Jump to ratings and reviews
Rate this book

কুয়াশার ফুল

Rate this book
দশ বছরে ষোলোটি সদ্যোজাত শিশু উধাও। সন্দেহের তির গ্রামেরই এক মহিলার দিকে। তার পূর্বপুরুষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ডাইনির ইতিহাস। মেসিহা? নাকি শয়তান? কী যেন আছে মৌলির মধ্যে, ওকে ভীষণ চেনা লাগে সায়নের ঘর খুঁজে পাওয়া, একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে চাওয়ার মতো ভরসামাখা একটা হাত।….

কিন্তু মৌলিও কি স্বাভাবিক? ও কি কিছু গোপন করছে সায়নের থেকে? পাঁচশো বছর আগে পুড়ে মরা ডাইনির স্বীকারোক্তিতে কীসের ইঙ্গিত? কোন আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে আসছে গ্রামে? বীভৎস খুনগুলোর নেপথ্যে কি কোনও মানুষ না দানব? নাকি সমস্যার সমাধান আরো গভীরে ?….

সব প্রশ্ন হারিয়ে যায় ঘন কুয়াশায়। উত্তর হয়ে পড়ে থাকে কেবল কুয়াশার ফুল।

সায়ক আমানের কলমে হরর রোম্যান্স উপন্যাস।

210 pages, Hardcover

First published February 7, 2023

Loading...
Loading...

About the author

Sayak Aman

32 books190 followers
সায়ক আমানের জন্ম ১৯৯২ সালে। কলকাতায় কারিগরি বিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করলেও, সাহিত্যচর্চাকেই তিনি নিজের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। লেখালেখি এবং অডিও জগতে সমলয়ে বিচরণ তাঁর। বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অডিও স্টোরি সিরিজ, মিডনাইট হরর স্টেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। Midnight Horror Station Spotify podcast-এর সঞ্চালক। বর্তমানে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ছাড়াও কাজ করছেন জনপ্রিয় রেডিও- শো সানডে সাসপেন্স-এর সঙ্গে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
25 (23%)
4 stars
29 (27%)
3 stars
36 (33%)
2 stars
10 (9%)
1 star
7 (6%)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews
Profile Image for Gourab Mukherjee.
170 reviews24 followers
December 1, 2025
এই জাস্ট পড়া শেষ করলাম। এখনও গল্পটার আবেশে আটকে আছি মনে হচ্ছে। একদম কেমন অনুভূতিগুলোকে ঘেঁটে দিয়েছে এই ফ্যান্টাসি থ্রিলার টা। সায়ক আমান as usual মহাকাব্য লিখে দিয়েছেন।

গল্পে কি কি পাবেন ---
⭐ একটা গ্রামের মধ্যে চলা তদন্ত, অনেক গোয়েন্দাগিরি, রহস্য, খুন, পুলিশি কাজকর্ম আছে।
🌟 কিছু supernatural কাজ কম্ম যার ব্যাখ্যা আপনি শেষ অব্দি নিজের মত করে কিছু একটা দাঁড় করানোর চেষ্টায় লেগে থাকবেন। পাগল হয়ে যাবেন।
✨ আর পাবেন ঘেন্না করার মত কিছু "সামাজিক" চরিত্র, যাদের ছাড়া সমাজ অচল।
💖 আর পাবেন এই সব কিছুর সাথেই চলতে থাকা একটা lovestory 💕।

🍁 গল্পের অনেক ফ্যান্টাসি এলিমেন্ট আপনাকে শেষ অব্দি একদম নেশায় ডুবিয়ে দেওয়ার মত করে আলাদা জগতে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দেবে। নিজেকে খুব দৃঢ়চিত্তের ভাবলেও এই বিষয়টা আমাকে একদম কাৎ করে দিয়েছে।

🎀 সব মিলিয়ে বলব এই গল্পটা এমন একটা দুনিয়া তৈরি করেছে যেটা পড়া একটা রীতিমত experience। এর মন কেমন করা ফ্যাক্টরটা বলে বোঝানো সম্ভবই না। অবশ্যই পড়ুন, নাহলে কি করলেন জীবনে!
Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
227 reviews32 followers
July 4, 2026
পৃথিবীর 'নিষ্ঠুরতম' একটি প্রথার উপর ভিত্তি করে এই উপন্যাসের কাহিনী, সাথে ফ্যান্টাসি, রহস্য এবং প্রেম... সবকিছুই আছে । হতবাক করে দেওয়ার মতো ট্যুইস্ট ও আছে ।

মানুষের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা পড়তে পড়তে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয় । মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে এই বই ।
Profile Image for Himu.
68 reviews
July 7, 2026
শুধু "ডাইনি পোড়াও" কনসেপ্টটার জন্যই পড়তে শুরু করা। মিথ, ইতিহাস,ভৌতিক পরিবেশ, কিছুটা প্রেম আর অনেকটা রহস্য সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে।
32 reviews
June 21, 2026
কুয়াশার ফুল
সায়ক আমান
প্রকাশক: পত্রভারতী
মূল্য: ৩২৫/-

