অস্থায়ী খুচরো সব কাজকর্মের ওপর ভর করে বেঁচে আছে একজন মানুষ, কোথাও তার শিকড় নেই, কোথাও নিশ্চিত করে যাওয়ার নেই, তবু জীবনের স্রোতে ভেসে ভেসে আলোর কণার মতো সে নির্ভয়ে স্থান থেকে স্থানান্তরে যায়। কখনও হয়তো কাল থেকে কালান্তরেও। দুঃখের মৃত্যুনীল শরীর সে কখনও ঢেকে দেয় না সুখের মল্লিকায়। আনন্দের স্পন্দনকেও সে অসাড় করে দেয় না জীবনের বঞ্চনা, দুঃখ, অবমাননার কথা ভেবে ভেবে। কাউকে হয়তো সে ভালোবেসেও ফেলে, অথচ তাকে নিয়ে পাকা ভিতের ওপর ঘর বাঁধে না। জীবনের উৎস, গন্তব্য কোনো কিছুই সে বুঝতে পারেনি, বুঝতে চায়ও না। তবু এই বেঁচে থাকার নেশা তার কাটে না কখনও। নানা অভিজ্ঞতার মালতী ফুলে যেন বিনিসুতোর মালায় গাঁথা হয় এভাবেই 'হাওয়ার মতন, নেশার মতন...
২০২২ সালের এর বেশ কিছুটা সময় কেটেছে রবিবার কবে আসবে তার অপেক্ষায়। হ্যাঁ, ছুটির দিন তো বটেই (সে তো সবসময়ই প্রযোজ্য) তাছাড়াও সকালবেলা বাড়িতে খবরের কাগজটি এলেই চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চলে যেতাম বাড়ির ছাতের চিলেকোঠার ঘরটায়, হাতে রবিবারোয়ারি। 'হাওয়ার মতন নেশার মতন ' ধারাবাহিক হিসেবে একেকটি পর্ব পড়ার পরে মনে হত, আবার এক সপ্তাহের অপেক্ষা! এরকম করে কেটে গেলো প্রায় সাত- আট মাস। বই হিসেবে হাতে পেলাম এই কিছুদিন আগেই। বইতে কিছু অধ্যায় সংযোজিত হয়েছে এবং কিছু জায়গায় পরিবর্তন চোখে পড়লো। বই হিসেবে পড়ার পরে কেমন যেন এক ভিন্ন পাঠ অনুভূতি হলো। জানি না এর কি কারণ! মনে হলো যেন নতুন কিছু পড়ছি, যা ধারাবাহিক হিসেবে পড়ার সময় মনে হয়নি, হয়তো সেই সময় আমার পাঠ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ ছিলো!
সেই ভালোলাগার জায়গা থেকেই কিছু কথা বলি।
জীবনের আবর্তে ঘুরতে থাকা দুজন সাধারণ মানুষ অরণ্য আর তাপ্তিকে নিয়ে এগিয়েছে এই উপন্যাসের ধারা। অরণ্য আর তাপ্তির মত মানুষদের আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে দেখি, রাস্তায়, বাসে, মেট্রোয়, লোকাল ট্রেনে, অফিস কাছারিতে সর্বত্র। কিন্তু তারা এতটাই unassuming যে তাদের সেভাবে আমরা লক্ষ্য করি না। আর তা করবোই বা কেন! তারা তো আমাদের থেকে আলাদা কেউ নয়, আমাদের মতই সাধারণ তাদের জীবনযাপন, আপাতদৃষ্টিতে তাই কোন বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার কথা নয়। এরকম দুই সাধারণ মানুষের জীবনের সমান্তরাল প্রবাহমানতাকে আশ্রয় করে আখ্যান রচনা করেছেন সন্মাত্রানন্দ।
