পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় বস্তু হলো মন; বা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, মানুষের অবচেতন মন। ডুবুরির মতো মানুষের সেই মনের অতল সমুদ্রে ডুব দিয়ে রহস্য সন্ধান করে মনোবিদ ডা. অর্ক। চারপাশের আর পাঁচজন মানুষের মতোই সেও একজন সাধারণ মানুষ, যে ভুল করে, মাঝেমাঝে ব্যর্থ হয় এবং মানবিক আঘাতে ভেঙেও পড়ে কখনো কখনো। কিন্তু পরিস্থিতি যত জটিলই হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই হাল ছাড়তে শেখেনি ডা. অর্ক। তার বুদ্ধিমত্তা, তার যুক্তিবাদী মন, তার অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, তার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, তার দূরদৃষ্টি তাকে আলাদা করে তোলে আর পাঁচজন সাধারন মানুষের থেকে। প্রকৃতির রহস্যময়তার কাছে কখনও হার স্বীকার করতে শেখেনি সে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার জীবনে হানা দেয় অলৌকিকতা এবং রহস্যময়তার ঘেরাটোপ। জটিল সমস্যার দুর্ভেদ্য জাল অর্কর জীবনের চলার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় কখনো কখনো। এই প্রথম একইসঙ্গে তিন-তিনটি অদ্ভুত কেসের মুখোমুখি সে। এই ত্রিসংকটের সমাধান করতে গিয়ে অর্কর সামনে দেখা দেয় নিশ্চিত মৃত্যু, যাকে এড়িয়ে যাওয়া এক কথায় অসম্ভব। অর্ক কি পারবে সেই বিপদজাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসতে? নাকি গভীর ষড়যন্ত্র বা অলৌকিকতার চোরাবালিতে অতল সমাধি ঘটবে তার?
লাগোসে কর্মরত মনোবিদ অর্ক সেনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল কিছুটা হঠাৎ করেই। মিশির আলি'র ভক্ত হিসেবে মনস্তত্ত্ব-আধারিত বাস্তব আর পরাবাস্তবের সীমারেখায় দাঁড়ানো গল্প নিয়ে আমার আগ্রহ অনেকদিনের। এই ধরনের লেখা বাংলায় যে কতটা দুর্লভ— তাই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই আক্ষেপ দেখি। সেখানেই খোঁজ পেয়েছিলাম ভদ্রলোকের। তাঁকে কেন্দ্রে রেখে, বা সঠিকভাবে বললে তাঁর কিছু অভিজ্ঞতাকে নিয়ে লেখা সেই গল্পগুলো পড়ে ফেলেছিলাম তার পরেই। এবার আমরা পেলাম তাঁকে নিয়ে লেখা একটি আস্ত উপন্যাস— যেখানে তিনটি জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। প্রথম সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে কর্মসূত্রে নাইজেরিয়ায় আসা এক বাঙালির একমাত্র সন্তান চিত্তরূপা। কে যেন তাকে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা বলে। আরও কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে তার চারপাশে। অথচ বেচারি বড্ড কষ্ট পায় এর ফলে। এই 'রোগ' থেকে মুক্তির আশায় অর্কের শরণাপন্ন হলেন তার বাবা। দ্বিতীয় সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছেন এক প্রবাসী ভারতীয়। পুত্রের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে তাঁর। এবার এক মারাত্মক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাঁর আট বছরের স্মৃতি। অর্ক কি পারবেন সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে? তৃতীয় সমস্যাটি দেখা দিল ভারতেরই এক বিখ্যাত মিউজিয়ামে। সেখানে নাকি মূর্তিরা রাতে জীবন্ত হয়ে ওঠে। তার ফলে ঘটেছে ভয়ানক কিছু বিপর্যয়। অর্ককে আমন্ত্রণ জানানো হল এই রহস্যের সমাধান করার জন্য। এই তিনটি সমস্যা