শহরে বীভৎস এবং পৈশাচিকভাবে খুন হচ্ছে একের পর এক মানুষ। পুলিশ কিংবা সাংবাদিক, কেউই কুলকিনারা করতে পারছে না এ রহস্যের। এসবের সঙ্গে আদৌ কি কোনো সম্পর্ক আছে অধুনা বিখ্যাত এক জাদুকরের? হন্যে হয়ে কী খুঁজে বেড়াচ্ছে আদিনাথ তান্ত্রিক? বহুকাল আগে কোথায়ই বা গায়েব হয়ে গেল কুখ্যাত এক ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান? রহস্যময়ী ফরচুন টেলার মহিলার উদ্দেশ্য কী? এসবের সঙ্গে কিংবদন্তি কোহিনুর হীরারই বা কী সম্পর্ক! কী রহস্য আগলে রেখেছে নিশিন্তপুরের যক্ষরা?
প্রশ্নগুলোর জবাব জানা ভীষণ জরুরি। তার চেয়েও জরুরি এখন মানুষ শিকারের খেলাটা থামানো...!
তৌফির হাসান উর রাকিব (Toufir Hasan Ur Rakib) একজন কথাসাহিত্যিক, কবি এবং অনুবাদক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। পেশায় একজন চিকিৎসক।
রহস্যপত্রিকার তুমুল জনপ্রিয় লেখক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে সাহিত্য অঙ্গনে শুরু হয় তার দৃপ্ত পথচলা। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে তার অতিপ্রাকৃত ঘরানার বইগুলো।
সেবা প্রকাশনীতে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয় তার ‘ঈশ্বরী’ বইটি। এর পরে মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ এর সাথে যৌথ ভাবে লিখেন আগাথা ক্রিস্টির ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং যৌথ ভাবে আরো দুইটি আগাথা ক্রিস্টির বই ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ (২০১৭) ও ‘গেম ওভার’ (২০১৯) প্রকাশিত হয় তার। তিনি অনুবাদ করেন বিক্ষাত লেখক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর ‘ডক্টর থার্ন’। তার সম্পাদনায় বের হয় বেশ কিছু বই, যার সাথে আছে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ও আগাথা ক্রিস্টির ‘শার্লক হোমস ভার্সাস এরকুল পোয়ার’, কান্তজীউয়ের পিশাচ, দেবী, নিশিডাকিনী, শাঁখিনী, হাতকাটা তান্ত্রিক। কিছু অতিপ্রাকৃত ও হরর গল্পগুচ্ছ নিয়ে বর করেন ‘অপদেবী ’, ‘ট্যাবু’ সহ সব মিলিয়ে ৬টি বই। এছাড়া তৌফির হাসান উর রাকিব ও মারুফ হোসেন যৌথ ভাবে লিখেন এরিক মারিয়া রেমার্ক এর দুটি বই ‘স্পার্ক অভ লাইফ’ ও ‘হেভেন হ্যায নো ফেভারিট’। ওয়েস্টার্ন সিরিজের ২৯০তম বই ‘ডুয়েল’ এর লেখকও তিনি।
মারাত্মক একটা গল্প হতে পারতো কিন্তু অবান্তর ফ্লাট আলোচনা, গল্পের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কো-রিলেশনের অভাব, ক্যারেক্টার বিল্ডআপে অমনোযোগী এসবকিছুর জন্য গল্পটা জাস্ট মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে লেখকের লেখার ধরণ মারাত্মক রকমের সুন্দর এটা মানতেই হবে। যেভাবে গল্পের প্রারম্ভটা সেট করেছিলেন আর গোলাম মাওলার স্টেজ জাদু প্রদর্শনী তুলে ধরেছিলেন তা নিঃসন্দেহে যেকোন পাঠককে গল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে।
‘আধিব্যাধি’; ২০২৩ এ প্রকাশ পাওয়া বইটা নিয়ে অনেককে কথা বলতে দেখেছি। যদিও কোন আলোচনাই আমি পড়িনি, কারণ টার্গেট ছিলো বইটা পড়বো। আমার ধারণা কোন একটা বই যদি একদম ব্ল্যাংক মাইন্ড থেকে পড়া যায় তবে বইটা একদম পুরোটা উপভোগ করা যায়। উপভোগ করা মানে কিন্তু সবসময় ভালো এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া বোঝাই নাই। যেটা বুঝিয়েছি সেটা হলো, বই পড়ার আগে আনবায়াসড থাকার ব্যাপারটা। এ কারণে আমি বই পড়ার আগে বেশিরভাগ বইয়ের ফ্ল্যাপও পড়ি না। তাহলে বই কেনার জন্য বই সিলেক্ট করেন কীভাবে? এই প্রশ্নটার উত্তর হচ্ছে আমি কিছু কিছু বই একদম র্যান্ডম কিনি আর বাকিটা কিছু ফ্যাক্টরের ওপর ডিপেন্ড করে। প্রকাশক, জনরা, ক্ষেত্রবিশেষে বইয়ের নাম এবং মোস্ট ইম্পর্ট্যান্টলি লেখকের নাম। তৌফির হাসান উর রাকিব, সেবার লেখক; এই একটা ফ্যাক্টরই যথেষ্ট ছিলো এই বইটা কেনার জন্য। তার ওপর আবার বোনাস হিসেবে বইটা এসেছে বাতিঘর থেকে। তবে বইয়ের কথা বলার আগে একটা কথে বলে নিতে চাই। বইটার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯২ তবে আপনি অনাগ্রহী পাঠক হলে আপনার জন্য ১৮০ পৃষ্ঠা। মজার না ব্যাপারটা?
একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে শহরে। খুনগুলো অদ্ভূত, বাইরে থেকে কোন আঘাত বা ধস্তাধস্তির কোন চিহ্ন নেই, কিন্তু শরীরের ভেতর সব হাড় একদম গলে গেছে! বোঝাই যাচ্ছে এখানে আধিভৌতিক কোন ব্যাপার আছে। সেটা নিয়েই গল্পটা একটু একটু করে এগিয়ে যায় আর শেষে এসে প্লটের চমৎকার একটা ব্যাপার রিভিল হয়। সবমিলিয়ে প্লটটা বেশ ভালোই তবে সেবার একজন লেখক হিসেবে লেখনশৈলী মারাত্মকভাবে আমাকে হতাশ করেছে।
লেখনশৈলীর সবচাইতে বাজে দিক হলো এক্সিকিউশন। লেখক এই বইটা লেখার জন্য অনেক পড়াশোনা করেছেন যেটা ভালো কাজ হলেও বইতে সেটার প্রতিফলন হয়েছে বাজেভাবে। কোহিনূর হীরা নিয়ে এত তথ্য কপচেছেন (মিনিমাম ৬-৭ পৃষ্ঠা) অথচ শেষে এসে ওটার কোন সংযোগই বইতে বলতে গেলে নেই। সেইম কাজটা করেছেন তান্ত্রিক বিদ্যা নিয়ে বলার সময়ও। এখানে অবশ্য একটা ডিসক্লেইমার দিয়েছেন। ডিসক্লেইমারটা এরকম –
‘তন্ত্রে আগ্রহী পাঠকদের সুবিধার্থে তার বক্তব্য ঈষৎ সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে বর্ণনা করা হলো। অনাগ্রহী পাঠকরা এখান থেকেই পরবর্তী অধ্যায়ে চলে যেতে পারেন।’
কেন ভাই? আমি কি বইটা পড়ার জন্য কিনিনি? যদি কিনে থাকি তবে আপনাকে ধরে নিতে হবে বইটা নিয়ে আমি আগ্রহী। এখন একটা ফিকশন বইতে আপনি যদি নন-ফিকশন কোন তথ্য ঢোকাতে চান তাহলে সেটা এমনভাবে ঢোকাতে হবে যাতে সবাই পড়তে পারে। মানে এটাই তো একজন লেখকের কাজ, লেখাতে পাঠককে ধরে রাখা; তাই না? তাহলে এই ডিসক্লেইমারটা কেন দিতে হলো? ফিকশন বইতে নন-ফিকশনাল তথ্য আমরা নারায়ণ সান্যালের বইগুলোতে দেখেছি, দেখেছি কিশোর পাশা ইমনের মিথস্ক্রিয়াতে। কই ওগুলো তো এভাবে তেল-জলের মতো আলাদা হয়ে থাকেনি।
যাইহোক, তন্ত্র টন্ত্র আমাকে খুব একটা টানেনা, তবে এই বইটা যেহেতু তন্ত্র নিয়েই মূলত, না টানলেও আমাকে অবশ্যই এই অংশটুকু পড়তে হবে, বইয়ের সাথে রিলেটেড যে। তো আমি পড়লাম। পড়ে পুরো তাজ্জব বনে গেলাম। তন্ত্র টন্ত্র নিয়ে উনি ঘেঁটে টেটে যা পেয়েছেন তুলে দিয়েছেন এখানে আর এ কাজটা করতে ১২ টা পৃষ্ঠা ব্যয় করেছেন। ঐ ১২ পৃষ্ঠার বর্ণনা এতোটাই বিরক্তিকর যে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তারথেকেও বড় কথা এই ১২ পৃষ্ঠার কোন প্রয়োজনই নেই বইতে, একদম একটুও না। সম্পূর্ণ ইরেভ্যালেন্ট এই ১২টা পৃষ্ঠা ওনার বইটাকে বিরক্তিকর করেছে শুধু। আর সেটার ডিসক্লেইমার হাস্যকর একটা ব্যাপার হিসেবে ধরা দিয়েছে।
এরপরে লেখনশৈলীর দূর্বল দিক নিয়ে কথা বলতে হলে উঠে আসবে ক্যারেক্টারাইজেশনের ব্যাপার। এ বইতে তিনি ক্যারেক্টারাইজেশন ডিটেইল করতে গিয়ে অহেতুক অনেক বর্ণনা দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। সেটা প্রথমে খুন হওয়া ঐ ব্যবসায়ী ভদ্রলোকের ক্ষেত্রেও, সাংবাদিক যুগলের ক্ষেত্রেও। সাদা জাদু করা সেভেনের পরিচয় প্রসঙ্গে উনি অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন উনি কীভাবে কেস নেন আর এক্সিকিউট করতে। সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আমার কাছে অহেতুক মনে হয়েছে। অহেতুক মনে হয়েছে গোলাম রসুলের স্টেজে পারফর্ম করা যাদুর এত ডিটেইলড বর্ণনাও। আবার বেশ ডিটেইলড বর্ণনা দেয়া সাংবাদিক তানভীর কিংবা ইন্সপেক্টর আহমেদ করিমকে যেভাবে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেখা হয়েছিলো তাতে করে আমি ভেবেছিলাম তাদের মেজর একটা ভূমিকা থাকবে বইতে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো তাদের আসলে কোন ভূমিকাই নেই, নেই মানে একদমই নেই। ইন্সপেক্টর দিয়ে মনে পড়লো, একটা থানায় ইন্সপেক্টর একজনই থাকেন। তাকে অফিসার ইন চার্জ বা ওসি বলা হয় (ওসি কিন্তু কোন র্যাংক না)। কিন্তু এখানে ওসি হিসেবে দেখানো হয়েছে মেহরাব সাহেবকে এবং আহমেদ করিম ছিলেন তার অধীনস্ত একজন ইন্সপেক্টর। একজন ইন্সপেক্টরের অধীনে কি আরেকজন ইন্সপেক্টর থাকেন? আমার জানা নেই, তাই কেউ জানলে জানানোর অনুরোধ থাকলো।
শেষ মেষ তার লেখনশৈলীর যে দিকটা দূর্বল লাগলো সেটা হলো, একই জিনিসের ভিন্ন ভিন্ন নামের ব্যবহার। কাক, মানে আমাদের আশেপাশে বাস করা কালো রঙ এর পাখিটা, তাকে কখনো ডাকা হয়েছে কাক নামে, কখনো বায়স, কখনো বা পরভৃৎ। একই কাজ করা হয়েছে জাদুকর শব্দটার ক্ষেত্রেও। তিনি কখনো হয়েছেন মায়িক, কখনো বা ঐন্দ্রজালিক। সাপ হয়েছে ভুজঙ্গ, ভুজগ ইত্যাদি। এভাবে একই শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করাটা আসলে একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে, তবে আমার কাছে ব্যাপারটা আরোপিত এবং খানিকটা বিরক্তিকর মনে হয়েছে। এতে বইয়ের মান অন্তত আমার কাছে বাড়েনি। মূল গল্পে অনেক সাবপ্লট উঠে আসলেও সেগুলোর কোন ব্যাখ্যা মেলেনি। এটা নিয়ে আমার অবশ্য সমস্যা নেই, কারণ বইয়ের শেষটা দেখে মনে হয়েছে এটা সিরিজ হবে। এই কারণে মনে অনেক প্রশ্ন জাগলেও সেটার উত্তর বইতে কেন পাইনি, তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। এই প্রশ্নগুলো উত্তর আর সাবপ্লটগুলোর পরিণতি কোনদিকে যায় সেটা জানার আগ্রহ থাকলেও এরকম লেখনশৈলীতে এই সিরিজের পরের কোন বই পড়বো কিনা সন্দেহ আছে। আমার লেখাকে কেউ গুরুত্ব দিয়ে থাকলে বলবো, এই বইটা রেকমেন্ড করার মতো না।
তবে আমি ব্যথিত সেবার লেখকের লেখার এ হাল দেখে। কিংবা এমনটাও হতে পারে এই বইটার ক্ষেত্রে আমার এক্সপেরিয়েন্স খারাপ। লেখকের অন্য কয়েকটা বই হয়তো আসলেই ভালো। আপনারা কেউ যদি এমনটা ভেবে থাকেন, তাহলে আমি বলবো ওনার অন্য কোন বই যেটা আপনাদের ভালো লেগেছে, আমাকে প্লিজ সাজেস্ট করুন। একজন লেখকের বই পড়া বাদ দেয়ার আগে আমি অন্তত তার ২-৩ টা বই পড়তে চাই।
অনেক আশা নিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভালো লাগলো না। গোটা কাহিনীটাই কনফিউজিং�� যেন ঘটনা ঘটছে, চরিত্রে আসছে যাচ্ছে কিন্তু কেন, কী কারনে এদের আগমন বা প্রস্থান তা সম্পর্কে লেখক নিজেই অবহিত নন। মাঝখান দিয়ে কোহিনূর হিরা, তন্ত্রমন্ত্র, ছায়া ইত্যাদি নিয়ে বিস্তর তথ্যাদি দেয়া হয়েছে অথচ গল্পের সাথে এদের সংযোগই নেই প্রায়। সম্ভবত সিক্যুয়েল আসবে, কিন্তু আমি মনে করি না আসলেই ভালো।
(গোটা গল্পে শুধু জাদুকরের জাদু প্রদর্শনীর বর্ণনা ভালো লেগেছে।)
স্বর্গ হলো ঈশ্বরের ছায়া আর নরক শয়তানের! আর জীবন স্রেফ একটা স্বপ্নের ছায়া; যা ঈশ্বর এবং শয়তান সম্মিলিতভাবে দেখছেন!
