রাতের আঁধারে রক্ত পান করতে বের হয় এক অপার্থিব প্রাণী… কী ভাবছেন? এমন কোনো গল্প শোনাবো? না, কোনো গল্পই শোনাবো না। সত্য কাহিনি শোনাবো।
এর জন্য আমাদের যেতে হবে পঞ্চদশ শতকের ইউরোপে। একে অপরের সাথে ভয়ানক যুদ্ধ আর প্রতিহিংসায় লিপ্ত সব দেশ। ওদিকে তাদের ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলছে সেকালের সুপার পাওয়ার অটোমান সাম্রাজ্য। বলকান অঞ্চলের বেশ খানিকটা দখলে চলে এসেছে তাদের!
ইউরোপকে রক্ষার জন্য অর্ডার অফ ড্রাগন সংগঠনটি আবার নতুন করে গঠন করা হলো। এই সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য ওয়ালাচিয়ার শাসক ভ্লাদ দ্য সেকেন্ডকে উপাধি দেওয়া হলো ‘ড্রাকুল’ বা ‘ড্রাগন’। আর তারই সন্তান হলেন ভ্লাদ দ্য থার্ড যার উপাধি ‘ড্রাকুলা’ বা ‘ড্রাগনের সন্তান’। যেখানে ইউরোপের বড় বড় শক্তি অসহায়, সেখানে তুর্কিদের সামনে কী করে রুখে দাঁড়াবে পুচকে ওয়ালাচিয়া? অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন ড্রাকুলা!
কারো মতে তিনি এক নির্মম শাসক, ঠান্ডা মাথার খুনি… আবার কারো মতে তিনি একজন সত্যিকারের বীর! যিনি মরতে চেয়েছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে… কল্পকাহিনি তো অনেক হয়েছে… সত্য জানবেন না?
বইটা পুরোপুরি শেষ করার আগে রেটিং করতে বাধ্য হলাম। কোনো বই আমাকে এমনটা করতে বাধ্য করল। তার কারণ, বইটার চরিত্র আর লেখকের রিসার্চ আর লেখনি। সত্য ঘটনাগুলোকে লেখক এমন ভাবে সাজিয়েছেন যে, মনে হচ্ছিল, লেখক সামনে থেকে সত্য ঘটনা আমাকে বলতেছে। ভ্লাদ কে নিয়ে এত সুন্দর তথ্যপূর্ণ একটা বই পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়৷ লেখকের কাছে এক্সপেকটেশন এত ছিল না। কিন্তু লেখক আমাকে এত অবাক করেছে। তার করা অনুবাদ গুলোতে যে জাদুর মিশ্রণ ছিল এখানে তারও কয়েকগুণ বেশি। বইটা লেখার পেছনে লেখকের ব্যয় করা পরিশ্রম আর সময় দুটোই স্বার্থক। ভ্লাদের জন্ম থেকে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের ইউরোপকে জানা হয়ে যাচ্ছে। বইটা আকারে ছোটো হলেও কোনো কমতি আছে বলে মনে হয়নি। এরকম লেখনীর সত্য কাহিনীর বই হাজারটা পড়তেও কখনো বোরিং লাগবে না একটুও। সর্বোপরি, ভ্লাদ (সত্যিকারের ড্রাকুলা)কে কখনো হিরো আবার কখনো ভিলেন মনে হয়েছে। পুরোপুরি একদিকে কনভার্ট করতে পারছি না আমি অন্তত। চরিত্রটা রহস্যময়ী। তবে, তার নৃশংসতা...!