আপাতভাবে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু কাহিনি যত এগোয় ততই আমরা বুঝি, মন নামক এই রহস্যময় প্রান্তরে অদৃশ্য কিছু সূত্রে বাঁধা পড়ে চেতন আর অবচেতন। প্রশ্ন ওঠে, সেই সূত্রগুলো কি খুঁজে পাবেন অর্ক সেন? চমৎকার লেখা। শুধু টানটান প্লট নয়; বাস্তবানুগ চরিত্রচিত্রণ, সংযত ন্যারেটিভ এবং পরিমিত সংলাপের মিশ্রণ দিয়েও লেখক আমাদের বাধ্য করেন কাহিনির শেষ অবধি ছুটে যেতে। বইটির মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রচ্ছদ, অলংকরণ এবং বর্ণ-সংস্থাপন বেশ ভালো। রহস্য— বিশেষত মনস্তত্ত্ব ও পরাবাস্তব নিয়ে লেখালেখি যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের অতি অবশ্যই পরামর্শ দেব এই বইটি পড়ার।
“জীবনে মাঝেমাঝে অন্ধকারের ভীষণ প্রয়োজন তুহিন, নাহলে নতুন আলোর উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না। আপাতদৃষ্টিতে যাকে অন্ধকার বলে মনে হয়, সেই অন্ধকারই দেয় এই নতুন আলোর খোঁজ। আমরা সবসময়েই নিঃশ্বাস নিচ্ছি, কিন্তু অক্সিজেনের মাহাত্ম্য তখনই বুঝতে পারি, যখন আমরা জলের মধ্যে ডুবে যাই। একটুখানি অক্সিজেনের জন্যে তখন আমরা হাঁকপাঁক করি। তাই জীবনে অন্ধকার প্রয়োজন, না হলে আলোর প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারতাম না।”
📌বই :- ত্রিসংকটে অর্ক (অর্ক সমগ্র ২) 📌লেখক:- পল্লব হালদার 📌মুদ্রিত মূল :- ২৮৯ 📌প্রকাশনী :- ধী
সদ্য পড়ে শেষ করলাম আমার অত্যান্ত প্রিয় একজন লেখক পল্লব হালদার মহাশয়ের লেখা অর্ক সিরিজের দ্বিতীয় বই "ত্রিসংকটে অর্ক, অর্ক সমগ্র ২"
"ভয় " নামের একটা ছোট গল্প দিয়ে অর্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর সেই প্রথম প্রকাশেই ড. অর্ক সেন মন জয় করে নিয়েছিল পাঠকদের। " অর্ক সমগ্র ১" পড়ার পরে চাতক পাখির মতো চেয়ে ছিলাম কবে আবার অর্কের নতুন বই আসবে। অবশেষে লেখক মহাশয় নিয়ে এলেন অর্কের নতুন একটি বৃহৎ রহস্য উপন্যাস।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরে হাতে এলো যেদিন,,, অপেক্ষা করতে আর মন চায়নি। হলোও তাই, আর যখন শুরু করলাম আর উঠতে পারিনি। এক সিটিং এ শেষ এই টান টান উপন্যাসটি। ভীষণ ভীষণ ভালো লেগেছে।
কাহিনীর প্রধান চরিত্রে আছে ড. অর্ক সেন। লেগোসের একটি নামকরা হসপিটালের কনসালট্যান্ট সাইক্রিয়াটিস্ট। নিজে রহস্যের সাথে লড়াই করে সমাধান করার চেষ্টা করলেও যার নিজের জীবনই ভীষণ রহস্যময়। অর্কের বেশির ভাগ কেসের সাথেই থাকে তুহিন, যার কলম থেকেই আমরা অর্কর কেস গুলো সম্পর্কে জানতে পারি।
আগের বইটি ছিলো ছোট - বড়ো গল্প সংকলন। আর এটি একটি বৃহৎ উপন্যাস। আরও একটা আলাদা দিক হলো আগের গল্পগুলো মূলত তুহিন আমাদের কে নিজের মুখ দিয়ে শুনিয়েছেন তাই গল্পগুলো ও উত্তম পুরুষে লেখা হয়েছিল । কিন্তু এবারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্কের সাথে থাকতে পারেনি তুহিন, তাই বেশির ভাগই অর্কের থেকে শুনে লেখা হয়েছে। গল্প বলার স্টাইল ও তাই বদলে হয়ে গেছে প্রথম পুরুষ।
তবে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন আগের খন্ডের সাথে এই খন্ডের কোনো যোগাযোগ নেই। আপনি চাইলে এই বইটি দিয়েও শুরু করতে পারেন।
