Jump to ratings and reviews

দৈবাদিষ্ট

অনন্ত আকাশের মতো বিস্তৃত আর অতল সমুদ্রের মতো রহস্যময় প্রাচীন এপিক মহাভারত ।দেশে -বিদেশে বিবিধ পাঠান্তরে বিধৃত ও অজস্র প্রক্ষেপে আকীর্ণ এই মহা আখ্যান , যার স্তরে -স্তরে বিছানো আশ্চর্য সব ইঙ্গিত -প্রকট বা অস্ফুট । সেই মহাকাব্যেরই একটি গুরুত্ব পূর্ণ প্রবাহ নিয়ে উপন্যাস দৈবাদিষ্ট । এর ববিষয় -পরিধি বিস্তৃত : কুরুকুমারদের বয়:প্রাপ্তি ,হস্তিনায় প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিষবাষ্প ও তার সমান্তরালে বৃহত্তর ভারত-রাজনীতিতে সমাসান্ন এক বৃহত্তর ঝড়ের আভাস , যার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দ্বারকার তরুণ নায়ক। অস্ত্রের ঝনঝনানি রুদ্ধশ্বাস আর কূট চক্রান্তে ভরপুর এ কাহিনীতে অনেক চেনা চরিত্র কেও অচেনা আলোয় উদ্ভাসিত হতে দেখা যাবে । এই উপন্যাস নানা আকারগ্রন্থের ইঙ্গিতপুষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কল্পনায় সমৃদ্ধ এক বাস্তবানুসন্ধানী পুনর্কথন। ধ্রুপদী ভাষাসৌকর্যে আর চৌম্বক গল্পকথনে , শিহরণ -জাগানিয়া ঘটনাক্রমের তুরঙ্গগতি পাঠক কে দম ফেলতে দেয় না।

243 pages, Hardcover

Published January 1, 2023

Loading...
Loading...

About the author

Sourav Mukhopadhyay

50 books49 followers

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
33 (62%)
4 stars
15 (28%)
3 stars
5 (9%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
Profile Image for Tiyas.
487 reviews165 followers
December 21, 2023
'বাক্যহারা হয়ে বসে আছি' জাতীয় কোনো অতিরঞ্জনের আশ্রয় নেবো না আজ। কেবল বলবো, আমি মুগ্ধ। বছর শেষে একখানি যথার্থ ভালো বই পড়বার অভিজ্ঞতায় তৃপ্ত। বলাই বাহুল্য, কৌতুকপ্রদ ব্যাপার। আমায় যারা স্বল্প হলেও চেনেন, তারা জানবেন, মহাকাব্যের এরূপ পুনঃকথন নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা ঠিক বাজারের জনপ্রিয় পালে হাওয়া দেয় না। আমি মশাই, গোঁড়া মানুষ। প্রচলিত চিন্তাধারার প্রতি অগাধ আস্থা রাখতে বেশ ভালোবাসি। তবুও এই বইটি নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করতে আমার বাধ সাধছে না।

এমন মজবুত ও সংযত লেখনীর পাল্লায় পড়লে, উচ্ছাসিত না হয়ে উপায় কী?

পাঠককুলের গুটি-কয়েকজন, যারা সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের যাবতীয় গ্রন্থপঞ্জির সাথে এযাবৎ পরিচিত হননি। বাংলা সাহিত্যের এক ভীষণ শক্তিশালী, অথচ আলোচনা-বিমুখ ব্যক্তিত্বের কাজ হতে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। লেখক নিজ-ইচ্ছায় কম লেখেন, বলেই জানি। তবে যাই লেখেন, যতটুকুই লেখেন, তার সবটাই প্রায় অবশ্যপাঠ্য হয়ে দাড়ায়। এই বইটিও সেই ঘরানার। হয়তো বা লেখকের শ্রেষ্ঠ কাজের নিদর্শন? মহাভারতের বহুল-প্রচলিত তবুও বিক্ষিপ্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্রে রেখে ভিন্নমার্গী এক উপন্যাস।

মাপা গদ্য, তৎসম শব্দের নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ এবং যথাযত সংলাপ। এহেন লেখাটি, বাজারে লভ্য মুড়ি-মুড়কি ন্যায় অজস্র পৌরাণিক বইপত্রের জটলায়, তফাতে দাড়ানোর পূর্ণাঙ্গ দাবি জানায়। মহাভারতের অসংখ্য চরিত্র-ভিড়ে, কে ভালো বা কে খারাপের অন্তর্জাল-ঘেঁষা শিশুতোষ বাকবিতন্ডায় না জড়িয়ে, মহাকাব্যের আশ্রয়ে প্রকৃত সাহিত্য-চয়নের এক মর্মস্পর্শী পন্থা হয়ে দাঁড়ায়। এই তো কাম্য! এখানেই তো এরূপ লেখার যথার্থ সার্থকতা! নইলে কেনোই বা বছরের পর বছর, বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন ভাবে কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের দরজায় বারংবার করাঘাত করা?

বইয়ের মলাট-বিবরণে উপন্যাসের বিষয়বস্তু নিয়ে তেমন কোনো বিস্তৃতি নেই। কোনো একক চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে গোটা মহাভারতের পুনরাবৃত্তির পথে হাঁটেননি লেখক। বরং, হস্তিনাপুরে ভারদ্বাজ দ্রোণ-এর আগমন থেকে বারণাবতে জতুগৃহ দহন অবধিই এই উপন্যাসের বিস্তৃতি। প্রথাগত যুদ্ধ বিবরণের ধারেকাছে না ঘেঁষে, প্রাসাদ রাজনীতি, যুগোপযোগী কূটনীতি ও চরিত্র-প্রতি স্বার্থকায়েমের ধূসর প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন তিনি। যার কেন্দ্রে ভীষণ চাতুরী সহিত উপস্থাপিত দ্রোণ ও একলব্য সম্পর্কের এক অভিনব তর্কযোগ্য পরিণতি। যা 'হোয়াট ইফ্' বা 'এমনটাও হতে পারতো' ঘরানার এক দীপ্ত নিদর্শন! এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সমীচীন নয়। পাঠক-মাত্রই আবিষ্কারের রোমাঞ্চ ভিন্ন, বলাই বাহুল্য।