ড্রাকুলা নামটা শুনলেই মানুষের মনে অজানা এক ভয় কাজ করে। রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার, ট্রান্সিলভানিয়ার অন্ধকার দুর্গ, ধারালো দাঁত,রহস্যময় রাজপুত্র – এই সব কল্পনার আড়ালেই ঢাকা পড়ে যায় ইতিহাসের এক বাস্তব চরিত্র। সেই চরিত্রই হলেন ভ্লাদ তৃতীয়, যিনি ইতিহাসে পরিচিত ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার নামে।
কিন্তু ড্রাকুলা বা ভ্যাম্পায়ার বলতে আসলেই কিছু ছিল কিনা, সেই তর্কে আমরা না যাই। বরং বলি ব্রাম স্টোকার তাঁর সেই ক্লাসিক ড্রাকুলা উপন্যাসটি লিখেছিলেন একজন সত্যিকারের ব্যক্তির থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, নাম তার 'ভ্লাদ ড্রাকুলা'।
ভ্লাদ দ্য থার্ড, যিনি ইতিহাসে ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার বা ভ্লাদ ড্রাকুলা নামে পরিচিত, ছিলেন পঞ্চদশ শতকের ওয়ালাচিয়ার শাসক। বর্তমান রোমানিয়ার অন্তর্গত এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই তাঁর শাসনকাল গড়ে ওঠে। ইউরোপীয় ইতিহাসে তিনি একদিকে নির্মম শাসক হিসেবে কুখ্যাত, আবার অন্যদিকে অটোমান সাম্রাজ্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এক সাহসী নেতার প্রতীক। . . ভ্লাদের জন্ম আনুমানিক ১৪৩১ সালে ট্রান্সিলভানিয়ায়। তাঁর পিতা ভ্লাদ দ্য সেকেন্ড ড্রাকুল ছিলেন ‘অর্ডার অব দ্য ড্রাগন’ নামের একটি খ্রিস্টান সামরিক সংগঠনের সদস্য, যার উদ্দেশ্য ছিল অটোমানদের বিরুদ্ধে ইউরোপকে রক্ষা করা। এই সংগঠনের প্রতীক ছিল ড্রাগন। সে কারণেই ভ্লাদ সেকেন্ড “ড্রাকুল” উপাধি পান, যার অর্থ ড্রাগন।
এই সূত্রে তাঁর পুত্র ভ্লাদ পরিচিত হন “ড্রাকুলেয়া” নামে, অর্থাৎ ড্রাকুলের পুত্র। পরবর্তীতে এই নামই রূপ নেয় “ড্রাকুলা” হিসেবে। . . শৈশবেই ভ্লাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। রাজনৈতিক চুক্তির অংশ হিসেবে তাঁকে ও তাঁর ভাই রাদুকে অটোমান দরবারে বন্দী হিসেবে থাকতে হয়। এই সময়ের অভিজ্ঞতা ভ্লাদের মানসিক গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। বন্দিত্ব, অপমান আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই গড়ে ওঠে তাঁর প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব।
পরে পিতার হত্যার খবর ভ্লাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই তিনি ফিরে আসেন ওয়ালাচিয়ায় এবং ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন কঠোর ও আপসহীন শাসক হিসেবে। . . ভ্লাদ তিনবার ওয়ালাকিয়ার সিংহাসনে বসেন। প্রথমবার ১৪৪৮ সালে খুব অল্প সময়ের জন্য। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাসনকাল ছিল ১৪৫৬ থেকে ১৪৬২ সাল পর্যন্ত। এরপর ১৪৭৬ সালে তিনি শেষবারের মতো ক্ষমতায় ফিরে আসেন।
সে সময় ওয়ালাচিয়া ছিল এক গভীর সংকটের মধ্যে। একদিকে শক্তিশালী অটোমান সাম্রাজ্যের চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অভিজাত শ্রেণির ষড়যন্ত্র রাজ্যকে দুর্বল করে তুলেছিল। ভ্লাদ বিশ্বাস করতেন, কঠোর শাসন ছাড়া এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। . . ভ্লাদ তাঁর কঠিন শাস্তি ব্যবস্থার জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে তাঁর প্রয়োগ করা মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি তাঁকে ইতিহাসে “দ্য ইম্পেলার” নামে পরিচিত করে তোলে। এসব শাস্তির উদ্দেশ্য ছিল শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং শত্রুদের মনে ভয় সৃষ্টি করা।