বইয়ের নামকরণ কেনো ত্রিসংকটে হলো সেটা বইটি পড়ার সময়েই ভালো ভাবে বোঝা যাবে। আগে অর্ক কে দেখা গেছে মূলত একটি কেস নিয়েই সমাধান করতে। কিন্তু এবারে আমরা অর্ক কে একসাথে তিনটি কেস নিয়ে সমাধান করতে দেখব। তবে কেস তিনটি হলেও কোথাও গিয়ে এই তিন দিকই জুড়ে গিয়েছে এক সুতোতে।
কাহিনীর স্পয়লার দিচ্ছি না। যে তিনটি কেস নিয়ে অর্ক লড়াই করবে সেটা বলছি।
📌প্রথম কেসটি সাইকোলজিক্যাল + অতিপ্রাকৃত মিশ্রনে তৈরি। চিত্তরুপা নামের একটি মেয়ে যে লেগোসে থাকে। সে নাকি ভবিষ্যত দেখতে পায়।।
📌দ্বিতীয় কেসটি একটি সম্পূর্ণ সাইকোলজিক্যাল । চিত্তরুপার এক স্কুলের এক স্কুল টিচারের স্বামীর একটি এক্সিডেন্ট হবার পরে বিগত প্রায় ৮ বছরের স্মৃতি লোপ পেয়েছে।
📌তৃতীয় কেসটি আরও জটিল, আপাত দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভৌতিক। হায়দ্রাবাদের সালার জাং মিউজিয়ামের মূর্তিগুলো নাকি রাতের বেলা জীবন্ত হয়ে উঠছে।
মোটামুটি এই তিনটি কেস। যেগুলোর ছড়িয়ে আছে লেগোস থেকে ভারতবর্ষের হায়দ্রাবাদ পর্যন্ত। পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে উত্তেজনা আর টান টান থ্রিলিং আবহাওয়া।
অর্ককে লেখক একজন সুপার হিউম্যান আকারে তৈরি করেননি, তাই আগের বইতেও অর্ক ও তুহিন জুটি কে ভয়ঙ্কর রকমের বিপদে পড়তে দেখেছি কখন ও তো প্রাণ নিয়ে টানাটানি,,, এখানেও অর্ক একজন সাধারণ মানুষ হিসাবেই এসেছে। বিপদেও পড়তে হয়েছে। কি সেই বিপদ তা জানার জন্য তো বইটি পড়তে হবে।
তিনটি কেস ই ভীষণ জটিল,,, তবে তাঁদের সমাধান করার পদ্ধতি ভীষণ ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে লোপ পাওয়া স্মৃতি ফিরে আসবে কিভাবে সেটার সমাধান। ঐ অংশ টা পড়ার সময়ে পাঠক ইমোশনাল হতে বাধ্য।।
হায়দ্রাবাদের অপূর্বসৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া যায় এখানে। সাথে হায়দ্রাবাদের ইতিহাস। সালার জাং মিউজিয়ামের ইতিহাস। মিউজিয়ামের আশ্চর্য কিছু জিনিসের বর্ণনা। কখনও যেতে পারলে অবশ্যই সেগুলো দেখব তবে তার আগে লেখক নিজের লেখার মাধ্যমেই সেগুলো মনের ভিতরে দেখিয়ে দিলেন।
একটা বিশেষ দিক যেটা আগেও অনুভব করেছি এই বইতে আরও বেশি অনুভব করেছি তা হলো মিসির আলিকে । দুজনের চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন তবুও সেই অনুভুতি গুলো অনুভব করেছি। কেস সমাধান করার কিছু কিছু পদ্ধতি...সেই রহস্যময়তা যা গোটা কাহিনী জুড়ে ছেয়ে থাকে এমনকি শেষে গিয়েও রহস্য।।
এই বইটি বা আগের বইটিও এখনও পর্যন্ত আমার পড়া সমস্ত বইয়ের থেকে একদম ব্যতিক্রম। প্রচুর ছবি আছে 😍😍... একটা উপন্যাস হোক বা গল্প খুব জোর ২-৩ টে ছবি দেখেছি থাকতে, যদি সেটা উপন্যাসও হয়। এখানে উপন্যাসের ভিতরে ১৬ টা দুর্দান্ত কিছু ছবি আছে... প্রায় প্রত্যেকটা চরিত্রকেই ছবি দিয়ে চিনিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর প্রচ্ছদটি অসাধারণ। চিত্রশিল্পীর হাতের কাজ খুবই সুন্দর। ভালো করে লক্ষ্য করলে কভার এর সাথে কোথায় উপন্যাসের যোগ আছে ধরতে পারবেন। ব্যতিক্রমের আরও একটা কারণ এটাও আগের বইতে পেয়েছি, একটিও বানান ভুল চোখে পড়েনি। ধী প্রকশনীর বইয়ের প্রত্যেকটা কাজ খুবই ভালো। বইগুলো তারা অনেক যত্ন নিয়ে করে প্রকাশ করে ❤
শেষে একটি কথা অবশ্যই বলব, থ্রিলার ভালো বাসলে, অলৌকিক কিছু ভালো বাসলে অথবা সাইকোলজিক্যাল গল্পের পোকা হলে শুধু এই বই নয়, গোটা সিরিজটি বিরিয়ানির চেয়েও সুস্বাদু কিছু থেকে থাকলে তার সমতুল্য হবে আপনার কাছে !!
