আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা - লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ।
১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।
বইয়ের নাম দেখেই আন্দাজ করা যায় বইটা কী বিষয়ে হবে৷ কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ। বিভিন্ন নবী রাসূলদের ঘটনা এবং অই ঘটনা অনুসারে কুরআনের আয়াত নিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। সাথে বর্তমান সময় ও লেখকের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে নিয়েও অই ঘটনার সাথে মিল আছে এমন কুরআনের আয়াতের আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে হযরত মূসা (আ.), নূহ (আ.), ইউনূস (আ.) এর ঘটনাগুলো বেশি স্থান পেয়েছে৷
বইটা দারুণ, আমার কাছে ভালো লেগেছে। বইয়ের অধ্যায়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে কাজে লাগাতে পারলে জীবন সুন্দর হবে। আশাবাদী। __ কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ আরিফ আজাদ সত্যায়ন প্রকাশন পেজ : ১৮১ একুশে বইমেলা ২০২৩
গোটা সৃষ্টিজগতে এমন একটা বিন্দু, এমন একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা নেই যা তাঁর দৃষ্টির অন্তরালে। সাগরের বুকে তৈরি হওয়া একটা ছোট্ট ঢেউ, সেই ঢেউয়ের আরো ভিতরে তৈরি হওয়া কম্পন, সেই কম্পনে ছিঁটকে যাওয়া একবিন্দু জল— সেই ঘটনাচিত্রও আল্লাহর দৃষ্টির আড়াল হতে পারে না।
গভীর সাগরতলে যে ক্ষুদ্র নুড়িকণা, সেই নুড়িকণার নিচে তার চেয়েও ক্ষুদ্র যে প্রাণী, সেই প্রাণীর গায়ে থাকা তারচেয়েও ক্ষুদ্র বালিকণা— সেটাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা দেখেন।
ঘন গহীন অরণ্য, যেখানে আজতক কোন মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি, গাছেদের ডালপালার ঘনত্বকে ফুঁড়ে যেখানে পৌঁছাতে পারে না সূর্যের প্রখর রশ্মি, প্রকাশ্য দিবালোকেও অন্ধকারে ডুবে থাকা সেই জঙ্গলের একেবারে অবহেলিত কোণে বেড়ে উঠা একটা ছোট্ট আগাছা, যার ডগায় আজ নতুন একটা কুঁড়ি বের হয়েছে, যে কুঁড়ির সন্ধান হয়তো কোনোদিন কোন মৌমাছি পাবে না, যে কুড়ি থেকে প্রস্ফুটিত ফুলে কোনোদিন বসবে না কোন প্রজাপতি— সেই অজানা, অবহেলিত ফুলও আল্লাহর দৃষ্টির অন্তরালে নেই।
মুসা আ. এর জীবন থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় উঠে এসেছে বই তে। তার মাদিইয়ান এর ঘটনার কয়েকবার পুনরাবৃত্তি না করে একবার ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষণীয় বিষয় গুলো তুলে ধরলে পড়তে ভালো লাগতো।
পুরো বই জুড়ে ' স ' এর জায়গায় ' শ ' এর প্রয়োগ ছিলো দৃষ্টি কটু।
বই: কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ জনরা: ইসলামি আত্মশুদ্ধি লেখক: আরিফ আজাদ প্রকাশন: সত্যায়ন
কিছু কথা:
পবিত্র কুরআন মজীদ মহান আল্লাহ তায়া’লার বাণী। ইহাতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ নেই। আমাদের শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর এই কুরআন মজিদ নাজিল হয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়া’লা অনেক অনেক কিছুর বর্ণনা দিয়েছেন; মৃত্যুর পরবর্তী জীবন কিংবা দুনিয়াবি জীবন নিয়ে অনেক অনেক ব্যাখা আছে এই পবিত্র কিতাবে। তবুও; আমরা মুসলমান হিসেবে ঠিক কতটুকু অনুধাবন করতে পারি! স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়া’লার এই বাণী?
