প্রশ্নের উত্তর এবং উত্তরের যুক্তিখণ্ডনের ধারাবাহিকতায় লেখা এগিয়ে গেছে। বুদ্ধের 'সর্বম দুঃখম' থেকে যাত্রা শুরু করে এম্প্যাথি বা সহানুভূতির কনসেপ্টকে মাথায় রেখে লেখক নিজস্ব ভাবনাচিন্তাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রায় সকল ধর্মে।
ইসলাম,হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মের মেইন থিমের 'গুডউইল'কে সামনে রেখে লেখক নিজস্ব এনালজির মাধ্যমে যে ব্যাখাগুলো দিয়েছেন, বেশ ভালো লেগেছে। এই বইটাতে আস্তিক, নাস্তিক,এগনোস্টিক সবাই কিছু না কিছু খুঁজে পেতে পারে। একপাক্ষিক কোনো আলোচনা নেই, ব্যাপারটা ভালো।
সাম্প্রদায়িকতা, এবং কট্টর মৌলবাদ এখন অহরহ যেখানে সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, এরই সমান্তরালে চলছে মানুষের ধর্মবিদ্বেষী স্বভাব। এরকম একটা অবস্থানে দাড়িয়ে এ ধরনের লেখা আশা জাগায়। এম্পেথির যে বোধ মানুষকে অন্যসব প্রাণি থেকে আলাদা করেছে, তা যদি সবার মাঝে জাগ্রত হয় তাহলে হয়তো...হয়তো পৃথিবীতে একদিন সত্যিকারের শান্তি নামবে।
এম্পেথি-শব্দটির শাব্দিক অর্থ হয়ত অভিধান ঘেটে জানা যাবে। কিন্ত হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতে হলে এই বই পড়তে হবে। মিথ থেকে যে পদ্ধতিতে নির্যাস ছেঁকেছেন তা তুলনাহীন। হয়ত যুক্তির শানে অনেক গুলোই টিকবে না। তাতে তো উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরী হয় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন ধর্ম নিয়ে গভীর অনুরাগ বোধ করিনা। ক্লাস ফাইভে একবার বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ হয়। সবাই তার বক্তব্যে কোন একজনের নাম নিচ্ছে। আমি তখন ভেবে ধর্ম নিরপেক্ষ সৃষ্টিকর্তা শব্দটিকেই বেঁছে নিলাম। আমি আমার প্রার্থনায় সর্বদা সকলের সৎ ইচ্ছা পূরণ হোক-এই প্রার্থনা করি। বইটা হয়ত আমার চিন্তার সাথে অনেক মেলে,তাই এত বেশি ভালো লেগেছে। বইটা পড়ে পৃথিবীর সব জিনিসের সাথে গভীর একাত্মবোধ অনুভব করেছি। হয়ত এই উপলব্ধি দীর্ঘদিন থাকবে না। তবু এর রেশ থেকে যাক এটাই চাওয়া।
বইটার বেশ কিছু অধ্যায় লেখকের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পড়েছিলাম, বেশ ভালোই লেগেছিল। তাই হুট করেই কিনে ফেললাম।
বইটা মূলত লেখকের নিজের সাথে একটা কনভার্সেশন। তিনি নিজেই অনেক কিছু ভাবছেন, বিপরীতপক্ষের যুক্তি বিশ্লেষণ করছেন। এখানে ইনফর্মেশনের চেয়ে অ্যানালাইসিস বেশি।
প্রথমদিকে লেখক এম্প্যাথি বিষয়টাকে বোঝাতে চেয়েছেন। সেখান থেকে নানান দিকে গেছেন। যেকোনো ধর্মের প্রতিটা ঘটনার কেবল আক্ষরিক ব্যাখ্যা না দিয়ে তার পেছনে গুড উইলের সন্ধান করেছেন। সেমেটিক ধর্মগুলোর সাথে জরাথুস্ট্রবাদের মাধ্যমে মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছেন। সর্বোপরি, আমাদের আলাদা ভাবার যে কিছু নাই, এমনকি কেবল মানবজাতির বিভাজন না, বরং ব্রহ্মাণ্ডের সমস্তই যে একই সূত্রে গাঁথা, সেই ধারণা পোষণ করেছেন।
আসলে এইটুকু পড়ে এরকম মনে করার কোনো সুযোগ নাই যে, এখানে ধর্মের সমালোচনা করা হয়েছে, যুক্তি দিয়ে নিধার্মিক বানানো হচ্ছে। আসলে মূল থিম বইটা পড়েই আপনার বোঝা লাগবে।
