Jump to ratings and reviews
Rate this book

খালিদ : ব্লাড. ওয়ার. অনার

Rate this book
দুর্ধর্ষ এক বীরত্বগাথস! যুদ্ধ, রক্ত, সম্মান! পরতে পরতে যার লড়াই ও অন্ধকারের প্রাচীর ভাংঙার গান। প্রাণ ও প্রাণের মায়া এখানে তুচ্ছ। উদ্ধত তরবারি এখানে ন্যায় -দন্ড। লড়াই কর, অথবা নি:শেষ কয়্র যাও। এ আখ্যান শুধু গল্প নয়, গল্পের চেয়েও বেশি কিছু। সত্যের হৃদয় ছুঁয়ে এক চলাচল। ডুব দিন অকুতোভয় অজেয় যোদ্ধা খালিদের অসাধারণ বীরত্বের মহিমান্বিত আখ্যানে।

424 pages, Hardcover

Published January 1, 2023

2 people are currently reading
13 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (75%)
4 stars
3 (25%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 5 of 5 reviews
Profile Image for Sakib A. Jami.
336 reviews38 followers
May 26, 2023
যুদ্ধ কেবল শক্তিমত্তার প্রদর্শন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ ছাপিয়ে যুদ্ধের ময়দান অনেক কিছুর সাক্ষ্য বহন করে। যুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে নিজের সৈন্য সামন্তের সংখ্যা, তাদের শক্তি দিয়ে বিচার করা যায় না। যুদ্ধের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার কৌশল। যথাযথ কৌশলের আশ্রয় নিলে খর্ব শক্তি নিয়েও যুদ্ধ জেতা যায়। আবার কৌশলবিহীন যোদ্ধারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, বিজয় তাদের হাতে ধরা দেয় না।

মুসলিম বাহিনীর পক্ষে প্রথম যুদ্ধ-ই ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদের বড়ো পরীক্ষা। বিশাল বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের রোমান সৈন্যরা যখন দাঁড়িয়ে আছে, সামান্য মুসলিম বাহিনী সেখানে নিরুপায় হয়ে নিজেদের করণীয় পন্থা খোঁজার চেষ্টা করছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ তো শুরু হলো। একে একে তিন সেনাপতি যখন নিজেদের বীরত্বের প্রদর্শনের পর হার মেনে বেহেশতের পথে, সেখান থেকেই উত্থান এক যোদ্ধার। তিনি - খালিদ বিন ওয়ালিদ।

এই যোদ্ধার কল্যাণেই ওহুদ যুদ্ধে জিততে গিয়েও শেষ বেলায় মুসলিম বাহিনীকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছিল। খালিদের কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিল সদ্য নতুন এক ধর্মের অনুসারীরা। সেই খালিদ যখন তুলে নিয়েছে মুসলিম বাহিনীর পতাকা, তখন আর ভয়ের কী আছে? সম্মুখ যুদ্ধ-ই কেবল যুদ্ধ, তেমনটা না। কৌশলে যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়াটাও এক প্রকার যুদ্ধ। খালিদের অভিনব কৌশলে কিংকর্তব্যবিমূ়ঢ় বাইজেন্টাইন সৈন্যরা। সেই সুযোগে মুসলিম বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফিরে আসার যে রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে, এখানেই বিজয় লুকিয়ে আছে।

সেই থেকে শুরু। এক বিস্ময়কর পথের খোঁজ পেয়েছেন খালিদ বিন ওয়ালিদ। যুদ্ধের ময়দান যাঁকে টানে। তরবারি হাতে নিলে যাঁর সামনে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকে না। নিজেকে একটু একটু করে পরিণত করেছেন, যুদ্ধের ময়দানের জন্য প্রস্তুত করেছেন। জাত যোদ্ধা যাকে বলে। আজ থেকে মুসলিম বাহিনীর ছায়াতলে নিজের বীরত্ব প্রদর্শনের স্থান নির্ধারণ হয়েছে। খোদ মহানবী (সা) নিজে তাঁকে "সাইফুল্লাহ - আল্লাহর তরবারি" উপাধি দিয়েছেন। এ যাত্রা অপার শান্তির। আবার কণ্টকাকীর্ণও বটে। নিজেকে প্রমাণের মঞ্চ। মুসলিম বাহিনীর ছায়াতলে আসার এ লড়াইটা ছিল নিজের সাথে নিজের। যেই মানুষটি এক সময় মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তাঁর বীরত্বে প্রাণ হারিয়েছে কত মুসলিম, সেই মানুষটি আলোর খোঁজে ছুটে এসেছেন মহানবী (সা)-এর কাছে। কতশত মানুষ এভাবেই মানসিক প্রশান্তির খোঁজ করেছেন, তার হিসাব নেই।

