Jump to ratings and reviews
Rate this book

অলীক নক্ষত্রের গাথা

Rate this book
মৌলিক লাভক্রাফটিয়ান সংকলন। ‛আত্মজ’, ‛ইরাবানের পান্থশালা’, ‛পৌওলিক’, ‛লালসা আর ল্যাভেন্ডার'।

178 pages, Paperback

First published January 31, 2023

12 people want to read

About the author

Shreejit Sarkar

10 books2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (80%)
4 stars
1 (10%)
3 stars
1 (10%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,870 followers
March 22, 2023
লাভক্র্যাফটীয় হরর কাকে বলে?
সাধারণভাবে, ভয়ের যে বিশেষ শাখাটিতে বীভৎসতা বা অলৌকিকের বদলে যা-কিছু অজ্ঞাত, অনেক ক্ষেত্রে কল্পনার চেয়েও বড়ো এবং বুদ্ধি বা যুক্তির বাইরে থাকা বস্তু, জীব বা পরিবেশ কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেয়, তাকেই কসমিক হরর বলা হয়। অ্যালজারনন ব্ল্যাকউড এবং উইলিয়াম হোপ হজসনের হাতে বিকশিত হলেও এই বিশেষ ঘরানাটি হাওয়ার্ড ফিলিপস্‌ লাভক্র্যাফটের হাতে একটি বিশেষ আকার ও মাত্রা পায়। তাই সেটিকে এখন আমরা লাভক্র্যাফটীয় হরর নামেই চিনি।
বাংলায় কি এই নিয়ে কিছু লেখা হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে। জাহিদ হোসেনের অদ্বিতীয় উপন্যাস 'একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে' আমার মতে বাংলায় সার্থকতম লাভক্র্যাফটীয় মৌলিক রচনা। এছাড়াও অনেকে এই ধারায় লেখালেখি করেছেন, তবে তাঁদের সেই প্রয়াস এযাবৎ অলৌকিক বা ভয়ালরসের রচনা হিসেবেই পরিবেশিত হয়েছে।
কিন্তু আলোচ্য বইটি, অন্তত এপার বাংলায়, প্রথম ঘোষিত লাভক্র্যাফটীয় রচনার সংকলন।
কী আছে এতে?
একটি বিস্তারিত 'মুখবন্ধ'-র পর এতে স্থান পেয়েছে এইক'টি বড়োগল্প~
১. আত্মজ: সমুদ্রের ধারের ওই নির্জন, ভাঙাচোরা বাড়িটায় কেউ যায় না। কিন্তু নির্জনতার মধ্যেও একটু বৈচিত্র্যের পিয়াসী লিউক ঠিক করল, সে ওদিকেই যাবে। সেখানে কোন সত্যের মুখোমুখি হল সে?
২. ইরাবানের পান্থশালা: একটা ঘরের দরজা খোলা বারণ। কিন্তু সম্পদের অন্বেষণে মরিয়া হয়ে ওঠা এক দরিদ্র শিল্পী সেটি খুলে দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পেল। দরজার ওপাশের জগতে কী পাবে সে?
৩. পৌত্তলিক: বহুদূরের এক সৌরজগতের এক বিষণ্ণ আলোয় ঢেকে থাকা গ্রহের কাহিনি এটি। তারই বাসিন্দা নীলাভ'র ব্যর্থ, ব্যথাতুর জীবন স্বজন হারানোর বিষে যখন নীল হয়ে উঠেছে, তখন কে এগিয়ে এল তাকে সাহায্য করতে?
৪. লালসা আর ল্যাভেন্ডার: ভূমধ্যসাগরের এক অজ্ঞাতনামা দ্বীপে অভিযান চালানো দলে ছিলেন পুরাতাত্ত্বিক স্বপ্নিল চক্রবর্তী। আদিম সংস্কারে আচ্ছন্ন সেই দ্বীপে এক অদ্ভুত গন্ধ গ্রাস করতে লাগল দলটিকে। কেন? এরপরেই বা কী হবে?
হ্যাঁ, আমার সীমিত জ্ঞানবুদ্ধিতে এই চারটি লেখাই যথাযথ লাভক্র্যাফটীয় ফিকশন। কেন্দ্রীয় চরিত্রদের প্যারানইয়া, অবদমিত যৌন আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরিত প্রকাশ, সর্বোপরি জাতিগত দূষণের রূপক হিসেবে নিজের শরীরের মধ্য থেকেই এক অজানা ভয়ংকরের প্রকাশের চিত্রকল্পে এই চারটি লেখাই ভয়ালরসের এই বিশেষ ধারার মহাজনের পন্থ অনুসরণ করেছে নিষ্ঠাভরে।
শ্রীজিতের লেখনীর মধ্যেও লাভক্র্যাফটের শব্দবহুল, প্লটের পরিবর্তে আবহ এবং মনোবিকারকে প্রাধান্য দেওয়ার শৈলীটি স্পষ্ট হয়েছে। এটি সত্যিই এক বিরল কৃতিত্ব। সচরাচর ওই মানুষটিকে অনুসরণ করলে লেখা একেবারে অখাদ্য হয়ে ওঠে; কিন্তু এক্ষেত্রে তা একেবারেই হয়নি। সবচেয়ে