সব মিলিয়ে বুদ্ধিজমের প্রতি লেখকের আলাদা অনুরাগও প্রকাশ পেয়েছে বলে বোধ হয়। এটা পড়ে আপনি দর্শন শিখতে পারবেন না, ধর্ম শিখতে পারবেন না, কিছুই না। কিন্তু লেখক দীর্ঘদিন যেসব চিন্তা করেছেন, প্রশ্ন করেছেন, উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন, আদর্শকে নিয়ত ভেঙেছেন এবং গড়েছেন, তার একটা চমৎকার জার্নির অংশ হতে পারবেন।
এবারের বইমেলায় এটাই আমার পড়া প্রথম বই। আকার এবং কাগজের বিচারে বইটার দাম তুলনামূলক বেশি। কন্টেন্টের বিচারে একেকজনের কাছে একেকরকম মনে হবে। গুডরিডসে বইটার কোনো এনট্রি নাই বিধায় এখানে ছোটখাট রিভিউ দিয়ে রাখলাম।
বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে। - মিলিত মৃত্যু
মানুষের জীবনের সুখ দুঃখ হাসি কান্না আনন্দ বেদনা সব কিছু একটি অপরটির সাথে জড়িয়ে আছে। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ তার জীবনের সকল কিছুতেই নিজকে খুজে বেড়িয়েছে। যদিও বলা যায় জীবন আর বেচে থাকার ভেতর পার্থক্য সীমাহীন। তবুও মানুষকে বেচে থাকতে হয় আর জীবন কে যাপন করতে হয়।
আমাদের এই বেচে থাকা ও জীবনের শুরুর কথা যদি বলা হয় তবে সেটার শুরু কবে আর কোথায় থেকে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। আলোচনা হতে পারে। কিন্তু এই যে আপনি আমি এখন রয়েছি, এটাই সত্য। এবার ভেবে দেখুন তো এর বাইরে কি রয়েছে। আর এর বাইরে কতটুকুই বা আমরা ভেবে দেখেছি।
পারিপার্শ্বিক অবস্থান বিবেচনায় একমাত্র মানুষ খুব সুন্দর ভাবে তার হাটা চলা বলা থেকে সব কিছু কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেখানে তার অনুভূতির কথা, তার চিন্তা ভাবনা ও মানসিকতার বিকাশ ঘটাতে সে সক্ষম। যা পৃথিবীর অন্য কোন প্রানীর ভেতর নেই। মানুষের এই অনুভূতি থাকার কারণে সে বেচে থাকে আর জীবনকে যাপন করে থাকে।
এই যে মানুষের অনুভূতি এর ভেতর সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয় এম্পেথির বিষয়টি। এই এম্পেথির কারণের মানুষ সবার থেকে আলাদা ভাবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। বলা যায় এম্পেথির ব্যাপারটি মানুষকে সবার থেকে একদম আলাদা করে দিয়েছে। যাতে করে মানুষ তার ভেতরের মানুষের উপলব্ধিকে আরও প্রবল ভাবে অনুভব করতে সক্ষম হয়।
“To perceive is to suffer.” ― Aristotle
এখন প্রসঙ্গে বলতে হয় যে এম্পেথি কি, আসলে এম্পেথির ব্যাপারটি হচ্ছে আপনি অপর পাশের সুঃখ দুঃখ আনন্দ কে কতটা অনুভব করতে পারছেন সেটা। এখন এখানে বলা যায়, আপনি ব্যবসা লস করে শেষ হয়েছেন সেখানে আপনার এই কষ্টের অনুভূতি কাকে কিভাবে কতটুকু প্রভাবিত করেছে। অথবা কে কতটুকু অনুভব করেছে সেটাকেই আমরা এম্পেথি বলতে পারি।
মানব জাতির শুরু কথা যদি বলতে হয় তবে সেটাকে আমরা বিজ্ঞানের ভাষায় ধরে নেই এমিবা থেকে। ধরে নেই সেই প্রথম এমিবা বা আদমের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত মানুষ এসেছে তাদের ভেতর মিল কোথায় রয়েছে। তাদের কি একই সূত্রে আমাদের গাথা যাবে। ধর্ম বর্ণ জাতি গোত্র সব কিছুর শুরু বা তৈরি হবার সময় মানুষ কি ভবিষ্যতের চিন্তা করেছে নাকি তারা নিজের জন্য নিজেদের স্বার্থে সব তৈরি করেছে।
আপনি বা আমি নিজেকে কখন প্রশ্ন করে দেখেছি যে আমাদের ভেতরের আমিকে আমরা কতটুকু জেনেছি। অথচ সক্রেটিস কিন্তু বলেছেন, “নো দ্যই সেলফ বা নিজেকে জানো”। এটা ধ্রুব সত্য নয় যে নিজেকে মানুষ জানতে পারে। মানুষ জানার চেষ্টা করতে সক্ষম।