মহাকাব্যের লৌকিক বিনির্মাণের অভিপ্রায়ে সৎ থেকে কোনো চরিত্রকে অহেতুক গৌরবান্বিত করেন না লেখক। পাশাপাশি, খল-চরিত্রদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত সহানুভূতি দেখানো থেকে বিরত থেকে, বইটিকে আর-পাঁচটা 'মিথো-ফ্যান্টাসি' থেকে স্বতন্ত্র করে তোলেন যেন। তার চরিত্রেরা ধূসর, সাদা ও কালোর মিশেলে, রক্তমাংসের ত্রিমাত্রিক জীব। আর্যাবর্তের ললাটে ষড়রিপুর রক্তিম দংশন! ভালো লাগে, সময় নিয়ে, চেনা চরিত্রদের মনের গহীনে অচেনা মনস্তত্ত্বের পাঠ। এক কেবল, দ্বারকাধীশ বাদে। বুঝিয়ে বলা কঠিন। কারণ, উপন্যাসে বাসুদেব কৃষ্ণ 'কিংমেকার' রূপে অনেকাংশেই উপস্থিত। তবুও যেন বাকি চরিত্রদের তুলনায় তিনি কম অন্বেষিত। আছেন, তবুও তাকে ছোয়া যায় না। এতে আদতে কোনো ক্ষতি দেখি না। প্রতিভা বসু ঘরানায় হেঁটে, কৃষ্ণকে খল-কুচক্রী প্রতিপন্ন না করাতেই আমার সন্তুষ্টি। ভালো লাগে, অবতারবাদ বিশ্লেষণে বৈষ্ণব-শৈব বৈরিতার প্রক্ষেপণ। দিনের শেষে, কৃষ্ণস্তু ঈশ্বরঃ স্বয়ম্!

ঠিক একই ভাবে, অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যতা সহিত পৌরাণিক যুগের নানান দিব্যাস্ত্র ও অলৌকিক ঘটনাপ্রবাহের লৌকিক ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। স্বল্প পরিসরে, রসায়নশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, জ্যামিতি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাহচর্যে মহাভারতের পৃথিবীকে দিয়েছেন এক বাস্তবসম্মত রূপ। মাঝেমধ্যে, এরূপ সচেতন খোদকারি দিব্যি উপভোগ্য হয়ে দাঁড়ায়। কেবল, কয়েকবার এই অলৌকিক খন্ডানোয় সামান্য অতি উদগ্রীবতা চোখে লাগে, এই যা। সংলাপের মাধ্যমে উপস্থাপিত এরূপ কথোপকথনের মধ্যে হঠাৎ বক্তার মুখে "মন্ত্র-তন্ত্র ইত্যাদি অলৌকিক কিছু নয়!" জাতীয় তাচ্ছিল্য স্বরূপ বক্তব্য। অনেকটা, সিনেমার পর্দায় চতুর্থ দেওয়াল ভেঙে সরাসরি দর্শকবৃন্দের প্রতি ইঙ্গিত করবার সমান। অসাধারন একটি বইয়ে, প্রগলভ কটা মন্থকূপ যেন।

অসাধারন, তবুও পাঁচ-তারা কেন নয়?

এই ক্ষেত্রে আমার অক্ষমতাই দায়ী। রবিবাসরীয়তে ধারাবাহিক প্রকাশকালেই, উপন্যাসের দ্বিতীয় তথাকথিত বিতর্কিত অঙ্গ, মহামতি বিদুর ও কুন্তীর সম্পর্ক নিয়ে, ফেসবুকে জলঘোলা হয়েছে বিস্তর। সত্যি বলতে, এ জিনিস আমায় আশ্চর্য করেনি। সূত্রখানি আমি আগেও বেশ কয়েকবার বিভিন্ন লেখায়, বিভিন্ন ভাবে পেয়েছি। এবং ক্রুদ্ধ ও আহত হয়েছি যথারীতি। বেশ কিছু স্রষ্টার সৃষ্টি এতটাই নিম্নমার্গী ও পঙ্কিল চিন্তাধারার পরিচয় ধারণ করে যা খোলা মনে গ্রহণ করা দায়। সেই নিরিখে, সৌরভ মুখোপাধ্যায় কতকটা অন্যভাবে এই সম্পর্কের রুপায়ন করেছেন। এ জিনিস অনেক বেশী বাস্তবধর্মী ও মানবিক। অনেক বেশী গ্রহণযোগ্যও, হয়তো বা। তবুও, এই একটি ক্ষেত্রে আমি অপারগ।

গোঁড়ামি মাফ করবেন। আমার এই কাঠিন্য, অন্ধভক্তি নয়। বরং মহাকাব্যের প্রতি অকপট ভালোবাসার ভ্রান্ত নিদর্শন কেবল। আমার এই যৎসামান্য উপেক্ষা, এমন অবশ্যপাঠ্য একটি বইয়ের মানহানী করবে না বলেই, আমার বিশ্বাস। কৌতূহলী পাঠক মাত্রই অনুরোধ, ভারত যুদ্ধের অমৃত-সাগরে বিন্দুমাত্র আগ্রহী হলে, অবিলম্বে বইটি সংগ্রহ করুন।

(৪/৫)
Profile Image for Amir.
26 reviews8 followers
November 15, 2023
"...মহান দ্বৈপায়ন ব্যাস তাঁর প্রস্তাবিত মহাগ্রন্থে কি এই তথ্য স্বীকারের সাহস পাবেন? পাবেন না, সে জানি। তাঁর জয়কাব্য তো প্রকৃত প্রস্তাবে রহস্যকুটিল কুরু - রাজনীতিরই একটি প্রচারপত্র হবে... সুবিধার জায়গাটুকু উন্মোচন, অসুবিধার অংশগুলিতে প্রলেপন... "

🍁বই:- দৈবাদিষ্ট
🍁লেখক:- সৌরভ মুখোপাধ্যায়
🍁প্রকাশনী:- মিত্র ও ঘোষ
🍁মুদ্রিত মূল্য :- ৩৫০

বিতর্কে না গিয়ে যদি শুধুমাত্র সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে চান তাহলে এই বই আপনার জন্য।
অনন্ত আকাশের মতো বিস্তৃত আর অতল সমুদ্রের মতো রহস্যময় প্রাচীন এপিক মহাভারত। এই মহাকাব্য কে ঘিরে সেই বহুকাল আগে থেকেই বিভিন্ন লেখকের নিজস্ব নিজস্ব টীকা, ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে বিনির্মাণ হয়েই চলেছে। দৈবাদিষ্ট তারই নতুন আরেক সংযোজন।