"খালিদ" বইটিতে খালিদ বিন ওয়ালিদের মুসলিম হওয়ার পূর্ববর্তী সময় দেখানো হয়েছে। যে সময়ে একজন অমুসলিম হিসেবে অন্য সব কোরাইশদের মতো ঘোর ইসলাম বিরোধী ছিলেন। যুদ্ধের মাধ্যমে পুরো মুসলিম বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মনবাসনা পুষে রাখতেন। যুদ্ধও করেছেন বেশ। তাঁর ধৈর্য আর বুদ্ধিমত্তায় ওহুদ যুদ্ধে বিজয় পেতে গিয়েও পায়নি মুসলিম বাহিনী। তিনি ছিলেন সেই যুদ্ধের বিজেতা। একা হাতে যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দিয়েছেন। অবশ্য মুসলিম বাহিনীর ভুল যে ছিল না, তা নয়। যুদ্ধে সবসময় ধৈর্য ধারণ করতে হয়। কমান্ডার যে নির্দেশ দিবেন, তা যথাযথ পালন করতে হয়। অতিমাত্রায় উত্তেজনা কিংবা আবেগের বশবর্তী হওয়া কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না। যুদ্ধক্ষেত্রে শেষ থেকেই নতুনের সূচনা হতে পারে। তাই ধৈর্যধারণ এক বড়ো গুণ হিসেবে ধরা হয়। বিজয়কে হাতের নাগালে পেয়ে সেই ধৈর্য যখন মুসলিম বাহিনীর তীরন্দাজরা হারিয়ে ফেলেছে, ঠিক সেই সুযোগ নিয়েছেন খালিদ।সেই যুদ্ধে স্বয়ং মহানবী (সা) নিজের দাঁত হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন।

"খালিদ" বইটির পুরোটা জুড়ে ছিল যুদ্ধের বর্ণনা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেন যুদ্ধই প্রাধান্য। একজন যোদ্ধার জীবন বর্ণনা করতে গেলে যুদ্ধ যারা কোনো কিছুই প্রধান হয়ে ধরা দিতে পারে না। মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে খালিদ দুটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। একটি ওহুদ, আরেকটি খন্দকের যুদ্ধ। যেই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক অভিনব কৌশলের কাছে থমকে জেতে হয়েছিল কোরাইশ বাহিনীকে। বিশাল বাহিনী নিয়ে এসেও মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব হলো না। শত চেষ্টা করেও যেন কিছুই করতে পারল না তারা। সব শেষে পিছু হটতে হলো। এমন এক অভিনব কৌশল যেন মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে দিলো খালিদের মনে। যুদ্ধে বিজয় না হওয়ার তীব্র বিষাদ মনের মধ্যে থাকলেও, মুসলিমদের সাহস ও যুদ্ধের সময় মাথা ঠান্ডা রাখার নীতি অবাক করল তাঁকে।

অন্যসব কোরাইশদের মতো খালিদ মনে ঈর্ষা পুষে রাখার পক্ষপাতী নন। তিনি প্রতিপক্ষের বুদ্ধিমত্তার শ্রদ্ধা করতে জানেন। আর জানেন বলেই অবাক হন, এই অল্প সময়ে কীভাবে এতটা মনোবল অর্জন করা যায়? খর্ব শক্তি নিয়েই কীভাবে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া যায়? কারো জন্য নিজেকে তরবারির নিচে সঁপে দেওয়া যায়? এই শক্তির উৎস কী? তবে কি ভুল পথে নিজের জীবন পরিচালিত করছে সে? খালিদের মন পোড়ে। ঠিক কোথায় গেলে শান্তির খোঁজ পাওয়া যাবে, সেই পথ খুঁজে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। পথের যে দিশা পাওয়া যায় না। কোথায় সে পথ? খালিদ কি খুঁজে পাবে সে পথ?

