একটি যৌথ পরিবারের এক সদস্যকে নিজের বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। জানা গেল, বাড়ির যে দু'টি সাইকেল তার ঘরে রাখা থাকত, সেগুলো আর নেই। তার মোবাইলও নেই। তাহলে কি সাইকেল আর মোবাইল চুরির জন্যই এই খুন? অতঃপর... পড়লাম উপন্যাসটি। তারপর মনে হল~ ১) লেখক নিজে পুলিশ অফিসার হয়েও এত ত্রুটিসম্পন্ন এবং নাটকীয় হাবভাবে অভ্যস্ত একজন পুলিশ অফিসারকে রহস্যভেদী বানালেন কেন? এঁর আর কোনো কীর্তি তো পড়তেই ইচ্ছে হবে না। ২) গল্পে এত জিনিস দুমদাম দেখানো হয়েছে আর এমন সব ডিউস এক্স মাখিনা আনা হয়েছে যে তাকে অবাস্তব ছাড়া কিছু বলাই যায় না। ৩) লেখাকে জটিল করার জন্য যতরকম প্রাপ্তবয়স্ক উপাদান গোঁজা সম্ভব, সব গুঁজে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও বইটা পড়তে গিয়ে বোরিং-ই লেগেছে। ঝিমিয়ে পড়লাম। এই সিরিজ আর টানব না।
অসাধারণ একটা বই, ভীষণ ভীষণ ভালো লেগেছে। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা চরিত্র কম নেই, তাহলে আবার বিবেক সিংহ কেন? খুব সহজ একটি উত্তর, বিবেক সিংহ আর সব গোয়েন্দাদের মতো কোনো সুপার হিউম্যান নয়, একজন অতি সাধারণ পুলিশ অফিসার। যার কেস সমাধান করার জন্যে উপরতলা থেকে যেমন বেশী কথা শুনতে হয় তেমনই আবার সরাসরি কোনো নেতা গোছের কারোর বিরুদ্ধে কথা বললে ট্রান্সফার ও হতে হয়, কিংবা ক্রিমিনালরা হামলাও করে তার বা তার পরিবারের উপরে " Police is a human being, not a magician " বলা বাহুল্য এরকম চরিত্র খুবই কম আছে, বিবেক সিংহ তাঁদের নতুন সংযোজন।
আর সব গোয়েন্দা কাহিনীর মতোই এটিও শুরু হয়েছে একটি খুন দিয়ে। মূল কাহিনীর স্পয়লার দিচ্ছি না। তো এই খুনের তদন্তের জন্যই এই কেসের সাথে জড়িয়ে পড়েন পুলিশ অফিসার বিবেক সিংহ। এর পরে একের পর এক চমক। খুলতে থাকে পারিবারিক সব নতুন নতুন অধ্যায়। এমনকি স্বয়ং বিবেক সিংহ নিজেও বিপদের মুখোমুখি হলেন...
মাঝে মধ্যে অনেকের থেকেই এটা শুনতে পাই, ব্রিটিশরা যদি আমাদের দেশে না আসতো আমরা আরও অনেক বছর পিছিয়ে থাকতাম। তারা এসেছিল বলেই আমাদের দেশ থেকে সতীদাহ প্রথার মতো আরও অনেক প্রথা উচ্ছেদ হয়েছে। অর্থাৎ আমরা তাঁদের থেকে ভালো কিছু ও পেয়েছি। এই ভালোর সঙ্গে সঙ্গে আমরা পেয়েছি আরও ভয়ঙ্কর, নোংরা কিছু জিনিস। তাঁদের মধ্যেই একটির উল্লেখ আছে এই বইতে। কি সেটা জানার জন্যে তো পড়তে হবে বইটা।
উন্ড, ক্ষত একবার হয়ে গেলে সেটা সহজে মুছে যায় না। প্রতি ক্ষনে ক্ষনে সেটা মনে পড়ে। কখনও সেটা জন্ম দেয় প্রতিশোধস্পৃহা। এই বইতেও আলোচিত হয়েছে এমনই একটি উন্ড কে নিয়ে। তবে বইটি পড়ার সময়ে টুইস্ট গুলোর জন্য বার বার ভ্রম হয়েছে।। নামের সাথে সরাসরি ঠিক মিল নেই। তবে একদম শেষে গিয়ে খুঁজে পাবেন আর এজন্যই ভ্রম হবে। আপনি একটুখানি পড়ে ভাববেন তাহলে এটাই আসল কারণ। পরক্ষনেই আবার দেখবেন আপনার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
পারিবারিক গল্পর পাশাপাশি বিশেষভাবে উঠে এসেছে একজন কর্তব্যপরায়ন পুলিশ অফিসারের অন্তরের কাহিনী। সরাসরি উপন্যাসের থেকে একটুখানি লাইন তুলে দিলে কিছুটা অনুভব করতে পারবেন, "... বাইরে থেকে অনেকেই পুলিশের কাজ নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করেন কিন্তু একজন পুলিশ দিনের পর দিন প্রফেশনাল লাইফের হাজারো ব্যস্ততার জন্য কিভাবে নিজের ভালোবাসার পরিবারকে উপেক্ষা করে চলেন, তার হিসেব কতজন রাখেন?..."