পৃথিবীর শুরুর সময় মানুষ নিজেকে জানত না। তবে সময়ের সাথে বিবর্তন ধারায় মানুষ আজকের সভ্যতায় এসেছে। এই সভ্যতায় আসার পেছনে অনেক গল্প রয়েছে অনেক কাহিনী রয়েছে। সেটার অনেক কিছু আমরা জানি আবার আমাদের অজানা অনেক কিছুই রয়েছে। যেমন সমুদ্রের গভীরতায় এমন জায়গা রয়েছে যেখানে মানুষ আজও যেতে পারেনি।
শুরু করেছিলাম জীবনের সুখ দুঃখ নিয়ে। এখানে আসে এম্পেথির ব্যাপার। এম্পেথির ব্যাপারটি মানুষের ভেতরে আছে, তবে সব সময় সবখানে সেটা এক নয়। যেমন আপনার পা কেটে গেলে আপনার মা অনেক কষ্ট পায় কিন্তু আপনার বন্ধু সেটা কষ্ট পাবে না। দুজনের এম্পেথির বিষয়টি ভিন্ন হবে। একারণেই প্রতিটি মানুষ আলাদা।
“My religion is very simple. My religion is kindness.” ― Dalai Lama XIV
ধর্মের সাথে এম্পেথির সংযোগ অনেক পুরোন। এটাকে দেখতে হলে আমাদের অনেক পেছনে যেতে হবে। আপাতত আপনার জন্য বলি যে এম্পেথির কারণেই পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মের ক্ষেত্রে এম্পেথি কিন্তু অনেক বেশি কার্যকর। কারণ কোন ধর্মে হত্যা, চুরি, ডাকাতি বা কোন অন্যায় কে মেনে নেয়া হয়নি। মানুষের ভেদাভেদ কিন্তু ধর্ম করেনি, করেছে মানুষ নিজে। এই ভেদাভেদের উৎস মানুষ নিজের জন্য তৈরি করেছে। ধর্মকে পুজি করে মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে।
যেমন ধরুন হিন্দু ধর্মে চারটি ভাগ করেছে, তার ভেতর আবার শাখা উপশাখা তৈরি করা হয়েছে। এখন সেখানেও মানুষ উচু নিচু ভেদাভেদ করেছে সেই শতাব্দীর পর শতাব্দী। আজও সেটা বিলুপ্ত করা যায়নি। তবে আপনি খেয়াল করলে দেখবে ধর্ম কিন্তু কোন ভেদাভেদ রাখেনি। সেটা সনাতন, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ যে ধর্ম বলুন না কেন।
আজ এই দর্শন বা এই এম্পেথি নিয়ে এত কথা কেন বলছি। শেষ করলাম আরিফ রহমানের লেখা “এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয়”। লেখক এই বইটি মুলত নিজের সাথে কথা বলেছেন। তবে তিনি শুধু নিজের সাথে কথা বলেছেন এমনটি নয়। তিনি এটা দেখিয়েছেন যে আসলে সব কিছুর সাথে একটা সংযোগ রয়েছে।
ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজ সব কিছুই কোন ভাবে একটি অপরটির সাথে সংযুক্ত। এটি মুলত পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যা এসেছে তার উপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। লেখক এখানে দেখাতে চেয়েছেন যে আপনি আমি বা আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে আছি।
সেটাকে এক ভাবে আপনি ভাবেন আর অপর মানুষটি অন্য ভাবে। তবে প্রতিটি মানুষের মাঝে ধর্মের প্রভাব কে লেখক সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেটা হতে পারে হিন্দু ধর্ম, ইসলাম ধর্ম বা খ্রিস্টান অথবা বৌদ্ধ।
এই যেমন ধরুন বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে, জগতের সকল প্রানী সুখি হোক। এখানে কিন্তু ধর্মের উল্লেখ নেই। তারা সবার জন্য পুরো পৃথিবীর মানুষের কল্যান ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করেছেন। এখন সেখানে সব ধর্মের জাতির উপস্থিতি রয়েছে। আবার ইসলাম ধর্মেও কিন্তু শান্তির কথা বলা হয়েছে।
সব ধর্মের শেষ কথা সমর্পণ করুন। নিজেকে নিজেকে সমর্পণ করুন। খোদার কাছে আপনার ভাষায় আপনি যেভাবে স্মরন করবেন তিনি সেটাই বুঝবেন। তার কাছে কোন ভেদাভেদ নেই। মানুষের কাছে ভেদাভেদ আছে।