বইয়ের প্রথম লেখাটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তৃতীয় লেখাটিকে লেগেছে সবচেয়ে ভজঘট এবং চেষ্টাকৃতভাবে গথিক। অবে চতুর্থ লেখাটি লাভক্র্যাফটের পাশাপাশি পো-র উদ্দেশেও সযত্ন শ্রদ্ধার্ঘ্য পরিবেশন করেছে দেখে দারুণ লেগেছে।
অন্তর ও বাহির মিলিয়ে কসমিক হররের যেক'টি বৈশিষ্ট্য আমাদের চোখে ধরা পড়ে, তার সবক'টিই কোনো-না-কোনোভাবে দেখা দিয়েছে এই চারটি লেখায়।
বইটির মুদ্রণ ও বানান শুদ্ধ। বিশেষভাবে বলতে হয় বর্ণ-সংস্থাপনে ব্যবহৃত ছোট্ট-ছোট্ট অক্ষর তথা মোটিফগুলোর কথা। সেগুলো লেখার সঙ্গে শুধু মানানসই হয়নি; বরং কার্ল এডওয়ার্ড ওয়াগনারের প্রবাদপ্রতিম 'স্টিকস্‌'-কে মনে পড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলায় এই ঘরানার লেখা পড়তে চাইলে এই বইটিকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। ভয়াল রসের, বিশেষত এই শাখাটির অনুরাগী হলে বইটিকে অবশ্যই পড়তে বলব।
Profile Image for Biprateep Mandal.
22 reviews3 followers
September 21, 2025
ভয় মানেই কি শুধু অশরীরির উপস্থিতি? নাকি শরীর জুড়ে অদৃশ্য কীটের নীরব পদ সঞ্চার - যার কারণ খুঁজে পায়না স্বাভাবিক বোধ বুদ্ধি? অপার্থিব অস্তিত্ব মানেই কি শুধু মৃত্যু পরবর্তী জগতের হিমেল হাতছানি? নাকি রোজকার এই চেনা পৃথিবী হঠাৎ বদলে যেতে পারে অচেনা কোন ভুবনে - যেখানের রীতি নীতি মেলে না আমাদের পরিচিত জগতের সাথে? আপনার কাছে ভয়ের সংজ্ঞা কি? ভয়ের আরেক অর্থ কি অজানা নয়?
শ্রীজিত বাবুর লেখা যেহেতু আমার আগে পড়া ছিল না, তাই সেরকম কোন এক্সপেক্টেশন নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম না আমি। কিন্তু এই কাহিনী সংকলন পড়ার পর আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, এটি আমার পড়া ওয়ান অফ দি আন্ডাররেটেড বই। এই বই নিয়ে আলোচনা বা চর্চা যে লেভেলে হওয়া উচিৎ, তার সিকি ভাগও আমি দেখিনি এবং নিজের ওপর রাগ উঠছে এই ভেবে যে এই বইটি আমার কেনা ছিল মোস্ট probably গত বছর, কিন্তু এতদিন আমি এই gemকে ফেলে রেখেছিলাম। এরকম কাহিনী সংকলন বাদ দিয়ে অনেক সাধারণ ভৌতিক কাহিনী সংকলন পড়ে সময় নষ্ট করেছি। সিরিয়াসলি নিজের ওপর রাগ উঠছে। উফ শ্রীজিত বাবু, আপনি কি লিখেছেন, লিটারেলি হ্যাটস অফ জানাই। বাংলায় পড়া লাভক্র্যাফটিয়ান জনরার ওয়ান অফ দি বেস্ট হরর স্টোরি কালেকশন বললে অত্যুক্তি করা হবে না। আর হ্যাঁ, হরর শুনে যারা এই জনরাটা পছন্দ করেন না, তারা পিছিয়ে গেলে, বলবো, একটা অসাধারণ পাঠ অনুভূতি থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ গদ্যের আকারে যে সাহিত্য শ্রীজিত বাবু রচনা করেছেন, তা অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। তাই হরর প্রেমী পাঠকদের জন্য তো অবশ্য পাঠ্য বটেই, এমনি যারা ভালো সাহিত্য পড়তে পছন্দ করেন, তাদেরও এই কাহিনী সংকলন পড়তে ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস। সমস্ত বইপ্রেমীদের এই বই পড়ার জন্য হান্ড্রেড পারসেন্ট রেকমেন্ড করছি। আশা করি, নিরাশ হবেন না। তবে হ্যাঁ, এই বইটি সম্পুর্ন ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্তমনস্ক পাঠকদের জন্যই কিন্তু লেখা হয়েছে।
27 reviews8 followers
March 23, 2023
বইয়ের নাম: অলীক নক্ষত্রের গাথা
লেখক: শ্রীজিত সরকার
ধারা: লাভক্রফটিয়ান ভয়
প্রকাশক: পলান্ন
বাঁধাই: পেপারব্যাক
মুদ্রিত মূল্য: ২৫০/-

