Jump to ratings and reviews
Rate this book

দগ্ধজাতক

Rate this book
উপন্যাস এক যুবকের জীবনের মাত্র চার ঘণ্টা সময়কাল নিয়ে রচিত। সে তার মাকে নদীর ধারে দাহ করে বাড়ি ফিরছে। ফেরার পথে তার মনে পড়ছে জীবনের ফেলে আসার অতীত স্মৃতি, সেই স্মৃতিতে যেমন রয়েছে বন্ধুত্ব, প্রেম, স্নেহ, তেমনই রয়েছে আঘাত, বিশ্বাসভঙ্গ, যন্ত্রণা। রয়েছে ছোট এক মফসসলের অলিগলি, তার প্রকৃতি, জীবনযাপন। যুবকটি মায়ের মৃতদেহকে দাহ করে ফেরার সময় বারংবার উপলব্ধি করে এই চিতার আগুন তাকে বহুবার দগ্ধ করেছে, নানাভাবে। তার শরীরের আনাচে-কানাচে রয়ে গেছে সেই পোড়া দাগ। কেন তার এই অনুভূতি? কী তার অতীত স্মৃতি? কেন যুবকটি নিজেকে চিহ্নিত করে এক দগ্ধজাতক হিসেবে? বর্তমান আর অতীতের মেলবন্ধনে এ এক আশ্চর্য বেদনার আখ্যান যা পাঠকের হৃদয়কেও সিক্ত করে তুলবে অদৃশ্য অশ্রুজলে।

144 pages, Hardcover

Published February 3, 2022

2 people are currently reading
15 people want to read

About the author

Binod Ghoshal

38 books24 followers
বিনোদ ঘোষাল-এর জন্ম ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ হুগলি জেলার কোন্নগরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। মফস্‌সলের মাঠঘাট, পুকুর জঙ্গল আর বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা আর অভিনয়ের দিকে ঝোঁক। গ্রুপ থিয়েটারের কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। কর্মজীবন বিচিত্র। কখনও চায়ের গোডাউনের সুপারভাইজার, শিল্পপতির বাড়ির বাজারসরকার, কেয়ারটেকার বা বড়বাজারের গদিতে বসে হিসাবরক্ষক। কখনও প্রাইভেট টিউটর। বর্তমানে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। নিয়মিত লেখালেখি করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। ২০০৩ সালে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রথম গল্প। বৃহত্তর পাঠকের নজর কেড়েছিল। বাংলা ভাষায় প্রথম সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার প্রাপক। ২০১৪ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির সোমেন চন্দ স্মৃতি পুরস্কার। তাঁর একাধিক ছোটগল্পের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয়েছে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (81%)
4 stars
1 (9%)
3 stars
1 (9%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Mohana.
100 reviews8 followers
March 13, 2023


'দগ্ধজাতক' এমন একটি বই যেটা নিয়ে এক আকাশ লিখতে ইচ্ছে করে আবার লিখতে বসলে বুঝতে পারি কোনো শব্দই যথার্থ নয় এই মর্মস্পর্শী উপন্যাসের জন্য। বাস্তবতাকে এমন নগ্ন ভাবে তুলে ধরা বইকে নিয়ে কি নতুন করে লিখবো, কি লিখবো যা প্রতিদিন ঘটছে তাকে নিয়ে, কি লিখবো যে চরিত্রের সঙ্গে আত্মস্থ হয়েছি এতটা যে বেশ কিছু জায়গায় মনে হয়েছে আমাকে নিয়েই অনায়াসে লেখা হয়েছে বইটা। এসব বই নিয়ে কি লেখা যায় জানি না, তবে এই উপন্যাস যে হৃদয়ে থাকবে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বেশ কিছু জায়গায় কেঁদেছি, শেষ করার পর শূন্য হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বসে থেকেছি। মনে হয়েছে অনেকদিন পর কেউ বোধহয় বুঝলো আমায়।