হরর, রহস্য, অলৌকিকতা এবং গভীর আবেগময় প্রেম—এই চারটি উপাদানকে একসঙ্গে মিশিয়ে যে ধরনের গল্প তৈরি হয়, “কুয়াশার ফুল” ঠিক তেমনই একটি উপন্যাস। লেখক সায়ক আমান তাঁর স্বতন্ত্র গল্প বলার ভঙ্গিতে এমন এক আবহ তৈরি করেছেন যেখানে বাস্তব আর অবাস্তবের সীমানা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়। গল্পটি শুধু একটি রহস্যময় ঘটনার অনুসন্ধান নয়, বরং মানুষের ভয়, কুসংস্কার, ইতিহাস এবং ভালোবাসার জটিল সম্পর্ককেও সামনে নিয়ে আসে।

উপন্যাসের পটভূমি একটি ছোট গ্রাম—মতিপুর। বাইরে থেকে সাধারণ গ্রাম মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর রহস্য। গত দশ বছরে এই গ্রাম থেকে অদ্ভুতভাবে উধাও হয়ে গেছে ষোলোটি সদ্যোজাত শিশু। কখনও রাতের অন্ধকারে, কখনও আবার মানুষের চোখের সামনেই বাচ্চাগুলো হারিয়ে যায়। এই রহস্যময় ঘটনাগুলো গ্রামবাসীদের মনে ভয় আর সন্দেহের জন্ম দেয়। আর সেই সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে গ্রামেরই এক রহস্যময় নারী—গঙ্গার দিকে।

গঙ্গা সম্পর্কে গ্রামের মানুষের মত এক নয়। কেউ তাকে ডাইনি বলে মনে করে, আবার অনেকেই তাকে দেবীর মতো সম্মান করে। কারণ গঙ্গা ভেষজ ওষুধের মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসা করে। যাদের পক্ষে বড় ডাক্তার দেখানো সম্ভব নয়, তারা গঙ্গার কাছে আসে। কিন্তু সমাজে এমন মানুষ সবসময়ই থাকে যারা ভিন্ন বা স্বাধীন মানুষকে সহজে মেনে নিতে পারে না। তাই গঙ্গার এই ভিন্নতা থেকেই জন্ম নেয় কুসংস্কার—আর তাকে ডাইনি বলে চিহ্নিত করা হয়।

এই সময়েই গল্পে প্রবেশ করে উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র সায়ন মজুমদার। সায়ন সদ্য আইন পাশ করা এক যুবক। পড়াশোনা শেষ করলেও তার মন কখনও সেই নিয়মবদ্ধ জীবনকে গ্রহণ করতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই সে একটু কল্পনাপ্রবণ, ভাবুক প্রকৃতির মানুষ। পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতার চেয়ে অনুভূতির জগতে থাকতে সে বেশি স্বচ্ছন্দ। কোনো এক কারণে সে মতিপুর গ্রামে আসে এবং ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে গ্রামের এই রহস্যময় ঘটনাগুলোর মধ্যে।

মতিপুরে এসে সায়নের পরিচয় হয় গঙ্গার সহকারী এক তরুণী—মৌলির সঙ্গে। প্রথম দেখাতেই মৌলিকে তার অদ্ভুতভাবে চেনা মনে হয়। যেন বহুদিন আগে কোথাও দেখা হয়েছে, কিংবা হয়তো বহু জন্মের কোনো অদৃশ্য সম্পর্ক তাদের মধ্যে আছে। মৌলির মধ্যে সায়ন যেন খুঁজে পায় এক অদ্ভুত আশ্রয়—একটা ঘর খুঁজে পাওয়ার অনুভূতি। একই সঙ্গে আবার এমন এক টান, যা তাকে অজানা কোনো গভীর অন্ধকারের দিকেও টেনে নিয়ে যায়।

কিন্তু মৌলি কি সত্যিই সাধারণ একটি মেয়ে? তার আচরণ, তার চোখের দৃষ্টি—সবকিছুতেই যেন লুকিয়ে আছে কোনো রহস্য। সে কি কিছু গোপন করছে সায়নের কাছ থেকে? আর গঙ্গার সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী?

গল্পের রহস্য এখানেই শেষ নয়। উপন্যাসে উঠে আসে পাঁচশো বছর আগের এক ডাইনির ইতিহাস—যাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে তার বলা কিছু কথা আজও যেন ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ায় মতিপুরের ইতিহাসে। সেই পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে কি কোনোভাবে জড়িয়ে আছে বর্তমানের এই অদ্ভুত ঘটনাগুলো?

এরই মধ্যে গ্রামে শুরু হয় একের পর এক বীভৎস খুন। মানুষের মনে আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে। কেউ মনে করে এটি কোনো ডাইনির কাজ, কেউ আবার বিশ্বাস করে কোনো দানবীয় শক্তি এর পেছনে রয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি কাজ করছে? নাকি মানুষের মনেই লুকিয়ে আছে সেই অন্ধকার, যা সবকিছুর কারণ?