সাহিত্যে এবং সর্বোপরি পপুলার কালচারের বেশ কিছু ক্ষেত্রে (সাহিত্য, সিনেমা, টেলিভিশন সিরিজ) হররের উপস্থিতি এবং জনপ্রিয়তা সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী। মানুষ ভয় পায়, তবুও দুহাতে চোখ ঢেকে আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে এইসব উপভোগ করে, কারণটা সব সময়ই মনস্তাত্ত্বিক। আদিমকাল থেকেই মানব মনের ভেতর এই প্রবৃত্তি, অজানার প্রতি এক সুতীব্র আগ্রহ আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। আমরা ভয় পেতে ভালবাসি, তাকে নিয়ে চর্চা করতে ভালোবাসি, নিজেদের কল্পনার রঙ মিশিয়ে তাকে রূপ দিতে ভালোবাসি। সেই থেকেই জন্ম নেয় লৌকিক, অলৌকিক আখ্যান, জন্ম নেয় নতুন নতুন কিংবদন্তির। স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রভাব অবশেষে এসে পড়ে আমাদের সাহিত্যচর্চায়। কালে কালে সেই সাহিত্যেরও বিবর্তন হয়, সময় এর নিয়মে গল্পের প্রেক্ষাপট পাল্টায়, লেখনী পাল্টায়। এত বিবর্তনের পরেও কিছু মানুষের কাজ অমর হয়ে থেকে, যেমন এডগার এলান পো, ব্রম স্ট্রোকার, ই এফ বেনসন, এমনকি আমাদের দেশের বিভূতিবাবু, হেমেন্দ্রকিশোর, জগদীশ বাবুদের মত লেখকরা। এঁরা সকলেই নিজ নিজ লেখনীতে শ্রেষ্ঠ, তবুও কিছু লেখক থাকেন যারা একটা ধারার ব্যকরণই বদলে দিতে পারতেন। এইচ পি লাভক্রফট খুব সম্ভবত সেই বিরলতম প্রতিভাদের একজন। ভয় নামক ধারাটি যেন ওঁর লেখনীতে অন্য মাত্রা পে��, একইসাথে "ভয়ংকর" এবং "কাব্যিক সুন্দর" এই দুটো পরস্পরবিরোধী বিশেষন যেন ওঁর লেখার সাথেই প্রথমবার ব্যবহার হয়েছিল। যদিও ওঁর জীবন কালে যতটা না চর্চা হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি চর্চা হয়েছে তার মৃত্যুর পরে। কোন শিল্পীর ক্ষেত্রে এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওঁর কাজ, ওঁর চিন্তন কে কাজে লাগিয়ে, ভেঙে চুরে তৈরি হয়েছে এবং হয়ে চলেছে পপ কালচারে একের পর এক সৃষ্টি। সেটা সাহিত্য হোক বা সিনেমা হোক। এবং প্রতিটা আধুনিক শিল্পী মুক্ত কণ্ঠে স্বীকার করেন যে লাভক্রফট না থাকলে এই ধরনের "ভয়ংকর সুন্দর" আর্ট জন্মই নিত না।
যাই হোক বইয়ের ব্যাপারে ফিরি। পাশ্চাত্যের সাথে সাথে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলা সাহিত্যে ওঁর প্রভাব পড়তে শুরু করে, যদিও অনুবাদের হাত ধরেই। এই বিষয়ে অদ্রিশ বাবুর কাজ কে মাইলফলক হিসেবেই ধরা হয়। তার বেশ কিছু পরে "মৌলিক" লাভক্রফটিয়ান গল্প ধীরে ধীরে স্থান করে নেয়। এবং বলাই বাহুল্য পাশ্চাত্যের মত এদেশেও প্রথম দিকে অতটা জনপ্রিয়তা বা সমলোচকদের "পছন্দের তালিকায়" জায়গা করে নেয়নি। তবে গত বেশ কিছু বছর ধরে এই ধারায় যেন আবার নতুন করে জোয়ার এসেছে, এদেশে কল্পবিশ্ব, জয়ঢাক পত্রিকার সাথে সাথে উঠে এসেছে দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, লুৎফুল কায়সার, প্রতিম দাস, পরাগ ভূইয়া, শোভন কাপুরিয়া, অভিজ্ঞান গাঙ্গুলি প্রমুখদের নাম। কখনো এদের অনুবাদ আমাদের নতুন করে উৎসাহিত করেছে, কখনো এদের মৌলিক ভাবনা আমাদেরও ভাবতে বাধ্য করেছে। এই তালিকারই নবতম সংযোজন "শ্রীজিত সরকার" এবং তার এই বই "অলীক নক্ষত্রের গাথা"। একটা নাম বলতে এতটা শব্দ খরচ করার পেছনেও বেশ কিছু কারন আছে, সেগুলি এবার একে একে বলি। পলান্ন থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে পাবেন চারটে "মৌলিক" লাভক্রফটিয়ান ঘরানার গল্প।

১. আত্মজ: এক পিতা পুত্রের গল্প। যেই পিতা প্রায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এই গল্প এক পিতা পুত্রের পূর্নমিলনের গল্প বা মান অভিমানের গল্প হতেই পারতো। কিন্তু পাঠক সাবধান, সেই ভুলটি করবেন না। লেখক এমন এক চরিত্রের অবতারনা করেছেন যার অঙ্গুলি হেলনে বদলে যায় এই দুই চরিত্রের জীবনের গতি। গল্পের উপধারা "কসমিক হরর", কিন্তু অন্তরনিহিত অর্থ?