এই ভয়ের রাজনীতি তাঁর শাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছিল এবং একই সঙ্গে বিদেশি শক্তির জন্য ভয় হিসেবেও কাজ করত। . . ১৪৬২ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে ওয়ালাচিয়া আক্রমণ করেন। ভ্লাদ সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি কৌশলগত ও মানসিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যা অটোমান সেনাদের নাড়িয়ে দেয়। . . ভ্লাদের শাসনের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল তাঁর কঠোর শাস্তি ব্যবস্থা। তিনি বিশ্বাস করতেন, দুর্বল আইন ও নরম শাসন রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই অপরাধ দমনে তিনি ভয়কে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
তাঁর শাসনামলে চুরি, বিশ্বাসঘাতকতা, দুর্নীতি কিংবা শাসকের অবাধ্যতার জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো। যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর শাস্তি ছিল শূলে চড়ানো, যেখান থেকেই তিনি “দ্য ইম্পেলার” নামে পরিচিত হন।
এছাড়াও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে যে রাষ্ট্রদ্রোহী, শত্রুপক্ষের সেনা কিংবা বিদ্রোহী অভিজাতদের ক্ষেত্রে তিনি শিরচ্ছেদ, আগুনে পোড়ানো কিংবা প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির আদেশ দিতেন। এসব শাস্তির উদ্দেশ্য ছিল প্রতিশোধ না, বরং জনগণ ও শত্রুদের মনে ভয় সৃষ্টি করে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
এই শাস্তি ব্যবস্থা এতটাই কঠোর ছিল যে লোককথায় বলা হয়, তাঁর শাসনামলে রাস্তায় স্বর্ণমুদ্রা ফেলে রেখেও কেউ চুরি করার সাহস করত না।
গুগল করলেই তাঁর শাস্তির অনেক নমুনার দেখা মিলবে।
ভ্লাদের এই ভয়ভিত্তিক শাসন একদিকে তাঁকে ইউরোপজুড়ে কুখ্যাত করে তোলে, আবার অন্যদিকে ওয়ালাচিয়ায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। . . ভ্লাদকে ঘিরে ইতিহাসে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। রোমানিয়ায় তিনি অনেক সময় জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত হন, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাতদের দমন করেছিলেন, সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন এবং বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন।
অন্যদিকে স্যাক্সন ও হাঙ্গেরীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁকে নির্মম ও বিকৃত শাসক হিসেবে চিত্রিত করে বিভিন্ন প্রচারপত্র ছড়ায়। এসব লেখাই ইউরোপজুড়ে তাঁর ভয়ঙ্কর ভাবমূর্তি গড়ে তোলে।
পরবর্তীকালে এই ভয়ের গল্পগুলোই প্রভাব ফেলে ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত উপন্যাস ড্রাকুলা রচনায়। যদিও উপন্যাসের রক্তপিপাসু ভ্যাম্পায়ারের সঙ্গে ঐতিহাসিক ভ্লাদের সরাসরি মিল নেই, তবু নাম, ট্রান্সিলভানিয়ার প্রেক্ষাপট এবং নিষ্ঠুরতার কিংবদন্তি এই সংযোগকে জনপ্রিয় করে তোলে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রোমানীয় ভাষায় “ড্রাকুল” শব্দটির অর্থ “শয়তান” হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, যা ভ্লাদের ভয়াল ভাবমূর্তিকে আরও জোরদার করে। . . ভ্লাদ দ্য ইম্পেলারের মৃত্যু ঘটে ১৪৭৬ সালের শেষ ভাগে বা ১৪৭৭ সালের শুরুতে। অটোমান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে তিনি নিহত হন বলে ধারণা করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মৃত্যুর পর তাঁর মস্তক অটোমান সুলতানের কাছে পাঠানো হয় তাঁর মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে। তবে দেহের ভাগ্য আজও রহস্যে ঘেরা।