এই কাহিনীর বিস্তৃতি অনেক বড়ো। উপন্যাসের শুরু গুরু দ্রোণের আবির্ভাব দিয়ে। আর শেষ কোথায়? সেটা পাঠকই পড়ার পরে ঠিক করবেন।

মহাভারতের প্রথম দিকে আমরা জরাসন্ধ প্রেরিত একলব্য কে পাই। যে গুরুদক্ষিণা স্বরূপ তার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠটি তার গুরুদেবকে প্রদান করে। কিন্তু এর পরে আর তার খোঁজ মেলেনা। লেখক এই উপন্যাসে তার নিজস্ব ব্যাখ্যা, নিজস্ব যুক্তি দিয়ে একলব্যকে পুনর্জন্ম দিয়েছেন। একলব্যের তারপরে কি হলো বিস্তারে বর্ণনা করেছেন এখানে।
যেটা সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগে সেটা হলো অলৌকিকতাগুলো কে লৌকিক কারণ, যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা। পঞ্চপান্ডব যারা নাকি দেবপুত্র। কিংবা পুত্র কামনায় অগ্নিযজ্ঞ করা, যেখান থেকেই দ্রৌপদী ও ধৃষ্টদুন্মের আবির্ভাব, একজন হবে কুরুবংশ বিনাশের কারণ অন্যজন দ্রোণ বধের কারণ। এরকম মহাভারতের ভিতরে প্রচুর অলৌকিক ঘটনা আছে যেগুলোর বেশ কিছু এখানে লেখক তার নিজস্ব লৌকিক যুক্তি দিয়ে প্রমান করেছেন।
তাহলে এই অলৌকিকতা গুলো সেই সময়ে কিভাবে প্রচলিত ছিলো? বইয়ের একটি বিশেষ অংশে তার উত্তর আছে। ব্রাহ্মণ - তপস্বী - ঋষি - মুনিদের বাক্যের প্রকাশ্য বিরোধ অসম্ভব। তারা যে বিধান দেবে সমস্ত নাগরিক এমনকি রাজাকেও সেটাই মেনে নিতে হবে। স্বর্গ আসলে কোথায়, ইন্দ্রের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা, কিভাবে স্বর্গ থেকে এসে মর্তনারীর গর্ভাধান করেন দেবতাদের রাজা - এ বিষয়ে প্রশ্ন নিষেধ।

এই বই নিয়ে যতই বলব কথা বেড়েই যাবে। পড়েছি বেশ কয়েকদিন হলো মুগ্ধতার রেশ এখনো ছাড়েনি। লেখকের লেখা "প্রথম প্রবাহ " পড়ে যে মুগ্ধতা গ্রাস করেছিল এই নতুন আখ্যানটি পড়ে সেটা আরও বেড়ে গেলো। অপূর্ব লেখা।
ভাষার ব্যবহার খুবই সুন্দর, তবে একেবারে সহজ সরল বলব না সাধারণ যেমন ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক আখ্যাণ যেমন ভাষায় লেখা হয় সেরকমই তবে ভীষণই সাবলীল। পড়তে পড়তে হোঁচট খাবার জায়গা নেই কোথাও।
উপন্যাসটি কিন্তু বেশ বড়ো, তাও পড়ার সময়ে শুরু করে কখন যে শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। আরও একটু থাকলে মন্দ হতোনা খুবই তাড়াতাড়ি যেন শেষ হয়ে গেল।
বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি অসাধারণ। পেজ কোয়ালিটিও খুবই ভালো। খারাপ লাগা কোথাও নেই একটি জায়গা ছাড়া, বইয়ের ভিতরে কোথাও অলংকরণ নেই। উপন্যাসটি যখন রবিবাসরীয় তে বেরোচ্ছিল খুব সুন্দর সুন্দর ছবি ছিলো প্রত্যেকটাতে, সবগুলো না হলেও ওরকম কয়েকটা ছবি আশা করেছিলাম যখন বই হিসাবে আসবে তখন।

যাইহোক, দ্রোণ, একলব্য কে নিয়ে লেখা যারা এরকম কোনো বই খুঁজছেন এই বইটা তাঁদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। এছাড়া আমার মতো যারা মহাভারতের উপরে লেখা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন তাঁদের জন্যও অবশ্য পাঠ্য। আবারও সেই অনুরোধ আপনার মনে যদি বিতর্ক করার বাতিক থেকে থাকে তাহলে এই বই থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ লেখক এখানে অলৌকিকতার বিরুদ্ধে যে মোক্ষম যুক্তি দিয়েছেন সেগুলোকে লৌকিক প্রমানের জন্য, সেগুলো হয়ত আপনি ঠিক ভাবে নিতে পারবেন না।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 46 books1,950 followers
May 25, 2024
আনন্দবাজার রবিবাসরীয়-তে প্রকাশের সময়ই তুমুল জনপ্রিয় হওয়া, পরে বইমেলার বেস্টসেলার হওয়া এই উপন্যাসটা পড়ে তিনটি জিনিস মনে হল। তারা হল,
১) অদ্বিতীয় ভাষা এবং অনুরূপ পটভূমি থাকা সত্বেও এই লেখা প্রথম প্রবাহ-র অবিশ্বাস্য স্তর স্পর্শ করতে পারেনি; হয়তো করতে চায়ওনি। সেটি ছিল আদিপর্বের এক অত্যন্ত চর্চিত এবং আজও বিতর্কিত অধ্যায়ের বিনির্মাণ ও নবনির্মাণ। এটি ততটা বৈপ্লবিক কিছু করতে চায়নি।
২) 'প্রথম প্রবাহ' ছিল এক নারীর কাহিনি— যে দেহ ও মনের সাহায্যে ভারতের ইতিহাসকে নিজের অভীপ্সিত অভিমুখে চালিত করার সাহস ও সক্ষমতা দেখিয়েছিল। এই উপন্যাস বরং কিছু ঘটনাকে অলৌকিকের আবরণ থেকে মুক্ত করে, প্রায়শ আলোচিত কিছু যৌক্তিক সম্ভাবনার আলোতেই তুলে ধরেছে। এটির কেন্দ্রে থাকা প্রতিটি নারী ও পুরুষ শেষ অবধি নিয়তি বা ঘটনাক্রমের হাতে ক্রীড়নকেই পরিণত হয়েছে।
৩) আমরা অনেকেই মহাভারতকে একটি ক্ষুরধার পলিটিক্যাল থ্রিলার হিসেবে দেখতে ও ভাবতে অভ্যস্ত। আমাদের কাছে এই উপন্যাস, ম্লেচ্ছ ভাষা ধার করে বলতে হয়, 'ওয়েট ড্রিম।' ক্ষমতার লোভ, ক্রোধ এবং প্রতিহিংসা কীভাবে একে অপরকে পুষ্ট করে ইতিহাসকে বাধ্য করে নানা সম্ভাবনার মধ্য থেকে মাত্র কয়েকটিকেই বেছে নিতে— তারই এক অসামান্য নিদর্শন এই উপন্যাস।

