#এক্কেবারে পাতে দেওয়ার যোগ্য নয়, gimmik আর hype-এর ডানায় ভর দিয়ে ভেসে থাকা ওভাররেটেড বইয়ের তালিকা :
এই বইয়ের মূল প্রস্তাবনা কী? Thapar এই বইয়ে দাবি করেছেন— মহম্মদ ঘোরির সেনাপতি মহম্মদ গজনির ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথ মন্দির ধ্বংস “শুধুই ধর্মীয় হামলা ছিল না”, বরং রাজনৈতিক অর্থলাভের চেষ্টা, এবং “Somanatha”-কে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রতীক বানিয়ে একটি 'একপাক্ষিক' ইতিহাস গড়া হয়েছে।
আচ্ছা, ব্যাপারটা এরকম হয়ে গেল না, ওই যে ছেলেটা ক্লাসে দেরি করে এসে বলে—‘স্যার, ওটা আমার দোষ না, ঘড়িই ভুল দেখায়!’ – এটা সেই রকমের history blaming the clock?
এক এক করে বইয়ের বকৰ্তব্যগুলো দেখি চলুন:
১. ধর্ম নয়, রাজনীতি!—গজনি কি তখন সমাজবিজ্ঞান পড়ত? Thapar বলেন— "গজনি সোমনাথ ধ্বংস করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এবং সম্পদের জন্য, ধর্মীয় হানার উদ্দেশ্য ছিল না।"
ভালো কথা! তাহলে এই প্রশ্নগুলো কোথায় রাখবেন, ম্যাডাম?
কেন মন্দির ধ্বংস করে বিগ্রহ ভেঙে টুকরো করে নিয়ে গজনি নিজের শহরে বসিয়েছিলেন?
কেন তিনি বলেন: “I have destroyed the idol of the infidels and established the glory of Islam”?
২. ‘Many Voices of History’—শুধু যারা হিন্দু ধ্বংসকে নর্মালাইজ করে তাদের গলাগুলোই শুনেছেন? বইয়ের নাম ‘Many Voices’, অথচ:
স্থানীয় পাণ্ডা-পুরোহিতদের ভাষ্য?
রাজা-প্রজাদের যন্ত্রণার দলিল?
আঞ্চলিক কিংবদন্তি?
সবই বা তো বাদ গিয়েছে বা গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে।
লেখিকা একটা কোরাস গাইতে ডেকেছেন, কিন্তু সব গায়কই এক দলের—বলুন তো, এটা কি সত্যিই বহুস্বর? না একটাই সুর, শুধু গলার জোর আলাদা?”
৩. ইসলামি আগ্রাসনকে রূপান্তর করা হয়েছে—'সাম্রাজ্যিক কৌশল'-এ! বইটি এক ধরনের soft-washing—
মুসলিম আক্রমণকারী মানেই বর্বর নন; তাঁরা ‘রাজনৈতিক প্রকল্প’ চালাতেন! সেটা সত্য হলেও প্রশ্ন হল:
কেন শুধুই মন্দির লক্ষ্য হতো?
কেন ইচ্ছাকৃত প্রতীক ধ্বংস চলতো?
কেন গজনির “হিন্দুদের বিরুদ্ধে জেহাদ” ঘোষণা লিপিবদ্ধ রয়েছে নিজস্ব ঐতিহাসিকদের লেখায়?
এইটা এমন হয়ে গেল না, কেউ বাড়িতে ঢুকে সবকিছু ভাঙচুর করল, আর আপনি বললেন—ওটা ওর ইনটেরিয়র ডিজাইন প্রজেক্ট ছিল।”
৪. সোমনাথের গৌরব ও বেদনা—এই বইতে নেই! থাপর বইতে সোমনাথের ইতিহাসকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে কোনও আত্মার কান্না নেই, প্রতিরোধের গৌরব নেই, পুণ্যভূমির স্মৃতি নেই।
এটা শুধু একটি ক্লিনিকাল, ডিটারজেন্টে ধোয়া, বর্ণহীন ইতিহাস—যেখানে হিন্দু বেদনা নিষিদ্ধ, আর আক্রমণকারী নির্দোষ।
এই বই পড়ে মনে হয় না ইতিহাস পড়ছি, মনে হয় কাউকে বাঁচাতে defence evidence লেখা হচ্ছে।
উপসংহার: ইতিহাস না, এটা এক আদর্শগত প্রমাণ-নাটক: Thapar-এর লক্ষ্য নয় ইতিহাসের পূর্ণতা; বরং, ভারতীয় স্মৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে বিচ্ছিন্ন করা এক নতুন বয়ান দিয়ে। এটি এক ‘academic gaslighting’—যেখানে সোমনাথ ভেঙে যায় দ্বিতীয়বার, এইবার কলম দিয়ে।
এই বইকে ইতিহাস বলা যায় না। এটা সেই কাহিনি, যেখানে গর্ভগৃহে ঢুকে কেউ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে বলে—‘এই জায়গাটা কি আগে ঘর ছিল?’
জঘন্য। তবুও পড়ুন। আসল খেলাটা ধরতেই পারবেন না এই বই না পড়লে।