যুদ্ধের সময় অনেক মানুষের দেখা পাওয়া যায়। কে পক্ষে, কে বিপক্ষে ঠিক বোঝা যায় না। এদের কাজ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়া আর নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি আদায় করা। এমন অনেক মানুষের দেখা পাওয়া যাবে এই বইয়ে। যারা যুদ্ধ বাঁধানোর পাঁয়তারা করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে। আবার অন্যদিকে যুদ্ধের কৌশলের মধ্যে পড়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেওয়া। এক পক্ষকে যদি হাত করে ফেলা যায়, তাহলে প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে দুর্বল। কূটনীতিক এই বিষয়-আশয় যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রধান হিসেবে ধরা দেয়। যে যতটা কূটনীতিক চাল চালতে পারবে বিজয় ততটা সন্নিকটে আসবে।

"খালিদ" বইতে যুদ্ধের পাশাপাশি উঠে এসেছে সেই সময়ের সমাজের খণ্ডচিত্র। পুরোপুরি অজ্ঞতার যুগ হিসেবে পরিচিত সেই যুগ ছিল বর্বরতার অন্যতম নিদর্শন। ব্যভিচার, মদ, জুয়া, দাসদাসী ক্রয়-বিক্রয় ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। পুরুষরা যেমন নারীদের সানিধ্য পাওয়ার চেষ্টায় মত্ত, নারীরাও তার ব্যতিক্রম নয়। নগ্নতা যেখানে সাধারণ বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছিল। এমন কি হজের সময়টাও এই বর্বর নিয়মের অংশ। আরও দেখা যেত বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে। উকাজের মেলা সেই সময় মক্কায় এক বিরাট উৎসব। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের জন্য এই মেলা আনন্দের। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসত মক্কায়। সেই সময়ে কিছু কিছু সম্প্রদায় কন্যা সন্তানকে দুর্ভাগ্যের মনে করত। ফলে কন্যা সন্তানের জন্ম হলেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। লেখক যে বর্বরতার নিদর্শন বইতে রেখেছেন, শিউরে উঠতে হয়! এতটা নির্দয় মানুষ হতে পারে? শুধু নিজের আত্মসম্মানের জন্য আদরের কন্যার এমন পরিণতি করা সম্ভব?

"খালিদ" উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যতটা না খালিদ, ঠিক ততটাই যেন মহানবী (সা)। এমন এক মহামানবকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। আল্লাহর বাণীবাহক, আদর্শ গুণের অধিকারী; এসব তো আমরা সবাই জানি। এছাড়াও তিনি যে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তি, প্রজ্ঞা আর জ্ঞান দিয়ে পুরো বিস্ময় জয় করে ফেলেছেন। হুদায়বিয়ার সন্ধি তেমনই এক বিষয়। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে এই সন্ধি মুসলিমদের বিরুদ্ধে গেলেও যেন বিজয় খোদ মুসলিমদেরই হয়েছে। সেই সাথে একজন রাখল বালক হিসেবে শুরু করা মহানবী (সা)-এর সামরিক জ্ঞান ছিল অনন্য। ঠাণ্ডা মাথায় সবকিছু বিচার করার ক্ষমতা তাঁকে যোগ্য নেতা বানিয়েছিল। এমন এক মানুষকে কলমের আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা খুব একটা সহজ নয়। সেই কাজ দক্ষতার সাথেই করেছেন লেখক। শুধু মহানবী (সা) নয়, উপন্যাসে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন আবু বকর (রা), ওমর (রা), উসমান (রা), আলী (রা)-এর মতো ব্যক্তিরাও। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের পারদর্শিতার অনন্য নিদর্শন রেখেছেন লেখক। দেখিয়েছেন মহানবী (সা)-এর জন্য তাঁরা কীভাবে নিজেদের বিলিয়ে দিতে পারেন। বিপরীত দিকে উঠে এসেছে আবু সুফিয়ান, ইকরামা, হিন্দাদের মতো শত্রুপক্ষ। চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে লেখক যে পরিশ্রম করেছেন, তা যেন সার্থক হিসেবেই ধরা দিয়েছে।

