✨📚উপন্যাস - কুয়াশার ফুল📚✨
✨🖊লেখক - সায়ক আমান🖊✨
✨📜পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০৭📜✨
✨📗প্রকাশনা - পত্রভারতী📗✨
✨💵মুদ্রিত মূল্য - ৩২৫ টাকা💵✨
ডাইনি নামটা শুনলেই আপনার চোখের সামনে কি ভেসে ওঠে??
আমি বলছি।
কোঁকড়ানো অবিন্যস্ত চুল উড়ছে কতগুলো, জ্বলজ্বলে হলুদ চোখ, বড়ো বড়ো দাঁত, বাঁকানো টুপি, আর ড্রাকুলার মতো দাঁত। এইতো??
পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ আজও ডাইনি বলতে এটাই প্রথম ছবি আঁকে। আচ্ছা কখনো কারও কেন মনে হয়নি যে ডায়নি তো ছেলেরাও হতে পারে... কেন মনে হয়নি বলুনতো?? কারণ চিরকাল আঙুল তোলা সহজ হয়েছে নির্দিষ্ট একটা জাতির প্রতি।
ডাইনি নামটাই দেখছেন না কেমন স্ত্রীলিঙ্গ জাতীয় গোত্রের রাখা হয়েছে।
যদি ডাইনি এত ভালোই কিছু হয়। তাহলে ডাইনি কে??
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ডাইনিপ্রথার শিকার মূলত নারীরাই । ডাইনি শব্দটির ব্যঞ্জনা অতীতে আজকের মতো নঞর্থক ছিলোনা । ইংরেজির "Witch" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Wicca" থেকে , যার অর্থ বুদ্ধিমতী নারী । অতীতে ইওরোপিয়ান সমাজে এই উইক্কারা হেলাফেলা বা অসম্মানের পাত্র তো ছিলেনই না , বরং ছিলেন যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র । এই উইক্কারা ছিলেন মডার্ন পেগানিজম বা আধুনিক মূর্তিউপাসনার প্রবক্তা । সম্ভবত এখান থেকেই পিউরিটান প্রটেস্ট্যান্টদের চক্ষুশূল হন উইক্কারা । তাঁদের ধর্ম অবমাননাকারী , শয়তানের উপাসক তকমা দিয়ে অপরাধী সাব্যস্ত করে পুড়িয়ে বা ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা শুরু হয় । উইক্কানরা ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী , তাঁরা প্রকৃতিকে নিজেদের ধর্ম বলতে ভালবাসতেন । Nature religion এর একটি ধারা হিসেবে এঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন , যা ছিলো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক । এঁরা নানা ভেষজ ওষুধের গুণ জানতেন । ভিষগ হিসেবে কাজও করতেন , সাফল্যও পেতেন । এইজন্যেই ম্যাজিক্যাল প্র্যাকটিসের ধারণাটি এঁদের নামের সাথে জুড়ে যায় যা পরে এঁদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় । এঁরা সংস্কৃতিমনা ছিলেন , নাচ গান সহ নানা গুণে গুণান্বিত ছিলেন তাঁরা । প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের নিয়মকানুন মেনে চলতে চাইতেননা এবং সমান্তরাল একটি ধর্ম অর্থাৎ natute religion প্রচলনের স্বপক্ষে ছিলেন বলেই গীর্জার রোষের মুখে পড়তে হয়েছিলো উইক্কানদের । এই বিরোধ বা বিদ্রোহের কারণেই Witch বা ডাইনি তকমা পান তাঁরা , যার জের চলে বহুকাল অবধি এবং আজও তা বিলুপ্ত হয়নি । প্রচলিত প্রথা বা অন্যায়ের বিরোধ করলেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে ডাইনি আখ্যা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে অসংখ্য নারীকে ।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ডাইনি আসলে মানুষের নোংরা বিকৃত পচাগলা মনের একটা সমার্থক শব্দ। যে পচাগলা মনটা থেকে একটা দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে, আর কোনো ভালো মানুষের কাছে গেলেই যখন মন হয়.. ইসস, এর গা থেকেই মনে হয় দুর্গন্ধ টা আসছে... এক্ষুনি দূরে সরিয়ে দাও ওকে.. ঠিক তখনই আপনার অন্যায় আবদারের প্রতি ওর যে একটা ঘেন্না জন্মালো আপনার প্রতি... ঐ ঘেন্নাটার নাম ডাইনি।
আর খুন?? দিনের পর দিন যখন আপনি কাউকে নিংড়ে, ছেঁচড়ে, ছিবড়ে করে দেন। ঐ অর্ধমৃত বাহ্যিক দেহটায় তখন ধীরে ধীরে প্রতিহিংসা, জিঘাংসা, যেদ গজাতে শুরু করে। আর অদ্ভুত ব্যাপার আপনার সেটা চোখেই পড়বে না.. কেন বলুনতো??