২. ইরাবনের পান্থশালা: এক শিল্পীর নিজেকে হারিয়ে ফেলার, এবং নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। এক ভাগ্য নিয়ন্তার হাতে নিজেকে সঁপে দেওয়ার গল্প। তারপর? মুক্তি কি পায় শিল্পী? খুঁজে কী পায় বেঁচে থাকার লক্ষ্য?

৩. পৌত্তলিক : এক অন্ধকার জগতের গল্প। এবং রূপক ধর্মী একটি গল্প। কখনো কল্পবিজ্ঞান, কখনো রূপকথা, কখনো মনস্তত্ত্ব এর এক অদ্ভুত মায়াজাল এই গল্প। আমার মতে অন্যতম সেরা একটি গল্প।

৪. লালসা আর ল্যাভেন্ডার: এক রহস্যময় দ্বীপের গল্প। এই গল্প বেঁচে থাকার, কখনো বুক চিতিয়ে কখনো মুখ লুকিয়ে। কখনো লড়ে কখনো নিজেকে আড়াল করে। এক অদ্ভুত অসহায়তা নিয়ে শেষ হয় এই গল্প।
এবার একে একে আসি, ভালো দিক।

এক, যারা লেখকের লেখার সাথে পরিচিত তারা জানবেন লেখক দম দিয়ে ধীমে আঁচে রান্না করতে ভালবাসেন, ফলে ওয়ালর্ড বিল্ডিং বলুন বা চরিত্র চিত্রন সমস্ত ব্যাপারটাই ধীরে ধীরে হয় ফলত যারা ভাবছেন "আজ রাতেই এই বইটা ধরবো আর নামিয়ে দেবো।" এই ধারনা নিয়ে এই বইটি পড়তে বসবেন না। এমনকি কখনো কোন লাভক্রফট (মূল বা অনুবাদ) পড়া না থাকলেও এটা দিয়ে শুরু করবেন না। হাতে সময় নিয়ে বসবেন এবং শুধু এটা নিয়েই বসবেন। কথা দিচ্ছি হতাশ হবেন না।

দুই, বহু বহু দিন পরে কোন একটা বই পড়ে মনে হলো কোন লাভক্রফটের গল্পেরই অনুবাদ পড়ছি। এতটাই নিখুঁত কাহিনী নির্মাণ লেখকের! প্রতিটা বাক্যগঠন, প্রতিটা দৃশ্যনির্মাণ এতটাই মূল লেখনীর কাছাকাছি যে তফাৎ করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত নারায়ন সান্যালের "প্রবঞ্চক" এর একটি গল্প মনে পড়ল যেখানে মূল চরিত্র বিখ্যাত শিল্পীদের ছবি নকল করে "দুষ্প্রাপ্য", "বিরল" বলে বিক্রি করতেন। সেই ছবি গুলি এতটাই নিখুঁত ছিল যে তৎকালীন "শিল্প-বোদ্ধ্বা" রাও বোকা বনে গেছিলেন। লেখকের এই লেখনী নিয়েও এই কথা বলা যায়। লেখক প্রকাশক চাইলেই "দুষ্প্রাপ্য বিরল লাভক্রফ্ট অনুবাদ" সংকলন বলে বেচে দিতে পারতেন। যাই হোক jokes apart লেখককে ধন্যবাদ আমাদের এর সুন্দর "লেখনী" উপহার দেওয়ার জন্য। প্রকাশককেও ধন্যবাদ অক্টোপাস মার্কা দত্যি দানো ছেড়ে একটা "খাঁটি" লাভক্রফট আমাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

এবার একটু খারাপ কথায় আসি,

এক, এই বইয়ের সবচেয়ে দুর্বল execution ওয়ালা গল্প হয়তো শেষেরটি। একটু মজা করে বললে বলতে হয় প্রথম তিনটে যদি শচীন হোন, শেষেরটি বিনোদ কাম্বলি! প্রতিভা কারোরই কম ছিল না, যেটার অভাব ছিল সেটা ছিল "ধৈর্য"। কিন্তু গল্পের প্রেক্ষাপট হিসেবে এই গল্প বাকি গল্প গুলির থেকে কোন অংশে কম ছিল না। তবুও প্রতিবার পড়ার সময় একটা কথা খুব মনে পড়ছিল, "ইস এই জায়গা... আরো একটু... জাস্ট কয়েকটা লাইন জুড়ে দিলে কি দারুন হতো..."
ভালো লাগে কিন্তু বাকি তিনটে গল্পের পর এটা যেন একটু আলাদা লাগে। একটু হালকা মন খুচখুচ করে। তবুও এই গল্প মন কাড়ে প্রেক্ষাপটে, সম্ভাবনায়! লেখক শ্রীজিত বলেই হয়তো আমার আশা আরো একটু বেশি ছিল।

