হত্যা যদি একটা শিল্প হয় তবে সেই শিল্প জগতের খ্যাতি যে কেবল পুরুষেরাই পাবে তা নয়। নারীও সেই খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছতে পারে। আর সেটাই সাংঘাতিক নিদর্শনের সাথে প্রমাণ করে দিয়েছেন কিছু মহিলা। বলা ভালো কিছু কুখ্যাত নারী চরিত্র! তারা প্রত্যেকে এক একজন ভয়ানক সাইকো কিলার। অতীত খুঁড়লে এমন অনেক মহিলা সিরিয়াল কিলারের খোঁজ পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়! এখনো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো কোণে হয়ত মানস চোক্ষের আড়ালে লুকিয়ে আছে সাংঘাতিক কোনো মহিলা সিরিয়াল কিলার। যে আপাতদৃষ্টিতে হয়ত পরম মমতাময়ী। কিংবা মানবদরদী এক সমাজসেবী। অথচ তার ভিতর একটু একটু করে নিশ্বাস নিচ্ছে এক কুখ্যাত খুনি মানসিকতা। কিন্তু আমরা কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পাচ্ছিনা। কে জানে! হতেও পারে এমন!
⚔️⚰️বইয়ের নাম - হত্যা যদি শিল্প হয়⚰️⚔️ ✍️লেখিকা - অমৃতা কোনার 🖨️প্রকাশক - বিভা পাবলিকেশন 🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৬০ 💰মূল্য - ১৯৯₹
#বইমেলার_বই -২
🍂🍁এটি একটি গল্পের সংকলন, এই বইতে ১৫ টি গল্প আছে প্রত্যেটি গল্পে একটি করে কুখ্যাত সাইকো সিরিয়াল মহিলা কিলার কে ঘিরে এই গল্পের সংকলন! এই গল্প গুলো পড়ে মনে গভীর ছাপ ফেলেছে, কারন এই গল্পের প্রতিটা চরিত্রই বাস্তব! প্রত্যেকটি গল্পকে ঘিরে সিনেমা হয়েছে বই তে তেমনিই Information দেওয়া আছে! লেখিকার লেখা আমি আগেও পড়েছি “বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্” আমার দারুন লেগেছিলো। “হত্যা যদি একটা শিল্প হয়”সেই শিল্পজগতের খ্যাতি যে কেবল পুরুষেরাই পাবে তা নয়। নারীও সেই খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছোতে পারে। আর সেটাই সাংঘাতিক নিদর্শনের সঙ্গে প্রমাণ করে দিয়েছেন কিছু মহিলা। বলা ভালো কিছু কুখ্যাত নারী চরিত্র! তারা প্রত্যেকে এক-একজন ভয়ানক সাইকো কিলার!!🍁🍂 🤷প্রত্যেকটি গল্পের বিশেষ বিশেষ জায়গা একটু একটু করে তুলে ধরছি................. 🌌⚔️সেই সময় সময়ের ব্রিটেনের ইতিহাসে লেখা আছে এক নৃশংস রক্তাক্ত অধ্যায়, যা শুনলে যে কেউ ভাবতে বাধ্য হবে যে মমতাময়ী জন্মদাত্রী নারী কীভাবে মৃত্যুদূত হয়ে উঠতে পারে! 