"আসলে কর্ণ নাম যাদের তাদের ভাগ্য এমনই হয়"

এই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্রের নাম কর্ণ। সে তার মা কে দাহ করে ফিরে আসার পথে চার ঘণ্টার সময়কালে নিজের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করছে। তার জীবনকে বোঝাতে এই উপরের লাইনটি ব্যবহার করেছেন লেখক। কারণ মহাভারতের কর্ণর মতোই আমাদের এই উপন্যাসের কর্ণেরও রথের চাকা বার বার মাটিতে গেঁথে যায়, আর তাকে চিরকালের মতো একাই লড়ে যেতে হয়, দুনিয়ার যত খারাপ ঘটনা তার সাথেই ঘটে, তবু দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যায় সে।

আমার মতে শুধু কর্ণ নামের মানুষরা নন, এমনকি কর্ণ কে যারা নিজের মহাভারতের প্রিয় চরিত্র বলেও আখ্যা দেন তাদের নিয়তিও একই হয়, একই কষ্ট দুঃখ যন্ত্রণা আর একা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই। অন্তত নিজের জীবনের সাথে দগ্ধজাতক কর্ণের এত মিল পেয়ে এটাই আমার ধারণা হয়েছে এখন। কর্ণের জন্য প্রতি ছত্রে কান্না পেয়েছে, তারপর মনে হয়েছে এরকম কত কর্ণ এখনও দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক এভাবেই। কর্ণ যখন তার মামাকে জিজ্ঞেস করে, "আমার সাথেই কেন?" "আমি তো আর পারছি না" তখন নিজের অজান্তেই চোখের জল মুছতে মুছতে বুঝতে পারি এই প্রশ্নগুলো তো প্রতিনিয়ত আমিও করে চলেছি নিজেকে, তবু উত্তর কি পেলাম কিছু! নাহ। কর্ণের দিদির জন্য খারাপ লাগে ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি খারাপ লাগে কর্ণ ও তার বাবা মায়ের জন্য। কারণ যারা চলে যায়, তারা শুধু নিজেরা যায় না বেঁচে থাকা মানুষগুলোকেও একপ্রকার শুষে নিয়েই যায়। এই অভিজ্ঞতাটাও আমি চোখের সামনে ঘটতে দেখেছি। এইজন্যই বইটা আত্মস্থ করেছি এত বেশি।

আবার অন্যদিকে তিলোত্তমার মতো একটি চরিত্র, যার বাবা মা কোনোদিন নিজেদের বিবাহে খুশি ছিলেন না, রাতের পর রাত, দিনের পর দিন শুধু ঝগড়া করতেন। এরকম পরিস্থিতিতে বড় হয়ে তিলোত্তমা ভেতর থেকে মরেই গিয়েছিল প্রায়। এই যে এরকম একটা চরিত্রের উপস্থাপনা, এটা তো দরকার ছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমার ভীষণ দরকার ছিল। কারণ বাবা মা সারারাত সারাদিন ঝগড়া করলে যে একটা বাচ্চার উপর দিয়ে কি যায় সেটা যাঁরা এই পরিস্থিতিতে বড় হয়েছেন শুধু তারাই বলতে পারবেন। তাও তো তিলোত্তমা ভাগ্যবতী যে সে পালিয়ে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছিল, পালিয়ে গিয়ে সে অবশেষে তার মা বাবাকে আলাদা করতে পেরেছিল। আমার মতো অনেকের তো এই সাহসটাও নেই, তাই তিলোত্তমার জন্য চোখে জল আসে, আবার মনে মনে এক অদ্ভূত গর্ব বোধ হয়। তিলোত্তমা কে যখন কর্ণ জিজ্ঞেস করে এই যে তার বাবা মা আলাদা থাকে তাতে তার কষ্ট হয় না? তিলোত্তমা সপাটে উত্তর দেয়, "নাহ, তুমি কোনোদিন বাড়িতে বাবা-মায়ের অশান্তি দেখেছ? যদি দেখতে তাহলে বুঝতে এর চেয়ে বড় নরক আর হয় না। তখন মনে হয় আইদার আমি মরি, অথবা এরা আলাদা হোক, মরুক যা খুশি হোক কিন্তু একটু শান্তি পাই....." শুধু কয়েকটা লাইন বুঝিয়ে দিয়ে গেল আমার প্রত্যেকটা কেঁদে কঁকিয়ে ওঠা ছোটবেলা, ও কিশোরবেলা। হয়তো এই জন্যই আমি বই পড়ি, বুঝতে পারি আমি একা নই।