📌ব্যক্তিগত ভাবে বইটির রেটিং আমি ৯.৫/১০ দেব।
ভালো থাকবেন লেখক মহাশয়। আপনার লেখনী এভাবেই আরও অনেক অনেক দূর এগিয়ে চলুক 😍😍আমাদের কেও আর নানান স্বাদের কাহিনী উপহার দিতে থাকুন ❤️
অনেক কথা বলে ফেললাম। লেখকের কাছে শেষ একটি প্রশ্ন, যদিও বইটি এই সবে মাত্র প্রকাশ পেল🙂 তবুও... "অর্ক সমগ্র ৩ কবে আসছে?"🙂
প্রথমেই বলি আমি কোনো প্রফেশনাল রিভিউয়ার নই। গল্প পড়তে ভালোবাসি আর তাই পড়ার পর সেই ভালোলাগা টুকু সবার সঙ্গে শেয়ার করে নিচ্ছি সঙ্গে অবশ্যই Pallab Halder-দাদা কে কথা দিয়েছিলাম পড়ার পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাবো তাই এই লেখা।
বাংলা সাহিত্যে মিসির আলি'র মত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস খুব কম । কিন্তু মিসির আলি বাদে বর্তমান সময়ে কোনো মনস্তাত্ত্বিক গল্প যদি পড়ার পর মন ছুঁয়ে থাকে সেটা হলো অর্ক সমগ্র । অর্ক সমগ্র এর কথা বিভিন্ন সময়ে গল্পের বইয়ের কিছু গ্রুপে দেখেছি তবে কখনই পড়া হয়ে ওঠেনি। সৌভাগ্যক্রমে " অর্ক সমগ্র ( ভলিউম : ৩) " উদ্বোধনের দিন আমি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম এবং সেদিন সুযোগ করে অর্ক সমগ্র :১ এবং অর্ক সমগ্র :২ ব্যাগস্থ করি। এবার বলি বইয়ের কথা। এখানে অর্ক হলো একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং গল্পের মুখ্য চরিত্র। মানুষ হিসাবে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী সঙ্গে যুক্তিবাদী। সূদূর লেগোস-এ তার জীবনের কাছের মানুষ হিসাবে একজন-ই আছে সে হলো তুহিন। তুহিন একাধারে কর্পোরেট অফিসে কর্মরত এবং জটিল-রহস্যময় কেসের ক্ষেত্রে আমাদের ডাক্তারবাবু অর্থাৎ ডক্টর অর্ক'র সহকারী বললেও চলে। অর্ক সমগ্র :১ -এর মধ্যে মোট ছয় টি গল্পের সংকলন আছে এবং ত্রি-সংকটে অর্ক (ভলিউম:২) হলো একটি উপন্যাস, এখানে বোঝাই যাচ্ছে ৩ টি গল্পকে ঘিরে দ্বিতীয় খন্ডে রহস্যের মেঘ ঘনিয়েছে। প্রতি গল্পের মধ্যে নতুন নতুন রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে এমনকি গল্পের শেষ লাইন অবদি টুইস্ট।প্রত্যেক গল্পের টপিক একে অপরের থেকে একদম আলাদা এবং বেশ ইউনিক বলা চলে। লেখক প্রত্যেক ঘটনা কে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বই এর পাতায়। এখানে ঘটনার বহুলতা নেই কিংবা জটিলতাও নেই অথচ কতো সহজ সরল ভাষায় মনস্তত্ত্বের দিক গুলো নিয়ে লেখক নাড়াচাড়া করেছেন। কোথাও গিয়ে মনে হবে না এই বোধহয় তাল কাটলো, একদম শেষ অব্দি টান টান উত্তেজনা। আবার কিছু গল্পে মনস্তত্ত্বের সঙ্গে অল্প কিছু সুপার-ন্যাচারাল এলিমেন্টস হালকা চালে মিশিয়ে দিয়েছেন। তবে প্রত্যেক গল্পে কিন্তু ডক্টর অর্ক যথাসাধ্য বুদ্ধি খাটিয়ে একদম যুক্তিসঙ্গত ভাবেই সমস্যার সমাধান করেছে। তবুও কিছু ঘটনা ব্যাখ্যাতীত থেকে যায়, যার উত্তর বিজ্ঞানমনষ্ক অর্ক ও তুহীন