স্পষ্টভাবেই বলি, এই উপন্যাসে যে ধরনের বাস্তবানুগ সমাধান দিয়ে মহাভারতের অনেকগুলো আপাতদৃষ্টিতে অলৌকিক অধ্যায়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তার সবগুলো (অধিকাংশ, এমনকি একটিও) আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে না-ও হতে পারে। কিন্তু লেখনী তথা বর্ণনা, সংলাপ এবং চরিত্রচিত্রণের সমন্বয়ে যেভাবে এই আখ্যানটিকে পরিবেশন করা হয়েছে, তা সত্যিই কুর্নিশযোগ্য।

প্রচ্ছদটি অত্যন্ত ঢ্যাবঢেবে। উপন্যাসের শেষটাও হয়েছে রীতিমতো দুম্‌ করে, যার ফলে মনে হয় যেন আমরা এই অতিপরিচিত কাহিনিরও শুধু একটি অংশই দেখতে পেলাম। সর্বোপরি, এই উপন্যাসে কৌরবেরা তো বটেই, কুন্তী ও তাঁর সন্তানেরাও যেভাবে পার্শ্বচরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন, তা পড়ে মনেই হচ্ছিল, এঁদের বাদ দিয়েই না হয় উপন্যাসটা লিখে ফেলতেন লেখক। সত্যি কথা বলতে কি, জরাসন্ধ ও তাঁর প্রবলতম প্রতিদ্বন্দ্বীটি কি আরও একটু বেশি স্থান দাবি করতেন না এতে? আর একটিও অলংকরণ নেই কেন?? এইসব ক্ষোভের বশে একটি তারা কমিয়েই দিলাম।

যদি পুরাকথা ও ইতিহাসের পারস্পরিক সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে থাকেন, তাহলে এই বইটি পড়তেই অনুরোধ করব। সম্ভবত আপনারও ভালো লাগবে।
Profile Image for Journal  Of A Bookworm .
145 reviews18 followers
February 6, 2026
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া- ৫/২০২৬

দৈবাদিষ্ট
লেখক: সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের
প্রকাশক: মিত্র-ঘোষ
মূল্য: ৩৫০/-

বছরের ৫ নম্বর বই সুলেখক শ্রী সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের লেখা দৈবাদিষ্ট।। বইটি মহাভারতের একটি অংশের অপূর্ব যুক্তিগ্রাহ্য ফিকশন।। লেখকের একটি গল্প সংকলনে একটি ছোট গল্প অবরোহিনী পড়ে চমকে গেছিলাম।। এরকম ভাবে ভাবতে কতজন লেখকই বা পেরেছেন? সেখান থেকেই আগ্রহ জন্মায় লেখকের অন্যান্য লেখাগুলির প্রতি, তাই দৈবাদিষ্ট ও প্রথম প্রবাহ সংগ্রহ করেছিলাম।। দৈবাদিষ্ট পড়ে ফেলার সুবাদে বলতে কোনো দ্বিধা নেই সৌরভ মুখোপাধ্যায় এই সময়ের আমার অন্যতম পছন্দের লেখক।।

ফ্ল্যাপ থেকে
"অনন্ত আকাশের মতো বিস্তৃত আর অতল সমুদ্রের মতো রহস্যময় প্রাচীন এপিক মহাভারত ।দেশে -বিদেশে বিবিধ পাঠান্তরে বিধৃত ও অজস্র প্রক্ষেপে আকীর্ণ এই মহা আখ্যান , যার স্তরে -স্তরে বিছানো আশ্চর্য সব ইঙ্গিত -প্রকট বা অস্ফুট । সেই মহাকাব্যেরই একটি গুরুত্ব পূর্ণ প্রবাহ নিয়ে উপন্যাস দৈবাদিষ্ট । এর ববিষয় -পরিধি বিস্তৃত : কুরুকুমারদের বয়:প্রাপ্তি ,হস্তিনায় প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিষবাষ্প ও তার সমান্তরালে বৃহত্তর ভারত-রাজনীতিতে সমাসান্ন এক বৃহত্তর ঝড়ের আভাস , যার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দ্বারকার তরুণ নায়ক। অস্ত্রের ঝনঝনানি রুদ্ধশ্বাস আর কূট চক্রান্তে ভরপুর এ কাহিনীতে অনেক চেনা চরিত্র কেও অচেনা আলোয় উদ্ভাসিত হতে দেখা যাবে । এই উপন্যাস নানা আকারগ্রন্থের ইঙ্গিতপুষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কল্পনায় সমৃদ্ধ এক বাস্তবানুসন্ধানী পুনর্কথন। ধ্রুপদী ভাষাসৌকর্যে আর চৌম্বক গল্পকথনে , শিহরণ -জাগানিয়া ঘটনাক্রমের তুরঙ্গগতি পাঠক কে দম ফেলতে দেয় না।"

মহাভারতের একটি সময়কাল নিয়েই এই উপন্যাস, হস্তিনাপুর এ দ্রোন এর আগমন থেকে বারানবত এ পাণ্ডবদের জতুগৃহে দহন, এই সময়কালের মধ্যে দ্রোন ও একলব্যের সম্পর্কের একটি এমনটাও হতে পারত ধরনের লেখার দারুন নিদর্শন।। মহাভারত আমার খুবই পছন্দের পৌরাণিক কাহিনী, আর লেখক মহাভারত থেকে যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্লেষণ করেছেন তা অত্যন্ত সময় উপযোগী।। মহাভারতের টুকরো টুকরো আপাতবিচ্ছিন্ন অলৌকিক ও ধূসর ঘটনা পরম্পরা কে যুক্তির ও বিচার বুদ্ধি দিয়ে যে লৌকিক আখ্যানের রূপ দিয়েছেন, পড়তে পড়তে বারবার চমৎকৃত হয়েছি।।