কারো কারো মতে স্ন��গভ মঠে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ শতকের খননকার্যে সেখানে মানবদেহের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা জন্ম নেয় যে তাঁর দেহ হয়তো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছিল। . . এখানে তো আমি কেবল ভ্লাদ নিয়ে বললাম। কিন্তু বইয়ে সেকালের ইউরোপের অবস্থা থেকে শুরু করে ভ্লাদের পূর্বপুরুষদের কথা, ড্রাকুলার জন্ম, ওয়ালাচিয়ার ইতিহাস, তাঁর সিংহাসন গ্রহণ, অটোমান,হাঙ্গেরীয়ান ও স্যাক্সেনদের সাথে যুদ্ধ, ক্রুসেড, পোপসহ আরো অনেক ইতিহাস।
লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে ইতিহাস তুলে ধরেছেন। লেখার ভাষা ছিল বেশ সাবলীল। তথ্যভিত্তিক হলেও কোথাও একঘেয়ে মনে হয়নি। গল্প বলার ভঙ্গিতে ইতিহাস উপস্থাপন করায় বইটি পড়তে পড়তে সহজেই পাঠক ব্যাপারগুলো কল্পনা করতে পারেন।
বইটির স্টোরিটেলিং, গবেষণা এবং থিম বিশ্লেষণ ছিল শক্তিশালী। লেখক চেষ্টা করেছেন পরিচিত গল্পকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরতে এবং সেই চেষ্টায় তিনি অনেকটাই সফল।
ইতিহাসপ্রেমী পাঠক, রহস্য ভালোবাসেন যারা কিংবা ড্রাকুলার প্রকৃত পরিচয় জানতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি নিঃসন্দেহে একটি উপভোগ্য ব্যাপার হবে।
ইতিহাস বই এভাবে গোগ্রাসে গিলে শেষ করবো সেটা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি, ভাবলে কেনার পর দুই মাস না পড়ে রেখে দিতাম না। শুধু ফিকশানই নয়, বেশিরভাগ অনলাইন ডকুমেন্টারিগুলোও ড্রাকুলাকে উপস্থাপন করেছে খুবই আনফেয়ার ওয়েতে। লুৎফুল কায়সারের অসাধারণ লেখনী আর ডিটেইল্ড রিসার্চের ফলাফল এই বই পড়ে ড্রাকুলার সম্পর্কে থাকা অনেক ভূল ধারণারই অবসান ঘটবে।
রকিব হাসানের ড্রাকুলা অনুবাদ, ড্রাকুলার ঊপর বানানো নতুন-পুরাতন মুভি আর সিরিজ, ক্যাসেল্ভেনিয়া গেইমস আর নেটফ্লিক্স এনিমেশন, লুৎফুল কায়সারের করা ড্রাকুলার অনুবাদ - ড্রাকুলার এসব কিছুর পুরাতন জাবড়া-ফ্যান হিসেবে আমার অনেস্ট ফিডব্যাকঃ "ভ্লাদঃ সত্যিকার ড্রাকুলার কাহিনী", এসব ফিকশনের চাইতে আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। "গরীবের বন্ধু রবিনহুড, দেশপ্রেমী ন্যায়পরায়ণ শাসক, গিগাচ্যাড কৌশলী যোদ্ধা, নিষ্ঠুর শূলশিল্পী" ভ্লাদ টেপেস এর তুলনায় বানানো গল্পের রক্তচোষা পিশাচ কাউন্ট ড্রাকুলা কিছুই না, একদম নূব! আশেপাশের এলাকার শাসকগুলো "মীর জাফর" ক্যাটাগরির না হলে ড্রাকুলার বিজয়গাঁথার পরিব্যাপ্তি আরও অনেকদূর যেতো।
ফ্ল্যাপ থেকেঃ রাতের আঁধারে রক্ত পান করতে বের হয় এক অপার্থিব প্রাণী… কী ভাবছেন? এমন কোনো গল্প শোনাবো? না, কোনো গল্পই শোনাবো না। সত্য কাহিনি শোনাবো।
এর জন্য আমাদের যেতে হবে পঞ্চদশ শতকের ইউরোপে। একে অপরের সাথে ভয়ানক যুদ্ধ আর প্রতিহিংসায় লিপ্ত সব দেশ। ওদিকে তাদের ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলছে সেকালের সুপার পাওয়ার অটোমান সাম্রাজ্য। বলকান অঞ্চলের বেশ খানিকটা দখলে চলে এসেছে তাদের!