দুই, অলংকরণ গুলি যদি একটু স্পষ্ট হতো আরো বেশি ভালো হতো। এই ত্রুটি হয়তো ছাপাখানার। আশা করি আগামীতে আমরা আরো স্পষ্ট কিছু ছবি পাবো।

তাহলে এই বই কি নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে কেনা যায়?
পাঠক যদি হরর ফ্যান্টাসি, সাই ফাই হরর, কসমিক হররের ভক্ত হন তবে এই বই আপনার জন্য must read, তবে যারা প্রথমবার লাভক্রাফট পড়বেন, জানবেন বলে ভাবছেন তারা নিদেনপক্ষে কল্পবিশ্বের সাইটে গিয়ে "লাভক্রফট সংখ্যাটা" পড়ুন। আগে এই উপধারার প্রেক্ষাপটটা জানুন, বুঝুন, চর্চা করুন, কারণ সেটা ছাড়া এই ধরনের গল্প পুরোটাই জটায়ুর ভাষায় "উটের কুঁজের জল" বলে মনে হবে।
আবারও ধন্যবাদ লেখক সহ প্রকাশককে, এত সুন্দর বই আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য।
ধন্যবাদ।
আপনাদের পাঠ শুভ হোক।
Profile Image for Dibyendu Pal.
87 reviews
May 21, 2024
বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের উপর লাভক্রাফ্ট-এর লেখার প্রভাব সুস্পষ্ট, সে অনুবাদ হোক বা মৌলিক। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘরানার বেশ কিছু লেখা পড়লাম। কিন্তু তার মধ্যে, চারটি গল্পের এই সংকলন, এক উজ্জ্বল তারকার ন্যায় বিদ্যমান থাকবে। সেই অস্বস্তিকর উৎকণ্ঠায় ভরা দিন আর রাতের প্রভেদ মুছে দেয়া পরিস্থিতি, নারকীয় প্রাণীদের উপস্থিতি, মহাজাগতিক ভয়াবহ আবহ, লাভক্রাফ্ট-এর সমস্ত উপাদান মজুদ প্রত্যেকটি লেখায়। বর্ণনা আর ভাষার কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখনীয়। যেই চারটি গল্প আছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

১ আত্মজ
লিউক এসেছে ঘুরতে, সমুদ্র সৈকতে। দূরে এক নির্জন বাড়িতে থাকে এক রহস্যময় ব্যক্তি। কৌতূহল বসত গিয়ে পৌঁছল সেখানে আর সাক্ষাৎ করলো এক অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে। হয়তো বদলে গেল গোটা জীবনটা। গল্পের শেষে যা চোখের সামনে ভেসে উঠে তার জন্যে, আমি লেখকের কল্পনাশক্তি কে কুর্নিশ জানাচ্ছি।

২ ইরাবানের পান্থশালা
এই গল্পটি পড়ে আমার 'দ্য ফেস্টিভ্যাল' নামক লাভক্রাফ্ট-এর এক গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। না, গল্প দুটি এক নয় কোনও ভাবেই। কিন্তু শুধু বর্ণনার দ্বারা, কোনও ঘটনার ঘনঘটা ছাড়া, ভয়ের আবহ তৈরি করা যায়, এই গল্পটি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। এক চিত্রশিল্পী ঘুমের মধ্যে এক দরজা দেখতে পায়, কিন্তু কোনোদিন সে ঢুকতে পারে না। একদিন কিন্তু সে পার করলো দরজাটা আর খুঁজে পেলো এক পরাবাস্তব জগত কে। এই গল্পটি আমার সর্বশ্রেষ্ঠ লেগেছে। লাভক্রাফ্ট-এর যাবতীয় বক্স টিক।

৩ পৌত্তলিক
এক বাবা খুঁজে চলছে তার মেয়ে কে। অনুসন্ধানে ঢুকে পড়ে এক বাড়িতে। সেই বাড়ির কর্ত্রী আগে পুতুল বানাত। তার সঙ্গে দেখা করার পর থেকে বদলে গেল অনেক কিছু। রহস্যের বুনট বেশ পাকা, শেষের চমকটাও ভালো। ভালোই লেগেছে গল্পটি।

৪ লালসা আর লেভেন্ডার
এই গল্পটি এক্সপেরিমেন্টাল মনে হল। যেখানে লাভক্রাফ্ট আছে, কিন্তু একটু ছক ভাঙা। এক নির্জন দ্বীপে এসে পৌঁছিয়েছে একটি গবেষকদের দল। কিন্তু তারা কাজ করতে গিয়ে সম্মুখীন হল এক অদ্ভুত শত্রুর সঙ্গে। গল্পটির শেষের চমকটি ভালোই। এর বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে।

প্রত্যেকটি গল্প অনন্য, লেখকের কল্পনা সম্ভারে পরিপূর্ণ, ভাষার মাধুর্যে পরিব্যপ্ত। আমার মতে লেখক এই ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সফল হয়েছে। বইয়ের শেষে লেখা 'ক্রমশ'। তাই লেখক কে প্রশ্ন করবো, কবে?