শহরের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে বিভৎস লাশ। কেউ যেন চরম নির্মমতায় পিষে ফেলছে দেহগুলোকে! পড়ে থাকছে একতাল মাংসপিণ্ড। বাহ্যিক আঘাত ছাড়া হাড় গুড়ো হয়ে যাচ্ছে কী করে? কারো কারো মতে হয়তো বা নতুন জীবনঘাতি ফর্মুলার কারসাজি! তাহলে কনস্টেবল দুজন কালো ছায়ার মতো কিছু যে দেখলো সেটাই বা কী? পুলিশ, ডিবি মিলে মাঠে নেমে পড়েছে কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না কোনো সূত্র!
জাদুকরের উপর ক্ষ্যাপা একদল যুবক। জাদু শুধুই ধোঁকাবাজি। কিন্তু অধুনা জাদুকর যে সামান্য কোনো জাদুকর না, না জাদুগুলো ছলচাতুরী! রহস্যময় এক তান্ত্রিক হাজির হয় জাদুকরের দোরগোড়ায়। ফরচুন টেলারের সাহায্য কেন প্রয়োজন জাদুকরের?
ম্যাজিক, হরর, ফ্যান্টাসি, মিথ, মিস্ট্রি, থ্রিলারের মিশেল এক কথায় বলতে গেলে। শুরুতে মনে হচ্ছিলো হরর। তারপর কাহিনী যত এগিয়েছে একের মধ্যে বিভিন্ন স্বাদ পেয়েছি। প্লটটা দারুণ কিন্তু উপস্থাপনায় বেশ কিছুটা ঘাটতি মনে হয়েছে। কিছুটা ক্যাবিক ধাঁচে লেখা সাথে লেখক বিভিন্ন প্রতিশব্দের খেল দেখিয়েছেন। থ্রিলার বই আমার কাছে সহজ-সাবলীল হলেই বেশি ভালো লাগে তাই লেখনশৈলী খুব একটা উপভোগ করতে পারিনি।
কোহিনূরের হিস্ট্রিটা ভালো লেগেছে। কিছু তথ্য আগেই জানা ছিল এবার ডিটেইলসে জানলাম। কিন্তু কোহিনূরের সাথে কাহিনীর তেমন কোনো কানেকশন নেই। তন্ত্র নিয়ে লেখক যে বিশাল আলোচনা করেছেন তা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও মনোযোগ রাখতে পারিনি। ঢালাওভাবে না লিখলে কি চলতো না? যদিও লেখক বলেছেন পাঠক চাইলেই অংশটা বাদ দিতে পারেন। কিন্তু বাদ যদি দিতেই হয় তাহলে বইয়ে অংশটা থাকা কি জরুরি ছিল? আমার কাছে মনে হয়েছে খামখাই পেজ সংখ্যা বেড়েছে। বাদ দিয়ে পড়ার পরও কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হয়নি। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে স্টেজে জাদুকরের পারফরমেন্স আর ফরচুন টেলারের অংশটা। এক এক জনের সমস্যার কারণ যেভাবে বের করছে, মজা পেয়েছি পড়ে। শহরের পুলিশের অংশটা মাঝ থেকে হঠাৎই উধাও! অংশটা মোটামুটি কিছুটা ফোকাস পেলেও চলতো কিন্তু একবারেই সাইড স্টোরি হিসেবে যেভাবে দেখানো হয়েছে জমে নায়। শেষটা হতাশ করেছে। এতো সহজে, এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! সমাপ্তি অংশে মনে হয়েছে সম্ভবত সিরিজ হবে।
এবার আসি কিছু খটকায়। বইটা শেষ করার পরও প্রশ্নগুলো মনে খচখচ করছে। বইয়ে গড বলতে আসলে কী বুঝানো হয়েছে? জাদুর জগতের কর্তাকে? জাদুকর, ফরচুন টেলার গড আর প্যারাগনের সাথে কীভাবে কানেক্টেড? গড- প্যারাগনদের বিরোধের বিষয়টা খোলাসা করা হয়নি। ডার্ক ম্যাজিক তো বুঝলাম কিন্তু হোয়াট ম্যাজিক নিয়ে কনফিউজড। ফরচুন টেলারকে কেন হোয়াইট ম্যাজিশিয়ান বলা হচ্ছে?
যদি সিরিজ হয় তাহলে আশা রাখছি জাদুর চমৎকার একটা দুনিয়া দেখতে পাবো। হয়তো বা প্রশ্নগুলার জবাবও পেয়ে যাবো।
লেখক যে অনেক লেখাপড়া করেছেন এই বইয়ের জন্য, তা স্পষ্ট। কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে অনেক বেশি বিল্ড আপ দেওয়া হয়েছে কিন্তু বই শেষ করে আশা করছি এইটা একটি সিরিজে টার্ণ নিবে এবং পরবর্তী বই/গুলোর জন্য এই বিল্ড আপ মেনে নেওয়া যায়। টুইস্টটা ভালোই। কঙ্ক এবং সেভেন আমার প্রিয় ক্যারেক্টার নিঃসন্দেহে!
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের জমিদারবাড়ি। একটা পাতালঘর৷ মেঝেতে একটা জাদুময় নকশা। একজোড়া যক্ষ। একটা মহামূল্যবান থলে। যক্ষদ্বয় সেটাই পাহারা দিচ্ছে। কি এমন আছে সেই থলেতে?
ঢাকার বুকে একের পর এক ঘটে যাচ্ছে রহস্যময় খুন। লাশগুলোর অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। কেউ যেন শরীরের ভেতর থেকে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিচ্ছে হাড়গুলো। কিন্তু লাশের বাহির থেকে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। কোন আঘাতেই চিহ্ন নেই। একটাও না।
পুলিশের ইন্সপেক্টর আহমেদ করিম এই অব্যাখ্যাত খুনগুলো নিয়ে আছেন চরম ভ্যাজালে। তরুণ সাংবাদিক মীর তানভিরের মনেও এসব নিয়ে অনেক প্রশ্ন। কে বা কারা এমন ভয়ানক জিঘাংসা নিয়ে খুনগুলো করছে? এই খুন হওয়া মানুষগুলোর দোষই বা কি?
নীলগঞ্জ গ্রামে অনেকদিন আগে এক জাদুকর এসেছিলেন। এমন কিছু জাদু তিনি দেখিয়েছিলেন, যেগুলোর কথা সেই গ্রামের মানুষ আজও ভোলেনি। কিন্তু আশ্চর্য সব ঘটনা ঘটানো শেষে জাদুকর হঠাৎ-ই কোথায় গায়েব হয়ে গেলেন! কেনই বা কারোর থেকে কোন বিদায়-আদায় নিলেন না তিনি?
আদিনাথ তান্ত্রিক চান এমন এক অমূল্য রত্ন, যা আজ পর্যন্ত কোন শাসক শান্তিপূর্ণভাবে নিজের হস্তগত করে রাখতে পারেননি। এই রত্ন হাসিল করার জন্য তিনি দারস্থ হলেন এমন এক জাদুকরের যিনি নিজেই অনেককাল কারো সাতেপাঁচে থাকেন না। এসবের সাথে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সম্পর্কই বা কি?