এই উপন্যাসের অন্যতম শক্তি হলো—ডাইনি নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা। সমাজে বহু যুগ ধরে নারীদের স্বাধীনতা, জ্ঞান বা ভিন্ন চিন্তার জন্য ‘ডাইনি’ তকমা দেওয়া হয়েছে। লেখক সেই ইতিহাসের কথাও গল্পের ভেতরে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। এখানে ডাইনি কোনো রূপকথার ভয়ংকর চরিত্র নয়; বরং মানুষের ভয়, ঈর্ষা, হিংসা এবং অজ্ঞতার প্রতীক হিসেবেও উপস্থিত।

উপন্যাসের আরেকটি বড় দিক হলো এর আবহ নির্মাণ। কুয়াশায় ঢাকা গ্রাম, নির্জন পথ, রাতের অদ্ভুত শব্দ, দূরে কোথাও কারও নজর রাখার অনুভূতি—সব মিলিয়ে এক গভীর রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাঠক যখন গল্প পড়তে শুরু করেন, তখন ধীরে ধীরে সেই কুয়াশার মধ্যেই যেন প্রবেশ করেন। আর প্রতিটি অধ্যায় শেষে মনে হয়—এরপর কী ঘটবে?

এর পাশাপাশি সায়ন ও মৌলির সম্পর্ক গল্পটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তাদের সম্পর্ক শুধু প্রেমের গল্প নয়; বরং এক ধরনের মানসিক আশ্রয়, একে অপরকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। কিন্তু এই প্রেমের মধ্যেও রয়েছে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা—যেন শুরু থেকেই তার ভেতরে লুকিয়ে আছে কোনো অনিবার্য পরিণতির ইঙ্গিত।

লেখকের ভাষা অত্যন্ত সহজ, কিন্তু আবেগে ভরপুর। অনেক সংলাপ ও ভাবনা এমনভাবে লেখা যে সেগুলো পড়ে মনে দাগ কেটে যায়। বিশেষ করে ‘মা’, ‘অস্তিত্ব’ এবং ‘ভালোবাসা’ নিয়ে উপন্যাসে যে দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, তা গল্পটিকে আরও মানবিক করে তোলে।

গল্পের শেষভাগে এসে যখন সমস্ত রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে, তখন পাঠক বুঝতে পারেন—এই গল্প শুধু ভয়ের নয়, বরং গভীর মানবিক ট্র্যাজেডির গল্পও। শেষটা একদিকে যেমন চমকপ্রদ, তেমনি আবেগে ভরপুর।

সব মিলিয়ে “কুয়াশার ফুল” এমন একটি উপন্যাস যা পড়ে শেষ করার পরেও অনেকদিন মনে থেকে যায়। এটি কেবল একটি হরর বা রহস্যের গল্প নয়; বরং মানুষের মনের অন্ধকার, সমাজের কুসংস্কার, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতা এবং ভালোবাসার এক অদ্ভুত মিশ্রণ।

এই গল্প যেন সত্যিই কুয়াশার মধ্যে ফুটে থাকা এক ফুলের মতো—যার গন্ধ পুরোপুরি বোঝা যায় না, কিন্তু যার উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে মনে থেকে যায়।

যারা রহস্য, অলৌকিকতা, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা এবং আবেগময় প্রেমের গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য “কুয়াশার ফুল” নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় উপন্যাস।
Profile Image for Debolina Chakraborty.
33 reviews15 followers
Read
July 11, 2023
✨📚উপন্যাস - কুয়াশার ফুল📚✨
✨🖊লেখক - সায়ক আমান🖊✨
✨📜পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০৭📜✨
✨📗প্রকাশনা - পত্রভারতী📗✨
✨💵মুদ্রিত মূল্য - ৩২৫ টাকা💵✨

