ভয়ঙ্কর দুষ্টু টিটন, ধীর-স্থির বৈজ্ঞানিক চঞ্চল আর মোটকা সাহিত্যিক অনু মিলে রাতুলের দল। ছুটির দিনগুলো আনন্দে আর অ্যাডভেঞ্চারে কাটানোর জন্য তারা একটা ক্লাব বানাল, নাম ব্ল্যাক ড্রাগন।চার ছেলের সাথে এসে জুটল দুটো মেয়ে, রাতুলের বোন মিথিলা (সারাক্ষন নাকি সুরে আম্মুকে ভাইয়ের নামে নালিশ করে) আর পাড়ায় নতুন আসা টুনি (যার চোখের দৃষ্টি বরফের মতন ঠান্ডা)। ব্ল্যাক ড্রাগন ক্লাবের আস্তানার জন্য তারা হাজির হল পোড়া বাড়ি মিশকাত মঞ্জিলে।
সেখানে শুরু হল এক ভয়ঙ্কর আডভেঞ্চার, সাপখোপ, ভূত-প্রেতের ভয় তার সাথে আছে ভয়াবহ ক্রিমিনাল। বিপদের ওপরে বিপদ। ওরা যখন ভিতরে তখন বাইরে কাজ চলছে ভবনটা ভেঙ্গে ফেলার, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বের হয়ে আসার সকল পথ। এখন উপায়?
মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই রহস্য-রোমাঞ্চ গল্পের আরেকটা মজা কিন্তু হাস্যরসে। পাতায় পাতায় পাঠককে খিলখিল করে হেসে উঠতে হবেই। আর ভয়ে গায়ের রোম খাড়াও হয়ে যাবে কখনও কখনও।
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
জানি বইটিতে নতুন কিছু নেই , তবুও স্যার তার জাদুকরী লেখনীর মাধ্যমে এই অতি সাধারণ ও চিরচেনা কাহিনীটিকেও পরিণত করেছেন মোটামুটি উপভোগ্য একটা কিশোর উপন্যাসে। যারা উপন্যাসটি পড়বে, এক সময় নিজেরাও তাদের অবচেতন মনে যোগ দেবে ব্ল্যাক ড্রাগন টিমে, সপ্তম সদস্য হিসেবে! আর তারপর অভিযানের শেষে কি হল, তা না দেখে থামতে পারবে না একদমই !
মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিজ কালোত্তীর্ণ ক্লাসিক হাত কাটা রবিন আর সেবা থেকে প্রকাশিত এটিএম শামসুদ্দীনের যমঘরে বন্দী-র (যেটা আবার রুশ ক্লাসিক আনাতোলি অ্যালেক্সিনের ভয়ঙ্কর রোমহর্ষক ঘটনা-র দেশিগন্ধি অ্যাডাপ্টেশন) খানিকটা ছায়া রয়েছে বইটিতে, ঘটনাক্রমে যে তেমন নতুনত্ব আছে তাও না... তবুও জীবন্ত সব পছন্দনীয় রঙচঙে চরিত্র আর মজাদার সব ঘটনা ও মুজাই'র চিরচারিত ঝরঝরে জমাটি লেখনিতে সরেস টানটান মেদহীন একটি রোমাঞ্চকর কিশোর অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে পুরোমাত্রায় উপভোগ করায় একটুও সমস্যা হয়নি। এক দঙ্গল বৈচিত্র্যময় কিশোর-কিশোরী, নিজেদের মধ্যকার টক্কর, অভিযাত্রী দল বানানো নিয়ে রেষারেষি-হাস্যরস, রহস্যময় ভুতুড়ে পোড়োবাড়ি, গোপন তলকুঠুরি, গোলকধাঁধা-সুড়ঙ্গ, ডাকাতদল, আর গুপ্তধন। অলস দুপুরটা ভাল কাটলো।
কৈশোরকালে স্যারের বই যেমন পড়তাম, সমবয়সী কিন্তু ভিন্ন-ভিন্ন ক্যারেক্টারের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটা গ্রুপ করা। আর সেই কিম্ভূতকিমাকার গ্রুপ নিয়ে অ্যাডভেঞ্চার যেয়ে অনেক চড়াই-উতরাই পেয়িয়ে তাদের জয়ী হয়ে ফিরে আসা এই আর কি। মাঝে একটু হাসি, একটু ভয়-ভীতি , একটু বন্ধুত্যের পরীক্ষা, আর শেষে একটা HAPPY ENDING … ব্যাস, এই টুকুই!
