❛আজ থেকে দুশো বছর আগে যদি কেউ আপনাকে বলে, মানুষ একদিন চাঁদে যাবে, তাদের হাতে যোগাযোগ করার সহজ মাধ্যম থাকব- তাকে আপনি ছিটওয়ালা ভাবতেন কি? বা delusional মনে হতো?❜
রাষ্ট্রপতিকে একই সময় দুটো জায়গায় দেখা যাচ্ছে কী করে? নিজের বাসভবনে সাধারণ পোশাকে বসে চা পান করছেন আবার একইদিনে একইসময়ে ভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদযাপন করছেন। তার মানে কী হতে পারে? রাষ্ট্রপতির বডি-ডাবল না এরমধ্যে আছে জটিল বিজ্ঞানের কিছু বিষয় আর রাজনীতির কঠিন প্যাঁচ?
এ নিয়ে জেনে কোন পাথারে পড়বে রাফি আর সাদি?
জয়নাল ডাক্তার একদম আর দশটা ডাক্তারের মতো নাইস। মানুষ হিসেবেও ছাপোষা, ভেজালহীন। এমন সাধারণ এক মানুষ কেন সুপারি কি লা র জামিলের কাছে এলেন? সাতে পাঁচে নেই মানুষটার এমন শত্রু কে হতে পারে? হায়দার আলীর সাথে পুরো গল্পের যোগ কি নিহিত আছে বর্তমানের বিখ্যাত কোনো ফিকশনে?
ভবিষ্যতের দুনিয়ার যতই চিত্র আঁকা হোক, যেখানে প্রযুক্তিই ঈশ্বর বা প্রতি মুহূর্তই আরো আধুনিক হোক না কেন সেখানে উন্নত হয় না আবেগ, অনুভূতি, পারিবারিক বন্ধনের মতো সূক্ষ সুন্দর ব্যাপারগুলো। তাইতো বাবা-মা আলাদা হয়ে যায় সন্তানের উপর কেমন প্রভাব পড়বে সেটা না ভেবেই। অনি নামের ছোট্ট শিশুটি দূরের ভবিষ্যতের একজন হয়েও ভুগছে শত বছর আগের এক মানসিক রোগে। দ্বৈত সত্তা, এমন এক রোগ যাকে দুর পৃথিবীর বাঘা বিজ্ঞানীরাও বুঝে উঠতে পারেননি। মানব মন যেন মহাকাশের ঐ কঠিন বিজ্ঞানের থেকেও দূরহ। তাইতো ফাইল নাম্বার সেভেনটি সেভেনে মানব মনের ঐ দূরহ রোগের গোপনীয়তা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কী এমন রোগ যার জন্য এত গোপনীয়তা, এত হীনমন্যতা!
আহা নীলক্ষেত, আহা নীলক্ষেতের বই! কী একটা আবেগ জড়ানো থাকে নীলক্ষেতের দোকানগুলোতে। বই উল্টে-পাল্টে, নেড়েচেড়ে দেখতে, ���ইয়ের ঘ্রাণ নিতে কী ভালোই না লাগে!
তবে এই ঘ্রাণ-ই যদি হয়ে ওঠে সর্বনাশা তবে পরিণতি কী হবে?
কার ইন্ধনে নীলক্ষেতের বইগুলোতে মেডিসিন মিশিয়ে অসুস্থ করে দেয়া হচ্ছে বইপ্রেমী মানুষগুলোকে? কোন বিজ্ঞানীর উর্বর মস্তিষ্কের মূল্য চুকাচ্ছে মানুষ?
ছোটকালে নরম মনে আমরা কত কিছুই আশা করি। কত স্বপ্ন থাকে, এই হবো সেই হবো। কিন্তু জীবনের চাকায় ঘুরতে ঘুরতে নরম মন বদলে গিয়ে ব্যবসায়িক মন, লাভের আশায় বিপথে মন চলে যায় খেয়ালই থাকে না। অক্সিমেডি ঔষুধ কোম্পানির অবস্থা বেহাল। এক বৃদ্ধের জন্য তাদের লাভের ক্ষরা শুরু, পাবলিক বয়কট করছে তাদের ঔষুধ। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মালিক পক্ষ কত সু কিংবা কু পদ্ধতি নিচ্ছে। মার্কেট ধরে রাখবে কী করে?
প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনা একমাত্র যে হারায় সে বুঝে। মায়ের কোল থেকে সন্তান হারিয়ে গেলে সে দুঃখিনী মায়ের দুঃখ কজন বুঝে?
ভবিষ্যতের পৃথিবীর রিভলাইফ নামের প্রতিষ্ঠান তোড়জোড় প্রচারণা চালাচ্ছে, মৃ ত মানুষকে তারা ফিরিয়ে দিবে। কালা জাদু নাকি?