কিন্তু সাধারণ হওয়ার মধ্যেই যে এক অসাধারণত্ব লুকিয়ে থাকতে পারে তার নাগাল পাই আরও কিছুটা পড়ার পরে। অরণ্য এবং তাপ্তি, কারোরই জীবন সুখ -স্বাচ্ছন্দ্যে ভরা নয়। দুজনেরই জীবনে রয়েছে একাধিক সমস্যা, আর্থিক অপ্রতুলতা, চাকরির অনিশ্চয়তা। কোন ইউটোপিয়া নয়, দুঃখবিলাসিতা নয় বরং কঠিন এবং রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয় তাদের প্রতিনিয়ত। কিন্তু সেই সবকিছুকে ছাপিয়ে তাদের জীবনের যে ইতিবাচক দিকটি চোখে পড়ে, তা হলো জীবনের থেকে সেরকম কোনো গভীর প্রত্যাশা না রেখে শুধুই বাঁচার আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকা। লেখকের ভাষায় বলি ' দুঃখের মৃত্যুনীল শরীর সে কখনও ঢেকে দেয় না সুখের মল্লিকায়। আনন্দের স্পন্দনকেও সে অসাড় করে দেয় না জীবনের বঞ্চনা, দুঃখ, অবমাননার কথা ভেবে ভেবে।' সহজ কথায় এক অসামান্য জীবনদর্শন এবং জীবনবোধের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা মুগ্ধতার সৃষ্টি করে।
দক্ষিণ কলকাতার সোনারপুরে যে পুরনো বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে অরণ্য, সেই ঘরে পূর্বে বসবাস করতেন সঙ্গীত শিল্পী এবং শিক্ষক ব্রতীন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত এবং তাঁর স্ত্রী লালি। বড় 'অদ্ভুত' মানুষ এই অরণ্য, বাড়ির এই ঘরে উঠে আসার কয়েকমাস আগেই মারা যান এই দম্পতি। আশ্চর্যের বিষয় অরণ্য এই ঘর থেকে তাঁদের কোন জিনিসপত্র না সরিয়ে, অবিকৃত অবস্থায় রেখেই সেখানে বসবাস শুরু করে এবং তারপর থেকেই শুরু হয় বেশ কিছু অদ্ভুত ঘটনা। সেইসব ঘটনা অরণ্যকে তাড়িত করে এবং তার 'কার্য-কারণ' অনুসন্ধানে শুরু হয় অরণ্যের যাত্রা। সেই যাত্রা শহর কলকাতার গণ্ডী পেরিয়ে চলে যায় মেদিনীপুর শহর, সেখান থেকে চন্দ্রকোনা।
তার এই যাত্রাপথে নানান ঘটনার সম্মুখীন হয় অরণ্য এবং সেই ঘটনাগুলো যেন একটুকরো শাদা কাগজের ওপর ছড়ানো কতগুলো বিন্দু, অরণ্য চেষ্টা করে তার যাত্রাপথে ঘটে যাওয়া এইসব ঘটনা বা বিন্দুগুলোকে একসূত্রে বেঁধে একটা প্যাটার্ন বা আকার তৈরি করতে এবং পাঠক হিসেবে আমিও চেষ্টা করি সেই বিন্দুগুলোকে মেলাতে। এর কারণ এটাই আমাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, আগে থেকে আমরা ভেবে নিই যে এর পরে এই হতে চলেছে। কিন্তু তা হয় না, গল্পের নানা মোড়ে অপেক্ষা করে আছে চমক, একেবারে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনা , ফলে যা কিছু প্রেডিকটেবল বা প্রত্যাশিত বলে মনে