Kaushik Roy is Reader in History at Jadavpur University, India and Global Fellow of the Peace Research Institute Oslo, Norway. He is the author of many articles and books, including Military Manpower, Armies and Warfare in South Asia (2013), The Army in British India (2012) and The Oxford Companion to Modern Warfare in India (2009). He is also the co-author of Armed Forces and Insurgents in Modern Asia (2016; with Sourish Saha) and the co-editor, along with Scott Gates, of War and State-Building in Afghanistan (2015).
এই সুবৃহৎ বইটি লেখকের প্রখর রুদ্র সিরিজের অংশ। তাই বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ হিসেবে বলে রাখি, যাঁরা এই সিরিজের আগের দু'টি বই, বিশেষত 'হন্ডুরাসে হাহাকার', পড়েননি, তাঁদের হয়তো এই বইয়ে বেশ কিছু চরিত্রর আচরণ বুঝতে অসুবিধে হবে। এবার আসি বইটির কনটেন্টে। কী নিয়ে লেখা হয়েছে বইটি? স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কলঙ্কজনক ঘটনা কোনটি— এই প্রশ্নের উত্তরে আশেপাশে সবাই সুর তুলে বাবরি মসজিদ, গোধরা ইত্যাদির নাম নেয়। তবে রক্তপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির বিচারে তাদের একেবারে ফিকে করে দেবে ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম গণহত্যা তথা তার পটভূমি। আজ্ঞে হ্যাঁ, আমি ১৯৮৪-র ঘটনাক্রমের কথা বলছি। অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের ফলে কীভাবে দেশ সেই বিন্দুতে এসে পৌঁছেছিল, কারা ছিল তার পেছনে, সর্বোপরি আজকের ভারতেও কি তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি সম্ভব— এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে চেয়েছে এই বই। আর হ্যাঁ, এক্ষেত্রে দানবের উত্থান কথাটা একেবারে লাগসই, কারণ দানব না থাকলে কারও পক্ষে কীভাবে দেবতার আসন নেওয়া সম্ভব হবে? নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভে পাশাপাশি তিনটি ঘটনাক্রম দেখানো হয়েছে এখানে। তার মধ্যে দু'টি অতীতের, একটি বর্তমানের; কিন্তু তিনটিতেই কিছু-কিছু চরিত্র উপস্থিত থেকেছে ভিন্ন-ভিন্ন ভূমিকায়। তাই এই লেখার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত জটিলতা আছে। তবু... একটি চারশো পাতার বই যদি কার্যত একরাতে শেষ করতে হয়, তাহলে সেটির সম্বন্ধে কী বলা চলে? বইটি স্রেফ আনপুটডাউনেবল! থ্রিলার হওয়ার প্রধানতম শর্ত— গতিময়তা— সেটি সফলভাবে পালন করতে পেরেছে। তবে সুধীজন জানেন, ফুলস্পিডে খাওয়ার পরেই সেটি নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করতে নেই। আমিও তারপর ঘণ্টাদশেক বইটা নিয়ে মতামত দিলাম না। বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করলাম, চোঁয়া ঢেকুর উঠছে কি না, বা অন্য কোনো অস্বস্তিকর অনুভূতি হচ্ছে কি না। না; সে-সব নেই। যা আছে তা একে-একে লিখি। বইটির ভালো দিক হল~ ১) আটের দশকের গোড়ার দিকে ঠিক কীভাবে ও কেন পাঞ্জাব সমস্যা ঘনিয়ে উঠেছিল, তাতে দেশীয় ও বিদেশি বিভিন্ন শক্তির কী ভূমিকা ছিল, সর্বোপরি অপারেশন ব্লু স্টারে ঠিক কী ধরনের অপারেশন চালানো হয়েছিল— এগুলো নিয়ে বাংলায় বই নেই বললেই চলে। সেখানে থ্রিলারের মোড়কে, কিছুটা ইনফোফিকশনের মতো করে হলেও, ওই