বইটিকে ঠিক দর্শণ বলা যায় না, আবার ধর্মকে দেখার আলাদা চোখও বলা যায় না। তবে আপনার চিন্তাকে আঘাত করবে এটা বলা যায়। আপনার ভাবনাকে আরও গভীরে নিয়ে যাবে এটা সুচিন্তিত ভাবে বলা যায়। আপনার দেখার ও বোঝার ভাবনা কে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে এটাও বলা যায়।
“এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয়” বইটি সবার জন্য আবার সবার নয়। কারণ আপনি যদি আপনার চিন্তাকে উদার করে দেখতে না পারেন তবে এই বইটি আপনাকে কোন সহায়তা করতে পারবে না। তবে বইটি পড়ার আগে নিজেকে একটি নিরপেক্ষ জায়গা থেকে চিন্তা করবেন। আপনাকে ভেঙ্গে আবার নতুন ভাবে গড়ে নিজের স্বত্ত্বাকে চিনে নিন।
লেখক আর আমি বয়সে প্রায় সমসাময়িক বলা যায়। শুধু বয়সে বললে ভুল হবে৷ আরো অনেক কিছুতেই আমরা একসুতোয় গাঁথা বলা চলে৷ মুক্তিযুদ্ধ, ২০১৩, গণজাগরণ মঞ্চ, বিশ্বাস, অভিজিৎ রায়, বয়সের সাথে চিন্তাভাবনার পরিবর্তন এসব কিছুর মধ্য দিয়ে একের পর এক আমি যখন নিজের ভেতরে ভাঙাগড়ার ব্যপারগুলো উপলব্ধি করেছি তখন একই সময়ে ফেসবুকের টাইমলাইনে লেখককেও দেখেছি সেই একই রকম ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে যেতে। তবে ব্যপারটা এজন্য বলছি না যে আমি নিজের জ্ঞান বা বুদ্ধিকে লেখকের সমকক্ষ মনে করছি। এ জায়গাতে আমি লেখককে রীতিমত ঈর্ষা করি। কারণ আমার মধ্যবিত্ত অভ্যাসবশত আমি কোন কিছুকে খামচে ধরে সেটা থেকে সবটুকু রস নিংড়ে নিয়ে আস্বাদন করতে পারি না৷ আমি অনেক বেশি ফ্লাকচুয়েট করতে থাকি এবং জীবন আর জীবিকার মারপ্যাচ আমাকে অনেক বেশি ভোগায়। সেদিক থেকে লেখক অসম্ভব রকমের খামচে ধরে রাখা কিসিমের লোক। মধ্যবিত্ত জীবন তাকে যতই ভোগাক না কেন সে সমানে জ্ঞান সমুদ্রে ডুব দিয়ে যাচ্ছে আর সেই সমুদ্র আহরণ করে মানুষদের মনিমুক্তা বিলিয়ে যাচ্ছে। এবং সাথে সাথে নিজের কন্ঠ চড়িয়ে ভালো আর মন্দের কথাও সবাইকে জানানো বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের মাঝে অনেকে অনেক এজেন্ডার গন্ধ খুঁজতে যান। কিন্তু আমি শুধুই ঈর্ষান্বিত ভাবে দিন দিন একজন মুগ্ধ পাঠক হিসাবে তার লেখা পড়ি।
লেখককে নিয়ে অনেক কথা হল৷ বইটা নিয়ে কথা বলতে গেলেও আসলে বইয়ের কন্টেন্টের থেকে লেখকের এপ্রোচ বা চেষ্টাটা নিয়ে কথা বলতে হয়৷ কারণ যেই সংঘাতপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখক নাড়াচাড়া করছেন এ বইতে সে বিষয়ের ব্যাপারে কেউ যদি এ বইয়ের ভুল শুদ্ধ যাচাই করতে চায় তো তর্কের পর তর্ক অসীমে চলতে থাকবে। কিন্তু লেখক এইখানেই এগিয়ে গিয়েছেন। তিনি তর্ক গুলোকে পাশে সরিয়ে রেখে সব সুতোকে এক পাকে বাধতে চেয়েছেন। আর সেই পাকটা হল সহমর্মিতা বা এমপ্যাথির পাক।
আমি নিজে একসময় কট্টর এথিস্ট ছিলাম। এখনো আমি প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নই। তবে এখন আমি কট্টরপন্থায়ও বিশ্বাসী নই। এ বয়সে এসে আমার বোধের ঘরে 'কি' থেকে 'কেন' এর গুরুত্ব অনেক বেশি। এর মানে হচ্ছে কোন ঘটনায় কি হয়েছে তার থেকে কেন হয়েছে তার শানে নূজুল অনেক বেশি জরুরী। তাতে ঘটনার মূল উদ্দেশ্য বা ইনটেনশন বুঝতে সুবিধা হয়। ধর্মকেও আমি এখন তাই 'কেন' দিয়ে বিচার করি। নবী মুহাম্মদ কি করেছেন বা বলেছেন তার থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হল তিনি কেন করেছেন বা বলেছেন। সেই সময়টা তার কাছে কি ডিমান্ড করেছিল সেটা বোঝা। অন্য