যাই ঘটুক না কেন, ঢাকার বুকে ঘটে যাওয়া একের পর এক খুনের রহস্যের সমাধান তো হওয়া দরকার। হবে কি? কে জানে! সমস্ত রহস্য যদি এক সুতোয় গাঁথা হয়, তাহলে হতেও পারে। না-কি?
বহুকাল পর কোন সুপারন্যাচারাল থ্রিলার উপন্যাস পড়লাম। লেখক তৌফির হাসান উর রাকিবের লেখার সাথে পরিচয় সেই সেবা থেকে। কিন্তু এর আগে উনার কোন পূর্নাঙ্গ উপন্যাস পড়েছি বলে মনে করতে পারি না। 'আধিব্যাধি' একটা অদ্ভুত সুপারন্যাচারাল থ্রিলার। এই উপন্যাসে সুপারন্যাচারাল এলিমেন্টের সাথে সাথে ইতিহাস ও তাত্ত্বিক বিষয়াদিও আছে বেশ অনেকটা। ব্যাপারটা ভালো।
তৌফির হাসান উর রাকিব তাঁর 'আধিব্যাধি'-তে কোহিনুর হীরা নিয়ে অনেক ঐতিহাসিক আলাপ-আলোচনা করেছেন। কিন্তু সেই হীরার ভূমিকা উপন্যাসের প্লট অনুযায়ী বেশ ক্ষুদ্রই মনে হয়েছে আমার কাছে। প্রাচীন তন্ত্রবিদ্যা নিয়েও অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেয়েছি এই উপন্যাসে। সেগুলো বেশ ইইন্টারেস্টিং লেগেছে। জাদুবিদ্যা সম্পর্কেও এমন আলোচনা অনেক ছিলো এই বইয়ে। একটা ব্যাপারে আমি ক্লিয়ার, লেখক এই উপন্যাসটা লেখার জন্য নিজে প্রচুর স্টাডি করেছেন। তাঁকে সাধুবাদ জানাই।
'আধিব্যাধি'-এর শেষটা আমার বিশেষ ভালো লাগেনি। আবার খুব খারাপ লেগেছে, তাও বলবো না। সম্ভবত কাহিনির অনেকটা তিনি এর পরবর্তী খণ্ড 'প্যারাগন'-এর জন্য তুলে রেখেছেন। ওটা কবে পড়া হবে, জানি না। তবে আমার মতে, 'আধিব্যাধি'-এর শেষটা শুরুর মতো অমন জম্পেশ হয়ে উঠতে পারেনি।
বাপ্পী খানের করা এআই ��মৃদ্ধ প্রচ্ছদ মোটামুটি মানের লেগেছে। সুপারন্যাচারাল থ্রিলার লাভাররা যারা এখনও বইটা পড়েননি, পড়বেন কি-না সিদ্ধান্ত আপনাদের।
নিশ্চিন্তপুর গ্রাম, গোটা বিশেক পরিবারের বসবাস, যে গ্রামকে ঘিরে রেখেছে দিগন্ত বিস্তৃত বিল, যে বিলকে লোকে ডাকে দরিয়া। সেই গ্রামেরই এক জাদুকর গোলাম রাসূল অনেক বছর আগে গ্রামের প্রান্তে জমিদার কেশরী রায়ের বানানো এক পুরোনো বাড়ির এক গোপনঘরে রেখে গেছেন রহস্যময় কিছু, যা যুগ যুগ ধরে পাহারা দিচ্ছে যক্ষরা।
নীলগঞ্জের বিশাল ময়দানের পেল্লায় একখানা তাবু তে এক জাদুকর জাদু দেখানোর সময় সবার সামনে থেকেই গায়েব হয়ে গেলেন, এদিকে আদিনাথ নামক এক তান্ত্রিক হন্য হয়ে উঠেছে রহস্যময় কিছু একটার খোঁজে। এই সবকিছুর সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে বহুকাল আগে হারিয়ে যাওয়া এক ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান, জড়িয়ে আছে মহামূল্যবান হীরে কোহিনূর, অথচ কেন কেউ জানে না।
শহরে শুরু হয়েছে বীভৎস পৈশাচিকভাবে একের পর এক মানুষ খুন, যেনো কেউ হাতের মুঠোয় নিয়ে ময়দার মতো চাপ দিয়ে গুঁড়ো করে দিচ্ছে হাড়গোড়, একটা হিমশীতল ভয় আঁকড়ে ধরেছে পুলিশ আহমেদ করিমকে, বারবার তার মনে হচ্ছে কোনো এক ভয়ানক অশুভ শক্তি কাজ করছে এসবের পিছনে, যার মোকাবেলা করা কোনো মানুষের এখতিয়ারে নেই। কখন কোথায় কে হঠাৎ শিকারে পরিণত হয় কেউ জানে না, তাই কেবল স্বাভাবিক মৃত্যুর আশায় প্রার্থনা করে চলেছে ইশ্বরের কাছে।
এসব কিছুর সাথে কী সম্পর্ক এক রহস্যময়ী ফরচুন টেলার মহিলার? কে থামাবে বিভৎস পৈশাচিক এই খুনের মিছিল? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।
'আধিব্যাধি' বইটি পড়ে একই সাথে হরর এবং ফ্যান্টাসির স্বাদ পেয়েছি। লেখক প্রথমেই যেভাবে গল্পের অবতারণা করেছেন তাতেই আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। গল্প এগিয়েছে খুবই দ্রুত, শেষও করেছি একটানা। এবং শেষ করার পর বলতে পারি গল্পটা উপভোগ্য ছিলো। প্রথমদিকে লেখক তার লেখনশৈলীটা বেশ ভারিক্কি চলে শুরু করেছেন, পরে অবশ্য তা আর উপস্থিত ছিলো না। বেশি চোখে লেখেছে প্রতিশব্দের ব্যবহার। এই যেমন একই চরিত্রকে ঐন্দ্রজালিক, মায়িক, জাদুকর সম্মোধন, যা মাঝে মাঝে গল্প পড়ার গতিতে স্পিডব্রেকারের মতো গতি কমিয়ে দিয়েছে।
হরর এবং মার্ডার মিস্ট্রি দুটোতে লেখক দুই ধরনের আবহ তৈরি করেছেন গল্পে, দুটোর গল্প বর্ণনা ভঙ্গিও চোখে পড়ার মতো, এবং উপভোগ্য। গল্পের একটা পর্যায়ে লেখক কোহিনূরের জন্ম থেকে বর্তমানের একটা রোডম্যাপ বর্ণনা করেছেন, যা উপভোগ করেছি। লেখাটা পড়ার আগে কোহিনূর সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানতাম না।মাঝখানে তন্ত্র মন্ত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটা আলোচনা আছে যা উপভোগ্য বলা যায় না, লেখকও অবশ্য কোটেশন দিয়ে দিয়েছেন যে চাইলে পরের অধ্যায় থেকে পড়া শুরু করতে পারেন।
শেষটা একেবারেই প্রত্যাশার বাইরে ছিলো, গল্পের চরিত্রের পুরো ব্যক্তিত্বটাই বদলে গেছে বলে মনে হয়েছে। শেষটাতে এসে গল্পের একটা চমক সহ সমাপ্তি হলেও বইটা শেষ করার পর মনে হয়েছে গল্প হুট করে থেমে, মনে হয়েছে আরো কিছু ঘটনা রচনা হলে দারুণ হতো।