কণ্টকিত এবং ইদানীং চেপে দেওয়া কথাগুলো আমাদের সামনে তুলে এনেছেন লেখক। তাতে ব্লেম গেমের চেয়েও বেশি করে দেখানো হয়েছে, দেবতা হতে চেয়ে দানবের উত্থানে সাহায্য করলে ফলাফল কী হতে পারে। ২) বাংলায় এস্পিওনাজ জিনিসটাকে বড়ো বেশি রোমান্টিক আর জেমস বন্ডীয় আকারে দেখা ও দেখানো হয়। এই বই তার ক্রূর, রুটিনবন্দি, আর বিশ্বাসঘাতকতার ছোবলে ক্ষতবিক্ষত চেহারাটাকে অকপটে দেখিয়েছে। লেখক এই বিষয়ে দু'টি প্রামাণ্য নন-ফিকশন বইয়ের রচয়িতা বলেই হয়তো সংশ্লিষ্ট চরিত্রদের এতটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পেরেছেন। এখানেও বলব, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের কথামতো 'মানবমনের অন্ধকার দিক' নিয়েই নিবিষ্ট বইটি সত্যিই সফল থ্রিলার হয়ে উঠেছে। ৩) বাস্তবে সিক্রেট মিশন কতটা অমসৃণ এবং অনিশ্চয়তায় দীর্ণ হয়, তা সমৃদ্ধ দত্ত এবং কাজল ভট্টাচার্যের লেখাপত্তরের সুবাদে কিছুটা হলেও আমরা জানি। এই বই সেই বাস্তবানুগ ধরনটিই অনুসরণ করেছে। ফলে জাদুকরি কার্যকলাপ নয়, বরং ব্যর্থতা আর হতাশার মধ্য থেকে এক-আধটা সাফল্য ছিনিয়ে আনাই যে সিক্রেট সার্ভিসের দস্তুর— সেটা তিনি নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন। কিন্তু... বইটির খারাপ দিক হল~ প্রথমত, লেখা ভীষণ রুক্ষ। 'যদিও' শব্দের অত্যধিক প্রয়োগ ঘটেছে। "এই মুহূর্তে এটাই আমাদের প্রথম মিশন" জাতীয় অদ্ভুত বাক্যের আবির্ভাব ঘটেছে বারবার। বইটির বানান শুদ্ধ হলেও লেখনী নিয়ে অনেকটাই অসন্তোষ রয়ে গেল। লেখক সম্ভবত সময়াভাবে পিষ্ট হয়ে উপন্যাসটি শেষ করেছেন। কিন্তু এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এত ভালো লেখার পরিবেশন আরও যত্ন ও সময় দাবি করে— এটা তিনি বুঝলেই মঙ্গল। দ্বিতীয়ত, এই শ্বাসরোধী পলিটিক্যাল থ্রিলারটি একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বিশুদ্ধ হাবিজাবিতে আত্মসমর্পণ করল। ঠিক কেন লেখক এই হারাকিরিটি করলেন, বুঝলাম না। তবে লে কের বা টম ক্ল্যান্সি-র দুনিয়া থেকে তাঁর এই নার্নিয়া-স্তরে অবতরণ আমার মনে তাঁর লেখা সম্বন্ধে শ্রদ্ধা অনেকটাই কমিয়ে দিল। তবু বলব, ওই শেষের গাঁজাখুরি অংশগুলো দরকারে স্টেপল করে নিতে হলেও বলব, এই থ্রিলারটি আপনার পড়া উচিত। আজ থেকে চার দশকেরও কম সময় আগে এই উপমহাদেশকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল ভোটের রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া এক দানবের উত্থান। সেটির প্রকৃতি সম্বন্ধে আমাদের জানা প্রয়োজন। না হলে কবে আমাদেরই আঙিনায় নতুন করে সে মাথা তুলবে, তা আমরা বুঝব কীভাবে? খুব ভালো থ্রিলার— ওই শেষের ফ্যান্টাসিটুকু বাদ দিলে। প্রখর রুদ্র সিরিজের ভক্ত হলে তো বটেই, তা না হলেও বইটি পড়ার পরামর্শই দেব। অলমিতি।
নিজের দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ আর রক্তাক্ত অধ্যায় (এবং যে দানব ভবিষ্যতেও যেকোনো জায়গায় মাথাচাড়া দিতে পারে) , এই নিয়ে এক টানটান থ্রিলার। প্রথর রুদ্র সিরিজের তিনটি বইয়ের মধ্যে এইটিই সবচেয়ে ভালো লাগলো, আগের দুইটি পরা না হয়ে থাকলে এটিকে একক হিসেবেও পড়তে পারেন, খুব একটা অসুবিধা হবে না। অবশ্যপাঠ্য !
লেখককে ধন্যবাদ এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য। পরবর্তী পর্বের পেখায় রইলাম।