আরও অনেক ভালো লাগা দিক আছে বইটি নিয়ে। তার ভিতরে বিশেষ ভাবে একটা হলো বিবেক সিংহ র তদন্ত পদ্ধতি। তার ইন্টারগেশন করার ধরন। বেশ নতুন আর চমকপ্রদ লেগেছে।
ভীষণ ভালো লাগল উপন্যাসটি পড়ে। মনেই হয়নি এটা লেখকের লেখা প্রথম উপন্যাস। কোথাও বোরিং লাগেনি। উপন্যাসের গতি ভীষণ দ্রুত এবং টানটান। ওয়ান সিটিং এ শেষ করার মতো বই। পেজ কোয়ালিটি ভালো। বানান ভুল চোখে পড়েনি। প্রচ্ছদ টিও খুব সুন্দর।
খারাপ লাগা তেমন নেই তবে, শেষ অংশটা যেন জমল না, প্রথমদিকে যেমন চলছিল শেষ অংশটা আরও চমকপ্রদ হতে পারত। ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়েছে প্রথম দিক বা উপন্যাস যেভাবে এগোচ্ছিল সেই তুলনায় খুবই সাধারণ ভাবে শেষ করে দেওয়া হলো। উপন্যাসের পেজ সংখ্যা ১১৬ টি সেই হিসাবে ২৪০ টাকা দাম টা একটু বেশী মনে হয়েছে। আর ভিতরে কোনো অলংকরণ নেই। ব্যাস এটকুই আর খারাপ লাগা কিছু নেই।
সব শেষে বলব গোয়েন্দাধর্মী থ্রিলার প্রেমী পাঠকেরা অবশ্যই পড়ে দেখবেন বইটি। ভালো লাগবেই।
🎋📖বইয়ের নাম - "দ্য সিক্রেট উণ্ড"📖🎋 ✍️লেখক - দ্বী প চ ক্র 🖨️প্রকাশক - শপিজেন বাংলা 🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১১৬ 💰মূল্য -240₹
🍂সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক Subhadip Chakraborty এর লেখা "দ্য সিক্রেট উণ্ড"! আমার বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা বা ডিটেকটিভ গল্প পড়তে ভীষন ভালো লাগে। কিছু বই আছে পড়ে ভালো লাগলে , ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে ভালো লাগাটা শেয়ার করি।
এবার আসি উপন্যাস এর কথায় -
এই উপন্যাস পড়ে আমার একবার ও মনে হয়নি যে এটা লেখক এর লেখা প্রথম বই। এই বই সম্পূর্ণ রহস্যে মোড়া খুনের কাহিনী বলে, এই খুনের ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছুই বলবো না ! উপন্যাস এর প্রধান চরিত্র তদন্তকারী পুলিশ অফিসার বিবেক সিংহ। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে বিবেক-কে পাঠকদের কখনোই সুপার হিউম্যান মনে হবে না । বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের বুদ্ধি, ঝকঝকে পার্সোনালিটি, বিচার বিশ্লেষণ করার সহজাত ক্ষমতা নিয়ে হরিদেবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার বিবেক সিংহ পেঁয়াজের খোসার মতো ধীরে ধীরে রহস্যের জট খুলে এগিয়ে গেছেন। কথার পিঠে কথা বসিয়ে, আস্তে আস্তে পেটের ভিতরের কথা বের করে আনেন বিবেক। কথার প্যাঁচে ফেলে মানুষজনকে গুলিয়ে দেওয়াটা অনেক কালের বদ অভ্যাস বিবেকের। একদিকে নরম তো অন্যদিকে গরম! একজন নিরীহ ছেলের খুন হয় , এই খুনের কিনারা করতে তদন্তে নামে বিবেক সিংহ।উপন্যাস যতো এগিয়ে চলে ততোই রহস্য আরো ঘনীভূত হয়ে ওঠে , এমন একজন নিরীহ ছেলেকে হত্যা করার পিছনে কী মোটিভ থাকতে পারে?জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাস টি পড়তে হবে।
টানটান উত্তেজনায় ভরপুর একটি উপন্যাস , সব বয়সের পাঠকদের জন্য এই বই। যে সকল পাঠক বন্ধুরা নতুন নতুন গোয়েন্দা উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটা একটা দারুন বই হতে চলেছে। সব মিলিয়ে এই বই টি আমার দারুন লেগেছে, লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি বই উপহার পাঠানোর জন্য! বিবেক সিংহের নতুন কেসের অপেক্ষায় থাকলাম!