ডাইনি নামটা শুনলেই আপনার চোখের সামনে কি ভেসে ওঠে??
আমি বলছি।
কোঁকড়ানো অবিন্যস্ত চুল উড়ছে কতগুলো, জ্বলজ্বলে হলুদ চোখ, বড়ো বড়ো দাঁত, বাঁকানো টুপি, আর ড্রাকুলার মতো দাঁত। এইতো??
পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ আজও ডাইনি বলতে এটাই প্রথম ছবি আঁকে। আচ্ছা কখনো কারও কেন মনে হয়নি যে ডায়নি তো ছেলেরাও হতে পারে... কেন মনে হয়নি বলুনতো?? কারণ চিরকাল আঙুল তোলা সহজ হয়েছে নির্দিষ্ট একটা জাতির প্রতি।
ডাইনি নামটাই দেখছেন না কেমন স্ত্রীলিঙ্গ জাতীয় গোত্রের রাখা হয়েছে।
যদি ডাইনি এত ভালোই কিছু হয়। তাহলে ডাইনি কে??
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ডাইনিপ্রথার শিকার মূলত নারীরাই । ডাইনি শব্দটির ব‍্যঞ্জনা অতীতে আজকের মতো নঞর্থক ছিলোনা । ইংরেজির "Witch" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Wicca" থেকে , যার অর্থ বুদ্ধিমতী নারী । অতীতে ইওরোপিয়ান সমাজে এই উইক্কারা হেলাফেলা বা অসম্মানের পাত্র তো ছিলেন‌ই না , বরং ছিলেন যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র । এই উইক্কারা ছিলেন মডার্ন পেগানিজম বা আধুনিক মূর্তিউপাসনার প্রবক্তা । সম্ভবত এখান থেকেই পিউরিটান প্রটেস্ট‍্যান্টদের চক্ষুশূল হন উইক্কারা । তাঁদের ধর্ম অবমাননাকারী , শয়তানের উপাসক তকমা দিয়ে অপরাধী সাব‍্যস্ত করে পুড়িয়ে বা ফাঁসি দিয়ে হত‍্যা করা শুরু হয় । উইক্কানরা ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী , তাঁরা প্রকৃতিকে নিজেদের ধর্ম বলতে ভালবাসতেন । Nature religion এর একটি ধারা হিসেবে এঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন , যা ছিলো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক । এঁরা নানা ভেষজ ওষুধের গুণ জানতেন । ভিষগ হিসেবে কাজ‌ও করতেন , সাফল‍্য‌ও পেতেন । এইজন‍্যেই ম‍্যাজিক‍্যাল প্র‍্যাকটিসের ধারণাটি এঁদের নামের সাথে জুড়ে যায় যা পরে এঁদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব‍্যবহার করা হয় । এঁরা সংস্কৃতিমনা ছিলেন , নাচ গান সহ নানা গুণে গুণান্বিত ছিলেন তাঁরা । প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের নিয়মকানুন মেনে চলতে চাইতেননা এবং সমান্তরাল একটি ধর্ম অর্থাৎ natute religion প্রচলনের স্বপক্ষে ছিলেন বলেই গীর্জার রোষের মুখে পড়তে হয়েছিলো উইক্কানদের । এই বিরোধ বা বিদ্রোহের কারণেই Witch বা ডাইনি তকমা পান তাঁরা , যার জের চলে বহুকাল অবধি এবং আজ‌ও তা বিলুপ্ত হয়নি । প্রচলিত প্রথা বা অন‍্যায়ের বিরোধ করলেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে ডাইনি আখ‍্যা দিয়ে হত‍্যা করা হয়েছে অসংখ্য নারীকে ।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ডাইনি আসলে মানুষের নোংরা বিকৃত পচাগলা মনের একটা সমার্থক শব্দ। যে পচাগলা মনটা থেকে একটা দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে, আর কোনো ভালো মানুষের কাছে গেলেই যখন মন হয়.. ইসস, এর গা থেকেই মনে হয় দুর্গন্ধ টা আসছে... এক্ষুনি দূরে সরিয়ে দাও ওকে.. ঠিক তখনই আপনার অন্যায় আবদারের প্রতি ওর যে একটা ঘেন্না জন্মালো আপনার প্রতি... ঐ ঘেন্নাটার নাম ডাইনি।
আর খুন?? দিনের পর দিন যখন আপনি কাউকে নিংড়ে, ছেঁচড়ে, ছিবড়ে করে দেন। ঐ অর্ধমৃত বাহ্যিক দেহটায় তখন ধীরে ধীরে প্রতিহিংসা, জিঘাংসা, যেদ গজাতে শুরু করে। আর অদ্ভুত ব্যাপার আপনার সেটা চোখেই পড়বে না.. কেন বলুনতো??
আপনি কোনোদিন প্লাষ্টিকের গ্লাসে জল খেয়ে সেটা যখন দুমড়ে মুচড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেন... আর পেছন ঘুরে দেখেন নাকি গ্লাসটা কেমন আছে??
কিন্তু আপনার ঐ অলক্ষ্যটাই ঐ নিংড়ানো শরীরটাকে সাহস জুগিয়ে দেয় ভবিষ্যতের জন্য একটা বীজ পুঁতে দিতে।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
উপন্যাসের গল্প মতিপুর গ্রামে ঘটে চলা কিছু অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কয়েকমাস ধরে সেই গ্রামে অদ্ভুত ভাবে কিছু বাচ্চা চুরি হয়ে যাচ্ছে। রাতবিরেতে কোনও এক রহস্যময় মানুষ কিংবা অন্যকিছুর আক্রমণের শিকার হয় মানুষ, বিশেষ করে বাচ্চারা। গ্রামবাসীদের একাংশের সন্দেহ, এই কাজ গ্রামেরই একজন মহিলার, নাম গঙ্গা। সে নাকি ডাইনি। কিন্তু এলাকার অনেকের কাছেই সে ধন্বন্তরী।
অন্যদিকে কি যেন খুঁজে পায় সায়ন মৌলির চোখে। ভীষণ চেনা লাগে ওকে সায়নের। পৃথিবীর বুকে প্রথমবারের জন্য নিজের একটা ঘর খুঁজে পাওয়া, একইসঙ্গে হারিয়ে যেতে চাওয়ার মতো ভরসামাখা একটা হাত।...
কিন্তু মৌলিও কি স্বাভাবিক?? ও কি গোপন করছে সায়নের কাছে??
গ্রামের এই অপরাধগুলো ঘটাচ্ছে কে?? সত্যিই কোনো দানবীয় শক্তি নাকি মানুষ??
সব কেমন যেন হারিয়ে যায় ঘন কুয়াশায়। উত্তর হয়ে পড়ে থাকে কেবল কুয়াশার ফুল।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
এই বই অনেকদিন পর্যন্ত মনে থেকে যাবে। সায়ক আমানের লেখা পড়লে মনে হয়, আমি ঠিক যেমন করে ভাবি, উনি কীভাবে জানতে পেরে যান সেটা?? অবাক লাগে। অনুভূতির এত মনকেমন করা লিখিত প্রকাশ বড্ড কঠিন হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে মেনে নেওয়া।
বইয়ের একটা অংশ আজীবন মনে থাকবে।

