আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জনদশা প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় পড়ে চার স্তরের মানুষ।
পাকিস্তান আর্মি— ঘটনার পেছনে, ঘটনার কারণ, ঘটনার হোতা।
রাজাকার— ঘটনার প্রভাবক, ঘরের প্রতারক, পরিস্থিতির ফায়দা লুটেরা।
মুক্তিযোদ্ধা— নায়কেরা। যার পেছনে ভয়, যাদের ভয়ের পেছনে আমাদের জয়।
সর্ববাঙালি— সাধারণ মানুষ। এদের কপালে শুধু ভোগান্তি। অচেনা আর্মির সৃষ্ট অচেনা ভোগান্তি, রাজাকারের কারণে চেনা মানুষের অচেনা রূপের অত্যাচার সহ্য আর প্রিয়জন হারানো, প্রিয়জন বিচ্ছেদ! আর সাথে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পানে দিনযাপন, তিতিক্ষা। কাছের মানুষ কাছে নাই, ঘরের মায়া মনে নাই, মনের শান্তি মনের ভ্রান্তি, অবুঝ দুনিয়ার ভাষা বোঝার ক্ষমতা আছে, কিন্তু কিছুই করার নাই। এদের জন্য সবচেয়ে কম যন্ত্রণার চেষ্টাটা হল অপেক্ষা। সে অপেক্ষা কখনো হন্তারকের জন্য, কখনো কোনো রাতের পাখির জন্য।
মায়ের আঁচলে জমতে থাকে স্নেহ, নেয়ার মানুষ নাই।
ভাইয়ের কপালে বোনের জন্য পড়তে থাকে চিন্তার ভাঁজ, পেছন ফেরার সময় নাই।
সামনে মৃত্যুকে রেখে আর্মির খেল হওয়া— তবু মনের জোর, সাহসের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে দুর্বল হওয়ার স্পর্ধা নাই।
সাহসকেও বিক্রি করা যাবে না।
যখনই কোনো মুক্তিযোদ্ধা আর্মির বা রাজাকারের সামনে শহীদ হয়েছে সেখানে শুধু তার আত্মাই শহীদ হয়েছে।
তার সাহস মরে নাই, সাহসেরা ছড়িয়ে গেছে জনতার বুকে বুকে। দুঃসাহস হয়ে ফিরে এসেছে।