পাঠ অভিজ্ঞতা:
কথা বলছিলাম আরিফ আজাদের এক ভিন্ন জনরার লেখনী বই "কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ"। আরিফ আজাদের বেশ কিছু বই আমার পড়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। সে আঙ্গিকে বইটার নাম দেখেই পড়ার আগ্রহ জাগে আমার মানসপটে। বইটা পড়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখক দেখিয়েছেন কুরআনের আয়াতের কিছু কিছু ব্যাখা দিয়ে একজন মানুষ কিভাবে তাঁর জীবনটাকে ধারণ করতে পারে।
সফলতার সংজ্ঞা বলতে আমরা কী বুঝি? যেভাবে সুখে থাকা যায় কিংবা কিভাবে দুনিয়ার সবকিছু অর্জন করা যায়! এগুলাই? না; কখনোই না। পবিত্র কুরআনে সফল হওয়ার অনেক অনেক সংজ্ঞাই দেওয়া আছে। তা আমরা ক'জনই মানি বা বুজি? লেখক আরিফ আজাদ তাঁর বইতে ঠিক এভাবেই উল্লেখ করেছিলেন কথাগুলো। বইটা পড়ার সময় অনেক অনেক ভাবনায় আচ্ছন্ন হতে থাকি আমি; প্রতিমুহুর্তে মনে হয়েছিলো, লেখক আমার সাথে বসে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলো; আর আমি তা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তা শুনছিলাম। সবশেষে আরিফ আজাদের অন্যতম সেরা একটা বই এটি।
কারা পড়বেন বইটা?
আমাদের অনেক মুসলমান ভাই/বোনেরা আছেন, যাঁরা দিনের পর দিন দুনিয়ার কাঁদা ছোড়াছুড়ি তে মত্ত হয়ে জীবনের পাঠ বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। কোথায় আমাদের যেতে হবে! আমাদের গন্তব্য কোথায়? তা মনে হয় আমরা ভুলেই গেছি। সে সব ভাই/বোনদের জন্য হাইলি রিকমেন্ড করবো বইটা। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়তেই লেখক কুরআনের রেফারেন্স সহকারে বুঝিয়েছে কি ভাবে কি করলে আপনি মুক্তি পাবেন আপনার একঘেয়েমি জীবন থেকে কিংবা গোধুলির বেলা শেষে আপনি তনু মনে ভাবতে থাকবেন কোথা থেকে শুরু করতে হবে আপনার জীবন পাঠের যাত্রা।
লেখনশৈলী:
লেখকের লেখনশৈলী কিংবা শব্দশৈলী নিয়ে কখনো দু’কথা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। লেখনী আর বর্ণনায় পাঠককে যে বুঁদ রাখতে পারবে; তা আমি হলফ করে বলতে পারি।
বাদবাকি:
সত্যায়ন প্রকাশনীর এই পেপারব্যাক সংস্করণের বইটির কোয়ালিটি আর প্রোডাকশন অনেক দারুণ তা বলতে দ্বিধা নেই।
এই বইয়ের শিরোনামটা আমার মধ্যে খুব আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। তাই তখন প্রি-অর্ডার না করে পারিনি। বইটি পড়ে অনেক ভালো লাগল। মাশাআল্লাহ। আশা করি যে কারোর পছন্দ হবে। প্রিয়জনদের উপহার দেওয়ার জন্য খুবই সুন্দর একটি বই।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা মানবজাতিকে পথ প্রদর্শনের জন্য পূর্ণাঙ্গ এক জীবনবিধান রূপে কুরআনকে নাজিল করেছেন এবং এর শিক্ষা করাকে আমাদের ওপর ফরজ করেছেন। আমি যদি ভুল না করে থাকি, প্রত্যেক মুসলমানের বাড়িতে অন্তত একটা করে কুরআন আছেই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যা দেখা যায়, হয় এটা আলমিরার তাকে ধুলোমলীন হয়ে পড়ে থাকে নতুবা বছর বছর শুধু আরবি তিলাওয়াত করেই ক্ষান্ত থাকা হয়; কিন্তু কুরআনের প্রকৃত শিক্ষাটাই অর্জন করা হয় না।
এই কুরআন থেকে যদি মানবজীবনে সফলতার পাঠগুলো আহরণ করা যায় তবে নিঃসন্দেহে তা আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আরিফ আজাদের ‘কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ’ বইটি এই কল্যাণ লাভের পথে যাত্রা শুরুর ছোট্ট এক প্রয়াস। এটাকে ছোট বলছি কারণ কুরআনের মহিমা এত্ত বেশি যে তা এক মলাটে বর্ণনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবুও লেখকের ছোট এই বইটি পড়ে অবাক না হয়ে পারিনি। আহ্! কত সুন্দরভাবেই না চিন্তা করা যায়। লেখক কুরআন থেকে নেওয়া কিছু পাঠের বেশ হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহ তাঁর কলমে বারাকাহ্ দান করুন। প্রতিটা পাঠ চিন্তার দ্বার খুলে দেয়। সরাসরি কুরআন থেকে নেওয়া পাঠ বলে কথা! একদম শেষ পাঠটা পড়ার পর আমি রীতিমত থমকে গিয়েছিলাম। একা! আসলেও আমি ভীষণ একা…!