"আচ্ছা বলো কি কারণে মন খারাপ করে তোমার?
- মায়ের জন্য।...
- মা নেই বলে??

- না মা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারলো বলে। ছোট থেকে এত বড়ো হয়েছি, কখনো কারও মা কাউকে ছেড়ে চলে গেছে বলে শুনিনি।
- কই।?? আমি তো দেখতে পাচ্ছি তোমার মাকে। মায়ের রক্ত বইছে তোমার শরীরে।
- মা ভালো হোক বা খারাপ, বাড়িতে থাক বা ছেড়ে চলে যাক। তোমার শরীরে যতক্ষণ রক্ত আছে, ততক্ষণ তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা তোমাকে দিয়ে গেছেন তিনি।

- কি জিনিস?
- তার অস্তিত্ব। "
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ধন্যবাদ ❤

Profile Image for   Shrabani Paul.
397 reviews28 followers
June 4, 2023
🎋💌বইয়ের নাম - কুয়াশার ফুল💌🎋
✍🏻লেখক - সায়ক আমান
🖨️প্রকাশক -‌ পত্রভারতী
📔প্রচ্ছদ - সুবিনয় দাস
📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০৭
💰মূল্য - ৩২৫₹

📑🕊️সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক সায়ক আমান
এর লেখা “কুয়াশার ফুল”! লেখকের লেখা ভাসানবাড়ি,তার চোখের তারায়, জোনাকির রং- এই বই গুলো আগেই পড়েছি। এই বই টি পড়তে আমার দারুন লেগেছে। অনেক দিন পর আবারো রোমাঞ্চ অনুভব করলাম এই উপন্যাস পড়ে।এই বইয়ের Page Quality বইয়ের বাধাই বেশ ভালো, আর প্রচ্ছদটি তো অপূর্ব। ভাসানবাড়ি এখনো আমার কাছে ভীষন পছন্দের। লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য। এই ভাবেই লিখতে থাকুন, পরবর্তী বই এর অপেক্ষায় রইলাম।
📑এই বার আসি উপন্যাসের কথায় -
সায়ন মজুমদার এই উপন্যাস এ মুখ্য চরিত্র।
বছরদুয়েক হল সায়ন আইন পাশ করে বেরিয়েছে। বিস্তর পড়াশুনার খুব একটা ইচ্ছা নেই। ছোট থেকেই ও একটু কল্পনাপ্রবণ। ভাবের জগতে থাকতে ভালোবাসে। একসময় একটা গানের দলে যোগ দিয়েছিল।শেষে বাপের ধাতানি খেয়ে ল'টা পাশ করে। তবে পাশ করলেও কালো কোর্ট আর সাদা স্ট্যাম্প পেপারের ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট জীবন যে তার জন্য নয়, সেটা বুঝতে সময় লাগেনি সায়ন মজুমদারের।
একদিন সকালে দিলীপ দস্তিদার সায়ন এর কাছে আসে - বেশ কিছু দিন হল আমাদের গ্রামে একটা সমস্যা উপস্থিত হয়েছে। ‘সমস্যাটা কী?’
প্রায় প্রতিবছরই, বুঝলে? দু-একখানা করে সদ্যোজাত বাচ্চা আমাদের গ্রাম থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। ইদানীং আমাদের আশপাশের গ্রাম থেকেও কয়েকটা খবর এসেছে আমার কানে।'
‘সদ্যোজাত বলতে?'
‘মানে, এই ধরো এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে। এ অবধি আমরা যা দেখেছি, তাতে গত দশ বছরে অন্তত ষোলটা বাচ্চা এইভাবে গায়েব হয়েছে...
“আমার যদ্দুর মনে হয়, গঙ্গা...যাকে বলে...একটা ডাইনি....'
উপন্যাসের নায়ক সায়ন মজুমদার গ্রামের কুসংস্কারের সাথে জড়িয়ে যায়। গ্রামের সবাই গঙ্গাকে ডাইনি বলে মনে করলেও শুধুমাত্র পুরোহিত মাধব ভট্টাচার্য গঙ্গাকে ডাইনি বলে মানেন না, এর পিছনে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? গঙ্গা কি সত্যিই ডাইনি? নাকি আরও কোনও ভয়ানক সত্য চাপা পড়ে আছে এই রটনার আড়ালে? গঙ্গার সহকারী মেয়েটি কি সত্যিই স্বাভাবিক? কোথা থেকে এসেছে সে? সায়ন কি পাবে শেষ অবধি সব প্রশ্নের উত্তর ? এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে। উপন্যাস টি পড়ে আমার অসাধারণ লেগেছে!