"খালিদ" উপন্যাসে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে লেখকের লেখনশৈলী। শব্দচয়ন মুগ্ধ করেছে। এই জাতীয় বই লেখার ক্ষেত্রে শব্দচয়নের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হয়। লেখক খুবই সচেতন ছিলেন। তারপরও দুয়েক জায়গায় ভুল শব্দচয়ন লক্ষ্য করা গিয়েছেন। এমন এক বইয়ে দুয়েকটা ইংরেজি শব্দের ব্যবহার বিরিয়ানির মধ্যে এলাচির অনুভূতি দেয়। খুব বেশি না থাকলেও দুই তিন জায়গায় এমন অনুভূতি হয়েছে। আমি মুগ্ধ হয়েছি লেখকের বর্ণনাশৈলীতে। যুদ্ধের ময়দানের বর্ণনা এত দারুণভাবে দিয়েছেন লেখক! সব যেন চোখের সামনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। আমার মনে হয়েছে, এমন লেখনী দিয়ে দারুণ সিরিজ, সিনেমা তৈরি করে সম্ভব। তবে লেখকের লেখার মাধ্যমে মস্তিষ্কে যে দৃশ্যায়ন ঘটেছে, তা প্রতিস্থাপন সম্ভব কি না সে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাহুল্য মনে হয়েছে। হয়তো আরেকটু সংক্ষিপ্ত করা যেত বর্ণনা। যদিও বিরক্তি লাগেনি। কিছু সংলাপ নিয়ে আমার অবশ্য আপত্তি আছে। অশালীন কিছু বাক্য ঠিক পছন্দ হয়নি। যদিও হয়তো গল্পের প্রয়োজনে নিয়ে আসা, তারপরও আরেকটু শালীন হতে পারত। সামান্য কিছু বানান ভুল আর ছাপার ভুল ছিল। কিছু জায়গা উ-কার ছিল না। ফলে মুক্ত, যুক্ত, যুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল মক্ত, যক্ত, যদ্ধ। এছাড়া সম্পাদনা ঠিকঠাক লেগেছে।

পরিশেষে, "খালিদ" সম্পূর্ণ ফিকশন জাতীয় উপন্যাস। যা সত্য মিথ্যার মাপকাঠি মেনে নেওয়া উচিত হবে না বোধহয়। যদিও কিছু তথ্যের ক্রস ম্যাচ করে সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছি। লেখক যথাযথ চেষ্টা করেছেন সঠিকভাবে সকল তথ্য উপস্থাপনের। লেখক অনেকাংশেই সফল। তারপরও যেহেতু লেখককে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে, সেই স্বাধীনতা লেখকের। এই স্বাধীনতার লেখক এক মহাকাব্যের সূচনা করেছেন। যেই মহাকাব্যের নাম খালিদ বিন ওয়ালিদ। পরবর্তী বইয়ের জন্য অপেক্ষা কতটা দীর্ঘ হয়, এখন শুধু তা-ই দেখার পালা।

▪️বই : খালিদ
▪️লেখক : রবিউল করিম মৃদুল
▪️প্রকাশনী : নালন্দা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪২৩
▪️মুদ্রিত মূল্য : ৮৫০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৮/৫
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews2 followers
April 7, 2023
দুর্দান্ত!
সম্ভবত এবছরের সেরা বইটা পড়ে ফেললাম। অসাধারণ!