ইউরোপকে রক্ষার জন্য অর্ডার অফ ড্রাগন সংগঠনটি আবার নতুন করে গঠন করা হলো। এই সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য ওয়ালাচিয়ার শাসক ভ্লাদ দ্য সেকেন্ডকে উপাধি দেওয়া হলো ‘ড্রাকুল’ বা ‘ড্রাগন’। আর তারই সন্তান হলেন ভ্লাদ দ্য থার্ড যার উপাধি ‘ড্রাকুলা’ বা ‘ড্রাগনের সন্তান’। যেখানে ইউরোপের বড় বড় শক্তি অসহায়, সেখানে তুর্কিদের সামনে কী করে রুখে দাঁড়াবে পুচকে ওয়ালাচিয়া? অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন ড্রাকুলা! কারো মতে তিনি এক নির্মম শাসক, ঠান্ডা মাথার খুনি… আবার কারো মতে তিনি একজন সত্যিকারের বীর! যিনি মরতে চেয়েছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে… কল্পকাহিনি তো অনেক হয়েছে… সত্য জানবেন না?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রথমত বইটি হাতে পাওয়ার পরে যে-ধরনের এক্সপেকটেশন রেখেছিলাম, বইটা সম্পর্কে। বইটি পড়ার পরে আমার এখন মনে হচ্ছে আমার ফার্স্ট এক্সপেকটেশন এর তুলনায় বইটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক অনেক বেশি রোমাঞ্চকর।
ড্রাকুলা। নামটা শুনলেই যেন এক ভয় কাজ করে। যেন শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায় বরফের স্রোত। মনে পড়ে যায় সেই বিরাট প্রাসাদের কথা। ছলে বলে কৌশলে কোনও মানুষকে ড্রাকুলা নিয়ে আসতো নিজের কবজায়, আর তারপর সেই হতভাগ্যের গলায় বসে দিতো তাঁর শ্বদন্ত। নিঃশেষে শুষে নিতো শিকারের শরীরের সব রক্ত। নতুন করে শক্তি সংগ্রহ করে উঠে দাঁড়াতো অন্ধকারের রাজা, কাউন্ট ড্রাকুলা। তাঁর প্রাসাদে একবার যে আসতো, আর ফিরে যেতো না কখনও। কেবল পাওয়া যেত একটা রক্তহীন মৃতদেহ। এইভাবেই এক বিখ্যাত উপন্যাস আর তার কাহিনি অবলম্বনে তৈরি সিনেমার মাধ্যমে কাউন্ট ড্রাকুলাকে চিনেছে সারা বিশ্ব। যত না চিনেছে, তার চেয়ে বেশি ভয় পেয়েছে। আর এই ভয়ের আড়ালে রয়ে গিয়েছে ড্রাকুলার সত্যি পরিচয়। কে এই কাউন্ট ড্রাকুলা? নিছক সাহিত্যের চরিত্র? নাকি এর মধ্যে রয়েছে বাস্তবের কোনও আদল?