পাঠ প্রতিক্রিয়া -
ছোটবেলা থেকে মহাভারতে বর্ণিত প্রচুর অলৌকিক কাহিনীর সঠিক ব্যাখ্যা না পাওয়ায়, প্রায় সব ঘটনাই অলৌকিক বলে বিশ্বাস করতে হয়েছে।। এই বই পড়ার পর অনেক কাহিনীর যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা সেই জিজ্ঞাসু মনকে তৃপ্ত করেছে।। লেখক উপন্যাসের প্রথমেই লিখেছে এই বিনির্মাণ মুক্ত মনে গ্রহণ করতে, তা সত্ত্বেও এত আলোচনা সমালোচনার কোনো ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পাইনি।। এই উপন্যাস না পড়লে হয়তো আধুনিক যুগের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে যুক্তিসম্মত মহাভারত বিষয়ক অনেক বিশ্লেষণ জানতে পারতাম না তাই এই সাহসিক বিনির্মাণ এর জন্য লেখককে অবশ্যই কুর্নিশ জানাতে হয়।। লেখক এই উপন্যাসে যে কটি চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন, তার প্রত্যেকটির নিজস্ব স্বত্তা এবং বৈশিষ্ট অক্ষুণ্ন রেখে, কেবল অলৌকিকত্বকে সরিয়ে রেখে, যুক্তি এবং নিজের কল্পনাকে হাতিয়ার করে জন্ম দিয়েছেন মহাকাব্যের এক অপূর্ব মহাকাব্যিক বিনির্মাণের।। তাই এই বই মিস করবেন না, এটুকু বলতে পারি একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে পাঠকের ছাড় নেই।।
Profile Image for Poulami Chakraborty.
30 reviews2 followers
May 14, 2024
নাম : দৈবাদিষ্ট
লেখক : সৌরভ মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনা : মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা
সম্প্রতি সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস দৈবাদিষ্ট পড়া শেষ করলাম। সেই প্রসঙ্গে পাঠ অনুভূতি জানাচ্ছি।
মহাভারতের প্রথমদিকে আমরা একলব্যর উল্লেখ পাই যে গুরুদক্ষিণা হিসাবে তার ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠকে কেটে তার গুরুদেব দ্রোণাচার্যকে উপহার দিয়েছিল। একলব্য গুরুদক্ষিণা দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু তার পরে একলব্যর কি পরিণতি হয়েছিল সেই বিষয়ে আমরা অনেকেই অবগত নই। দৈবাদিষ্ট উপন্যাসটিতে অত্যন্ত যুক্তিনির্ভরভাবে একলব্যর জীবনের ঘটনাবলীকে তুলে ধরেছেন।
দৈবাদিষ্ট কথাটির আক্ষরিক অর্থে বোঝায় যে ব্যক্তি অথবা যে পরিস্থিতি দৈবের দ্বারা আদিষ্ট। এই উপন্যাসে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত কিছু ঘটনাপ্রবাহকে এমন সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে যার অন্তিম পরিণতিকে সত্যি দৈব দ্বারা নির্ধারিত হিসাবেই মনে হয়। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে শ্রীমদভাগবত গীতার কিছু কথা মনে পরে যায় যখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন যুদ্ধের ফলাফল পূর্বনিধারিত হয়ে গেছে। দুর্যোধন, দুঃশাসন, কর্ণ প্রভৃতি বীরগণ ভগবানের দ্বারা ইতিমধ্যে হত হয়েছেন, এখন শুধু অর্জুনকে নিমিত্তমাত্র হয়ে শুধুমাত্র তাদের মৃত্যুর কারণ হতে হবে। ঠিক সেইভাবে উপন্যাসটিতে এটাই দেখতে পাই যে গুরুদেব দ্রোণাচার্যকে যে আক্ষরিক মৃত্যুর পূর্বেই অনুশোচনাতেই তাঁর হৃদয় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। এরপর কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে দ্রৌপদের কাছে আক্ষরিক মৃত্যু শুধুই সময়ের অপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই না।
গীতাতে বলা আছে আত্মাকে সৃষ্টি অথবা ধ্বংস করা যায়না। অজেয়, অমর আত্মা শুধুমাত্র একটি দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়। এখানে একলব্যর ক্ষেত্রেও তার অঙ্গুলিকর্তন যা কিনা একপ্রকার মৃত্যুরই নামান্তর সেটা তার জীবনের প্রথমদিকেই সংঘটিত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তার দেহ অর্থাৎ বাহ্যিক পোশাক, আচার ব্যবহার পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার আত্মার ইচ্ছা অর্থাৎ গুরুদেব দ্রোণাচার্যের উপর প্রতিশোধস্পৃহা সেই একইরকম রয়ে গেছে। এইভাবে গীতার সঙ্গেও এই উপন্যাসটির বক্তব্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
উপন্যাসটির ভাষার গঠনশৈলী অসাধারণ। বইটি পড়ার পরে বারবার এটাই মনে হচ্ছিল যে আহা, বড় তাড়াতাড়ি যেন শেষ হয়ে গেল। আরও পড়তে পারলে ভালোলাগতো.. লেখকের মহাভারত সম্পর্কিত আরও দুটি উপন্যাস প্রথম প্রবাহ এবং যুগ সম্ভাবিনী পড়ার পরে ঠিক একইরকম ভাবে মুগ্ধ এবং বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
উপসংহারে এটুকু বলতে পারি যে প্রথম প্রবাহ এবং যুগ সম্ভাবিনী উপন্যাস দুটির মতো দৈবাদিষ্ট উপন্যাসটিও বাংলা সাহিত্যে আর একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। সমস্ত সুধী পাঠকবৃন্দকে দৈবাদিষ্ট উপন্যাসটি পড়ার অনুরোধ করলাম।
4 reviews1 follower
November 17, 2023
লেখকের গুণ মুগ্ধ পাঠক আমি আর এই উপন্যাসের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 'প্রথম প্রবাহ' পড়ার পর থেকেই এই জনরা অর্থাৎ পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি আমার আকর্ষণ অনেক বেড়ে গেছে আর তাতে বাণী বসু ও সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের লেখার অবদানই বেশি।
মহাভারতের মূল গল্প বা বেসিক স্টোরি লাইন আমরা কমবেশি সকলেই পড়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে DD National এ সম্প্রচারিত " মহাভারত " নামক সিরিয়ালটিতে দেখানো ঘটনাবলীই সবাই বেশি মনে রেখেছেন বা বিশ্বাস করেন।
'দৈবাদিষ্ট' নিয়ে বহু বিতর্ক হতেই পারে কারণ কিছু চরিত্র নির্মাণ নতুনভাবে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। গুরু দ্রোণ এর গুপ্ত অভিসন্ধি হোক বা বাসুদেবের কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলির এত সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন।
ক্ষত্তা বিদুরের পান্ডবদের প্রতি অপত্যস্নেহ সবকিছুই ব্যাখ্যা করেছেন শুধু তাই নয় তীরন্দাজী বিদ্যার পিছনে লুক্কায়িত অলৌকিক ঘটনাগুলোর রহস্য উন্মোচন করেছেন। সঠিক পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাবহার , রসায়ন চর্চা, ধাতুবিদ্যার ব্যাবহার কিভাবে দ্রোণ শিক্ষাদান করেছিলেন বীর অর্জুনকে তার বিবরণ খুবই ভালো লেগেছে। মহাভারত গাথার প্রত্যেকটা ঘটনার পিছনে গূঢ় অর্থবহ রাজনীতি ও কূটনৈতিক ব্যাখ্যা আমার অসাধারণ লেগেছে।
তবে দ্রোণহন্তা হিসেবে পাঞ্চালকুমারের আবির্ভাবের বর্ণনা সত্যিই শিহরণ জাগায়।
আর এতো সুন্দর ভাষার প্রয়োগ আর ঘটনার গতি যে পড়লে মনেই হয়নি এতো বড় উপন্যাস এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল।
" দৈবাদিষ্ট" ই বটে।
Profile Image for Klinton Saha.
410 reviews5 followers
November 24, 2024
প্রতিশোধস্পৃহা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার অহরহ উদাহরণ আছে সমগ্র মহাভারত জুড়ে।এই ধরুন না দ্রোণাচার্যের কথা। দরিদ্র দ্রোণ বাল্যকালে পাঞ্চাল রাজকুমার দ্রুপদের সাথে একই গুরুর আশ্রমে অস্ত্রশিক্ষা নিয়েছিল।দ্রুপদ কথা দিয়েছিল সিংহাসনে আরোহণ করলে অর্ধরাজ্য দ্রোণকে প্রদান করবে। কিন্তু এ ছিল শুধুই ছলনা। বরং দ্রুপদের কাছ থেকে অপমানিত হয় দ্রোণ।একবুক প্রতিশোধ নিয়ে পাণ্ডব ও গৌরব রাজকুমারদের তৈরি করে দ্রুপদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। অস্ত্রশিক্ষা দেওয়া কালে দ্রোণের কাছে অপমানিত হয়ে ফিরে যায় সূতপুত্র কর্ণ ও নিষাদপুত্র একলব্য।দ্রোণের দ্বারা অপমানিত দ্রুপদ পুত্রসন্তান লাভের যজ্ঞের আয়োজন করে দ্রোণকে নির্বংশ করতে।অর্জুনকে শ্রেষ্ঠ করতে গিয়ে নিজের মৃত্যুবাণ তৈরি করে ফেলেন দ্রোণ। তাইতো অপমানিত একলব্য বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে দ্রোণাচার্যের কাল হয়ে।