সব ধর্মের ক্ষেত্রেও একই কথা। দিন শেষে কাউকেই বাতিলের খাতায় না ফেলে সবাইকেই এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করাটাই বেশি কাজের। বিভেদ শুধু বিভেদই বাড়ায়। আর বিশেষত আমরা বাঙালীরা আমাদের ভূপ্রকৃতির মতই নরম, অতি আবেগী আর সদা পরিবর্তনশীল। তাই মৌলবাদের সাথে বা কট্টরপন্থার সাথে লড়াইয়ে যুক্তির কষা লড়াইয়ের সাথে আবেগের নরম কাদামাটিরও যোগসূত্র তৈরি করা জরুরী। নাহলে মানুষের কাছে পৌছানোর আশা দূর দিল্লিতেই রয়ে যাবে। লেখক ঠিক এই কাজটাই করেছেন এই বইতে। এজন্য লেখকের একটা স্যালুট পাওনা।
তবে সমস্যা হচ্ছে যে এই বইটা পড়ে এটাকে খোলামনে বিচার করবার জন্য ধর্মতত্ত্ব বা থিওলজি নিয়ে এবং বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে কিছুটা হলেও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তবে কথায় আছে যে চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য ইশারাই যথেষ্ট। একদম আনকোরা কারো মনেও যদি এই বইটা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটায় তবে এই ইশারাই তার ভেতরে আরো জানবার আগ্রহ তৈরি করবে। তবে লেখক একটা কাজ করলে ভালো করতেন। বইয়ের শেষে একটা রেফারেন্স বইয়ের বা বিষয় সম্পর্কিত বইয়ের একটা তালিকা জুড়ে দিতে পারতেন। হয়ত পরবর্তী সংস্করণে কোন একসময় এটা উনি করতেই পারেন। সবশেষে বলতে চাই আমার বন্ধু তালিকায় যারা নন ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন, দর্শন নিয়ে পড়তে পছন্দ করেন, ধর্মতত্ত্ব নিয়ে জানার আগ্রহ আছে আর নিজের চিন্তাভাবনা নিয়ে নাড়াচাড়ার অভ্যাস আছে তাদের জন্য এই বই অবশ্য পাঠ্য।
বছরের শেষটা একটা অসাধারণ বই দিয়ে হল দেখে মন বেশ ভালো লাগছে!
এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয় আরিফ রহমান গ্রন্থিক প্রকাশনী মুদ্রন মূল্য ৪৪০ টাকা
আমার থেকে যদি সামর্থ্য থাকতো সবাইকে যেকোনো একটা বই গিফট করার,তবে অবশ্যই এ বইটার শ'কপি অর্ডার করে ফেলতাম। ধর্ম,আর ধর্মের ইতিহাস নিয়ে লেখকের দৃষ্টিকোণ অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। তার থিওরি আপনার মানতে হবে তা বলছিনা, তবে বেশ পড়াশোনা করেই লেখক যে বইটা লিখেছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
আমাদের জীবনটা মূলত আকাশে থাকা একটা ক্রিকেট বলের মতন, যাকে ব্যাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, আর যা একটা সময় অবশ্যই ফিল্ডারের হাতে গিয়ে পড়বে (মৃত্যু ঘটবেই, নিয়তি অলরেডি সেট হয়ে আছে)। সেখানে একটা বল হিসেবে যেভাবে আমাদের উচিত ক্ষণ উড্ডয়নকালে আকাশকে উপভোগ করা,একি সাথে যে আমাকে নিক্ষেপ করেছে তাঁর খোঁজ করা।আর সে খোঁজেই লেখকের এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এই বইটি।
" এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয়" মূলত লেখকের একটা ডায়েরি,যেখানে তিনি নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেছেন,নিজেই যুক্তি দিয়েছেন,আবার সে যুক্তির খন্ডন করেছেন। ইসলাম, সনাতন, বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান, ইয়াজিদি, বাহাই, শিখ, জরাথ্রুস্ট প্রভৃতি ধর্মের ইতিহাস,বিভিন্ন বিধানের মাঝে লেখক মেলবন্ধন পেয়েছেন,সব ধর্মেরই মূলকথা যা,আত্নার শান্তি তাতে আলোকপাত করেছেন। মানবজাতির সৃষ্টি,বিভিন্ন ধর্মের উৎপত্তি ও দর্শনের মাঝে চমৎকার সম্পর্কের হদিশ পাওয়া যায় বইটা থেকে। এবেপারে লেখক সব ধর্মেরই গুড উইল নিয়ে আলোচনা করেছেন, অর্থাৎ যা কেবল মংগলময় সেদিকেই আলোকপাত করেছেন। কারণ, যেকোনো ধর্মেরই ক্ষতিকর দিকের জন্য মূলত মানুষ দায়ী, ধর্ম নয়।