হয় তার অধিকাংশই মেলে না পরবর্তীতে বা কিছু হয়তো মিলেও যায় অপ্রত্যাশিত ভাবেই। সে জন্যই একবার শুরু করে শেষ না হওয়া অবধি বইটিকে তুলে রাখা সম্ভব নয়। এই উপন্যাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের এক স্বাভাবিক প্রবণতা 'পরিণতিকামিতাকে' লেখক বারংবার আঘাত করেছেন এবং সেই হিসেবে আর পাঁচটা উপন্যাস বা প্রেমের উপন্যাস থেকে এই উপন্যাস একেবারেই ব্যাতিক্রমী এবং ভিন্নধর্মী বলে আমার ব্যাক্তিগতভাবে মনে হয়েছে।
অরণ্যের এই যাত্রাপথে একপ্রকার হঠাৎ করেই অরণ্য আর তাপ্তির মধ্যে যোগাযোগ ঘটে, এবং পরপর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই যোগাযোগ একটা সুন্দর সম্পর্কের জায়গা তৈরী করে দুজনের মধ্যে। একটা প্রেম বা ভালোবাসার সম্পর্কও তৈরি হয়! অরণ্য আর তাপ্তির সম্পর্কের রসায়ন খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে উপন্যাসের নানা অংশে, যা মুগ্ধতার রেশ রেখে যায়।
বইয়ের কিছু কথা উদ্ধৃত করি ' জীবনের মর্মমূলে গিয়ে একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষকে আবিষ্কার করে, যখন বাইরের পৃথিবীর যাবতীয় সম্পর্ক, সমাজ, পরিস্থিতি, প্রয়োজন সমস্ত হেমন্তের কুয়াশার আড়ালে যেন নিঃশেষে অবলুপ্ত হয়ে যায়, যখন অন্তর্গত মনোভূমির আশা, হতাশা, মান, অপমান, ঘৃণা, প্রণয় কিংবা করুণার সানুনয় আবেদনও থেমে আসে, তখন সেই মৃত্যুর নিকষ অন্ধকারের ভেতর ভালোবাসার যে-দীপ্তি জেগে ওঠে, সেই অনুরাগের অভিজ্ঞতা চিরকাল স্মৃতিধার্য হয়ে থাকে যে! সে কেবল একবারই হয় কোনো এক তন্ময় মুহূর্তে। '
'হাওয়ার মতন নেশার মতন' পড়ার সময় এই কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থই বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। ব্রতীন্দ্রনাথ এবং তাঁর স্ত্রী লালির দাম্পত্যজীবন এবং একইসাথে তাপ্তি আর অরণ্যের সম্পর্কের রসায়নে এমনটাই যেন ঘটেছে। গল্পের অন্যান্য চরিত্র, যেমন চায়ের দোকানের কর্মচারী সঞ্জয়, জাদুকর আল মোয়াজ্জ্বীম্, কুশল, অরণ্যের কলেজ জীবনের বন্ধু লোকেন বোস, সুজাতা সোম, ব্রতীনবাবু, লালি, সোনারপুরের সেই নির্জন ঘর, লোবান ধুপের গন্ধ, তাকের ওপর রাখা বইগুলির পিছনে লুকিয়ে থাকা ব্রতীনবাবুর ডায়েরি এবং তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা একটি চিঠি এ সবই যেন অনুঘটকের কাজ করে অরণ্য আর তাপ্তিকে তাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছৈ দেয়। কিন্তু, কি সেই গন্তব্য!