📑💐উপন্যাসের কিছু লাইন -

🌠বিষণ্ণতার প্রথম ধাপ কী জানেন?
“কী? ’
‘মুগ্ধতা...’
🌠সবার জীবনেই একটা লক্ষ্য থাকা উচিত,
সঠিক লক্ষ্যই এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের স্বাদ।
🌠"ঘন কুয়াশায় হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে যাব আমরা। খুঁজে পাব কেবল গন্ধহীন, বিবর্ণ এক কুয়াশার ফুল..."



#কুয়াশার_ফুল #উপন্যাস
#লেখক #সায়ক_আমান
#প্রকাশক #পত্রভারতী



🙋👩‍🦰 Follow My Instgram Page👇
https://instagram.com/bookreader_shra...
Profile Image for Read with Banashree .
56 reviews9 followers
September 24, 2025
উপন্যাসটির সূচনা হয় একটি ছোট গ্রাম মতিপুর কে কেন্দ্র করে।
বিগত কিছু বছর ধরে মতিপুরে সদ্যোজাত কিছু সন্তান চুরি হয়ে যাচ্ছে , সেই বাচ্চাগুলির বাবা-মা এক অদ্ভুত দর্শনের নারী মূর্তিকে দেখছে বাচ্চাগুলিকে চুরি করার সময় এই অদ্ভুত দর্শনে নারী কে ডাইনি বলে চিহ্নিত করেছে মতিপুরের বাসিন্দারা।
সেই গ্রামেরই এক রহস্যময় মহিলা গঙ্গা। গঙ্গা কে রহস্যময় বলার কারণ তাকে গ্রামে খুব অল্প মানুষ তার দেখা পেয়েছে মানুষজনের সঙ্গে বরাবরই দূরত্ব বজায় রেখেছে সে। এই গঙ্গার বাড়ির সামনে প্রতিদিন নিম্ন মধ্যবিত্ত কিছু মানুষের ভিড় জমে চিকিৎসার জন্য , একদল খেটে খাওয়া মানুষ ভগবান মনে করে অন্যদিকে একদল মানুষ তাকে ডাইনি মনে করে। এবং সব থেকে হাস্যকর ব্যাপার গঙ্গাকে ডাইনি বলে মনে করার পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই তাদের শুধু কারণ বলতে তার ডাক্তারি ডিগ্রী না থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে রোগ নিরাময় করা।
হঠাৎ করে একদিন মতিপুরের এক রাজনৈতিক নেতার সাথে সায়ন এসে উপস্থিত হয় গ্রামে। আরো ভালো করে বলতে গেলে এই ডাইনি সম্পর্কে আরো জানার জন্য সে আসে। এবং আসার পর থেকে প্রতিরাতে সে অনুভব করে তাকে কেউ দূর থেকে দেখছে। এরই মধ্যে একদিন গঙ্গার মেয়ে মৌলির সাথে দেখা হয় তার এবং তারা এক অদ্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং মতিপুরে এরপরে এক বীভৎস হত্যা লীলা শুরু হয় তার সাথে আরো বিভিন্ন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে।
গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সন্দেহের বসে গঙ্গাকে ও তার মেয়ে মৌলিকে হত্যা করতে উদ্ধত হয়
, তারা কি শেষ পর্যন্ত গঙ্গা বা মৌলিকের হত্যা করতে পারবে?? গঙ্গা যদি ডাইনি না হয় তবে বাচ্চা চুরি গুলো কারা করছে?? বা এই নৃশংস খুন গুলোই বা কারা করছে সেটা জানতে হলে উপন্যাসটি পড়তে হবে।
এই গেল উপন্যাসের কথা এবার আসা যাক উপন্যাসটি পড়ে আমার কেমন লাগলো,
এর ডাইনি শব্দটি সূচনা হয়েছিল পুরুষদের শারীরিক ও বৌদ্ধিক অক্ষমতা ও হিংসা থেকে। নারীদের শারীরিক চাহিদার রূপকে পুরুষেরা ভয়াবহক ভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করেন এবং যে নারীর শারীরিক চাহিদা যত বেশি তাকে ডাইনি বলে অভিহিত করা হয়
অন্যদিকে অনেক নারীরা পুঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে তারা জানতেন তারাও শিখেছিলেন তাদের মার দিদিমার কাছ থেকে সেই সময় এটা প্রচলন করা হলো যে যারা ডাইনি তারা অতি চমৎকার কিছু জিনিসও জানে যেগুলিকে ম্যাজিক বলে চালানো হতো।
এমন অনেক ঘটনার বিবরণ আছে বইটিতে সত্যি কথা বলতে আমার বইটি পড়তে ভালো লেগেছে অনেকগুলো জায়গা গা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতন, তার সাথে লেখকের লেখনি উপন্যাসটিকে এক অন্য মাত্র দিয়েছে।