কেবল মনের মাধুরী দিয়ে গড়া চরিত্র নন এই কাউন্ট ড্রাকুলা। রক্তচোষা বাদুড় কিংবা ভ্যাম্পায়ার, মানুষ তাঁর এই নাম দিলেও তাঁর আসল নাম ছিল তৃতীয় ভ্লাদ। এককালে দুর্গের বাসিন্দা ছিলেন অত্যাচারী শাসক এই তৃতীয় ভ্লাদ। নির্যাতনের নৃশংসতার জন্য যিনি পরিচিত ছিলেন ‘ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার’ নামেও। পঞ্চদশ শতাব্দীতে ওয়ালাচিয়া অঞ্চলে নিজের কুখ্যাত শাসন চালিয়েছিলেন ভ্লাদ। বাবার স্মৃতি নিজের মধ্যে ধরে রাখতে, পিতা ড্রাকুলের নামে ভ্লাদ নিজের নামকরণ করেছিলেন, ড্রাকুলা। তবে এতটাই নৃশংস ছিলেন তিনি যে সারা ইউরোপে তার অত্যাচারের কাহিনি মুখে মুখে ফিরত।
রোমানিয়া অঞ্চলে এককালে রাজ্যপাট ছিল তাঁর। আসলে কে ছিলেন তিনি? কেনই বা তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এমন কিংবদন্তি? 'ইম্পেলার' এই শব্দটির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ড্রাকুলার রক্তচোষা মিথের উৎস। এর কারণ শত্রুর রক্ত দেখতে ভালবাসতেন এই নিষ্ঠুর শাসক। শত্রুকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এক নৃশংস উপায় অবলম্বন করতেন তৃতীয় ভ্লাদ। শূল, অর্থাৎ কোনও ধারালো ফলাওয়ালা দণ্ডে গেঁথে ফেলা হত সেই হতভাগ্য মানুষগুলোকে। খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন ওইভাবে থাকতে থাকতে অমানুষিক যন্ত্রণায় মৃত্যু হত তাদের। জীবন্ত অবস্থাতেই তাদের শরীর থেকে মাংস ঠুকরে খেত শিকারি পাখিরা।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, যদি কখনও কোনো অভিজাতও ভ্লাদের বিরোধিতা করতেন, তাহলে তাঁদের জন্যেও বজায় থাকত এই একই শাস্তি। অকথ্য নির্যাতন চলত কারাগারে। রক্ত দেখতে ভালবাসতেন ভ্লাদ। যদিও বিতর্কিত ভাবে, ভ্লাদের রক্তপিপাসা সম্পর্কে জানা থাকলেও তাঁর পক্ষে ছিলেন পোপ দ্বিতীয় পায়াস। শুধু তাই নয়, কঠোরভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য রোমানিয়ার জাতীয় নায়ক হিসাবেও প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। বলা হত, ভ্লাদ না থাকলে যুদ্ধের সময় আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেত না ওই অঞ্চলটি।
এখন আসি লেখকের লিখনশৈলীর দিকে, সত্যি বলতে লেখকের লিখনশৈলী আসলেই অসাধারণ ছিলো। লেখকের প্রকাশভঙ্গী বেশ ভালো ছিল। লেখায় ডি���েলিং ছিল ভালোভাবেই। খুব সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় তিনি বইটা সাজিয়েছেন এবং অনেক সুপাঠ্য ছিল। বইয়ের সেটিং, থিম এনালাইসিস ও রিসার্চগুলো ছিলো দারুণ। সাধারণত লেখক এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। আর লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বাজিমাত করেছেন। পার্ফেক্ট স্টোরি টেলিং হয়েছে বইটার। এছাড়াও বইয়ের সেটিং ও থিম এনালাইসিস ছিলো দারুণ। সাধরণত লেখক এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। আর লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন। লেখক চেষ্টা করেছেন নতুনত্ব দেওয়ার এবং অনেকখানিই সফল হয়েছেন তিনি। সত্যি বলতে বইটা চমৎকার আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। এমন যে একবার শুরু করলে আর উঠতে মন চাইবে না। বইটাতে পাঠকদের ধরে রাখার একটা টান আছে। পড়তে পড়তে কখনো আটকে গিয়েছে ভ্লাদের রাজ্যে। বর্তমান সময়ের পাঠকরা বইটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত ও উপভোগ্য করবে বলে আমি মনে করি। লেখকের জন্য অসংখ্য ভালোবাসা ও শুভকামনা রইলো।
সবশেষ, বেনজিনের বইয়ের প্রডাকশন নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, ওরা আমাকে মুগ্ধ করে বারবারই। এবারও বইয়ের পৃষ্টার মান, সজল চৌধুরী ভাইয়ের অসাধারণ মনকাড়া প্রচ্ছদ, ডাস্ট কভার, কালার কম্বিনেশন, ফন্ট সবকিছুই টপনচ, এককথায় অসাধারণ। প্রকাশনীর এমন কাজ সত্যিই প্রসংশার দাবীদার।
"আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, আমার ভাইকে জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়েছিল... কে জানত আমি আবার এখানে ফিরব, আর আমার আদেশে মানুষের প্রাণ যাবে! আমি জানি... আমার মৃত্যুও অপঘাতেই হবে। শুধু এইটুকু চাই, যেন সম্মানজনক মৃত্যু জোটে কপালে। যুদ্ধভূমিতে শত্রুর তলোয়ারের আঘাতে মরতে চাই আমি!" এমনটাই বলেছিলেন ভ্লাদ দ্য থার্ড ড্রাকুলা।
ড্রাকুলা যার অর্থ ড্রাগনের সন্তান! তিনি যেন ঠিক তাই ছিলেন! ড্রাকুলা ছিলেন ভয়াবহ নৃশংস, ছিলেন একজন দক্ষ যোদ্ধা এবং কৌশলী শাসক! তার কৌশল এবং সাহসের সামনে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলো অটোম্যান যোদ্ধারা! তিনি তার ত্রাস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন অটোম্যান সম্রাজ্যে! অটোম্যানদের মাথাব্যাথার বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছিলেন ভ্লাদ দ্য থার্ড ড্রাকুলা! শুধুমাত্র ছোট একটি ওয়ালাচিয়ার সৈন্যবাহিনী নিয়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তৎকালীন ইউরোপের ত্রাস।
ড্রাকুলার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলো "ভয়"। তিনি তার শত্রুদের এমন সব শাস্তি দিতেন তিনি যুদ্ধের ময়দানে এমন সব নৃশংসতা দেখাতেন যাতে তাকে সকলেই জমের মত ভয় পেতো। তাকে ডাকা হতো "শূলশিল্পী" মানুষকে যন্ত্রণা দিয়ে মারতে পছন্দ করতেন ড্রাকুলা। তাইতো ইতালীয় ইতিহাসবিদরা তাকে "সর্বকালের সেরা যন্ত্রণাশিল্পী" বলে থাকে।
তবে এই মানুষটাই আবার তার রাজ্যের গরীব কৃষকদের কাছে দেবতা স্বরূপ ছিলেন। ওয়ালাচিয়ার কৃষকরা তার জন্য প্রাণ দিতেও দ্বিধা করতো না।
এক এক দেশে তিনি এক এক ভাবে পরিচিত। জার্মানি সহ বেশিরভাগ ইউরোপীয়দের মতে ড্রাকুলা ছিলেন এক মানুষিকভাবে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ যিনি ছিলেন নৃশংস হত্যাকারী, লোভী একজন একনায়ক। আবার রুশদের মতে তিনি যা করেছেন তা তার রাজ্য তথা সমগ্র ইউরোপের মঙ্গলের জন্য করেছেন। তাদের মতে হ্যা তিনি নৃশংস ছিলেন তবে তা ওয়ালাচিয়ার সার্থেই। রোমানিয়াতে ড্রাকুলা একজন মহান বীর। যার তলোয়ারের সমনে পিছপা হতে বাধ্য হয়েছিলো স্বয়ং অটোম্যানরা। তিনি শুধুমাত্র অপরাধীদের শাস্তি দিতেন। তিনি ছিলেন একজন সেরা শাসক। যিনি তার নিজ মাতৃভূমিকে রক্ষা করবার জন্য যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ দেন। যাকে এখনও রোমানিয়াতে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করা হয়।
এমনই এক রহস্যজনক ঐতিহাসিক চরিত্রকে আমাদের সামনে আমাদের ভাষায় তুলে ধরবার জন্য লুৎফুল কায়সার ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভ্লাদ শুধুমাত্র সত্যিকারের ড্রাকুলার জীবনী নিয়ে বই না। এই বইটা পড়লে তৎকালীন ইউরোপ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণ পাওয়া যায়, অটোম্যানদের নিয়ে বেশ সুন্দর ধারণাও পাওয়া যায়। ভ্লাদ দ্য থার্ড ড্রাকুলা এবং তার পুরো বংশ নিয়ে লেখক যে ব্যাখ্যা এবং ডিটেলিং দিয়েছেন তার জন্য লেখককে টুপি খোলা অভিবাদন! সেই সাথে লেখক ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা এবং সত্যিকারের ড্রাকুলাকে নিয়ে যে বিশ্লেষণ করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ, আমাকে মুগ্ধ করেছে। সাথে সাথে ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা লেখার পিছনের ইতিহাস এবং অনুপ্রেরণার যে প্রমাণ এবং বিবরণ লেখক দিয়েছেন সেটা সবার একবার হলেও পড়া উচিত।
ইতিহাসের বই নাকি বোরিং? কিন্তু আমি এইটুকু বলতে পারি "ভ্লাদ: সত্যিকারের ড্রাকুলার কাহিনী" পড়ে কেউ বোর হবে না! তার কারণ বইটা পড়ে বার বার মনে হচ্ছিল যেন লেখকের সাথে ভ্লাদের ইতিহাস নিয়ে গল্প করছি সামনাসামনি! আর এখানেই লেখক সফল তার লেখা সার্থক!