উপন্যাসের নানা অংশে উঠে এসেছে গ্রাম্য পরিবেশের, প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর বর্ণনা এবং অবশ্যই ইতিহাস সংলগ্নতা। বিশেষ করে চন্দ্রকোনার ইতিহাস জানার পরে বিস্ময়কর লাগে এবং তা গল্পের গতিপ্রকৃতিকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।
এই উপন্যাসে গল্পের মধ্যেই প্রাঞ্জল ভাবে উঠে এসেছে প্রাক-সক্রেটিস যুগের গ্রীক দার্শনিক হেরাক্লিতোস (হেরাক্লিটাস) এর প্রসঙ্গ, তাঁর মতবাদের যৌক্তিকতা , উঠে এসেছে জীবনানন্দের "মৃত্যু স্বপ্ন সংকল্প", ফ্রয়েডীয় তত্ত্বের দিকগুলি , অস্তিত্ববাদ, গণনাট্য সংঘের কথা এবং নকশাল আন্দোলনের একটি করুণ অধ্যায়ের কাহিনী অত্যন্ত সংবেদনশীল ভঙ্গিমায় তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। নানা প্রসঙ্গে উঠে এসেছে প্রণিধানযোগ্য কিছু উক্তি, যেমন 'স্বপ্নের জোনাকিগুলোকে খেয়ে নিল কোন চতুর বেড়াল", " একই বেদনার অনুক্রম " বা " বেদনার সুত্রে এরা তো অনাদিকাল থেকেই সংযুক্ত হয়ে আছে ", ' সময়ের ক্ষমতা স্বপ্নকে গ্রাস করে' - বইটি পড়ার সময় এবং তার পরেও এই উক্তিগুলি মাথার মধ্যে যেন ঘুরপাক খায়, গতানুগতিক চিন্তাধারা এবং জীবনদর্শনকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে ভাবতে শেখায় (food for thought)।
সেই হিসেবে 'হাওয়ার মতন নেশার মতন' কে নিছকই একটি প্রেমের উপন্যাস হিসেবে পর্যায়ভুক্ত করতে পারছি না। প্রেম এই উপন্যাসের অবশ্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় , কিন্তু সব মিলিয়ে এই উপন্যাস আমাদের মত সাধারণ মানুষের জীবনের কথা, দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকট, বেদনাবোধ, একাকীত্ব, প্রণয়ব্যাকুলতা, অসহায়তা, উত্তরণের স্বপ্ন, ব্যর্থতা, নৈরাশ্য সব কিছু তুলে ধরেছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা আকর্ষণীয় যে বিষয়, তা হলো এত কিছু সমস্যাসংকুল জীবনের কথা বইটিতে উঠে এলেও 'বাঁচার আনন্দই বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ' এই গভীর জীবনবোধ এবং ইতিবাচক জীবনদর্শনই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বলে মনে হয়েছে।
উপন্যাসের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট প্লট বা central structure সেরকম ভাবে কিছু চোখে পড়েনি, এর প্রতিটি অধ্যায়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, ঘটনা এবং চিন্তাধারার একটি অবিরাম প্রবাহ লক্ষ্য করা যায় এবং তাকে জোর করে বন্ধ করার কোন প্রচেষ্টা নেই, কোনরকম কৃত্রিমতা নেই তাতে, "Wind is a floating wave of air, whose undulation continually varies." সে জন্যই হয়তো এই উপন্যাসের নাম ' হাওয়ার মতন, নেশার মতন'।
সবশেষে একান্ত ব্যক্তিগত কিছু অনুভূতির কথা বলি। এই উপন্যাসে তাপ্তির মধ্যেই কুন্তলা, স্বয়ংবিদা এবং জাহ্নবীকে যেন খুঁজে পেলাম। যে শাশ্বত নারীত্বের রূপ লেখক এঁকেছিলেন তাঁর প্রথম উপন্যাস "নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা" তে, তাই যেন দেশ-কালের সব সীমা পরিসীমা অতিক্রম করে ধরা দিলো তাঁর সাম্প্রতিকতম উপন্যাস 'হাওয়ার মতন, নেশার মতন' এ তাপ্তির মধ্যে, এবং এই চলার পথ যেন অন্তহীন, এর শেষ বলে কিছু নেই.... 'রাগ সোহিনী, ঠাট মারওয়া'..... 'কাহে তুম আয়ে হো মেরে দ্বারে'......'হাওয়ার মতন, নেশার মতন...... '