মহাবীর খালিদের জীবনীভিত্তিক উপন্যাস হলেও, লেখক প্রথম খন্ডে খালিদের বদলে তাঁর "খালিদ" হয়ে ওঠার যে পরিবেশ সেটার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাবলীল বর্ণনার পাশাপাশি সেই সময়কার আরব সংস্কৃতি, মরুভূমির রুক্ষতা আর যুদ্ধের নির্মমতা ইত্যাদির সুরটা ধরতে পারা লেখকের সবথেকে বড় সার্থকতা। ৪২৪ পৃষ্ঠার বইয়ে কোথাও অতিরঞ্জন করা হয়নি, লেখক যথাসম্ভব নির্মোহ দৃষ্টিতে বইটা লিখেছেন। এখন খালিদের দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষা! সেখানে মুসলিম সামরিক কমান্ডার খালিদের উত্থান দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।
Profile Image for Parvez Alam.
306 reviews12 followers
March 15, 2023
আমি একটু অন্য ভাবে শুরু করি। বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো বইটা খালিদ কে নিয়ে কম, আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে বেশি। কিন্তু শেষ করে দেখি এইটা আসলে প্রথম পার্ট, আগামীতে এই বইয়ের ২য় পর্ব আসবে। এই বইটা মূলত শুরু হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মক্কা বিজয়ের আগের কাহিনী নিয়ে। লেখক বইটাতে খালিদ কে আমাদের সাথে পরিচয় করেছে একজন অমুসলিম হিসাবে যিনি ইসলামের পতাকা, মুসলিম দের কে দেখতে পারে না তাদের বিপক্ষে অস্ত্র তুলেছেন সেখান থেকে আর শেষ হয়েছে কি ভাবে কোন কারনে কি জন্য খালিদ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাথে এসে যোগ দিলেন সেটা দিয়ে। খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা সেই সময়, যুদ্ধ। পড়তে পড়তে মনে হয় আপনার চোখের সামনে হচ্ছে, মাঝে মাঝে মনে হবে ইস আমি যদি থাকতে পারতাম ঐখানে। অসাধারণ একটি বই হয়েছে, অনেক আগ্রহ নিয়ে ২য় পর্বের জন্য অপেক্ষাতে। আল্লাহর রহমতে ইনশাল্লাহ আগামী বছর হয়ত ২য় পর্ব হাতে পাবো।

** বইয়ে ভুল তেমন ছিলো না আমার চোখে ২টা বানান ভুল ছাড়া কিছু চোখে পড়ে নাই। নালন্দার প্রোডাকশন অনেক ভালো।
Profile Image for Xilani.
18 reviews5 followers
June 1, 2023
গোলাম মোস্তফার বিশ্বনবীতে ওহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের পরাজয়ের কথা জেনে ছিলাম। কিন্তু মহাবীর খালিদের সমর কৌশলের কাছে মুসলিমরা যে পরাজিত হয়েছিল তা জানা ছিল না, বই এর কল্যাণে জানা হলো। এই বই এর মূল প্রোটাগনিস্ট খালিদ হলেও, আমার কাছে মনে হয়েছে মহাবীর খালিদ ছাড়াও আরো অনেকেই ছিল। বই সেই সময়ে কোরাইশদের ব্যাভিচার, অপকর্মের কথা বিশদভাবে এসেছে। ওহুদ, খন্দকের যুদ্বের বিশদ বিবরণ মোহিত করেছে। মূলত মহাবীর খালিদকে নিয়ে লেখা হলেও, হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর ইসলামের বাণী প্রচারের সময়টাকেই সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। দারুণ!!!
3 reviews
August 20, 2024
নিঃসন্দেহে ভালো বই তবে হয়তো ধর্মীয় মনোভাব থেকে লেখার কারণে বইয়ের ক্যারেক্টারে অতিরিক্ত অলংকৃত করা হয়েছে, যা মাঝে মাঝে আমার কাছে কিছুটা বিরক্তির কারণ হয়ে গেছে এবং স্কিপ করে করে পড়তে হয়েছে।
যাইহোক এটা একান্ত আমার মতামত।
Displaying 1 - 5 of 5 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.