আজ এই বেহায়া���না ভালোবাসা দিবসে,বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে লাস্ট পৃষ্ঠা অব্দি পড়ে শেষ করলাম।
খুব সকাল থেকে এখন অব্দি ঘরের মধ্যে বন্দি ছিলাম। দুনিয়ার এই হারাম ভালোবাসার ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাতে কি অসম্ভব রকমের ভালো লাগা,ভালোবাসা অপেক্ষা করতেছে তা খুঁজে পেলাম। আমাদের এই যৌবন আল্লাহর কাছে কতটুকু যে মূল্যবান আমরা তা জানিনা। আমাদের এই যৌবনে একটা সেজদা যে আল্লাহর আরশ কাঁপে আমরা তা জানি না।আমাদের এই যৌবনে এক ফোঁটা চোখের পানি যে জাহান্নামের আগুন নিভে আমরা তা জানি না। আমরা ডুবে আছি হারাম এই ভালবাসায়,ডুবে আছি দুনিয়ার এই নগণ্যতায়। একজন পথহারা প্রতীকের অন্ধকার হৃদয়ে যেন এই বইটি এক টুকরো আলোর প্রদীপ।
আজকে এই নগণ্য ভালবাসার দিনে,এই বইটি পড়ে আল্লাহর নৈকট্য ও দ্বার প্রান্তে আসার উদম্য চেতনা সৃষ্টি হয়েছে।এই চেতনা যেন সর্বসময় ধরে রাখতে পারি আল্লাহর কাছে এই পার্থনা করি🤲
আর এই বইয়ের একটি দোয়া যা আমার অন্ধকার হৃদয়ে খড়াভাবে নাড়া দিয়েছে,তাহলো..... "হে আমার রব -আমার প্রতি যে অনুগ্রহই আপনি দান করবেন, আমি তার-ই মুখাপেক্ষী" এই ছোট্ট একটি বাক্যের কতটুকু ওজন আর আল্লাহ কাছে কতটুকু পছন্দের তা শুধু একজন দোয়া ব্যাখ্যাকারী ব্যক্তি বলতে পারবে।
একটি বই যে একজন মানুষকে এইভাবে নাড়া দিতে পারে,এটা আমার কল্পনার অতীত ছিল!
'আরিফ আজাদ' ভাইয়ের প্রতি দিন দিন ভালো লাগা, ভালোবাসা বেড়েই যাচ্ছে..... ভালোবাসা ও দোয়া রইল প্রিয় দ্বীনি ভাইয়ের জন্য🤲
নিসন্দেহে একটা সময় উপযোগী বই পড়লাম। অন্তরে একটা ধাক্কার খুব দরকার ছিল। বইয়ের কথাগুলো খুব জোরেসরেই ধাক্কাটা দিয়েছে,হেদায়াতের পথে। আলহামদুলিল্লাহ। আরিফ আজাদ আমার অন্যতম প্রিয় লেখক।উনার প্রতিটা বই অন্তরের গোপন প্রকোষ্ঠে একটা নাড়া দেয়, রিমাইন্ডার দেয় আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত করার। আল্লাহ আমাকে এই বইটি পড়ার তওফিক দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। বইয়ে মোট ৩০ টি অনুচ্ছেদ আছে। এটি কোনো তাফসীরের বই নয়।কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং কুরআনে বর্ণিত নবী- রাসুলদের ঘটনা থেকে আমরা কি শিক্ষা লাভ করতে পারে, কিভাবে আমদের জীবনকে কুরআন দিয়ে সাজাতে পারে তা অতি সাধারণ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।আমার প্রিয় কিছু অনুচ্ছেদ -
- "এ সময় শীঘ্রই ফুরিয়ে যাবে"- আমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে জীবনের সুখ এবং দুঃখ খুব ক্ষণস্থায়ী। -"সোনার তোরণ পানে"- সুরা আল-আসর থেকে সফলতার চারটি সূত্র জীবনে ধারণ করা। - 'অন্তরে অন্তরে' - হিংসা নামক মারাত্মক ব্যাধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। -"আলো অথবা অন্ধকার" - মুনাফিকদের কিয়ামতে করুন পরিণতি উঠে এসেছে। -"তারা কভু পথ ভুলে যায় না"- জীবনের চলতিপথে সকল সিদ্ধান্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া,সাহায্য চাওয়া।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের পটভূমি গল্প আকারে উপস্থাপন, জীবন ঘনিষ্ঠ আলোচনার মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ এবং উক্ত আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার দিকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন আরিফ আজাদ তাঁর নতুন 'কুরআন থেকে জীবনের পাঠ' বইটিতে।