আমি বলছিনা,আপনি বইটা পড়ে নিজেকে নাস্তিক ভাবা শুরু করেন।মোটাদাগে বইয়ের কোথাও নাস্তিকতাকে প্রোমোট করা হয়নি। জানিনা কেন,একটা শ্রেণি বইটা নাহ পড়েই নাম থেকে এর বদনাম শুরু করেছে। ইসলামী সুফিবাদ দর্শন বলুন, কি নিজের ভিতরেই তৈরী হওয়া কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চান, বা নতুন কোনো প্রশ্নের উত্তর ভেবে হাবুডুবু খেতে চান,স্রস্টাকে চেনবার প্রচেষ্টায় বইটি আপনাকে ভাবতে সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।
এবেপারে লেখক যা বলতে চেয়েছেন-
"আমার চলার পথকে আমি বারবার তৈরি করি, ভাঙ্গি-গাড়ি, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মিলিত মৃত্যু কবিতার কয়েকটা লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে,
বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে। বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো। অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায় অনায়াসে সম্মতি দিও না।
কেননা, সমস্ত কথা যারা অনায়াসে মেনে নেয়, তারা আর কিছুই করে না, তারা আত্মবিনাশের পথ পরিস্কার করে।"
বইয়ের অন্যতম মূলকথা একেবারে শেষে লেখক এভাবে বলেন,
"
— প্রত্যেকবার তুমি যখন কাউকে আঘাত করছিলে,কষ্ট দিচ্ছিলে,তুমি নিজেকেই আঘাত করছিলে,কষ্ট দিচ্ছিলে।প্রত্যেকবারই তুমি কাউকে দয়াপরবশ হয়ে কিছু করছিলে তুমি আসলে তোমাকেই দয়া করছিলে।এই পৃথিবীর প্রতিটা প্রাণের খুশির এবং দুঃখের অভিজ্ঞতা আসলে তোমারই অভিজ্ঞতা।যা হয়েছে আর যা ভবিষ্যতে হবে সবই তোমার।
"
মোটামুটি একবার পড়েছি, আরো বেশ কয়েকবার বইটা পড়তে হবে। এটা কোনোভাবেই এমন বই নয় যে আপনি এক বসায় বইয়ের ২৩০ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলবেন। তবে বইয়ের ভাষা স্পষ্ট, সাবলীল। সবাইকে ধন্যবাদ।
আমার প্রিয় খাবার গরুর মাংস ভুনা। খাইও সুযোগ পাইলেই। কিন্তু একবারও আমার চিন্তায়ই আসেনি যে, এই গরুটা হয়তো গত কালকেই জীবিত ছিল, শুধুমাত্র আমার একবেলা ভালমত খাবার জন্য গরুটাকে হত্যা করা হয়েছে।গ্রামের কোন একটা গাছের নিচে বাধা ছিল গরুটা, তারপর হয়তো কয়েকজন মানুষ ছুরি হাতে গরুটার দিকে আগায় গেল। গরুটাকে ধরে জোর করে মাটিতে শোয়ানো হলো। তারপর পাঁ গুলা বাধা হলো। একসময় ধারালো ছুরিটা দিয়ে গরুটার গলা কাটা হলো, গরুটার ভীষণ যন্ত্রনা হচ্ছিল,যেমন ভাবে আপনার বা আমার গলা কাটলে যন্ত্রণা হবে।
শুধুমাত্র আমি আপনি একবেলা ভাল খাব তার জন্য। শুধুমাত্র আমার আপনার কয়েক ঘন্টার জন্য আরাম আরাম অনুভূতি হবে তার জন্য এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন প্রানি/প্রান প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে।(আজ থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ তা বলছিনা। শুধু মাথায় রাখেন আপনার প্লেটে ভাল খাবারটা আসে কারো সাফারিং এর মাধ্যমে,ব্যাস, বিস্তারিত বইয়ে আছে)
"এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয়" বইটা কিনে আনার পর কয়েক অধ্যায় পড়ে আমার এই উপলব্ধি হয়েছে। এই বইটার দাম ৩৩০ টাকা। দামটা একটু বেশিই মনে হচ্ছিল আমার কাছে। এই বিষয়ক কয়েকটি অধ্যায় পড়ে আমার টাকা উসুল হয়ে গেছে। বাকি অধ্যায় গুলো বোনাস।
এই ধরনের বইয়ের রিভিউ লেখা একটু কঠিন কারন, লেখক বহু বিষয়ে আলাপ করেছেন।প্রত্যেক্টা আলাপ শেষে পাঠককে ভাবতে বলেছেন,সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। এম্পেথি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা আছে বইটাতে। সুখ-দুঃখের দর্শন নিয়ে আলোচনা আছে, বিবর্তন নিয়ে আছে,ধর্ম,রাজনীতি নিয়ে আছে। আর আছে সর্বোপরি পৃথিবীর সব মহামানব দের নিয়ে আলাপ। জরাথুস্ত্র,বুদ্ধ,যীশু,মোহাম্মদ (সাঃ), নানক সবার কথা আছে বইতে। গুড উইল নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা আলাপ আছে। বইয়ের উৎসর্গ টা পড়েই মনে হইছিল একটা দুর্দান্ত বই পড়তে যাচ্ছি। বইটা মুগ্ধ হয়ে পড়েছি। বেশ সময় নিয়ে পড়তে হবে, যেহেতু এখানে ভাবার জন্য বহু এলিমেন্ট লেখক ছড়ায়ে দিয়েছেন। ঠান্ডা মাথায় আলাপগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
নন-ফিকশন পড়ার সময় আমার নিজস্ব নীতি হচ্ছে, লেখকের সাথে দ্বিমত পোষন করা। লেখকরা শতভাগ শুদ্ধ মানুষ নন, তারাও বায়াসড থাকেন। তাই যা পড়ছি তার সবকিছুর সাথেই একমত হয়েছি এমন নয়। তবে প্রচুর ফুড ফর থট পেয়েছি বইটা থেকে।
বইটি আসলেই দর্শনের নোটখাতা নয়, বরং অনেকখানিই ধর্মতত্ত্বের নোট। যাদের আমার মত ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা কম, তাদের জন্য শুরুর বই হিসেবে এইটা একটা অপশন হতে পারে। আমি গৌতম বুদ্ধের দর্শনের সাথে পরিচিত ছিলাম না। এই বইটা পড়ে জানলাম কী মিস করছিলাম জীবনে! তথাগতের ভক্ত বনে গেলাম এখান থেকে। সেমেটিক ধর্মগুলোর সব ধারা নিয়েও আমার তেমন জানাশোনা ছিল না। এখন একটা ধারণা পেলাম। জরথ্রুস্টদের ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে এমনকি ওদের মিথগুলোও যে এত কানেক্টেড ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের সাথে, জেনে সত্যি অবাক হতে হয়। লেখক সনাতন থেকে ইসলাম, বৌদ্ধ থেকে খ্রিস্টে একের পর এক ডট মিলিয়েছেন৷ দেখাতে চেষ্টা করেছেন এম্প্যাথির শিক্ষাই সব ধর্মের সারকথা৷ সত্য প্রবহমান, হাজার বছর ধরে একই সত্যবচন নানা ধর্মে নানা রূপে পৃথিবীতে বিরাজ করেছে। ভবিষ্যতেও করবে। কট্টরপন্থী, প্রগতিশীল বা প্রতিক্রিয়াশীল আপনি যেই হন না কেন, নিজেকে প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে গড়ার মানসিকতা রাখা আর এম্প্যাথেটিক হওয়ার শিক্ষাই দিতে চায় এই বইটি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আনন্দ পেয়েছি বইটা পড়ে। সাধারণত নতুন লেখকদের বই আমি কিনি না, পড়িও না। এই বইটা ব্যতিক্রম হয়েছে এবং আমাকে একদমই হতাশ করেনি৷
লেখক চাইলে আটশো পাতায়ও টেনে নিয়ে যেতে পারতেন বইটাকে৷ এবং আমার বিশ্বাস তাহলেও ছন্দপতন না ঘটিয়ে পড়ে যাওয়া যেত। যেহেতু এটি শুরুতেই লেখকের 'দর্শনের নোটখাতা' নয় আবার ভেতরে অজস্র ধর্মীয়, মিথিক্যাল দর্শনের কথাবার্তায় ভরপুর, ফলে এটি প্র্যাগম্যাটিক দিক দিয়ে লেখকের উদ্দেশ্য সাধনে সফল অনেকটাই, যাকে তিনি এম্প্যাথি হিসেবে অভিহিত করেছেন৷ গতিময়, সাবলীল এই গদ্য এবং তার পরিবেশনার স্টাইল থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে৷ আর কন্টেন্ট থেকে শেখার তো অজস্র দরজা-জানালা। বারবারই দর্শনের গুঢ়, মূল প্রশ্নসমূহে ফিরে যাবার সহজাত ফিলসফিকাল এপ্রোচের দিকে হেলে পড়লেও লেখক নিদারুণ দক্ষতায় তার বইয়ের নামের সত্যতা রক্ষায় যত্নবান হয়েছেন আর এম্প্যাথির গুরুত্ব নির্ণয়ে হাজির করেছেন বিবিধ বয়ান। সামাজিক, রাজনৈতিক বর্তমান বাস্তবতায় এই বই অবশ্যপাঠ্য। যারা প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য দর্শনে একরকম হাফেজ, তারাও কেবল লেখকের ট্রিটমেন্ট প্রসেসকে ফলো করতে বইটা অবশ্যই পড়বেন। আর আমার মতো অনেক বিষয়েই যাদের জ্ঞান শুধুই ভাসাভাসা, তারাও পড়বেন সময় নিয়ে বইটা।
আপনি কি ধর্মনিরপেক্ষ? তাহলে ধরে নিন এটি আপনাকে উদ্দেশ্য করেই লেখা।
আপনি কি মৌলবাদী? আপনার জন্য তবে এটি অবশ্যপাঠ্য।
আপনি কি শান্তিকামী? আপনার মনের প্রশান্তির জন্যই তো এই বইটি।
আপনি যে হন, যেই দর্শনের অধিকারীই হন, আপনার বয়স যেমনই হোক, এই বইটি আসলে আপনার জন্যই। নাহ, "অবশ্যপাঠ্য বই" এরকম সস্তা কোনো শব্দ আমি ব্যবহার করব না। শুধু বলব আপনার দর্শনকে প্রশ্ন করতে চাইলে বইটি পড়ে দেখুন। নিজেই নিজের সাথে কথোপকথন করুন। You will find a better version of yourself.
ভাল বই। অনেক দিন মাথায় থাকবে। লেখকের পরিশ্রম, সদিচ্ছা এবং সহজ ভাষা বইটাকে আরো প্রাঞ্জল করেছে । লেখক বইতে অনেক রেফারেন্স দিয়েছেন যেগুলো আরও ডিটেইলস এ জানার আগ্রহ থাকল । একটাই অপছন্দ আছে বইটা নিয়ে সেটা হলো বইয়ের সাইজ যেটা স্ট্যান্ডার্ড সাইজ থেকে ছোট, মাঝে মাঝে হাতে হোল্ড করতে ঝামেলা লাগে । লেখকের অন্যান্য বই পড়ার আগ্রহ থাকল । প্রার্থনা করি লেখকের নিজের জানার এবং অন্যকে জানানোর যেই প্রক্রিয়া (বই, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া, অন্যান্য আলাপ) সেটা অব্যাহত থাকুক । ধন্যবাদ ।
এই বই চট করে পড়ে ফেললে ভীষণ ভুল হবে৷ এটা ভাবনাচিন্তা, বিচার-বিশ্লেষণ করে পড়ার মতো বই। লেখক নিজের সাথে পাঠককে সময়ের পরিক্রমা করিয়েছেন। দুইয়ে-দুইয়ে চার কিভাবে মিলেছে, সেই কথা বলেছেন। রাজনীতি - দর্শন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, ধর্মগুরু সবার কথা বলেছেন। সবার সমালোচনাও করেছেন আবার ভালো সবকিছুর সুন্দর হৃদয়স্পর্শী আলোচনা করেছেন। অনুগামী না বরং দ্বিমত হও। লেখকের জন্য শুভকামনা, এত সুন্দর করে সবকিছু গুছিয়ে লিখেছেন।
The author masterfully explores the intricate interplay of philosophy and religion through his compelling narrative style. The book’s nuanced insights provoke deep contemplation, inviting readers to grapple with life’s existential questions long after the final page
দর্শনের নোটখাতায় লেখক শুধু মানুষের মাঝে এমপ্যাথি খুঁজতে চেয়েছেন। ধর্ম যেহতু মানুষের জীবনের অনেক বড় অনুসঙ্গ তাই মনে হয় লেখক ধর্মীয় দর্শনের মাঝেই এমপ্যাথি খুঁজেছেন।
অসাধারণ একটি বই, সুপাঠ্য। ধর্মীয় অনেক কনসেপ্টই নতুন করে ভাবতে শেখাবে
এমপ্যাথির উপর জোর দিয়ে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর লেখা একটা সেকুলার বই। আমি এমপ্যাথিতে বিশ্বাস রাখি না। ধর্মে মুসলিম। কিন্ত এই বইতে অনেক ডীপ ফিলোসফিক্যাল বর্ণনা পেয়েছি। রাস্ট্রধর্ম বিষয়ে ভালো একটা পয়েন্ট ধরেছেন। জরাথ্রুস্ট ধর্ম সম্পর্কে বর্ণনা ফ্যাসিনেটিং।