পেপারব্যাক এই বইয়ের দাম যথাযথ, প্রচ্ছদ আকর্ষক, অলংকরণ বেশ ভালো। কিন্তু অলংকরণ বোধহয় পেন্সিল স্কেচে করা, তাই ছাপা কাগজে অত্যধিক কালো লাগছে।

সর্বশেষে বলব যারা লাভক্রাফট পড়েননি, তারাও এই বই পড়ে দেখতে পারেন। কারণ এই বই, লাভক্রাফ্ট-এর সাহিত্য শৈলীর উপাদান গুলিকে সার্থক ভাবে পরিবেশনা করছে।
Profile Image for Subhrodip Dey.
21 reviews4 followers
July 18, 2023
বইটা সম্বন্ধে না জেনে কিনলে ভাবতাম এটা বোধ হয় লাভক্রাফটের কোনো অনুবাদের সংকলন। বাংলা বইয়ের জগতে এ বই এক অসামান্য সংযোজন। লেখকের থেকে এরকম আরো লেখা আশা করে থাকলাম
Profile Image for Titas.
Author 4 books35 followers
August 28, 2023
লাভক্রাফটিয়ান হররের সংজ্ঞা দিতে বসছি না, তবে আমার কাছে এই গোত্রের গল্প সঠিকভাবে লেখা হয়ত সবরকম ভয়ের গল্প লেখার মধ্যে সবথেকে কঠিন। কারণ এখানে ভয় মূর্তিমান নয় বরং ভয়ের আবহটাই আসল। পাতায় পাতায়, লাইনে লাইনে একটা অস্বস্তি পাঠককে তাড়া করে বেড়ায় নাম না জানা একটা আশঙ্কা, একটা ভয়, একটা চরম পরিণতির দিকে যার শেষটা সকলের জানা - হয় উন্মাদনা, অথবা মৃত্যু। বাংলা ভাষায় আজকাল কিছু মানুষের হাত ধরে লাভক্রাফটিয়ান হরর নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু হলেও, নি:সন্দেহে বলা যায় যে তাঁদের অনেকের কাছেই কসমিক হরর মানে - অক্টোপাসের শুঁড়, একগাদা চোখ আর রক্তারক্তি কান্ড - ছাড়া কিছুই না। সেই ছোট্ট খড়ের গাদায় মধ্যে একটা জ্বলজ্বলে আগুনের মতো সিলমোহর বসিয়েছেন লেখক শ্রীজিৎ সরকার। বলতে দ্বিধা নেই যে এতটা ট্রু-ব্লু লাভক্রাফটিয়ান লেখা বাংলায় আগে পড়িনি।

বইয়ের গল্পসংখ্যা চার। সে নিয়ে বেশি বলব না।
১) আত্মজ: লিউক বেড়াতে গিয়ে মুখোমুখি হয় নিজের জীবনের সবথেকে বড়ো রহস্যের - তার নিখোঁজ পিতার। বাবার মুখে শোনা সেই রহস্য এবং গল্পের শেষে উঠে আসা 'সে' এই গল্পের মুখ্য বিষয়বস্তু। গল্পটি এক কথায় অসাধারণ।
২) ইরাবানের পান্থশালা: সম্পূর্ণ মাথা ঘেঁটে দেওয়া এই গল্পটি স্বপ্নে দেখে দেখে খুঁজে পাওয়া একটা দরজার আর তার ওপারে থাকা একটি অন্য জগতের। আমার কাছে এটি এই বইয়ের সবথেকে বলিষ্ঠ ও নিখুঁত গল্প যা কাদাথের কথা মনে পড়তে বাধ্য করে।
৩) পৌত্তলিক: অচেনা গ্রহে মানুষের নতুন বসতির বুকে একটি বাবার নিজের হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খোঁজার গল্প। অদ্ভুত ভাবে এই গল্পে সবকিছু থাকলেও গল্পের লাভক্রাফট বিরোধী এক্সিকিউশন এই গল্পটিকে দুর্বল করে তুলেছে।
৪) লালসা ও ল্যাভেন্ডার: নতুন দ্বীপে এক্সপিডিশনে যাওয়া তৃতীয় এই দল একই সাথে খোঁজ চালায় হারিয়ে যাওয়া আগের দুটি দল ও দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই গল্পটি পো, weird tales, tales of terror, vaulf of horror কে মনে করালেও এটির শেষ অংশটি Mountains of Madness এর মনোলোগকে ছুঁয়ে গিয়েছে।