১৪০০ শত বছর আগের কুরআনের বাণী কীভাবে একুশ শতকে এসেও আমাদের জীবনে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক? কেন নবি রাসূলদের জীবনের ঘটনাবলিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্থান দিয়েছেন কুরআনে? সর্বোপরি কুরআন কীভাবে আমাদের জীবনের কথা বলে? কীভাবে আমাদের জীবনে কুরআন হয়ে উঠতে পারে আলোর দিশা—
বইটি পড়ে উক্ত বিষয়গুলো আমরা খুব সহজেই বুঝতে এবং উপলব্ধি করতে পারবো। একইসাথে আমাদের মনে জোগাবে গভীর ভাবনা ও চিন্তার খোরাক এবং বইটির কিছু ম্যাসেজ আমাদের হেদায়েত এর জন্যে যথেষ্ট হতে পারে।
বইয়ের নাম : কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ লেখক : আরিফ আজাদ প্রকাশনী : সত্যায়ন প্রকাশন পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৮১ টি মূল্য : ৩৩০ টাকা
রিভিউ লেখক : আঃ কাহ্হার (সিয়াম)
This entire review has been hidden because of spoilers.
কোন জিনিস না বুঝে পড়ার কোন ফায়দা নেই। কোথায় যেন শুনেছিলাম কুরআনও না বুঝে পড়লে কোন ফায়দা নেই। বিভিন্ন মতান্তরে শুনা যায় যেহেতু একটি আরবি হরফ পড়ার কারনে ১০ টি নেকি পাওয়া যায় সেহেতু কুরআন না বুঝে পড়লেও নেকি পাওয়া যায়। যাইহোক নেকি পাওয়ার পড়া আর বুঝে পড়া বিষয়টা আলাদা, কুরআন থেকে শিক্ষাগ্রহন করতে হলে বুঝে পড়া আবশ্যক। আমারা যারা সাধারণ মানুষ কোনমতে কুরআন রিডিং পড়তে পারি তাদের উচিৎ এই বইটা পড়া। কুরআন যে জীবনবিধানের কথা বলে তা কিছুটা হলেও অনুভব করা সম্ভব হবে কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ বইটি পড়লে।
কুরআনের কতিপয় নবীদের দৃষ্টান্ত মূলক গল্পঃ এখানে বসন্তের ফুলের মতন করে ফুটিয়ে তুলেছেন,আমাদের সবারই প্রিয় লেখক আরিফ আজাদ।বিশেষ করে মুসা (আ:) এর ঘটনা গুলো বিবৃতি দিয়েছন ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যা আমাদের জীবনে গঠনমূলক পরিবর্তন আনয়ন এ ভূমিকা রাখতে পারে। আরিফ আজাদ সমসাময়িক সমস্যা, অনাচার, ফিতনা গুলোকে অবলোকন এবং এ থেকে পরিত্রাণের কার্যকরী সমাধান বইয়ের পৃষ্ঠায় আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন।
লেখক আরিফ আজাদ এর লেখা, আমার পড়া প্রথম বই। বইয়ের নাম দেখে আগ্রহ জাগে, আর তা থেকেই বইটা সংগ্রহ করা। কিন্তু আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম। এই ক'মাস আগেই 'প্রোডাক্টিভ' মুসলিম পড়েছি, কুরআন এর আলোচনার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আর সমাধানও আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। এ বইটাতেও তেমনটা আশা করেছিলাম; আলোচনা আরেকটু গভীর হলে ভালো হত। কিছু জায়গায় মনে হয়েছে শুধু শুধু পৃষ্ঠা বাড়ানো হয়েছে।
সত্য সুন্দর, সত্য সাবলীল। কুরআনের ভাষায় রাসূলের দেখানো সত্য পথ ইসলামের ছায়াতলে আমাদের আরো কাছে টেনে আনার সুন্দর প্রয়াসের জন্য আরিফ আজাদকে ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুক। আমিন।