'হাওয়ার মতন, নেশার মতন' প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল একটি 'এই সময়' দৈনিকে, প্রতি রবিবার, ধারাবাহিক আকারে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ধারাবাহিকের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে দীর্ঘকাল যাবৎ – প্রতিটি পর্ব লেখককে শেষ করতে হয় এমন একটি বাক্য বা পরিস্থিতি এনে, যা আরও এক সপ্তাহ বা নির্দিষ্ট সময়টুকু জুড়ে মানুষকে টেনে ধরে রাখবে পরের পর্বটির অপেক্ষায়। অর্থাৎ, পাঠককে আকৃষ্ট করা তার পরিণতির আকাঙ্খাচারায় জল দিয়ে। অথচ, প্রতিটি পর্বেই এই পরিণতিকামী মনোভাবকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন সন্মাত্রানন্দ। প্রায় পেন্ডুলামের দুলুনির মতো অবস্থা পাঠকমনের, তার হাতে পড়ে। একই পর্বে বারংবার পরিণতির 'গাজর' দেখিয়ে পাঠককে কিছু টেনে নিয়ে তাকে রীতিমতো বেকুব বানিয়ে 'মই' কেড়ে নিয়েছেন লেখক। আবার ওই পর্বেরই শেষে এমন একটি সংলাপ, বাক্য বা পরিস্থিতিতে এনে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি সুতো, যে পরের পর্বের আগে সে সুতো দিয়ে পাঠকমন এমব্রয়ডারি করতে পারবে বিলক্ষণ, যদিও মনের গভীরে তারা কি জানেন না – পরের পর্বে তারা আবার দেখবেন, হাতে পড়ে আছে লাটাইয়ের ছিঁড়ে যাওয়া সুতোর মাথাটি? ফলত, ধারাবাহিক হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার সময় 'হাওয়ার মতন, নেশার মতন' পাঠকের পরিণতিকামী মনের জন্য আরও বহুগুণ বিপজ্জনক ছিল। বই আকারে প্রকাশিত হওয়ার প্রাক্কালে লেখক বইটির একটি 'নিষ্পত্তি' লেখেন – সেটি পড়ে যাত্রারম্ভ করলে তবু যেন কিছুটা প্রস্তুতি থাকে আশাভঙ্গের; এবং উপন্যাসটির আড়ালে লেখকের উদ্দেশ্যটি সম্বন্ধে ধারণা স্পষ্টতর হয়।
পরিণতিকামিতার এই 'ভয়াল অন্ধকার'কে সোৎসাহে আক্রমণ করা, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই সন্মাত্রানন্দের এই উপন্যাসের অন্যতম 'মিশন'।
I had first encountered this masterpiece in the newspaper, an eminent Bengali daily, where it was published in regular installments every Sunday. The first few installments failed to intrigue me though, as the story itself toed on the line dividing fiction from philosophy, effectively blurring it. However, from the third installments or so, especially after Tapti entered the scene, I couldn't help but fall in love with the narrative. In the official description, there is no mention of Tapti or Aranya, but the book itself is a quest in finding the true identity of Aranya's previous tenants, an elderly couple who died suddenly. Aranya navigates the history of Bengal, linking Lalbai, a courtesan of medieval Bengal and Ranjabati, the woman who was the previous tenant. The journey was not so much about Ranjabati, but for Aranya himself, who rediscovers and reassess himself in the process. The ending is somewhat vague, but after the entirety of the book, it hardly matters!
সন্মাত্রানন্দের লেখা আমার খুবই প্রিয়। তার আগের লেখা গুলোর থেকে এই লেখাটি একেবারে আলাদা। বিভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রনে বোনা এই ছোটো প্রেমের কাহিনীটি যে তার সর্বকালের সেরা সে কথা বলাটা হয়তো ভুল হবে। তার লেখনী দিয়ে যে পুষ্পবৃষ্টি হতে পারে, সে যারা পড়েছে তারা জানেন। তবে এক ভিন্ন স্বাদের লেখা পেয়ে পাঠক হিসাবে সমৃদ্ধ হলাম।