বড় হয়ে এই একটা বিপদ হয়ে গেছে আমার! অল্পতেই মুগ্ধ হওয়ার গুণটা কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি… :(
ভয়ঙ্কর দুষ্টু টিটন, ধীর-স্থির বৈজ্ঞানিক চঞ্চল আর মোটকা সাহিত্যিক অনু মিলে রাতুলের দল। স্কুল ছুটি পেয়ে কে কি করবে তা ঠিক করতে পারছিল না তারা। এমন সময় তাদের মাথায় বুদ্ধি আসল যে তারা একটা ক্লাব গঠন করবে। যেই ভাবা সেইই কাজ। কিন্তু ক্লাব কি নিয়ে হবে তা নিয়ে দেখা গেল ঝামেলা। টিটন চায় খেলার ক্লাব, চঞ্চল বিজ্ঞান ক্লাব,অনু সাহিত্যের ক্লাব চায়। শেষ পর্যন্ত রাতুলের মধ্যস্থতায় ঠিক হল তারা ডিটেকটিভ ক্লাব খুলবে। নাম নিয়েও দেখা গেল আরেক ঝামেলা। শেষ পর্যন্ত অনেক কাহিনীর পর রাতুলের দেওয়া নাম 'ব্ল্যাক ড্রাগন'ই চুড়ান্ত হল। যদিও সবাই এটাকে কালো গুইসাপ নামে খেপাতে পিছুপা হল না। ক্লাবের ব্যাপারে সম্পূর্ন গোপনীয়তা রক্ষা করতে বলা হলেও পাড়ায় আসা নতুন মেয়ে টুনি (যে কিনা কারাতে ব্ল্যাক বেল্ট) আর রাতুলের ছোট বোন মিথিলা (যার এক মাত্র কাজই হল তার ভাই এর ব্যাপারে মা কে নালিশ করা) ঠিকই জেনে গেল এর কথা। আর অনেকটা জোর করেই ক্লাবে তাদের নিতে বাধ্য করল।
ক্লাবের প্রথম এডভেঞ্চার শুরু হয়ে গেল ক্লাবের জন্য হেডকোয়ার্টার খুজতে গিয়েই। তারা পোড়া বাড়ি মিশকাত মঞ্জিলে হেডকোয়ার্টার বানাতে গিয়ে খুজে পেল এক গুপ্ত ঘর। সাথে সাথে দুই শয়তান চেহারার বদলোকও হাজির। জমে উঠল ব্ল্যাক ড্রাগনের এডভেঞ্চার।
An Unforgettable Journey into Youth, Unity, and Identity.
The characters are vivid and relatable, each with their own quirks and emotional depth. What I loved most was how the story explores themes like leadership, teamwork, and standing up for what’s right—without ever becoming preachy. It’s a story that speaks to both teenagers and adults, reminding us of the importance of courage, loyalty, and identity.
মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা পড়ার মূল সুবিধা হলো, তাঁর ভাই হুমায়ূন আহমেদের মতোই, তাঁর লেখাও এক নিঃশ্বাসে পড়া যায়। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষা, সহজ বর্ণনা এবং বিশেষত রসবোধ- লেখার এই গুণ তাঁর লেখা পড়ার জন্য যেকোনো পাঠককেই আকৃষ্ট করবে। তাঁর প্রথম যে বই, 'কপোট্রনিক সুখ-দুঃখ', সেখান থেকেই জনাব ইকবালের এই বৈশিষ্ট্যটি টের পাওয়া যায়; অর্থাৎ এই ধরনের লেখা তৈরি করা তাঁর জন্য সহজবোধ্য, আরোপিত নয়।
'দলের নাম ব্ল্যাক ড্রাগন' বইটিও তেমনি একটি বই। পাঠক যে বয়সীই থাকুক না কেন, নিজের মনমানসিকতাকে কিশোর পর্যায়ে নামিয়ে এনে পাঠক যদি বইটি পড়েন (যদিও অনেকাংশেই তা সম্ভব নয়), তাহলে বইটি পাঠকের কাছে শুধু দুর্দান্তই মনে হবে না, মনে হবে নিজের কাহিনী-মানসিকতাই বুঝি বর্ণনা করা হচ্ছে। ব্ল্যাক ড্রাগন সদস্যদের বয়সী যখন ছিলাম তখন যেভাবে দুনিয়াটাকে দেখেছি, সেভাবেই ব্ল্যাক ড্রাগনদের কর্মকাণ্ড দেখতে পেয়েছি বইটিতে। কাহিনী হিসেবে, ঘটনার বর্ণনা হিসেবে কিংবা সার্বিকভাবে বইটি যেভাবে পাঠককে মোহাবিষ্ট করে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সেরকম দক্ষতা থাকে খুব কম লেখকের।
কিন্তু নিশ্চয়ই জাফর ইকবালের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এর চেয়েও অনেক অনেক বেশি। পাঠকের প্রত্যাশার চাপে লেখক যদি উত্তরোত্তর নতুন কিছু দিতে না পারেন, তাহলে লেখকের প্রতি পাঠকের কিছুটা নিস্পৃহতা তৈরি হয় বৈকি। এই বইয়ের সার্বিক গঠন কিশোরদের নিয়ে তাঁর লেখা অন্যান্য বইয়ের মতোই- খুব একটা নতুনত্ব নেই সেখানে। একই ধারা দেখেছি তাঁর ভাই হুমায়ূন আহমেদের লেখাতেও। হুমায়ূন আহমেদ শেষ পর্যন্ত নিজের গণ্ডি থেকে আর বের হতে পারেননি। এর একটি কারণ হিসেবে আমার কাছে মনে হয় প্রকাশকের চাপে বই লেখা এবং বইয়ের প্রতি যথাযথ সময় না দেয়া। মুহম্মদ জাফর ইকবালও কি তাই করছেন?