সামগ্রিক ভাবে যদি বলি মিথ, ইতিহাস, গুপ্তসংঘ, হরর, মার্ডার মিস্ট্রির মিশেলে লেখকের বইটি ভালো, উপভোগ্য, লেখনশৈলী, গল্প বর্ণনা দারুন। তাছাড়া বইটি ১৯২ পৃষ্ঠার হওয়ায় এক বসাতেই শেষ করা সম্ভব। যদি ফ্যান্টাসির মিশেলে হরর, মার্ডার মিস্ট্রির দুনিয়ায় কিছুক্ষণ ঘোর লাগাতে চান তবে বইটি পড়ুন আশাকরি ভালো লাগবে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া --------------- উপন্যাস - আধিব্যাধি লেখক -তৌফির হাসান উর রাকিব বইটা নিয়ে আমার উচ্ছাস একটু বেশি কারণ ২০২৩ এর বইমেলায় প্রকাশিত এই একমাত্র থ্রিলার উপন্যাস, যেটা পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আজ সকালেই পড়ে শেষ করলাম আধিব্যাধি আর সেই সাথে প্রতিক্রিয়া লিখে ফেললাম। গল্পটার শুরু হয় এখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। সেখানে এক রহস্যময় তান্ত্রিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন লেখক। বৃষ্টিমুখর কোন একদিনে সেই তান্ত্রিক দুই কিশোরকে কিডন্যাপ করলেন এবং তারপর ঘটে গেলো ভয়ানক কিছু ব্যাপার। পরের চ্যাপ্টাতে লেখক আমাদের নিয়ে এলেন বর্তমানে যেখানে আলম নামে একজন ধনী ব্যবসায়ী রহস্যময় ভাবে খুন হলেন। ঘটনা তারপর চলে গেলো এখন থেকে দশ বছর আগে। সেখানে একজন জাদুকরের সাথে পরিচয় হলো যিনি অসাধারণ সব জাদু দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন। এভাবে কয়েকটা টাইম লাইনে গল্পটা এগিয়ে গেছে। পাঠক ধীরে ধীরে সব ঘটনার মাঝে যোগসূত্র খুঁজে পাবেন এবং একদম শেষে পৃষ্ঠায় গিয়ে সব হত্যা রহস্যের জট খুলবে। এই বইয়ের সবচেয়ে স্ট্রং দিক হচ্ছে লেখকের লেখনী এবং যত্ন। শুনেছিলাম, যেকোনো বইয়ে বানান ভুল নাকি ১০০% ঠিক করা সম্ভব না, বইয়ে কিছু বানান ভুল থেকেই যাবে! সেদিন থেকে চিন্তা করলে এই বইটা সফল। আমি একটাও বানান ভুল দেখিনি, যেটা লেখকের কৃতিত্ত্ব বলতে হবে। আর লেখকের গল্প বলার স্টাইল ইউনিক। পড়তে গিয়ে মনে হবে না অন্য কারো লেখার স্টাইল কপি করা হয়েছে। লেখকের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ , এক শব্দকে নানান প্রতিশব্দে প্রকাশ করেছেন যাতে পাঠক বোর না হয়। যার জন্য বইটা পড়তে ভালো লাগবে। আর একদম শেষ পর্যন্ত পরিপাটি যত্ন নিয়ে লেখা। গল্পের শুরুটা দারুন, মাঝখানে একটু স্লো হলেও শেষে গিয়ে আবার থ্রিল ফিরে এসেছে। প্লট খুব ইউনিক না হলেও লেখক বহু তথ্যের মাধ্যমে কল্পনাকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসতে চেষ্টা করেছেন। তার এই চেষ্টা ভালো লেগেছে। তবে এই কাজটা করতে গিয়ে কিছু ইনফরমেশন হয়তো অতিরিক্ত দেয়া হয়েছে। যেমন কোহিনুর হীরার প্রসংগে একটা চ্যাপ্টার চলে এসেছে। সহজ ভাবে কোহিনুরের ব্যাপক ইতিহাস পড়তে আমার বেশ ভালো লেগেছে কিন্তু মনে হলো একটু অপ্রাসঙ্গিক। হয়তো লেখক গল্পে রহস্য বাড়াতে এই প্রসঙ্গ এনেছেন যাতে পাঠকের মনে হয় সত্যিকারের কোহিনুর হীরার দেখা মিলবে বুঝি। আরেকটা চ্যাপ্টার পুরোপীয় অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে যেখানে তন্ত্র বিদ্যার ব্যাখ্যা, নিয়ম ইত্যাদি এসেছে। এই চ্যাপ্টারের শুরুতে লেখক জানিয়েছেন যে তন্ত্র বিদ্যা নিয়ে আগ্রহী হলে এই চ্যাপ্টার পড়তে , না হলে এই চ্যাপ্টার স্কিপ করলেও সমস্যা নেই। আমি পড়তে শুরু করেও পড়তে পারিনি কারণ এত জটিল সব কথা ওখানে ছিল যে আমি ওই চ্যাপ্টার স্কিপ করে গেছি। তাতে গল্পটা বুঝতে আমার কোন সমস্যাই হয়নি। এই চ্যাপ্টার না পড়লেও যদি গল্পটা বুঝতে সমস্যা না হয় তাহলে ওটা না থাকলেও তো হতো। হয়তো লেখকের অন্য কোন যুক্তি থাকতে পারে। বইটাতে অনেক সময় ইনফরমেশন এসেছে, উপদেশ এসেছে, যেগুলো গল্পচ্ছলে বললে বেশি সুন্দর হতো। লেখক অনেক রিসার্চ করেছেন বোঝাই যায়, অনেক পরিশ্রম আর সময় দিয়েছেন গল্পটার প্রতি। তার সংগ্রহীত এইসব মূল্যবান তথ্যগুলো গল্পের সাথে প্রাসঙ্গিক করে গল্পের মতো করে বললে পাঠক আরো উপভোগ করতে বলে মনে হয়। তন্ত্র বিদ্যার চ্যাপ্টারটা গল্পের মতো সংক্ষেপে বললে চ্যাপ্টারটা স্কিপ করার প্রয়োজন হতো না। সবমিলিয়ে উপভোগ্য একটা বই। আজকাল অনেক বিখ্যাত বইও দুই পাতা পড়ে আর পড়া যায় না, কিন্তু এই বইটা আমি আগ্রহ নিয়ে পড়েছি লেখকের উপভোগ্য লেখনীর জন্য। চমৎকার একটা ফ্লো ছিল গল্পে। আশা করি অন্য পাঠকরাও হতাশ হবে না। আমার ধারণা লেখক ভবিষ্যতে আরও অসাধারণ সব বই উপহার দেবেন, সেই দক্ষতা তার আছে। লেখকের প্রতি শুভকামনা থাকলো।
সুন্দর প্লটকে অহেতুক খাপছাড়া বর্ণনা দিতে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে। কোহিনূর, তন্ত্র সাধনার সংজ্ঞা বা সেভেনের কাছে যাওয়া সকল দর্শনার্থীর সমস্যার বিস্তারিত বর্ণনা কি শুধুই বইয়ের কলেবর বাড়ানোর জন্য? প্লটকে হয়তো আরো সুন্দর করে বাড়ানো যেত।
গল্পের শুরু বেশ মজার ছিল। কিন্তু শেষের দিকে তালগোল করে দিল। লেখার স্টাইল ভালো। তবে যেকোনো বইয়ের সমাপ্তি মজার না হলে আসলে আমি সেটা উপভোগ করতে পারি না। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু লিখবে আশা করি।
নিশ্চিন্তপুর গ্ৰামের বর্ষাকালের এক সময়। মুচি গোপালের দুই জমজ ছেলে মাছ নিয়ে আসছিল গ্ৰামের দাহরের পাশ দিয়ে। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁরা ভয়ে একদম জমে গেল দাহরের মাঝখানে বটগাছের নিচে বসে থাকা ভয়াল দর্শন গোলাম রসুলকে দেখে।
