Jump to ratings and reviews
Rate this book

দ্রোণ

Rate this book
ভদ্রলোক সামনের টেবিল থেকে কাচের গ্লাসটা তুলে নিলেন, এক ঢোঁকে পুরো জলটা পান করে তারপর বলতে শুরু করলেন—

আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি মি. সেন। অফিসটা থিয়েটার রোডে। গতকাল কাজের চাপ ছিল বেশি। তাই বেশ খানিকটা রাত হয়ে যায় অফিস থেকে বের হতে, প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ আমি অফিস থেকে বের হই, রাহুলও ছিল আমার সঙ্গে। একটা প্রাইভেট ট্যাক্সি ডাকি অ্যাপের মাধ্যমে, মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই সেটা এসে যায়। রাহুলের বাড়ি পার্ক সার্কাসে, প্রত্যেকদিনই আমরা একসঙ্গে ফিরি। ও নেমে যায় মা ফ্লাইওভারের ঠিক আগে আর আমি গাড়ি নিয়ে চলে আসি সল্টলেক, কিন্তু কাল এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। গাড়িটা যেই মাত্র পার্ক সার্কাস এসে দাঁড়ায়, আর রাহুল গাড়ি থেকে নামে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই মেয়েটি গাড়িতে উঠে পড়ে। আমি প্রথমটায় চমকে যাই, তার পর মুহূর্তেই মনে হয় এখান থেকে তো বহু শ্যাটেল ক্যাব যায়, সেই ভেবেই হয়তো মেয়েটা উঠে পড়েছে। আমি তাকে নেমে যেতে বলি। রাহুল জানে সেটা, ড্রাইভারটাও জানে সেই কথা, কিন্তু মেয়েটা শুনতে চায় না। আমায় বলে, “প্লিজ আমায় নামিয়ে দেবেন না। দেখছেন তো রাস্তাঘাট কেমন শুনশান হয়ে গেছে, আর কোনও ট্যাক্সিও পাচ্ছিনা। মোবাইল অ্যাপেও চেষ্টা করেছি, কিন্তু সব অনেক দূর। কোনওটা গড়িয়াহাট তো কোনওটা শিয়ালদা। আপনি তো মনে হয় সল্টলেক যাচ্ছেন, আমায় নামিয়ে দেবেন ওখানে, প্লিজ।” আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করি, “আপনি কী করে জানলেন আমি সল্টলেক যাচ্ছি?” মেয়েটা বলে, “আপনাকে দেখে মনে হল তেমনটা।” কথাটা শুনে আমার হাসি পায়, বলি “সল্টলেকবাসীদের মুখে কোনও স্ট্যাম্প আছে নাকি?” মেয়েটি খুব জোরে হেসে ওঠে, আমি ড্রাইভারকে গাড়ি স্টার্ট করতে বলি।
শুনশান রাস্তায় গাড়িটা যেন উড়ছিল। আমার পাশে বসে এক অপরূপ সুন্দরী, অপরিচিতা, লাস্যময়ী। পুরো ঘটনাটা যেন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল মি. সেন। মেয়েটা কথা বলে চলেছিল। ওর নাম রুবি, সেক্টর থ্রি-তে থাকে, প্রেসিডেন্সি থেকে মাস্টার্স করছে রসায়নে। বাড়িতে বাবা, মা আর-একটি পোষ্য কুকুর রয়েছে, যার নাম পাশা। গাড়িটা তখন চিংড়িঘাটা ক্রসিং অতিক্রম করছে, আচমকাই মেয়েটা বলল, “আমার বাবা জানো মস্ত বড়ো অভিনেতা, গুরুদেব মানুষ।” আমি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলাম, “তাই? কী নাম ওঁর?” মেয়েটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ, প্রশ্নের কোনও জবাব দিল না, তারপর বলল, “আমার কেসটা তুমি সল্‌ভ করবে তো, বলো করবে তো?” আমি ওর কথার কোনও তল খুঁজে পাচ্ছিলাম না, অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, “কী কেস? কীসের কথা বলছেন?” মেয়েটা জবাব দেওয়ার আগেই মুখ থেকে গ্যাঁজলা ওঠা শুরু করল, ভয়ংকর বীভৎস সেই দৃশ্য, দেখা যায় না। আমি চিৎকার করে উঠলাম, “কী হয়েছে? কী হয়েছে আপনার?” মেয়েটা খুব কষ্ট করে শুধু বলে, “অশ্বথামা হত, ইতি গজ,” তারপর লুটিয়ে পড়ল। আর শ্বাস ফেরেনি মেয়েটার, ওখানেই সব শেষ।

কে এই রুবি? কেন সে মৃত্যুর সময় বলল, "অশ্বথামা হত, ইতি গজ"? কি লুকিয়ে রয়েছে এর পিছনে? জানতে হলে পড়তে হবে, "দ্রোণ"।

150 pages, Hardcover

First published January 31, 2023

Loading...
Loading...

About the author

Sandip Das

11 books2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
2 (50%)
3 stars
2 (50%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Arghadipa Chakraborty.
215 reviews8 followers
April 1, 2026
শাশ্বতবাবু তাঁর অফিস কলিগের সঙ্গে ভাড়ার গাড়িতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পার্ক সার্কাসে ওঁনার সঙ্গী যখন গাড়ি থেকে নেমে পড়ে, তখন আচমকা একটি মেয়ে ওঁনার গাড়িতে উঠে পড়ে। মেয়েটির অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে শাশ্বতবাবু আর কিছু বলেন না। এরপর মেয়েটি নিজের পরিচয় ওঁনাকে জানায়। গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎই মেয়েটির মুখ দিয়ে গ্যাজলা ওঠে ও মেয়েটি মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে তাঁর শেষ কথা ছিল "অশ্বথামা হত ইতি গজ"।

এরপর সাহায্যের জন্য শাশ্বতবাবু সাম্যর শরণাগত হন এবং তদন্তের খাতিরে উঠে আসে মহাভারত, ষড়যন্ত্র, অভিনয় জগৎ, প্রতিহিংসা এবং শঠতা।

যদি রহস্য কাহিনীর ভক্ত হয়ে থাকেন, তবে এই বইটা পড়ে দেখতেই পারেন।
Displaying 1 of 1 review