বইটি লিখতে ইন্দোনেশিয়ান মহাভারতের ধারণা নিয়েছেন লেখক।তাই লেখার বিনির্মাণে কিছুটা নতুনত্ব এসেছে যা বেশ চিত্তাকর্ষক। সমগ্র মহাভারত জুড়েই বাসুদেবের প্রভাবশীলতা কারণ অনুসন্ধান করছেন লেখক। লৌকিক উপায়ে ব্যাখ্যা করেছেন পঞ্চপাণ্ডবের জন্মবিত্তান্ত, ধৃষ্টদ্যুম্ন ও দ্রৌপদীর আবির্ভাব। এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন ভারতের শল্যচিকিৎসা ,অস্ত্রশিক্ষার খোঁজখবর।বহুল চর্চিত মহাকাব্যের এই নতুন সংযোজন ও ভাষার শৈল্পিক ব্যবহার পাঠকের মনে বহুদিন ছাপ রেখে যাবে।
34 reviews
September 29, 2023
Done!!!✨❤️✨❤️✨❤️✨❤️✨✨❤️✨❤️✨❤️✨
দৈবাদিষ্ট - সৌরভ মুখোপাধ্যায়
রবিবাসরীয়তে প্রকাশকালীনই মহাভারতের ওপর গবেষণাধর্মী এই উপন্যাস পাঠকসমাজে ঝড় তুলেছিল... "প্রথম প্রবাহ " এর পর পুনর্বার এমন যুক্তিভিত্তিক পুনর্কথন সত্যি ভারত - ইতিবৃত্তে বিপ্লব তুল্য।
বিদূর যে যুধিষ্টির এর ধর্মরূপী পিতা তা জেনেছি বহু আগেই... কিন্তু ব্যাধ একলব্যের ধৃষ্টদুম্ন হয়ে ফিরে আসা যেন শান্ত পুস্করিণীতে ঢেউ ওঠার সমতুল্য। এ উপন্যাসের আরো এক দিকপাল দিক হচ্ছে কৃষ্ণের আগমন - কিভাবে একজন ক্রান্তদর্শীসুতীক্ষ্ণ ও সুচারু কূটনীতির জাল বিস্তার করছেন এক কালান্তর রনোভূমির প্রেক্ষাপট সৃজনে...
মহাভারত নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। আর বিতর্কই তুর্ণি চিন্তাধারার মন্থনকারী দন্ড। সৌরভ মুখোপাধ্যায় এর মননশীল যুক্তিবাদী বিশ্লেষণ প্রতিবারই শুনিয়েছে একটাই কথা - এভাবে তো ভেবে দেখিনি! দেখোনি যখন, তখন দেখো...
যারা পড়েননি, তারা পড়ুন, পড়তে বলুন...
আমার কাছে বাংলাসাহিত্যে মহাভারত চর্চায় " দৈবাদিষ্ট " আরেক কনক - প্রদীপ হয়ে রইলো।
Profile Image for Abhipsa.
12 reviews17 followers
March 15, 2023
Rating : 4 stars
Entertaining fast-paced interesting perspective ..
but I felt it was a bit short it could have been more elaborate or can go on for little bit more .Some areas are mentioned in the novel but at last they didn't get time to develop

another thing is repetition of the statement how divine and supernatural things are used to hide the true incident and whether it would be mentioned in Mahabharat was not necessary .

Writer could have just presented what he thought about truly happened and that would have been enough readers always keep an open mind about Mahabharat retelling anyway
Profile Image for Aritra De.
78 reviews6 followers
April 17, 2023
সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম মহাভারত নিয়ে লেখা উপন্যাস পড়েছিলাম ২০২০ সালের লকডাউনে 'প্রথম প্রবাহ'। তারপরে কিছুদিন আগেই পড়েছি 'যুগ সম্ভাবিনী'। আর এখন পড়লাম 'দৈবাদিষ্ট'। বলা বাহুল্য তিনটি বইই খুবই উপভোগ করেছি লেখকের অনন্য সাধারণ লেখনী গুণে। মহাভারতের উপর উপন্যাস যারা পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য।
Profile Image for Shreejit Sarkar.
55 reviews5 followers
April 6, 2023
সুলিখিত উপাখ্যান। সুন্দর ভাষা, গোছানো প্লট, সযত্ন চরিত্রচিত্রণ। তবে প্রতিভা বসুর ‘মহাভারতের মহারণ্যে’ আর গজেন্দ্রকুমার মিত্রের ‘পাঞ্চজন্য’ যাদের পড়া আছে, তাদের হয়তো বইটি থেকে খুব বেশি কিছু আশা না করাই ভাল। (মতামত অবশ্যই ব্যক্তিগত)
Profile Image for Boitoi_boisoi.
3 reviews
September 27, 2024
মহাভারতকে সহজভাবে জানতে হলে অবশ্য পাঠ্য। কাহিনীর শুরুতে কুরু ও পাণ্ডবদের শিক্ষাগুরু হিসেবে দ্রৌণ-এর আবির্ভাব । এক নিশ্বাসে গিলে ফেলার মতো বই।এর আগে সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের 'প্রথম প্রবাহ' পড়ে নিলে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।লেখকের সব লেখা আমার অত্যন্ত প্রিয়,তবে পৌরাণিক কাহিনীগুলো বিশেষভাবে টানে।
Profile Image for Rituparna Ghosh.
10 reviews1 follower
Read
December 28, 2023
মহাভারতের চরিত্ররা কখন যেন বড্ড চেনা হয়ে যায়।
Profile Image for Debasrita Bhattacharjee.
3 reviews3 followers
April 27, 2024
A re-telling of certain parts of the great epic from the perspective of a lesser known character. A must read novel if you ar into mythology
Profile Image for Rajib Majumder.
143 reviews5 followers
August 24, 2024
মহাভারতকে কাটাছেঁড়া করে অত্যন্ত স্বাদু একটি উপন্যাস! একলব্য এবং দ্রোণ এর অসম্ভব সুন্দর চরিত্রায়ণ!
Profile Image for Pradipta Bandyopadhyay.
8 reviews
July 13, 2024
উপন্যাস : দৈবাদিষ্ট
লেখক : সৌরভ মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনী : মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০/-

সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের 'দৈবাদিষ্ট' উপন্যাসটি রবিবাসরীয় আনন্দবাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম দিকে কয়েকটি পর্ব পড়ার পরে মনে হয়েছিল, একসাথে সম্পূর্ণ লেখাটা না পড়লে ঠিক পুরোপুরি রসস্বাদন হয়তো গ্রহন করা যাবে না। তাই খাপছাড়াভাবে পত্রিকায় পঠনের পর বই থেকে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি পড়ার আগ্রহ ছিল চরমে। সেই উৎসাহী মনই আজ শান্ত হল, যখন সম্পূর্ণ লেখাটা পাঠের সৌভাগ্য হল।

🔰 এর আগে লেখকের 'প্রথম প্রবাহ' উপন্যাসটি পড়েছিলাম। সেখানে সত্যবতীর সাথে দেবব্রত অর্থাৎ ভীষ্মের এক অন্যরকম সম্পর্ক তুলে ধরেছিলেন তিনি। বেশ ভালো লেগেছিল সেই বিনির্মাণ।

👉 বিনির্মাণ কথাটা এখানে বলা প্রয়োজন, কারণ এরকম অনেকেই লিখেছেন সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে, নিজস্ব চেতনায়, নিজেদের মতোন করে। কখনও হয়তো পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে সেই লেখা, কখনও হয়তো হয়নি।

🔸️ রামায়ণ কিংবা মহাভারতের কথা যখনই ভাবি কিংবা এই মহাকাব্যগুলো যখন পড়া হয় তখন একসাথে কত বিচিত্র কর্মকাণ্ড, কত চরিত্র, কত ঘটনার যে সাক্ষী থাকি তার কোনও ইয়ত্তা নেই। এক কাব্যে, কত গল্প, কত ঘটনা!