গোলাম রসুল তন্ত্রসাধনা করতেন। জমজ দুইভাইকে লজেন্স দিয়ে ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে এলেন গ্ৰামের পুরনো জমিদার বাড়িতে। সেখানে আছে মাটির নিচে এক গুপ্ত পাতালঘর। সেখানে গোলাম রসুল শুরু করলেন ভয়ানক যখ যজ্ঞ। এবং শুধু এই জমজ দুই ভাই নয়, দুইটি কাক এবং শেয়াল সেখানে যখ হিসেবে নিযুক্ত হলো চিরদিনের মতো। উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের কিছু মূল্যবান সম্পদ এরা পাহাড়া দেবে।
ফিরে আসা যাক বর্তমানে। আলম সাহেব স্ত্রী হেলেনার সাথে সংসার জীবনে অসুখী। হেলেনা নিজেকে জড়িয়ে ফেলে পরকীয়াতেও। স্বামী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিল, হেলেনা দেখতেও যায়নি একবার। আলম সাহেব হতাশ হয়ে পড়েছেন। রাতে ঠিক করে ঘুম আসে না তাঁর।
কুকুর রকেটকে নিয়ে মাঝরাতে কেন জানি হুট করে বাইরে হাঁটতে চলে গেলেন। কিন্তু হয়তোবা এটাই ছিল তাঁর জীবনে ভুল। অতর্কিত তাঁকে আক্রমণ করে খুন করে অজ্ঞাত হামলাকারী। জাঁদরেল জার্মান শেফার্ড রকেট পর্যন্ত ভয়ে একা একা দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসে।
ওদিকে খুন হয়েছে নিজ বাড়িতে এক সাংবাদিক দম্পতি। বরের লাশ পাওয়া গেছে ছাদে কিন্তু স্ত্রীর লাশ ছিল বেডরুমে বিবস্ত্র অবস্থায়। এদেরকে কে খুন করতে পারে? সাংবাদিক যেহেতু, কোনো শত্রুর টার্গেট কী ছিল? এমন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড যেন শরীরটাকে আটার খামিরের মতো দুমড়ে মুচড়ে একদলা মাংসপিণ্ড করে ফেলেছে। এটা অবশ্যই যেনতেনভাবে করা খুন নয়।
শহরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। পুলিশ কিছুতেই সমাধান করতে পারছে না। ওদিকে তরুণ সাংবাদিক মীর তানভীর শোনালো কিছু আশ্চর্য তথ্য। তবে অফিসার করিম সাহেবের ধারণা এই নিশ্চয়ই কোনো অশুভ শক্তির কাজ। সাধারণ মানুষ এরকম কাজ করতে পারে না।
আছেন এক ঐন্দ্রজালিক। দেখাতে পারেন আশ্চর্য সব জাদুর খেলা। সেগুলো খুব সাধারণ জাদুকরের পক্ষে দেখানো আদতে অসম্ভব। এই জাদুকরের কাছে এসেছে তান্ত্রিক আদিনাথ। আদিনাথ বলতে শুরু করলো জাদুকরের আসল পরিচয়, অতীতের বিভিন্ন বিষ্ময়কর ঘটনা। আদিনাথ এসেছে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। সেটা সফল করতে এই জাদুকরের সাহায্য দরকার আদিনাথের।
মহিলাটির নাম সেভেন। বিচিত্র পোশাকআশাক। এই মহিলাটিকে জ্যোতিষী বলা যায়। তিনি ভাগ্য গণনা করতে পারেন। তবে রাত ছাড়া কারো সাথে দেখা করেন না। সেভেন নিজের কক্ষে বসে একে একে মানুষজনের সাথে কথা বলছেন সমস্যা সমাধান দিচ্ছেন। হঠাৎ করেই এলো হ্যাট পরা এক ভদ্রলোক। তিনি এসেই যেন সেভেনকে চমকে দিলেন। কে এই লোক? সেভেনের কাছে কী চায় সে?
আধিব্যাধির আদিমতায় একে একে ঘটে যাচ্ছে ঘটনা। এরা সবাই কী একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত? রহস্যের দুনিয়ায় স্বাগতম। এখানে জানতে হবে আপনাকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সবটাই।
🧺পাঠ প্রতিক্রিয়া 🧺
তৌফির হাসান উর রাকিবের লেখা "আধিব্যাধি" বইটি পড়ে আসলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আমার। কারণ এই বইয়ে কিছু বিষয় ভালো লেগেছে আবার কিছু বিষয় নিয়ে আমি কিছুটা বিরক্ত।
প্রথমে যদি ভালো লাগার বিষয় বলি বইয়ের কাহিনী প্লট চমৎকার লেগেছে। একটা গোছানো সুন্দর মানানসই প্লট। যে গল্পটা যদি ঠিকঠাক গুছিয়ে বলা হয় পুরো জমে যাবে।
লেখকের লেখনী খুব সাবলীল। এবং এটা ভালো লেগেছে। ভারিক্কি গোছের শব্দ হলেই যে বই ভালো হবে আসলে এটার কোনো ভিত্তি নেই। সাবলীলভাবেই লেখক চেষ্টা করেছেন গল্পটা শেষ পর্যন্ত বলার।
লেখক বইটা লেখার সময় ইতিহাস নিয়ে বেশ ঘাঁটা ঘাঁটি করেছেন এবং চেষ্টা করেছেন নির্ভুলভাবে তথ্য দিতে এইটুকু বুঝতে পেরেছি কারণ বইয়ের কিছু অংশ আপনাকে নিয়ে যাবে প্রাচীন ইতিহাসের পাতায়।
এই বইটার পরের অংশ বলা যায় "প্যারাগন" বইটাকে। আমার আসলে দুটো বইকেই এভারেজ লেগেছে। কোনটাকে আসলে খুব বেশি এগিয়ে রাখছি না তবুও "আধিব্যাধি" মার্কস বেশি পাবে গল্পের জন্য।
সমস্যাটা হচ্ছে লেখক কিছু কিছু জায়গায় আসলে বর্ণনা কিংবা গল্প এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা দিয়েছেন। আসলে এখানে এত কথার প্রয়োজন ছিল কী না জানি না। কোনো চরিত্র বর্ণনার ক্ষেত্রে আসলে আপাদমস্তক যেভাবে বর্ণনা করেছেন কিছু জায়গায় বিরক্ত লেগেছে। একটু স্বল্প করা যেতো বলে মনে করি।
এছাড়া এই বইয়ে একটা অংশ আছে যেখানে আদিনাথ সেই ঐন্দ্রজালিককে তন্ত্রমন্ত্র নিয়ে বোঝাচ্ছিলেন। মানে প্রায় দীর্ঘ একটা অংশ এই বর্ণনা ছিল। আচ্ছা বইয়ের ঘটনার সাথে এই আলাপের কোনো সম্পর্ক কী আছে? কেউ যদি ওই অংশটুকু পড়ে থাকেন আমাকে অবশ্যই জানাবেন।
আসলে আমার সর্বোপরি মনে হয়েছে লেখক গল্প সাজাতে একটু সচেতন হলে প্লট জমে যেত। উনি লেখেন সাবলীল কিন্তু গল্প সাজানোর ক্ষেত্রে আরেকটু যত্নের প্রয়োজন। কোথায় কতটুকু বর্ণনা মানানসই, কতটা বাড়ানো কমানো যেতে পারে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। বাকি সব বেশ ভালো লাগলো।
আধিব্যাধি শব্দের অর্থ ❛মনঃপীড়া কিংবা মানসিক ও দৈহিক পীড়া❜। কেন আক্রান্ত হয় মানুষ এই ব্যাধিতে? এর পিছনে কি আছে কোনো আধিভৌতিক বা পরজগতের কোনো কারণ?