ভালো: • লাভক্রাফটিয়ান লেখা এখানে এতটাই নিখুঁত যে মাঝে মাঝে মনে হয় অনুবাদ পড়ছি। • বাক্যবিন্যাস, প্যারা ব্রেকিং ও যতিচিহ্নের ব্যবহার পর্যন্ত স্বয়ং লাভক্রাফটের মাত্রাতিরিক্ত বর্ণনাকে সামনে এনে দাঁড় করায়। • Mental breakdown, degradation to madness, unspeakable horror ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রে এ বই একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ। • অ্যালান মুরের মতো অনেকের মতে লাভক্রাফট যৌনতাকে ভয় পেতেন, তাই তাঁর গল্পে যৌন বিবরণ সম্পূর্ণ মিসিং ছিল। লেখক সে ক্ষেত্রে রবার্ট ব্লকের মতো অন্যান্যদের পথ অবলম্বন করেছেন। • বইয়ের টাইপসেটিং, পেজ সেটআপ, ফন্ট ডিস্ট্রিবিউশন তারিফ করার যোগ্য। • বইটির প্রুফ রিডিং ও স্পেল চেকিং প্রায় নিখুঁত। (যে টুকু চোখে পড়েছে তা নেহাতই আমার প্রফেশনাল হ্যাজার্ড)

খারাপ: • এই বইয়ের ভালোটাই এই বইয়ের খারাপ। বলে বোঝানো শক্ত, ভুল বুঝবেন না - গল্প, বর্ণনা এবং সমস্ত কিছুতেই লেখক যে ভাবে লাভক্রাফটিয়ান লেখাকে একশো শতাংশ ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে ওনার নিজস্বতা কিছু অংশে হারিয়ে গিয়েছে। ট্র্যাডিশনাল সেটআপ না ভেঙেও নতুন লেখা শেষের গল্পটি তাই বেশি ভালো লেগেছে। • লাভক্রাফটিয়ান গল্পে এনটিটির বর্ণনা প্রায় থাকে না বা যথাসম্ভব উহ্য থাকে, সেই হিসাবে বর্ণনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশি। • বইয়ের ভিতরের অলংকরণগুলি ছাপার দোষে অন্ধকার ও অস্পষ্ট।

সব শেষে বলি, এ বই মোটেই সকলের জন্য নয়। লাভক্রাফটের নিতান্ত অন্ধ ভক্ত না হলে এ বই মুখে রুচবে না। আর তার ফল বোধ হয় এমন একটা প্রথম সারির বইয়ের ব্যাপারে মানুষের এতটা উদাসীনতা।

রেটিং: ৮/১০
Profile Image for Amir.
26 reviews8 followers
April 16, 2023
🍁বই :- অলীক নক্ষত্রের গাঁথা
🍁লেখক:- শ্রীজিৎ সরকার
🍁প্রকাশনী :- পলান্ন
🍁মুদ্রিত মূল্য :-২৫০

হাওয়ার্ড ফিলিপ লাভক্র্যাফট, ভয়াল রসের গল্পের সম্রাট। যার লেখা সমূহকে কসমিক হরর বা লাভক্র্যাফটিয়ান হরর বলা হয়। এই গল্পগুলোর ভিতরে ভয় আছে নিঃসন্দেহে তবে সেই ভয় দেখানোর বিষয়গুলো হয় অপার্থিব জিনিস। কখনো সর্বনাশের অভিসন্ধি নিয়ে জাগ্রত হয়ে ওঠে অশুভ শক্তিধর পৌরাণিক সত্ত্বারা, একাকার হয়ে যায় জীব আর জড়ের সংজ্ঞা, অজান্তেই উন্মুক্ত হয়ে যায় অন্য অজানা এক জগতের দরজা।
বাংলাতে ইতিপূর্বে তার লেখা অনুবাদ করা হয়েছে, তবে তাকে অনুসরণ করে মৌলিক রচনা খুব বেশি লেখা হয়নি।
মৌলিক লাভক্র্যাফটিয়ান হররের ভিতরে সুলেখক শ্রীজিৎ সরকারের এই বইটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

এখানে চারটি বড়ো গল্প আছে।

১. আত্মজ- সমুদ্রের ধারে একটি বাড়ি। কিন্তু সবাই এড়িয়ে চলে সেটাকে। কিন্তু লিউক এক অমোঘ টান অনুভব করে ঐ বাড়িটার প্রতি। কেন? কি আছে ওখানে?

২. ইরাবানের পান্থশালা - এক চিত্রশিল্পীর গল্প। এক গোপন দরজা যা খোলা বারণ। কিন্তু সেই শিল্পী একজনকে খুঁজে পেলো যে তাকে সেই দরজা খুলে দিতে পারে, নিয়ে যেতে পারে সেই নিষিদ্ধ রাজত্বে। কি আছে সেখানে?

৩. পৌত্তলিক - বহুদূরের এক অন্ধকার গ্রহের গল্প। কেন নীলাভর মেয়ে হারিয়ে গেল? অ্যাগনেসের বানানো পুতুল গুলো কেন ওরকম জীবন্ত মানুষের মতো?