বইয়ের বানান ভুল দৃষ্টিকটু। কোথাও কোথাও লেখকের ভুলও দৃষ্টিকটু। যেমন- একজায়গায় তিনি টুনি ও টুশি গুলিয়ে ফেলেছেন। পুরো বইতেই এরকম ছোটখাট কিছু ভুল রয়েছে। একজন দক্ষ বানান পরীক্ষককে দিয়ে বইটি দেখালে এসব ভুল সহজেই দূর করা যেত।
তারপরও ছোটখাটো ভুলগুলো উপেক্ষা করে বলবো, আপনার পরিচিত কিশোর-কিশোরীদেরকে বইটি উপহার দিন। ওরা খুব খুশি হবে। কারণ বইটি লেখা হয়েছে তাদের জন্যই।
যখন আমি "দলের নাম ব্ল্যাক ড্রাগন" পড়া শুরু করলাম, তখন ভেবেছিলাম এটি হবে একটি চমকপ্রদ এবং মজার অ্যাডভেঞ্চার। রাতুল, টিটন, চঞ্চল, অনু, মিথিলা, এবং টুনির এই দলটি মিলে যে ক্লাব তৈরি করেছে, ব্ল্যাক ড্রাগন, সেই ক্লাবের কার্যক্রম ও অভিযানের মধ্যে বেশ রোমাঞ্চ খুঁজে পাবো আশা করেছিলাম। কিন্তু পাঠের শেষে, আমার অনুভূতি কিছুটা মিশ্র।
প্রথমত, গল্পের শুরুটা বেশ ভালো ছিল। চরিত্রগুলো বেশ মজাদার এবং বৈচিত্র্যময়। টিটনের দুষ্টুমি, চঞ্চলের বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণা, অনুর সাহিত্যিক মনোভাব, এবং রাতুলের নেতৃত্ব—এই সবই একসাথে মিলে একটি চমৎকার দল তৈরি করেছে। মিথিলা এবং টুনির সংযোজন গল্পে কিছুটা নতুনত্ব এনেছে।
তবে, উপন্যাসের প্রধান সমস্যাটি ছিল কাহিনীর গতি এবং তার বিস্তার। মাঝপথে গল্পটি খুবই ধীর এবং পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে পড়ে। কিছু অংশে মনে হয়েছিল লেখক অযথা গল্পটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। মূল রহস্য এবং আডভেঞ্চারের অংশগুলি সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি, যেটা একটি ভালো রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসে প্রয়োজন।
মিশকাত মঞ্জিলে দলটির ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাগুলো অতিরিক্ত নাটকীয় লেগেছে। তাছাড়া সাপখোপ, ভূত-প্রেত, এবং ক্রিমিনালের ভয়াবহতা নিয়ে লেখক যে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন, তা প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।
গল্পের একটি ইতিবাচক দিক হলো হাস্যরস। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যকার কথোপকথন এবং তাদের কর্মকাণ্ড অনেক সময়েই পাঠককে হাসাতে সক্ষম। তবে, হাস্যরসের এই দিকটি গল্পের মূল রহস্য এবং আডভেঞ্চারের সাথে ঠিকমতো মিশে যায়নি।
"দলের নাম ব্ল্যাক ড্রাগন" উপন্যাসটি পড়ে আমি বেশ হতাশ হয়েছি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের অন্যান্য কাজের তুলনায় এটি অনেক দুর্বল লেগেছে। চরিত্রগুলো মজার হলেও গল্পের গতি এবং কাহিনীর বিস্তার সেভাবে মুগ্ধ করতে পারেনি। তবে, এটি সম্পূর্ণভাবে আমার ব্যক্তিগত মতামত। অন্য পাঠকেরা হয়তো এটি আরও বেশি উপভোগ করতে পারেন।
অতএব, যদি আপনি মুহম্মদ জাফর ইকবালের একজন ভক্ত হন এবং একটি হালকা মজার এবং রোমাঞ্চকর গল্প পড়তে চান, তাহলে আপনি এটি পড়তে পারেন। কিন্তু উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে না পড়াই ভালো।
ফরমায়েসী একই চরিত্র কাহিনির ইদানীংকার মুজাইকের কিছুটা ব্যতিক্রম। তবে চার বছর আগের লেখা সেটা কারণ হতে পারে। গতানুগতিক টাইপো চরিত্রের নাম ভুলের ছড়াছড়ি, "বইবেলা" ২০১১ তেই তিনবার মুদ্রিণ হয়েছে, আফসোস।
এই বইগুলা কি পরিমাণ পছন্দ করি, এখন পড়তে নিয়েও যখন আগের মতো হাসাহাসি করতে পারি সেটা বুঝতে পারি। টুনির কথাবার্তার সাথে মিল পাওয়া, টিটনের রাগ বা রাতুলের সবকিছুতেই নিজের শৈশব খুঁজে পাই।