বই: কুরআন থেকে নেয়া জীবনের পাঠ লেখক: আরিফ আজাদ ◼️কাহিনী সংক্ষেপ দুটো জিনিস নবীজী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য রেখে গেছেন- কুরআন ও সুন্নাহ।কুরআন নাযিল হয়েছে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে,কিন্তু কুরআনে লেখা রয়েছে সখল যুগ, কাল আর সময়ের কথা।কুরআন শুধু অধ্যয়নের জন্য না,এতে রয়েছে আমাদের সকলের জীবন ব্যবস্থা।সবাই তো কুরআন পাঠ করে কিন্তু কয়জন একে অনুধাবন করে?ব্যর্থতা সফলতা দুঃখ কষ্ট সবকিছু সম্পর্কে দুনিয়ায় মতবাদ আছে।কিন্তু কুরআনে এগুলো কে কিভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?কিভাবে অন্ধকার জীবনে আলো ফিরিয়ে আনতে হবে সেটা কিভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?একটা জীবনকে যদি রঙিন করে সাজানো যায় আর জীবনের সেই সকল অনুষঙ্গের কথা যদি কুরআনের পাঠ থেকে নেয়া হয় তাহলে কেমন হবে?এসব কিছু নিয়েই লেখক বইটিকে সাজিয়েছেন।কিভাবে দুঃখের দিনে কুরআন আমাদের কাঁধে হাথ রেখে বন্ধু হয়ে উঠে সে কথা তিনি তুলে ধরেছেন।নবী রাসুল দের বিপদের সময়ের কথা এবং সে সময় তারা কে কি দোয়া করেছেন এবং কিভাবে ধৈর্য্য ধরে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে টিকে ছিলেন সে কথা গুলো ও লেখক স্থান দিয়েছেন এই বইয়ে।বর্তমান সময়ে দুনিয়ার যেই অবস্থা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যে উত্থান পতন সেসব কিছু সম্পর্কে কুরআন কি বলেছে তার পাঠ নিয়ে লেখা হয়েছে বই টি।
◼️পাঠ প্রতিক্রিয়া সারাদিন কেমন যেনো উদাসীনতায় কাটছিল।রোজ দুপুরে ঘুম আসলেই আজ আর ঘুম আসছেনা।বার বার মনে হচ্ছিল জোরে ঠাণ্ডা হাওয়া ছুটে বৃষ্টি আসলে ভালো হবে।তৎক্ষণাৎ বইটি বইয়ের তাক থেকে উকি দিচ্ছিল।বইটি নিয়ে খুলে এর প্রথম লাইন টা পড়লাম যখন নেমে আসে আধাঁরের রাত।এটা পড়েই মনটা কেমন যেনো করছিলো তাই সামনে পড়া শুরু করলাম।মনে হচ্ছিল আমার আজকের উদাসীনতা আর মন খারাপ নিয়ে বলা হচ্ছে আমাকে।যতই পড়ছিলাম ততই মনে হচ্ছিল আরে আমি তো এখন এমন কিছু কথাই শুনতে চাচ্ছিলাম যেনো আমার মনটা একটু হালকা হয়।কথাগুলো যেনো সব আমাকে আমার বর্তমান অবস্থাকে নিয়ে বলছে।তখনই হঠাৎ খুব জোড়ে ঠান্ডা হাওয়া শুরু হয়ে বৃষ্টি নামলো।আর একটা দোয়া আমার চোখে পড়লো,"আমার রব!আমার প্রতি যে অনুগ্রহই আপনি দান করবেন,আমি তার মুখাপেক্ষী।"বইটি আমি এক বসায় পড়ে শেষ করতে চেয়েছিলাম পড়ে ইচ্ছা করেই পড়ার গত কমিয়ে দিয়েছিলাম।যেনো ধীরে ধীরে এটা শেষ হয় আর আমি এর কথা গুলো নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারি।আরিফ আজাদ সহজ ভাষায় অনেক সুন্দর করে লিখেন।আর মনকাড়া ও হয়।কিন্তু ওনার যে কয়টা বই পড়া হয়েছে তার মধ্যে এটা আমার সবচেয়ে প্রিয়।এখনো মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে বইটা খুলে বসি আর দাগানো প্রিয় লেখাগুলো পড়ি।
বানান ও শব্দের ব্যাবহার:বানান ভুল খুব বেশি চোখে পরেনি।আর শব্দ ও ভাষার ব্যবহার সুন্দর ও সাবলীল ছিলো।
রেটিং:৪/৫(ভাবতে পারেন প্রিয় বই কিন্তু ১ পয়েন্ট কম কেনো ওনার কিছু কথা আগের বইয়েও বার বার পেয়েছি যার কারণে একটু কষ্ট পাচ্ছিলাম একই কথা কেনো এই বইয়েও লিখতে হবে)