"...তবে সংসারে নিপাট, নির্ঝঞ্ঝাট, নির্ধন ভালমানুষদের প্রতি বিধাতার যে একটা ক্ষোভ রয়েছে, তা বোঝা যায়, নইলে তিনি বেছে বেছে শুধু তাদেরই কেন দুনিয়ায় যত কষ্ট, যত অশান্তির ডালি উজাড় করে দেন? এর উত্তর মানুষের জানা নেই। মানুষ শুধু লড়তে থাকে, তার ওপরে চাপিয়ে দেওয়া সকল অভিশাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকে জীবনভর। কেউ কিছুটা জেতে, কেউ মুখ থুবড়ে পড়ে।.."

আসলে দিনের শেষে আলাদা আলাদা পরিস্থিতিতে আমরা প্রত্যেকেই এক একটি দগ্ধজাতক। কেউ কিছুটা করে জিতছি, মুখ থুবড়ে পড়ছি, আবার উঠছি, আবার লড়ছি, কিছুটা বাঁচছি, কিছুটা মরছি। এইভাবেই ক্রমাগত ঘুরে চলেছে জীবন নামক চক্র। নিপাট ভালমানুষরা প্রচুর খেটেও নিজেদের পাওনা সম্মান, টাকা কোনোটাই পাচ্ছেন না অন্যদিকে একদল লোভী খারাপ নিষ্ঠুর মানুষরা কিছু না চাইতেই সব পেয়েও যাচ্ছে। অথচ বিধাতা আছেন, সব দেখছেন, কিছু করছেন না। এইজন্যই বোধহয় বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় 'সম্ভবামি' বইতে লিখেছিলেন 'ভগবান এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ছিনাথ বহুরূপী'।

আসলে অনেক মানুষ হয়তো বই খুলে বসেন সামান্য সময়ের জন্যেও রিয়্যালিটি থেকে একটু আলাদা হওয়ার জন্য, সেই রিয়েলিটিটাই কেউ যখন বইয়ের পাতায়, লাইনে লাইনে বসিয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তখন হয় আপনি হুহু করে কাঁদবেন, বুকের ভেতর কম্পন অনুভব করবেন অথবা 'বইটা অত্যন্ত বাজে হয়েছে' বলে এড়িয়ে যাবেন বাস্তবতাকে। তাই দগ্ধজাতক নিয়ে কোনো খারাপ রিভিউ এলে বুঝে নিতে হবে দ্বিতীয়টিই ঘটছে। তার মানে এই নয় যে দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষকে বইটি ছোঁয়নি, ছুঁয়েছে আলবাত ছুঁয়েছে। কিন্তু তারা যথাসম্ভব সেটাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই উপন্যাস যুগান্তকারী মাস্টারপিস হয়তো নয়, কিন্তু এই উপন্যাস সৎ, বাস্তব, মর্মস্পর্শী, হৃদয়বিদারক উপন্যাস, সাধারণ মানুষের উপন্যাস। অসংখ্য ধন্যবাদ লেখক কে এমন একটি অসাধারণ উপন্যাস লেখার জন্য।