লেখক চেষ্টা করেছেন যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ থেকে সত্যিকারের ড্রাকুলার ইতিহাস তুলে ধরবার জন্য। লেখক পাঠকের কাছেই ছেড়ে দিয়েছেন, ড্রাকুলা কেমন ছিলেন সে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য।
তবে শেষে একটা কথা আমার মাথা থেকে কিছুতেই যাচ্ছে না, তার তা হলো মাত্র অল্পকিছু সৈন্য নিয়ে যে লোক অটোম্যানদের নাকের পানি চোখের পানি এক করে ছেড়েছিলো তার কাছে পুরো ইউরোপের শক্তি থাকলে সে কি করতে পারতো? হয়তে পুরো ইতিহাস নতুন করে লিখা হতো!!!
This entire review has been hidden because of spoilers.
ব্রাম স্ট্রোকার এর “ড্রাকুলা” বই এর ‘কাউন্ট ড্রাকুলার’ গল্প তো অনেক শুনছেন। কিন্তু বাস্তব ড্রাকুলার আসল ইতিহাস কয়জন জানেন?
ড্রাকুলা বই এর ভ্যাম্পায়ার কাউন্ট ড্রাকুলার সাথে বাস্তব ড্রাকুলা (নাম- ভ্লাদ দ্য থার্ড— ড্রাকুলা) এর কোনো মিল নাই। বাস্তব ড্রাকুলা এতটাই নিষ্ঠুর, নির্মম,বর্বর, অমানবিক ছিলেন যে গল্পের কাল্পনিক ভ্যাম্পায়ার ড্রাকুলাও তার কাছে হার মানে।
ভ্লাদ দ্য থার্ড ড্রাকুলা এতটাই নিষ্ঠুর রাজা ছিলেন যে তিনি কথায় গণ হারে মানুষকে হ*ত্যা করতেন। আর তার হ*ত্যা পদ্ধতি ছিলো এতটাই নিষ্ঠুর যা আমরা কল্পনাও করতে পারবো না। মাতৃগর্ভের শিশু, শিশু, নারী-পুরুষ, বয়স্ক সবাইকেই নির্মম ভাবে হ*ত্যা করতেন। এতসব লিখেও বলা সম্ভব না…
যেহেতু আগেই ব্রাম স্টোকারের 'ড্রাকুলা' বইটি পড়া ছিলো তাই এই বইটা নিয়েও বেশ আগ্রহ ছিলো। বইটি লিখতে গিয়ে যে লেখককে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে তা বোঝায় যায়। নন-ফিকশন বই হলেও কেন যেন আমার কাছে বেশ থ্রিলার টাইপ লেগেছে। লেখনী অত্যন্ত সাবলীল ছিল। যারা পড়েননি তারা নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন।
আসল ড্রাকুলার ইতিহাস জানতে হলে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে। লেখক অনেক রিসার্চ করে বইটি লিখেছেন, প্রত্যেক পৃষ্ঠা পরে সেটা বুঝা যাচ্ছিল। প্রথম দিকে আমার কাছে বোরিং লাগছিলো, কিন্তু ড্রাকুলা ক্ষমতায় আসার পরে সেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। এককথায় বললে, আমার কাছে বইটি বেশ ভাল লেগেছে।