‘টাল্টু’ নামক মরণনেশার বিরুদ্ধে যুদ্ধটা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে ব্যুরো অব নার্কোটিক্স অ্যান্ড সাবস্ট্যান্স কন্ট্রোল-র (বিএনএসসি) জন্য। শর্ষের ভেতরে ভূত। কেউ গা বাঁচিয়ে পালাতে চাচ্ছে, কেউ খুঁজছে। এএসপি রাবেয়া বসরী দ্বিতীয় দলের। মর্মান্তিক এক ঘটনার জন্য দায়ী দুষ্কৃতকারীদের শাস্তি দিতে চায় সে। ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ডিলান চায় ওস্তাদ আর রূপাকে। আর এদিকে ড্রাগলর্ডদের মধ্যে লেগে গেছে ভয়ংকর যুদ্ধ। বিএনএসসির মহাপরিচালক সৈয়দ তালহা রফিক চায় আমেরিকায় নিজের পরিবারের কাছে চলে যেতে। কে বিজয়ী হবে? আদৌ কেউ হবে?
Rafat Shams has spent all of his years in the city of Dhaka. The underbelly of the city always intrigued him and such is reflected in his writing. He goes for a bold, unabashed approach in his writing.
ড্রাগলর্ড সিরিজের সাথে সময়টা আমার বেশ বাজেভাবেই কাটলো। বোধ করি এর থেকে ছন্নছাড়া থ্রিলার আমি খুব বেশি পড়িনি। চরিত্রগুলো ভীষন দুর্বল। কারো প্রতি লেখকের ফোকাস নেই। ২য় খন্ডতে ডিলানকে ভীষণ কাজের মনে হয়েছিল। এ খন্ডতে প্রথম একশ পৃষ্ঠাতে দুই তিনটা সংলাপ ছাড়া তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পুরো বইতেও তার ভূমিকা খুব একটা চোখে পড়ার মতো না।
এমনিতেই ক্ষুদ্র বই। প্রধান চরিত্র বলে তেমন কাউকে দাগানো যাবে না। ফলে সবগুলো চরিত্রের গুরুত্বই সমান। এখন এতোগুলো চরিত্রকে প্রধান চরিত্রের মতো ফুটিয়ে তোলা কিন্তু দুঃসাধ্য। তবুও সম্ভব যদি একটা নির্দিষ্ট প্ল্যান অনুযায়ী পরপর ঘটনাগুলো নির্দিষ্ট লেয়ারে লিংক অনুযায়ী সাজানো যেত। গল্প পড়তে গিয়ে আমি বুঝতেই পারিনি কার কি প্ল্যান। যেন একটা দিনলিপি পড়ছি। যা ঘটার তাই ঘটছে। কিন্তু কেন ঘটছে বা ঘটাচ্ছে তা হয়তো ঐ চরিত্র নিজেও জানে না।
সিরিজটার খোঁজ পেয়েছিলাম তানভীর আহমেদ সৃজনের 'গল্প সিরিজ' পড়তে গিয়ে। সেখানে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসাই আমাকে আগ্রহী করে তুলেছিল। কিন্তু তার মতো আমি মোটেই মুগ্ধ হতে পারি নি। হতে পারে সময়টাই খারাপ যাচ্ছে।
লেখক রাফাত শামসের ড্রাগলর্ড সিরিজের তৃতীয় ও শেষ পর্ব হিসেবে প্রকাশিত বইটির নাম মৃত্যুঞ্জয়। (প্রথম পর্ব- "মৃত্যুর পেলব স্পর্শ", দ্বিতীয় পর্ব- "মৃত্যুরেণু") একটা বইয়ের সিরিজ এত ভাল লাগে যে পরের পর্ব বের হবার অপেক্ষা থেকে যায় সেটা আমি এ সিরিজ পড়ে অনেক দিন পর পুনরায় আবিষ্কার করলাম বলা চলে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা, প্রসাশন/আইন ও আইনের বাইরের লোকেদের বিড়াল ইঁদুর খেলার জগৎ নিয়ে রচিত বেশ ভাল মানের থ্রিলার সিরিজ এটি। ড্রামারও কমতি নেই এতে, আছে ভাল, খারাপ দুপক্ষের শক্তিশালী লড়াই এবং গ্রে ক্যারেক্টার। ভাল ব্যাপার হচ্ছে একক চরিত্র নির্ভর না হওয়ায় কাহিনী থিতিয়ে যায় না, এক্সাইটমেন্ট এবং মিস্ট্রি বজায় থাকে শেষ পর্যন্ত আবার প্রতিশোধ ও সমাপ্তির একটা উপসংহার টানা যায়। লেখক তার প্রথম বইয়ে কাহিনী সেট করে সাজ্জাদ, রাবেয়া, তালহা, ভাইজান, ডিলান, রুপা ও সর্দার চরিত্রগুলোর সাথে একধরনের এটাচমেন্ট তৈরী করেন এবং এরপর একেক পর্বে একেক চরিত্র কাহিনীর অন্যতম সঞ্চালক হিসেবে কাজ করে- এটি লেখকের দক্ষতাই বলব একধরনের, কারন ২য় পর্বের শেষে পাঠকের হার্ট্ব্রেক হবার পর মৃত্যুঞ্জয় পর্বে এসে রাবেয়া বসরি কাহিনী টেনে না নিলে একধরনের আপাতঃউপসংহারে আসা সম্ভব হত না। তবে মরণনেশা টাল্টুর সাম্রাজ্য বজায় থাকল না ধ্বংস হল এটা জানতে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে, এর বেশি বললে হয়তো স্পয়লার হয়ে যেতে পারে। এতটুকু বলা যেতে পারে কাহিনী জমজমাট। এই পর্বের শেষে এসেও হার্টব্রেকের জন্য তৈরী থাকা ভাল, কিন্তু হার্টব্রেক হবেই তা বলা যায় না কারন সমাপ্তির আশা পাঠকভেদে ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক।
শেষে একটা কথা বলি, এই ৩ পর্বের সিরিজটা কালেকশনে রেখে দেয়ার মত। কিছুদিন পর আবার পড়তে একঘেয়ে লাগবে না। বাকিটা আমার রেটিং দেখলেই বোঝা যাবে ব্যক্তিগত ভাবে মৃত্যঞ্জয় পর্ব থ্রিলার বই হিসেবে আমার মন জয় করেছে কিনা।