যে জিনিসটা বলতে একেবারেই আমি ভালবাসিনা সেটা হল প্রচুর মুদ্রণে ভুল, বানান ভুল, যতিচিহ্নে ভুল ছিল। BasakBookstore P. L আশা করি পরের মুদ্রণে এটিকে সংশোধন করার ব্যবস্থা করা হবে।

শেষে বলি, বইটির প্রচ্ছদটি অসাধারণ হয়েছে। প্রচ্ছদ শিল্পী কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল যথেষ্ট প্রশংসার দাবী রাখেন। আরো এমন অসাধারণ প্রচ্ছদের অপেক্ষায় রইলাম।

সবাইকে এই বইটি পড়ার অনুরোধ জানালাম।
1 review1 follower
September 15, 2023
"দগ্ধজাতক"

কিছু বই নিয়ে বলার আগে অনেক কিছু ভাবতে হয়। শেষ করার পরেও একটা মোহের মধ্যে থাকি কোথাও। বই পড়াটা শেষ করার পরে কোথাও না কোথাও মনে হলো, বইটা কেন পড়লাম! কি দরকার ছিল বইটা পড়ার? কিন্তু তবু বইটা পড়া শেষ করে দশ মিনিট চুপ করে বসে থেকে মুখ ধুয়ে এসে নিঃশেষিত হয়ে লিখতে বসলাম। বইটা শেষ করে শুধু একটা কথাই মনে হলো, কর্ণ নামটার মধ্যেই অনেক ভার লুকিয়ে আছে। কিন্তু মহাভারতের কর্ণ কি এরকম বন্ধুই পেয়েছিল? খানিকটা তাই হয়তো। সেখানে কর্ণ দাঁড়িয়েছিল তার বন্ধুদের জন্য, এখানে তার বন্ধুরা ছিল কর্ণের জন্য। শুধুই তার বন্ধুরা, আর ছোট মামা! আপনি বলেছিলেন আঙ্গুল টনটন করতো কীবোর্ড টাইপ করে করে, শুধু কি আঙ্গুল? নাকি মনটাই টনটন করতো বোঝা বড়ো দায়। তবে একটা কথা, এত দুঃখের মাঝে, এত কষ্টের মাঝেও ভালোবাসা যায়? ভালোবাসা ব্যাপারটাকে বোঝা যায় জীবনীশক্তি শেষ হবার পরেও? হয়তো যায়, জানি না।

চোখের জল নিয়ে বড্ডো বেশি খেলে ফেললেন আপনি। কাঁদতে কাঁদতে হাসছিলাম হয়তো কোথাও কোথাও। চারটি ঘন্টার গল্প জীবনের অনেক ঘন্টার শিক্ষা দিয়ে দিল কোথাও। আর সত্যি, কর্ণ কাঁদেনি কোনোদিন, কর্ণ কাঁদেনা কোনোদিন।

এই গল্পটার জন্য জানি না ধন্যবাদ জানাবো কিনা আপনাকে। তবু অসংখ্য ধন্যবাদ Binod Ghoshal আপনাকে, জীবনের এরকম উপলদ্ধি করানোর জন্য।
Profile Image for monsieur_eeshan das.
100 reviews2 followers
May 21, 2023

মানুষের জীবনে সব থেকে বড় এবং শেষ সত্য কি ? উত্তর টা মৃত্যুই । মানুষ পৃথিবীতে এলে একদিন তাকে সব ছেড়ে যেতেই হবে এটাই আসল রূপ জীবনের , কারোর নিস্তার নেই এর হাত থেকে। আজীবন যেই মাটিকে আকড়ে জীবনের লড়াই লড়তে হয় একদিন সেই মাটিতেই মিশতে হবে, রেখে যেতে হবে সব কিছু যা মানুষ সারা জীবন আগলে রাখে ।

বই টা নিয়ে কিছু বলার আগে ,অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ঠিক কি লিখলে নিজের মন কে , শান্তনা দিতে পারবো এটা ভেবে যে এটাই সঠিক লেখা বা এটাই সঠিক মূল্যায়ন সেটাই বুঝতে উঠতে পারছি না।

