ব্লার্ব পড়ে মনে হয়েছিল এ বুঝি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত অলৌকিক কাহিনির সংকলন। পড়তে গিয়ে বুঝলাম, এটি তার চেয়ে কিছু কম, বা অনেক-অনেক বেশি।
কেন?
'ভূমিকা'-র পর এতে আছে অত্যন্ত সহজ ও সুললিত ভাষায় লেখা এই ক'টি গল্প~
১. বাস্তুদোষ;
২. সুনীলজেঠুর বাড়ি;
৩. ওভারকোট;
৪. আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে;
৫. অযান্ত্রিক;
৬. অনুভবে জেনেছিলেম;
৭. ম্যাজিক;
৮. আরও কিছু;
৯. অব্যক্ত।
এদের মধ্যে প্রথম গল্পটি আবহনির্মাণের মাধ্যমে ভয় পাওয়ানোর চমৎকার নিদর্শন।
তৃতীয় গল্পটি আদতে সরল ও প্রথাগত ভূতের গল্প। তবে উচ্চতর পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই কিছুটা অতিরিক্ত কৌতূহলের কারণ হয়।
পঞ্চম গল্পটি কল্পবিজ্ঞানের, তবে দস্তুরমতো রোমাঞ্চকর।
ষষ্ঠ থেকে নবম গল্পরা আদৌ গল্প নয়। এরা বিশুদ্ধ দর্শন, আবার কোথাও গিয়ে এরা কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও গ্র্যাভিটি জুড়ে তৈরি হওয়া এই বিশ্বভাবনার সারাৎসারও বটে। এত সহজ ভাষায় এইসব বিষয় নিয়ে জানার সৌভাগ্য হবে তা কক্ষনও ভাবিনি।
এতদূর পড়ে কি আপনি নিরাশ হয়ে ভাবছেন, তাহলে কি এই বইয়ে ভয় পাওয়ার মতো কোনো লেখাই নেই?
আছে। সেক্ষেত্রে আপনি এই বইয়ের দ্বিতীয় লেখা (সুনীলজেঠুর বাড়ি) সবার শেষে পড়বেন।
একেবারে শেষ পাতে আইসক্রিম হবে জিনিসটা— শুধু ঠান্ডা ভাবটা দাঁতে বা জিভে নয়, অন্যত্র অনুভব করবেন।
ভারি অদ্ভুত, অন্যরকম, মনে রাখার মতো সংকলন।
যদি এক্সপেরিমেন্টাল লেখা পড়তে চান— যাতে বিস্ময় আর ভয় হাত ধরাধরি করে চলে, তাহলে এই সুমুদ্রিত ছিমছাম বইটিকে আপন করে নিতে পারেন।