Profile Image for Susmita.
27 reviews
August 24, 2025
কুয়াশার ফুল পড়তে পড়তে আমি দূর দুরান্তে ভেসে বেড়িয়েছি— মৌলি আর সায়নের সাথে। দুই সময়কে এক সুতোর বাঁধনে বেঁধে লেখক আমাদের নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দূর কোনো এক অজানা গন্তব্যে। তার সাথে এসে মিশেছে পুরোনো শাপ, মায়ের ভালোবাসা আর সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া সেই সব মানুষ— যাদের সমাজ ডাইনি বলে দাগিয়ে চিরতরে সরিয়ে দিতো শুধুমাত্র স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাওয়ার অপরাধে! অবশ্য ডাইনি অপবাদে আজও কত মানুষ মরছে তার ইয়ত্তা নেই। গল্পের শুরু থেকে সায়ন, মৌলির সাথে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার শেষটা একটু হলেও কষ্ট দিয়েছে। গঙ্গার চরিত্র আমার খুব পছন্দের, গল্পের মধ্যে তার ফিজিক্যাল প্রেজেন্স কম হলেও, তার চরিত্রের আর্ক মনে দাগ কেটেছে।
আমি কাকতাড়ুয়াতেও লক্ষ্য করেছি, এখানেও দেখলাম, সায়ক আমান গল্পের সূতো ছড়িয়ে রেখেও শেষে নিপুণ কায়দায় গুটিয়ে নিতে পারেন। তাঁর কলমের মুন্সিয়ানাকে কুর্নিশ।
2 reviews
June 11, 2026
আমি সায়ক আমানের লেখা এবং গল্প ফলো করি প্রায় বিগত ৮ বছর হলো। MhS এবং সেই রেডিও মিরচির সময় থেকে। অতি উৎসাহী হয়ে এই প্রথম কোনো বই আমি পড়তে আসলাম, এবং হতাশ হলাম যথেষ্ট। এরকম লেখাগুলোর এই বাজারে বাড়বাড়ন্ত দেখে বোঝা যায় যে আমাদের সাহিত্যের মান কতটা নীচে নেমেছে এবং আমরা ভালো লেখা সম্পর্কে একদমই ওয়াকিবহাল নই আর। তবে হয়তো জেন জি দের এরম লেখা পছন্দ, কিন্তু একটু পুরোনো যারা তাদের একদমই এই বই ক্যাটার করে না। যারপরনাই হতাশ হলাম। হয়তো অডিও স্টোরি হিসেবেই এগুলো শুনতে ভালো লাগে, যখন ট্রেনে বাসে বা অফিসের ফাঁকে এগুলো শুনবেন। আলাদা করে সময় দিয়ে আপনি পড়লে সময় নষ্ট মনে হবে।


4 reviews
May 30, 2026
Sayak aman এর লেখা বরাবরই মুগ্ধ করে। প্রেম, রহস্য আর ভয় এর অদ্ভুত মেলবন্ধন এর পাশাপাশি বহু নতুন তথ্যও গল্পের ছলে জানা হয়ে যায়।
এই গল্পটি ও তার ব্যতিক্রম নয়, তবে যারা পড়বেন ভাবছেন তাদের উদ্দেশে একটাই কথা বলব, অনেক গুলো সময়ের অনেক কটি plotline গল্পে একসঙ্গে চলবে। সাথে মেশানো বহু চরিত্র আর ঘটনার জটলা সুতো । তাই হাতে সময় নিয়ে, ছোটো ছোটো নোট মনে বানিয়ে পড়তে থাকুন, নইলে ঘেঁটে ঘ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ।।
Profile Image for Ritu Porna.
16 reviews
April 16, 2026
সায়ক আমানের লেখনি খুবই ভালো, কিন্তু সমস্তা হচ্ছে উপন্যাসগুলো কোথায় যেন একটা গিয়ে ঘেঁটে যায়... শেষ পর্যন্ত প্রচন্ড কনফিউজ হয়ে যাই। ওনার লেখা বুঝতে গেলে পাঠকের প্রবল কল্পনা শক্তির প্রয়োজন যা আমার মত মানুষদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে নেই। অগত্যা...
Profile Image for SUNANDA SAMANTA.
12 reviews
January 16, 2024
মন্দ না।

গল্পের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ না করে শুধু পড়ুন, ভালো লাগবে। দ্বিতীয়বার পড়তে হবে এমন কোনো ব্যাপার নেই।
Profile Image for Swagata Banerjee.
17 reviews1 follower
November 6, 2025
এই বই পড়ার অর্থ অযথা সময় নষ্ট ও অর্থের অপচয়। কাউকে পড়তে recommend করছি না।
Profile Image for Progoti Paul.
87 reviews6 followers
December 3, 2023
'Thoughts are different from everyone'.
~ L (Death note).