কারোর কাছেই নেই। আবার কিছুক্ষেত্রে গল্পের মধ্যেই যেন জীবনবোধের-ও উত্তরণ ঘটেছে। ভলিউম : ১-এর আমার সবথেকে পছন্দের গুল্প ৩-টি :- সমান্তরাল, অভিশপ্ত ব্রেসলেট এবং ওসানিন। আর একটি গল্পের স্পেশাল মেনশন থাকবে সেটা - ইল্যুশান। এই গল্পের মধ্যে এক ধাঁধা আছে সেটাই এই গল্পের চমক। সেটা পাঠক পড়লেই বুঝবে আমি এখানে কিছু বলবো না। প্রথম খণ্ডের থেকেও দ্বিতীয় খন্ড আমার বেশী ভালো লেগেছে। দ্বিতীয় খন্ড আরো অনেক পরিণত। এখানে গল্পের প্লট নির্বাচন এবং ৩ টি গল্প যে ভাবে আবর্তিত হয়েছে একে অপরকে ঘিরে তা অনবদ্য ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একের পর এক ঘটনাক্রম পড়তে পড়তে ছবির মত চোখে ভেসে উঠেছে। এমনকি ছোট ছোট বিষয়ের ওপর সমান ভাবে নজর দিয়েছেন লেখক। আর এই রহস্যে ভরপুর দু'টো খন্ড'ই একসঙ্গে পড়তে পড়তে মাঝে ছাড়তে পারিনি তাই ২-সপ্তাহের মধ্যে পর পর পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম। আর বইমেলা তে অর্ক সমগ্র :৩ কিনে ফেলেছি এবার খালি পড়া শুরু করার অপেক্ষায়।
ত্রিসংকটে অর্ক অর্ক সমগ্র ২ লেখক:- পল্লব হালদার The main character of the story is Dr. Arko Sen.এখানে অর্ক হলো একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং গল্পের মুখ্য চরিত্র। মানুষ হিসাবে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী সঙ্গে যুক্তিবাদী. A consultant psychiatrist at a renowned hospital in Lagos. Most of Arko cases are accompanied by his friend Tuhin, from whose pen we learn about Arko's case stories. The first case is a mix of psychological + supernatural. A girl named Chittarupa who lives in Lagos. She can see the future. The second case is completely psychological. After an accident, the husband of a school pricipal at Chittarupa's school lost his memory for the past 8 years.বাবা ও ছেলের মানবিক সম্পর্ক আমাদের চোখে জল এনে দেয়। পড়ার সময় তাদের তিক্ত সম্পর্ক এবং হৃদয়ের ভালোবাসা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অনবদ্যভাবে রচিত গল্প। The third case is more complex, seemingly completely supernatural. The statues at the Salar Jung Museum in Hyderabad are said to be coming alive at night. চমৎকার সব মোড় ও উত্তেজনাপূর্ণ এক রোমাঞ্চকর যাত্রাসহ জটিল কাহিনী।এই গল্পটি বলে, কীভাবে মানুষের লোভ একজন প্রখ্যাত ব্যক্তির পতনের কারণ হতে পারে। লেখক শ্রী পল্লব হালদার আবেগ, রোমাঞ্চ এবং অতিপ্রাকৃত বিষয়কে চমৎকারভাবে মিশ্রিত করেন। Not only does the plot have a tense tone; the author also forces us to rush to the end of the story through a mix of realistic character portrayal, restrained narrative. 5/5