নাহ্, প্রযুক্তি। এর সাহায্যেই হুবহু বা সেই মানুষকে ফিরিয়ে দিতে না পারলেও তার মতন তৈরি করে দিতে পারবে। বেশ সাড়া ফেলেছে এই ঘটনা। কোনো হিসাব না করেই সাবেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার গেলেন তার একজন প্রিয় মানুষকে ফিরিয়ে আনতে। সে থেকেই ঘটে গেলো বিশাল ঘটনা।
কাকে চেয়েছিলেন তিনি? সবুজ মানবেরা যতোই হোক নকল। তারা কি আপনজন হারানোর বেদনা ভুলিয়ে দিতে পারে না বেদনা ক্রমেই বাড়ে? কে জানে!
ভবিষ্যতের পৃথিবী বর্তমানের জন্য এক অপার বিস্ময়। প্রযুক্তির বলে যেমন ভালো কাজ সম্ভব, তেমনই সম্ভব খারাপ কাজ। তাইতো দামী গাড়ির গ্যারান্টিকে কু পথে ব্যাবহার করতে গিয়ে অজান্তেই হয়তো কেউ ধরা পড়ে যায়। আবার পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে করা স্বীকারোক্তি নিঃশেষ করে দেয় বন্ধুত্ব। ভবিষ্যতের মানুষ জানে এমন কিছু আগে ঘটেছিল। তবে কেমন হয় সময় ভ্রমণ করে অতীতের কেউ ভবিষ্যতের কাজটা জেনে অতীতে করছে? কেমন বিতিকিচ্ছিরি একটা ব্যাপার না!
এভাবেই হয়তো নানা ঘটনা রটনার মধ্যে দিয়ে আগামীর পৃথিবী চলবে। আজকের আইফোন হয়তো আগামীর কাচড়া!
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❛ভবিষ্যত যতই উন্নত, আধুনিক হোক না কেন, মানুষের মন, তাদের কু-পন্থা, কুসংস্কার এগুলো একেবার ইনটেক থাকবে। যতোই আকাশে হেঁটে বেড়ানোর প্রযুক্তি আসুক মনের অবনতি ই হবে।❜
❝সবুজ মানুষ রহস্য❞ ছয়টি ছোটগল্প এবং পনেরোটি অণু সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ। পুরো বইটির বেশিরভাগ গল্পই ভবিষ্যতের পৃথিবী নিয়ে।
লেখক নিলয় নন্দীর লেখা আগেও পড়া হয়েছে। শিশু-কিশোর উপযোগী বই লিখলেও সে বই কচি থেকে কড়া যে কারো পছন্দ হবে বলে মনে করি। এই বইটিও তেমনই একটি বই।
ছায়ামানব, জয়নাল ডাক্তার এবং হায়দার আলীর গল্প, ফাইল নাম্বার সেভেনটি সেভেন, নীলক্ষেতের বই, অমৃতের সন্ধানে, সবুজ মানব রহস্য এবং একগুচ্ছ অণু সাইন্স ফিকশন নিয়ে পুরো বইটি সজ্জিত।
প্রতিটি গল্পই বিজ্ঞান, দূর ভবিষ্যত এবং আধুনিকায়নের পাশাপাশি বেশ হিডেন কিছু মেসেজ দিয়ে গিয়েছে। এসেছে কূটনীতি থেকে রাজনীতি, লাভের হিসাব কষা সুযোগ সন্ধানী মানুষ, ব্যবসায়ের জন্য নৈতিকতা ভুলে যাওয়া কিছু মানুষের গল্প, এসেছে আবেগ-অনুভূতির কথাও।
❛ছায়ামানব❜ গল্পে লেখক যে বিষয়ের অবতারণা করেছেন তা আমার দারুণ লেগেছে। এবং অবশ্যই বর্তমানের সাথেও কোনোভাবে যৌক্তিক হতেই পারে সেটা! ছয়টি ছোটগল্পের মধ্যে আমার সবথেকে পছন্দ হয়েছে ❛অমৃতের সন্ধানে❜ গল্পটা। গল্পের সূচনা থেকে সমাপ্তি বেশ দারুণ ছিল। ছোটগল্প বিধায় অনেক কথার প্রয়োজন হয় না। অল্প ভাষার ব্যবহারেই প্রভাব ছড়িয়ে যায় অনেক। এখানে গল্পগুলোও এমন।
অণু সাই-ফাই গুলো আমার কাছে বেশ আগ্রহোদ্দীপক লেগেছে। এক পাতার গল্পে কীভাবে অনেককিছু ভাবনায় হারিয়ে যাওয়া যায় এই গল্পগুলো তার দারুণ উদাহরণ। বিশেষ করে ❛লেখা❜ এবং ❛স্বীকারোক্তি❜ গল্পটা আমার দারুণ লেগেছে।
ঠাসা ঠাসা কঠিন বই, জমজমাট থ্রিলার পড়ার ফাঁকে দিয়ে এ জাতীয় বই হাওয়া বদলের টোটকা হিসেবে কাজ করে।
প্রোডাকশন:
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের বই এমনিতেই বেশ সুন্দর। এই বইটিও তাই। গল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু চিত্রের ব্যাবহার হয়েছে। সেগুলোও বেশ সুন্দর লেগেছে।