শহরে নিষ্ঠুরভাবে খু ন হচ্ছে মানুষ। কেউ খুব হাই প্রোফাইল, তো কেউ একেবারেই চোখে না পড়ার মতো ব্যক্তি। একটা খু নের সাথে ওপর খুনের ধরন হুবহু মিল থাকলেও মিল নেই খু নের মোটিভে। পু লিশ, সাংবাদিক বা উচ্চপদস্থ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য কেউই কূলকিনারা করতে পারছেন না এহেন রহস্যের। নেই কোনো প্রমাণ। কীভাবে পাকড়াও করবে এই অদৃশ্য খু নিকে?
আজকাল মানুষ সস্তা বিনোদনেই আনন্দ পায় বেশি। ক্রিয়েটিভ কিংবা চোখ ধাঁধানো বিনোদনের থেকে সস্তায়, সহজে পাওয়া কম্মেই যেন ঝোঁক বেশি। তাইতো পাড়ায় ম্যাজিক শো থেকে বেলি ড্যান্সারের দোল খাওয়া দেখতেই আগ্রহ বেশি��� তবুও শেষমেষ জাদু দেখার পক্ষেরই জয় হলো। জাদু দেখাতে আসলেন এক রহস্যময়ী ব্যক্তি। যার জাদুর খেলে দর্শক বুদ হয়ে রইলো। ঝামেলাকারী ব্যক্তিদেরও মুখ বন্ধ করে দিলো সে। যেনতেন জাদুকর তো সে না।
এদিকে কূলকিনারা না পাওয়া একের পর এক খু নের পিছনে মূল রহস্য কী খুঁজে পেতে নাজেহাল অফিসার। ওদিকে কী যেন খুঁজে চলেছে আদিনাথ তান্ত্রিক। তবে অধরা সেই বস্তু খুঁজতে যাওয়ার পরিণাম কী হবে? একদিকে ভবিষ্যৎ বলে দেয়া এক মহিলা, বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক কালো জাদুকর আর কোহিনূর হীরার এক অজানা রহস্য সব মিলে একত্রে কোন বিন্দুতে এসে মিলেছে? নিশ্চিন্তপুরের কোলে হারিয়ে গেছে এক নিষ্ঠুর সত্য। এই রহস্যের সমাধান আদৌ কি হবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
তৌফির হাসান উর রাকিবের লেখা বেশিরভাগ পড়া হয়েছে বইঘর ই-বুকে। অতিপ্রাকৃত, ফ্যান্টাসি, ভৌতিক ঘরানায় লেখা লেখকের ছোটোগল্প, নভেলাগুলো পড়তে বেশ ভালো লাগে। লেখকের লেখার ধরন আমার ভালো লাগে। ❝অ্যাধিব্যাধি❞ এরকম ঘরানার একটি উপন্যাস। শুরুটা দুর্দান্ত ছিলো। উপন্যাসের সামনে এগিয়ে যেতে যেতে প্রতিবার মনে হয়েছে ঘরানা পরিবর্তন হয়েছে। মনে হচ্ছিল ভৌতিক কোনো উপন্যাস আবার পরক্ষণেই অন্যকিছু ঠাওর করছিলাম। অতীত, বর্তমান আর মাঝের সময়ে বলে যাওয়া ঘটনাগুলো উপন্যাসে বেশ গতি দিয়েছিল। তবে শেষদিকে এসে যেন তালগোল পাকিয়ে গেল। মূল রহস্যকে এত ঘনীভূত করে হুট করেই আকাশ ফকফকা সাদা করে দেয়ার মতো ব্যাপার হয়ে গেল। শেষদিকে এসে মনে হলো লেখকের হাত ব্যথা হয়ে গেছে তাই আর না লিখে ক্ষ্যামা দিলেন। কিছু অযৌক্তিক বর্ণনার মিশেল ছিল, যেগুলো না হলেও চলত। বিশেষ করে তান্ত্রিক নিয়ে যে তথ্যগুলো লেখক পুরো অধ্যায়জুড়ে দিয়েছেন সেগুলো না দিলেও গল্পে প্রভাব পড়ত না (যদিও চাইলে সে অধ্যায় স্কিপ করা যায় বলে দিয়েছেন)। আর যেহেতু দিয়েছেন-ই সেটা একপাক্ষিক লেকচার বা গদবাধা বর্ণনা হিসেবে না দিয়ে আলোচনা, প্রশ্ন আর উত্তর জাতীয় করলে পড়তে মন্দ লাগতো না। কোহিনূর হীরা সম্পর্কে যে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন সেটা আমার বেশ লেগেছে, যদিও এর সাথে উপন্যাসের সম্পর্ক কোথায় সেটা বুঝিনি। লেখক ১৯২ পৃষ্ঠার উপন্যাসে একসাথে অনেক রহস্য আনতে চেয়ে কোনোটার সাথেই সুবিচার করতে পারেন নি। চরিত্র গঠনেও তাড়াহুড়োর ছাপ ছিল। বিশেষ করে তানভীর, আহমেদ করিম এদের দুজনকে খালি গপসপ করতে আর চা গিলতেই রেখেছিলেন মনে হলো। অনেকগুলো প্রশ্ন মনের মধ্যে উড়তে থাকলেও এগুলোর সঠিক উত্তর পাইনি। যদি লেখকের ইচ্ছা থাকে এর পরের পার্ট আসবে তাহলে হয়তো সেখানে এই পার্টের অসমাপ্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলতে পারে। আমি সিরিজ আকারে উপন্যাস পড়তে বেশি একটা পছন্দ করি না। আশায় চাষা বাঁচলেও সিরিজের বইগুলোর আশা করতে করতে মরীচিকাও নাই হয়ে যায়। তবে এই উপন্যাসের পরের পার্ট আসুক চাইছি। সিরিজ হিসেবে আলাদাভাবে এর দারুণ একটা ইউনিভার্স তৈরি হবে। এটার যথার্থ একটা সমাপ্তি না হলে কেমন অশান্তি অশান্তি ভাব থেকে যাবে!