এই বই সাধারণ মানুষের কথা বলে ,এই উপন্যাস আমার আপনার সবার কাহিনী একত্রিত করে ।।

ওই যে বললাম , এই বই নিয়ে কি লিখবো সেটাই বুঝতে পড়ছি না। তাই শুরু যখন করেই ছি , বই এর গল্প বাদ রেখেই লিখি যদি কারোর মনে হয় যে ,এটা তাদের গল্প তাহলে বুঝবো হ্যাঁ সঠিক মূল্যায়ন করলাম উপন্যাসটির।

💫কিছুদিন আগেই আমার এক পছন্দের লেখক তথা খুব প্রিয় একজনের মাতৃ বিয়োগ এর খবর ফেসবুক এ পাই , হাজার সমবেদনার মাঝে আমি ভাবছি , সেই পোস্টের কমেন্ট বক্স এ কি লিখবো, কারণ আমি জানি , এই শূন্যস্থান সমবেদনা প্রকাশ করে ভরানো সম্ভব নয় , কারণ এই বাস্তব সত্যের মুখোমুখি হওয়ার ভয় আমি আমার ৩২ বছরের জীবনে অনেকবার পেয়েছি, এবং সবাই পায় কম বেশি ,কিন্তু যেহুতু এই ভয় টা এমনি যে সেই দিনের কথা মনে পড়তেই ,এটা ভাবতে বসি যে আদও আমি পারবো তো সামলাতে নিজেকে??? আদও আমি কি যোগ্য সেই ভবিষ্যতের দিনটিকে অতিক্রম করে স্বাভাবিক থাকতে ? এসব ভাবতে ভাবতেই তার সেই মাতৃ বিয়োগ পোস্ট এ নিজের অনুভূতি টুকু লিখে দিয়েছিলাম।।

💫গত ৫ বছরে ঠিক ১১ বার শশানে গিয়েছি , প্রত্যেক বার দেখেছি বাবা , কাকা, জেঠু, দাদা, দিদি সবাই ঠিক কি রকম ভাবে সেই সময় টুকুর সন্মুখীন হয় , খুব সুক্ষ ভাবে বুঝতে চেয়েছি তাদের মানসিক অবস্থাটা, ঠিক কি রকম ভাবে তারা সেই সত্য ঘটনাটা মেনে নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে পরবর্তী সময়ের জন্যে। কিংবা আমারই সম বয়সী যারা তারাই বা কি অনুভব করে সেই সময় টুকু যখন চোখের সামনে পুড়তে দেখতে হয় , নিজের কাছের মানুষ গুলোকে ।।
এ এক অবর্ণনীয় অনুভূতি , যতই ভাবী আরে এত জলের মতো সত্যি একটা বিষয়। এত আসবেই সবার জীবনে তাহলে কেন এত ভয় পাচ্ছি বা কেন বার বার নিজেকে সেই পরিস্থিতির সামনে দার করিয়ে দেখে নিতে চাইছি ,আমি আদও সেই সময়ে টিকে থাকতে পারবো কিনা ,বা পরবর্তী কালে যেই ফাঁকা শূন্যস্থান সৃষ্টি হবে সেটাই বা পূরণ করবো কিভাবে ??

💫যতই ভেবেছি এই নিয়ে, কোনো যুক্তি বা পন্থাই আমি পাই নি , সেই দিনটির সন্মুখীন হওয়ার ,কিন্তু সবাইকেই হতে হবে। এ এক অদ্ভুত কষ্টের ব্যাপার , "জীবনের পরীক্ষায় সব প্রশ্নই আনকমন হয়" এই বিষয় টিও সেরকম একটি পরীক্ষা ।।

💫 যাই হোক মূল গল্পে আসি, আগেই বলেছি এই গল্প আমাদের সবার গল্প তাই এই উপন্যাস পড়ে, ঠিক কতবার চোখে জল এসেছে ,কতবার বই বন্ধ করেছি তা হিসেব করে বলা মুশকিল।।

এক সাধারণ মধ্যবিত্তের ঘরে ভাগ্যবিধাতা যখন অসহনীয় দুঃখের বৃষ্টি বর্ষায় তখনই হয়তো জন্ম নেয় এক অকল্পনীও কাহিনীর , এই কাহিনী ঠিক সেরকমই এক সামাজিক চিত্র এঁকেছে।।

💫ভাই, বোন বাবা মা নিয়ে তৈরি ছোট্ট সংসারে অভাব থাকলেও কোনো রকমে সুখের ছিটে ফোঁটা নিয়ে সুখের এক সংসার , সময়ের যাঁতাকলে পিষে ও টিকে রয়েছে তা হয়তো ভগবানের সহ্য হলো না, মায়ের হাই সুগার ,বাবা দৃষ্টি শক্তির অবনতি , সব কিছুই এসেছে এক এক করে কিন্তু তার আগেই এই ভরা সংসারে আগুন লেগেছিল হ্যাঁ সত্যি আগুন লেগেছিল ,সে আগুনের তাপে ছিল , পোড়া মাংসের গন্ধ যা সারা জীবনের জন্যে বদলে দিল ,গল্পের কথকের জীবন ।।

মায়ের ইচ্ছে পূরণ করে ফেরার পথে যেই ছেলে মিষ্টি খায় তার দুঃখ বুঝতে গেলে ,তার গোটা জীবন টাকে জানতে হবে।। জানতে হবে কিভাবে একটি ছেলে এই যুগেও কর্ণ হয়ে ওঠে । নাম "কর্ণ" থাকলেও কি সবাই "কর্ণ" হয় ? কিন্তু এই উপন্যাসে "কর্ণ" সত্যিই "কর্ণ" হয়েছে , মহা ভারতের কর্ণের পরিণতি, এখানেও তার পেছন ছাড়ে নি।।

সব কিছু থেকে বঞ্চিত একজন মানুষ যখন শুধু বেচেঁ থাকতে হবে বলেই লড়ে যাচ্ছে জীবনের পথে সেই রকম মানুষের গল্প এটি।।

💫 এই উপন্যাস পড়ে ঠিক কি অনুভূতি হয়েছে সেটা ভাষায় লেখা খুব কঠিন আসলে।। ব্যক্তিগত প্রচুর ঘটনার ছোঁয়া রয়েছে বলেই হয়তো , সব ভাবনা সঠিক ভাবে ব্যক্ত করাও কঠিন।।
মাঝে মাঝেই চুপ করে চোখ বন্ধ করে অনেক অতীত স্মৃতি ঘেঁটে , গলার কাছে যে কষ্ঠের অনুভূতি এসে জমা হয়েছে তা গিলে ফেলতে হয়েছে সত্যি বলতে।। সত্যি মনে থেকে জানে উপন্যাসটি ,হয়তো সারাজীবনের মত।।

💫লেখক কে ধন্যবাদ, এটা লিখতে গিয়েও মনে হচ্ছে একটু বেশি সত্যি কথা ,খুব নগ্ন ভাবে লিখেছেন এতটা না লিখলেও চলত।।

💫বইটির বাঁধন , পৃষ্ঠার কোয়ালিটি আশানুরূপই বলবো , কভার টি যথেষ্ট সুন্দর ও অর্থবহ , শুধু তার ওপর ল্যামিনেশামটি বড্ডো খারাপ ।। আমার কাছে যেটি রয়েছে সেটি ভালো নয় ।। এটুকু বলতে পারি।।

**শুধু দুটো লাইন লিখে শেষ করলাম**

(শরৎ মেঘের মাসে ,সিড়ি বেয়ে আকাশে কেমন আমি যাই উঠে নীল স্বপ্নের দেশে আমার মন সারাক্ষণ)

Basak Book Store Pvt Ltd বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.