আপনি কোনোদিন প্লাষ্টিকের গ্লাসে জল খেয়ে সেটা যখন দুমড়ে মুচড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেন... আর পেছন ঘুরে দেখেন নাকি গ্লাসটা কেমন আছে??
কিন্তু আপনার ঐ অলক্ষ্যটাই ঐ নিংড়ানো শরীরটাকে সাহস জুগিয়ে দেয় ভবিষ্যতের জন্য একটা বীজ পুঁতে দিতে।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
উপন্যাসের গল্প মতিপুর গ্রামে ঘটে চলা কিছু অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কয়েকমাস ধরে সেই গ্রামে অদ্ভুত ভাবে কিছু বাচ্চা চুরি হয়ে যাচ্ছে। রাতবিরেতে কোনও এক রহস্যময় মানুষ কিংবা অন্যকিছুর আক্রমণের শিকার হয় মানুষ, বিশেষ করে বাচ্চারা। গ্রামবাসীদের একাংশের সন্দেহ, এই কাজ গ্রামেরই একজন মহিলার, নাম গঙ্গা। সে নাকি ডাইনি। কিন্তু এলাকার অনেকের কাছেই সে ধন্বন্তরী।
অন্যদিকে কি যেন খুঁজে পায় সায়ন মৌলির চোখে। ভীষণ চেনা লাগে ওকে সায়নের। পৃথিবীর বুকে প্রথমবারের জন্য নিজের একটা ঘর খুঁজে পাওয়া, একইসঙ্গে হারিয়ে যেতে চাওয়ার মতো ভরসামাখা একটা হাত।...
কিন্তু মৌলিও কি স্বাভাবিক?? ও কি গোপন করছে সায়নের কাছে??
গ্রামের এই অপরাধগুলো ঘটাচ্ছে কে?? সত্যিই কোনো দানবীয় শক্তি নাকি মানুষ??
সব কেমন যেন হারিয়ে যায় ঘন কুয়াশায়। উত্তর হয়ে পড়ে থাকে কেবল কুয়াশার ফুল।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
এই বই অনেকদিন পর্যন্ত মনে থেকে যাবে। সায়ক আমানের লেখা পড়লে মনে হয়, আমি ঠিক যেমন করে ভাবি, উনি কীভাবে জানতে পেরে যান সেটা?? অবাক লাগে। অনুভূতির এত মনকেমন করা লিখিত প্রকাশ বড্ড কঠিন হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে মেনে নেওয়া।
বইয়ের একটা অংশ আজীবন মনে থাকবে।
"আচ্ছা বলো কি কারণে মন খারাপ করে তোমার?
- মায়ের জন্য।...
- মা নেই বলে??
- না মা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারলো বলে। ছোট থেকে এত বড়ো হয়েছি, কখনো কারও মা কাউকে ছেড়ে চলে গেছে বলে শুনিনি।
- কই।?? আমি তো দেখতে পাচ্ছি তোমার মাকে। মায়ের রক্ত বইছে তোমার শরীরে।
- মা ভালো হোক বা খারাপ, বাড়িতে থাক বা ছেড়ে চলে যাক। তোমার শরীরে যতক্ষণ রক্ত আছে, ততক্ষণ তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা তোমাকে দিয়ে গেছেন তিনি।
- কি জিনিস?
- তার অস্তিত্ব। "
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ধন্যবাদ ❤