আধিব্যধি: জাদুবিদ্যা ও তন্ত্রসাধনা নিয়ে এক তথ্যবহুল মৌলিক
২০২৩ বইমেলায় বইটাকে প্রথম দেখাতে (একটু নেড়েচেড়ে উল্টেপাল্টে পড়ায়) মনে হয়েছিল বেশ ব্যতিক্রমী একটা থ্রিলার। কথাটা খুব যে একটা ভুল, এমন না। বইটার প্লট বেশ ব্যতিক্রমী। ম্যাজিক রিয়েলিজম নিয়ে। এই জনরাতে আমার জানামতে খুব বেশী একটা কাজ হয় নি। ব্যতিক্রমী লেখকের লেখনীও। বাংলায় বেশকিছু চমকপ্রদ শব্দে সমৃদ্ধ। পড়তে গেলে কেমন একটা এলিট এলিট ভাব মনে হয়। সেটা ভালো লাগে নাকি খারাপ সেটা পাঠকভেদে ভিন্ন হয়। কিন্তু, বইটা পড়া শুরু করলে দেখা যাবে, ম্যাজিক রিয়েলিজম বিষয়টা খুব একটা ভালোভাবে লেখক পোট্রে করতে পারেন নি। তাহলে কাহিনী? কাহিনীও লেখক ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারেন নি। ঘটনাগুলো প্রচণ্ড রকমের খাপছাড়া। এবং খুবই সরলরৈখিকভাবে কাহিনী এগিয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু কাহিনী কোনোভাবে জোড়া দিয়ে শেষতক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ভালো লাগার মত বিষয় হচ্ছে বইটাতে কোহিনূর হিরের ইতিহাস উত্তোলন থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেশ সুন্দর করে লেখক বর্ণনা করেছেন। সেই সাথে জাদুবিদ্যা, তন্ত্রসাধনার পার্থক্য, কোনটা কি, এটাও বেশ জ্ঞানগর্ভভাবে লেখক তুলে ধরেছেন। - এই বিষয়গুলো হয়ত উনি এভাবে না বললে কখনো জানতাম না, এই টপিকে জানার আগ্রহও হতো না। মনে হয় যেন এই তথ্যগুলো জানানোর জন্যই লেখক বইটা লিখেছেন। লেখকের গল্প বলার হাত খুবই নতুন। লেখনী বেশ অপটু। তবে বইটা পড়ে শেষ করার পর মনে হয়েছে লেখকের যথেষ্ট পটেনশিয়াল আছে। সামনের বইগুলোর জন্য শুভকামনা রইলো।
শুরুটা বেশ ইন্টারেস্টিং হলেও মাঝখানে বোরিং লাগতে শুরু হয়। অনেক ক্যারেক্টারের বিল্ডআপ করা হয়েছে, যেগুলো পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু আলটিমেটলি এন্ডিং এ কোনো ইম্প্যাক্ট খুব একটা নেই। লেখকের শব্দভান্ডার প্রচুর বলতেই হবে, বইটির জন্য লেখক বেশ পড়াশোনা করেছেন।
অনেক ইনফরমেশন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। কিন্তু সেই ইনফরমেশন গুলে নিতান্তই জোর করে রাখা। কোহিনূর হীরার পার্টটুকু পড়তে ইন্টারেস্টিং লাগলেও মূল কাহিনীর সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মনেহয়েছে একগাদা তথ্য জোর করে পাঠককে গেলানোর উদ্দেশ্যে লেখা।
গল্পটির রেন্জ অনেক বড়, অনেক ডাইমেনশনে লেখা এগুনো হয়েছে। কিন্তু শেষটায় গিয়ে হতাশ হলাম৷ এতবড় স্কেলের লেখা আর গল্পের শেষটা এত সহজভাবে হয়ে গেলো! যদিও গল্পের এন্ডিং দেখে মনে হয়েছে পার্ট-২ আসতে পারে! আসলে অপেক্ষায় থাকবো। এতবড় স্কেলের গল্প এত সোজাসাপ্টাভাবে শেষ হয়ে যাবে মানতে পারছি না। লেখকের জন্য শুভকামনা।
প্রথম থেকে গল্পে ধরে রাখলেও শেষের দিকে হতাশ করেছে। যাকে নিয়ে এতো উত্তেজনা সেটা কি ও তার হুট করে সমাপ্তি পড়ে হতাশ হলাম। কোহিনূর হীরা সম্পর্কে পড়ে ভালো লেগেছে। লেখনী ভালো। আর ১ টা চরিত্রের সমাপ্তি পাওয়া গেলো না। হরর আর মার্ডার মিস্ট্রিতে লিখা বইটা প্রথম থেকে উপভোগ্য হলেও শেষের দিকে কিছু পাঠকদের উপভোগ্য নাও লাগতে পারে। আর বইটা যদি সিরিজে আসে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
গল্পের স্টোরি সুন্দর ছিল। কিন্তু লেখক অতিরিক্ত গোঁজামিল করে ফেলছেন। একটা বইয়ের ভবিষ্যৎ পার্ট আসবে বলে প্রথম পার্ট যদি অনেক বেশি হ য ব র ল হয়, তবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। অনেক বেশি তথ্য দেওয়া হয়েছে, যেটা বইয়ের গল্পটাকে উপভোগ্য করতে দেয় নি। সমাপ্তিটা একদমই পছন্দ হয়নি। আশা করব লেখক এরপর থেকে এই বিষয়গুলোর দিকে নজর দিয়ে বই লিখবেন।
গল্পটা সুন্দর হতে পারতো যদি যেটা নিয়ে লেখা মনযোগ সেখানে থাকত! এত এত অবান্তর কথা বার্তার বিশদ বিবরণ! লেখক হয়তো চাইলে এই গল্পের ঐসব অপ্রয়োজনীয় টপিকগুলো নিয়ে আলাদা করে বই লিখতে পারত! “অনাগ্রহী পাঠকরা চাইলে পরবর্তী অধ্যায়ে চলে যেতে পারেন” আমার মতে বইটা তার বিশেষত্ব হারিয়েছে অপ্রাসঙ্গিক ব্যাখার কারণে!
গল্পটা কেমন যেন খাপছাড়া। কী হচ্ছে? কেন হচ্ছে? কিছুই বোধগম্য নয়। শুরুতে কেন ছেলে দুটোকে মারা হয়েছে শুধু এটাই বুঝলাম। লেখক অনেক পরিশ্রম করেছেন বুঝলাম, কিন্তু তার পরিশ্রমকে যথাযথভাবে লেখায় ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। কোহিনূর এবং তন্ত্র সাধনা নিয়ে এতো ব্যাখ্যার আদৌও কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা আমার জানা নেই। যদি থেকেও থাকে সেটা আমাকে আকর্ষণ করতে পারেনি বিন্দু পরিমাণও। এই দুটো জায়গায় মনে হচ্ছিল কোনো ননফিকশন বই পড়ছি। আবার কিছু জায়গায় তথ্যের ঘাটতি মনে হয়েছে, যেমন: ওয়াইট ম্যাজিক, গড, প্যারাগন। পরিশেষে বলা যায়, হয়তো এর সিক্যুয়াল আসতে পারে। কিন্তু আমি পড়ার আগ্রহ পাচ্ছি না।
বইটির গল্প এবং কাল্পনিকতায় দারুন। এছাড়া তন্ত্র এবং কোহিনূর এবং জাদুকরদের সকল তথ্য বেশ সত্য এবং গোছানো। যদিও সেটি গল্পের ফ্লো কে কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত ঘটিয়েছে। এছাড়া গল্প বলার ধরন আর লেখনি বেশ চমৎকার। হরর জনরায় এক ইউনিক ধরনের বই হিসেবে গন্য করা যায়। তবে আশা করা যায় লেখক এই বইয়ের খামতি গুলোকে সামনের লেখনিতে কাটিয়ে উঠবেন