দশ বছরে ষোলোটি সদ্যোজাত শিশু উধাও। সন্দেহের তীর গ্রামেরই এক মহিলার দিকে। তার পূর্বপুরুষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ডাইনির ইতিহাস। মেসিহা? নাকি শয়তান? কী যেন আছে মৌলির মধ্যে, ওকে ভীষণ চেনা লাগে সায়নের ঘর খুঁজে পাওয়া, একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে চাওয়ার মতো ভরসামাখা একটা হাত।….

কিন্তু মৌলিও কি স্বাভাবিক? ও কি কিছু গোপন করছে সায়নের থেকে? পাঁচশো বছর আগে পুড়ে মরা ডাইনির স্বীকারোক্তিতে কীসের ইঙ্গিত? কোন আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে আসছে গ্রামে? বীভৎস খুনগুলোর নেপথ্যে কি কোনও মানুষ না দানব? নাকি সমস্যার সমাধান আরো গভীরে ?….

সব প্রশ্ন হারিয়ে যায় ঘন কুয়াশায়। উত্তর হয়ে পড়ে থাকে কেবল কুয়াশার ফুল।



লেখক সায়ক আমানের বইয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো উনার রচনাগুলির জনরা ফিকশনাল হলেও এতে প্রচুর তথ্য থাকে। সেটা হোক 'আরিন ও আদিম দেবতার উত্থান', হোক 'তার চোখের তারায়' কিংবা 'কুয়াশার ফুল'! থ্রিলার, হরর আর ভালোবাসার সমন্বয়ে রচিত এই বইটিতে 'উইচ হিস্টরি, উইচক্রাফট ' নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে এবং মজার ব্যাপার হলো এই বিষয়গুলি নিয়ে এতো এতো তথ্য পড়তে একটুও বিরক্ত লাগবে না কারণ গল্পের কাহিনী তার নিজস্ব ধারায় চলতে থাকবে আর ফাঁকে ফাঁকে ইতিহাস ও জানা হয়ে যাবে; বইয়ের রহস্যের সমাধানের পাশাপাশি কিছু জ্ঞানও অর্জনের খাতায় সংযুক্ত হয়ে যাবে। এবার আসি গল্পে... প্লটটা সুন্দর এবং ইউনিক কিন্তু তারপরেও পুরো বইটা এভারেজ মনে হয়েছে কারণ কিছু কিছু জায়গায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভায়োলেন্স ছিলো। মৌলি আর সায়নের প্রেমের কিছু অংশে 'ন্যাকামি' ফুঁটে ওঠেছিল, সবচেয়ে অবাক লেগেছিলো নামের সম্বোধনে হঠাৎ করেই 'আপনি' থেকে 'তুই'তে চলে আসা। এছাড়া প্লট টুইস্টগুলি ও অসাধারণ ছিলো। কিছু সময়ের জন্য এডভেঞ্চারের স্বাদ গ্রহণ করতে বইটির মধ্যে হারিয়ে যেতে পারেন...


কেন্দ্রীয় চরিত্র সায়ন ও তার মা হলেও মৌলি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আরো একটা মুখ্য চরিত্র রয়েছে...



বইয়ের কিছু পছন্দনীয় উক্তি:

🌸" এই পৃথিবীর কোন মা রহস্যময় নয় বলুন তো? পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী যে নিজের থেকে অন্য একজনকে বেশি ভালোবাসে। নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তার সন্তানকে বাঁচায়। বলুন এটা রহস্য নয়?"

🌸 "আমার কি মনে হয় জানেন? মা ব্যাপারটা না, অনেকটা সূর্যের মতো। আপনাকে সৃষ্টি করে, সারাদিন আলো দেয়। কিন্তু সারা জীবন তাকে দেখতে পাবেন না আপনি। চাইলেও তার কাছ থেকে সাহায্য পাবেন না। শক্তি আপনাকে নিজের ভেতর থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু সব সময় জানবেন আপনার ভেতরে যে শক্তি সেটাও তারই দেওয়া।"




বই: কুয়াশার ফুল
লেখক: সায়ক আমান
জনরা: হরর, ডার্ক থ্রিলার
প্রকাশনী: পত্রভারতী
পৃষ্ঠা: 210
মূল্য: 325 টাকা (ভারতীয়)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews