সাহিত্যের ডাইনিং টেবিলে বসার যোগ্য নয় এমন বইগুলো: যারা কেবল গিমিক আর হাইপেই উড়ে বেড়ায়
ডিসক্লেইমার: "ওভাররেটেড" মানেই খারাপ না—এইটা মাথায় রাখবেন /অনেক সময় একটা বই বিশাল জনপ্রিয় হয় কারণ সেটা সাংস্কৃতিক বা আবেগগতভাবে মানুষকে স্পর্শ করে। কিন্তু তাই বলে সবসময় সেটার সাহিত্যমান একেবারেই উঁচু নয়।
গৃহদাহ — প্রেমের নামে দহনের ‘ফাইন প্যাকেজ’ শরৎচন্দ্র যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে নিশ্চয়ই একখানা ফেসবুক পোস্ট দিতেন: “Feeling Betrayed at Mahim’s Bari with Achala. 💔 #TrustNoOne #DeadBestie”
সারমর্মের চুনোপুঁটি: একটা মেয়ে, দুই বন্ধু, একটা ট্রেন, আর অতিরিক্ত মাত্রার দুঃখ — এই নিয়েই "গৃহদাহ", যেটা দেখে রবীন্দ্রনাথও বলতেন:
“ভাই শরৎ, একটু ব্রেক নাও। প্রেম নিয়ে এত emotional investment করলে LIC-ও ক্লেম মানবে না।” 😵💫
রোস্ট: চরিত্রভিত্তিক ডেমোলিশন:
১) সুরেশ – সাদা কোটে লুকানো ছুরি; বাইরে ভদ্রলোক, ভিতরে এক নম্বর প্রেম-জুয়ারি। প্রথমে মহিমের জন্য কাঁদে, তারপর তারই প্রেমে ঢুকতে লেগে যায়। বন্ধু বললে শত্রু কাকে বলে, সুরেশ তার case study. আরে ভাই, "বিয়েতে বাধা দিচ্ছো", বুঝলাম। কিন্তু train ধরার ছুতোয় বৌ নিয়ে চম্পট?! এ আবার কোন cinematic villainy? "ধর্ম রক্ষা" করতে গিয়ে নিজেই character assassination-এর মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠলেন।
২) অচলা – মন না হওয়া, মুখ না খোলা: একদম textbook “শরৎনায়িকা” — চোখে জল, ঠোঁটে নীরবতা, আর হৃদয়ে এক গ্লিচি প্রেম। একে বলে "emotional buffering" — মহিম না সুরেশ? দাঁড়িয়ে থাকুন, লোডিং হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কী করল? নির্বাক হেঁটে গেল একটা নতুন ট্র্যাজেডির দিকে।
শুধু একটা প্রশ্ন, অচলা: “মেয়েটার এত সমস্যা হইতেছিল, কেউ ওরে একবার বলল না – 'আপনার থেরাপি লাগবে বৌদি'?”
৩) মহিম – তুমি আমার না, কবরে যাওয়ার পার্টনার। মহিম মানেই কবিতা, আত্মত্যাগ, আর হঠাৎ মরে যাওয়া — যেন শরৎচন্দ্রর কাহিনির পেটেন্টকৃত ট্র্যাজেডি বট। বন্ধুর জন্য ছেড়ে দিল, পরে বৌয়ের জন্য মরল — কিন্তু এভাবে মরলে তো বন্ধুর শেষ আলিঙ্গনে নয়, বরং বউয়ের কোলে মাথা রেখে ওয়াইফাই সিগন্যালের মতো নিভে যাওয়া!
“একটা ছেলে, একটা মেয়ে, একটা ট্রেন আর কিছু দারিদ্র্য… এই নিয়েই আমি প্রেম, সমাজ, ধর্ম, বন্ধুত্ব — সব একসাথে হালকা আগুনে পুড়িয়ে পরিবেশন করব।
নাম: ‘গৃহদাহ’
(পাঠকের হৃদয়ও দাহ হবে, কেউ বাঁচবে না!)”
শিক্ষণীয় কথা (তামাশার ছলে): প্রেমে বিশ্বাস করো — কিন্তু সুরেশের মতো বন্ধুর হাতে নিজের বিয়ে ফেলে রেখো না।
ট্রেনে ওঠার আগে নিশ্চিত হও, কে কোথায় নামবে — না হলে তুমি বিয়ে করে শেষ অবধি বিধবা হয়ে যাবে নিজেরই বিয়েতে।
যদি কোনো গল্পে শরৎচন্দ্র লেখক হন আর ট্রেন থাকে প্লটে — দৌড়াও! দেরি হলে মরো!
শর্ট ফিল্মে রূপান্তর হলে নাম হতো: “Pyar Ka Train Signal — Ek Grihodah Ki Kahani”
শেষকথা: “গৃহদাহ” মানে প্রেম নয়, রসায়নের প্র্যাকটিক্যাল! সবাই পুড়ে ছাই — কেউ সমাজে, কেউ ধর্মে, কেউ বন্ধুত্বে, আর কেউ প্রেমে।
শুধু পাঠকই বেঁচে থাকে, সেটাও পেট ব্যাথার ওষুধ খেয়ে।”