🌌⚔️পৃথিবীর বুকে চূড়ান্ত হিংস্রতার ছাপ যিনি রেখে গেছেন, সেই হিটলারের নাম মনে পড়তেই যে-কোনো মানুষের হৃদয় একটু হলেও কেঁপে উঠতে বাধ্য। কিন্তু হিটলার তো ছিলেন একজন পুরুষ। যদি বলি, হিটলারের আদর্শে আদর্শিত হয়ে তারই নাতসি বাহিনীতে তিল তিল করে গড়ে উঠছিল এক সাংঘাতিক মহিলা সিরিয়াল কিলার! 🌌⚔️সামনের এই বন্ধ দরজাটা খোলার। হঠাৎ ঘরের দরজাটায় খট করে একটা শব্দ হতেই মানুষগুলো সজাগ হয়ে উঠল। চিন্তিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল সেইদিকে। দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন একজন মাঝবয়সি লোক। তার ঠিক পিছনেই ঘরের ভিতর থেকে ভেসে আসছে একটা মেয়েলি কণ্ঠস্বরে কান্নার শব্দ। সেই শব্দ শুনে বাইরের মানুষগুলো আরও তটস্থ হয়ে ওঠে! 🌌⚔️এ এক অদ্ভুত সরাইখানা, যেখানে খাবারের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুও পরিবেশন করা হয়! কী সাংঘাতিক তা-ই না! 🌌⚔️“যার সাহস যত বেশি ,তার কষ্টও তত বেশি!” 🌌⚔️আরেকটা শখের কথা বলা হয়নি। সুন্দর চামড়ায় সুন্দর ট্যাটু তার খুব ভালো লাগে। সেই চামড়া সে তার সংগ্রহে রাখতে পছন্দ করে। অন্য কোনো প্রাণী নয়, স্বয়ং মানুষের চামড়া! 🌌⚔️পুলিশ যতই এই মহিলার সঙ্গে কথা বলছে, ততই অবাক হয়ে যাচ্ছে। সাংঘাতিক বিকৃত মনস্কের এক মহিলা, যিনি এই বয়সেও এমন নৃশংসভাবে খুন করতে পারেন! এঁকে দেখলে বোঝা যায় যে বয়স কেবল সংখ্যামাত্র! খুনি মানসিকতা বয়সকেও হার মানায়! 🌌⚔️ভাবতে অবাক লাগে, একজন নারী, যে কিনা খুনি, তার জন্য ব্রিটেন সরকারকে নিয়মেও রদবদল করতে হয়! 🌌⚔️তারপর অপেক্ষা করে ওই রক্ত জমাট বাঁধার । তারপর সযত্নে সেটাকে আভেনে আরেকটু শুকিয়ে নিল। তারপর তার মধ্যে পরিমাণমতো ময়দা, চিনি, চকোলেট, দুধ, ডিম আর খানিকটা মার্জারিন—এই সব কিছু মিশিয়ে দেয়। তারপর মিশ্রণটাকে ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে সে তৈরি করে বেশ কিছু মুচমুচে সুস্বাদু টি কেক! একটা জলজ্যান্ত মানুষ পরিণত হয়ে গেল গলে-যাওয়া কস্টিক সোডা-মেশানো মৃতদেহে! আর তার রক্তে তৈরি হল মুচমুচে টি কেক! 🌌⚔️এক মহিলা সিরিয়াল কিলার যে নিজে একজন মেয়ে হয়েও মেয়েদের উপর অত্যাচার করে সুখ লাভ করত। 🌌⚔️অবশ্যই মানসিক সমস্যা না থাকলে কোনো মানুষ এত নৃশংস হতে পারে না। হত্যাকারী যতই ধূর্ত হোক, কিছু না কিছু ভুল সে করবেই!! 🌌⚔️এইলিনের বিষয়ে একটা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, সে নিজেই নিজের সম্পর্কে বই লিখেছে। এক সিরিয়াল কিলারের লেখা আত্মজীবনী। এমন এক সিরিয়াল কিলারকে মনে সকলেই রাখবে!
🍂🍁এই Review যদি শেষ পর্যন্ত কেউ পড়ে থেকেন তবে আমার ধারণা এই বই পড়ার ইচ্ছে অনেক বেড়ে যাবে। আমি এই বইতে থাকা গল্প গুলি থেকে কিছু অংশ তুলে দিয়েছি যে গুলো পাঠকের মনে Suspense Create করার জন্য যথেষ্ট এই বইটি অবশ্যই পড়তে হবে,যারা সত্য ঘটনা পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই বইটি অসাধারণ একটি বই হতে চলেছে! লেখিকা অনেক রিসার্চ করে এই গল্প গুলো লিখেছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ লেখিকা কে এতো সুন্দর একটা বই পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্য।🍁🍂 😊
📚পুস্তক - হত্যা যদি শিল্প হয়📚 🖊লেখক - অমৃতা কোনার🖊 📜প্রকাশন - বিভা পাবলিকেশন্স📜 📗পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৬০ পাতা📗 💵মুদ্রিত মূল্য - ১৯৯ টাকা💵
"The female of the species is more deadly than the male"... Rudyard kipling... 🍁 ইতিহাস সাক্ষী আছে, হত্যাকে যদি শিল্পের নাম দেওয়া হয় তবে সেই শিল্প জগতের খ্যাতি যে কেবলমাত্র পুরুষেরাই পাবে তা নয়। নারীরাও সেই খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছতে পারে। সিরিয়াল কিলিং বা সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। ঠান্ডা মাথায়, পরিকল্পনা করে কোন ব্যক্তিকে খুন করা আমরা গল্প-উপন্যাসে হরহামেশাই পড়ি। খুন কোনো কোনো মানুষের নেশা হতে পারে তা কি ভাবতে পারা যায় ! সিরিয়াল খুনিদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে মনোবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে অপরাধবিজ্ঞানীদেরও গবেষণার শেষ নেই। সিরিয়াল কিলার বা ধারাবাহিক খুনিদের নিয়ে যুগে যুগে বহু সিনেমা, গল্প, কাহিনীর জন্ম হয়েছে। রহস্যময় সেই সিরিয়াল কিলাররা হয়ত আমাদের আশেপাশেই লুকিয়ে আছেন আপনার মত সাধারন চেহারা নিয়েই!কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই জানেন না, সিরিয়াল কিলার হিসেবে কুখ্যাত হয়েছেন অনেক নারীও। তাদের জীবনের কাহিনী শুনলে গা শিউরে ওঠে। এমনকি অনেকে এতই ভয়ংকর যে তাদের জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে হরর গল্প এবং সিনেমা। মমতাময়ী নারী কেন কিসের জন্য হয়ে ওঠে সাইকো সিরিয়াল কিলারে, এই বইয়ের প্রতিটি পাতা তারই সুচারু বর্ণনা দিয়ে গেছে। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 বইটি আসলে ১৫টি ছোটোগল্পের সংকলন। প্রতিটি গল্প একেকটি সত্য ঘটনার আধার। পনেরোজন কুখ্যাত নারীদের গল্প নিয়ে তৈরি এই বইয়ের সমস্ত চরিত্র আসলে বাস্তবের এক একজন নারী। এই চরিত্রেরা সকলেই মানসিক বিকারগ্রস্ত কিংবা শুধুমাত্র তীব্র অবসাদ, অবদমিত আক্রোশ ও যৌন উত্তেজনার প্রভাবে তারা নির্বিকারভাবে চালিয়ে যায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুন করার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ থাকে না। খুন করে আনন্দ পাওয়ার জন্যই খুন করে সিরিয়াল কিলাররা। রক্তের সাগরে ভাসতে থাকা, মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা মানুষদের দেখতে তাদের ভালো লাগে। কখনো প্রদেশের রাণী হয়ে শুধুমাত্র নিজের যৌবন ধরে রাখার অদম্য ইচ্ছায় কেউ করে চলে একের পর এক নারীহত্যা, অন্যদিকে কেউ আবার অযাচিত সদ্যোজাতদের চিরঘুমে পাঠিয়ে লাভ করেন অপার আনন্দ। কেউ Over possesive lover আবার কেউ নিজের মায়ের করা অপরাধের প্রতিশোধ তোলে একের পর এক বৃদ্ধার উপর। ব্ল্যাক ম্যাজিকের কুসংস্কার থেকে খুন করে কেউ পান করেন সেই তরতাজা রক্তের স্বাদ আবার কেউ তার নিজের সন্তানের কান্না চিরতরে থামানোর জন্য করে চলে একের পর এক অপরাধ। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 কিন্তু সবশেষে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় এই বই পাঠকের কাছে। কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না, সমাজ তাকে অপরাধী তৈরি করে। নিজের না পাওয়াকে অন্যের পাওয়ার মধ্যে দেখলে সমাজ তাকে শেখায় হিংসা করতে। অন্যকেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি হয়... কিন্তু ���িজের ঘরের কেউ দিনের পর দিন অপরাধ করে গেলে জন্মের পর সেই শিশু কোথায় যাবে সাহায্যের জন্য??? সমাজ কলুষিত বলেই তাদের বেড়ে ওঠাকে কলুষিত করেছ�� সমাজ... তাদের দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে অপরাধী বলে... কিন্তু সমাজের শাস্তি তাহলে কি??? কুখ্যাত এক নারী তাই জীবৎকালে বলে গেছেন, " ধন্যবাদ জানাই এই সমাজকে আজকের এই পরিস্থিতির জন্য। সত্যিই তো এই সমাজই আমার সঙ্গে খারাপ করলো, চুড়ান্ত খারাপ পরিস্থিতিতে নিয়ে এসে দাঁড় করালো। আবার এই সমাজই তার বিচার করছে। " সত্য সেলুকাস বিচিত্র এই দেশ!!
