কলকাতা ক্রাইম ব্রাঞ্চের সদ্য প্রাক্তন অফিসার সত্যব্রত রায় চৌধুরীর জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয় অপ্রত্যাশিতভাবে— অবসর নেওয়ার পরপরই। চাকরিতে থাকাকালীন যে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিদীপ্ত কর্মদক্ষতায় তিনি বিভিন্ন কেস সমাধান করতেন সেই একই দক্ষতায় নতুন নতুন কেস সমাধান করতে শুরু করেন, অবসরের পরেও... কখনো ডায়রি থেকে উঠে এসেছে পুরোনো কেস কখনো বা একেবারে নতুন ক্রাইম। জটিল থেকে জটিতর সেইসব রহস্য সমাধানের তিনটি কাহিনি সংযোজিত হয়েছে এই বইয়ে। পুলিশি প্রসিডিওর এবং অপরাধীদের নিত্যনতুন ক্রাইম কৌশলকে এ এক জমাটি ক্রাইম থ্রিলার..
ভয়াল রসের গল্প লেখার জন্য সুপরিচিত ও জনপ্রিয় সাহিত্যিক কি পোলিস প্রোসিডিওরালও লিখতে পারেন? সে-প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই আলোচ্য বইটির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলাম। বইটিতে আছে তিনটি উপন্যাসিকা। তারা হল~ ১. কাটা হাতের রহস্য: সি.আই.ডি-তে সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর সত্যব্রত অবসর নিয়ে ফিরে গেলেন নিজের পৈতৃক ভিটেয়। কিন্তু ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে। সেভাবেই, স্ত্রী'র সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে তিনি একটি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা কুকুরের মুখে দেখে ফেললেন একটি দেহাংশ। ব্যাপারটা জানাতে গিয়ে পুলিশি তদন্তে জড়িয়ে পড়লেন সত্যব্রত। কিন্তু কে খুন হয়েছে? কেনই বা হল খুনটা? ২. ডায়রি থেকে একটা কেস: পরিবারের সবার দাবি-মাফিক স্মৃতি আর ডায়রির সাহায্যে সত্যব্রত পরিবেশন করলেন একটি রহস্য— আপাতভাবে যার সমাধান হয়নি। কিন্তু খুনিকে কি চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন তিনি? ৩. ত্রিভুবন চৌধুরী মার্ডার কেস: দাঁপুটে বিধায়কের কুখ্যাত ভাইয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেল রেললাইনে। সাংঘাতিক চাপের মধ্যে তদন্ত শুরু করল পুলিশ। সাহায্য করতে এসে সত্যব্রত আবিষ্কার করলেন, ঘটনার একজন সাক্ষী ওই সময় আরও একজনকে মৃতদেহের কাছে দেখেছিলেন। তাহলে কি সে-ই খুনি? নাকি এর মধ্যে জড়িয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? লেখা কিছুটা অমসৃণ। শুরুর দিকে সত্যব্রতের পরিচয় ও পরিবার ইত্যাদির প্রসঙ্গ বারবার এসেছে— এও সত্যি। তবু, সব মিলিয়ে বইটা আমার দারুণ লাগল। তার কারণ~ ১) একেবারে নো-ননসেন্স ন্যারেটিভ, কেজো সংলাপ এবং ঘটনাক্রমের বাস্তবানুগ চলন তিনটি রহস্যকেই করে তুলেছে একেবারে জমজমাট। ২) মনস্তত্ত্বের ব্যবহারে, প্রাপ্তবয়স্ক পাঠককে আকৃষ্ট করার মতো নানা উপাদানে, সর্বোপরি তদন্তের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের প্রয়োগ ঘটিয়ে লেখক বইটি কার্যত একবারে পড়ে শেষ করতে বাধ্য করেছেন। এ-ও বলা উচিত যে কিছু বানান ভুল চোখে পড়লেও মোটের উপর বইটির মুদ্রণ পরিচ্ছন্ন এবং লে-আউট দৃষ্টিনন্দন। ভরসা রাখি যে সত্যব্রত'র মাধ্যমে আমরা লেখকের কাছ থেকে আরও কিছু রহস্য কাহিনি পাব।