🔹️ এই এত বিচিত্র গল্প, ঘটনা, এগুলো যে পরস্পরের সঙ্গে সবসময় আলাদা নয় তারই অন্যতম উদাহরণ এই উপন্যাস তা কিন্তু বলা যেতেই পারে।

🔸️ এই উপন্যাসে অনেকগুলো মুখ্য চরিত্র। অনেকেই ভাববেন যে মাত্র দুটো চরিত্রকে বেস করেই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে, কিন্তু তা নয়। চরিত্র অনেকগুলি, বরং সেই দুটো চরিত্রকে একটা সুতো দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।

🔹️ বরং এই উপন্যাসের অনেকগুলো স্তর আছে। স্তর না বলে অনেকগুলো ভাগ বলা যেতে পারে। হস্তিনাপুরের রাজসভা, পাণ্ডবদের জন্মবৃত্তান্ত, বিদূরের দূরদর্শিতা, দুর্যোধনের মন্ত্রনাকক্ষ, দ্রোণের শিক্ষাপ্রদান, গুরুদক্ষিণা, পাণ্ডবদের পাঞ্জাল বিজয় ও দ্রোণের প্রতিশোধ, জরাসন্ধের আধিপত্য, কৃষ্ণের কূটনীতি, একলব্যের অসাধারণত্ব, দ্রুপদের যজ্ঞ, ধৃষ্টদুম্নের জন্ম - এই সকল ভাগের মিলিত ফল হল এই উপন্যাসের মূল ভিত্তি।

🔸️ লেখক খুব সুন্দরভাবে সকল সুতোকে এক জায়গায় এনে গেঁথেছেন আর গেঁথেছেন এমন সূচারুভাবে যে ফাঁক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে একটা খটকা আমার আছে, তা পরে বলছি।

🔰 মূল যে দুটি প্রসঙ্গের কথা লেখক উল্লেখ করেছেন তার উপন্যাসে, এমনকি লেখক নিজেও বইয়ের শেষভাগেও সেই সম্পর্কে তার নিজস্ব বক্তব্য রেখেছেন তার একটি হল একলব্যের কাহিনী। একলব্যের অস্ত্রশিক্ষা, অসাধারণত্ব, গুরুদক্ষিণার কথা আমরা মহাভারতে পড়েছি। তবে তারপর তার কী হল? সেরকম খুব একটা বেশি তথ্য আমরা পাই না, কিন্তু তার সম্পর্কে যথেষ্ট কিছু থাকার অবশ্যই দরকার ছিল। এরকম দুর্দান্ত এক বীর, অনবদ্য যার পারদর্শিতা, তাকে কী একেবারেই ভোঁতা করে দেওয়া সম্ভব!? তার কী হল এই কৌতুহল পাঠক হিসাবে বরাবরই ছিল আমার।

🔹️ অন্যদিকে যজ্ঞের মাধ্যমে সরাসরি সন্তান লাভের পিছনে যে কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার এক সূচারু প্রভাব তা লেখক খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি ধৃষ্টদুম্নের জন্মের এক নতুন দিক খুলে দিয়েছেন। আহা যদি এমন হত!

🔸️ এই উপন্যাসে পাণ্ডবদের জন্মরহস্যের নতুন এক ব্যাখা মহাভারতের এই অধ্যায়কে নতুনভাবে ভাবার জন্য বাধ্য করে। কর্ণের জন্মের কথা লেখক উল্লেখ করেছেন, যুধিষ্ঠিরের কথা বলেছেন। বিদূর আর কুন্তির পারস্পরিক সম্পর্কের এক অন্য মাত্রা দিয়েছেন। শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষের মহাভারতেও এইরকম আঙ্গিক লক্ষ্য করেছিলাম। তবে যে খটকার কথা আগে বলেছিলাম, তার কথা বলি। লেখক ভীম, অর্জুন এর জন্মের তাহলে ব্যাখা কীভাবে দেওয়ার কথা ভেবেছেন? বা নকুল, সহদেবের ক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে কী উত্তর হবে?

🔰 এই উপন্যাসের অন্যতম দুর্দান্ত চরিত্র আমার মতে জম্বুক। শ্রীকৃষ্ণ যদি মন্ত্রনার মস্তিষ্ক হয়, তবে তার অর্জুন কিন্তু জম্বুক। নতুন ভারত গড়ার যে সংকল্প তিনি নিয়েছেন, যেভাবে তিনি ভেবেছেন, তার কারিগর কিন্তু জম্বুকই। খবর সংগ্রাহক, দূত, বার্তাবহক - কী কাজ করে না জম্বুক! আর তার ভাষার ও শব্দের প্রয়োগ, (লেখক যতই উল্লেখ করুন না কেন সবই কৃষ্ণের শেখানো-পড়ানো) তা যেন কঠিন বরফকেও ধীরে ধীরে তরল করে ফেলে... কোচের থেকেও খেলোয়াড়ের গুরুত্ব বেশি বলেই মনে করি আমি।

🔹️ এছাড়া, এই উপন্যাসে দ্রোণের ভৃমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া কুন্তি কিংবা জরাসন্ধের কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাধারা, দ্রুপদের কিছু আকাঙ্খা - এই সবকিছু লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন তার লেখনীতে।

🔰 উপন্যাসের শেষ পর্বে দ্রোণের সাথে ধৃষ্টদুম্নের যে বাক্যালাপ লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন, তা যেন ভিতরের অনেক গভীর ক্ষত নিরাময়ের ওষুধ। সেই কথোপকথনে ছিল অভিযোগ, ছিল একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা; আবার ছিল নিজেদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য প্রকাশ করার প্রতিজ্ঞা। শেষের এই লেখা পড়লে যেন বিহ্বল হয়ে পড়তে হয়।

🔸️ অদূর ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা জানি..... কীভাবে হবে, কী মনস্তাত্ত্বিক বিষয় ফুটে উঠবে তা ভাবার জায়গা কিন্তু পাঠকের আছে। প্রসাদের গুণ বিচার তখনই সম্ভব যখন তা সঠিকভাবে গ্রহন করা হয়। তা সে দৈবই হোক আর না হোক...

🔰 বইটির প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন সৌজন্য চক্রবর্তী। দুর্দান্ত কাজ। যজ্ঞের অগ্নি থেকে তীরধনুক হাতে এক যোদ্ধার আবির্ভাব। উপন্যাসের সাথে দুর্দান্তভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই একটা ছবিই যেন উপন্যাসের অর্ধেক রহস্য উন্মোচন করে দেয়। অনবদ্য কাজ।

🔰 পুরাণকাহিনীর উপর লেখা যারা পড়তে পছন্দ করেন, মহাভারতের বিভিন্ন গল্প যাদের জানতে ইচ্ছা করে, তারা অবশ্যই পড়তে পারেন উপন্যাসটি। তবে হ্যাঁ, মন সুস্থ হওয়া আবশ্যিক, বিনির্মাণকে যথাযথ সন্মান দেওয়া আবশ্যিক আর খোলা মনে ভাবনাচিন্তা করার পরিসর থাকা অবশ্যই দরকার।

১২.০৭.২০২৪
Displaying 1 - 16 of 16 reviews