নাম - হত্যা যদি শিল্প হয় লেখক - অমৃতা কোনার প্রকাশক - বিভা পাবলিকেশন মুদ্রিত মূল্য - ১৯৯ ⭐রেটিং - ৪/১০
অনেক আশা নিয়ে বইটি পড়তে শুরু করেছিলাম। নাম টা শুনে ভালো তো লেগেছিলই যখন জানলাম মহিলা সিরিয়াল কিলার দের নিয়ে লেখা তখন পড়ার ইচ্ছে অনেকখানি বেড়ে গেছিল। বইটি আমি পড়তে শুরু করি কলকাতা থেকে আমার বাড়ি ( নদীয়া) যাবারপথে ট্রেনে গত রবিবার সকালে । ট্রেনে উঠে জানালার ধারে বসার সিট পেয়ে আনন্দ পেলাম এটা ভেবে যে বইটা নির্বিঘ্নে পড়তে পারব। তো বেশ জমিয়ে বসে পড়তে শুরু করলাম। কিন্তু প্রথম কিছু চ্যাপ্টার পড়ার পরই অনুভব করলাম যে প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করেছিলাম সে গুড়ে বালি 🥴। বইটির তথ্য খুবই অসম্পূর্ণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানার চাহিদা মেটেনা। আর প্রতিটি চ্যাপ্টার যা আলাদা আলাদা সিরিয়াল কিলারের জীবনকাহিনী মনে হয় যেন শুধু ভূমিকা করে চলে গেছেন লেখিকা। আর বইটিতে অনেক বানান ভুল সাল তারিখের গন্ডগোল (হয়ত ছাপার ভুল) খুব বিরক্ত করেছে। তো সার্বিক ভাবে ভাবে বলতে পারি একদমই সুখপাঠ্য হয়নি। আর হ্যাঁ বইটি আমি যাওয়া আর আসার ট্রেন সফরেই শেষ করেছি। 🙃
ইদানিং কালের সত্যি ঘটনা নিয়ে লিখিত অজস্র বইয়ের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার মত আরেকটি বই। কোনও রকমে ঘটনা গুলিকে লিখে যাওয়া হয়েছে। সম্ভবত আন্তর্জালের থেকে পড়ে লেখা হয়েছে। ফলত ইংরাজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করার মত করে লিখতে গিয়ে গল্প ও প্রবন্ধের মাঝা মাঝি একটি বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা সিরিয়াল কিলার বা সত্যি খুনের ঘটনা নিয়ে অল্প বিস্তর পড়াশোনা করেন তাদের অধিকাংশ গল্পই জানা লাগবে। কোনও নতুনত্ব নেই। লেখনীর ভাষাও খুবই অপরিপক্ক লাগল। গবেষণা ভিত্তিক লেখার ক্ষেত্রে আগামীতে আরও গভীর গবেষণা লব্ধ কিছু নতুন ধরণের তথ্য ও বিষয়ের নতুনত্ব থাকলে ভালো হবে। অত্যন্ত কষ্ট করে বই শেষ করলাম।
নন-ফিকশন বই। রক্ত গরম করে দেওয়া কিছু খুনের ঘটনাকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়েছে বইয়ের কন্টেন্ট গুলোকে আরো সুন্দর করে লেখা হলে আরও ভাল হত।