৪. লালসা আর ল্যাভেন্ডার - এক রহস্যময় দ্বীপ। একদল লোক বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের জন্য এসেছিল কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছিল। পুনরায় তিনজনকে পাঠানো হলো। তারা কি পারবে এই রহস্য সমাধান করতে ? নাকি তারাও হারিয়ে যাবে অতল অন্ধকারে?

লাভক্র্যাফটিয়ান হরর ���মার বিশেষ প্রিয় একটি জনরা। সেই মতো যখন শুনেছিলাম বইটি সম্পর্কে তখনই সংগ্রহ করি। বইটি পড়ে আমি সীমাহীন মুগ্ধ হয়েছি। যে আশা নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম তার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে।
পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো একদম লাভক্র্যাফটের অনুবাদ পড়ছি। ভয়াল রস সৃষ্টির জন্য যে শব্দগুলো লাভক্র্যাফট ব্যবহার করতেন সেরকমই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সর্বোপরি বাক্যগঠন গুলো অপূর্ব। এর জন্য গল্পগুলো আরও ভালো লেগেছে।

তবে ব্যক্তিগত ভাবে প্রথম গল্পটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
বইটি হাতে নিয়ে আর থামতে পারিনি গল্পগুলো যেমন টানটান তেমনই উত্তেজনাময়।
তবে এই প্রসঙ্গে একটা কথা, যারা কসমিক হররের সাথে পরিচিত নন তাঁদের কাছে এই বই খুব ভালো লাগবে বলে আশা করিনা। তাঁদের অনুরোধ করব এই ধরনের কিছু ছোট গল্প শুনে বা পড়ে তারপরে বইটি হাতে নিতে। তাহলে এই বইয়ের স্বাদ সম্পূর্ণ নিতে পারবেন।

বইটি নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই একটি ছাড়া।
বইয়ের কোয়ালিটি অসাধারণ, বাইন্ডিং, পেজ কোয়ালিটি, প্রুফ... সবই ভালো, প্রচ্ছদটিও খুবই সুন্দর। তবে ভিতরে কিছু অলংকরণ আছে, সেগুলো অতিরিক্ত কালো হয়ে গেছে। যে কারণে ক্লিয়ার বোঝায় যাচ্ছেনা ওগুলো কিসের ছবি। এগুলো হালকা শেড এর করলে ভালো হতো।

কসমিক হররের ভক্ত হলে এই বই অবশ্যই আপনার একবার পড়া উচিত। আশা করি আমার মত আপনারও ভালো লাগবে।
Profile Image for Priyanka Chatterjee.
3 reviews2 followers
January 25, 2024
অলীক নক্ষত্রের গাথা শেষ করলাম। শেষের দুটো গল্প পড়ে গা রিতিমতো শিরশির করছে। লাভক্রাফ্ট জঁরের এত অদ্ভুত ভয়াল বা ভয়াবহ পড়িনি। ঠিক কী বিশেষণে আভূষিত করব জানি না। প্রথম দুটি গল্প ভালো, কিন্তু শেষের দুটো মাত্রা অতিক্রম করেছে। কল্পনা যে এই হারে ব‍্যপ্তি লাভ করতে পারে তা আমার জানার বাইরে। দ্বিতীয় বিষয় হলো ভাষাশৈলী। লাভক্রাফ্ট এর জঁরে যে এত অভুতপূর্ব ভাষা ব‍্যবহার করা যায় জানতাম না। নিখুঁত চিত্রায়ণ। লালসা ও ল‍্যাভেন্ডারে যেখানে সিমাকুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আর তারপর ঐ অতলান্ত খাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির যে রূপ বর্ণিত হয়েছে, আমি বাকরুদ্ধ। শেষ পর্যায়ে প্রফেসর স্বপ্নীলের যে ভাষ‍্য সেটাতে চমৎকৃত হয়েছি, যদিও আন্দাজ করতে পেরেছিলাম তখন।
পৌত্তলিক গল্পে গ্রহের অমন বর্ণনা বা কল্পনা কী করে করেছে সেটাই আশ্চর্যের। যদিও সব গল্পে আমরা কল্পনার আশ্রয় নিই। কিন্তু কল্পনা যখন লাগামছাড়া হয়, আর আশ্চর্যচকিত করে তখন একটাই কথা আসে -- তু সি গ্রেট হো!
লিউকের গল্পটা ডিফারেন্ট টেস্টের, এটা পড়তে গিয়ে একটু স্লো হয়ে পড়েছি কিন্তু যদি দৃশ‍্যায়ন করি তাহলে এককথায় দারুণ হলিউড টাইপ হরর মুভি, নেটফ্লিক্সের এই সিরিজকে বলে বলে ছক্কা মারতে পারে। ইরাবানের পান্থশালা --এমন অদ্ভুতুড়ে কনসেপ্ট কী করে আসে ভগা জানে। আর সেটাকে এত প্রাণবন্ত করে তোলে কেউ কি করে? প্রথম দুটো একটু ধীর গতির গপ্প।
লাভক্রাফ্ট আর টাইপের গল্প যারা ভালোবাসে তাদের উচিত একবার টেস্ট করে দেখা, মানে পড়ে দেখা।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.